শিক্ষাঙ্গন

মাস্টার্সে ভর্তির মেধা তালিকা বৃহস্পতিবার

nuশিক্ষাঙ্গন ডেস্ক:  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স প্রথম পর্বে (নিয়মিত) ভর্তির বিষয়ভিত্তিক মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর)।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির ফল জানা যাবে। এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে NU লিখে স্পেস দিয়ে ATMP লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

এ ছাড়া রাত ৯টা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.edu.bd/admissions, admissions.nu.edu.bd) থেকে ফল জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক নিবন্ধন পরিপত্র কেন অবৈধ নয়

ঢাকা : বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালে জারি করা পরিপত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির।

সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শাফায়েত জামিল ও মো. আল আমিন।শিক্ষা সচিব, এনটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিস্ট ৭ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী সম্প্রতি ১২ হাজার ৬১৯ জন শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থী চূড়ান্ত করে। এর মধ্যে বগুড়ার আদমদিঘী রহিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে মার্কেটিংয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান জাকিয়া শামীম আরা।

আইনজীবী হুমায়ুন কবির জানান, নিয়োগ পাওয়া শামীম আরা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ৫৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। অথচ ওই পদের জন্য আবেদনকারী অপর প্রার্থী আশরাফুল আলম ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায় ওই প্রার্থী তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘পিক এ্যান্ড চোজ’ পদ্ধতিতে। ২০১৫ সালের পরিপত্রে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো মানদণ্ড নাই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকেই এখানে চূড়ান্ত বলা হয়েছে। যা ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০০৬-এর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মূল বিধিমালার সঙ্গে পরিপত্রের এই বিধান সাংঘর্ষিক হওয়ায় শামীম আরার নিয়োগ ও পরিপত্রে জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন আরেক নিয়োগ প্রত্যাশী আশরাফুল আলম।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এই রুল জারি করেন। পাশপাশি আদালত ওই কলেজে নিয়োগ পাওয়া জাকিয়া শামীম আরার নিয়োগও স্থগিত করেন বলে জানান আইনজীবী ‍হুমায়ুন কবির।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা বোর্ড করার সুপারিশ

motaherনিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো উন্নত ও জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করতে এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজে আরো গতি চায় সংসদীয় কমিটি। কারণ দশম জাতীয় সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১০৫টি সুপারিশের মধ্যে ৭৪টি সুপারিশ এখনো বাস্তয়ন হয়নি। এ পর্যন্ত মাত্র ২৭টি সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং ৪টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিটির ৩১তম বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন।

সাবেক এই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় আরো গতিশীল হলে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হত। আগামীতে যাতে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করব।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় নিয়ে সবাই কথা বলতে চায়, কিন্তু কেউ শুনতে চায় না।

সভাপতি বলেন, কমিটি প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা বোর্ড করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার বই ছাপানোর জন্য আলাদা প্রেস করারও সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হওয়ার কথা কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো এর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আসন্ন বছরের বিনামূল্যের বই ছাপানো সম্পর্কে সভাপতি বলেন, এবার ভারতে মাত্র ১২ শতাংশ বই ছাপানো হচ্ছে। আন্তর্জতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতের ২টি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। আর বাংলাদেশের ২৭টি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। এবার প্রায় ৩৪ কোটি বই ছাপানো হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপানোর কাজ শেষ হবে। আর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলায় বই পাঠানো হবে। এবারই প্রথমবারের মত বইয়ে প্রধানমন্ত্রীর বই বিতরণের ছবি থাকবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু এর কোনো লক্ষণ দেখছি না। এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হলে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা, এসএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষা থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আবুল কালাম ও আলী আজম।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সাধারন শিক্ষকদের সাথে জাতীয়করন শিক্ষকদের মেলাবেন না

bcsনিজস্ব প্রতিবেদক: নিজেদেরকে মেধাবী উল্লেখ করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ব্যানারে কিছু শিক্ষক বলেছেন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারদের সঙ্গে কিছুতেই জাতীয়করণ করা কলেজের সাধারণ শিক্ষদের সমন্বিত করা যাবে না।

রবিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সমিতির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম উল্লাহ বলেন, ‘জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারদের সমন্বিত করে অভিন্ন জ্যেষ্ঠতার তালিকা করলে মেধাবীরা বঞ্চিত হবেন। শিক্ষায় কোয়ালিটির অভাব দেখা দিবে।’

‘কারণ জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকরা ইন্টারমিডিয়েট পড়ান। তাদেরকে অনার্স, মাস্টার্স পড়ানো কলেজে বদলি হয়ে আসার সুযোগ দিলে শিক্ষার মান পড়ে যাবে। তাই আমাদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকদের মেলাবেন না। বিসিএস ক্যাডার সদস্যদের সকল সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জন্য নতুন বিধিমলা তৈরি করতে হবে’ বলেন সেলিম।

তিনি বলেন, কলেজ জাতীয়করণ করার পিছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি হওয়ার সুযোগ দিলে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনার্স, মাস্টার্স পড়ানো কলেজে চলে আসবেন।

সমিতির মহাসচিব মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করে প্রারম্ভিক, লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পর্যায়ক্রমিকভাবে ৪টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস ক্যাডার অফিসার পদে যোগদান করেন।

আর ক্যাডারগুলোর মধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা হচ্ছে অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যডার। যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রে নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক গড়ে তোলার জন্য এ ক্যাডারের সৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে মেধাবী ও স্বপ্নবান তরুণরা এই ক্যাডারে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, জাতীয়করণ করা কলেজের সাধারণ শিক্ষকরা যোগ্যতার দিক থেকে কিছুতেই তাদের সমতুল্য হতে পারেন না। তাদের (সাধারণ শিক্ষক) মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতা অবশ্যই প্রশ্নের সম্মুখীন। কেননা তাদের অধিকাংশই একাধিকবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। অনেকেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই বাদ পড়েছেন।

এ জন্য বিসিএস ক্যাডার সদস্যদের সকল সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জন্য পৃথক পরিচালনা, নিয়োগ, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে শাহেদুল খবির বলেন, জাতীয়করণ কলেজের শিক্ষদের অন্য কোন কলেজে বদলি হয়ে আসার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা কলেজেই সুনির্দিষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকরা নন-ক্যাডার শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাদের চাকরি নতুন বিধিমালা তৈরি করে তার দ্বারা পরিচালিত হবে। কোনোভাবেই তারা বর্তমান ও ভবিষ্যত বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পারষ্পরিক জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, পদায়নসহ কোন সুযোগ সুবিধার অন্তরায় হবেন না।

শাহেদুল খবির জানান, অতীতে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র নীতিমালা পদ ও স্বতন্ত্র জ্যেষ্ঠতা নীতিমালা তৈরি না করেই ক্যাডারপদে পদায়ন দেওয়া শুরু হয়। ফলে তাদের কারণে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষকরা ক্যাডারে ব্যাপকভাবে জ্যেষ্ঠতা হারাতে শুরু করেন। তাদেরকে সমন্বিত করে অভিন্ন জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের পদোন্নতি অনেক পিছিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ নেই, সেসব উপজেলায় একটি করে বেসরকারি কলেজকে সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে কিছু কলেজকে সরকারি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দফায় আরও ২২২টি কলেজকে সরকারি করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৩১৫টির মতো বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ হওয়ার কথা। এসব কলেজে মোট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় আট হাজার।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্ষদে এমপিরা সভাপতি থাকতে পারবেন না

hi_courtবিশেষ প্রতিবেদক: বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বডি) সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যরা দায়িত্বে ফিরতে পারছেন না। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষসহ তিনটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদেশের পর ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। এর মাধ্যমে এমপিরা আর বিশেষ কমিটির মাধ্যমে আর সভাপতি হতে পারবেন না। যিনিই সভাপতি হোন না কেন, তাকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভিকারুন্নিছা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিশেষ ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল হয়ে গেল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

এর আগে চলতি বছর ১ জুন হাইকোর্ট মনোনয়নের মাধ্যমে সভাপতি হওয়া সংক্রান্ত আইনের ধারা বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। জুলাই মাসে সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, ভিকারুন্নিছা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাশেদ খান মেনন লিভ টু আপিল করেন। আজ আপিল বিভাগ তিনটি আবেদনেই খারিজ করে দেন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ৫ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ৪টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে থাকতে পারবেন। আর ৫০ ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন না দিয়ে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে গঠনের বিধান রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালার ৫ ও ৫০ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিট আবেদন দায়ের করেন ইউনুছ আলী আকন্দ। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন করবেন। কিন্তু তাদের এসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ দুটি ধারা স্ংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৬৫ এর সংঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে তা বাতিল চাওয়া হয়।

সেই রিটের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের থাকা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৩ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এই ধারা দুটি ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল।

শিক্ষা সচিব, ঢাকা শিক্ষা বোডের চেয়ারম্যান, কলেজ শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক, ভিকারুন্নিছা স্কুলের অধ্যক্ষ ও সভাপতি রাশেদ খান মেননকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

সেই রুল শুনানি শেষে গত ১ জুন হাইকোর্ট এমপিদের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হওয়া সংক্রান্ত আইনের ধারা বাতিল অবৈধ ঘোষণা করেন। আজ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রাখল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ১৩ নভেম্বর

শিক্ষাঙ্গন :: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সমাবর্তনকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান উপস্থিত থাকবেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন। দ্বিতীয় সামাবর্তনে ৫টি অনুষদের মধ্যে ৪ টি অনুষদের ১২টি বিভাগের বিএস.সি. সম্মান/ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫১ টি ব্যাচের ৯৮৭ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক, ৪৯৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতকোত্তরসহ মোট ১৪৮৬ জনকে ডিগ্রী প্রদান করা হবে।

এছাড়াও শিক্ষাজীবনে অনন্য কৃতিত্বের জন্য ২১ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর ও ডিন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নিম্নচাপের কারণে জেএসসি পরীক্ষা পেছাল

ssc-examসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেএসসির বরিশাল বোর্ড এবং সারাদেশে জেডিসির রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাহ মো. আলমগীর পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টায় বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নেয়।

জেএসসির বরিশাল বোর্ডের রোববারের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ১২ নভেম্বর একই সময়ে নেওয়া হবে।

মাদ্‌রাসা শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, জেডিসির এদিনের ইংরেজি দ্বিতীয় প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত দুদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ও সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

গভীর নিম্নচাপটি রোববার সকালে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গভীর নিম্নচাপটি রোববার সকালে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নেপথ্যে শীর্ষস্থানীয় স্কুলশিক্ষকরা কোচিং ফাঁদে শিক্ষার্থীরা

image-32972সরকারি আইন অমান্য করে কোচিং বাণিজ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় স্কুলের শিক্ষকর। ক্লাস পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে বাধ্য করে বাসায় বা নিজেদের কোচিং সেন্টারে পড়াচ্ছে। শিক্ষকদের এই কোচিং সেন্টারে না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাই সুনজরে আসার জন্য বাধ্য হয়েই কোচিংয়ে ব্যাচ করে স্কুল শিক্ষকদের কাছে তাদের সন্তানদের পড়াতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানকালে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ব্যাচভিত্তিক পড়ানো, মডেল টেস্ট নেয়া, বড় আকারের কোচিং ইত্যাদি নানা স্টাইলে চলছে বেআইনী কোচিং। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীপ্রতি সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এতো টাকা নেয়া হলেও সপ্তাহে প্রতি ব্যাচ মাত্র তিনদিন পড়ান শিক্ষকেরা। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের কোচিংপাড়া হিসেবে খ্যাত শাহজাহানপুর এলাকা। উত্তর শাহাজানপুরের অন্তত শতাধিক বাড়ি, দক্ষিণ শাহজাহানপুরের শিল্পী হোটেলের গলি, বেনজির বাগান, মুগদাপাড়া শাখা, বনশ্রী এলাকায়ও অনেকেই পড়িয়ে থাকেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাচ ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে শিক্ষার্থী পড়ানো হয়। শিক্ষার্থীদের হইচই ও হুল্লোড়ে বাসাবাড়িতে বসবাস কঠিন হয়ে পড়ে। বাড়ির মালিকেরা ফ্যামিলি ভাড়াটিয়ার চেয়ে তুলনামূলক বেশি ভাড়া পান কোচিং সেন্টারকে বাসা দিয়ে। এরমধ্যে কেবল শাহজাহানপুর এলাকায় এ ধরনের শতাধিক ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশিরভাগই পরিচালনা করছেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা।

দেখা গেছে, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ব্যাচে কোচিং দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষক একাই ৩০০ থেকে ৭০০ ছাত্রছাত্রী পড়ান। প্রতিটি ব্যাচ সপ্তাহে তিনদিন পড়ছে। ব্যাচ পড়াতে কয়েকটি ফ্ল্যাটে শিক্ষকদের প্রস্তুতিও রীতিমতো নজরকাড়া। উত্তর শাহজাহানপুর এলাকায় দেখা যায়, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের শাহজাহানপুর অংশে গোড়ায় পশ্চিমপাশে ৬১০ নম্বর বাড়িতে পুণম ফার্নিচারের দোতলায় ৭/৮জন শিক্ষক কোচিং পসরা নিয়ে বসেছেন। ভেতরে গিয়ে মনে হল কোনো স্কুল সেটা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষক আবদুল জলিল একটি কক্ষে টেবিল নিয়ে বসে আছেন। কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সেখানে গিজ গিজ করছে। আবদুল জলিল প্রতিদিনের সংবাদের এই প্রতিবেদককে প্রথমে বলেন, তিনি নবম-দশম শ্রেণির কমার্সের শিক্ষক। স্কুলে কমার্সে শিক্ষার্থী নেই। তাই তিনি কোনো কোচিং করান না। পরে তার টেবিলে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ের মডেল টেস্টের প্রশ্ন এবং চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের গণিতের স্পেশাল মডেল টেস্টের পরীক্ষার সময়সূচি। ‘বার্ষিক পরীক্ষা-২০১৬’ লেখা এই সময়সূচিতে ৬ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর কবে কোন বিষয়ে মডেল টেস্ট নেয়া হবে- সে তথ্য। নীচে লেখা আছে, এ বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেড় হাজার টাকা করে দিতে হবে। তবে যারা তার কোচিংয়ের ছাত্র তাদের ৫০০ টাকা দিলেই চলবে। বি: দ্র: দিয়ে লেখা আছে—সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত যে কোনো সময়ে শিক্ষার্থীরা মডেল টেস্ট দিতে পারবে। শিক্ষক জলিল নিজেই এই সময়সূচি এই প্রতিবেদকের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, সরকার বেতন বাড়িয়ে দিক কোচিং আর করাব না। এভাবে কোচিং করানো সম্মানজনকও নয়। ‘সরকার তো দ্বিগুণ করেছে বেতন’ এমন কথার জবাবে তিনি বলেন, এতে হয় না। যা বাড়িয়েছে তার বেশি ট্যাক্স নিচ্ছে। বাসা ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবদুল জলিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মিনি স্কুলে তিনি একা আইডিয়াল স্কুলের নন বরং নিগার সুলতানা, আবদুস সালাম, মোতালেব, জয়নাল আবেদীন, আলী নেওয়াজ আল করিম এবং মতিঝিল মডেল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক কবির হোসেনসহ আরও কয়েকজন পড়ান। তিনি বলেন, ওই এলাকায় কেবল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষকদেরই আরও কয়েকশ বাড়িতে কোচিং সেন্টার আছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল ও কলেজে গত ২৫ অক্টোবর টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে ওয়ারেসুল ইসলাম হিমেল নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেন রসায়নের শিক্ষক ফখরুদ্দীন। আহত হিমেল এবং তার মা জেসমিন নাহারের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় এভাবে কাঠের বেতন দিয়ে পেটানো হয়। হিমেল দশম শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই মূলত এই শিক্ষক প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপাচাপি করছিলেন।

উত্তর শাহজাহানপুর ৪৯১/সি নম্বর বাড়িতে মিনি স্কুল খুলে বসেছেন মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। ছোট্ট কক্ষে ৮-১০টি লো-হাই বেঞ্চ পাতা আছে। সেখানে ২০-২৫জন ছাত্রকে দেখা গেছে। অভিভাবক পরিচয়ে এই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বাসার পেছনে নিয়ে যান। এরপর বলেন, ‘আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে অভিভাবক নন। অভিভাবকদের পীড়াপীড়িতে আমি অল্প কজনকে পড়াই।’

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য সম্পর্কে অভিভাবকরা মুখ খুলতে চান না। এই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ও কেন্দ্রীয় অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘আইডিয়ালে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই কোচিংকে প্রশ্রয় দেয়া হয়। এর প্রমাণ হচ্ছে, গত এপ্রিলে কোচিং করানোর জন্য স্কুলে কক্ষ ভাড়া দেয়া হয়। আগস্ট পর্যন্ত তা বহাল ছিল। পরে অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলের চাপে কক্ষ বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এরপর সবাই আবার আগের মত বাসা ভাড়া করে কোচিং করাচ্ছেন বলে জানান।

২০১২ সালের গত ২০ জুন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুসারে কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। প্রতিষ্ঠান প্রধানের লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে অবশ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ শিক্ষার্থীকে পড়াতে পারবেন। কিন্তু এই নীতিমালা বর্তমানে কেতাবের বাণীতে পরিণত হয়েছে।

গত ২ নভেম্বর মনিপুর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশে শতাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। স্থানীয় এবং অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটির মালিক স্কুলের শিক্ষক আবার কোনোটির মালিক স্কুলের বর্তমান বা সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য। এর বাইরে শিক্ষকেরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট-কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন। গ্রিনভিউ হাই স্কুলের গলি স্থানীয়দের কাছে মাস্টারপাড়া হিসেবে পরিচিত। ওই গলির ৭৬৪/১ নম্বর বাড়িতে মণিপুর স্কুলের শিক্ষক সৈকত ও ফিরোজের বাসা। এই বাড়ির কেয়ারটেকার বাবলু জানান, ‘স্যারেরা আগে বাড়িতেই ব্যাচে ছাত্রছাত্রী পড়াতেন। কয়েকমাস ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা বাইরে পড়ান।’ তিনি আরো জানান, ওই গলিতে অনেক শিক্ষকের বসবাস। সকাল ১১টা এবং বিকাল ৪টার পর ছাত্রছাত্রীদের ঢল নামে গলিতে। তার কথার সূত্র ধরে ৭৬৩/৮ নম্বর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, কম্পিউটার শিক্ষক সোলেমান ফারসি এবং ৭৬৩/৫ ও ৭৬৩/৬ নম্বর বাড়িতে আপন, কায়েসসহ ৬জন শিক্ষক পড়ান। এরমধ্যে ৭৬৩/৫ ও ৭৬৩/৬ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় গিয়ে দুই নারী ও দুই শিশুর কাছে জানা যায়, শিক্ষকেরা বাসা ভাড়া নিয়েছেন শুধু কোচিংয়ের জন্য, বসবাস করেন অন্যত্র। তারা নামপ্রকাশ করতে রাজি হন নি। তবে ৭৬৩/৮ নম্বর বাড়িতে সোলেমান ফারসির ছেলে তালহা জানান, তার বাবা গণিত বিষয়ে কোচিং দেন। বাবা সকালে বের হন আর রাতে ফেরেন। এ কারণে তার সঙ্গে বাবার সাক্ষাত হয় না।

মণিপুর স্কুলের মূল (বালিকা) শাখার গেটের ঠিক বিপরীত পাশের বাড়ির সিঁড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলেন কোহিনুর বেগম নামে একজন অভিভাবক। তিনি জানান, এই এলাকার বেশির ভাগ কোচিং সেন্টার কোনো না কোনো শিক্ষকের। এরমধ্যে শহীদ স্যারেরই দুটি। একটি হচ্ছে আধুনিক, আরেকটি ইনটেনসিভ। সামনে স্যার নেই। কিন্তু নেপথ্যে তিনিই। এর প্রমাণ হচ্ছে, কোচিং থেকে যত লেকচার শিট, সাজেশান দেয়া হয়, সবগুলোতেই শিক্ষকের নাম থাকে। ফয়সাল নামে আরেকজন অভিভাবক জানান, স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত কোচিংয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা কম। এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই বাইরের কোচিংয়ে পড়ে। কিন্তু অষ্টম ও দশম শ্রেণিতে স্কুলে কোচিং আর নবম-দশম শ্রেণিতে স্কুলের শিক্ষকের কাছে ব্যাচে পড়তে হয়। নইলে বিভিন্ন পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়াসহ নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। স্কুলের ঠিক সামনেই গ্রিন কোচিং সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক মণিপুর স্কুলের পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোচিংয়ের ব্যাপারে কড়াকড়ির কারণে এভাবে শিক্ষকদের কেউ নিজের বসবাসের ফ্ল্যাট-বাড়ির দূরে আবার কেউ আত্মীয়স্বজন বা বেতনভুক্ত অন্য লোককে সামনে রেখে কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন। প্রতি ব্যাচে রয়েছে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী। প্রতিদিন সকালে-বিকালে চার থেকে আটটি পর্যন্ত ব্যাচ পড়ানো হয়।বিকেলে শিক্ষকদের ওইসব বাসা-ফ্ল্যাটের সামনের রাস্তায়, বারান্দা ও সিঁড়িতেও শিক্ষার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

এ বিষয়ে মনিপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন বলেন, বাসায় ব্যাচ পড়ানো অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে যাদের প্রামাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক সমাজ অবহেলিত,কর্মকর্তা সন্মানিত (যবিপ্রবি)

jobiযবি সংবাদদাতা : যারা সম্মানের জন্য শিক্ষকতা পেশাকে গ্রহণ করেছেন বর্তমানে তারা সম্মানের বদলে অভিশপ্ত জীবন কাটাচ্ছেন।

যারা জাতি গঠনের দায়িত্বে নিয়োজিত তারাই অবহেলিত তেমনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-২০১৭ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা কমিটিতে প্রধান পরিদর্শক হিসাবে এক কর্মচারীকে পদ দেবার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও আলটিমেটাম দেওয়া হয় শিক্ষকদের।

এক কর্মচারীর নির্দেশ মান্য করতে  হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ ঘটনা মনে হয় ইতিহাসে বিরল।যেখানে শিক্ষকদের যথাযথ সন্মান দেওয়া হয় না,সেখানে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে?

আজ যবিপ্রবি শিক্ষকরা মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড.আব্দুস সাত্তারের হাতে জিম্মি। ভর্তি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রিশন ফি বাবদ মোট টাকার পরিমান, ৩,০২,৪৭,০০০/=(তিন কোটি দুই লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার টাকা)।

যার ২০% হারে অর্থাৎ ৬০,৪৯,৪০০/=(ষাটলক্ষ ঊনপঞ্চাশ হাজার চারশত টাকা) মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সাত্তার আত্নসাৎ করেছে।০২.১১.২০১৬ তারিখে শিক্ষক সমিতির আলোচনা সভায় এসব তথ্য উঠে আস।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রকল্পে শিক্ষকরাই নেই!

0218084ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক কর্মকর্তা গত মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং শেষ করেছেন। তিনি ভিসা পেয়েই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তাতে লিখেছিলেন, ‘মাই গট ভিসা।’ অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, ‘আমি ভিসা পেয়েছি।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে কর্মকর্তা ‘আমি ভিসা পেয়েছি’র ইংরেজিই লিখতে পারেন না; তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন! তিনি তো অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন ধরনের ইংরেজি কথা ধরতেই পারেননি, বোঝা তো দূরের কথা!’

শুধু এই কর্মকর্তাই নন, গত মাসে ইউজিসির হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণে যাওয়া ৬২ জনের মধ্যে ৩২ জনই ছিলেন জুনিয়র কর্মকর্তা। বিদেশে প্রশিক্ষণের শর্ত পূরণ না করেই তাঁরা সুযোগ পান। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষার উন্নয়নে কোনোভাবেই কাজে আসছে না বলে জানিয়েছে ইউজিসির এক নির্ভরযোগ্য সূত্র।

এ ছাড়া গত ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রকল্প ‘টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্টের (টিকিউআই-২) অর্থায়নে নিউজিল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নিতে যান ১৬ জন কর্মকর্তা। দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ। তিনি ২৮ অক্টোবর প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে ফিরে ২৯ অক্টোবরই অবসরোত্তর ছুটিতে যান। চাকরিজীবনের শেষ দিনে প্রশিক্ষণ তিনি কোন কাজে লাগিয়েছেন তা খুঁজে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নের এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে আটজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ছয়জন সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং একজন মাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অথচ শিক্ষকদের জন্য এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পটিতে শিক্ষকরাই বিদেশে যাওয়ার তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না।

এদিকে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের কাজে প্রশিক্ষণ নিতে গত মাসে কানাডা যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা। তাঁদের ১৪ দিনের সফরের আয়োজন করেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন শাখা। পাঁচজনের

একজন এর আগের মাসেই একটি প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরেন। আরেকজনও চলতি বছরে একাধিকবার বিদেশে প্রশিক্ষণে গিয়েছেন। এভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদেশে প্রশিক্ষণের বিষয়টিতে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউজিসির হেকেপ প্রকল্পের নামেও বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণে প্রকল্পের ‘অগ্রহণযোগ্য ব্যয়ের’ টাকা ফেরত চেয়েছে বিশ্বব্যাংক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আফছারুল আমীন বলেন, ‘যাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান এবং যাঁরা শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন তাঁদেরই শিক্ষাবিষয়ক বিদেশি প্রশিক্ষণে যাওয়া উচিত। যাঁরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকতা তাঁরা বিদেশে শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়ে কী করবেন? তাঁরা আজ এক ধরনের কাজ করবেন তো কাল অন্য ধরনের। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ না পেলে শিক্ষার উন্নতি হবে না। যাঁদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই তাঁদের যাতে সুযোগ দেওয়া না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আরো সচেতন হতে হবে।’

ইউজিসি সূত্র জানায়, গত মাসেই হেকেপের অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট শর্ট ট্রেনিং কোর্সে’র আওতায় দুটি দলে ভাগ হয়ে প্রশিক্ষণে যান ৬২ জন কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে ৩২ জনই জুনিয়র কর্মকর্তা, যাঁরা প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুযায়ী এই প্রশিক্ষণে যেতে পারেন না। তাঁদের মধ্যে হেকেপের সিস্টেম অ্যানালিস্ট, প্রোগ্রাম অফিসার পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন। অথচ আরডিপিপি অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারী সচিবের নিচে কোনো কর্মকর্তা এই ধরনের প্রশিক্ষণে যেতে পারবেন না।

নাম প্রকাশ না করে ইউজিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘৬২ জনের মধ্যে অর্ধেকই ইংরেজি ঠিকমতো বোঝেন না। যাঁরা ইংরেজিই বোঝেন না তাঁরা কিভাবে ইংরেজিতে প্রশিক্ষণ নেবেন। আসলে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই ভিন্ন। যাঁরা বিদেশে যাওয়ার জন্য তদবির করেন তাঁদের মধ্যে এই বছরে কে বিদেশে যাননি বা একবার গিয়েছেন তাঁকেই নির্বাচন করা হয়। আর বিদেশে গিয়েও তাঁরা কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত থাকেন। কারণ দেশে ফিরে কপি পেস্ট করে একটি প্রতিবেদন দিলেই দায়িত্ব শেষ।’

ইউজিসির ওই সূত্র জানায়, আরডিপিপি অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এসব প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা বলা হলেও তাঁরা সব সময় থাকেন উপেক্ষিত। উচ্চশিক্ষার এই ট্যুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চারজন ও হেকেপ থেকে আট কর্মকর্তা অংশ নেন। দলটিতে এমন কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন যাঁরা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার সঙ্গে জড়িত নন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হেকেপ প্রকল্প শেষ হবে ২০১৮ সালে। এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দুই হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৬২ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। আর বাকি সবই বিশ্বব্যাংকের ঋণ। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হয় ২০১২ সালে। কিন্তু প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ অর্থও খরচ করতে না পারলেও প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসেই আরডিপিপিতে বছরে একাধিক বিদেশ ভ্রমণের আয়োজন রাখা হয়। শুধু বিদেশ সফরই নয়; আরো অনেক অভিযোগ উঠেছে হেকেপ প্রকল্পের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের বড় অঙ্কের অগ্রহণযোগ্য ব্যয় ধরা পড়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপপ্রকল্প বাস্তবায়নে এসব ব্যয় করা হয়েছে দেখানো হলেও তা সঠিকভাবে খরচ করা হয় না বলে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক এ অর্থ ফেরত চেয়েছে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে প্রায়ই সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হয় এ প্রকল্প থেকে। যে আয়োজনে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়। অথচ এ ধরনের সেমিনার উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কতটুকু সহায়ক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদরা। কালের কন্ঠ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্যানেলভুক্ত শিক্ষকের ভাগ্য কি খুলবে?

panel-teacherনিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের কয়েকদফা চিঠি চালাচালির পর সদ্য জাতীয়করণকৃত রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একে একে প্রায় ২৫ হাজার প্যানেলভুক্ত শিক্ষকের নিয়োগ সম্পন্ন হলেও কপাল মন্দ বাকি ৭ হাজার শিক্ষকের। তারা এখনো নিয়োগ পাননি। সবথেকে আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে যেসব শিক্ষকের রিটে উল্লেখিত ২৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের মধ্যে নেই প্রায় ৫ হাজার রিটকারী প্যানেলভুক্ত শিক্ষকই। তারা এখন তীর্তের কাকের মতো চাকরির আশায় বসে আছেন।

গত কয়েক মাস আগেও এসব শিক্ষক স্বপ্ন দেখেছেন নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে জাতি গঠনে কাজ করবেন। তবে এখন শুধু হতাশা আর কান্নাই বাড়ছে এইসব প্যানেলভুক্তদের পরিবারে। তাদের অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন, আর কত দিন আমরা বসে থাকব। সরকারি স্কুলগুলোতে উদ্বৃত্ত পদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দিতে গড়িমসি করছে সরকার।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন জাতীয়করণকৃত স্কুলে এখনও প্রায় ৩ হাজার উদ্বৃত্ত পদ রয়েছে। এছাড়াও পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এদিকে প্যানেল অপেক্ষমাণ শিক্ষকরা দাবি করে বলছেন, নতুন জাতীয়করণ স্কুলগুলোর শুন্যপদে আন্তঃজেলা সমন্বয় করে নিয়োগ দিতে হবে।
সারাদেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রকল্পের ১ হাজার ৫০০ স্কুলে শূন্য পদে পদায়ন করারও দাবি জানান তারা।

প্যানেল শিক্ষকরা বলেন, সরকার একটু মানবিক দিক বিবেচনা করলে আমাদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে যায়। তারা বলেন পদতো শূন্য আছেই তবুও সরকার কেন আমাদের এই নিয়োগ নিয়ে শুধু অপেক্ষার সময় দীর্ঘ করছেন।

এ বিষয়ে প্যানেল শিক্ষকদের মামলার আইনজীবী সিদ্দিকুল্লাহ মিয়া বলেন, আদালত রায়কারীদের নিয়োগদানের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় ২৯ এপ্রিলের পাঁচ সদস্যের কমিটির বৈঠকে আদালতের আদেশ অমান্য করে সবাইকে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করে। পরে ধাপে ধাপে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ হাইকোর্টের রায়ে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষক এখনো নিয়োগের অপেক্ষায় আছে। মন্ত্রণালয়ের ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই এ জট লেগেছে।

তিনি বলেন, একজন প্যানেল শিক্ষক বাদ গেলেও আবার আদালতের দারস্থ হবো। অপর দিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির (প্যানেল) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মল্লিক আ. রাজ্জাক বলেন, যদি নভেম্বরে সরকার কোনো অর্ডার না দেয়। তাহলে আদালতে দারস্থ হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১৯ শিক্ষক পাচ্ছেন অষ্টম ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড

ugcমৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনায় বিশেষ অবদানের জন্য অষ্টম ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জন শিক্ষক।

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এই শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

২০১৪ সালের জন্য ১০ জন এবং ২০১৫ সালের জন্য ৯ জন শিক্ষক এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

২০১৪ সালের পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. অসিত রায়, বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টা. ইউনিভার্সিটির প্রভাষক আবদুল্লাহ-আল-আরিফ, রাবি’র অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার পান্ডে, বাকৃবি’র অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম, বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার, ঢাবি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মমিনুল ইসলাম, রুয়েটের প্রভাষক মো. ইমরান হাসান, খুবি’র সহকারী অধ্যাপক ড. শেখ জামাল উদ্দিন, রাবি’র অধ্যাপক ড. মোর্বারা সিদ্দিকা ও চবি’র অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমান।

এছাড়া ২০১৫ সালে গবেষণার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. জগন্নাথ বড়ূয়া, বেসরকারি উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, শাবি’র সহকারী অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহমেদ, রাবি’র সহকারী অধ্যাপক ড. আহমদ হুমায়ুন কবির, খুবি’র ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইফতেখার শামস্, ঢাবি’র তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম মোহাম্মদ ভূঁঞা, চবি’র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ অছিয়র রহমান, চুযেটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আয়শা আখতার ও সিকৃবি’র প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাছুদুর রহমানকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রকাশিত প্রবন্ধের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও বইয়ের জন্য ৭৫ হাজার টাকা সম্মানী এবং ইউজিসি ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনায় উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে ইউজিসি ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডেন্টালে প্রতি আসনে লড়বেন ১২ ভর্তিচ্ছু

medicaদেশের সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সব প্রস্তুতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৩২টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেবেন ২২ হাজার ৩৫৫ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি আসনে লড়বেন ১২ ভর্তিচ্ছু ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশীদ বুধবার সকালে জাগো নিউজকে জানান, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার মতো ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষাও সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গ্রহণের লক্ষ্যে কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

এরই মধ্যে পাঁচটি পরীক্ষাকেন্দ্রে  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পৃথক পরিদর্শন কমিটি গঠিত হয়েছে। আজ ওভারসাইট কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ শুরু হবে। এমবিবিএসের মতো এবারও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র সিলগালা করে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। পুলিশি প্রহরায় প্রশ্নপত্র বহনকারী গাড়িতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা থাকবেন। এছাড়া প্রযুক্তির কল্যাণে বিশেষ ধরনের ডিভাইস গাড়িতে থাকবে। কখন, কোথায়, কোন পথে বহনকারী গাড়ি অবস্থান করছে- তা সংকেতের সাহায্যে দেখা যাবে।

গত বছর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ১০০ ও ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরসহ মোট ২০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতো।

কিন্তু চলতি বছর এসএসসির ১০০, এইচএসসির ১০০ ও ভর্তি পরীক্ষার ১০০ সহ মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হবে।

গত বছর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে একই দিন একই সময় অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। একই সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণের ফলে ডেন্টালের বিপুলসংখ্যক আসন শূন্য থাকতো। বিশেষ করে বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের অধিকাংশ আসনসংখ্যা পূরণ না হওয়ায় ডেন্টাল বিশেষজ্ঞদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলতি বছর পৃথকভাবে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

চলতি বছর ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা ও এর বাইরের মোট ৫টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুগুলো হলো- ঢাকা ডেন্টাল কলেজ- মিরপুর, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল ইউনিট, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ডেন্টাল ইউনিট।

বর্তমানে দেশে সরকারি ৯টি, বেসরকারি  ২৮টি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিট রয়েছে। এগুলোতে মোট আসনসংখ্যা  ১ হাজার ৮৩২টি। তন্মধ্যে সরকারি ৫১৭ ও বেসরকারি ১ হাজার ৩১টি।

উল্লেখ্য, ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) এক ঘণ্টার পরীক্ষাগ্রহণ করা হবে। জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়নবিজ্ঞান ২৫, পদার্থবিজ্ঞান ২০, ইংরেজি ১৫, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৬ ও আন্তর্জাতিক ৪) ২০ নম্বর থাকবে। ভুল উত্তরের জন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ তালিকায় হ-য-ব-র-ল

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর বিপাকে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ৯ অক্টোবর ১২ হাজার ৬১৯ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে পাঁচ, দশ বা তারও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কোনো কোনো শিক্ষক অর্ধশতাধিক থেকে শতাধিক আবেদন করেও কোনো স্কুল বা কলেজে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হননি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, একজন চাকরিপ্রার্থী মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু অনেককেই একাধিক পদের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এতে বেকাররা বেকারই থেকে গেল! এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজ উপজেলা, জেলাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও এমনটি মানা হয়নি। মহিলা কোটাও অনুসরণ করা হয়নি যথাযথভাবে। তবে এসব বিষয়ে জানতে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আজহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একাধিক স্কুল বা কলেজে চাকরির জন্য সুপারিশপ্রাপ্তদের পছন্দমাফিক মাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ দিয়ে পুনরায় আরেকটি তালিকা তৈরি করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা একটি প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করব। কোটা অনুসরণ না করা, নিয়োগে এলাকা প্রাধান্য না দেওয়াসহ ভুক্তভোগী প্রার্থীদের অভিযোগের উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি। এদিকে নানা অনিয়ম আর অভিযোগ তুলে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু চাকরির সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান ও শিক্ষা সচিব বরাবর দেশের ৬৪ জেলা থেকে উকিল নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ লক্ষ্যে ২০-২৫ জন চাকরিপ্রার্থী বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা পার্কে বৈঠক করেছেন। নিবন্ধনধারী এই বেকারদের সমন্বয় করছেন জাহাঙ্গীর আলম (১২তম নিবন্ধন, রোল ৩১২০৬১৬৫, রেজি. ২০১৫১২০৩২৫৪৭)। তিনি ২৪টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে কোথাও সিলেক্টেড হননি। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘উকিল নোটিসের যথাযথ জবাব না পেলে আমরা এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান ও শিক্ষা সচিবের বিরুদ্ধে মামলা করব।’ এ ফলাফলের বিরুদ্ধে শিগগিরই হাইকোর্টে রিট করবেন বলেও জানান তারা। মো. গোলাম রাব্বানি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে অভিযোগ করে বলেন, তিনি (১২তম নিবন্ধন, রেজি. ২০১৫১২০৩৮৭৪০) চাকরি পেতে ৯২টি কলেজে আবেদন করেছেন। পরিতোষচন্দ্র হালদার (১২তম নিবন্ধন, রোল ৪৩৫০০১৯৫) জানান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন সাবজেক্টে থেকে তিনি ১২টি কলেজে আবেদন করেছেন। ফরিদপুর থেকে শাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি ১৭টি কলেজে আবেদন করেছেন। ১১তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েছেন মো. কহিনুর আলম (রেজি. ২০১৪১১০২২৮৪৪)। তিনি ইসলামের ইতিহাস সাবজেক্ট থেকে আবেদন করেছেন ১১টি কলেজে। কুড়িগ্রাম থেকে মো. জাহাঙ্গীর আলম (নবম নিবন্ধন, রোল ৪২২১১২৪০) জানান, তিনি ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। নীলফামারীর মো. হামিদুল ইসলাম (১২তম নিবন্ধন, রোল ৩০৪০৬৯৮৭) ৪০টি স্কুলে আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়নি এই চাকরিপ্রার্থীদের। শেরপুরের আতিকুর রহমান (রোল ৪১৬০৮৮৯৫) বলেন, ‘আমি উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ে ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষায় কলেজে ৮৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হই। ১৯টি কলেজে অ্যাপ্লিকেশন করে একটিতেও আমার নাম আসেনি। পদ খালি থাকা সত্ত্বেও ময়মনসিংহ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি উদ্ভিদবিদ্যায় কোনো পদের চাহিদা দেয়নি এবং এনটিআরসিএ চাহিদা দিতে বাধ্য করেনি। ফলে আমি বেকারই থেকে গেলাম।’ অন্যদিকে অনেক প্রার্থী একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটি থেকে বীণাপাণি ধার (ষষ্ঠ নিবন্ধন, রোল ৩২১৩৩২৮৯) চারটি স্কুলে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলার মহসিন আলী (১১তম নিবন্ধন, রোল ৩১৮০৪৫৭৮) নামে এক প্রার্থী ১০টি স্কুলে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মীম নামে এক প্রার্থী (দশম নিবন্ধন, রোল ৩২১১৮৫৬৫) আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণিত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ থানায় কামরুল হাসান নামে (১২তম নিবন্ধন, রোল ৩০২০৩৯৫২) আরেক প্রার্থী ছয়টি স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৭৪টি পদের বিপরীতে মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে ৬৭ জনই একাধিক স্কুলের জন্য মনোনীত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন ওয়াহেদুল ইসলাম (নবম নিবন্ধন, রোল ৩০২০৫৭৮২) ও রাসেল হোসাইন (১২তম নিবন্ধন, রোল ৩০২০৩৮৭২) নামে দুই প্রার্থী ৭টি করে ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। নিবন্ধনধারী বেকারদের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শূন্যপদের তালিকা না নিয়ে মাত্র ১২ হাজার ৬১৯টি পদের বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এতে অনেক প্রার্থীই চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মহিলা কোটা সংরক্ষণ না করার অভিযোগ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজারামপুর হাসিনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্কুলে শারীরিক শিক্ষায় একজন মহিলা নিয়োগ দিতে শূন্যপদের তালিকা জমা দিই। কিন্তু সে স্থানে মো. গোলাম কবীর (১০ নিবন্ধন, রোল ৩১৮১৬৫২৯) নামে এক পুরুষ প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার উপজেলায় যোগ্য মহিলা প্রার্থীও আবেদন করেছিলেন।’ এ ব্যাপারে এনটিআরসিএ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মোহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল হাইস্কুলে ইংরেজি সহকারী শিক্ষক পদে দুটি পদে পাশের কাউনিয়া উপজেলা থেকে সিলেক্ট করা হয়েছে। গঙ্গাচড়া উপজেলায় আবেদন করা প্রার্থীরা পদ্মচন্দ্র রয় (১২তম নিবন্ধন), মো. ফাজিয়া শারমিন (১২তম), মোস্তাফিজুর রহমান (১২তম) এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন। চাকরির জন্য সুপারিশ না হওয়া প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন প্রার্থী যত খুশি আবেদন করতে পারবেন’ এমন নিয়ম চালু করে এনটিআরসিএ বেকার যুবকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একটি চাকরির জন্য অনেকেই ডজন ডজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। তারা বলছেন, বেকার যুবকদের কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায় করা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ

pscঅনলাইন প্রতিবেদক: সাঁইত্রিশতম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), যাতে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ‌্য বিবেচিত হয়েছেন ৮ হাজার ৫২৩ জন।

কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দিন মঙ্গলবার বিকালে ফল প্রকাশের তথ্য জানান।

তিনি বলেন, টেলিটক মোবাইল থেকে PSC লিখে স্পেস দিয়ে ৩৭ লিখে স্পেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে। লিখিত পরীক্ষার তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।

দুই লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন চাকরিপ্রার্থী গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন।

প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে এক হাজার ২২৬ জনকে নিয়োগ দিতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free