শিক্ষাঙ্গন

এক এমপিওভুক্ত শিক্ষকের চার প্রতিষ্ঠানে চাকরি!

ডেস্ক।
বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জামালপুরের ইসলামপুর জে জে কে এইচ গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর হিসেবে এমপিও ভোগ করছেন মুহাম্মদ আনোয়ার কবীর। এক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রধান নিরীক্ষকও হয়েছেন তিনি। কিন্তু দুদকে আসা একটি অভিযোগের জের ধরে ফেঁসে গেছেন শিক্ষক আনোয়ার। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আসা একসাথে চারটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে এমপিও ভোগের সত্যতা পেয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। তাই, তার এমপিও বাতিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।


জানা গেছে, গত জুন মাসে জামালপুর থেকে ইসলামপুর জে জে কে এইচ গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মুহাম্মদ আনোয়ার কবীরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আসে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক আনোয়ার একই সাথে চারটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। নিয়ম ভেঙে জামালপুরের ইসলামপুর জে জে কে এইচ গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর হিসেবে এমপিও ভোগ করলেও ইসলামপুর আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান, ডেবরাইপেচ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পপুলার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।

কারিগরি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ইসলামপুর জে জে কে এইচ গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন মুহাম্মদ আনোয়ার কবীর। তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষক আনোয়ার কবীর ইসলামপুর আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান, ডেবরাইপেচ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পপুলার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। এমনকি ডেবরাইপেচ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একাধিক পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ১৭ জুন তা তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে বলে দুদক। সে প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালককে অভিযোগটি তদন্ত করতে বলা হয়। গত ১৮ জুলাই অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এ পাঠিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষক আনোয়ার কবীরের এমপিও বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। সে প্রেক্ষিতে বিধি অনুযায়ী শিক্ষক আনোয়ারুল কবীরকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজ নোটিশে, একই সাথে চার প্রতিষ্ঠানের চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন তার এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে না তার কারণ লিখিতভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে তাকে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

‘গরু রচনা বাদ দিয়ে স্কুলে ডেঙ্গু বিষয়ে পড়াতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ আগস্ট , ২০১৯:
স্কুলের শিশুদের পাঠ্যবইয়ে গরুর রচনা না পড়িয়ে ডেঙ্গু বিষয়ে পড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। শনিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ডেঙ্গুবিষয়ক মোবাইল অ্যাপস ‘স্টপ ডেঙ্গু’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এই অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং চারটি সংস্থা।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, কারিকুলামে গরুর রচনা পড়িয়ে আমার কতটুকু লাভ হবে। তার চেয়ে বরং ট্রাফিক সিগন্যাল পড়ানো, এডিস মশা কী জিনিস শেখানো, কোথায় জন্ম হয়, ছোটবেলা থেকে শিখলে, লাইফে অ্যাপলিকেশন আছে এমন যদি সিলেবাসে থাকে তবে অসুবিধা কোথায়? কোন রচনা পড়াব, কোন গল্প পড়াব এ সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

সরকারি স্কুলের ৪৯ শিক্ষককে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ আগস্ট , ২০১৯
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ৪৯ জন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ৪৭ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এসব শিক্ষককে গুলি করে পৃথক চারটি আদেশ জারি করা হয়।

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন



Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিনামূল্যে কম্পিউটার শিক্ষা, থাকছে ইংরেজি চর্চাও

অনলাইন ডেস্ক,১৭ আগষ্ট: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার শেখার সুযোগ মিলবে। থাকবে ইংরেজি ভাষা চর্চার সুযোগও। এ লক্ষ্যে সারাদেশের ৫০৯টি উপজেলায় কম্পিউটার ল্যাব ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


পড়ালেখার পাশাপাশি ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা প্রতি সপ্তাহে একদিন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ইংরেজি ভাষা চর্চার সুযোগ পাবে। চলতি বছর এপ্রিলে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। বর্তমানে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ শুরু হয়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) থেকে জানা গেছে।

ডিপিই সূত্রে আরও জানা যায়, সারাদেশের ৫০৯টি প্রাথমিক শিক্ষা উপজেলার একটি করে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঁচটি করে কম্পিউটার দেয়া হবে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন পড়ালেখার পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, ল্যাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা চর্চারও সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভারতের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। দুই বছর মেয়াদের এ প্রকল্পে ভারত সরকার ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭৩ হাজার এবং বাংলাদেশ সরকার দুই কোটি ৪১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় করবে। প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রতিটি উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্যাব’ স্থাপন। যেসব নির্ধারিত উপজেলা শহরে বড় অবকাঠামোসম্পন্ন বিদ্যালয় রয়েছে, এমন বিদ্যালয় ল্যাবের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী মাসে এ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেয়া হবে। পিডি নিয়োগের পর তার অধীনে মোট আটজন কর্মকর্তা দেয়া হবে। এরপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী বাস্তাবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিই’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক এনামুল কাদের খান  বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা ও ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা বাড়াতে সারাদেশের ৫০৯টি উপজেলায় একটি করে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব স্থাপন করা হবে। গত বছর এ প্রকল্প তৈরি করা হলেও চলতি বছর ২৩ এপ্রিল একনেকে এটির অনুমোদন দেয়া হয়।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পিডি নিয়োগ না হওয়ায় তা পিছিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

রাজশাহী বোর্ডে ৬৬ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ আগষ্ট:
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৬৬ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। আর ফল পুনঃনিরীক্ষণে নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকালে শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।



গত ১৭ জুলাই উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৭২৯ জন।

এরপর গত ১৮ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করে বোর্ডগুলো। ফল পুনঃনিরীক্ষণে পত্রপ্রতি ১৫০ টাকা আবেদন ফি গ্রহণ করা হয়।

১৭ জুলাই প্রকাশিত ফল অনুযায়ী এবছর উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ শিক্ষার্থী। ৮টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ ভাগ। ৮ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ৪১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

এ বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৬২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ জন। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ ভাগ। আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভুক্তির তালিকা :১৪ আগস্ট পাঠানো হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ আগষ্ট :

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করেছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন এমপিও দিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়।


নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বশেষ এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল ২০১০ সালে। এরপর থেকে নতুন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পায়নি।

এমপিও তালিকায় চূড়ান্ত করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫শ’ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এক হাজারের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬০টির বেশি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৯০টির বেশি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ এবং ৫০টির বেশি ডিগ্রি (অনার্স-মাস্টার্স) পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে বলেছিলেন, প্রায় ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

অনলাইনে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন করেছিল। সে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে প্রায় ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শর্ত পূরণ করায় তাদের বিবেচনা করা হয়েছে। দ্রুতই ওই ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ডেঙ্গু এতিম করলো ভিকারুননিসার দুই ছাত্রীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৫ আগস্ট ২০১৯ :
স্বপ্ন ছিল দুই মেয়েকে অনেক বড় মানুষ করে গড়ে তুলবেন। এ কারণে উচ্চশিক্ষিত হয়েও নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটেননি মা শিরিন আক্তার (৩৮)। মেয়েদের পড়ালেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। দুই মেয়েকে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করান। মায়ের প্রচেষ্টায় দুই মেয়ে ক্লাসে বরাবর প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ডেঙ্গু জ্বর সেই মাকে কেড়ে নিয়েছে বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় মেয়ে রায়না জেরিন।


ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোড প্রধান শাখার একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রায়না জেরিন। একই শাখায় তার ছোট বোন সুমাইদা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তাদের বাসা বনশ্রীর তিতাস রোডে। মা শিরিন আক্তার ও বাবা আনিসুল আমিন মিলে একটি সুখের সংসার ছিল তাদের।

বাবা ব্যবসা করেন। মা উচ্চশিক্ষিত হলেও নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটেননি। দুই মেয়েকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেই মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে। দিনভর বিলাপ করে দিন পার হচ্ছে দুই বোনের।

স্বজনরা জানান, দুই মেয়েকে অনেক বড় মানুষ করে গড়াই ছিল শিরিনের স্বপ্ন। এ কারণে মেয়েদের নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। মেয়েরা কী খাবে, কী করবে, কোনটা তাদের জন্য ভালো হবে- এসব ছিল তার একমাত্র ভাবনা।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২৮ জুলাই শিরিন আক্তারকে পান্থপথ বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাতদিন তার চিকিৎসা চলে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

বড় মেয়ে রায়না জেরিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মা ছাড়া আমরা অসহায় হয়ে গেছি। বাবা সারাদিন কাজে বাইরে থাকেন, মায়ের স্নেহে আমরা বড় হয়েছি। মায়ের চেষ্টায় আমরা দুই বোন শুরু থেকে ক্লাসে প্রথম স্থান অর্জন করে আসছি। সেই মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, আমাদের আর কোনো অবলম্বন রইলো না।’

মায়ের মৃত্যুতে দুই বোন এখন শোকে পাথর। স্বজনরা নানাভাবে অসহায় মেয়েদের সান্ত্বনা দেয়ার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনোভাবেই শোকার্ত এ পরিবারকে শান্ত করা যাচ্ছে না।

এদিকে দুই শিক্ষার্থীর মা ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুবরণ করায় তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে স্কুল শাখায় বিকেলে কলেজ শাখায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম।

এই অভিভাবকের অকাল মৃত্যুতে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ফের শ্রেণি-শাখার বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ আগস্ট , ২০১৯
ফের তেরো এগারোর পর শ্রেণি, শাখা ও স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এর আগের ২২৮ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তির পর আবারও অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।


তাই, এমপিওভুক্ত বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বরের পর শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব শিক্ষকের তালিকা ও কাগজপত্র অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি জানিয়ে গত ৩১ জুলাই সব এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়।

জানা গেছে, চিঠির সাথে শিক্ষকদের কাগজপত্রের বিবরণী ও তথ্য ছক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাঠিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। Excell ফরমেটে Nikos ফন্টে তথ্য ছক পূরণ করে সফট কপি ও হার্ড কপি ৩০ আগস্টের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এমপিও শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধান দের।

কারিগরি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বন্ধ হয় শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি। কিন্তু ৫ বছর পর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ নভেম্বর শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া ২২৮ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তিতে সম্মতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। এ তালিকায়, ভোকেশনালের ৪১ জন ও বিএম শাখার ১৮৭ জন শিক্ষক ছিলেন।

সূত্র আরও জানায়, শ্রেণি, শাখা, স্পেশালাইজেশন অনুমোদনের বিপরীতে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া যেসব শিক্ষক এখন এমপিওভুক্ত হতে পারেননি, তাদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাস প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক,২ আগষ্ট : বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস প্রদান করা হয়েছে। ১৬টি চেকের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকে এ অর্থ জমা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বলা হয়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জুলাই মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাসের অর্থ ব্যাংকে জমা হয়েছে। বেতনের অর্থ নির্ধারিত অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের শাখায় ৮টি চেকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে এ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।


তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের আপত্তি থাকলেও এবারও অবসর ও কল্যাণ ফান্ড বাবদ বেতনের ১০ শতাংশ কর্তন করে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া একই দিনে আরও ৮টি চেকের মাধ্যমে ঈদুল আজহার বোনাসের অর্থও নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যংকের শাখায় এ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। ঈদ বোনাসের অর্থ আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে উত্তোলন করতে বলা হয়েছে। মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মো. রুহুল মমিন সাক্ষরিত এ দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদেরও জুলাই মাসের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাসের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩১ জুলাই) অনুদান বণ্টনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকে এ বেতন-বোনাসের চেক পাঠানো হয়েছে। ৬ আগস্ট পর্যন্ত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা তুলতে পারবেন তারা।

তবে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত করে মাদরাসা শিক্ষকদের জুলাই মাসের বেতন ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একই দিনে মাদরাসা শিক্ষকদের ঈদ বোনাসের চেক নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে।


Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করনের দাবিতে একজন শিক্ষকের মৃত্যু

ডেস্ক,১৩ জুলাই:

জাতীয়করণের দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মারা গেছেন। ওই শিক্ষকের নাম জাকির হোসেন (৪০)। তিনি মধুখালি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরন করেন। শনিবার বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


এদিকে গত ১৬ জুন থেকে বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবিতে ‘বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির’ ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেছেন শিক্ষকরা। টানা আন্দোলনে মোট দু’শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অনশনরত শিক্ষকরা।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

নীতিমালা অনুযায়ী শর্তপূরণ করা প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত হবে

ডেস্ক,১৩ জুলাই:

এমপিওভুক্তির নীতিমালার শর্তের বৈতরণী পার হতে পারছে না অন্তত ৫০টি সংসদীয় আসনের নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজ নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান জানতে সংসদ সদস্যরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।



তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী শর্তপূরণ করা প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে এমপিদের ডিও লেটার কোনো কাজে আসবে না। এমপিওভুক্তির জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৪ ধাপে ১০০ নম্বরের গ্রেডিং পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ হতে হবে।

এ শর্তে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই অনগ্রসর এলাকার। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য নীতিমালার ২২ অনুচ্ছেদ বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজছে বাছাই কমিটি। একই সঙ্গে তারা কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেওয়া বা না দেওয়ার যৌক্তিক ব্যাখ্যাও তৈরি করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের দাবি অনুযায়ী তাদের নির্বাচনী এলাকার পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই।

শুধু যেসব প্রতিষ্ঠান নীতিমালার ১৪নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করবে, সেগুলো এমপিওভুক্তির আওতায় আসবে। তবে বিদ্যমান যাচাই-বাছাইয়ে কোনো কোনো সংসদীয় এলাকার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। আবার কোনো কোনো সংসদীয় আসনে একটিও যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। একটিও যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি এমন অন্তত অর্ধশতাধিক সংসদীয় আসন রয়েছে। এগুলো বেশির ভাগই অনগ্রসর জনপদের।

সম্প্রতি এক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এমপিও যাচাই-বাছাই কমিটিকে এমপিও দেওয়া না দেওয়া প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যৌক্তিক ব্যাখ্যা তৈরির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকা, হাওর-বাওড়, চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান হলে সর্বোচ্চ মানেরটিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বলেছেন। এমপিওভুক্তির গেজেট প্রকাশ হলে এমপিও না পেলে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করলে যাতে যৌক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, সেজন্য দায়িত্বশীলদের সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এমপিওভুক্তির নীতিমালার ১৪নং অনুচ্ছেদে এমপিওভুক্ত হতে ৪ ধাপে স্কোরিং নম্বরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মোট নম্বর থাকবে ১০০।

এর বিভাজন হচ্ছে-প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি ২৫ নম্বর। প্রতি দুই বছরের জন্য ৫ নম্বর এবং ১০ বা এর চেয়ে বেশি বছর হলে পাবে ২৫ নম্বর। শিক্ষার্থী সংখ্যায় থাকবে ২৫ নম্বর। কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলে ওই প্রতিষ্ঠান পাবে ১৫ নম্বর এবং এর পরবর্তী ১০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য পাবে ৫ নম্বর। পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ২৫ নম্বর। কাম্য সংখ্যার জন্য ১৫ নম্বর, কাম্য সংখ্যার পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য ৫ নম্বর। উত্তীর্ণের পরিসংখ্যানেও ২৫ নম্বর। কাম্য হার অর্জনের ক্ষেত্রে ১৫ নম্বর, পরবর্তী প্রতি ১০ শতাংশের জন্য ৫ নম্বর। এ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে এমপিওভুক্তির প্রতিষ্ঠান বিভাজন হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন জানান, এমপিওভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী শতভাগ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। কোথাও যদি নীতিমালার ২২ অনুচ্ছেদ প্রয়োজন হয়, সেটাও দেখা হবে। ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিশেষ ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল।

এ ক্ষেত্রে অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাগে অসুবিধাজনক পাহাড়ি এলাকা, হাওর-বাওড়, চরাঞ্চল, নারী শিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।

সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার প্রথা থাকবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নীতিমালার গ্রেডিং নম্বরে উত্তীর্ণ না হলে ডিও লেটার কোনো কাজে আসবে বলে মনে হয় না। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ দুটি কমিটি করেছে। এগুলো হলো-আবেদন বাছাই কমিটি এবং অনলাইন ব্যবস্থাপনা কমিটি। এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে এ দুটি কমিটি কাজ করছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

গ্রেডিং পদ্ধতি হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক,১১ জুলাই:

পাবলিক পরীক্ষার ফল তৈরিতে বিদ্যমান গ্রেডিং পদ্ধতি সংস্কার চলতি বছর হচ্ছে না। কবে হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে, সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপনের পর বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব আলোচনা করতে গিয়ে জিপিএর (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ) পরিবর্তে শুধু ‘জিপি’-তে (গ্রেড পয়েন্ট) ফল তৈরির প্রস্তাবও এসেছে। আবার, বিদ্যমান ব্যবস্থা বহালের প্রস্তাবও আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা নীতিনির্ধারক ঠিক করবেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


বিদেশি কারিকুলামে (ইংরেজি মাধ্যম) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ফল জিপি পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এ ছাড়া দেশে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বুয়েটসহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বিষয়ভিত্তিক জিপি মূল্যায়িত হয়।

বিদেশেও ভর্তির ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত জিপি মূল্যায়ন করা হয়। এসব কারণে সংস্কার আনার ক্ষেত্রে এখন জিপিএর পাশাপাশি ‘জিপি’ও আলোচনায় এসেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, সনাতনী পদ্ধতি বাতিল করে ২০০১ সালে জিপিএ চালু করা হয়। ইতিমধ্যে ১৮ বছর চলে যাওয়ায় এ পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি সময়ের দাবি। কিন্তু আমরা হুট করে বা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কিছু চাপিয়ে দেব না। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক এবং সাংবাদিকসহ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। সেটি শেষ করে পদ্ধতিটি চালু করা হবে। আমরা এখন সেই সময়টা নিচ্ছি। পাশাপাশি এর প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।

১০ জুন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভায় গ্রেডিং পদ্ধতির সংস্কার প্রস্তাব তোলা হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এতে পাবলিক পরীক্ষায় বিদ্যমান শিক্ষার্থীর ফলের সর্বোচ্চ ধাপ (স্কেল) জিপিএ-৫-এর জিপিএ-৪ করার প্রস্তাব করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব জানান, এ সভা থেকে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি পরিবর্তনের আগে অধিক পর্যালোচনার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো এড়িয়ে প্রমাণ ও উপাত্তের ওপর নির্ভর করারও পরামর্শ দেন তিনি। এরপর এ পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোক্তারা গতি কমিয়ে দেন।

অন্যদিকে কতিপয় গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত হওয়ায় এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জামাতপন্থী কতিপয় অভিভাবক এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারও করছে। উদ্বিগ্ন অনেকে এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে এ পদ্ধতি সংস্কারের আগে আরও বেশি পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ কারণে আসন্ন জেএসসিতে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সেই চিন্তা থেকে সরে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের পরীক্ষা সংস্কার ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার প্রস্তাব আসার পর বিভিন্ন মডেল তৈরির কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চর্চা, বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এবং শিক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা, পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। কেননা প্রমাণ ও উপাত্তের জন্য ট্রাইআউট (পদ্ধতির পরীক্ষা) ও পাইলটিং (পরীক্ষামূলক প্রবর্তন) দরকার।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

এমপিও শিক্ষকদের জুনের চেক ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ জুলাই, ২০১৯:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুন (২০১৯) মাসের এমপিওর চেক মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ছাড় হয়েছে। বেতনের আটটি চেক নির্ধারিত অনুদান বণ্টনকারী চারটি ব্যাংকের শাখায় পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।



শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন। স্মারক নম্বর ৩৭.০২.০০০০.১০২.৩৭.০০৪.২০১৯/৫৯৪৯/০৪।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

আত্তীকরণে ধীরগতিতে শঙ্কায় শিক্ষক-কর্মীরা

শরীফুল আলম সুমন,১০ জুলাই ২০১৯  :

টাঙ্গাইলের মধুপুর কলেজ জাতীয়করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি লাভ করে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট। এরপর জাতীয়করণের গেজেট জারি হয় গত বছরের ১২ আগস্ট। জাতীয়করণের কাজে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি অবসরে যাবেন চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ হওয়ার সুযোগ খুবই কম। ফলে কলেজ জাতীয়করণের পর এর সুবিধা না নিয়েই অবসরে যেতে হবে রফিকুল ইসলামকে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে তিনি মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছেন।


রফিকুল ইসলামের মতো এমন সমস্যায় ভুগছেন প্রায় আট হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। চাকরি আত্তীকরণের আগে যাঁরা অবসরে যাবেন তাঁরা জাতীয়করণের কোনো সুবিধা পাবেন না। এমনকি সরকারি শিক্ষক হিসেবেও পরিচয় দিতে পারবেন না। অথচ কলেজ জাতীয়করণের পর থেকে সবাই তাঁদের সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবেই জানে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সব কলেজের জাতীয়করণের গেজেট জারি হয়। এরপর আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও একটি কলেজেরও শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারীকরণ হয়নি। অথচ একই সময়ে জাতীয়করণ হওয়া শতাধিক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারীকরণের কাজ শেষ হওয়ার পথে।

সূত্র মতে, খুবই ধীরগতিতে চলছে কলেজ জাতীয়করণের কাজ। এতে সরকারীকরণের সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষক-কর্মচারী খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী চাকরি করছেন, তাঁরাও দ্বিধায় ভুগছেন।

জানা যায়, জাতীয়করণের বিষয়ে সম্মতির পরই নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ২৯৯ কলেজে। তখন ওই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষক ১২ হাজার ৩৫৬ জন এবং কর্মচারী প্রায় চার হাজার। তবে যে গতিতে আত্তীকরণের কাজ চলছে, তাতে সব কলেজের কাজ শেষ করতে চার-পাঁচ বছর লেগে যাবে। আর ওই সময়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে যাবেন।

জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল হক বলেন, ‘২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর আমাদের কলেজগুলোতে নিয়োগ বন্ধ। কিন্তু এর মধ্যেই দুই হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গেছেন। আর আত্তীকরণে যদি পাঁচ বছর লাগে, তাহলে মোট শিক্ষক-কর্মচারীর ৬০ শতাংশই অবসরে চলে যাবে। সেই সংখ্যা হবে আট হাজারের ওপরে। আমরা আত্তীকরণপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এখন স্থানীয় সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি দিচ্ছি। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব। এতে অবস্থার উন্নতি না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। কারণ জাতীয়করণ হওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে অবসরে যাওয়া যে কতটা কষ্টের, তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না।’

এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মো. মাহমুদ-উল-হক বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু কলেজের দিক থেকে সমস্যা হচ্ছে। নিয়োগ, এমপিওসহ নানা কাগজ দিতে তারা দেরি করছে। আর সব কাগজ পাওয়ার পরও অনেক প্রসেস শেষ করতে হয়। মাউশি অধিদপ্তর থেকে আমাদের কাছে পাঠাবে। আমরা জনপ্রশাসনে পাঠাব। তারা কাজ শেষ করে আমাদের ফেরত পাঠালে পরিপত্র জারি হবে। তবে দ্রুত আত্তীকরণের কাজ শেষ করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’

আত্তীকরণের আগে অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাপারে মাহমুদ-উল-হক বলেন, ‘আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ীই সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। যাঁরা আত্তীকরণ হওয়ার আগেই অবসের যাবেন তাঁরা সরকারীকরণের সুবিধা পাবেন না। তাঁরা এমপিওভুক্তির অবসরের যেসব সুবিধা রয়েছে, সেগুলো পাবেন। আর যাঁরা অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন তাঁরাও বিধিমালা অনুযায়ী আত্তীকৃত হতে পারবেন না।’

জানা যায়, ২৯৯ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের কোন প্রক্রিয়ায় আত্তীকরণ বা সরকারীকরণ করা হবে সে সিদ্ধান্ত নিতেই শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ সময় চলে যায়। সব কলেজে সমন্বিত পদ সৃজন করার অংশ হিসেবে গত বছরের ২৩ অক্টোবর ঢাকার চারটি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে সভা করে। সভায় কলেজগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণে ১৫ দফা তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, যুগ্ম সচিব বা অতিরিক্ত সচিবের প্রত্যয়নসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর প্রতি মাসের ১৫ ও ৩০ তারিখে ১৮টি করে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য মাউশি অধিদপ্তরকে পাঠাতে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাউশি অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ওই চার কলেজকে মডেল হিসেবে ধরে কাজ এগোতে পারছে না অধিদপ্তর। তাদের প্রত্যেক শিক্ষকের সব ধরনের তথ্যই আলাদাভাবে যাচাই করতে হচ্ছে। কিন্তু কলেজ উইংয়ে মাত্র তিনজন সহকারী পরিচালকের পক্ষে এত বড় কাজ গুছিয়ে আনা কঠিন। এ জন্য এই কাজে আরো ৯ জন কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা সর্বশেষ ২০টি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও নানা সমস্যায় তা ফেরত পাঠানো হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে আত্তীকরণের কাজ শেষ হতে দীর্ঘদিন লেগে যাবে।

জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না বা প্রাপ্যতা সঠিক আছে কি না, এসব যাচাই করে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডিসি বা ইউএনও সব কাগজপত্র মাউশিতে পাঠাচ্ছেন। মাউশি ১৫ দফা তথ্য যাচাই করে সার্টিফায়েড কপি পাঠাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এরপর মন্ত্রণালয় তা যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। তারা প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে অনুমোদন দেবে। এরপর তা পাঠানো হবে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বাস্তবায়ন অনুবিভাগ ও প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায়। সেখান থেকে ফিরে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারা আত্তীকরণের পরিপত্র জারি করবে।

মাউশি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তারা একটি কলেজের সব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে। তবে প্যাটার্ন অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকের ঐচ্ছিক প্রতিটি বিষয়ের জন্য একজন, ডিগ্রির ঐচ্ছিক প্রতিটি বিষয়ের জন্য দুজন, অনার্স কলেজের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সাতজন এবং মাস্টার্স থাকলে ১২ জন শিক্ষকসহ বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীর আত্তীকরণ হওয়ার সুযোগ আছে। তবে অনেক কলেজেই শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় অস্থায়ী অথবা খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেমন সাভার কলেজে প্যাটার্নের বাইরে ২৬ জন অস্থায়ী শিক্ষক থাকার তথ্য পেয়েছে মাউশি অধিদপ্তর। সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ওই শিক্ষকরা আত্তীকরণপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস।আন্দোলন স্থগিত

ডেস্ক,৮ জুলাই:
নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অধিভুক্ত সাত কলেজের ছাত্র প্রতিনিধিরা।


আজ (সোমবার) বেলা সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের নিচে অবস্থান নেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

আরও পড়ুন: চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ এর বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বৈঠক শেষে আন্দোলনের আহ্বায়ক ঢাকা কলেজের ছাত্র মো. আবু বকর বলেন, উপাচার্য স্যার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ফলাফল ৯০ দিনের আগেই প্রকাশ করা হবে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে; যা বাস্তবায়ন করতে ৪-৬মাস সময় লাগবে এবং চলমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে আগের মতো দেরি হবে না।

আরও যেসব বিষয়ে উপাচার্যের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা

• গণহারে অকৃতকার্য যারা আছেন তাদের বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে ও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং তার জন্য নিজ নিজ কলেজের ফোকাল পয়েন্টে যোগাযোগ/আবেদন করতে বলা হয়েছে।

• স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

• প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন ৭ কলেজের শিক্ষক দ্বারা করা হবে এবং প্রশ্নপত্রের ধরণ পরিবর্তন এবং পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা নির্ধারণ করে নোটিশ আকারে জানিয়ে দেওয়া হবে।

• একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে, যা চলতি সপ্তাহের ভেতর প্রকাশ করা হবে।

• সার্টিফিকেটে কোনো পরিবর্তন হবে না এবং প্রতিটি কলেজে ফোকাল পয়েন্ট খোলা হয়েছে যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাধান পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ- এই সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধিভুক্ত করা হয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যয়নরত আড়াই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। একই বছর পরীক্ষার রুটিনের দাবিতে আন্দোলনে গিয়ে দুই চোখ হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter