আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

এস কে দাসmarch-logo: আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৪২টি বসন্ত পার করে এবারের স্বাধীনতা দিবস পা রাখল ৪৩তম বছরে। এ বছর স্বাধীনতা দিবস একটি ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও বহু আন্দোলনের পর একাত্তরে পরাজিত শক্তি যুদ্ধাপরাধীচক্রের রায় সম্পন্ন ও কার্যকরের প্রতিক্ষায় জাতি। এবার সাম্প্রদায়িকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করছে জাতি। এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে অন্য যুদ্ধাপরাধীদের মামলা। ফলে এবারের স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির কাছে এসেছে নবঅনুপ্রেরণায়। পুরোপুরি না হলেও জাতি এবার আংশিক কলঙ্কমুক্ত একটি স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করছে। এখন দ্রুত একাত্তরের পরাজিত শক্তি ঘাতক দালাল বাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত হবে— এমনটাই সবার প্রত্যাশা। একই সঙ্গে প্রত্যাশা জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদমুক্ত একটি প্রগতিশীল সমৃদ্ধ সমাজ।

স্বাধীনতার এই দিনে বাঙালি জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো তিন লাখ মা-বোনকে, যাদের আত্মত্যাগ না থাকলে দাসত্বের শৃঙ্খল ছিন্ন করে বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না। একই সঙ্গে স্মরণ করা হবে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার চার সহচর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এইচএম কামরুজ্জামানকে; যারা স্বাধীন বাংলাদেশেই কারাবন্দি অবস্থায় ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদিন আরও স্মরণ করা হবে ২৫ মার্চ কালরাতে নিহত হাজার হাজার মানুষ এবং ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের; এ দেশীয় রাজাকার, আল বদর, আল সামসের সহযোগিতা ও প্ররোচণায় যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে।

পৃথিবীর সবদেশেই স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন আনন্দের বিষয়; কিন্তু বাংলাদেশে এ আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে গভীর বেদনা। ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তা পাঠানোর আগেই ঘটেছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এদিন ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনী; কিন্তু বাঙালির মাথা নোয়ানোর কোনো ইতিহাস নেই। একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাঙলার আপামর জনতা। দীর্ঘ নয় মাসের ব্যাপক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা; ১৬ ডিসেম্বর যার চূড়ান্ত পরিণতি।

এই যে এতো রক্ত, এতো ত্যাগ— তারপরও বাঙালি জাতি ৪২টি বছর ধরে কলঙ্কের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতারা সেদিন পাক হানাদারদের সঙ্গে নিয়ে বাঙালি নিধনে রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠেছিল। অথচ সেই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীরাই পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারি হয়ে তাদের গাড়িতে উড়িয়েছিল স্বাধীন দেশের লাখো শহীদের রক্তরঞ্জিত পতাকা। জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য এটা ছিল চরম লজ্জার ও বেদনার। একাত্তরে যে তারুণ্যের উদ্দীপনায় পাক হানাদারেরা পরাজিত হয়েছিল, নবপ্রজন্মের সেই তরুণরাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আজ ঐক্যবদ্ধ। এখন দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করে বিশ্ব দরবারে বাঙালি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পরিচয় দেবে— এটাই হবে এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।

একাত্তরে স্বাধীনতার যে বীজমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিলোপ— সে স্বপ্ন এখনও অধরাই রয়ে গেছে। এখনও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বেড়ে চলেছে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য। নতুন করে আবারও উত্থান ঘটেছে সাম্প্রদায়িক শক্তির। আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির ছদ্মাবরণে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ৪৩তম স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হবে এসব আবর্জনা দূর করে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ ও সমাজ প্রতিষ্ঠা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। এদিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। সরকারি-বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। ডাক বিভাগ প্রকাশ করেছে বিশেষ ডাকটিকিট। মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন উপানালয়ে আজ হবে বিশেষ প্রার্থনা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো হবে আলোকসজ্জা।

কর্মসূচি

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদ্যাপন উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। রাজধানীসহ প্রতিটি জেলা শহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পর্যায়ক্রমে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিদেশি কূটনীতিক এবং সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন শহীদদের প্রতি। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ। প্রধানমন্ত্রী এতে প্রধান অতিথি থাকবেন।

এছাড়া বিভিন্ন শ্রমজীবী, পেশাজীবী এবং রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিশাল আয়োজন। রাজধানী থেকে দূর মফস্বল পর্যন্ত সমগ্র জাতি একসঙ্গে গেয়ে উঠবে ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি…’।

– See more at: http://www.dailybartoman.com/index.php?page=details&nc=5&news_id=23710#sthash.JWBKaoS6.dpuf

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পরীক্ষা না থাকলে কী হয়?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল , ৬ এপ্রিল ২০১৯ : আমি জানি আমার এ লেখার শিরোনাম দেখে সবাই চমকে উঠবে। অনেকে ভাববে আমি মনে হয় পাগল হয়ে গেছি। যারা আমাকে চেনে তারা ...

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। প্রথম পর্ব

আমাদের চারপাশে ইংরেজি শেখার প্রচুর ম্যাটেরিয়ালস আছে। এগুলো ব্যবহার করে নিজে নিজে ইংরেজি প্র্যাকটিস করা যায়। ইংরেজি শেখা যায়। অন্যকে শেখানো যায়। কী কী ম্যাটেরিয়ালস আমরা সহজে ব্যবহার করতে পারি, ...

প্রাথমিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের প্রয়োজন আছে কি?

ডেস্ক,৩মার্চ: বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্তৃপক্ষ সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করবেন কিনা অথবা পদ সৃষ্টি করলে তাদের কততম গ্রেড দেওয়া হবে, এটা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে অন্যতম একটি আলোচিত-সমালোচিত ইস্যু। ...

সন্তান পড়া মনে রাখতে পারছে না?

ডেস্ক সন্তান পড়া মনে না রাখতে পারলে কি অমনযোগিতাই এর জন্য শুধু দায়ী? না কি মনে রাখতে না পারাটাও একটা সমস্যার কারণে হচ্ছে? আপনিও হয়তো সারা দিনের শেষে সন্তানের পড়াশোনার ...

hit counter