শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পদ্ধতিতে আবারও পরিবর্তন |পাস নম্বর ৪০ থেকে ৫০ করার সুপারিশ

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পদ্ধতিতে আবারও পরিবর্তন আসছে। এছাড়া পরিবর্তন আসছে পাসের নম্বরেও। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) জরুরি সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ পরীক্ষা যেন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত না হয় সেজন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ থেকে ৫০ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো রোববার (৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি নিবন্ধন পরীক্ষায় বিষয়ভিত্তিক পাস নম্বর ৬০ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে দু-একজন এর পক্ষে মত দিলেও বেশির ভাগই পাস নম্বর ৫০ রাখার পক্ষে মত দেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর থেকে সরকার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় নিয়োগ দেয়া শুরু করলে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই এ জটিলতা নিরসনে প্রতি বছর নিবন্ধন পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সভায় নিয়মিত পরীক্ষা না নেয়া এবং পাসের নম্বর নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে আলোচনার মধ্যে ছিল বছর বছর নিবন্ধ পরীক্ষা না নেয়া, সংসদীয় কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস নম্বরের বেজলাইন ৬০ ভাগ নির্ধারণ, প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সুপারিশের অগ্রগতি ও এ বিষয়ে এনটিআরসিএর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিটের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ, নিবন্ধন সনদের ফরমেট পরিবর্তন ছিল উল্লেখযোগ্য।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, নিবন্ধন পরীক্ষার মেধা তালিকা প্রকাশ করলেও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শূন্যপদের বিপরীতে কৃতকার্যদের ৯০ ভাগ চাকরি পাচ্ছে না। ফলে বিশাল জট তৈরি হয়েছে। এ জট নিরসনের জন্য প্রতি বছর পরীক্ষা না নিয়ে পিএসসির মতো কয়েক বছর পর পর পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছরের ২২ অক্টোবর বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিবর্তনে এনটিআরসিএ আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে। ৩০ ডিসেম্বর নতুন নীতিমালা জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী শূন্যপদে নিয়োগের জন্য ৬৪৭০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৬১৯ শিক্ষক নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়। ওই দিন তালিকা প্রকাশকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নির্বাচিতদের এক মাসের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দেন। কিন্তু এনটিআরসিএর কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার নির্বাচিত শিক্ষক কাজে যোগ দিতে পারেননি।

এনটিআরসিএ সদস্য (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও সনদ) হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতি বছর পরীক্ষা না নেয়া এবং পাস নম্বর ৬০ করার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার সুপারিশগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারা বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভুলে ভরা পাঠ্যবই। এর দায় নেবে কে!

নিজস্ব প্রতিবেদক: অদক্ষ হাতে পাঠ্য বই ছাপানোর কাজ হওয়ার পর এর মাশুল কে দেবে তা বলা মুস্কিল। সরকার বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তাদের আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে ভুল বানানের অসংখ্য পাতা ভরা পাঠ্যবিষয়গুলো। ইংরেজি বানানের ভুল থাকায় শব্দের অর্থ যেমন পাল্টে যাচ্ছে এবং বাংলা বানান রীতি আধুনিক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না সঠিক বানান কি হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও এসব ভুলে ভরা পাঠ্য বই যতটা সম্ভব সংশোধন করে দিতে গলদঘর্ম হয়ে উঠছেন। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের এধরনের সংশোধন করে দেওয়ার মত কেউ নেই, সেসব শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। কচিমনে এসব শিক্ষার্থী ভুল বানান ও অর্থ শিখছে তাদের পাঠ্যবই থেকে। এত বিপুল পরিমাণ বই ফেরত নিয়ে সংশোধিত বই ফের শিক্ষার্থীদের হাতে সরবরাহ করা যথেষ্ট সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই যতœ সহকারে ও দক্ষহাতে পাঠ্যবইগুলো প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এধরনের মহৎ আয়োজন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি হত না।

শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল কারিকুলাম এবং টেক্সটবুক বোর্ড একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে কেন এধরনের ভুলে ভরা বই ছাপা হয়েছে। ভারতে বই ছাপানোর বিষয়টি সহজলভ্য ও সময়মত পাওয়ার দিকটি বিবেচনা করেই করা হয়েছিল। এখন এসব ভুল কিভাবে সংশোধন করা হবে সে ব্যাপারে ৩ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ বই ৪ কোটি ২৬ লাখ শিক্ষার্থীদের হাতে দেশের আনাচে কানাচে চলে গেছে। শুধু যে বানান ভুল তাই নয়, প্যারাগ্যারাপগুলো ঠিক মত সন্নিবেশিত হয়নি, বিভিন্ন ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যতিক্রম, প্রবন্ধ ভ্রান্তি সহ নানা ধরনের ভুল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দিশেহারা করে তুলেছে। এসব বিষয় নিয়ে মিডিয়ার পাতা সরগরম হয়ে ওঠায় সরকারের পুরো আয়োজনটাই হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভাবমূর্তী বিনষ্ট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেছেন, পাঠ্যবইতে ভুল সংশোধন করা হবে। ভুলে কিছু নমুনা দিতে গেলে বলতে হয়, ক্লাস ওয়ানের বাংলা টেক্সট বইয়ে ‘ওড়না’ চাওয়া সম্বলিত একটি বাক্য রাখা হয়েছে। কোমলমতি ছেলে অথবা মেয়ে ওড়না চাইবে কেন এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ৫ কিংবা ৬ বছরের একইট ছেলের ওড়না চাওয়া সম্পর্কে একটি বাক্য কতটুকু প্রাসঙ্গিক সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওড়না সম্পর্কে জানতে চাইলে ছোট শিক্ষার্থীদের শিক্ষক কি বলবেন, কিভাবে বুঝাবেন সে নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

আরেকটি ভুল হচ্ছে, কাউকে আঘাত দিও না এ ধরনের ইংরেজি বাক্যে আঘাতের বানান ভুল হয়ে যা লেখা হয়েছে তার অর্থ আঘাত না হয়ে মন হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শিখছে কাউকে মন দিও না। এছাড়া কুসুমকুমারি দাস’এর সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’ লাইনটি ওলটপালট হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। একই বইয়ে হুমায়ুন আজাদের লিখিত বই নামে একটি কবিতা ইতিমধ্যে ভুলের কারণে বাতিল করা হয়েছে। হেফাজত-ই ইসলাম কিছু কবিতার সমালোচনা করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

২০০৯ সালে ১৫ সদস্যের জাতীয় পাঠ্যবই বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক আকতারুজ্জামান। তিনি বলেন, দ্রুততার সঙ্গে পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ করতে গিয়ে যথাযথভাবে তা সম্পাদনা না হওয়ায় এধরনের ভুল রয়েগেছে। এমনকি সম্পাদনার কাজটিও পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন লোকদের দিয়ে করানো হয়নি। একই ধরনের অভিমত দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী । তিনি বলেন, লেখক ও সম্পাদকদের শুধু সময় কম নয়, সঠিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু যাদের জন্যে লিখিত তা যথাযথ হচ্ছে কি না সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। প্রতিবছর বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এর মান নিশ্চিত বা বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

একই সঙ্গে বোর্ডকে দুই ভাগে ভাগ করে এক ভাগকে বইয়ের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন রাশেদা। এতে বোর্ডের অন্য অংশ বই মুদ্রণের বিষয় দেখভাল করতে পারবে নির্বিঘেœ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, এনসিটিবি’তে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পরগাছারা কোনঠাসা করে রেখেছ্।ে অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মত বোর্ডেও দক্ষ ব্যক্তিরা কাজ করতে পারছেন না। প্রভাবশালীরা তাদের উদ্দেশ্যসাধন করতে সমর্থ হয়েছে এবং তারই ছাপ আমরা দেখতে পাচ্ছি পাঠ্যবইতে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অবলম্বনে অনুবাদ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা শুরু শনিবার

গাজীপুর প্রতিনিধি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষ অনার্স (সম্মান) পরীক্ষা শনিবার থেকে শুরু হবে। ওই দিন সকাল ৯টা থেকে দেশের ২২০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে।

শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয় দেশের ৬২১টি কলেজের সর্বমোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭ জন পরীক্ষার্থী ৩০টি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অবশেষে কমিটি করলেন পাঠ্য্যবইয়ের ভুল ঠিক করতে এনসিটিবি

নতুন পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার পর পর্যালোচনার জন‌্য একটি কমিটি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। যেসব ভুল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সেগুলো ছাড়াও নতুন শিক্ষাবর্ষের সব বই পরিমার্জনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ইতিমধ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা।

শুক্রবার তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের সব ভুল-ক্রটি ঠিক করে সংশোধনী শিট দেওয়া হবে। এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) অধ্যাপক কাজী আবুল কালামকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের এই পর্যালোচনা কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদন পেতে আরও সময় লাগতে পারে জানিয়ে অধ্যাপক নারায়ণ বলেন, “ভুলগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে হয়। কোথায় কীভাবে ক্রটি হয়েছে পুরো বইগুলো দেখা হবে। কমিটি বলেছে, আরেকটু সময় লাগবে। যারা বই রচনা করেছেন, পাণ্ডুলিপি দেখেছেন …। ”

প্রতিবছরই নতুন বই প্রকাশের পর পরিমার্জন করা হয় জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন বই প্রকাশ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৮ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি!

ডেস্ক:দুই হাজারেরও বেশি শূন্য পদে আসছে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে অথবা মার্চের প্রথমদিকে ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে সরকারি কর্ম কমিশন। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত পদসংখ্যা চূড়ান্ত করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার চাহিদাপত্রের আলোকে পদসংখ্যা চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের আগামী সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ সম্বলিত একটি সারসংক্ষেপ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ‘পিএসসি’তে পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর পিএসসি সেই সুপারিশের আলোকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

এদিকে পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাদের সুপারিশ পাঠালে পিএসসি সব প্রস্তুতি শেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের প্রথম দিকে ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দুই হাজারেরও বেশি শূন্য পদে সাধারণের জন্য ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি হবে। এরমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৩০০টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য ২০টি, পুলিশ ক্যাডারের জন্য প্রায় ১০০ টি পদ থাকবে।

জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, “আমরা তো কাজ করছি। ৩৫তম বিসিএসের ননক্যাডারের নিয়োগ এখনো শেষ হয়নি। এটি শেষ করে ৩৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল দিতে হবে। এরপর ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নিতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে। আশা করছি মার্চের মধ্যে ৩৮তম বিসিএসের এর কাজ শুরু করতে পারবো”।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান  জানান, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি”। এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী ৩৮তম বিসিএসেও প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন করা হবে ১০টি টপিক এর উপর। নম্বর বণ্টন হবে এভাবে- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- ৩৫,  ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য- ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলি- ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি- ২০, ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা- ১০, সাধারণ বিজ্ঞান-১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি- ১৫,  গাণিতিক যুক্তি- ১৫,  মানসিক দক্ষতা- ১৫,  নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- ১০। সর্বমোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

নতুন নিয়মে পিএসসি পরীক্ষা নিচ্ছে ৩৫ তম বিসিএস থেকে। এর আগে ১০০ নম্বরের উপর বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়া হত।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর হতে নিয়মিতভাবে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান আছে। সর্বশেষ ৩৭তম বিসিএসের এক  হাজার ২২৬টি শূন্য পদে বিজ্ঞপ্তি দেয় পিএসসি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অপেক্ষায় আছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩য় শ্রেণির বাংলা বই ‘দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক শ্রেণির বইগুলোতে যে ভুলত্রুটি ধরা পড়েছে তা খুব দ্রুত সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে।  দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে সবজি মেলা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খামারবাড়ির আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটোরিয়ামে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেফাজতের চেতনায় নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষা ব্যবস্থ‍া এগিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের বইয়ের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। আর এমন হয়ে থাকলে তা সমাধান করা হবে।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাউবির এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) অধীনে ২০১৫ সালের এইচএসসি প্রোগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাসের হার শতকরা ৬৮ দশমিক ৯২ ভাগ।

বাউবি‘র এইচএসসি প্রোগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ২য় বর্ষে মোট ৬২ হাজার ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত পরীক্ষায় বিভিন্ন গ্রেডে মোট ৪৩ হাজার ২৭৩ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়।

কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৮৩ জন ‘এ,‘ ৩ হাজার ৯ জন ‘এ(-)’ ১০ হাজার ১৯২ জন ‘বি’, ২৩ হাজার ৩৮৩ জন ‘সি’ এবং ৬ হাজার ২০৬ জন ‘ডি’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ হাজার ৬৯ জন ছাত্র অর্থাৎ শতকরা ৬৮ দশমিক ৩৪ ভাগ এবং ১৬ হাজার ২০৪ জন ছাত্রী অর্থাৎ শতকরা ৬৯ দশমিক ৯২ ভাগ। একই সঙ্গে ৫২ হাজার ১৬ জন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না-হাইকোর্টের রুল

যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে খাতা দেখতে কেন প্রয়োজনীয় সময় বরাদ্দ থাকবে না তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

বুধবার ( ০৪ জানুয়ারি) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। শিক্ষা সচিব,শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

শুনানি শেষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ২৩ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে পাবলিক পরীক্ষায় খাতা দেখা ও ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়,পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর শত শত শিক্ষার্থী নম্বর বেশি পাচ্ছে। পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সময় না দেওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়ছে।’

এদিকে ফেল করার কারণে অনেকে আত্মহত্যা করছে। পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সময় না দেওয়ায় ফলাফলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য’

এলাকা ধরে ধরে নিরক্ষরতা মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে এদেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে পদক্ষেপ নিই এবং শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রস্তাবিত দুটি স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ স্থাপনা দুটির কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে যারা আমাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছে- হত্যায় সহযোগিতা করেছে, তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছে বিএনপি। আমরা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি সেটাই বিএনপির লক্ষ্য ছিল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকে বাইরে থেকে বদলি বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বদলি নির্দেশিকার দুটি উপধারা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের বদলিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং সচিবের সুপারিশের সুযোগ থাকল না। ফলে এখন থেকে ঢাকা শহরসহ সব জেলা-উপজেলা সদর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রাথমিকের আর কোনো শিক্ষক বাইরে থেকে বদলি হয়ে আসতে পারবেন না।মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা, ২০১৫-এর ১.২ ও ২.৮ উপধারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো। তবে এখন থেকে নির্দেশিকার ১.১ ধারা অনুযায়ী, সাধারণভাবে প্রতি শিক্ষাবছরের জানুয়ারি-মার্চের মধ্যে একই উপজেলা/থানা, আন্ত উপজেলা/থানা, আন্ত জেলা, আন্ত সিটি করপোরেশন ও আন্ত বিভাগ বদলি চালু থাকবে।

নির্দেশিকার ১.২ ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তিসংগত কারণে ১.১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সময়ের মধ্যে বদলি সম্পন্ন করা না গেলে মন্ত্রণালয় যেকোনো সময়ের মধ্যে বদলি করতে পারবে। ২.৮ ধারা অনুযায়ী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জনস্বার্থে যেকোনো কারণে যেকোনো শিক্ষককে যেকোনো সময় বদলি করতে পারবে। তবে নতুন আদেশ জারির পর শিক্ষক বদলিতে মন্ত্রণালয়ের এত দিনের ক্ষমতা স্থগিত হলো।

আদেশে আরো বলা হয়, নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য নির্দেশনার আলোকে বদলি অধিক্ষেত্র অনুযায়ী সম্পাদন করতে হবে। অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বদলিপ্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে অধিক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বদলি নিয়ে তদবির ও চাপ কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিবছর বদলির হাজার হাজার আবেদন ও তদবিরের চাপ আসে মন্ত্রণালয়ে। এ ছাড়া বদলিতে অর্থ লেনদেন নিয়েও সরকারের ওপর মহলে কথা তুলেছেন কেউ কেউ। এসব কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষমন্ত্রী নিজেই আদেশ জারি করে বদলিতে মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা স্থগিত করেছেন।

জানা যায়, নানা মহলের চাহিদার কথা চিন্তা করে বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বিশেষ প্রয়োজনে ঢাকাসহ জেলা ও পৌর সদরে বাইরে থেকে বদলি হয়ে আসার পথ খুলেছিলেন। তবে এই ক্ষমতা কেবল মন্ত্রণালয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এর পর থেকেই ঢাকাসহ জেলা সদরে বদলি হতে আবেদন ও তদবিরে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মন্ত্রণালয় আগের অবস্থানে ফিরে গেল।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আর শিক্ষক বদলীতে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে নয়

বশেষে শিক্ষক বদলিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা স্থগিত করা হয়েছে। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা, ২০১৫’ এর দু’টি ধারা স্থগিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে মঙ্গলবার (৩রা জানুয়ারি) আদেশ জারি করা হয়েছে। কবে নাগাদ আবার  বদলির ক্ষমতা ফিরে পাবে তা নিশ্চিত নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন সৎ কর্মকর্তা দৈনিকশিক্ষা বার্তাকে জানান, “গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভাশেষে অনির্ধারিত আলোচনায় শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। মন্ত্রণালয়ের কতিপয় ব্যক্তির সমালোচনা করা হয়।”

“আদিষ্ট হয়ে মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা স্থগিত করা হয়েছে। এটা না করে উপায় ছিল না। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের জন্য এটা কোনো ভালো খবর না,” যোগ করেন চৌকস ও সৎ ওই কর্মকর্তা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিও শিক্ষকদের ডিসেম্বর মাসের বেতন ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের বেতন সরকারি অংশের (এমপিও) টাকা ছাড় করা হয়েছে।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উপপরিচালক (সা. প্রশা.) মো. শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকি স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এ টাকা সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে শিক্ষকরা উত্তোলন করতে পারবেন।

বেতনের ১২টি চেক অনুদান বণ্টনকারী অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে এমপিওর টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ওড়না-বিতর্ক

প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘ও’ বর্ণ দিয়ে চেনানো হচ্ছে ‘ওড়না’, ‘ঔ’ দিয়ে ‘ঔষধ’এ বছর প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে অক্ষরজ্ঞান সূচিতে নিয়ে আসা হয়েছে ওড়না। বইটির পাঠ ১২-তে ‘ও’ অক্ষর চেনানোর উপকরণ হিসেবে ‘ওড়না’কে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিভাবক মহলে আপত্তি উঠেছে।

শুনি ও বলি পাঠে ‘ও’ অক্ষর চেনাতে ওড়না পরা একটি কন্যাশিশুর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে- ‘ওড়না চাই’। আর ‘ঔ’ চেনাতে ব্যবহার করা হয়েছে ওষুধের বোতল ও ট্যাবলেটের ছবি। লেখা হয়েছে ‘ঔষধ খাই’।

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছড়ার মাধ্যমে অক্ষর চেনানো নতুন কিছু নয়। যেমন, অ –তে ঐ অজগর আসছে তেড়ে, আ –তে আমটি আমি খাবো পেড়ে। এনিয়ে কোনও কথা না উঠলেও ও-তে ‘ওড়না চাই’ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

এ বিষয়ে অভিভাবক ডা. জিনাত রাহী বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির শিশুকে ‘ও’ অক্ষর চেনাতে আর কিছু না পেয়ে সংকীর্ণ চিন্তা থেকে ওড়না ব্যবহার করা হয়েছে। নারীর নির্দিষ্ট এই পোশাক ব্যবহার করে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা হয়েছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবকও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। ‘সাম্প্রদায়িক মানসিকতা’ থেকে এটি করা হয়েছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
অভিভাবকদের আপত্তির বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘কোনও ভুল পাওয়া গেলে যাচাই করা হবে। সমালোচনা হলেও কমিটিতে বিষয়টি উত্থাপন করব। কোনও সুপারিশ থাকলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রয়োজন হলে আগামী বছর এটা সংশোধন করা হবে বলেও জানান এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

অনেক অভিভাবকের মতো সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমেদও এ বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি  বলেন, ‘শিশুদের জন্য এটা ঠিক হয়নি। শিশুরা যখন জানতে চাইবে ওড়না কেন ব্যবহার করা হয়, তখন কী উত্তর দেবেন শিক্ষকরা? শিশুদের অক্ষর শেখানোর জন্য এটা ঠিক হয়নি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরীও এ ব্যাপারে একমত। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি। ক্লাস ওয়ানের শিশু ওড়না দিয়ে কিভাবে ‘ও’ অক্ষর সহজে চিনবে। এটা ঠিক নয়। ছোট শিশুদের মনে এখনই নারী-পুরুষ বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। ‘ওড়না’ ব্যবহার না করে ‘ওলকপি’ ব্যবহার করা যেত।’

প্রথম শ্রেণির বাংলা বইনাটোর পিটিআইয়ের সহকারী সুপারিনটেন্ডেন্ট আহমাদ সবিহা আখতার বলেন, ‘ওলকপি, ওজন, ওলি, ওজু, ওরাং-ওটাংসহ নানা শব্দ রয়েছে। একটি পরিচিত বা সহজে পরিচয় করানো যায় এমন শব্দ ব্যবহার করলে ভালো হতো। তাহলে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠত না।’ শিশুদের কাছে ওড়না পরিচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিক্ষক।

এদিকে ভাষা শেখার ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও ‘ঔ’ অক্ষর চেনাতে গিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে ঔষধ। এটি আগেও ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে সচেতন অভিভাবকদের মতামত, ‘ঔ’ চেনাতে গিয়ে সাধু রীতির শব্দ ‘ঔষধ’ পড়ানো হচ্ছে শিশুদের। পরে ব্যাকরণ পড়ানোর সময় ওষুধ শব্দটি এলে বিভ্রান্ত হতে পারে তারা।

এ বিষয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওষুধ না শিখিয়ে ঔষধ শেখানো হচ্ছে শিশুদের। কিন্তু পরে ব্যাকরণ পড়ার সময় তাদের শেখাতে হবে কোনটা সাধু আর কোনটা চলিত। যেকোনও একটি শেখানো উচিত।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রাথমিকে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার জন্য বাক্যানুক্রমিক পদ্ধতিতে পাঠদান দেওয়া হয়। এতে প্রথমে শেখানো হয় বাক্য, এরপর শব্দ এবং সবশেষে অক্ষর। উপকরণ ব্যবহার করার কথা তিন ধাপেই। ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রথম শ্রেণির প্রথম পাঠে সে অনুযায়ী প্রথম ধাপে ‘আমি বই পড়ি’ বা ‘বই পড়ি’ এবং দ্বিতীয় ধাপে ‘আমি’, ‘বই’ ও ‘পড়া’ শব্দ তিনটিকে আলাদা করে শেখানো হচ্ছে। -বিটি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারী স্কুলব্যাগ নিষিদ্ধে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।রোববার (০১ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়।

এর আগে, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষিদ্ধে ছয় মাসের মধ্যে আইন প্রণয়ন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত শিশুদের ভারী স্কুলব্যাগ বহন করা যাবে না, এ মর্মে ১ মাসের মধ্যে সার্কুলার জারি করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের যথাযথ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাসুদ হাসান দোলন।

২০১৫ সালের ১১ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষিদ্ধ ও প্রি-প্রাইমারি শিশুদের স্কুলব্যাগ বহন না করতে আইন প্রণয়নের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আইন সচিব, শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়।

গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ৩ আইনজীবী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিশুদের ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন। এ তিন আইনজীবী হলেন- এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মো. জিয়াউল হক ও আনোয়ারুল করিম।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন দোলন বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সরকার শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন না করার একটি নির্দেশনা জারি করেছে। আমাদের সরকারও যেন এরকম একটি আইন করে, এজন্যই এ রিট আবেদন করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোচিং সেন্টার ও গাইড বই বন্ধে আইন শিগগিরই : শিক্ষামন্ত্রী

বাণিজ্যিক উদ্দেশে পরিচালিত কোচিং সেন্টার ও গাইড বই বন্ধে শিগগিরই আইন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মিলনায়তনে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যাদের ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে লেখা-পড়া করছে তারাই না বুঝে পিএসসি-জেএসসি পরীক্ষার বিরোধিতা করে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই গাইড বই, নোট বই, কোচিং বাণিজ্য আর থাকবে না আমরা আইন করছি। সব বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের যেসব জ্ঞানীরা আছেন আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছে বাচ্চাদের হতাশ করবে না।

তিনি আরও বলেন, আবার আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন ক্লাসে পড়ান না, কিন্তু বাসায় টাকার বিনিময়ে পড়ান। এসব চলবে না। শিক্ষক হয়ে শিক্ষকের মর্যাদা রাখতে হবে। শিক্ষকরা আমাদের মাথার মণি। যাদের বাচ্চা বিদেশে পড়ে, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। হাজার হাজার টাকা দিয়ে পড়ান তারা। বাংলাদেশে গরিব মানুষের বাস। সবাইকে পড়াতে হবে। এই যুক্তি তারা মানতে চান না। কারণ তাদের ছেলে-মেয়ে তো বিদেশে থাকে।

তারা জেএসসি, পিএসসি পরীক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলেন। ইসলামের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের জঙ্গিবাদে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাচ্চাদেরকে বোঝানো হচ্ছে জীবন দিলে বেহেস্তে চলে যাবে।

যদি এতই পাওয়া যায় তুমি আগে জীবন দাও না কেন? নিজেরা মরে না কিন্তু আমাদের বাচ্চাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর দিকে। কেন করা হচ্ছে? আমাদের দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য। সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free