খোলা কলাম

প্রাথমিক মানসম্মত শিক্ষায় বাধা শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কর্মে সম্পৃক্ত করা

স্বরুপ দাস: দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের কারণে সমাজে ও পরিবারে নানাবিধ সমস্যা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। ফলে বেশিরভাগ পরিবারে দ্বন্দ্ব ও কলহ বিরাজ করে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। শিক্ষা সম্পৃক্ত বিষয় তার কাছে উপযোগিতা পায় না। শিক্ষকের পাঠদান তার ভেতরে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অতি মেধাবী, চঞ্চল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা যদি মেধা অনুযায়ী শিখন পরিবেশ না পায় সেক্ষেত্রেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সহযোগিতার জন্য যে ম্যানেজিং কমিটি থাকে তাও অনেক সময় ক্ষুদ্র কোনো বিষয়ে ইস্যু তৈরি করে বিশাল সমস্যায় পরিণত করে। ফলে শিক্ষকরা অনেক সময় অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

মা-বাবা, বড় ভাই-বোন অনেক সময় খোঁজখবরও রাখেন না। বাবা-মা মনে করেন, জন্ম দেয়ার কাজ ছিল জন্ম দিলাম। মানুষ করার দায়িত্ব শিক্ষকের। শিক্ষক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, পাঠ্য বিষয় বোধগম্য করে দিতে পারেন, প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করতে পারেন; কিন্তু শিক্ষা অর্জনের প্রাথমিক স্তর হলো পরিবার। পরিবার থেকে যদি শিক্ষার্থী আচরণ না শেখে, মানব চরিত্রের মহত্ গুণগুলো না শেখে, পরিবারেই যদি থাকে অনিয়ম, মিথ্যা, কলহ ও জরাজীর্ণ পরিবেশ—তবে সেই পরিবেশ শিক্ষার্থীর মনে কী প্রভাব ফেলবে তা তো সহজেই অনুমেয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই পরিবার থেকে যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা তা পায় না। উপরন্তু পরিবারকে শিক্ষার্থীর সহায়তা করতে হয়। সেটা হতে পারে পাতা কুড়িয়ে, লাকড়ি সংগ্রহ করে কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে। ফলে শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে এসে বইগুলো যেভাবে বাড়িতে রাখে, আবার বিদ্যালয়ে আসার পথে সেভাবেই বইগুলো নিয়ে নেয়। বাড়িতে অবস্থানকালে বইগুলো পড়া ও চর্চা করা শিক্ষার্থীর কর্মের পরিসরে পড়ে না। হয়তো খেলাধুলা করে, কাজ করে, ঘোরাফেরা, মারামারি কিংবা কলহ সৃষ্টি করে সময় কাটায়।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে  একটি অন্যতম অন্তরায় হচ্ছে শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কর্মে সম্পৃক্ত করা।উপবৃত্তির কাজ করা,ভোটার তালিকা তৈরি, ছুটির  মধ্যে জরিপ, ক্যাচমেন্ট এলাকার ম্যাপ তৈরি, বিভিন্ন তথ্য ছক পূরণ—এসব কর্মে শিক্ষকদের ওপর বিরাট চাপ পড়ে। এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বোঝা উচিত।তাছাড়া শিশু জরীপ প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কি কাজে লাগে তা বোধগম্য নয়।  একদিকে ছোট ছোট শিশুদের প্রতি দায়িত্ব পালন, বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলাম তার ওপর এত সব কর্ম—এত নৌকায় পা দিয়ে কোন নৌকায় করে গন্তব্যে যাবেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা সমাজে শ্রদ্ধার পাত্র। জরিপের কাজে, ভোটার তালিকার কাজে কিংবা অন্য কোনো কাজে যখন বিভিন্ন বাড়িতে গমন করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকরা অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হন।

এটা অবশ্যই আশার কথা, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে অনেক যোগ্য লোকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যোগ্য লোক যদি যোগ্য জায়গায় স্থান না পায় তবে সেক্ষেত্রেও মরিচা ধরার সন্দেহ উড়িয়ে দেয়া যায় না। অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে অনেকে এখানে প্রবেশ করে, পরে নিস্পৃহ হয়ে পড়ে। হারিয়ে যায় আলোর কণাগুলো। এই আলোর বিন্দুগুলোকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না। এদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। বিকশিত করার জন্য অবস্থান তৈরি করতে হবে। তবেই অগ্নিবিন্দু শিখায় শিখায় আলো ছড়াবে। আর এই আলোর সমাহার আমাদের সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবে।

স্বরুপ দাস, প্রশি, আজমপুর সপ্রাবি, কেন্দ্রিয় যুগ্ন সিনিয়ার সাধারন সম্পাদক, আহবায়ক খুলনা বিভাগ, সাধারন সম্পাদক, দামুড়হুদা, বাসপ্রাবি প্রধান শিক্ষক সমিতি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ

এস এম সাইদুল্লাহ: প্রধান শিক্ষক ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ এখনও কাটেনি! এর আগে প্রধান শিক্ষক পদের মতো বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের আর কোনো পদ নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র হয়নি!! সত্যি সেলুকাস!!!প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শীঘ্রই ৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এ বিষয়ে সমসাময়িক আলামত এই খবরের পক্ষে যায় না, সাংঘর্ষিক।

কারণ, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে আলোচনার অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’ এ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা/থানা কোটা বহাল রাখার প্রস্তাব আছে। তা ছাড়া বেতন স্কেলের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। যা ননক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বিশেষ বিধান করে পুরোনো তৃতীয় শ্রেণি (ননগেজেটেড) থাকাকালীন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩’ই বহাল রেখে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ (৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ) , পদোন্নতি চালু রেখে প্রধান শিক্ষকদেরকে পঙ্গু করে রাখার পায়ঁতারা চালাচ্ছে।

অযুহাত দেখানো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা আপাতত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত না হওয়া।

অন্যদিকে, দাতাগোষ্ঠীর চাপে প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো (organogram) ও নিয়োগবিধি’তে প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৬ষ্ঠ গ্রেড) অধীনে না রেখে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৯ম গ্রেড) অধীনে একধাপ নিচে (১০ম গ্রেড) রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মতোই দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এতে আমাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে।

তা ছাড়া দিনে দিনে নানাভাবে নতুন নতুন অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিপত্র/নির্দেশনা জারি করে প্রধান শিক্ষক পদের প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ সকল আলামত প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাই প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ।

পুনশ্চ: প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’কে দাতাগোষ্ঠী প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি’র সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। এটিও বাস্তবায়ন অনেক দূরের স্বপ্ন।

এস এম সাইদুল্লাহ

সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক

কেন্দ্রিয় কমিটি

বাসপ্রাবিপ্রশিস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা : করণীয়

সালমা আক্তার নিশু,১৭ জুন : শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা মজবুত না হলে মাধ্যমিক, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সফল হবে না। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে মজবুত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক। শিক্ষকদের যথাযথ বেতন ও মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এসব মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব। তা হলেই সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণেও সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বাধ্যবাধকতা মানতেও প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। বলা হয়ে থাকে — যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেশি সে দেশ তত উন্নত। প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শিশুই দেশের সম্পদ। এ সকল শিশুকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে ভর্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সঠিক শিশু জরিপ করা। বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও উন্নত হিসেবে গড়ে তোলা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানকে আধুনিক পদ্ধতি, কৌশল ও আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কার্যকর করা। প্রতিটি শিশুকে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় ইতিহাস জানানো প্রয়োজন। ধর্মীয়, নৈতিক ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করা। এক্ষেত্রে শিক্ষক, বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধিগণ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, ভিশন ২০২১, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল চালু করার মাধ্যমে শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও কার্যকর উদ্যোগ। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। জরুরি ভিত্তিতে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আধুনিক ও উন্নত ফিটিংস দ্বারা বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমকে পরিমার্জন করা হয়েছে। এই শিক্ষাক্রমকে সর্বস্তরে যথাযথভাবে বিস্তরণ ঘটাতে হবে। যোগ্যতাভিত্তিক সুঅভীক্ষা প্রণয়ন ও মুল্যায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। তবেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুফল আসবে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপসংহারে আমরা বলতে পারি যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যাপ্ত মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, আরও বেশি বেশি সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা সবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রাথমিক শিক্ষা আশাকরি।

আমরা স্বপ্ন দেখি অচিরেই বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এজন্য সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। জয় হোক প্রাথমিক শিক্ষার। জয় হোক শিক্ষার।

সালমা আক্তার নিশু

প্রধান শিক্ষক করিমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচি ৩টা পর্যন্ত করার দাবী।

প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর শিক্ষকের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:জয়পুরহাটের এক শিক্ষক  প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচি ৩টা পর্যন্ত করার দাবী জানিয়েছে। তার এই দাবীকে সর্মথন জানিয়েছে একাধিক শিক্ষকক সমিতির নেতৃবৃন্দ। আবেদনকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ৈর সহকারী শিক্ষক।

আবেদনে বলা হয় প্রাথ‌মিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর আওতাধীন জাতীয় ‌শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রণ ২০১৭ সা‌লের চতুর্থ শ্রে‌ণির English for Today পাঠ্য বই‌য়ের ২৮ ও ৩২ পৃষ্ঠায় Lesson এ উল্লে‌খিত বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ১০ টা থে‌কে বেলা ৩ টা পর্যন্ত ‌দেওয়া আছে।
অথচ একই মন্ত্রনাল‌য় কর্তৃক জারী কৃত আদেশ অনুযায়ী বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ৯ টা থে‌কে বি‌কেল ৪’৩০ মি‌নিট পর্যন্ত ।
কোমলম‌তি শিক্ষার্থীরা আমরা পাঠ্য বই‌য়ে প‌ড়ি এক রকম আর বিদ্যালয় ছু‌টি হয় আরেক সময় !!
হাইস্কুল ছু‌টি হয় আমা‌দের ছু‌টির আগে আর ক‌লে‌জের কোন ধরাবাঁধা সময় সূচী নেই।
বয়‌সের তুলনায় ছোট হ‌য়েও দীর্ঘ সময় বিদ্যাল‌য়ে অবস্থান এ সময় সূচীর ব্যাপা‌রে প্রশ্ন কর‌লে এর সদুত্তর দি‌তে পা‌রি‌নি ।
তাই সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপ‌ক্ষের নিকট বিনয়ের সা‌থে সদুত্তর পাওয়ায় আশায় নি‌বেদন কর‌ছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চাকরির পরীক্ষায় আবেদন ফি নেয়া কতটা যৌক্তিক?

ru-pic-01বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষ হতে না হতেই সোনার হরিণ নামে চাকরির পেছনে ছুটতে থাকেন শিক্ষিত বেকাররা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পদের সংখ্যা থাকে হাতে গোনা, সেই তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কয়েকগুণ বেশি।

সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব চাকরিতে আবেদন ফি বাবদ প্রার্থীদের গুণতে হয় শত শত টাকা। আর চাকরিদাতারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট বাবদ বুঝে নেন নগদ অর্থ। নিয়োগকর্তারা মনে করেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন ফি দিতে বাধ্য।

বিসিএসসহ পিএসসির (সরকারি কর্ম-কমিশন) সব চাকরির আবেদনে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পরীক্ষার ফি বাবদ নগদ অর্থ গুণতে হয়।

লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ কার্ড কিংবা চাকুরির নিশ্চয়তা না থাকলেও বুঝে নেয়া হয় আবেদন ফি। আর এ টাকা নেয়া হয় বেকারদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজনের লোকবল নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয়ের ভার বহন করতে হয় সেই সব বেকারদের। যারা প্রায় ১৭-২০ বছরনিজেদের খরচে লেখাপড়া করে রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

আবার তাদেরই রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পাওয়ার জন্যও ফি দিতে হচ্ছে! এভাবে শিক্ষিত বেকারদের কাছে থেকে আবেদন ফি নেয়া কতটা যৌক্তিক?

নিয়োগকর্তাদের প্রশ্ন করা গেলে তারা হয়তো নিয়োগ-সংক্রান্ত খরচের কথাই বলবেন। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার খরচ বহন করার দায়িত্ব কি বেকারদের? নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রভৃতি কাজে খরচ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ খরচ কেন বেকারদের বহন করতে হবে?

প্রতিষ্ঠান যেহেতু নিজেদের প্রয়োজনেই নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়। তাদের উচিত নিয়োগ-প্রক্রিয়ার সব ব্যয়ও বহন করা। প্রতিষ্ঠান যদি পুরোটা বহন করতে না চান; সে ক্ষেত্রে আবেদন ফি এমন হওয়া উচিত, যাতে নিয়োগ-সংক্রান্ত ব্যয়ের অর্ধেক বহন করবে প্রতিষ্ঠান, অর্ধেক চাকরিপ্রার্থীরা।

আগে বিসিএস পরীক্ষার ফি ছিল ৫০০ টাকা। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণদের আবেদন ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০০ টাকা। যেসব শিক্ষার্থীর নিজস্ব কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সুবিধা নেই, তাদের আবেদন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ করতে হয়। শুধু আবেদনেই শেষ নয়; একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির পরীক্ষার মিল না থাকায় প্রস্তুতি নিতে ভিন্ন ভিন্ন বইপত্রও কিনতে হয়।

আবার ঢাকাতে বেশির ভাগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বার বার ঢাকায় আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়াতে গুণতে হয় অনেক টাকা। টাকা না থাকায় অনেকেই আবেদন করতে পারেন না। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই টিউশনির টাকার ওপর নির্ভর করে নিজেদের খরচ চালার পাশাপাশি চাকরিযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। সীমিত টাকায় চলতে গিয়ে যখন প্রতি মাসেই চাকরির আবেদনের জন্য বাড়তি গুণতে হয় কমপক্ষে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা; তখন তাদের বিপাকে পড়তে হয়।

৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় ২ লাখেরও বেশী আবেদন করেন। ৩৭ তম বিসিএসে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন আবেদন করেন। ৩৭ তম বিসিএসে সাধারণ প্রার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ধরা হলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটিরও বেশী।

একটি নিয়োগকার্য সম্পন্ন করতে এত টাকা ব্যয় হওয়ার কথা নয়। আর বিসিএসের বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েন সবচেয়ে বেশি প্রার্থী। তাদেরও কেন এত বেশী টাকা গুণতে হবে?

রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে চাকরির আবেদন করতে প্রার্থীদের আর কোনো পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে না বলে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং বিধি ও নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়,‘রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে চাকরির আবেদন ফি বাবদ কোনো পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট লাগবে না।’ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘চাকরির আবেদনের সময় পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক ব্যয় ও কষ্টসাধ্য বিষয়। বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চাকুরির আবেদন ফি না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এর ফলে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই ব্যাংকের যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন চাকরিপ্রার্থীরা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও কি বেকারদের জন্য এমন সুসংবাদ দিতে পারে না? কিছু বিদেশি সংস্থা রয়েছে; যেগুলোতে আবেদনে ফি গুণতে হয় না। যদিও এর আগে সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

উন্নত বিশ্বে বেকারদের কর্মসংস্থান হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকার তাদের ভাতা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত না হওয়ায় বেকারদের ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা করা অমানবিক।

চাকরি হোক আর না হোক, অন্তত সবাইকে বিনা ফিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর আবেদন ফি যদি রাখতেই হয়, তাহলে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা, লিখিত ও ভাইভার জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ১০০ টাকা নেওয়া যেতে পারে। কারণ এখন চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।

লেখক: মো. মাহবুব আলম
mahbubraja89@gmail.com
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভ‌বিষ্যৎ জা‌তি গঠ‌নের কা‌রিগড় নি‌য়ো‌গে কোটা কেন আব‌শ্যক ?

মাহবুবর রহমান (চঞ্চল): বর্তমান সরকার শিক্ষার গুনগত মান বৃ‌দ্ধির জন্য বি‌ভিন্ন পদ‌ক্ষেপ গ্রহন কর‌ছে
এর ধারাবা‌হিকতায় দ্বাদশ পর্যন্ত শিক্ষা অবৈত‌নিক, ছাত্রছাত্রী‌দের জানুয়‌ারী
মা‌সের ১ তা‌রি‌খে বিনা মূ‌ল্যে বই বিরতণ, স্কুল ফি‌ডিং, উপবৃত্তি প্রদান,স্লিপ কার্যক্রম, শিক্ষক‌দের বিষয় ভি‌ত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান কর‌ছে ।‌শিক্ষা জা‌তির মেরুদন্ড আর প্রাথ‌মিক শিক্ষা এর সু‌তিকাগার ।

এ‌সি রু‌মে সকল রকম আধু‌নিক সু‌যোগ সু‌বিধা দি‌য়ে গর্ভবতী মা‌য়ের বাচ্চা
প্রসব করা‌নো হ‌য় আর য‌দি বাচ্চার না‌ড়ি কাটা হয় ম‌রিচা পরা ব্লেড দি‌য়ে
তাহ‌লে কি দাঁড়া‌বে ?? ‌ঠিক তেম‌নি, ভ‌বিষ্যৎ জা‌তি গঠ‌নে প্রাথ‌মি‌কের কা‌রিগড়/ শিক্ষক নি‌য়ো‌গে বি‌ভিন্ন কোটা ( ৬০% ম‌হিলা কোটা, ৩০% মু‌ক্তি‌যোদ্ধা কোটা, উপজাতি,এতিম,প্র‌তিবন্ধী ১০% আনসার ভিডি‌পি কোটা ২০% পোষ্য কোটা ২০% ) পদ্ধতির বেঁড়াজা‌লে সাধারন মেধাবী‌দের সু‌যোগ সৃ‌ষ্টি না হওয়ায়, শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়‌নে য‌থেষ্ট বাঁধা সৃ‌ষ্টি হ‌চ্ছে ফ‌লে শিক্ষা ক্ষে‌ত্রে সরকা‌রের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হ‌চ্ছে না ।
‌”যোগ্য শিক্ষক নি‌য়োগ হ‌লেই ‌দে‌শে ভ‌বিষ্যৎ যোগ্য নাগ‌রিক পাওয়া সম্ভব”!!
“শিক্ষার মান বাড়‌লেও গুনগত মান বা‌ড়ে‌নি” গত শিক্ষাব‌র্ষে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ইং‌রেজী বিভা‌গে ভ‌র্তি পরীক্ষায় মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী পাস ক‌রে‌ছিল, এ ছাড়া একটা রিপোর্টে দেখা যায় Gpa 5 পাওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী দে‌শের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্প‌র্কে ভা‌লো ধারনা নেই ।
এমন কি ?? সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে Gpa 5 পাওয়া শিক্ষার্থী তার বন্ধু‌কে লি‌খে i am got gpa 5 এবং আমি জি‌পিএ ৫ পে‌য়েছি ইং‌রে‌জি‌তে তা বল‌তে গি‌য়ে ব‌লে, I am got Gpa 5 ।

এ বছর (2016 খ্রি.) ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে গ ইউনি‌টের পাশের হার মাত্র ৫.৫২ % দেশমাতৃকা‌কে রক্ষার জন্য দে‌শের সূর্য সন্তানরা অনেক ত্যাগ তি‌তীক্ষা ক‌রে‌ছেন তা‌দের অবদানের স্বীকৃ‌তি স্বরুপ মু‌ক্তি‌যোদ্ধার সন্তান‌দের চাকুরী ক্ষে‌ত্রে বি‌শেষ কোটা দি‌য়ে দেশ মাতৃকার কা‌জে লাগা‌নোই স্বাভা‌বিক কিন্তু যেখা‌নে কোমলম‌তি শিক্ষার্থী‌দের শিক্ষা ও ভ‌বিষ্যৎ জীবন বি‌নির্মা‌নে জ‌ড়িত সেই শিক্ষা বিভাগ ছাড়া দে‌শে আরো অনেক সরকারী চাকুরী আছে ( সেনাবা‌হিনী, পু‌লিশ, বি‌জি‌পি, স্বাস্থ্য সহ আরো অন্যান্ন ) যেখা‌নে তা‌দের সু‌যোগ সৃ‌ষ্টি করা সম‌য়োপ‌যোগী ।

তাই শিক্ষার মা‌নোন্নয়‌নে ‌শিক্ষক নি‌য়ো‌গে সকল প্রকার কোটা পদ্ধ‌তি বিলুপ্ত করে, সম যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী শিক্ষক নি‌য়োগ ক‌রে, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়‌নের ল‌ক্ষ্যে ডি‌জিটাল বাংলা‌দেশ বি‌নির্মা‌নে স‌চেষ্ট দে‌শের অভিভাবক,
মাননীয় “প্রধানমন্ত্রীর” সদয় হস্ত‌ক্ষেপ কামনা কর‌ছি ।

মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান (চঞ্চল)

সহকারী শিক্ষক
‌ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট
০১৭১৮৮১৪৫২০ ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সুশিক্ষিত সন্তান, মায়ের দায় কী?

পৃথিবীর সকল জাতির উন্নতির মূল শক্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষাকে যদি শক্তিশালী করা না যায় তাহলে অন্য শিক্ষায় ফাঁক থেকে যায়। শিক্ষা স্তিমিত হয়ে পড়ে। জাতি পিছিয়ে পড়ে। একটি দেশ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশে তথা সমগ্র জাতির উন্নয়ন সম্ভব। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। দেশের একটি শিশুও শিক্ষার আলো থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। যদিও সরকার দেশের শিক্ষানীতিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর বলছে। কিন্তু সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করে একজন শিক্ষার্থী চলে যায়। কিন্তু প্রথম শ্রেণিতে যতজন শিশু ভর্তি হয় পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করে ঠিক ততজন শিশু বের হয় না। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত ১০০% শিশু প্রাথমিক শিক্ষাচক্র অর্থাৎ ৫ম শ্রেণি সমাপ্ত করতে পারে না।
দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ভৌগলিক অবস্থাও ভিন্ন। দারিদ্রতা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দুর্গম এলাকা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকার দারিদ্র এলাকার শিক্ষার্থীদের ড়িৎফ ভড়ড়ফ ঢ়ৎড়মৎধসব এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিস্কুট খাওয়াচ্ছে। সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করছে। শতচেষ্টা সত্ত্বেও ঝরে পড়ার হার নির্মূল করা যাচ্ছে না। তার মধ্যে বড় কারণ অভিভাবকদের সচেতনতা। বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের পুরুষ অভিভাবক সাধারণত ক্ষেত-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তার ফলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খোঁজ-খবর রাখতে পারেন না। ছেলেমেয়ে ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যায় কিনা সে খবরও রাখতে পারেন না। এজন্য মহিলা অভিভাবকদের অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের মাকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে হবে।
মায়ের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক খুবই গভীর। শিশুরা সাধারণত মায়ের কাছে থাকতে ভালোবাসে। তার মনের কথা, তার আবদার মায়ের কাছে পেশ করে। শিশুরা মায়ের সংস্পর্শে বেশি থাকে বলেই মায়ের উপদেশ শুনে থাকে। একজন ‘মা’ পারে তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে। যেহেতু অধিকাংশ ‘মা’-ই কম শিক্ষিত কিংবা অক্ষরজ্ঞানহীন। তাই সকল মায়েদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ তাদের বিদ্যালয়ে ডেকে আনতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে। তার সন্তান সর্ম্পকে খোঁজখবর রাখার জন্য পরামর্শ প্রদান করতে হবে। সন্তান যেন প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে সে বিষয়ে তাকে নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলে লেখাপড়া ভালো হবে সে বিষয়ে বোঝাতে হবে। লেখাপড়া ভালো করলে কি উপকার হবে সে সম্পর্কে মায়েদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এলাকার সকল শিশুর মায়েদের নিয়ে প্রতিমাসে একটি সভার আয়োজন করতে পারেন, তাহলে মায়েরা বেশি খুশি হবে, আনন্দিত হবে, উৎসাহিতও হবে। শিক্ষা বিষয়ক সচেতনা বাড়াতে হবে, গুরুত্ব বোঝাতে পারলে তা অনেক বেশি কার্যকর হবে শিশুর সুশিক্ষার জন্য। মা বুঝতে পারলে শিশুর সুশিক্ষিা পেতে সহজ হবে। সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি যতœশীলও হবেন। মা নিজেই বিদ্যালয়ে এসে তার সন্তানের খোঁজ-খবর রাখতে শিখবেন। তাহলে আর কোনো শিশু ঝরে পড়বে না। সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব হবে। নিরক্ষরমুক্ত ও শিক্ষিত জাতি গঠন সম্ভব হবে। মানসম্মত প্রাথমিক নিশ্চিত করণে মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
লেখক: উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক না ভোটার নিয়োগ হয়

ashifআসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক, টকশোর তুখোড় বক্তা, ক্ষুরধার এক লেখক-সাংবাদিক। লেখালেখি ও বাগ্মীতায় স্পষ্টবাদী, আপসহীন-সাহসী ও অনলবর্ষী এই ব্যক্তিত্ব,  বলেছেন, সমাজ-রাষ্ট্রের বিবিধ প্রসঙ্গে, যাতে রয়েছে নির্মোহ যুক্তি, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন কাজল রশীদ শাহীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আপনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন। এ সময়ে ‘জঙ্গিবাদ’ এর সূতিকাগার হিসেবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

আসিফ নজরুল : আমাদের এখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একটা বিরাট ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার যে প্রয়োজন, সেটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনোভাবেই মেটাতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী,  সেই প্রয়োজনটা তারা মেটাচ্ছে। বেসরকারি ইউনিভার্সটির কারণে বাংলাদেশের ছাত্ররা ভারতের, সাইপ্রাসের, হাঙ্গেরির মতো অখ্যাত ইউনিভার্সিটিতে চলে যাচ্ছে না।  আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে আমাদের এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। আমাদের এখানে অসংখ্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে থেকে যারা পাশ করেছে, তারা শুধু বাংলাদেশে না বিদেশেও অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে  সম্মানজনক চাকরি করছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের অসংখ্য নজির আমাদের এখানে রয়েছে। বিশেষ করে আপনাকে নর্থসাউথ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কথা বলতে পারি। এখানে কোনো কিছু না বোঝে না জেনে কিছু কিছু লোক ঢালাওভাবে যেভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করছে তা খুবই অদ্ভূত ঘটনা। কারণ আমি বিষয়টা পরিস্কার করে বলি বিদেশ বা আমেরিকায় যখন টেররিজমের ঘটনা ঘটে কখনো কি আপনি দেখেছেন ওই অস্ত্রধারী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত কখনো এমন বর্ণনা এসেছে? সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসীই তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

তার মানে আমরা ঘটনাটা যেভাবে উপস্থাপন করা দরকার, সেভাবে করছি না। তাহলে প্রশাসন বা মিডিয়ার কোনো দুর্বলতা আছে বলে আপনি মনে করছেন?

আসিফ নজরুল : মিডিয়ার বা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের দুর্বলতা থাকতে পারে। আপনি যদি সিম্পলি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ঘটনাটা দেখেন, তাহলেও বুঝবেন। ওখানে ২০-৩০ হাজার ছাত্র ছাত্রী আছে, তার মধ্যে ৫-৬ জনের জঙ্গি পরিচয় পাওয়া গেছে। এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কি জঙ্গিবাদ পড়ানো হয়? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান তাদের কী জঙ্গি হতে হয় এমন কোনো ক্রাইটেরিয়া আছে? তা হলে এই দোষটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আসবে কেন? যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দোষ আসে, তাহলে যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে, তাহলে কি সব জঙ্গিবাদের জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী?  তাহলে আমরা কী এখন বলব আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দাও? তাহলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির কে দোষ? আমার কাছে ঠিক পরিস্কার নয়, এ ধরনের অদ্ভুত কথা কেন বলা হয়?

এইগুলোকে তাহলে আপনি কী বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করেন?

আসিফ নজরুল : অবশ্যই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই জিনিসটা বুঝতে হবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেন তাদের জন্য এই সময়ে সবচেয়ে বড় পাঠশালা হচ্ছে ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেটে এক মাত্র সে স্বাধীন, এখানে সে কি পড়ছে কি দেখছে কেউ গাইড করার নেই। যদি কাউকে দায়ী করতে হয় তাহলে উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহর কথায় প্রথমে আসা উটিৎ। এটাকে রেস্ট্রিক্ট করার কোনো রকম ব্যবস্থা আমাদের নাই এবং নজরদারিরও কোনো সিস্টেম নাই এটাকে দায়ী করতে হবে। যারাই জঙ্গি হয়েছে তারা যে জঙ্গিবাদের দীক্ষা পেয়েছে আইএসের ওয়েবসাইটে গিয়ে হোক এবং বিভিন্ন প্রচারণের মাধ্যমেই হোক এটা তো তারা  ইন্টারনেটে পেয়েছে। ইন্টারনেটে যে একটা শিক্ষার্থীর এক্সেস সেটা মাদ্রাসা, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হোক সেটা কী বাবা, মা বা কোনো শিক্ষক কনট্রোল করে? যার হাতে ইন্টারনেট সেই কনট্রোল করে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পর্কে অভিযোগ উঠছে যে এইখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে পড়ানো হয় না, এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আসিফ নজরুল : মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাঠদান সরাসরি কোথায় আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের যে বিভাগগুলি আছে ওইখানে কয়টিতে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাঠদান আছে? আমার যখন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের ইতিহাস ও সংবিধানের আইন পড়ি তখন সংবিধানটি কীভাবে হয়েছে সেটি বলতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কথা আসে। আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধের পাঠদান এভাবে কোথায় পড়ানো হয়। আর মুক্তিযুদ্ধের চর্চা কেন্দ্র সম্পর্কে যদি বলা হয় তাহলে আমার জানামতে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর ও ১৫ আগস্ট পালন করা হয়। দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি উৎসবই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করা হয়।

আমি স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি উদাহরণ দিয়ে বলি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যে ক্লাবগুলো যারা পরিচালনা করে তারা সারা বছর ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে। যেমন বর্ষা মঙ্গল, গ্রীষ্মকালের উদযাপন অনুষ্ঠান, শরৎকাল উদযাপন অনুষ্ঠান ও বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান পালন করা হয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের মত একজন মানুষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কোনো কিছু না জেনে তিনি যে একটি কমেন্ট করলেন ‘যে মাদ্রাসার আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার কোনো চর্চা হয় না’ আমার এতে খুবই দুঃখ লেগেছে উনার মত একজন মানুষ যদি কোনো কিছু না জেনে বলেন তাহলে তো বহু লোক বলবে আমি এতেই সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছি।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মত একজন লোক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে যে ভুল ধারণা পোষণ করেন। তার ব্যর্থতা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরই বর্তায় তারা নিজেদের কার্যক্রমগুলো ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি।

আসিফ নজরুল : আমাদের প্রত্যেকটি প্রোগ্রাম সম্পর্কে সকল তথ্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। আমারা আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের ওয়েবসাইটে তথ্য দেয়, বিভিন্ন মিডিয়াগুলোতে নিয়মিত প্রেস রিলিজ পাঠাই। আমরা আর কী করব? একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানোর জন্য আর কী করতে পারে।

কিন্তু একটা সমস্যা তো রয়েই গেছে, যেটা দৃশ্যমানও। এখন আপনিই বলুন, এই অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য আপনার কী অভিমত?

আসিফ নজরুল : আমার কথা হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নির্বিচারে যারা এই সব বলছে তারা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বিদেশমুখী করতে চায় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বার্থ দেখছে আরেকটা অংশ হচ্ছে যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো কিছু জানার চেষ্টা না করে কোনো কিছু বলা। এছাড়া বাংলাদেশে একটি প্রবণতা দাঁড়িয়েছে কোনো কিছুকে সর্বজনীন রূপ দেওয়া গণহারে এই কাজ করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাদের ছেলেরা যে জঙ্গিবাদে জড়িত ছিল তাহলে কী আপনি বলবেন আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দেন? সর্বজনীন সমস্যার দায় কেনো শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তাবে? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এই সমাজে কী ধরণের নেতিবাচক ধারণা করা হয়, আপনাদের ভ্যাট আন্দোলন মনে আছে। দেখেন আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং শিক্ষক। ওখাকার শিক্ষার্থীরা কত টাকা দিয়ে পড়ে, ১৫-২০ টাকা টিউশন ফি দিয়ে। সরকার যখন ভ্যাট চাপানোর চিন্তা করল তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরই করল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন্তা করার কোনো সাহস নাই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী নানান ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা নীতি-নির্ধারনী মহল,  মিডিয়া ও শিক্ষাবিদসহ সমস্ত জায়গা থেকে আছে।

বিরাজমান সমস্যার জন্য রাজনৈতিক সঙ্কটকেই কি দায়ী বলে মনে করেন?

আসিফ নজরুল : অবশ্যই কোনো না কোনো ভাবে রাজনীতিটা ভূমিকা রাখে। শুধু গণতন্ত্র বলতে মনে হবে আমি ইলেকশনের কথা বলছি। আমি বলছি গণতন্ত্র মানেই শুধু জাতীয় ইলেকশন না। রেগুলার ডাকসু নির্বাচন করতে হবে, সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, ভিন্নমত চর্চাকারীরা ভিন্ন রাজনীতিবিদরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে পারে এ ব্যবস্থা করতে হবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের যে ভূমিকা, শিক্ষক সমিতিতে সাদা দলের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তারা সেটা রাখছে? নাকি তারাও বড্ডো বেশি আপসকামী হয়ে উঠেছেন?

আসিফ নজরুল : এ অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এটা ক্রমাগতভাবে হয়েছে। এরশাদের পতনের পর ক্রমাগতভাবে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ মিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে, তারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের টুটি চেপে ধরার চেষ্টা করেছে।  ক্রমাগতভাবে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরোধী কণ্ঠ ম্রিয়মান হয়েছে। এটার শোচনীয় অবস্থা চলছে এ যুগে এসে।  বর্তমানের যে চরম শোচনীয় অব্স্থা এটা একদিনে আওয়ামীলীগ করে নাই, দু’দলই ধারাবাহিকভাবে করেছে।

আপনি যেহেতু একজন শিক্ষক, তাই শিক্ষক রাজনীতি নিয়েই শেষ প্রশ্নটা করতে চাই। অন্যপন্থী শিক্ষকদের সুবিধা দিয়ে কিংবা ভিন্ন মতাবলম্বীরা সুবিধা নিয়ে তাদের মুখটা বন্ধ করে রেখেছে।  এমনকি শিক্ষকদের সমষ্টিগত দাবি-দাওয়া ব্যক্তিগত সুবিধার কাছে চাপা পড়ে গেছে। আপনি কি মনে করেন সাদা দলের শিক্ষকরা যথার্থ ভূমিকা পালন করছেন?

আসিফ নজরুল : একটা সময় ছিল অন্যপন্থী যারা শিক্ষক ছিল তাদের সুবিধা দিয়ে মুখটা বন্ধ করে দিত। কিন্তু এখন হয়েছে কী রাজনীতি একপাক্ষিক হয়ে গেছে এখন আর ঐটাও নাই। আপনাকে একটা উদাহরণ দেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাবের ইতিহাসে কখনো ইলেকশন হত না,  হত কী, কমিটি পরিবর্তন হত। একবার এক দল, পরের বার অন্যদলে দায়িত্বে থাকত। এবার দেখেন ঐটা পর্যন্ত পরিবর্তন করে নাই। আমি শুনেছি এমনভাবে বলা হয়েছে যে, এখন তো আমরাই সব জায়গায় যদি আমাদের কথা রাজি না হও ইলেকশন দিয়ে সব নিয়ে নিব আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩ থেকে ৫ বছরে যেই শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক নিয়োগ হয় না ভোটার নিয়োগ হয়, ভোটে জেতার জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৫ বছরে যে পরিমাণ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, যে পরিমাণ নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি এরকম ঘটনা পূর্বে কখনো ঘটেনি। এখন বিরোধী কণ্ঠ বা বিরোধী দলের কাউকে  সুযোগ সুবিধা দিয়ে মুখ বন্ধ করারও প্রয়োজন এখন আর নাই। দিনে দিনে অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন বিরোধী পক্ষ, বিরোধী দল, ভিন্ন মত তাদের বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিলেও চলে। সরকার পন্থী শিক্ষকদের, সরকার পন্থী ছাত্র সংগঠনের এখন ঐ জায়গায় চলে গেছে, এখন আর ঐটাও নাই আপনি যেটা বলেছেন এক সময় ছিল। কিন্তু এখন তা ধীরে ধীরে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে ৯১ পর থেকে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি মিলে দেশকে। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা এখন সবচেয়ে জঘন্যতম সময় পার করছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আমি ভাবতেই পারি না যে, বাংলাদেশে এমন হামলার ঘটনা ঘটছে: ড. ইউনুস

dr.younusঢাকা: ঢাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আমি মর্মাহত। এ ঘটনায় যারা স্বজনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমি প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

আমি ভাবতেই পারি না যে, বাংলাদেশে এমন হামলার ঘটনা ঘটছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে। আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে কিভাবে এমন একটি হিংস্র ঘটনার শুরু হলো। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই। যেখানে প্রত্যেকে তাদের মত স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারবে। আমরা সমতা আর মর্যাদার দিকে এগিয়ে যাওয়া বিশ্বের অংশ হতে চাই।

আমরা এই মূল্যবোধকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চাই। সকল জাতির প্রতি আমি আবেদন করছি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থায়ী করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে। হিংস্রতা বা সন্ত্রাস বা সেনাবাহিনী কোনোটাই কোনো রাষ্ট্র বা ধর্মকে ধরে রাখতে পারে না। আমরা এ অবস্থা প্রতিদিন দেখছি এবং অবশ্যই জাগতে হবে। বুঝতে হবে এই সত্য যে, একটি স্থানে ঘটে যাওয়া হিংস্র ঘটনার প্রভাব পড়ছে অনেক দূরের অঞ্চলেও। সেখানে এর প্রভাবে বীজ বপন হচ্ছে আরেক হিংস্রতার। আমি শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনুরোধ করছি, নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব অতিক্রম করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার চেষ্টা করুন। তাতে আমাদের সমাজ, শহর এবং পুরো পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি নাগরিক সমাজের নেতাদের কাছেও আবেদন করছি, রাজনৈতিক ও প্রাসঙ্গিক দলগুলোর উপরর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে তারা হিংস্রতা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা যেন আলোচনার টেবিলে বসে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নিয়ে আসে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি নিয়ে হেনস্তা!

Pen-Paper-300x206-3উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি নিয়ে গেল বছর থেকে সরকার একটি নিয়মের মধ্যে এসেছে। সেই উদ্যোগের ফলে ভর্তিযুদ্ধ নামক বিষয়টির অবসান ঘটল। সাধুবাদ সরকারকে। শুরুর বছর খানিকটা ভালোভাবেই সমাধান হলো, কিন্তু এই বছর থেকে ভর্তি নিয়ে একটি চক্রের আস্ফালন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আস্থা রাখা যায় এমন গণমাধ্যমে গতদিন দেখলাম, বগুড়ায় একটি কলেজে তালা ঝুলিয়ে ছাত্র সংগঠনের নামধারী একটি গোষ্ঠী উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি নিচ্ছেন। কলেজের ভর্তি ফি ছাড়াও সেই গোষ্ঠীকে পাঁচ-দশ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম মীমাংসা করতে হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে মেধা তালিকায় সেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ তাদের ছিল। কিন্তু সেইসব তালিকাকে তুচ্ছ করে নিজস্ব একটি আইন বানিয়েছে সেই ছাত্রনেতা নামধারী গোষ্ঠী। সংবাদটি চোখে পড়ার আগে আমার এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তার সন্তানের ভর্তির বিষয়ে। তার সন্তানও সব বিষয়ে আশি পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। নিজ এলাকা ফেনীতে যে কলেজে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সেখানে ভর্তি হতে গেলে কথিত ছাত্রনেতারা ত্রিশ হাজার টাকা চেয়েছে। সবশেষে সাফ জানিয়ে দিল, পঁচিশ হাজার লাগবেই।

বোঝা যাচ্ছে, ভর্তি নিয়ে সারাদেশের জেলাগুলোতে এই কা- ঘটছে এবং প্রশাসনের নাকের ডগায়। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে মেরুদ-হীন বলার সুযোগ নেই; কারণ এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রশ্ন হলো, রাজধানী বাদে দেশের অন্যান্য কলেজে ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের এমন অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল? এটা কেবল অভিভাবকদের হেনস্তা নয়, শিক্ষার্থীদের চরমভাবে অপমান করা। অনেকে ভালো ফলাফল করেও যখন কাউকে টাকা দিয়ে খুশি করে কলেজে ভর্তি হতে হচ্ছে, তাতে সেই শিক্ষার্থীর মনের অবস্থা কেমন হয় তা ভাবলে বোধসম্পন্ন যে কারও বিবেকে ধাক্কা লাগার কথা। কিন্তু সেই ধাক্কাটি যদি সরকারের সংশ্লিষ্টদের বোধে না লাগে তাহলে অসুখ সারবে কী করে? এটা জেনে রাখা দরকার, অনেক সময় ছোটখাটো অসুখও অনেক বড় অসুখ ডেকে আনে। তাই ছোট অসুখ বলে অবহেলা করতে নেই, গুরুত্ব দিয়েই সেরে তোলা বুদ্ধিমানের কাজ।

লেখক : আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সৃজনশীল পদ্ধতিটা শিক্ষকরা তেমন বোঝেন না, ছাত্রদেরও বোঝাতে পারেন না-ঢাবি অধ্যাপক

ডেস্ক:পরীক্ষাব্যবস্থার সমালোচনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, সৃজনশীল পদ্ধতির অকার্যকারিতা৷ এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও মনে করেন, “বাংলাদেশে সৃজনশীল পদ্ধতি মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারছে না৷”
ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘সৃজনশীল পদ্ধতিটা শিক্ষকরা তেমন বোঝেন না, ছাত্রদেরও বোঝাতে পারেন না৷ পরীক্ষার সময় এটা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে এই জন্য যে, কী প্রশ্ন করবেন তা প্রশ্নকর্তা নিজেও বোঝেন না৷ ফলে তিনি নোট, গাইডবুকের ওপর নির্ভর করেন৷ ফলে এই পদ্ধতিতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না৷”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, “সৃজনশীল পদ্ধতি চলবে না৷ সৃজনশীল কোনো কাজ দিচ্ছে না৷ মাল্টিপল চয়েসও ঠিক না৷”

তার মতে, ‘‘বই থেকে সরাসরি প্রশ্ন থাকবে, ছেলে মেয়েরা লিখে জবাব দেবে৷এই বিষয় সম্পর্কে সে যা জানে সেটা লিখবে৷ এর মাধ্যমে তার জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যাবে৷ তার ভাষাজ্ঞানেরও পরীক্ষা হবে৷ ভাষাজ্ঞানটাও শিক্ষা ব্যবস্থার একটা জরুরি অংশ৷”

ডয়চে ভেলে: উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে৷ এই পদ্ধতিতে কি শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যাচ্ছে?

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: না, আমরা পারছি না৷ সৃজনশীল পদ্ধতিটা শিক্ষকরাও তেমন বোঝেন না৷ ছাত্রদেরও বোঝাতে পারেন না৷ পরীক্ষার সময় এটা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে এই জন্য যে, কী প্রশ্ন করবেন প্রশ্নকর্তা নিজেও তা বোঝেন না৷ ফলে তিনি গাইডবুক, নোট এগুলোর উপর নির্ভর করেন৷ সেখান থেকেই তিনি এই প্রশ্নের ধারণা তৈরি করেন৷ প্রশ্ন হওয়া উচিত বই থেকে, ছাত্ররা যা পড়েছে৷ সৃজনশীলের আগে ‘মাল্টিপল চয়েস’ নামে একটা পদ্ধতি ছিল, সেটাও ঠিক ছিল না৷ ওখানে দেখা যেত একটা ‘টিক’ দিয়েই নম্বর পেয়ে যেত৷ এর অসুবিধার দিকটা হলো, এটার জন্য তো ওভাবে ঠিকমতো পড়ানোও করতে হয় না৷ দ্বিতীয়ত হলো, কেউ বোঝে না৷ আর তৃতীয়ত হলো, ছাত্ররা নম্বর পাওয়ার উপরই জোর দেয়, কীভাবে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে৷ বিষয়ের বাইরে গোটা বইটা যে পড়বে, বুঝবে সে ব্যাপারে কোনো আগ্রহই নেই৷ এখন ছাত্রদের লিখতে উৎসাহিত করতে হবে৷ যেটা সে বুঝল, সেটা সে সঠিকভাবে লিখতে পারে কি-না৷ তাহলে বোঝা যাবে সে জানে কি-না এবং সে নিজের বোঝাটাকে প্রকাশ করতে পারে কি-না৷ লেখার উপর জোর দিতে হবে৷ সেজন্য সৃজনশীল দরকার নেই, মাল্টিপুল চয়েসেরও দরকার নেই৷ সরাসরি প্রশ্ন হওয়া উচিত৷

এখন পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় গ্রেডিং পদ্ধতিতে৷ আগে ছিল বিভাগ৷ বর্তমান পদ্ধতিটা কি সঠিক?

না, এটার খুব প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না৷ আগের পদ্ধতিটা যে খারাপ ছিল তা আমার মনে হয় না৷ এখানে বোঝাও যায় না ছাত্রটার মেধাটা কেমন, অন্যদের মধ্যে তার অবস্থানটা কী৷ এগুলো খুবই বিভ্রান্তিকর৷ আগেরটায় সরাসরি নম্বর জানা যেত, কে কতটা ভালো করল বোঝা যেত, আসলে আগেরটাই ঠিক ছিল বলে আমার মনে হয়৷

এই যে নতুন পদ্ধতিগুলো আসছে, তাতে কি শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক যাচাই হচ্ছে?

না, মেধার সঠিক যাচাই হচ্ছে না৷ পাশাপাশি মেধার বিকাশে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না৷ এখন সমস্ত গুরুত্ব হচ্ছে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার উপরে৷ ছাত্ররা ক্লাস রুমে ঠিকমত পড়ে কিনা, শিক্ষকরা ঠিকমত ক্লাস নিচ্ছে কি-না, সময় দিচ্ছেন কি-না, শিক্ষকদের কতটা আগ্রহ আছে, তাদের প্রশিক্ষন আছে কি-না এবং তারা মনোযোগ দিয়ে পড়াচ্ছেন কি-না এখন এইগুলো দেখা হয় না৷শিক্ষক শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রে আছেন৷ শিক্ষক নির্বাচন এখানে খুব ভ্রান্ত পথে হয়, নানান প্রভাবে হয়৷ যার ফলে অযোগ্য লোকরা এখানে আসেন৷ এই অযোগ্য লোক আসার ফলে তাদের কোনো রকম প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না৷ যদি শিক্ষক ভালো মতো না পড়ান, তাহলে পরীক্ষা দিয়ে কী হবে, কিসের পরীক্ষা হচ্ছে, ছেলে-মেয়েরা তো পড়েই নাই৷ তখন ছেলে-মেয়েরা নোট বই, গাইড বই – এগুলোর উপর নির্ভর করে, কোচিং সেন্টারে যায়, তারা মনে করে কোচিং সেন্টারে না গেলে পাশ করা যাবে না৷ শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারকে যদি ক্লাস রুমের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাহলে সেটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত বলেই আমার মনে হয়৷

সম্প্রতি এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে তুমুল বিতর্ক হয়েছে৷ সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস কবে তা-ও জানে না৷ এই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এটা তো খুব একটা ব্যতিক্রম বলে আমি মনে করি না৷ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এরকমই অবস্থা৷ এখন ছেলে-মেয়েদের তো আর সেভাবে পড়ানো হচ্ছে না, জানার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে না৷ শুধু নম্বর পাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে৷ তাছাড়া সাধারণ জ্ঞানের চর্চাকেও কোনোভাবে উৎসাহিত করা হয় না৷ সাধারণ জ্ঞানটা যে ক্লাস রুমে বা ক্লাস রুমের বাইরে জানানো হবে, সেটা একেবারে করা হচ্ছে না৷ এই থেকে বোঝা যাচ্ছে সাধারণ জ্ঞানের স্তরটা নেমে গেছে৷

এরা শুধু নম্বর পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী, অন্য কিছু জানার ব্যাপারে আগ্রহী নয়৷ অভিভাবকরাও চান, তাদের ছেলে মেয়েরা ভালো নম্বর নিয়ে আসুক৷ তারা পাঠ্যপুস্তক জানবে বা বাইরের জ্ঞান আহরণ করবে এটা অভিভাবকরা দরকারই মনে করেন না৷ তারা মনে করেন, গ্রেড কী পেল সেটাই মুখ্য৷ ভালো গ্রেড পেলে তারা মনে করেন, ছেলে-মেয়েরা ভালো করেছে৷ কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থা তো পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ নয়৷ তার তো সাধারণ জ্ঞান থাকতে হবে৷ না হলে একজন মানুষকে আমরা শিক্ষিত বলব কিভাবে? কাজেই আমরা শিক্ষিত মানুষ তৈরি করতে পারছি না বলেই আমি মনে করি৷

গত দুই বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে কি-না – এ নিয়েও বিতর্ক চলে আসছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি পক্ষীক্ষায় মাত্র ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন৷ অন্যরা পাসই করতে পারেনি৷ কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হবে মেধাক্রম অনুযায়ী৷ আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কেমন হওয়া উচিত?

বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি হওয়া উচিত না৷ এই মেধার উপর তো নির্ভরই করা যাচ্ছে না৷ শিক্ষার্থীরা যে সমস্ত গ্রেড নিয়ে আসছে, নম্বর নিয়ে আসছে তা তো বিশ্বাসযোগ্য না৷ বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই ছাত্রদের বাছাই করার স্বাধীনতা দিতে হবে৷ মান অনুযায়ী ছাত্রদের ভর্তি করবে৷ সে কারণে পরীক্ষা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কোনো সুযোগই নেই বলে আমি মনে করি, কেননা, তাহলে তো নির্ভর করতে হবে ওই যান্ত্রিক নম্বরগুলোর উপরে৷ এটা তো কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় নয়৷

শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ তো দেখাই যাচ্ছে৷ এখান থেকে বের হওয়ার উপায় হিসেবে আপনার পরামর্শ কী?

প্রথমত দেখতে হবে যে, উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা আমরা করতে পারছি কিনা৷ উপযুক্ত শিক্ষক মানে, যারা যোগ্য, যাদের আগ্রহ আছে এবং যারা সময় দিতে পারেন৷ আর সেজন্য শিক্ষকদের দুটো জিনিস নিশ্চিত করতে হবে৷ একটা হলো, তাদের যথাপোযুক্ত বেতন-ভাতা দিতে হবে৷ এবং দ্বিতীয়ত, সামাজিক যে সম্মান সেটা তাদের দিতে হবে৷ শিক্ষকদের সামাজিক সম্মান তো কমে গেছে৷ এর জন্য স্কুল কলেজ বা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, সেখানে কী ঘটছে তার একটা জবাবদিহিতা থাকা উচিত৷

প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে৷ আর এই জবাবদিহিতা শুধু সরকারিভাবে করা যাবে না, সেটা সামাজিকভাবেও করতে হবে৷

সামাজিকভাবে করার উপায় হলো, যে পরিচালনা কমিটি আছে, সেই কমিটি যাতে যথাপোযুক্তভাবে গঠিত হয়৷ এতদিন এমপিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হতেন৷ এটা খুবই খারাপ একটা বিষয় ছিল৷ এটা বাদ হয়েছে, এটা ভালো৷ এখন দেখতে হবে, প্রকৃত শিক্ষানুরাগীরা ওই কমিটিতে নির্বাচিত হচ্ছেন কিনা৷ টাকার জোরে বা টাকা উপার্জনের জন্য ওই কমিটিতে যাওয়া নিরুৎসাহিত করা উচিত৷ শিক্ষানুরাগী, প্রাক্তন শিক্ষক, সমাজের যারা শিক্ষিত মানুষ তাদেরই পরিচালনা কমিটিতে আনা উচিত৷

এসএসসি ও এইচএসসিতে যে পরীক্ষা পদ্ধতি আছে তা কি সঠিক বলে মনে করেন?

আমার বক্তব্য হলো, এই যে সৃজনশীল পদ্ধতি এটা চলবে না৷ সৃজনশীল কোনো কাজ দিচ্ছে না৷ মাল্টিপল চয়েসও আমি পছন্দ করব না৷ আমি পছন্দ করব এমন পদ্ধতি যেখানে বই থেকে সরাসরি প্রশ্ন থাকবে, ছেলে-মেয়েরা লিখে জবাব দেবে৷ এই বিষয় সম্পর্কে সে যা জানে সেটা লিখবে৷ এর মাধ্যমে সে তার জ্ঞানের পরিচয় দেবে৷ এবং সে তার জ্ঞানকে প্রকাশ করতে পারছে কি-না সেটাও ধরা পড়বে৷ তার ভাষা জ্ঞানটাও পরীক্ষিত হবে৷ ভাষা জ্ঞানটাও শিক্ষা ব্যবস্থার একটা জরুরি অংশ বলে আমি মনে করি৷ –ডি ডব্লিউ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নারায়ণগঞ্জে ওসমানীয় শাসন!

প্রথমে-Cartoonই শিক্ষক লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দেশের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে এ কারণে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই যে তাঁরা শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রচারণাকে একেবারেই আমলে নেননি। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সদলবলে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ব্যবসায়ী কাম সাংসদ কাম সাবেক স্বৈরাচারের সহযোগী পবিত্র ধর্ম নিয়ে যেসব উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন, তাতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যাওয়াও অসম্ভব ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশটা পাকিস্তান নয়। আর নারায়ণগঞ্জের মানুষও ধর্মীয় উন্মাদনার হীন চেষ্টাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ কারণে তাঁদের অভিবাদন জানাই।
সেলিম ওসমান দাবি করেছেন, পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন এবং জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি স্বেচ্ছায় কান ধরে ওঠবস করেছেন। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন, সাংসদ সেলিম ওসমান আঙুল উঁচিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কয়েক শ লোকের সামনে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। শ্যামল কান্তি অসুস্থ ছিলেন। তারপরও সেলিম ওসমানের শাস্তি থেকে তিনি রেহাই পাননি। ছবি মিথ্যা বলে না বলে এখন সেই ছবি দেখানোকে সেলিম ওসমান তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাঁর বক্তব্যটি স্ববিরোধিতায় ভরা। একবার তিনি বলেছেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তি স্বেচ্ছায় কান ধরে ওঠবস করেছেন। আবার বলেছেন, সাজা দিয়ে তিনিই (সেলিম ওসমান) তাঁকে বাঁচিয়েছেন। সকাল ১০টায় স্কুল প্রাঙ্গণে কয়েক হাজার লোক জড়ো হলেও সেলিম ওসমান সেখানে গিয়েছেন বিকেল চারটায়। এই ছয় ঘণ্টা কিন্তু শ্যামল কান্তি পুলিশ প্রহরায় নিরাপদেই ছিলেন। তিনি সেখানে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি কেন উত্তপ্ত হয়ে উঠল? শ্যামল কান্তি বলেছেন, তিনি ধর্মকে কটূক্তি করে কিছু বলেননি। পুরো বিষয়টি ছিল সাজানো এবং তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই এই নাটক করা হয়েছে।
এই ফাঁসানোর ঘটনায় সেলিম ওসমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। তাঁর দাবি অনুযায়ী শ্যামল কান্তি যদি ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি করেও থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংসদ আইনের আশ্রয় নিলেন না? কেন তিনি নিজের হাতে আইন তুলে নিলেন? রাষ্ট্র তাঁকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দিলেও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব দেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেছেন, শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিরুদ্ধে মানহানি কিংবা অন্য ধারায় মামলা করা যায়। লাঞ্ছিত শিক্ষক আইনি সহায়তা চাইলে দেবেন বলে জানিয়েছেন এই প্রবীণ আইনজীবী।
সেলিম ওসমান বলেছেন, ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তিনি শ্যামল কান্তিকে সাজা দিয়েছেন। তিনি সাজা দেওয়ার কে? দেশে কি আইন-আদালত নেই? সরকারি তদন্ত কমিটি শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অবমাননার’ অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পায়নি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাঁকে স্বপদে বহাল করার পাশাপাশি ওই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে দিয়েছেন। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি অন্যায়ভাবে শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করেছিল। তিনি ১৭ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করলেও নতুন কমিটি এসেই তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করে বলে অভিযোগ আছে। বাতিল হওয়া কমিটির সভাপতি বলেছেন, সাংসদের নির্দেশে শ্যামল কান্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেলিম ওসমান আসলে শ্যামল কান্তিকে বাঁচাতে যাননি, চাকরিচ্যুত করতে গিয়েছিলেন।
তাঁর দাবি, শ্যামল কান্তি ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আর সরকারের তদন্ত কমিটি বলছে, কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেলিম ওসমান বলেছেন, তদন্ত করার সময় নাকি শিক্ষামন্ত্রী বা কমিটি তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। শিক্ষার বিষয়াদি শিক্ষামন্ত্রীরই দেখার কথা। তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু স্থানীয় সাংসদ হিসেবে সেলিম ওসমান কি শিক্ষামন্ত্রীকে সমস্যাটি জানিয়েছিলেন? না, তিনি জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। নারায়ণগঞ্জে তাঁরা যা বলবেন, সেটাই আইন। সেলিম ওসমান যে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আজ সাংসদ হয়েছেন, সেই উপনির্বাচনের দিন কী ঘটেছিল, তা–ও সবার জানা। এএসপি বসির পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেদিন আরেক ওসমানের রোষানলে পড়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে না পারলেও শ্যামল কান্তি নিজেই সাংবাদিকদের ঘটনা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘সেদিন সেলিম ওসমান আমার দুই গালে দুটি করে চারটি চড় মারেন। এরপর বলেন, “শালা কান ধর। ১০ বার কান ধরে ওঠবস কর।”’
শ্যামল কান্তি ভক্ত পত্রিকান্তরে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বানোয়াট। তিনি বলেছেন, ‘আমার সম্মান আর নেই। ওই স্মৃতি এখন আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আবার নতুন করে বরখাস্তের নোটিশ পেয়ে এখন মানসিকভাবে অনেকটা অসুস্থ। ১৭ বছর ধরে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করলেও কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যা হলো নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তাঁর বোনকে এই পদে বসাতে চান।’
কয়েক শ লোকের সামনে সংঘটিত ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এখন ঘরে ঘরে। আরও একটি অডিও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আশরাফের টেলিফোন কথোপকথন, যার সবটা মুদ্রিত ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সেলিম ওসমান টেলিফোন সংলাপে প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আসিফ হোসেনের নাম ধরে বলেছেন, তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হলে আসিফ বেঁচে থাকতে পারত না। এর মাধ্যমে তিনি কি বলতে চাইছেন যে আসিফ বেঁচে আছেন তাঁর কৃপায়? একজন ব্যক্তি যতই ক্ষমতাধর হোন না কেন, তিনি কি প্রকাশ্যে এভাবে একজন সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন? দিলে সেটি কি ফৌজদারি অপরাধ নয়?
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ত্বরিত সিদ্ধান্তে শ্যামল কান্তি তাঁর চাকরি ফিরে পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তাঁর (শ্যামল কান্তি) ওপর সংঘটিত প্রথম অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া গেল। এ জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধন্যবাদ পেতে পারেন। কিন্তু ওই শিক্ষকের ওপর সংঘটিত দ্বিতীয় অপরাধের প্রতিকার তিনি এখনো পাননি। দ্বিতীয়ত, শ্যামল কান্তি চাকরি ফিরে পেলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্যামল কান্তি মনে করেন, সেলিম ওসমান সাংসদ থাকা অবস্থায় তাঁর জীবন নিরাপদ নয়। একজন শিক্ষক ও নাগরিক যদি তাঁর এলাকার সাংসদ সম্পর্কে এ রকম আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, তখন রাষ্ট্রের করণীয় কী? প্রথম কর্তব্য ওই শিক্ষকের নিরাপত্তা বিধান। দ্বিতীয় কর্তব্য তাঁর ওপর সংঘটিত অন্যায়ের বিচার করা। একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, সেটি তদন্তের আগে তাঁকে শাস্তি দেওয়া যায় না। অথচ এখানে সাংসদ সেলিম ওসমান তদন্তের আগেই তাঁকে শাস্তি দিয়েছেন।
ঘটনাটি এতই ঘৃণ্য যে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী-সাংসদ, সরকারি দলের নেতারাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ঘটনার জন্য শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন ওই সাংসদকে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ–উল–আলম লেনিন বলেছেন, ওই সাংসদের অপকর্মের দায় শেখ হাসিনার সরকার নেবে না। সরকারের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু সেলিম ওসমান বলেছেন, তিনি ক্ষমা চাইবেন না। ক্ষমা তাঁরাই চান, যাঁরা অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখেন। কোনো ভুল করলে সংশোধনের চেষ্টা করেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার তো কখনো ভুল করে না। সেলিম ওসমান ফাঁসির শাস্তি নিতে রাজি আছেন, কিন্তু ক্ষমা চাইবেন না।
শিক্ষক লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে যেভাবে বাংলাদেশ প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে, সেখানে ক্ষমার বিষয়টি এখন আর শ্যামল কান্তির ওপরও নির্ভর করছে না। শিক্ষক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষই ধিক্কার জানিয়েছেন যেই শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের, এখন তাঁদের ওই শিক্ষকের পক্ষেও ক্ষমা করে দেওয়া সম্ভব হবে না।
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন নারায়ণগঞ্জ থেকে এক বন্ধু টেলিফোনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কী হয় না হয়। নানা উসকানি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত গতকাল নারায়ণগঞ্জ শান্তিপূর্ণই ছিল। নারায়ণগঞ্জবাসীর অভিযোগ, সারা দেশে শেখ হাসিনার শাসন চললেও নারায়ণগঞ্জে চলছে ওসমানীয় শাসন। সেখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিতে কোনো ফারাক নেই। অথচ দুটি দলের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি আলাদা। আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সেক্যুলার রাজনীতির কথা বলে। জাতীয় পার্টি বিএনপির মতো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন, সেখানে শান্তি আনতে হলে ওসমানীয় শাসন থেকে মুক্ত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
অনেকেই প্রশ্ন করবেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনার ঘটনায় এভাবে কেন ফুঁসে উঠল বাংলাদেশ? সমাজে নিয়তই অন্যায়-অনাচারের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে প্রতিবাদ এত জোরালো হয় না। সম্ভবত একটি কারণ এখানে অনাচারের সঙ্গে ঔদ্ধত্য যোগ হয়েছে। একজন প্রবল প্রতাপশালী ব্যক্তি যখন সবাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, কাউকে মানুষ জ্ঞান করেন না, তখন তা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখে না। এখানে একজন সাংসদের হাতে একজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হননি কেবল, লাঞ্ছিত হয়েছে মানবতা। অপমানিত হয়েছে শিক্ষকসত্তা। এ কারণেই যাঁরা শ্যামল কান্তিকে কখনো দেখেননি, তাঁরাও প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।
আমাদের সমাজ এখনো যে শিক্ষকদের সম্মান দেয়, শ্রদ্ধা ও সমীহ করে, শ্যামল কান্তির ঘটনায় সেটিই আবার প্রমাণিত হলো। তিনি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কোন ধর্মের অনুসারী, সেসব ছাপিয়ে তাঁদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে একজন অসহায় শিক্ষকের বেদনা ও লাঞ্ছনা। একজন পীড়িত মানুষের কষ্টকে তাঁরা নিজেদের কষ্ট হিসেবেই নিয়েছেন।
আমাদের সমাজে এখনো যে অর্থ ও দম্ভের কাছে মানবতাবোধ লুপ্ত হয়ে যায়নি, সেটাই বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ তথা তরুণ প্রজন্ম আবারও সুউচ্চ কণ্ঠে জানিয়ে দিল। এই তরুণেরাই বাংলাদেশের শেষ ভরসা।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

সুত্র: প্রথম আলো

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘শিক্ষকের মর্যাদা’ পাঠ্যবই থেকে উধাও

পাঠ্যবই থেকে উধাও হয়ে গেছে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মানে বহুল উচ্চারিত ও পঠিত ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতাটি। কবি ও শিক্ষক কাজী কাদের নেওয়াজের এ কবিতাটি যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা বইয়ে রাখা হলেও বর্তমানে তা আর নেই। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল পাঠ্যবই ঘেঁটে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ২৫ জন শিক্ষক।teachers dignity 2

শিক্ষা বিষয়ক  পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাবার্তার পক্ষ থেকে ২৫ জন শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয় ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতাটির অবস্থান সম্পর্কে। তাঁরা সবাই নিশ্চিত করেছেন যে, কবিতাটি এখন কোনো ক্লাসেরই পাঠ্য বইয়েই নেই। কবে থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তা-ও বলতে পারেননি তারা। তবে, তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মাত্র তিন-চার বছর আগেও তারা পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে কবিতাটি দেখেছেন।

সাক্ষাৎকার নেয়া শিক্ষকদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার বাংলা শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ রয়েছেন। তাঁরা সবাই বলেছেন, তাঁরা নিজ নিজ ছাত্র জীবনে পাঠ্যবইয়ে এই কবিতাটি  দেখেছেন ও পড়েছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষকতা পেশার প্রতি আলাদা মূল্যবোধ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে এই কবিতাটি।

কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, এই কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন।

পাঠকের জন্য ইন্টারনেট থেকে নিয়ে কবিতাটি দেয়া হলো :

 

শিক্ষকের মর্যাদা

কাজী কাদের নেওয়াজ

 

বাদশাহ আলমগীর

কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর ;

একদা প্রভাতে গিয়া,

দেখেন বাদশাহ-শাহাজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া;

ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে;

পুলকিত হৃদয় আনত-নয়নে ।।

শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি

ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

 

শিক্ষক মৌলভী

ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।

দিল্লীপতির পুত্রের করে

লইয়াছে পানি চরণের পরে,

স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!

ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।

হঠাৎ কি ভাবি উঠি

কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,

শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার

দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,

ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,

বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।

যায় যাবে প্রাণ তাহে,

প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

 

তার পরদিন প্রাতে

বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।

খাস কামরাতে যবে

শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,

পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?

বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,

নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”

শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,

কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”

বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে

নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,

পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।

নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে

ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

 

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে

কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-

“আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির

সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর”

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয়করন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সমন্বয়ের দাবী

হাজারো সমস্যার আবর্তে  বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ২০১৩ সালের শুরুতে একটি বড় আনন্দের সংবাদ পেলেন। গত ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা ধরনের ২৬ হাজার ২০০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি মূল বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাদিও পাবেন। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যালয়গুলোও নানভাবে আগের চেয়ে উপকৃত হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মধ্যকার যে দূরত্ব ছিল, তা পুরোপুরি দূর হবে। এর ফল হিসেবে আশা করা যেতে পারে যে, বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণের ফলে সরকারি নানা সুবিধা পাওয়ার পর সেগুলোর গুণগত মান বর্তমানের চেয়ে অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। তবে শিক্ষক সমন্বয় না হলে জাতীয়করনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুনগত মান কোনক্রমেই বৃদ্ধি করা যাবে না বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে অনেক বেশি বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এটিকেও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর পিছিয়ে থাকার একটি কারণ হিসেবে মনে করা হয়। তবে সব চেয়ে বড় কারণ সম্ভবত শিক্ষকদের মানসিকতার মধ্যেই লুকায়িত থাকে। শিক্ষকরা কিন্তু চাইলে তাঁদের বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান বাড়াতে পারেন- সেজন্য অন্য কারো মুখাপেক্ষী হতে হয় না।
অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষককে দেরিতে এসে আগে চলে যেতে দেখা যায়, অনেকে ঠিকমতো ক্লাশ নেন না, অনেকক্ষেত্রে তাঁরা শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেন না, শিক্ষক নিজে যা জানেন তাও ঠিকমতো শিক্ষার্থীদের কাছে সঞ্চারিত করতে চান না।
একজন শিক্ষক যদি চান তাঁর শিক্ষর্থীদের উপযুক্তভাবে গড়ে তুলতে, তাহলে শত বাধাও তাঁকে দমাতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেরকমভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে কতো শতাংশ আন্তরিকভাবে কাজ করেন, সেটি একটি বিরাট প্রশ্ন। অন্য আট-দশটি পেশার মতো শিক্ষকতা নিছকই একটি পেশা নয়, এর সঙ্গে নানা অনুষঙ্গ জড়িত। একজন শিক্ষক যদি সেগুলো উপলব্ধি করেন, তাহলে পেশাগত বিষয়গুলোকে সামনে রেখে নানা দাবিদাওয়া তুলেও তিনি নিজের কর্তব্যকর্ম যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। জাতীয়করণের ফলে যেহেতু তাদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে, সুতরাং শিক্ষকরা এবার বাড়তি অনেক চিন্তা বাদ দিয়ে পড়ালেখার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারবেন বলে আশা করতে চাই।
যেহেতু ইতোমধ্যে সরকারী স্কুলের শিক্ষকরা জাতীয়করনকৃত বিদ্যালয়ে বদলী হচ্ছে। তাই সকল সরকারী বিদ্যালয়ের মত প্রাক প্রাথমিক শিক্ষক, ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, এবং কমপক্ষে ২জন শিক্ষক সমন্বয়ের ব্যবস্থা করলে প্রাথমিক শিক্ষার মান দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
স্বরুপ দাস
প্রধান শিক্ষক
কেন্দ্রিয় যুগ্ন আহবায়ক
সাধারন সম্পাদক(দামুড়হুদা)
বাসপ্রাবিপ্রশিসমিতি
sarup.das76@gmail.com
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একটি সিনেট অভিভাষণ ও কলেজশিক্ষার মানোন্নয়ন

ড. ফজলুল হক সৈকত ঃপ্রশাসনিক বিকেন্দ্রিীকরণ, মোটিভেশন ও প্রণোদনা প্রদান, সাফল্যের স্বীকৃতি ও সম্মাননা, ই-ম্যানেজমেন্ট এবং শিক্ষার বাস্তবভিত্তিক প্রসার ও মান-উন্নয়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব-পরিপ্রেক্ষিতে যেমন, তেমনই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই ভাবনাগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রশাসনকে গতিশীল করে সামনে এগোনোর সময় এখন। বাংলাদেশও উন্নয়নের নানান ক্ষেত্রে এসব ইতিবাচক ধারণার প্রয়োগ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপ ও যোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়নের জন্য পরিবের্তনের যে ধারা প্রবাহিত হয়েছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষা-ব্যবস্থায় এসেছে বিচিত্রমুখি পরিবর্তন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় আসন-সংকট ও সেশনজট যখন একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিপ্লবী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইতিবাচক পরিবর্তন, মানোন্নয়ন ও কাজে গতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নজির সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি. বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রদত্ত একটি অভিভাষণকে সামনে রেখে আমরা কিছু বিশেষ বিষয়ে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করবো।

২৯ ডিসেম্বর ২০১৫। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সিনেট অধিবেশন। ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ-এর অভিভাষণ। কলেবরের বিবেচনায় খুবই ছোটÑ মাত্র ৮ পৃষ্ঠা। সম্পূর্ণ বা আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে, প্রারম্ভিক কাজ শুরু হয়েছে এবং অল্প সময়ের ভেতরেই শুরু হবে এমন ১৬টি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ভিসি ২০১৬ সালে তার কর্ম-পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ১৬টি পদক্ষেপের শিরোনামগুলো তুলে ধরছি পাঠকের জন্য : সংশোধিত ডিপিপি, কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সাথে যৌথ কর্মশালা, কল সেন্টার স্থাপন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের কার্যক্রম শুরু, মাস্টারপ্লান বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ, কলেজ র‌্যাঙ্কিং, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ বিষয়ে কলেজ শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ, আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রাতিযোগিতা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ, ই-ফাইলিং, শিক্ষাকার্যক্রমে নতুন বিষয়, অনার্স প্রথম বর্ষে জিপিএ-র ভিত্তিতে ভর্তি এবং ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনা, ক্রাশ প্রোগ্রাম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ, আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্ট্রংরুম স্থাপন, মাহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাফল্য। এবং অভিভাষণটির প্রায় শেষে সিনেট সভাপতি বলেছেন : ‘আমাদের জন্য ২০১৬ সাল হবে খুবই কর্মবহুল’।

প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি মনোনীত ৫জন শিক্ষাবিদ, স্পীকার কর্তৃক মনোনীত প্রত্যেক প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একজন করে সংসদ সদস্য, সরকারকর্তৃক মনোনীত ৩জন অন্যূন যুগ্মসচিব, দেশের সকল প্রশাসনিক বিভাগের কমিশনার, শিক্ষাবোর্ডসমূহের চেয়ারম্যান, দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা-প্রশাসক, পেশাজীবী, একাডেমিশিয়ন, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত অধ্যাপক, দেশবরেণ্য গবেষক, মনোনীত কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এমন ব্যাপক ও বৈশিষ্ট্যম-িত সিনেট দেশে আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ সিনেট। গত প্রায় ৩ বছরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিম সেশনজটমুক্ত অনলাইন বেইজড বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং শিক্ষার মনোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২ জন প্রোভিসিÑ সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আসলাম ভূইয়া, প্রযুক্তিবিদ প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর, কোষাধ্যক্ষ মাউশি’র সাবেক ডিজি অধ্যাপক নোমান উর রশীদ এবং ৩ জন ডীন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ পরিদর্শকসহ দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই উন্নয়নের ধারায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশেষ সিনেট আয়োজনের পরিপ্রেক্ষিত ও প্রাসঙ্গিকতা বর্ণনা করতে গিয়ে উপস্থিত সদস্যের প্রতি ড. হারুনের আহ্বানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বক্তব্যের চুম্বক-অংশ তুলে ধরছে : “কীভাবে আমরা কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে পারিÑ সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ ও সুপারিশ পেতে এই বিশেষ সিনেট অধিবেশনের আয়োজন। এ বিষয়ে আপনাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যকে আমরা স্বাগতম জানাব। জরুরি বিবেচনায় আমরা ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’র বাইরে এ সিনেট অধিবেশনে কতিপয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তা এজেন্ডা আকারে নিয়ে এসেছি। তবে, কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হবে আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়।”

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রণোদনা ও পুরস্কার প্রদান বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও গত ২৩ বছরে তা করা হয়নি। এই সিনেট অভিভাষণে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন। সেরা কলেজ, সেরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নির্বাচন করে তাদেরকে পুরস্কার প্রদান করলে প্রতিযোগিতা মনোভাব যেমন বাড়বে, তেমনই বৃদ্ধি পাবে লেখাপড়া ও গবেষণার মান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে কলেজশিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত একাডেমিক মনিটরিয়ং-এর কথা থাকলেও, তার কোনো বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এই বিশেষ সিনেট অধিবেশন নিশ্চয়ই দীর্ঘদিনের ওই বন্ধ্যাত্ব ও জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি যদি আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্পন্ন ভাষা ইনস্টিটিউট বা ভাষা-গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়নের অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

সিনেট অভিভাষণটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সমাবর্তন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গ। প্রথমবারের মতো সমাবর্তন আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ যুগ পূর্তির বছরে ২০১৬ সালের শেষপ্রান্তে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বৃহৎ ও ব্যতিক্রমি অনুষ্ঠান। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান ভেন্যু এবং দেশের সব বিভাগীয় শহরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থায় সাব-ভেন্যুতে এই অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (একাডেমিক) তরুণ প্রযুক্তিবিদ প্রফেসর ড, মুনাজ আহমেদ নূর-এর নেতৃত্বে গঠিত একটি টেকনিক্যাল কমিটি প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। ৪০ লক্ষাধিক গ্র্যাজুয়েটের জন্য এই অভিনব আয়োজনটি হবে ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নজির সৃষ্টিকারী ঘটনা’। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্র্যাজুয়েটদের আশীর্বাদ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বিশেষ সিনেট অধিবেশনের এই অভিভাষণের আহ্বান বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সকলে যদি অন্তরিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন, তাহলে কলেজশিক্ষার মানোন্নয়নে সাধিত হবে বিপ্লবী ঘটনা। কেবল ঘোষণা কিংবা আহ্বানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি সত্যি সত্যি সকল আইডিয়া ও পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ২০১৬ সাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি মডেলও হয়ে উঠতে পারে।

লেখক : শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free