খোলা কলাম

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভারত ভ্রমনে যে সমস্যা!

জুগাল মজুমদার:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক তীর্থ ভ্রমণ যেমন -গয়া, কাশী বা আজমির শরীফ মাজার জিয়ারত কিংবা চিকিৎসার নিমিত্তে ভারত গমন করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দেশে ফেরার পর ছুটি ভোগ করা দিনগুলোর অর্ধ গড় বেতন ও অর্জিত ছুটি কর্তন করা হয়।



এ জন্য শিক্ষকগণ ভারত গমণের জন্য বিদ্যালয় খোলা থাকা দিনগুলোই বেছে নেন। যদি বিদ্যালয় ছুটির দিন গুলোতে ভারত গমন করলে অর্ধ গড় বেতন ও অর্জিত ছুটি কর্তন করা না হতো, তাহলে শিক্ষকগণ পবিত্র রমজান মাস,ঈদ উল আযহা, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, দূর্গাপূজার ছুটি থাকা দিনগুলোতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা কিংবা তীর্থ ভ্রমনের জন্য ভারত গমন করতে পারতেন।এতে পাঠদানে কোনো প্রকার চাপ হতো না।এছাড়া ভ্রমন ট্যাক্স বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যেতো।এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ উপকৃত হবে,শিক্ষকগণ সহজেই চিকিৎসা নিতে পারবেন, ভ্রমণ হেতু একঘেয়েমি দূর হবে।এ বিষয়ে সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কৃপাদৃষ্টি কামনা করছি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের করুন কাহিনী

তৌহিদুজ্জামান সোহেল

আমি ৩৬ তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সুপারিশ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমিও মানুষ তাই আমিও ভুল করতে পারি। আজ আমার লেখার বিষয়বস্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জীবন ও বাস্তবতা। লেখার শুরুতে বলে রাখি আমার কথাতে কেউ কষ্ট পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।



প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। একটি সংসার চালানো যে কী কঠিন তা যে চালায় সেই বোঝে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫-৬ জন শিক্ষক কোন কোন বিদ্যালয়ের ৭-৮ জনও থাকে, যারা ভিন্ন ভিন্ন পরিবার থেকে আসেন। এদের মন মানসিকতাও ভিন্ন। সবাইকে সামাল দিতে প্রধান শিক্ষক কম কষ্ট করেন না। অথচ সেই প্রধান শিক্ষক এখনো দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পাননি।

জানামতে, প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড দ্বিতীয় শ্রেণীর হওয়ার ঘোষণা প্রদান করে কিন্তু এখনও তা বাস্তবে প্রমাণিত হয় নি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কিন্তু বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ দিয়েও তাদেরকে ১২ তম গ্রেড এ রাখা হয়েছে কিন্তু একই সাথে একই পরীক্ষা দিয়ে কেউ ৯ম কিংবা ১০ম গ্রেডে সেখানে শিক্ষার মূল ভিত্তিতে ১২ তম গ্রেডে সুপারিশ করা হয়েছে । যতদিন না বেতন বৈষম্য ঠিক হবে এবং মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি কার্যকর হবে ততদিন প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই সমস্যা দূর না করলে প্রাথমিক এর মান বাড়ানো যাবে না।

কর্তাব্যক্তিরা নিয়মিত আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের সে আশা এখনও আশার আলো দেখেনি আর কবে আশা পূরণ হবে তাও কেউ জানে না। সহকারী শিক্ষকরা তো সবচেয়ে বড় বলির পাঁঠা। সকাল নয়টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া, বিদ্যালয় পরিষ্কার করা, ঘণ্টা বাজানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ তাদের করতে হয়। আর যে স্কুলে শিক্ষক কম তাদেরতো আরো কষ্ট যা বলে শেষ করা যাবে না। সাথে আরো নতুন নতুন নিয়মের পরিপত্র তো আছেই।

নয়টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত মাঝখানে বিরতি মাত্র ত্রিশ মিনিট এমন রুটিন দেখে মনে হয় প্রাথমিকের শিক্ষকেরা রোবট। দুপুরের খাবার খেলে নামাজ পড়া হয় না, নামাজ পড়তে গেলে খাবারের সময় নেই। অথচ সেই সহকারী শিক্ষক হচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী যা সকল শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে আমার মনে হয়। কী লজ্জা! ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষকরা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন কিন্তু তাদেরকে শুধুই আশার বাণী শোনানো হচ্ছে। আদৌ কি তাদের আশা পূরণ হবে? নাকি শুভঙ্করের ফাঁকি?

প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণকৃত, অথচ দপ্তরিদের চাকরি জাতীয়করণ হয় না। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আগে শিক্ষকদের মান বাড়াতে হবে সাথে সাথে তাদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো শিক্ষা বান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে যাতে করে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত হয়ে গড়ে উঠে। তাই সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ এই যে, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড অবিলম্বে কার্যকর করা হউক যাতে প্রাথমিকের শিক্ষকেরা সমাজে গর্ব করে বলতে পারুক যে আমি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যেদিন শিক্ষকেরা মাথা উচু করে তারা তাদের পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করবে না সেদিন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়বে।

লেখক: প্রধান শিক্ষক (৩৬ তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সুপারিশ প্রাপ্ত)

প্রাথ‌মিক শিক্ষক‌দের নন ভ্যা‌কেশনাল ঘোষণার দাবী

মাহবুবর রহমান,১০মে:
প্রাথ‌মিক ‌শিক্ষক‌দের যে সময় ভ্যা‌কেশনাল ঘোষণা করা হয় তখন নন ভ্যা‌কেশনাল ডিপার্ট‌মে‌ন্টের চে‌য়ে ভ্যা‌কেশনাল প্রাথ‌মিক শিক্ষক‌দের বাৎস‌রিক ছু‌টি ‌বে‌শি ছিল।
সেই সময় নন ভ্যা‌কেশনাল ডিপার্ট‌মে‌ন্টের সাপ্তা‌হিক ছু‌টি ০১ দিন, শুধু শুক্রবার ছিল কিন্তু বর্তমা‌নে নন ভ্যা‌কেশনাল ডিপার্ট‌মে‌ন্টের সাপ্তা‌হিক ছু‌টি ০২ দিন, শুক্রবার ও শ‌নিবার।



ক) প্রাথ‌মি‌ক শিক্ষক‌দের ছুটিঃ
সাপ্তা‌হিক ছু‌টি ও বাৎস‌রিক ছু‌টি মোট ৫২+৭৫= ১২৭ দিন (য‌দিও প্রধান শিক্ষকের হা‌তে ০৩ দিন সংর‌ক্ষিত ছু‌টি অধিকাংশই ভোগ ক‌রেন না) Read More »

পাঠ্যসূ‌চির সা‌থে মিল রে‌খে সময়সূ‌চি হোক !!

মাহবুবর রহমান:
কোমলম‌তি শিক্ষার্থী‌দের গুরুত্ব বি‌বেচনায় পাঠ্য বই‌য়ের সা‌থে মিল রে‌খে বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী করার দাবী শিক্ষকদের।

প্রাথ‌মিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর আওতাধীন জাতীয় ‌শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রণ ২০১৯ সা‌লের চতুর্থ শ্রে‌ণির English for Today পাঠ্য বই‌য়ের ২৮ ও ৩২ পৃষ্ঠায় Lesson এ উল্লে‌খিত বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ১০ টা থে‌কে বেলা ৩ টা পর্যন্ত ‌দেওয়া আছে।



অথচ একই মন্ত্রনাল‌য় কর্তৃক জারী কৃত আদেশ অনুযায়ী বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ৯ টা থে‌কে বি‌কেল ৪’৩০ মি‌নিট পর্যন্ত ।
কোমলম‌তি শিক্ষার্থীরা আমরা পাঠ্য বই‌য়ে প‌ড়ি এক রকম আর বিদ্যালয় ছু‌টি হয় আরেক সময় !!
হাইস্কুল ছু‌টি হয় আমা‌দের ছু‌টির আগে আর ক‌লে‌জের কোন ধরাবাঁধা সময় সূচী নেই।
বয়‌সের তুলনায় ছোট হ‌য়েও দীর্ঘ সময় বিদ্যাল‌য়ে অবস্থান এ সময় সূচীর ব্যাপা‌রে প্রশ্ন কর‌লে এর সদুত্তর দি‌তে পা‌রি‌নি ।
তাই সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপ‌ক্ষের নিকট বিনয়ের সা‌থে নি‌বেদন বই‌য়ের সা‌থে মিল রে‌খে সময়সূ‌চি করা হোক।

মাহবুবর রহমান,সহকারী শিক্ষক,‌ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট

সহকারী শিক্ষকরা বেতন মর্যাদায় অবহেলিত

২৮ এপ্রিল ২০১৯:

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের ভুমিকা যথেষ্ঠ। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা তথা পাঠদানের কাজটি করেন সহকারী শিক্ষকরা। সহকারী শিক্ষকদের ওপরই নির্ভর করে প্রাথমিক শিক্ষার সফলতা অথবা ব্যর্থতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী হয়েও এই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বেতন পদমর্যাদায় এখনো চরমভাবে অবহেলিত।

গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে আগায় দিলে যেমন ভালো গাছ পাওয়া যায় না, তেমনি সহকারী শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে কখনো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা যাবে না—এটা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অনুধাবন করতে হবে। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য কেন আন্দোলন করতে হবে? তাঁরা তো এমন কোনো দাবি করেননি যা অযৌক্তিক? বিদ্যালয়ের প্রাণ সহকারী শিক্ষকরা ১৯৭৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পদ অনুসারে প্রধানশিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতনভাতা পেতেন, সেখানে বর্তমানে ৩ ধাপ নিচে বেতনভাতা পাচ্ছেন—যা লজ্জাজনক।

সরকার প্রধানশিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতনভাতা দিচ্ছে। তাই সহকারী শিক্ষকরা পূর্বের দেওয়া মর্যাদা ও পদ অনুসারে প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড অর্থাত্ ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কর্তৃপক্ষও সহকারী শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক বলে স্বীকার এবং তা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই। যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের অন্তরায়। তাই সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দ্রুত প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝলঝলি, তেপুকুরিয়া, বোদা, পঞ্চগড়

শিক্ষক কিভাবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদমর্যাদার হন?

মাহফিজুর রহমান মামুন: শিক্ষার আলো বিস্তার প্রথমে শুরু হয় যাঁদের হাত দিয়ে, সেই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বেতন পদমর্যাদায় এখনো চরমভাবে অবহেলিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’ধরনের শিক্ষক রয়েছেন—প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক। আগে এই উভয় ধরনের শিক্ষকই ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। ২০১৪ সালে প্রধানশিক্ষকদের ২য় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়। একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এখনো ৩য় শ্রেণির পদমর্যাদায় রয়েছেন, যা মানুষ গড়ার কারিগরদের জন্য লজ্জাজনক।

একজন শিক্ষক কিভাবে ৩য় শ্রেণির কর্মচারী হন? প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। তাছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর ডিপার্টমেন্টের অধীনে বাধ্যতামূলকভাবে দেড় বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন নামে একটি উন্নতমানের ডিপ্লো­মা কোর্স সম্পন্ন করতে হয় তাঁদের। যেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পরে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে অন্য সকল ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবী ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত, সেখানে স্নাতক পাসের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পরেও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা ৩য় শ্রেণির কর্মচারী পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত! একই দেশে একই যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কেন এই বৈষম্যের শিকার?

সারা বিশ্বে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা যেখানে অতি উচ্চ, সেখানে আমাদের দেশে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণির—এটা খুবই দুঃখজনক। শিক্ষকরা আশা করেন, শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকার দ্রুত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদেরও ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়ে তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবে।

লেখক- সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝলঝলি, তেপুকুরিয়া, বোদা, পঞ্চগড়

প্রাথমিক মানসম্মত শিক্ষায় বাধা শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কর্মে সম্পৃক্ত করা

স্বরুপ দাস: দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের কারণে সমাজে ও পরিবারে নানাবিধ সমস্যা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। ফলে বেশিরভাগ পরিবারে দ্বন্দ্ব ও কলহ বিরাজ করে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। শিক্ষা সম্পৃক্ত বিষয় তার কাছে উপযোগিতা পায় না। শিক্ষকের পাঠদান তার ভেতরে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অতি মেধাবী, চঞ্চল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা যদি মেধা অনুযায়ী শিখন পরিবেশ না পায় সেক্ষেত্রেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সহযোগিতার জন্য যে ম্যানেজিং কমিটি থাকে তাও অনেক সময় ক্ষুদ্র কোনো বিষয়ে ইস্যু তৈরি করে বিশাল সমস্যায় পরিণত করে। ফলে শিক্ষকরা অনেক সময় অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।


মা-বাবা, বড় ভাই-বোন অনেক সময় খোঁজখবরও রাখেন না। বাবা-মা মনে করেন, জন্ম দেয়ার কাজ ছিল জন্ম দিলাম। মানুষ করার দায়িত্ব শিক্ষকের। শিক্ষক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, পাঠ্য বিষয় বোধগম্য করে দিতে পারেন, প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করতে পারেন; কিন্তু শিক্ষা অর্জনের প্রাথমিক স্তর হলো পরিবার। পরিবার থেকে যদি শিক্ষার্থী আচরণ না শেখে, মানব চরিত্রের মহত্ গুণগুলো না শেখে, পরিবারেই যদি থাকে অনিয়ম, মিথ্যা, কলহ ও জরাজীর্ণ পরিবেশ—তবে সেই পরিবেশ শিক্ষার্থীর মনে কী প্রভাব ফেলবে তা তো সহজেই অনুমেয়।
Read More »

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ

এস এম সাইদুল্লাহ: প্রধান শিক্ষক ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ এখনও কাটেনি! এর আগে প্রধান শিক্ষক পদের মতো বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের আর কোনো পদ নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র হয়নি!! সত্যি সেলুকাস!!!প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শীঘ্রই ৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এ বিষয়ে সমসাময়িক আলামত এই খবরের পক্ষে যায় না, সাংঘর্ষিক।


কারণ, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে আলোচনার অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’ এ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা/থানা কোটা বহাল রাখার প্রস্তাব আছে। তা ছাড়া বেতন স্কেলের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। যা ননক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বিশেষ বিধান করে পুরোনো তৃতীয় শ্রেণি (ননগেজেটেড) থাকাকালীন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩’ই বহাল রেখে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ (৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ) , পদোন্নতি চালু রেখে প্রধান শিক্ষকদেরকে পঙ্গু করে রাখার পায়ঁতারা চালাচ্ছে।

অযুহাত দেখানো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা আপাতত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত না হওয়া।

অন্যদিকে, দাতাগোষ্ঠীর চাপে প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো (organogram) ও নিয়োগবিধি’তে প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৬ষ্ঠ গ্রেড) অধীনে না রেখে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৯ম গ্রেড) অধীনে একধাপ নিচে (১০ম গ্রেড) রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মতোই দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এতে আমাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে।

তা ছাড়া দিনে দিনে নানাভাবে নতুন নতুন অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিপত্র/নির্দেশনা জারি করে প্রধান শিক্ষক পদের প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ সকল আলামত প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাই প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ।

পুনশ্চ: প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’কে দাতাগোষ্ঠী প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি’র সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। এটিও বাস্তবায়ন অনেক দূরের স্বপ্ন।

এস এম সাইদুল্লাহ

সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক

কেন্দ্রিয় কমিটি

বাসপ্রাবিপ্রশিস

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা : করণীয়

সালমা আক্তার নিশু,১৭ জুন : শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা মজবুত না হলে মাধ্যমিক, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সফল হবে না। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে মজবুত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক। শিক্ষকদের যথাযথ বেতন ও মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এসব মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব। তা হলেই সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণেও সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বাধ্যবাধকতা মানতেও প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। বলা হয়ে থাকে — যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেশি সে দেশ তত উন্নত। প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শিশুই দেশের সম্পদ। এ সকল শিশুকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে ভর্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সঠিক শিশু জরিপ করা। বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও উন্নত হিসেবে গড়ে তোলা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানকে আধুনিক পদ্ধতি, কৌশল ও আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কার্যকর করা। প্রতিটি শিশুকে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় ইতিহাস জানানো প্রয়োজন। ধর্মীয়, নৈতিক ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করা। এক্ষেত্রে শিক্ষক, বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধিগণ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, ভিশন ২০২১, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল চালু করার মাধ্যমে শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও কার্যকর উদ্যোগ। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। জরুরি ভিত্তিতে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আধুনিক ও উন্নত ফিটিংস দ্বারা বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমকে পরিমার্জন করা হয়েছে। এই শিক্ষাক্রমকে সর্বস্তরে যথাযথভাবে বিস্তরণ ঘটাতে হবে। যোগ্যতাভিত্তিক সুঅভীক্ষা প্রণয়ন ও মুল্যায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। তবেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুফল আসবে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপসংহারে আমরা বলতে পারি যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যাপ্ত মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, আরও বেশি বেশি সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা সবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রাথমিক শিক্ষা আশাকরি।

আমরা স্বপ্ন দেখি অচিরেই বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এজন্য সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। জয় হোক প্রাথমিক শিক্ষার। জয় হোক শিক্ষার।

সালমা আক্তার নিশু

প্রধান শিক্ষক করিমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচি ৩টা পর্যন্ত করার দাবী।

প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর শিক্ষকের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:জয়পুরহাটের এক শিক্ষক  প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচি ৩টা পর্যন্ত করার দাবী জানিয়েছে। তার এই দাবীকে সর্মথন জানিয়েছে একাধিক শিক্ষকক সমিতির নেতৃবৃন্দ। আবেদনকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ৈর সহকারী শিক্ষক।

আবেদনে বলা হয় প্রাথ‌মিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর আওতাধীন জাতীয় ‌শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রণ ২০১৭ সা‌লের চতুর্থ শ্রে‌ণির English for Today পাঠ্য বই‌য়ের ২৮ ও ৩২ পৃষ্ঠায় Lesson এ উল্লে‌খিত বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ১০ টা থে‌কে বেলা ৩ টা পর্যন্ত ‌দেওয়া আছে।
অথচ একই মন্ত্রনাল‌য় কর্তৃক জারী কৃত আদেশ অনুযায়ী বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ৯ টা থে‌কে বি‌কেল ৪’৩০ মি‌নিট পর্যন্ত ।
কোমলম‌তি শিক্ষার্থীরা আমরা পাঠ্য বই‌য়ে প‌ড়ি এক রকম আর বিদ্যালয় ছু‌টি হয় আরেক সময় !!
হাইস্কুল ছু‌টি হয় আমা‌দের ছু‌টির আগে আর ক‌লে‌জের কোন ধরাবাঁধা সময় সূচী নেই।
বয়‌সের তুলনায় ছোট হ‌য়েও দীর্ঘ সময় বিদ্যাল‌য়ে অবস্থান এ সময় সূচীর ব্যাপা‌রে প্রশ্ন কর‌লে এর সদুত্তর দি‌তে পা‌রি‌নি ।
তাই সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপ‌ক্ষের নিকট বিনয়ের সা‌থে সদুত্তর পাওয়ায় আশায় নি‌বেদন কর‌ছি।

চাকরির পরীক্ষায় আবেদন ফি নেয়া কতটা যৌক্তিক?

ru-pic-01বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষ হতে না হতেই সোনার হরিণ নামে চাকরির পেছনে ছুটতে থাকেন শিক্ষিত বেকাররা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পদের সংখ্যা থাকে হাতে গোনা, সেই তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কয়েকগুণ বেশি।

সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব চাকরিতে আবেদন ফি বাবদ প্রার্থীদের গুণতে হয় শত শত টাকা। আর চাকরিদাতারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট বাবদ বুঝে নেন নগদ অর্থ। নিয়োগকর্তারা মনে করেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন ফি দিতে বাধ্য।

বিসিএসসহ পিএসসির (সরকারি কর্ম-কমিশন) সব চাকরির আবেদনে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পরীক্ষার ফি বাবদ নগদ অর্থ গুণতে হয়।

লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ কার্ড কিংবা চাকুরির নিশ্চয়তা না থাকলেও বুঝে নেয়া হয় আবেদন ফি। আর এ টাকা নেয়া হয় বেকারদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজনের লোকবল নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয়ের ভার বহন করতে হয় সেই সব বেকারদের। যারা প্রায় ১৭-২০ বছরনিজেদের খরচে লেখাপড়া করে রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

আবার তাদেরই রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পাওয়ার জন্যও ফি দিতে হচ্ছে! এভাবে শিক্ষিত বেকারদের কাছে থেকে আবেদন ফি নেয়া কতটা যৌক্তিক?

নিয়োগকর্তাদের প্রশ্ন করা গেলে তারা হয়তো নিয়োগ-সংক্রান্ত খরচের কথাই বলবেন। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার খরচ বহন করার দায়িত্ব কি বেকারদের? নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রভৃতি কাজে খরচ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ খরচ কেন বেকারদের বহন করতে হবে?

প্রতিষ্ঠান যেহেতু নিজেদের প্রয়োজনেই নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়। তাদের উচিত নিয়োগ-প্রক্রিয়ার সব ব্যয়ও বহন করা। প্রতিষ্ঠান যদি পুরোটা বহন করতে না চান; সে ক্ষেত্রে আবেদন ফি এমন হওয়া উচিত, যাতে নিয়োগ-সংক্রান্ত ব্যয়ের অর্ধেক বহন করবে প্রতিষ্ঠান, অর্ধেক চাকরিপ্রার্থীরা।

আগে বিসিএস পরীক্ষার ফি ছিল ৫০০ টাকা। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণদের আবেদন ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০০ টাকা। যেসব শিক্ষার্থীর নিজস্ব কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সুবিধা নেই, তাদের আবেদন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ করতে হয়। শুধু আবেদনেই শেষ নয়; একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির পরীক্ষার মিল না থাকায় প্রস্তুতি নিতে ভিন্ন ভিন্ন বইপত্রও কিনতে হয়।

আবার ঢাকাতে বেশির ভাগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বার বার ঢাকায় আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়াতে গুণতে হয় অনেক টাকা। টাকা না থাকায় অনেকেই আবেদন করতে পারেন না। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই টিউশনির টাকার ওপর নির্ভর করে নিজেদের খরচ চালার পাশাপাশি চাকরিযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। সীমিত টাকায় চলতে গিয়ে যখন প্রতি মাসেই চাকরির আবেদনের জন্য বাড়তি গুণতে হয় কমপক্ষে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা; তখন তাদের বিপাকে পড়তে হয়।

৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় ২ লাখেরও বেশী আবেদন করেন। ৩৭ তম বিসিএসে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন আবেদন করেন। ৩৭ তম বিসিএসে সাধারণ প্রার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ধরা হলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটিরও বেশী।

একটি নিয়োগকার্য সম্পন্ন করতে এত টাকা ব্যয় হওয়ার কথা নয়। আর বিসিএসের বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েন সবচেয়ে বেশি প্রার্থী। তাদেরও কেন এত বেশী টাকা গুণতে হবে?

রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে চাকরির আবেদন করতে প্রার্থীদের আর কোনো পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে না বলে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং বিধি ও নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়,‘রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে চাকরির আবেদন ফি বাবদ কোনো পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট লাগবে না।’ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘চাকরির আবেদনের সময় পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক ব্যয় ও কষ্টসাধ্য বিষয়। বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চাকুরির আবেদন ফি না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এর ফলে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই ব্যাংকের যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন চাকরিপ্রার্থীরা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও কি বেকারদের জন্য এমন সুসংবাদ দিতে পারে না? কিছু বিদেশি সংস্থা রয়েছে; যেগুলোতে আবেদনে ফি গুণতে হয় না। যদিও এর আগে সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

উন্নত বিশ্বে বেকারদের কর্মসংস্থান হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকার তাদের ভাতা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত না হওয়ায় বেকারদের ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা করা অমানবিক।

চাকরি হোক আর না হোক, অন্তত সবাইকে বিনা ফিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর আবেদন ফি যদি রাখতেই হয়, তাহলে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা, লিখিত ও ভাইভার জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ১০০ টাকা নেওয়া যেতে পারে। কারণ এখন চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।

লেখক: মো. মাহবুব আলম
mahbubraja89@gmail.com
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ভ‌বিষ্যৎ জা‌তি গঠ‌নের কা‌রিগড় নি‌য়ো‌গে কোটা কেন আব‌শ্যক ?

মাহবুবর রহমান (চঞ্চল): বর্তমান সরকার শিক্ষার গুনগত মান বৃ‌দ্ধির জন্য বি‌ভিন্ন পদ‌ক্ষেপ গ্রহন কর‌ছে
এর ধারাবা‌হিকতায় দ্বাদশ পর্যন্ত শিক্ষা অবৈত‌নিক, ছাত্রছাত্রী‌দের জানুয়‌ারী
মা‌সের ১ তা‌রি‌খে বিনা মূ‌ল্যে বই বিরতণ, স্কুল ফি‌ডিং, উপবৃত্তি প্রদান,স্লিপ কার্যক্রম, শিক্ষক‌দের বিষয় ভি‌ত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান কর‌ছে ।‌শিক্ষা জা‌তির মেরুদন্ড আর প্রাথ‌মিক শিক্ষা এর সু‌তিকাগার ।

এ‌সি রু‌মে সকল রকম আধু‌নিক সু‌যোগ সু‌বিধা দি‌য়ে গর্ভবতী মা‌য়ের বাচ্চা
প্রসব করা‌নো হ‌য় আর য‌দি বাচ্চার না‌ড়ি কাটা হয় ম‌রিচা পরা ব্লেড দি‌য়ে
তাহ‌লে কি দাঁড়া‌বে ?? ‌ঠিক তেম‌নি, ভ‌বিষ্যৎ জা‌তি গঠ‌নে প্রাথ‌মি‌কের কা‌রিগড়/ শিক্ষক নি‌য়ো‌গে বি‌ভিন্ন কোটা ( ৬০% ম‌হিলা কোটা, ৩০% মু‌ক্তি‌যোদ্ধা কোটা, উপজাতি,এতিম,প্র‌তিবন্ধী ১০% আনসার ভিডি‌পি কোটা ২০% পোষ্য কোটা ২০% ) পদ্ধতির বেঁড়াজা‌লে সাধারন মেধাবী‌দের সু‌যোগ সৃ‌ষ্টি না হওয়ায়, শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়‌নে য‌থেষ্ট বাঁধা সৃ‌ষ্টি হ‌চ্ছে ফ‌লে শিক্ষা ক্ষে‌ত্রে সরকা‌রের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হ‌চ্ছে না ।
‌”যোগ্য শিক্ষক নি‌য়োগ হ‌লেই ‌দে‌শে ভ‌বিষ্যৎ যোগ্য নাগ‌রিক পাওয়া সম্ভব”!!
“শিক্ষার মান বাড়‌লেও গুনগত মান বা‌ড়ে‌নি” গত শিক্ষাব‌র্ষে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ইং‌রেজী বিভা‌গে ভ‌র্তি পরীক্ষায় মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী পাস ক‌রে‌ছিল, এ ছাড়া একটা রিপোর্টে দেখা যায় Gpa 5 পাওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী দে‌শের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্প‌র্কে ভা‌লো ধারনা নেই ।
এমন কি ?? সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে Gpa 5 পাওয়া শিক্ষার্থী তার বন্ধু‌কে লি‌খে i am got gpa 5 এবং আমি জি‌পিএ ৫ পে‌য়েছি ইং‌রে‌জি‌তে তা বল‌তে গি‌য়ে ব‌লে, I am got Gpa 5 ।

এ বছর (2016 খ্রি.) ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে গ ইউনি‌টের পাশের হার মাত্র ৫.৫২ % দেশমাতৃকা‌কে রক্ষার জন্য দে‌শের সূর্য সন্তানরা অনেক ত্যাগ তি‌তীক্ষা ক‌রে‌ছেন তা‌দের অবদানের স্বীকৃ‌তি স্বরুপ মু‌ক্তি‌যোদ্ধার সন্তান‌দের চাকুরী ক্ষে‌ত্রে বি‌শেষ কোটা দি‌য়ে দেশ মাতৃকার কা‌জে লাগা‌নোই স্বাভা‌বিক কিন্তু যেখা‌নে কোমলম‌তি শিক্ষার্থী‌দের শিক্ষা ও ভ‌বিষ্যৎ জীবন বি‌নির্মা‌নে জ‌ড়িত সেই শিক্ষা বিভাগ ছাড়া দে‌শে আরো অনেক সরকারী চাকুরী আছে ( সেনাবা‌হিনী, পু‌লিশ, বি‌জি‌পি, স্বাস্থ্য সহ আরো অন্যান্ন ) যেখা‌নে তা‌দের সু‌যোগ সৃ‌ষ্টি করা সম‌য়োপ‌যোগী ।

তাই শিক্ষার মা‌নোন্নয়‌নে ‌শিক্ষক নি‌য়ো‌গে সকল প্রকার কোটা পদ্ধ‌তি বিলুপ্ত করে, সম যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী শিক্ষক নি‌য়োগ ক‌রে, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়‌নের ল‌ক্ষ্যে ডি‌জিটাল বাংলা‌দেশ বি‌নির্মা‌নে স‌চেষ্ট দে‌শের অভিভাবক,
মাননীয় “প্রধানমন্ত্রীর” সদয় হস্ত‌ক্ষেপ কামনা কর‌ছি ।

মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান (চঞ্চল)

সহকারী শিক্ষক
‌ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট
০১৭১৮৮১৪৫২০ ।

সুশিক্ষিত সন্তান, মায়ের দায় কী?

পৃথিবীর সকল জাতির উন্নতির মূল শক্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষাকে যদি শক্তিশালী করা না যায় তাহলে অন্য শিক্ষায় ফাঁক থেকে যায়। শিক্ষা স্তিমিত হয়ে পড়ে। জাতি পিছিয়ে পড়ে। একটি দেশ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশে তথা সমগ্র জাতির উন্নয়ন সম্ভব। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। দেশের একটি শিশুও শিক্ষার আলো থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। যদিও সরকার দেশের শিক্ষানীতিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর বলছে। কিন্তু সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করে একজন শিক্ষার্থী চলে যায়। কিন্তু প্রথম শ্রেণিতে যতজন শিশু ভর্তি হয় পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করে ঠিক ততজন শিশু বের হয় না। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত ১০০% শিশু প্রাথমিক শিক্ষাচক্র অর্থাৎ ৫ম শ্রেণি সমাপ্ত করতে পারে না।
দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ভৌগলিক অবস্থাও ভিন্ন। দারিদ্রতা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দুর্গম এলাকা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকার দারিদ্র এলাকার শিক্ষার্থীদের ড়িৎফ ভড়ড়ফ ঢ়ৎড়মৎধসব এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিস্কুট খাওয়াচ্ছে। সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করছে। শতচেষ্টা সত্ত্বেও ঝরে পড়ার হার নির্মূল করা যাচ্ছে না। তার মধ্যে বড় কারণ অভিভাবকদের সচেতনতা। বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের পুরুষ অভিভাবক সাধারণত ক্ষেত-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তার ফলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খোঁজ-খবর রাখতে পারেন না। ছেলেমেয়ে ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যায় কিনা সে খবরও রাখতে পারেন না। এজন্য মহিলা অভিভাবকদের অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের মাকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে হবে।
মায়ের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক খুবই গভীর। শিশুরা সাধারণত মায়ের কাছে থাকতে ভালোবাসে। তার মনের কথা, তার আবদার মায়ের কাছে পেশ করে। শিশুরা মায়ের সংস্পর্শে বেশি থাকে বলেই মায়ের উপদেশ শুনে থাকে। একজন ‘মা’ পারে তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে। যেহেতু অধিকাংশ ‘মা’-ই কম শিক্ষিত কিংবা অক্ষরজ্ঞানহীন। তাই সকল মায়েদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ তাদের বিদ্যালয়ে ডেকে আনতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে। তার সন্তান সর্ম্পকে খোঁজখবর রাখার জন্য পরামর্শ প্রদান করতে হবে। সন্তান যেন প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে সে বিষয়ে তাকে নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলে লেখাপড়া ভালো হবে সে বিষয়ে বোঝাতে হবে। লেখাপড়া ভালো করলে কি উপকার হবে সে সম্পর্কে মায়েদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এলাকার সকল শিশুর মায়েদের নিয়ে প্রতিমাসে একটি সভার আয়োজন করতে পারেন, তাহলে মায়েরা বেশি খুশি হবে, আনন্দিত হবে, উৎসাহিতও হবে। শিক্ষা বিষয়ক সচেতনা বাড়াতে হবে, গুরুত্ব বোঝাতে পারলে তা অনেক বেশি কার্যকর হবে শিশুর সুশিক্ষার জন্য। মা বুঝতে পারলে শিশুর সুশিক্ষিা পেতে সহজ হবে। সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি যতœশীলও হবেন। মা নিজেই বিদ্যালয়ে এসে তার সন্তানের খোঁজ-খবর রাখতে শিখবেন। তাহলে আর কোনো শিশু ঝরে পড়বে না। সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব হবে। নিরক্ষরমুক্ত ও শিক্ষিত জাতি গঠন সম্ভব হবে। মানসম্মত প্রাথমিক নিশ্চিত করণে মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
লেখক: উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট

বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক না ভোটার নিয়োগ হয়

ashifআসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক, টকশোর তুখোড় বক্তা, ক্ষুরধার এক লেখক-সাংবাদিক। লেখালেখি ও বাগ্মীতায় স্পষ্টবাদী, আপসহীন-সাহসী ও অনলবর্ষী এই ব্যক্তিত্ব,  বলেছেন, সমাজ-রাষ্ট্রের বিবিধ প্রসঙ্গে, যাতে রয়েছে নির্মোহ যুক্তি, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন কাজল রশীদ শাহীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আপনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন। এ সময়ে ‘জঙ্গিবাদ’ এর সূতিকাগার হিসেবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

আসিফ নজরুল : আমাদের এখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একটা বিরাট ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার যে প্রয়োজন, সেটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনোভাবেই মেটাতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী,  সেই প্রয়োজনটা তারা মেটাচ্ছে। বেসরকারি ইউনিভার্সটির কারণে বাংলাদেশের ছাত্ররা ভারতের, সাইপ্রাসের, হাঙ্গেরির মতো অখ্যাত ইউনিভার্সিটিতে চলে যাচ্ছে না।  আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে আমাদের এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। আমাদের এখানে অসংখ্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে থেকে যারা পাশ করেছে, তারা শুধু বাংলাদেশে না বিদেশেও অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে  সম্মানজনক চাকরি করছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের অসংখ্য নজির আমাদের এখানে রয়েছে। বিশেষ করে আপনাকে নর্থসাউথ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কথা বলতে পারি। এখানে কোনো কিছু না বোঝে না জেনে কিছু কিছু লোক ঢালাওভাবে যেভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করছে তা খুবই অদ্ভূত ঘটনা। কারণ আমি বিষয়টা পরিস্কার করে বলি বিদেশ বা আমেরিকায় যখন টেররিজমের ঘটনা ঘটে কখনো কি আপনি দেখেছেন ওই অস্ত্রধারী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত কখনো এমন বর্ণনা এসেছে? সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসীই তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

তার মানে আমরা ঘটনাটা যেভাবে উপস্থাপন করা দরকার, সেভাবে করছি না। তাহলে প্রশাসন বা মিডিয়ার কোনো দুর্বলতা আছে বলে আপনি মনে করছেন?

আসিফ নজরুল : মিডিয়ার বা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের দুর্বলতা থাকতে পারে। আপনি যদি সিম্পলি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ঘটনাটা দেখেন, তাহলেও বুঝবেন। ওখানে ২০-৩০ হাজার ছাত্র ছাত্রী আছে, তার মধ্যে ৫-৬ জনের জঙ্গি পরিচয় পাওয়া গেছে। এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কি জঙ্গিবাদ পড়ানো হয়? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান তাদের কী জঙ্গি হতে হয় এমন কোনো ক্রাইটেরিয়া আছে? তা হলে এই দোষটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আসবে কেন? যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দোষ আসে, তাহলে যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে, তাহলে কি সব জঙ্গিবাদের জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী?  তাহলে আমরা কী এখন বলব আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দাও? তাহলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির কে দোষ? আমার কাছে ঠিক পরিস্কার নয়, এ ধরনের অদ্ভুত কথা কেন বলা হয়?

এইগুলোকে তাহলে আপনি কী বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করেন?

আসিফ নজরুল : অবশ্যই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই জিনিসটা বুঝতে হবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেন তাদের জন্য এই সময়ে সবচেয়ে বড় পাঠশালা হচ্ছে ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেটে এক মাত্র সে স্বাধীন, এখানে সে কি পড়ছে কি দেখছে কেউ গাইড করার নেই। যদি কাউকে দায়ী করতে হয় তাহলে উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহর কথায় প্রথমে আসা উটিৎ। এটাকে রেস্ট্রিক্ট করার কোনো রকম ব্যবস্থা আমাদের নাই এবং নজরদারিরও কোনো সিস্টেম নাই এটাকে দায়ী করতে হবে। যারাই জঙ্গি হয়েছে তারা যে জঙ্গিবাদের দীক্ষা পেয়েছে আইএসের ওয়েবসাইটে গিয়ে হোক এবং বিভিন্ন প্রচারণের মাধ্যমেই হোক এটা তো তারা  ইন্টারনেটে পেয়েছে। ইন্টারনেটে যে একটা শিক্ষার্থীর এক্সেস সেটা মাদ্রাসা, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হোক সেটা কী বাবা, মা বা কোনো শিক্ষক কনট্রোল করে? যার হাতে ইন্টারনেট সেই কনট্রোল করে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পর্কে অভিযোগ উঠছে যে এইখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে পড়ানো হয় না, এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আসিফ নজরুল : মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাঠদান সরাসরি কোথায় আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের যে বিভাগগুলি আছে ওইখানে কয়টিতে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাঠদান আছে? আমার যখন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের ইতিহাস ও সংবিধানের আইন পড়ি তখন সংবিধানটি কীভাবে হয়েছে সেটি বলতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কথা আসে। আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধের পাঠদান এভাবে কোথায় পড়ানো হয়। আর মুক্তিযুদ্ধের চর্চা কেন্দ্র সম্পর্কে যদি বলা হয় তাহলে আমার জানামতে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর ও ১৫ আগস্ট পালন করা হয়। দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি উৎসবই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করা হয়।

আমি স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি উদাহরণ দিয়ে বলি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যে ক্লাবগুলো যারা পরিচালনা করে তারা সারা বছর ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে। যেমন বর্ষা মঙ্গল, গ্রীষ্মকালের উদযাপন অনুষ্ঠান, শরৎকাল উদযাপন অনুষ্ঠান ও বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান পালন করা হয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের মত একজন মানুষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কোনো কিছু না জেনে তিনি যে একটি কমেন্ট করলেন ‘যে মাদ্রাসার আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার কোনো চর্চা হয় না’ আমার এতে খুবই দুঃখ লেগেছে উনার মত একজন মানুষ যদি কোনো কিছু না জেনে বলেন তাহলে তো বহু লোক বলবে আমি এতেই সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছি।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মত একজন লোক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে যে ভুল ধারণা পোষণ করেন। তার ব্যর্থতা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরই বর্তায় তারা নিজেদের কার্যক্রমগুলো ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি।

আসিফ নজরুল : আমাদের প্রত্যেকটি প্রোগ্রাম সম্পর্কে সকল তথ্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। আমারা আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের ওয়েবসাইটে তথ্য দেয়, বিভিন্ন মিডিয়াগুলোতে নিয়মিত প্রেস রিলিজ পাঠাই। আমরা আর কী করব? একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানোর জন্য আর কী করতে পারে।

কিন্তু একটা সমস্যা তো রয়েই গেছে, যেটা দৃশ্যমানও। এখন আপনিই বলুন, এই অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য আপনার কী অভিমত?

আসিফ নজরুল : আমার কথা হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নির্বিচারে যারা এই সব বলছে তারা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বিদেশমুখী করতে চায় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বার্থ দেখছে আরেকটা অংশ হচ্ছে যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো কিছু জানার চেষ্টা না করে কোনো কিছু বলা। এছাড়া বাংলাদেশে একটি প্রবণতা দাঁড়িয়েছে কোনো কিছুকে সর্বজনীন রূপ দেওয়া গণহারে এই কাজ করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাদের ছেলেরা যে জঙ্গিবাদে জড়িত ছিল তাহলে কী আপনি বলবেন আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দেন? সর্বজনীন সমস্যার দায় কেনো শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তাবে? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এই সমাজে কী ধরণের নেতিবাচক ধারণা করা হয়, আপনাদের ভ্যাট আন্দোলন মনে আছে। দেখেন আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং শিক্ষক। ওখাকার শিক্ষার্থীরা কত টাকা দিয়ে পড়ে, ১৫-২০ টাকা টিউশন ফি দিয়ে। সরকার যখন ভ্যাট চাপানোর চিন্তা করল তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরই করল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন্তা করার কোনো সাহস নাই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী নানান ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা নীতি-নির্ধারনী মহল,  মিডিয়া ও শিক্ষাবিদসহ সমস্ত জায়গা থেকে আছে।

বিরাজমান সমস্যার জন্য রাজনৈতিক সঙ্কটকেই কি দায়ী বলে মনে করেন?

আসিফ নজরুল : অবশ্যই কোনো না কোনো ভাবে রাজনীতিটা ভূমিকা রাখে। শুধু গণতন্ত্র বলতে মনে হবে আমি ইলেকশনের কথা বলছি। আমি বলছি গণতন্ত্র মানেই শুধু জাতীয় ইলেকশন না। রেগুলার ডাকসু নির্বাচন করতে হবে, সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, ভিন্নমত চর্চাকারীরা ভিন্ন রাজনীতিবিদরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে পারে এ ব্যবস্থা করতে হবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের যে ভূমিকা, শিক্ষক সমিতিতে সাদা দলের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তারা সেটা রাখছে? নাকি তারাও বড্ডো বেশি আপসকামী হয়ে উঠেছেন?

আসিফ নজরুল : এ অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এটা ক্রমাগতভাবে হয়েছে। এরশাদের পতনের পর ক্রমাগতভাবে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ মিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে, তারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের টুটি চেপে ধরার চেষ্টা করেছে।  ক্রমাগতভাবে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরোধী কণ্ঠ ম্রিয়মান হয়েছে। এটার শোচনীয় অবস্থা চলছে এ যুগে এসে।  বর্তমানের যে চরম শোচনীয় অব্স্থা এটা একদিনে আওয়ামীলীগ করে নাই, দু’দলই ধারাবাহিকভাবে করেছে।

আপনি যেহেতু একজন শিক্ষক, তাই শিক্ষক রাজনীতি নিয়েই শেষ প্রশ্নটা করতে চাই। অন্যপন্থী শিক্ষকদের সুবিধা দিয়ে কিংবা ভিন্ন মতাবলম্বীরা সুবিধা নিয়ে তাদের মুখটা বন্ধ করে রেখেছে।  এমনকি শিক্ষকদের সমষ্টিগত দাবি-দাওয়া ব্যক্তিগত সুবিধার কাছে চাপা পড়ে গেছে। আপনি কি মনে করেন সাদা দলের শিক্ষকরা যথার্থ ভূমিকা পালন করছেন?

আসিফ নজরুল : একটা সময় ছিল অন্যপন্থী যারা শিক্ষক ছিল তাদের সুবিধা দিয়ে মুখটা বন্ধ করে দিত। কিন্তু এখন হয়েছে কী রাজনীতি একপাক্ষিক হয়ে গেছে এখন আর ঐটাও নাই। আপনাকে একটা উদাহরণ দেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাবের ইতিহাসে কখনো ইলেকশন হত না,  হত কী, কমিটি পরিবর্তন হত। একবার এক দল, পরের বার অন্যদলে দায়িত্বে থাকত। এবার দেখেন ঐটা পর্যন্ত পরিবর্তন করে নাই। আমি শুনেছি এমনভাবে বলা হয়েছে যে, এখন তো আমরাই সব জায়গায় যদি আমাদের কথা রাজি না হও ইলেকশন দিয়ে সব নিয়ে নিব আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩ থেকে ৫ বছরে যেই শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক নিয়োগ হয় না ভোটার নিয়োগ হয়, ভোটে জেতার জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৫ বছরে যে পরিমাণ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, যে পরিমাণ নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি এরকম ঘটনা পূর্বে কখনো ঘটেনি। এখন বিরোধী কণ্ঠ বা বিরোধী দলের কাউকে  সুযোগ সুবিধা দিয়ে মুখ বন্ধ করারও প্রয়োজন এখন আর নাই। দিনে দিনে অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন বিরোধী পক্ষ, বিরোধী দল, ভিন্ন মত তাদের বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিলেও চলে। সরকার পন্থী শিক্ষকদের, সরকার পন্থী ছাত্র সংগঠনের এখন ঐ জায়গায় চলে গেছে, এখন আর ঐটাও নাই আপনি যেটা বলেছেন এক সময় ছিল। কিন্তু এখন তা ধীরে ধীরে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে ৯১ পর থেকে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি মিলে দেশকে। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা এখন সবচেয়ে জঘন্যতম সময় পার করছি।

আমি ভাবতেই পারি না যে, বাংলাদেশে এমন হামলার ঘটনা ঘটছে: ড. ইউনুস

dr.younusঢাকা: ঢাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আমি মর্মাহত। এ ঘটনায় যারা স্বজনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমি প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

আমি ভাবতেই পারি না যে, বাংলাদেশে এমন হামলার ঘটনা ঘটছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে। আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে কিভাবে এমন একটি হিংস্র ঘটনার শুরু হলো। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই। যেখানে প্রত্যেকে তাদের মত স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারবে। আমরা সমতা আর মর্যাদার দিকে এগিয়ে যাওয়া বিশ্বের অংশ হতে চাই।

আমরা এই মূল্যবোধকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চাই। সকল জাতির প্রতি আমি আবেদন করছি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থায়ী করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে। হিংস্রতা বা সন্ত্রাস বা সেনাবাহিনী কোনোটাই কোনো রাষ্ট্র বা ধর্মকে ধরে রাখতে পারে না। আমরা এ অবস্থা প্রতিদিন দেখছি এবং অবশ্যই জাগতে হবে। বুঝতে হবে এই সত্য যে, একটি স্থানে ঘটে যাওয়া হিংস্র ঘটনার প্রভাব পড়ছে অনেক দূরের অঞ্চলেও। সেখানে এর প্রভাবে বীজ বপন হচ্ছে আরেক হিংস্রতার। আমি শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনুরোধ করছি, নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব অতিক্রম করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার চেষ্টা করুন। তাতে আমাদের সমাজ, শহর এবং পুরো পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি নাগরিক সমাজের নেতাদের কাছেও আবেদন করছি, রাজনৈতিক ও প্রাসঙ্গিক দলগুলোর উপরর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে তারা হিংস্রতা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা যেন আলোচনার টেবিলে বসে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নিয়ে আসে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter