ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মচারীর অকাল মৃত্যু হলে তার পরিবারের পেনশন ও আনুতোষিক নির্ধারণে শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনই চূড়ান্ত ভিত্তি—এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট যোগ করার কোনো সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: সরকারি চাকরিতে যোগদানে অঙ্গীকারনামা বাধ্যতামূলক, যেভাবে লিখবেন
শেষ বেতনই নির্ধারণের ভিত্তি
সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার—
- পেনশন
- আনুতোষিক (Gratuity)
- ল্যাম্প গ্র্যান্ট (ছুটির টাকা)
সবকিছু নির্ধারণ করা হয় মৃত্যুর দিন প্রাপ্ত সর্বশেষ মূল বেতন (Last Drawn Basic Pay) অনুযায়ী।
📌 উদাহরণ:
যদি কোনো কর্মচারীর বেসিক বেতন ১৭,৫২০ টাকা থাকে, তবে এই টাকাকেই চূড়ান্ত ভিত্তি ধরা হবে।
ইনক্রিমেন্ট কেন যোগ করা যায় না
প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
- মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে চাকরির সমাপ্তি ঘটে
- ভবিষ্যৎ ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার কোনো অধিকার আর থাকে না
- তাই কাল্পনিকভাবে অতিরিক্ত বেতন যোগ করার আইনগত ভিত্তি নেই
অর্থাৎ, মৃত্যুর পর নতুন করে কোনো ইনক্রিমেন্ট যোগ করে পেনশন বাড়ানোর সুযোগ বর্তমান বিধিতে নেই।
কীভাবে হিসাব হবে সুবিধাগুলো
🔹 মাসিক পেনশন:
শেষ বেতনের ৯০% ধরে হিসাব করা হয়, যার একটি অংশ পরিবার পায়
🔹 আনুতোষিক (Gratuity):
প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে নির্ধারিত হারে (বর্তমানে ২৩০ টাকা) প্রদান
🔹 ল্যাম্প গ্র্যান্ট:
অর্জিত ছুটির ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ
প্রশাসনিক অবস্থান
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ ২০২০ অনুযায়ী ELPC (Expected Last Pay Certificate)-এ উল্লেখিত মূল বেতনই চূড়ান্ত ধরা হয়।
তাদের ভাষায়, “মৃত্যুর পর নতুন করে কোনো ইনক্রিমেন্ট যোগ করার সুযোগ বর্তমানে নেই। ভবিষ্যতে সরকার আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করলে বিষয়টি পরিবর্তন হতে পারে।”
















