নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনঃনির্ধারণ (Pay Fixation) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন বেতন স্কেল, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল প্রাপ্তির পর বেতন নির্ধারণে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে—তা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা যায়। বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে দুটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি—‘পার্থক্য যোগ পদ্ধতি’ এবং ‘ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি’।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একই তথ্য ব্যবহার করেও দুই পদ্ধতিতে ভিন্ন ফলাফল আসতে পারে, যা কর্মচারীর চূড়ান্ত মূল বেতনকে প্রভাবিত করে।
পার্থক্য যোগ পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে পুরোনো স্কেলে ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে অর্জিত অতিরিক্ত অর্থ নতুন স্কেলের প্রাথমিক ধাপের সঙ্গে যোগ করা হয়।
উদাহরণ:
- পুরোনো স্কেলের বেসিক: ১০,২০০ টাকা
- ইনক্রিমেন্টসহ বেসিক: ১৩,০৫০ টাকা
- পার্থক্য: ২,৮৫০ টাকা
- নতুন স্কেলের প্রাথমিক বেসিক: ২১,০০০ টাকা
সেক্ষেত্রে নতুন বেতন হবে:
২১,০০০ + ২,৮৫০ = ২৩,৮৫০ টাকা
যেহেতু ২৩,৮৫০ টাকা স্কেলের নির্ধারিত ধাপে নাও থাকতে পারে, তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৫,২০০ টাকা বেসিক হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে।
ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি
এ পদ্ধতিতে প্রথমে একটি ফ্যাক্টর নির্ণয় করা হয়।
ফ্যাক্টর = ইনক্রিমেন্টসহ বেতন ÷ পুরোনো প্রারম্ভিক বেতন
অর্থাৎ,
১৩,০৫০ ÷ ১০,২০০ = ১.২৮০৪৯
এরপর নতুন স্কেলের বেসিককে ওই ফ্যাক্টর দিয়ে গুণ করা হয়।
২১,০০০ × ১.২৮০৪৯ = ২৬,৮৮০ টাকা
নিকটবর্তী উচ্চতর ধাপ অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে বেসিক দাঁড়াতে পারে ২৭,০০০ টাকা।
তুলনামূলক চিত্র
| পদ্ধতি | গণনাকৃত বেসিক | সম্ভাব্য চূড়ান্ত বেসিক |
|---|---|---|
| পার্থক্য যোগ পদ্ধতি | ২৩,৮৫০ টাকা | ২৫,২০০ টাকা |
| ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি | ২৬,৮৮০ টাকা | ২৭,০০০ টাকা |
বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই তথ্যের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে প্রায় ১,৮০০ টাকা বেশি বেসিক নির্ধারিত হতে পারে।
বেতন ফিক্সেশন কী?
বেতন ফিক্সেশন হলো কোনো কর্মচারীর নতুন স্কেল, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা নতুন নিয়োগের পর তার মূল বেতন পুনঃনির্ধারণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
সাধারণত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বেতন ফিক্সেশন করা হয়—
- নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হলে
- পদোন্নতি হলে
- উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে
- নতুন নিয়োগের সময়
- বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হলে
অনলাইনে ফিক্সেশনের নিয়ম
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
প্রধান ধাপগুলো হলো—
- iBAS++ পোর্টালে লগইন
- প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান
- অফিস আদেশ ও প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র আপলোড
- স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন নির্ধারণ
- বেতন নির্ধারণী বিবরণী প্রিন্ট
- হিসাবরক্ষণ অফিসে যাচাইয়ের জন্য দাখিল
- ভেরিফিকেশন নম্বর সংগ্রহ
বিশেষজ্ঞদের মত
বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে তা সম্পূর্ণভাবে সরকারি বিধি, অর্থ বিভাগের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। তাই কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে পদ্ধতি নির্বাচন করতে পারেন না। তবে উদাহরণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।













