সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসা ভাতা এবং শিক্ষা ভাতার সম্ভাব্য পরিবর্তন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত খসড়ায় সব গ্রেডের জন্য একই হারে ইনক্রিমেন্ট না রেখে গ্রেডভেদে পৃথক হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে এসব বিষয় এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। সরকারিভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবই চূড়ান্ত নয়।
আরো পড়ুন: নবম পে-স্কেল: দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় সুপারিশ, ১ জুলাই থেকে কার্যকরের পরিকল্পনা
গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ওপর সাধারণভাবে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। তবে প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে গ্রেড অনুযায়ী ইনক্রিমেন্টের হার ভিন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী—
- ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে: ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট।
- পঞ্চম গ্রেডে: ৪ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট।
- তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে: ৩.৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট।
- দ্বিতীয় গ্রেডে: ২.৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট।
- প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্টের হার এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন বেশি হওয়ায় একই হারে ইনক্রিমেন্ট দিলে টাকার অঙ্কে ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘমেয়াদে বেতন বৈষম্য নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের ব্যয় সামঞ্জস্য রাখতে এই পদ্ধতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় খসড়ায় ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এটি বর্তমান ভাতার তুলনায় বেশি হলেও কমিশনের মূল সুপারিশের চেয়ে কম। তবে চূড়ান্ত হার গেজেট প্রকাশের আগে পরিবর্তিত হতে পারে।
শিক্ষা ভাতা হতে পারে ১ হাজার ৫০০ টাকা
সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা বাড়ানোরও প্রস্তাব রয়েছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ ছিল ২ হাজার টাকা। তবে খসড়া পরিকল্পনায় ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কতজন সন্তানের জন্য এই ভাতা প্রযোজ্য হবে, সব গ্রেডে একই হার থাকবে কি না এবং কার্যকর হওয়ার নিয়ম কী হবে—এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে নবম পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
কেন ভাতা কমানোর প্রস্তাব
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে শুধু মূল বেতনই নয়, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, পেনশনসহ বেতননির্ভর অন্যান্য সুবিধার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
এ কারণে সরকারের রাজস্ব আয়, বাজেট সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশনের কিছু সুপারিশ সংশোধনের আলোচনা চলছে। মূল বেতন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু ভাতা তুলনামূলক কম নির্ধারণ এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পেতে পারেন
প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা কার্যকর হলে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন। তবে প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে প্রতিটি গ্রেডের নতুন মূল বেতন, ধাপ, সর্বোচ্চ বেতনসীমা এবং অন্যান্য ভাতার চূড়ান্ত কাঠামোর ওপর।
গেজেট প্রকাশের আগে কিছুই চূড়ান্ত নয়
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের আগ্রহ থাকলেও ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি—সবকিছুই এখনও প্রস্তাব ও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।
সরকারিভাবে গেজেট বা অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে এসব প্রস্তাব পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিলও হতে পারে। তাই চূড়ান্ত তথ্য জানতে সরকারি গেজেট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।









