কুমিল্লা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হলেও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি ছুটির প্রথম দিন শনিবারও উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে বিদ্যালয় খোলা রাখতে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখা থেকে গত ২১ মে জারি করা এক পরিপত্রে ২৩ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পরও চৌদ্দগ্রামে বিদ্যালয় খোলা রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলার পাশাকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, দেশের অন্যসব স্থানে সরকারি ছুটি কার্যকর হলেও শুধুমাত্র স্থানীয় নির্দেশনার কারণে চৌদ্দগ্রামের বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখতে হয়েছে। তারা বিষয়টিকে সরকারি নির্দেশনা অমান্যের সামিল বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনের কপি শনিবার বিকেল ৪টার পর তার হাতে পৌঁছেছে।
তবে কুমিল্লার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুনসুর আলী চৌধুরী উপজেলা কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি। বরং শুক্রবার রাতেই সংশ্লিষ্টদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছুটির প্রজ্ঞাপনের কপি পাঠানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “কোনো কর্মকর্তা যদি নির্দেশনাটি খেয়াল না করে থাকেন, সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা।”
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সমাজে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও বিদ্যালয় খোলা রাখার কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।










