বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বকাপের স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ১৫ লাখ পতিতা…

এস কে দাসcabdriver-watching-novela-615_37557 : ১২ জুন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট ১ মাস ধরে চলবে। ব্রাজিলে যৌন ব্যবসা বৈধ। ফলে এ ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। ব্রাজিলের অন্ধকার গলিতেই শুধু নয়, এই বিশ্বকাপে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় থাকবেন ১৫ লাখ দেহপসারিনি। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো ছাড়াও রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পতিতা ব্রাজিলে ইতোমধ্যে ভীড় জমাতে শুরু করেছে। পর্যটকদের কাছ থেকে ডলার খসাতে প্রস্তুত রয়েছে পতিতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এক পর্যটন খাতেই ব্রাজিলের অর্থনীতিতে যোগ হবে ৩০৩ কোটি ডলার। বিশ্বকাপে ব্রাজিলে ভ্রমণ করবেন ৩৭ লাখ বিদেশি পর্যটক। প্রত্যেকে গড়ে চারটি করে ম্যাচ দেখবেন। সব মিলিয়ে ব্রাজিলে অবস্থানকালে প্রত্যেকের খরচ হবে প্রায় দুই হাজার ৪৮৮ ডলার।

ব্রাজিল হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র। এছাড়াও জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। দেশটিতে বসবাসকৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি। ব্রাজিলের সাথে চিলি ও ইকুয়েডর ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার সকল দেশেরই সীমান্ত-সংযোগ রয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হিসেবে রাশিয়া, কানাডা, চীন, ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ব্রাজিলের অবস্থান।

দেশটিতে পাহাড়, পর্বত, সমভূমি, উচ্চভূমি, চরণভূমি প্রভৃতি বৈচিত্রের ভূভাগ বিদ্যমান। তিন লাখ ৪০ হাজার কয়েদী ধারণে সক্ষম ব্রাজিলের কারাগারগুলোতে বর্তমান সময়ে পাঁচ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি কয়েদী রয়েছে।

১৮২২ সালে ব্রাজিল, পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীন হবার পর একজন সম্রাট ব্রাজিল শাসন করতেন। ১৮৮৮ সালে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। ব্রাজিলে বিভিন্ন জাতের লোকের বাস। দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র পর্তুগিজ উপনিবেশ। ১৬শ শতকে পর্তুগিজদের আগমনের আগে বহু আদিবাসী আমেরিকান দেশটির সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।

ব্রাজিল নামটির বুৎপত্তি পরিষ্কার নয়। ঐতিহ্যগতভাবে ধারণা করা হয় ‘ব্রাজিল’ নামটি এসেছে ব্রাজিলউড থেকে, যা এক প্রকার কাঠ উৎপাদনকারী গাছ। ১৬ শতকের দিকে ব্রাজিল থেকে নাবিকরা ইউরোপে এই কাঠ রপ্তানি করতো।

ব্রাজিলে প্রায় আড়াই হাজার বিমানবন্দর ও বিমান অবতরণের স্থান রয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দলটি হচ্ছে ব্রাজিল। এ পর্যন্ত দলটি পাঁচবার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) বিশ্বকাপ জয় করেছে যা একটি রেকর্ড। ব্রাজিলের জাতীয় দল তাদের প্রথম খেলাটি খেলে ১৯১৪ সালে। ব্রাজিল দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৭০ সালের পর দীর্ঘ ২৪টি বছর বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি, এমন কী ফাইনালেও উঠতে পারেনি।

প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশির বসবাস এখন ব্রাজিলে, যাদের বেশির ভাগই নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে। প্রধান বাণিজ্যিক নগরী সাও পাউলো, রাজধানী ব্রাসিলিয়া, রিও দে জেনেইরো সহ পুরো ব্রাজিল জুড়ে এমনকি দেশটির অনেক প্রত্যন্ত এলাকাতেও আজ বাংলাদেশিদের বসবাস। দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের গড় মাসিক আয় এক লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত ন্যাশনাল পার্ক। আমাজান বনের পাশে হওয়ায় ন্যাশনাল পার্কে রয়েছে হরেক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য। এই পার্কের বাসিন্দাদের মূল পেশা হলো মাছ ধরা। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো পুরো পার্কে নেই কোনো সোজা রাস্তা। আঁকাবাঁকা মাটির রাস্তা পেরিয়ে পার্কের সৌন্দর্য অবলোকন করতে হয়। এটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও পর্যটকরা অনায়াসেই বন্য আমাজান স্বাদ নিতে পারবেন।

আমাজানের গভীর জঙ্গলের ভেতর বয়ে যাওয়া একটি নদীর নাম বেলেম। ৯৮৫ মাইল দীর্ঘ এই নদীটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ নদী। তবে নদীটিকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করতে দেশটির সরকারকে টানা পাঁচ বছর কাজ করতে হয়েছে। এসময় নদীর ধারের অনেক আদিবাসী গোষ্ঠি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নতুন করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করতে কাটা হয়েছে অনেক গাছ। তারপরেও জঙ্গলের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে সরকার নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বেলেম নদীতে নৌকা ছাড়া অন্য কোনো বাহন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার।

বেলেঁ উত্তর ব্রাজিলের শহর। বেলেঁ একটি পর্তুগিজ শব্দ যার অর্থ বেথলেহেম। নিরক্ষরেখার কাছে অবস্থিত এই শহরটি পারা রাজ্যের রাজধানী, এবং নিম্ন আমাজন নদীর প্রধান বন্দর। এ শহরে প্রায় ১৪ লাখ লোকের বসবাস। ১৭শ শতকের শুরুর দিকে পর্তুগিজেরা বেলেঁ প্রতিষ্ঠা করে। ব্রাজিলের কার্নিভাল হচ্ছে ব্রাজিলের একটি বাৎসরিক উৎসব, যা ইস্টারের চল্লিশ দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়। কার্নিভাল ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয়় ছুটির দিন। এই দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দেশের কাজকর্ম প্রায় এক সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই কার্নিভাল মূলত ১৮৫০ সাল থেকে শুরু হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছাত্রীদের পর্নো ভিডিও দেখাতেন শিক্ষিকা!

ডেস্ক: স্কুল শিক্ষিকা ছাত্রীদের দেখাতেন পর্নো ভিডিওর ক্লিপ৷ এছাড়া নিজের মোবাইল থেকে ছাত্রীদের অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথাও বলাতেন৷ হরিয়ানার খোল অঞ্চলের ধবানা গ্রামের রাজকীয় বরিষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও। তারা স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন। এদের মধ্যেই এক শিক্ষক রাতের অন্ধকারে গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে৷

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার এক শিক্ষক এক মহিলার শ্লীলতাহানিও করেন৷ এই মামলা দায়ের হওয়ার পর পঞ্চায়েত বসলে গোটা ঘটনা সামনে আসে৷ গোটা দিন গ্রামবাসীরা স্কুলের শিক্ষিকাসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে স্কুলে ধরণা দেন৷ এরপরই ছাত্রীদের কাছ থেকে চাঞ্ল্যকর তথ্য পান গ্রাম পঞ্চায়েত৷

ছাত্রীরা পঞ্চায়েতে জানায়, শিক্ষকেরা তাদের সঙ্গে অভদ্র ব্যবহার করতেন এবং খারাপ শব্দ ব্যবহার করে অশালীন আচরণ করতেন৷ ছাত্রীদের অশ্লীল ভিডিও ক্লিপ দেখাতেন। এদের মধ্যে একজন শিক্ষক ছুটির সময় ছাত্রীদের ডেকে নোংরা গল্প করতেন। ছাত্রীদের অভিযোগ- স্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষিকা ছাত্রীদের নিয়মিত নোংরা ভিডিও দেখাতেন৷

গ্রাম পঞ্চায়েত এর আগেও দুইবার স্কুলে এই সম্বন্ধে অভিযোগ করেন এবং গ্রামের এক সাফাই কর্মচারীও স্কুল প্রধানের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷ তবে আশ্বাস মিললেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি স্কুলের তরফ থেকে৷ বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত ডাকেন৷ গ্রামবাসীদের দাবী সব শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হোক৷ গ্রামবাসীরা জানান যদি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে তারা স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেবেন৷ খোল থানার অধিকর্তা সুরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, শিক্ষা বিভাগ এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রশ্নপত্র ফাস! মেধাশুন্য হওয়ার পথে দেশ। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন

এস কে দাস: বুধবার একটি বাংলা কাগজের বরাতে জানা গেল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসহ অধিদফতরের দৈনিক মজুরিভিত্তিক এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ তাকে আটক করে। আরেকটি পত্রিকা খবর দিয়েছে মঙ্গলবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার হিসাব বিজ্ঞান ২য় পত্রের প্রশ্ন গত রোববার ফেসবুকের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফাঁসকৃত ওই প্রশ্নেই গতকাল পরীক্ষা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সারা দেশে প্রায় প্রতিদিনই সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শতশত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর দেখে মনে হয় দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎসব চলছে, যা বন্ধ করার উপায় কারো জানা নেই। আবার জানা থাকলেও কেউ এই অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে চাচ্ছেন না বা সাহস পাচ্ছেন না। সমাজে এই অভিযোগও আছে যে কিছু স্বনামধন্য স্কুল-কলেজও অসৎ কর্মচারীদের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করিয়ে এনে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় ভালো ফল করাচ্ছেন। এর সঙ্গে অনেক শিক্ষকও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রশ্ন ফাঁসের খবর প্রায়ই শোনা যায়।

শিক্ষায় এ অবস্থা দেখে বাংলাদেশীদের মেধার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ভয় লাগছে। ফাঁস করা প্রশ্নপত্র দিয়ে মেধাবী হওয়ার ও চাকরি পাওয়ার যে প্রবণতা আমাদের মধ্যে তৈ্রি হয়েছে তা দেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বলে আমরা মনে করি। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে, মেধাবী নাম কুড়িয়ে, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না সেখানে গিয়ে কী মেধার পরিচয় দেবে তা নিয়ে উদ্বেগ হচ্ছে। আবার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে চাকরি পেয়ে কী কাজ দেখাবে তাও সবার জানা।

তারপরও এই চর্চা চলছেই। অসৎ উপায়ে ভালো ফল করতে চাওয়ার এই প্রবণতা শুরুতেই আমাদের দেশকে একটা দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত করছে, যার কবল থেকে উদ্ধার পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। যে শিক্ষার্থীরা অসৎ উপায়ে ভালো ফল করছে বা যে মানুষগুলো অসৎ উপায়ে চাকরি পাচ্ছে তারা আর কোনো দিন দুর্নীতির কবল থেকে বেরুতে পারবে বলে মনে হয় না।

আর এই অবস্থা চলতে থাকলে এই দেশে কখনও কোনা বুদ্ধিজীবি তৈরি হবে না। কোনো ভাল রাজনীতিবীদ তৈরি হবে না। এর থেকে আমরা মুক্তি চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আমাদের চাওয়া।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মেয়েরা কেন গোপন করে নিজের আসল বয়স?

আপনার বয়স কত? আপনি যদি একজন পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো এই প্রশ্নের সঠিক জবাবটি মূহূর্তের মধ্যেই দিয়ে দেবেন। আর যদি আপনি একজন নারী হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো আপনি উত্তরই দেবেন না এই প্রশ্নের, কিংবা ভুল উত্তর দেবেন। আর যদি সঠিক উত্তর দেন তাহলে নিঃসন্দেহে বেশ কিছুক্ষণ ভেবেচিন্তে দেবেন উত্তরটি। কিন্তু কেন? অধিকাংশ নারীরাই কেন নিজের বয়স লুকাতে চান? এই বিষয়টি 1অনেকের কাছেই হয়তো একটি রহস্য! আসুন জেনে নেয়া যাক নারীদের বয়স লুকানোর পেছনের রহস্যটি।

বিয়ের বাজারে দাম পাওয়া

আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারীরাই “বিয়ের বাজারে” দাম পেতে চান। আর আমাদের সমাজের পুরুষদের কাছে বিয়ের বাজারে কম বয়সী নারীদেরই জয়জয়কার। আর তাই বিয়ের বাজারে একজন দামী পাত্রী হয়ে ওঠার জন্য অনেক নারীই নিজের বয়স লুকিয়ে রাখেন। এমনকি খুব কাছের বন্ধুবান্ধবের কাছেও নিজের সঠিক বয়সটা বলেন না অনেকেই।

কম বয়সী দেখানো

অনেক নারীই মনে করেন যে বয়স কম বললে তাদেরকে দেখতেও কম বয়সী দেখাবে। আর এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে অনেক নারী বয়স লুকিয়ে থাকেন।

পুরুষের মন পাওয়া

পুরুষের মন পাওয়ার ইচ্ছা তো সব নারীরই গোপন মনবাসনা। আর তাই তারা ভাবেন নিজের বয়স কমিয়ে বললে পুরুষের মন পাওয়া বেশ সহজ হবে এবং পুরুষের কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় হওয়া যাবে। আবার অনেক সময় নিজের চাইতে বয়সে ছোট পুরুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্যও নারীরা সঠিক বয়সটা বলতে চান না।

পরিবারের কাছ থেকে শিক্ষা

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত বিষয় হলো মা-খালারা তাদের মেয়ে সন্তানদেরকে আসল বয়স বলতে মানা করে দেন। তাদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে নানান রকম কুসংস্কার কাজ করে। আর তাই মেয়েরা বড় হতে হতে এই বিষয়টি নিজের মনে গেঁথে রেখে দেয়। ফলে তারা তাদের সঠিক বয়সটি কাউকে বলতে চায় না।

চাকরী পাওয়া

চাকরী পাওয়ার জন্য বয়স সীমা নির্ধারণ করা থাকে। আর এই বয়স সীমার ভেতরে থাকার জন্য অনেক নারী নিজের প্রকৃত বয়সটি লুকানোর চেষ্টা করেন। অবশ্য চাকরী পাওয়ার আশায় অনেক পুরুষও নিজের বয়স লুকান।

বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়

অধিকাংশ নারীর মনে সাধারণ একটি ফোবিয়া থাকে। আর তা হলো বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়। বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে নারীরা নানান রকম রূপ চর্চা, প্লাস্টিক সার্জারী এবং যোগ ব্যায়াম করে থাকেন। আর তাই পাছে লোকে বুড়ো ভাবে তাই নিজের সঠিক বয়সটাও বলতে চান না মানুষকে।

হিংসা

নিজের পরিচিত কোনো কম বয়সী সুন্দরী নারীর পাশে থাকলে অধিকাংশ নারীই নিজের বয়স লুকাতে চায়। হিংসা থেকেই হোক আর অনিরাপত্তা থেকেই হোক এই প্রবণতাটি কম বেশি সব নারীর মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরীক্ষার ১৪ ঘন্টা আগে প্রশ্নপত্র ফেইসবুকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলছে এইচএসসি ২০১৪। এবারের এইচএসসি-র শুরু থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দাবি ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি গুজব’! বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন ফাঁস যেন এক স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। কমলমতির পিএসসি কিংবা জেএসসি বা এসএসসি থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আমলা নিয়োগের পরীক্ষা hsc_201449803_0পিএসসি; এ অভিযোগ আর বিতর্কের উর্ধ্বে উঠতে পারছে না। বিশেষজ্ঞ জনেরা মনে করছে জাতিকে মেধাশূণ্য করার জন্য একটা বিশেষ মহল প্রশ্ন ফাঁসের কাজটি নিবিঘ্নে করে যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, সরকারের যোগসাজশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি লবি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার সাথে জড়িত।
প্রশ্ন ফাঁসে একটি বিশেষ লবি বা মহল করলেও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বিরাট অংশ প্রশ্ন ফাঁসের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত থাকতো। কিন্তু এবারে প্রশ্ন ফাঁসের ভয়াবহতা যেন অতীতের সব রেকর্ডকে হার মানিয়েছে।মোবইল মেসেজ বা ফোনে সংকেতের মাধ্যমে আগে সাধারণত প্রশ্ন ফাঁসের কাজগুলো করলেও এবারে সম্পূর্ণ রাখ-ঢাক না রেখে সরসরি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে।
অভিভাবক, শিক্ষক, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীসহ সচেতন নাগরিক সমাজ একে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখেছেন।
ফেইসবুকে এইচএসসি প্রশ্নপত্র বা সাজেশন্স লিখে সার্চ দিয়ে কয়েকটি পেইজ ঘুরে দেখা গেছে পরীক্ষা শুরুর অšত্মত ১৪ ঘন্টা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রশ্নগুলো দেয়া হয়েছে। কোন কোন পেইজে আবার বলা হয়েছে কমেন্ট করুন, ইনবক্সে প্রশ্ন পাঠানো হবে।
সবার জন্য উন্মক্ত সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে যদি এভাবি প্রশ্নপত্র ফাঁসের এমন নজির পাওয়া যায় তাহলে বা¯ত্মবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা কতটা ভয়বহ তা সহজেই অনুমেয়।
রাজধানীর একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর অভিযোগ করে বলেন, সারা বছর না পরেও শুধুমাত্র পরীক্ষার আগের রাত্রে প্রশ্নপত্র পেয়ে এ প্লাস পাবে আমাদের অনেক অছাত্র বন্ধুরা। অথচ পরীক্ষার আগে সারা বছরে ওদের ক্লাসের পারফরম্যান্স ছিল জিরো। তাহলে এত কষ্ট করে আমাদের পড়ে লাভ কী?
সচেতনমহল শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রশ্ন ফাঁসের মত নীল দংশন থেকে জাতিকে রক্ষা করতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কীভাবে সন্তানকে টাকার ব্যবহার শেখাবেন

স্বরুপ দাস: সাধারণত ছোটবেলায় শিশুরা যা শিখে ভবিষ্যতে সেভাবে চলাফেরা করে। এজন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার উচিত ছোটবেলা থেকে সন্তানদের সব বিষয়ে বিস্তারিত শেখানো এবং সে অনুযায়ী চলাফেরা করার অভ্যাস গড়ে তোলা।মানুষের জীবনে টাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দরভাবে জীবনযাপন ও সম্মান প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য টাকার কোনো বিকল্প নেই।
এজন্য ছোটবেলা থেকেই শিশুদের টাকার উপযুক্ত ব্যবহার ও টাকা উপার্জনের উপায় সম্পর্কে শেখনো উচিত। এর জন্য ভালো কয়েকটি উপায় রয়েছে।
আপনি আপনার শিশুকে তিন-চারটি খেলনা ব্যাংক কিনে দিন। আপনি আপনার শিশুকে নিয়মিত দু-একটি টাকা দিন এবং তা ব্যাংকে রাখার অভ্যাস করান। তাতে আপনার সন্তানও আনন্দ পাবে এবং এর মাধ্যমে তাকে কীভাবে টাকা জমাতে হয় সেটি শেখানো যাবে।
এছাড়া আপনার শিশু যখন কোনো জিনিষ কিনতে চায় তখন তাকে বুঝাবেন এটি তার আছে। তার আর কেনার প্রয়োজন নেই বা অল্প হলেই চলবে। এতে আপনার শিশু কোনো জিনিষের প্রয়োজনীয়তা ও অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারবে।
আপনার শিশুকে আপনি দান করতে শেখান। বড় হলেও যেন তার মধ্যে এ মহৎ গুণটি থাকে। সে যেন বুঝতে পারে দান করা মহৎ গুণগুলোর মধ্যে সেরা একটি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

এস কে দাসmarch-logo: আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৪২টি বসন্ত পার করে এবারের স্বাধীনতা দিবস পা রাখল ৪৩তম বছরে। এ বছর স্বাধীনতা দিবস একটি ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও বহু আন্দোলনের পর একাত্তরে পরাজিত শক্তি যুদ্ধাপরাধীচক্রের রায় সম্পন্ন ও কার্যকরের প্রতিক্ষায় জাতি। এবার সাম্প্রদায়িকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করছে জাতি। এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে অন্য যুদ্ধাপরাধীদের মামলা। ফলে এবারের স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির কাছে এসেছে নবঅনুপ্রেরণায়। পুরোপুরি না হলেও জাতি এবার আংশিক কলঙ্কমুক্ত একটি স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করছে। এখন দ্রুত একাত্তরের পরাজিত শক্তি ঘাতক দালাল বাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত হবে— এমনটাই সবার প্রত্যাশা। একই সঙ্গে প্রত্যাশা জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদমুক্ত একটি প্রগতিশীল সমৃদ্ধ সমাজ।

স্বাধীনতার এই দিনে বাঙালি জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো তিন লাখ মা-বোনকে, যাদের আত্মত্যাগ না থাকলে দাসত্বের শৃঙ্খল ছিন্ন করে বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না। একই সঙ্গে স্মরণ করা হবে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার চার সহচর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এইচএম কামরুজ্জামানকে; যারা স্বাধীন বাংলাদেশেই কারাবন্দি অবস্থায় ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদিন আরও স্মরণ করা হবে ২৫ মার্চ কালরাতে নিহত হাজার হাজার মানুষ এবং ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের; এ দেশীয় রাজাকার, আল বদর, আল সামসের সহযোগিতা ও প্ররোচণায় যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে।

পৃথিবীর সবদেশেই স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন আনন্দের বিষয়; কিন্তু বাংলাদেশে এ আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে গভীর বেদনা। ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তা পাঠানোর আগেই ঘটেছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এদিন ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনী; কিন্তু বাঙালির মাথা নোয়ানোর কোনো ইতিহাস নেই। একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাঙলার আপামর জনতা। দীর্ঘ নয় মাসের ব্যাপক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা; ১৬ ডিসেম্বর যার চূড়ান্ত পরিণতি।

এই যে এতো রক্ত, এতো ত্যাগ— তারপরও বাঙালি জাতি ৪২টি বছর ধরে কলঙ্কের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতারা সেদিন পাক হানাদারদের সঙ্গে নিয়ে বাঙালি নিধনে রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠেছিল। অথচ সেই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীরাই পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারি হয়ে তাদের গাড়িতে উড়িয়েছিল স্বাধীন দেশের লাখো শহীদের রক্তরঞ্জিত পতাকা। জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য এটা ছিল চরম লজ্জার ও বেদনার। একাত্তরে যে তারুণ্যের উদ্দীপনায় পাক হানাদারেরা পরাজিত হয়েছিল, নবপ্রজন্মের সেই তরুণরাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আজ ঐক্যবদ্ধ। এখন দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করে বিশ্ব দরবারে বাঙালি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পরিচয় দেবে— এটাই হবে এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।

একাত্তরে স্বাধীনতার যে বীজমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিলোপ— সে স্বপ্ন এখনও অধরাই রয়ে গেছে। এখনও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বেড়ে চলেছে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য। নতুন করে আবারও উত্থান ঘটেছে সাম্প্রদায়িক শক্তির। আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির ছদ্মাবরণে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ৪৩তম স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হবে এসব আবর্জনা দূর করে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ ও সমাজ প্রতিষ্ঠা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। এদিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। সরকারি-বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। ডাক বিভাগ প্রকাশ করেছে বিশেষ ডাকটিকিট। মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন উপানালয়ে আজ হবে বিশেষ প্রার্থনা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো হবে আলোকসজ্জা।

কর্মসূচি

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদ্যাপন উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। রাজধানীসহ প্রতিটি জেলা শহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পর্যায়ক্রমে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিদেশি কূটনীতিক এবং সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন শহীদদের প্রতি। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ। প্রধানমন্ত্রী এতে প্রধান অতিথি থাকবেন।

এছাড়া বিভিন্ন শ্রমজীবী, পেশাজীবী এবং রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিশাল আয়োজন। রাজধানী থেকে দূর মফস্বল পর্যন্ত সমগ্র জাতি একসঙ্গে গেয়ে উঠবে ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি…’।

– See more at: http://www.dailybartoman.com/index.php?page=details&nc=5&news_id=23710#sthash.JWBKaoS6.dpuf

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পে কমিশনের সিদ্ধান্তে একমত নন অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা!

এস কে দাস: বেতন ভাতা বাড়লে, বাড়বে উৎপাদনশীলতা এবং কমবে দুর্নীতি এমনটায় ভাবছে সরকার গঠিত পে-কমিশন। তবে এর সঙ্গে মোটেও একমত নন দেশের অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা। একমাত্র আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই দুর্নীতি কমানো সম্ভব বলে মত তাদের। পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বেতন ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গেও দ্বিমত রয়েছে তাদের।

জাতীয় বেতন কাঠামোভুক্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারনে গত নভেম্বরে ১৭ সদস্যের বেতন ও চাকরি কমিশন গঠন করে সরকার। তবে চূড়াšত্ম প্রতিবেদন তৈরি করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে পে এ্যান্ড সার্ভিসেস কমিশন। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের সদস্য সংখ্যার কথা মাথায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো তৈরি হবে বলে জানানো হলেও এ সিদ্ধান্তে সাথে একমত নন সমাজ বিজ্ঞানীরা।

ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বেতন কাঠামোতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা আনা ঠিক নয়। আমাদের দেশে এর অনেক কারণ। বাংলাদেশের বেতন কাঠামো অনেক কম। দারিদ্রের কারণে দুর্নীতি, এরপর পাশাপাশি প্রাচুর্যের কারণেও দুর্নীতি বাড়ছে। বেতনটাকে যদি একটু পর্যাপ্ত করা যায়, তাহলে তার দুর্নীতি করার প্রয়োজনটা হবে না কিন্তু প্রয়োজন নেই বলে যে সে দুর্নীতি করবে না এমনটা ভাবারও কারণ নেই।’

বেতন বাড়ানো হলে সরকারি কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে বলে মনে করা হলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন এর জন্য আসলে প্রয়োজন সুশাসন। বি আইডিএস’র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘পে কমিশন করে বড় রকমের জাম্প দেয়া হয়, তখন সার্বিকভাবে মনে করে অনেকের মতো সবারই বেতন বেড়ে গেছে। তখন এটা সার্বিকভাবে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে দৈনন্দিন জীবনে। সরকারের বেতন বৃদ্ধির ফলে যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিম্ন আয়ের কর্মজীবীরা আছেন তাদের উপরও একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বেতন বাড়িয়ে কোন ভাবেই ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। একমাত্র ঘুষের জন্য যে সকল আইন আছে, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এটা কমানো সম্ভব বেতন স্কেল বাড়লেই যে ঘুষ ও দুর্নীতি কমে যাবে বলে যা মনে করা হচ্ছে তা কখনোই কমবে না।’

বর্তমানে দেশের ১৩ লাখেরও বেশি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবন মান উন্নয়নে নতুন বেতন কাঠামো কতটুকো ভুমিকা রাখবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একুশ সারা বিশ্বের মানুষের প্রেরনা

এস কে দাস : একুশে ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও       আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস Shaheed_minarহিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফালগুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।একুশে ফেব্রুয়ারি তাই প্রত্যেক বাঙালির কাছে রক্তাক্ত পবিত্র অঙ্গিকার। সারা বিশ্বের সব মানুষের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস। বাঙালির গর্বিত অর্জন এ একুশে ফেব্্রুয়ারি। কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম এই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ৬ নারীসহ বিভিন্ন ভাষাভাষী ১০ ব্যক্তিকে নিয়ে গঠন করেন ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাক্সগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড নামের সংগঠন। এ সংগঠনের আবেদনের সূত্র ধরে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে তৎকালীন সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারি পর্যায়ে এ পদক্ষেপের প্রতি সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এ ঘোষণা আদায়ে সে সময়ে ইউনেস্কো ভাষা বিভাগে দায়িত্বরত প্রোগ্রাম ¯েপশালিস্ট আনা মারিয়া মাইলফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাঙালির সম্মান কুড়িয়েছেন।
ইউনেস্কোর সেই ঘোষণার সুবাদে বাঙালির মহান একুশে ফেব্রুয়ারির গৌরবের সুর ৫৪ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরণিত হচ্ছে। একুশে আজ কেবল বাঙালির নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকে অনুপ্রাণিত করছে না, বরং তা পৃথিবীর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা লালন ও সংরক্ষণে উৎসাহ যোগাচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ সারা বিশ্বের সব মানুষের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মহান বিজয়ের দিন আজ

অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা, বহু পটভূমি, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধিকার আদায়ের দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ঘোর অন্ধকার-অমানিশা কাটিয়ে বাংলার চিরসবুজ জমিনে রক্তে রাঙানো লাল-সবুজ পতাকার জন্ম দেয়ার মাস ডিসেম্বর।

১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয়ের দিন।  

আমাদের অনেক হতাশার মাঝেও আমাদের আশার জায়গা মুক্তিযুদ্ধ। সব ব্যর্থতা আর হতাশার মধ্য দিয়ে বিশ্বায়নের এ যুগে দেশটি যে এখনও এগুচ্ছে। তার একটি কারণ হল সচেতন তরুণ প্রজন্ম, তারাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জাতিকে।

স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান হয়েই দেশস্বাধীনের ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে সোচ্চার তরুণ প্রজন্ম। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে ‘কসাই কাদের মোল্লা’ এদেশের সাধারণ জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছিল তার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এ মাসেই।

এ যেন বিজয়ের মাসে আরেক বিজয়। দেশের তরুণ সমাজের প্রত্যাশা, বাংলার মাটিতে প্রতিটি রাজাকার আলবদরের ফাঁসি কার্যকর।

চেতনার ১৬ই ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে দেশব্যাপী। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু বিজয় দিবস। এ দেশের ইতিহাসে এক গৌরব ও অহঙ্কারের দিন।। সরকারি-বেসরকারি ভবনে উড়বে জাতীয় পতাকা। শুধু তাই নয় বাংলারঘরে ঘরে উড়বে লাল-সবুজ পতাকা।

সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ। ইতোমধ্যে তারা দিয়েছেন বিশেষ বাণী। বাণীগুলোতে উঠে এসেছে স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান হয়ে দেশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়।

আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি দিয়েছে।

সম্পাদক: এস কে দাস

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৬% নারীই অসুখী

 

dream girlডেস্ক: প্রতি ১০০ নারীর মধ্যে ৩৬ জনই নিজের জীবন নিয়ে সুখী নন। কারণ তারা পুরুষের সমান কাজ করেও বেতন পান অনেক কম, আবার সম্মানও কম। এমন তথ্যই উঠে এসেছে ইংল্যান্ডের ‘ইয়ং ওমেন্স ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সমীক্ষায়।

 

সংগঠনটি ১৬ থেকে ৩০ বছরের ১ হাজার নারীর উপর সমীক্ষা চালায়। সেখানে দেখা যায় ৩৩ শতাংশ নারী মনে করেন কর্মক্ষেত্রে একই কাজ করে তারা পুরুষদের তুলনায় কম টাকা পান।

 

নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক, আর্থিক অবস্থা নিয়ে মানসিক অশান্তিতে ভোগেন ৪২ শতাংশ নারী। আর ৬৬ শতাংশ ভোগেন পেটের ও মানসিক অসুখে। ৪০ শতাংশ নারী মাঝে মধ্যেই নিঃসঙ্গতায় ভোগেন।

 

এছাড়া ২০ শতাংশ নারীর মতে সমাজে তারা তাদের মায়েদের তুলনায় কম সম্মান পান। অন্যদিকে ৫০ শতাংশ নারী বোঝেনই না কার উপর বিশ্বাস করা উচিৎ। এক চতুর্থাংশ নারী মনে করেন সমস্যার সময় পাশে দাঁড়াবার কাউকে তারা পান না।

তবে সুসংবাদ হলো ৫৮ শতাংশ নিজেদের কর্মক্ষেত্রকে সুরক্ষিত বলেই মনে করেন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুচোখের পাপড়ি ভিজে যাওয়া এক করুন কাহিনী ! স্ত্রীর হাতের বালা বেচে পাঠাগার নির্মাণ

বাচিয়ে রাখতে সন্তানের দুধের টাকা দিয়ে পত্রিকার বিল পরিশোধ

স্বরুপ দাসঃ চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিল্প শহর দর্শনা। যার পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গেছে মাথাভাঙ্গা নদী। যে শহরে অবস্থিত বিখ্যাত কেরু এ্যন্ড কোম্পানি, শান্ত শিষ্ঠ শহর হিসাবে পরিচিত যে শহর সেই শহরে  থাকবে না কোন সাদা মনের মানুষ তা কি হয়। পত্রিকায় বিভিন্ন সাদা মনের মানুষের কথা পড়েছি, একা একা চোখের জল ফেলেছি কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়ে ওঠেনি। দর্শনায় বাস করার সুবাদে আimage CDLবু সুফিয়ানের সাথে পরিচয় সেই ১৯৯২ সাল থেকে। জ্ঞানপিপাসু মানুষের ভালোবাসা নিয়ে জীবনের অন্তিম শয়নও যেন গ্রন্থাগারের পাশে হয়ত বলতে বলতে আবু সুফিয়ানের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে একটি দীর্ঘশ্বাস। এক সময় দু’চোখের পাপড়ি ভিজে যায়। সুফিয়ান  বলেন, ‘সন্তানের দুধের টাকা, স্ত্রীর হাতের সোনার বালা,এবং জমিজমা বিক্রিসহ জীবনের সব সম্বল বিক্রি কওে কোনোরকমে বাঁচিয়ে রেখেছি এ গ্রন্থাগারটি।’
নদীর  জলধারা যেমন নীরবে প্রবাহিত হতে হতে একটি পর্যায়ে থেমে যায় ঠিক তেমনি বহু সংগ্রাম করে কোন রকমে  একটি গ্রন্থাগার। দর্শনার একমাত্র গ্রন্থাগার যাকে সবাই গন উন্নয়ন গ্রন্থাগার বলে চেনে।
যার হাল ধরে রেখেছেন আবু সুফিয়ান ও তার স্ত্রী। বিলিয়ে যাচ্ছেন জ্ঞানের আলো।
প্রাচীন এই জনপদের কেরুজ কোয়ার্টারে ১৯৬৮ সালের ৫ মার্চ জন্ম নেন আবু সুফিয়ান। বাবা মরহুম এসকান্দার এবং মা মোছাঃ  রিজিয়া বেগম কেরু অ্যান্ড কো¤পানিতে চাকরির সুবাদেই  আসেন দর্শনাতে।
তিনি ছিলেন পাওয়ার ইঞ্জিন ড্রাইভার। সামান্য এই চাকরি করেও তিনি ভাবতেন তার সন্তানরা সবাই লেখাপড়া করে আলোকিত মানুষ হবে। আবু সুফিয়ান এর শিক্ষাজীবন শুরু কেরু প্রাইমারি স্কুলে। গোপালগঞ্জ বঙ্গঁবন্ধু কলেজ থেকে øাতক ড্রিগ্রি অর্জনের পর  এক সময়ের সহপাঠী সেলিনা আক্তার কনকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ভালোবাসার বন্ধনে। অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আর্বিভুত হন। ভালোবাসায় হৃদয়ের আহার জুটলেও মাথার ওপর ছাউনি আর পেটের আহার কীভাবে জুটবে সে পথ ছিল অজানা। রোজগারহীন দিনগুলোতে প্রায়ই শূন্য হাতে বাড়ি ফেরেন সুফিয়ান। তিন বেলা খাবার না জুটলেও, ভালোবাসার সঙ্গী সেলিনা আক্তার কনক স্বামীর চোখে চোখ রেখে যেন ভুলে যান আহারবিহীন দিন-রাত্রি। আলোকিত এই মানুষটির যখন সবাইকে আলোকিত করার কথা ভাবেন তখন তার নিজের ঘওে থাকে না বাতি। আধাওে রাত কাটাতে হয়।  খাবার সংগ্রহের নেশায় মাঝে মাঝে শুধু ভাবেন কিন্তু করার কিছুই থাকে না।  যখন খাবার জোটে তখন খান। না পেলে খালি পেটেই কাটিয়ে দেন সময়। পেরিয়ে যায় আরও একটি দিন। আবার ভোর হয়। যথারীতি গ্রন্থাগারের দুয়ার খুলে বসে থাকেন সুফিয়ান। দর্শনার মোবারকপাড়ার এক আতœীয়ের দয়ায় তাদের বাড়ির ছোট্ট একটি টিনশেড কক্ষে স্ত্রী সেলিনা আক্তার কনক আর ৭ বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মাওয়া ও ১৪ বছরের ছেলে আবু সাইফ কাসফাতকে নিয়ে সুফিয়ানের সংসার।
আশির দশকের অক্টোবরে এক দল সমাজকর্মীর উদ্যোগে বাংলার প্রাচীন রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর (ঢাকা) থেকে শুরু হয় গণগ্রন্থাগার সিডিএলের আনুষ্ঠানিক পথচলা। ‘জ্ঞান হোক শোষিত মানুষের মুক্তির
সহায়ক’ এ ¯ে¬াগানের সামনে নিয়ে ১৯৮৯ সালে নিশান উড়িয়ে সারাদেশের মতো দর্শনাতেও আবু সুফিয়ানের তত্ত্বাবধানে ভাড়া করা একটি টালি ঘরে শুরু হয় গ্রন্থাগারটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সারাদেশে এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি দর্শনা গণগ্রন্থাগার।
দৃঢ় প্রত্যয়ের আবু সুফিয়ান ও সেলিনা আক্তার কনক বন্ধ হতে দেননি পাঠাগারটি। সিডিএল কর্তৃপক্ষের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের আওতায় পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হলেও নামমাত্র অর্থ বরাদ্দ দিত তারা। বাকি সব খরচই বহন করতে হতো উদ্যোগী ও ত্যাগী আবু সুফিয়ানকে। এক সময় গ্রন্থাগারটি চালাতে যখন হিমশিম খাচ্ছিলেন আবু সুফিয়ান, তখন নীরবে তার পাশে এসে দাঁড়ান সেলিনা আক্তার কনক। যে পাঠাগার মানুষকে আলোর পথ দেখায়, যে বই মানুষকে উদার ও মানবিক হতে শেখায়, এমন একটি বাতিঘর বন্ধ হয়ে যাবেথ সেটা কিছুতেই মানতে পারেন না সুফিয়ান ও কনক। পাঠাগার ও বই তাদের কাছে সংসার এবং সন্তানের মতোই সমান প্রিয় ও পবিত্র। একদিন পাঠাগারের পত্রিকার বিল না দেওয়ায় এজেন্ট বকেয়ার দায়ে পত্রিকা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি কিছুতেই মানতে পারেন না সেলিনা আক্তার কনক। নিজের সন্তানের মাসকাবারি দুধের টাকা দুধওয়ালাকে না দিয়ে পাঠাগারের পত্রিকার বিল পরিশোধ করেন কনক। এতে দুধওয়ালা টাকা না পেয়ে ছেলের দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। সন্তান অভুক্ত থাকলেও ক্ষতি নেই, পাঠক যেন জ্ঞান আহরণে কিছুতেই অভুক্ত না থাকে। এক সময় সিডিএল কর্তৃপক্ষ ঘর ভাড়াও বন্ধ করে দেয়। পাঠাগারটি নিয়ে এবার যেন অথৈ সমুদ্রে পড়ে যান আবু সুফিয়ান। আবারও পাশে এসে দাঁড়ালেন সেলিনা আক্তার কনক। বিয়ের সময় অনেক কষ্টে দেওয়া স্বামী আবু সুফিয়ানের শ্রেষ্ঠ উপহার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি নিজ হাতের ৪০ হাজার টাকার এক জোড়া সোনার বালা মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে গ্রন্থাগারটির নির্মাণ কাজ শুরু করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কনক।
কীভাবে সমাজকে আলো বিলাতে হয়, তার যেন অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পোড় খাওয়া, আতœপ্রত্যয়ী বইপ্রেমী নারী কনক। যারা রাজনীতি, সমাজনীতির পসরা সাজিয়ে দেশটাকে উল্টে-পাল্টে
শোষণ করেন, তাদের জন্য কনক যেন বড্ড এক লজ্জার নাম।বর্তমানে স্থানীয় সরকারি কলেজের উত্তর-পূর্ব কোনায় চটকাতলার পাশে ছায়া সুনিবিড় নির্মল পরিবেশে টিনের দোচালা ঘরটি নিজেদের টাকায় ও শ্রমে নির্মাণের পর, সেটি নির্মল পরিবেশে পাঠকের পদভারে মুখরিত থাকে সব সময়।
বর্তমানে কিছু স্থায়ী সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে গ্রন্থাগারটি আবারও মাথা তুলে দাড়াতে চাই।অসংখ্য পাঠকের কথা ভেবে আবু সুফিয়ান  গ্রন্থাগারটিকে টিকিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু এভাবে কতদিন । একটি সময় হয়ত আবু সুফিয়ান থাকবে না, তখন কি থাকবে আমাদেও এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারটি। ভাবতে গেলে বুকে কান্ন্া ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আবুসুফিয়ান এসব নিয়ে ভাবতে চান না। তিনি চান সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হরতালের পরীক্ষার ফলাফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব। দায় কার ?

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট  (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৬০ ঘন্টার হরতাল আহ্বান করেছে।
এই হরতাল পরীক্ষার ফলাফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শনিবার বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ’ অনুষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
হরতালের দিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কিনা, না হলে সেটা কোনদিন হবে সে বিষয়ে এখনো শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছুই বলা হয়নি।
এবছর মোট ২১ লাখ পরীক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আগামী ৪ নভেম্বর স্কুল শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রথম পত্র এবং ৬ নভেম্বর বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও ৪ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আরবী প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,এখন তারা কোন বিষয়ের জন্য প্রস্তুতি নিবে তা নিয়ে তারা বিড়ম্বনায় পড়েছে। সারাক্ষণ তাদের মানসিক হতাশার ভিতর দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এজন্য তাদের চূড়ান্ত ফলাফল খারাপ হতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
বর্তমান সময়ের শিক্ষানীতি অনুযায়ী এ পরীক্ষা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গঠনের জন্য গরুত্বপূর্ণ। এখন হরতালের প্রভাবে যদি তাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়ে যায় তবেjsc pic তার প্রভাব তাকে সারাজীবন বহন করে নিয়ে বেড়াতে হবে।
যদিও সরকারদলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে হরতালের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হলে তার দায়ভার বিরোধীদলকে নিতে হবে। কিন্তু একবার যদি ফলাফল খারাপ হয়ে যায় তবে তা কি কেউ পুষিয়ে দিতে পারবে?
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় হরতালের কারণে ৩৭ টি বিষয়ের পরীক্ষা পেছাতে হয়েছিল। অন্যদিকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় একই কারণে মোট ৩২ টি বিষয়ে পরীক্ষা পেছাতে হয়েছিল।
চলতি বছরের এইসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগের বছরের তুলনায় অনেক খারাপ হয়েছে। তাদের দায়ভার কি কেউ নিয়েছে?
এখন যারা সবেমাত্র ৮ম শ্রেণীতে পড়ে,  রাজনীতি বলতে কি বোঝায় তারা কেইউ ভাল করে বলতে পারেনা। তবে তারা কেন এই রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হবে। তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি কি তাদের ভবিষ্যৎ জীবন ধ্বংস করে দিবে?
আগামী দিনে যারা সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে তাদের জীবন যদি এখানেই ধ্বংস হয়ে যায় তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি হবে? এ বিষয়টি কেউ গুরুত্বসহকারে না দেখলেও সবার অগোচরে যে অনেকের ফুলের মত জীবন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শেষ হতে বসেছে।
দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির কারণে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দায়ী করলেও আসলে যারা সাধারণ মানুষ রয়েছেন তারা কোন দলকে দায়ী করতে চাননা। তাদের একটাই দাবি দ্রুত দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসুক।

লেখক: সম্পাদক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শারদীয় দূর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গি

শারদীয় দূর্গাপূজা আমাদের অন্তরে এমন একটা স্থান অধিকার করে নিয়েছে, যার ফলে এ পূজার নেপথ্য কাহিনী আজ কারো অজানা নয়। মা দূর্গার অন্তনির্হীত মাহাত্ম্য সপ্তশতী থেকে বিবৃত করলাম।

অসুরদের রাজা মহিষাসুর স্বর্গ আক্রমন করেছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের সাথে তার তীব্র লড়ায় চলতে লাগল এবং পরিশেষে স্বর্গের সিংহাসনচ্যুত করলেন। ইন্দ্রসহ সকল দেবতারা ছুটে গেলেন সবচেয়ে প্রাজ্ঞ্য ও জ্ঞানী,  সৃষ্টির অধিপতি ব্রহ্মার নিকট। তারা তাঁর নিকট প্রার্থনা জানালেন কেন তারা এ যুদ্ধে হারলেন তা জানতে। সাথে অসুররাজ মহিষাসুরকে কিভাবে দমন করা যায় তার পথ বাতলে দিতে অনুরোধ জানাল। ব্রহ্মার পাশেই ছিলেন প্রলয়ের অধিপতি শিব এবং পালনের অধিপতি বিষ্ণু, তারা দেবগনের এ দূরাবস্থার কথা জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। সকলের রাগের সম্মিলিত রূপ দেবী দূর্গা। সব দেবতারা তাদের অস্ত্র দেবীকে দান করলেন এবং অসুররাজকে দমনের জন্য প্রার্থনা জানালেন।

মহিষাসুরের সাথে দেবী দূর্গার তুমুল লড়ায় হল এবং যেখানে তার প্রাথমিক ছদ্মরূপ ছিল মহিষ। কিন্তু দেবীর উপর্যপুরি হামলায় টিকতে না পেরে অসুররাজ তার স্বরুপে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। স্বরুপে ফিরে আসা মাত্রই দেবী ত্রিশূল তার বুকে গেঁথে দিয়ে তাকে হত্যা করলেন।

এই প্রবল আসুরিক শক্তি ধ্বংসের পর দেবরাজ ইন্দ্র তার হারানো সিংহাসন ফিরে পেল এবং দেবতারা তাদের অসীম সাধনার স্থানে ফেরত আসল। তারা মিলিত হয়ে দেবী দূর্গার নিকট প্রার্থনা জানাল যেন তিনি সদাই তাদের সাথে থাকেন এবং সকল বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

এরূপেই দেবী অসুরমর্দিনী হিসেবে পূজিত হন, যেখানে সিংহের পিঠে অধিষ্ঠিতা দেবী ত্রিশুল দিয়ে হত্যা করছেন মহিষরূপ থেকে স্বমূর্তিতে ফেরা অসুরকে। দেবীর সাথে আরো পূজিত হন গনপতি (গনেশ), কার্তিক, দেবী লক্ষ্মী ও স্বরসতী।

বর্তমান সভ্য মানব সমাজে দূর্গাপূজার উপরোক্ত অর্ন্তনিহিত সত্য তুলে ধরা অতীব প্রয়োজনীয়।  এটাই একমাত্র পথ যা একটি জাতিকে সফলতার চরম শিখড়ে পৌছাতে পারে।

আধুনিক চলচ্ছিত্র ও অ্যালবামের গান না বাজিয়ে, দূর্গা পূজার সুখময় সময় উদ্যাপনের সময়টাই সেই পরম সত্যই গানে বাজানো উচিত, নাটকরূপে মঞ্চায়নে ও  নৃত্যরূপে উপস্থাপন করা উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ দূর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও পূজার সত্যিকার দর্শন অনুধাবন করতে পারে। তবেই দেবীদূর্গার দূর্গতিনাশিনী নাম ও পূজার সার্থকতা।

অসিম দাস

লেখক- গণ্যমাধ্যম কর্মী
কক্সবাজার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কাঁশফুলের বাণিজ্যিক চাষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ১৪ সেপ্টেম্বর: যতদূর চোখ যায় দিগšত জোড়া আমনের সবুজ খেত। এরই মাঝখানে কাশ ফুলে ফুলে সাদা। ঠিক যেন শরতের সাদা মেঘের সাথে করেছে মিতালী। এমন মনোরম সৌন্দয্যের সৃষ্টি হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর মাঠের একটি কাঁশফুলের খেতে।

কৃষক আব্দুল হক তারেে ত বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন কাঁশফুলের। তিনি ওই গ্রামের মৃত গোলাম সরোয়ার বিশ্বাসের পুত্র।

কৃষক আব্দুল হক জানান, তার বাবা যখন কৃষি কাজ করতেন তখন থেকেই এ জমিতে কাঁশগাছের চাষ হতো। এখন তিনি চাষ করে পয়সা রোজগার করছেন। ফসলি খেতে জন্মানো এ অঞ্চলের ভাষায় ঝাটি গাছই হলো কাশ গাছ। তিনি বাবার মুখে শুনেছেন ৫২ শতকের এ জমিটিতে অতীতে অন্য ফসলের চাষ করলেও তার মধ্যে ঝাটি গাছ আগাছা হিসেবে গজিয়ে উঠতো। এ গাছের মূল চলে যেত মাটির গভীরে। বেশ কয়েকবার কোদাল দিয়ে গভীর করে খুঁড়ে মূল উঠিয়ে দিয়েছেন, কিšতু কিছুদিন পরেই আবার আগাছা হিসেবে দেখা দিত। এক পর্যায়ে দমনে ব্যর্থ হয়ে খেতটিতে অন্য ফসল চাষ বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই জমিটিতে চাষ হচ্ছে ঝাটি বা কাশগাছে, যা প্রতিবছর বিক্রি করে বেশ পয়সা পাচ্ছেন।

আব্দুল হক আরো জানান, এক সময়ে খেতের আগাছা এখন পরিণত হয়েছে ফসলে। এ চাষে তেমন কোন খরচ নেই বললেই চলে। বর্ষা মৌসুমে এ গাছের চারা গজিয়ে উঠলে গাছ শক্ত রাখতে ফসফেটের সাথে কিছু পটাশ দিতে হয়। আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তা দ্রত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর শীত মৌসুমে জমি থেকে কেটে ভাল করে শুকিয়ে রাখলে তা থেকেই বরজ মালিকেরা কিনে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে এ জমিতে অন্য কোন ফসলের চাষ করা হয় না। জমিটি আলাদাভাবে রেখে দেয়া হয়েছে কাঁশ ও খড়ের জন্য। অন্য ফসল চাষ করলে উৎপাদন খরচ বাদে যে লাভ পাওয়া যেত তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ পাচ্ছেন তিনি।

তিনি জানান, গত বছরও এ জমির কাশগাছ ও খড় বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এ বছর আরো বেশি টাকা আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

একাধিক কৃষক জানান, কাঁশ খেতে কাশগাছ ছাড়াও পাওয়া যায় চিকন জাতের খড় বা ছন। যে খড় ঘরের ছাউনি ও বরজের পানের পট বাঁধার জন্য কাজে লাগে। এছাড়াও উভয় গাছই পানের বরজের ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়। গ্রামাঞ্চাল থেকে কাঁশগাছ ও খড় আজ বিলীনের পথে। কিšতু দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে পানের বরজ। ফলে যতটুকু পাওয়া যায় কাশগাছ ও খড় বিক্রি হয়ে থাকে চড়া দামে।

পানচাষি উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের সুশীল দাস জানান, পানের বরজে খড় ও কাঁশগাছের কোন বিকল্প নেই। আগে গ্রামাঞ্চলের ভিটে বা বন বাদাড়ে পাওয়া যেত। এখন সব জমি আবাদি হয়ে গেছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি, যে কারণে এখন আর কাশগাছ ও খড় তেমন একটা পাওয়া যায় না। অল্প স্বল্প পাওয়া গেলেও আকাশ ছোঁয়া দাম। তারপরও বরজের কাজের জুড়ি নেই।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter