বিশেষ প্রতিবেদন

আজ কলঙ্কময় ‘পিলখানা হত্যা’ দিবস

এস কে দাস : আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের ইতিহাসের 2222_27142এক কলঙ্কময় দিন। ২০০৯ সালে এই দিনে পিলখানায় তৎকালিন বিডিআর সদর দফতরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনা।

ওই দিন সকাল ৯ টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে পড়ে। এদের একজন বিডিআর মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর বীভৎস ঘটনার সৃষ্টি করে।

চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে। বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশেপাশে এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের পাখির মত গুলি করতে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকে মেধাবী সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে।

২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। তাদের অবুঝ শিশু, সন্তান অথবা তাদের স্ত্রীরা হারিয়ে ফেলেন স্বাভাবিক জীবনের চলফেরার মুহূর্ত। লাশ আর পিলখানার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে সারাদেশের মানুষ হতবাক হয়ে যায়।

৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, ১ জন সৈনিক, দুই জন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। পিলখানায় এ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগাঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়।

বিডিআরের নাম, পোষাক, লগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপারে পুনর্গঠন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরির্তন করা হয় বিডিআর বিদ্রোহের আইন। বর্ডার গার্ড আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয় মৃত্যুদন্ড। বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়।

সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একুশ সারা বিশ্বের মানুষের প্রেরনা

এস কে দাস : একুশে ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও       আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস Shaheed_minarহিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফালগুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।একুশে ফেব্রুয়ারি তাই প্রত্যেক বাঙালির কাছে রক্তাক্ত পবিত্র অঙ্গিকার। সারা বিশ্বের সব মানুষের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস। বাঙালির গর্বিত অর্জন এ একুশে ফেব্্রুয়ারি। কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম এই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ৬ নারীসহ বিভিন্ন ভাষাভাষী ১০ ব্যক্তিকে নিয়ে গঠন করেন ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাক্সগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড নামের সংগঠন। এ সংগঠনের আবেদনের সূত্র ধরে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে তৎকালীন সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারি পর্যায়ে এ পদক্ষেপের প্রতি সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এ ঘোষণা আদায়ে সে সময়ে ইউনেস্কো ভাষা বিভাগে দায়িত্বরত প্রোগ্রাম ¯েপশালিস্ট আনা মারিয়া মাইলফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাঙালির সম্মান কুড়িয়েছেন।
ইউনেস্কোর সেই ঘোষণার সুবাদে বাঙালির মহান একুশে ফেব্রুয়ারির গৌরবের সুর ৫৪ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরণিত হচ্ছে। একুশে আজ কেবল বাঙালির নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকে অনুপ্রাণিত করছে না, বরং তা পৃথিবীর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা লালন ও সংরক্ষণে উৎসাহ যোগাচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ সারা বিশ্বের সব মানুষের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ফেসবুক প্রেম ধর্ম, বয়স, দেশ মানল না!

ডেস্ক: fbফেসবুক প্রেমের অনন্য এক কীর্তিতে সব কিছু ভেঙে চুরমার । দেশের সীমানা, বয়স , দূরত্ব, সামাজিক অবস্থান সব কিছু মুছে ফেলে প্রেমের নতুন সংজ্ঞা লিখলেন ৪১ বছরের মার্কিন মহিলা আদ্রিয়ানা পেরাল। হার মেনেছে সিনেমার সব কাহিনিই।

ফেসবুক সূত্রে পরিচয়, তারপর প্রেমে পরিণত হওয়া সম্পর্কের খাতিরে আমেরিকার শহুরে হাইপ্রোফাইল জীবন ছেড়ে এক সন্তানের মা পেরাল নতুন সংসার পাততে চলে আসেন হরিয়ানার এক ছোট্ট গ্রামে। ক মাস আগেও নাইটক্লাব, পার্টিতে ডুবে থাকা পেরাল এখন হরিয়ানার গ্রামে চাষবাস, গরু পালনে ব্যস্ত।

ব্যাপরটা এরকম, ৪১ বছরের আদ্রিয়ানা পেরালের জীবনটা কাটছিল আর বাকি পাঁচজন হাইপ্রোফাইল গৃহস্থ মার্কিন নারীর মতই। অফিসে রিসেপসনিস্টের কাজ, তারপর সন্ধ্যায় জিম, রাতে নাইটক্লাবে দেদার নাচ। এভাবেই দিন কাটত পেরালের।

অফিসে ফেসবুকের সামনে মাঝে মাঝে বসার সুযোগ পেতেন। তখনই পরিচয় হয় হরিয়ানার ২৫ বছরের মুকেশ কুমারের সঙ্গে। মুকেশের সঙ্গে কথা বলতে বেশ লাগত পেরালের। মুকেশের সঙ্গে মিশেই জীবনের মানে খুঁজে পেতে শুরু করেন পেরাল। মুকেশের কথা পেরাল জানান তাঁর মেয়ে ও বন্ধু বান্ধবদের।

পেরালের আত্মীয়-বন্ধুরা বলেন, ‘ফেসবুকে অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট থাকে। ওই নামের আসলে কেউ নেই, তোমায় কেউ ঠোকাচ্ছে।’ জেদ চেপে বসে পেরালের। মুকেশের কাছ থেকে ঠিকানা চেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্লেনে চড়ে দিল্লি। দিল্লি এয়ারপোর্টে তখন পেরালের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মুকেশ। যা দেখে চোখে জল চলে এল পেরালের। ব্যাপরটা পুরো ফিল্মি মনেও একদম সত্যি।

পেরালের মেয়েরও দারুণ পছন্দ হয়ে যায় মায়ের প্রেমিক মুকেশকে। এরপর আর কী.. সাত পাকে বাধা। তার সংসার জীবন.. ক্যালিফোর্নিয়ার সেই পাঁচতারা জীবন ছেড়ে হরিয়ানায় একতারা জীবনে পাড়ি।

এখন নিজে হাতে রুটি করেন, লাঙল দেন, মুকেশকে চাষের কাজে সাহায্য করেন। শ্বাশুরির কাছে রামায়ণ-মহাভারতের গল্পও শোনেন।

দুজনে ঠিক করেছেন ক মাসের মধ্যে নতুন সন্তানের জন্ম দেবেন। তারপর উড়ে যাবেন আমেরিকায়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ফুলকি হয়ে জ্বলে উঠেছেন শামিমা

আহমেদ নাসিম আনসারী,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি: স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে থমকে গিয়েছিল কিশোরী বধূ শামিমার জীবন। প্রবল আত্নবিশ্বাসী শামিমা সব নির্যাতন আর অপমানকে পরাস্ত করে আগুনের ফুলকি হয়ে জ্বলে উঠেছেন। সমাজের নির্যাতিত-অসহায় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শামিমা। গড়ে তুলেছেন ঐক্য নারী কল্যাণ সংস্থা। নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদের পথ দেখিয়েছেন। Jhenidah Shamima Pic
ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের রওশন আলীর মেয়ে শামিমা আক্তার। তাঁর জ্বলে ওঠার কথা বলেছেন তিনি নিজেই।
১৯৯৫ সালে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় পরিবার থেকে বিয়ে দেওয়া হয় আমার। ১৩ বছরের কিশোরী তখন আমি। বিয়ে হয় আমিরুল ইসলামের সঙ্গে। তার বয়স তখন ৩৫ বছর। স্বামীর বেপরোয়া উগ্র যৌন আচরণে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কয়েক দিন পরই চলে আসি বাবার বাড়ি। কিন্তু আমার নিজের পরিবারই আমার কষ্ট বোঝেনি। পরিবারের চাপে আবারও যেতে হয়েছে শ্বশুরবাড়ি। স্বামী নামের মানুষটা আমার কাছে রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে ওঠে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একপর্যায়ে আবারও বাবার বাড়ি চলে আসি। মা-বাবার কাছে বললাম স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা। এবার আমাকে শ্বশুরবাড়ি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন মা-বাবা। এ খবর জানতে পেরে আমার স্বামী প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে আমাকে এসিডে ঝলছে দেবে বলে হুমকি দেয়। সে তার হুমকি কার্যকর করে ১৯৯৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে। ঘুমিয়ে ছিলাম আমি। সেই অবস্থায় এসিড ছুড়ে ঝলসে দেওয়া হলো আমার শরীর ও মুখ। ওই রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আমাকে ভর্তি করা হয় কোটচাঁদপুর হাসপাতালে। এসিডে পুড়ে মুখের চামড়া কুঁচকে চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। জমি বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য আমাকে ভারতে নিয়ে গেল আমার পরিবার। অপারেশনের পর কিছুটা সুস্থ হই। পরর্বর্তী সময়ে এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আরো চারবার অপারেশন করা হয়। এখন অনেকটা সুস্থ। চেহারাও কিছুটা আগের মতো হয়েছে। অসুস্থতা আর চিকিৎসার মধ্যেই কেটে যায় কয়েকটি বছর। অলস বসে না থেকে কিছু একটা করার কথা ভাবি। বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ শুরু করি। আশপাশের দরিদ্র অসহায় নারীদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করি। অসহায় দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের নানা ধরনের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করি। সমাজের এসব অবহেলিত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছি ‘ঐক্য নারী কল্যাণ সংস্থা’ নামের একটি সংগঠন। সংস্থাটি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। ৪৩ সদস্য নিয়ে সংস্থাটি চলছে। এর মধ্যে ২৫ জনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। এ সংস্থার মাধ্যমে বাটিক, নকশিকাঁথা ও সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখান থেকে কাজ শিখে অনেকেই উপার্জন করছে। মাত্র এক হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে সেলাইয়ের কাজ ও সেলাই প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেছিলাম। সেলাইয়ের কাজ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেশ উপার্জনও হয়েছে। সেই টাকা জমিয়ে সংস্থার জন্য এক কামরার একটি অফিস করেছি। সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ইচ্ছা ছোটবেলা থেকেই। বন্ধ হয়ে যাওয়া লেখাপড়াটা আবার শুরু করেছি। ২০০৫ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় এসএসসি পাস করি। এরপর কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা কলেজে ভর্তি হই। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে চলছে সেলাই ও ডিজাইনের কাজ। এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চাই। সারা দিন লেখাপড়া আর বিকেল ৪টার পর ঐক্য নারী কল্যাণ সংস্থার অফিস নিয়ে ভালো আছি। সমাজসেবার কাজ করতে হলে লেখাপড়া জানা প্রয়োজন। সংস্থার ঘরে গত বছরের জুন থেকে একটি পাঠাগার চালু করেছি। এখানে অন্য বইয়ের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের বই রাখা হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা, যারা বইয়ের অভাবে লেখাপড়া করতে পারে না, তারা এ পাঠাগারের বইয়ের সাহায্য নিয়ে লেখাপড়া করবে। ২০০৭ সালে নাসরিন স্মৃতি পদক পাই আমি। পদকের সঙ্গে নগদ ১০ হাজার টাকা পাই। পুরস্কারের ওই টাকা দিয়েই প্রথম বই সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে যে বই আছে তা বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু অর্থসংকুলান হচ্ছে না। সমাজের অশিক্ষিত-অসহায় মানুষের মধ্যে একটু শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে চাই।
তাঁর ওপর এসিড নিক্ষেপ মামলাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শামিমা ওই পাষণ্ডের প্রতি ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলেন, আসামির ৪৫ বছর জেল হয়েছিল। হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রচলিত আইনের এ বিচারে ফাঁক আছে, যা নারীর অধিকার আদায়ে বড় বাধা। তবে বাধা ডিঙানোর সাহস পেয়ে গেছেন শামিমা। তাই বসে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঐতিহ্য হারাতে বসেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার খেজুরের রস

জেলা প্রতিনিধি: জেলার  ঐতিহ্যবাহী পানীয় খেজুরের রস। রস থেকে তৈরী হয় খেজুরের গুড়। যা চুয়াডাঙ্গার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হত পার্শ্ববর্তী জেলায়। আর এই ঐতিহ্যটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঘর-বাড়ি তৈরী, ইট ভাটার জ্বালানীর জন্য খেজুরের এই সান্ত গাছটি মানুষে কেটে ফেলছে নিমেষেই। শীতের সকালে শিশির ভেজা ভোরে শিয়ালীদের (খেজুর রস বিক্রেতা) ডাকা ডাChuadanga-Khajur-JPJকি এখন আর শোনা যায়না। কৃষক এখন আর খেজুরের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরী করতে পারছেনা। চুয়াডাঙ্গায় কৃষি জমির সাথে কৃষক খেজুরের গাছ লাগাতেন, শীত আসলেই গাছ কাটার ধুম পড়ত এর পর রাতে গাছে হাড়ি বসানো ভোর হলেই তা সংগ্রহ করার কাজে ব্যস্ত। এখন আর কিছুই নেই এ অঞ্চলে। খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরী করা হত সুমিষ্ট গুড় আর কৃষক তা বিক্রি করত বিভিন্ন হাটে। ক্রেতারা এর স্বাদ ও গন্ধে কিনে নিতেন তা। শীতের সকালে খেজুরের গুড়ের পিঠা, পায়েশ খাওয়ার ধুম পড়তো গ্রামে গ্রামে, যা এখন নানী-দাদীদের মুখে গল্প শোনার মত। খেজুর গাছের বিলুপ্তির সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়েছে গাছিয়াল (খেজুরের গাছ কাটেন যিনি) জীবিকার প্রয়োজনে গাছিয়াল তার আপন পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।
১৯৯৪ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ করে বাঁশের কান্ড ও খেজুরের গাছ পোড়ানোর অনুমতি দেয় হয়। বাঁশের কান্ড সহজে না পাওয়ায় শুরু হয় খেজুরের গাছ নিধন। আর এতেই বিলুপ্ত হতে বসেছে খেজুরের গাছ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মহান বিজয়ের দিন আজ

অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা, বহু পটভূমি, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধিকার আদায়ের দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ঘোর অন্ধকার-অমানিশা কাটিয়ে বাংলার চিরসবুজ জমিনে রক্তে রাঙানো লাল-সবুজ পতাকার জন্ম দেয়ার মাস ডিসেম্বর।

১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয়ের দিন।  

আমাদের অনেক হতাশার মাঝেও আমাদের আশার জায়গা মুক্তিযুদ্ধ। সব ব্যর্থতা আর হতাশার মধ্য দিয়ে বিশ্বায়নের এ যুগে দেশটি যে এখনও এগুচ্ছে। তার একটি কারণ হল সচেতন তরুণ প্রজন্ম, তারাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জাতিকে।

স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান হয়েই দেশস্বাধীনের ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে সোচ্চার তরুণ প্রজন্ম। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে ‘কসাই কাদের মোল্লা’ এদেশের সাধারণ জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছিল তার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এ মাসেই।

এ যেন বিজয়ের মাসে আরেক বিজয়। দেশের তরুণ সমাজের প্রত্যাশা, বাংলার মাটিতে প্রতিটি রাজাকার আলবদরের ফাঁসি কার্যকর।

চেতনার ১৬ই ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে দেশব্যাপী। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু বিজয় দিবস। এ দেশের ইতিহাসে এক গৌরব ও অহঙ্কারের দিন।। সরকারি-বেসরকারি ভবনে উড়বে জাতীয় পতাকা। শুধু তাই নয় বাংলারঘরে ঘরে উড়বে লাল-সবুজ পতাকা।

সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ। ইতোমধ্যে তারা দিয়েছেন বিশেষ বাণী। বাণীগুলোতে উঠে এসেছে স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান হয়ে দেশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়।

আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি দিয়েছে।

সম্পাদক: এস কে দাস

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৩৬% নারীই অসুখী

 

dream girlডেস্ক: প্রতি ১০০ নারীর মধ্যে ৩৬ জনই নিজের জীবন নিয়ে সুখী নন। কারণ তারা পুরুষের সমান কাজ করেও বেতন পান অনেক কম, আবার সম্মানও কম। এমন তথ্যই উঠে এসেছে ইংল্যান্ডের ‘ইয়ং ওমেন্স ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সমীক্ষায়।

 

সংগঠনটি ১৬ থেকে ৩০ বছরের ১ হাজার নারীর উপর সমীক্ষা চালায়। সেখানে দেখা যায় ৩৩ শতাংশ নারী মনে করেন কর্মক্ষেত্রে একই কাজ করে তারা পুরুষদের তুলনায় কম টাকা পান।

 

নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক, আর্থিক অবস্থা নিয়ে মানসিক অশান্তিতে ভোগেন ৪২ শতাংশ নারী। আর ৬৬ শতাংশ ভোগেন পেটের ও মানসিক অসুখে। ৪০ শতাংশ নারী মাঝে মধ্যেই নিঃসঙ্গতায় ভোগেন।

 

এছাড়া ২০ শতাংশ নারীর মতে সমাজে তারা তাদের মায়েদের তুলনায় কম সম্মান পান। অন্যদিকে ৫০ শতাংশ নারী বোঝেনই না কার উপর বিশ্বাস করা উচিৎ। এক চতুর্থাংশ নারী মনে করেন সমস্যার সময় পাশে দাঁড়াবার কাউকে তারা পান না।

তবে সুসংবাদ হলো ৫৮ শতাংশ নিজেদের কর্মক্ষেত্রকে সুরক্ষিত বলেই মনে করেন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দুচোখের পাপড়ি ভিজে যাওয়া এক করুন কাহিনী ! স্ত্রীর হাতের বালা বেচে পাঠাগার নির্মাণ

বাচিয়ে রাখতে সন্তানের দুধের টাকা দিয়ে পত্রিকার বিল পরিশোধ

স্বরুপ দাসঃ চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিল্প শহর দর্শনা। যার পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গেছে মাথাভাঙ্গা নদী। যে শহরে অবস্থিত বিখ্যাত কেরু এ্যন্ড কোম্পানি, শান্ত শিষ্ঠ শহর হিসাবে পরিচিত যে শহর সেই শহরে  থাকবে না কোন সাদা মনের মানুষ তা কি হয়। পত্রিকায় বিভিন্ন সাদা মনের মানুষের কথা পড়েছি, একা একা চোখের জল ফেলেছি কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়ে ওঠেনি। দর্শনায় বাস করার সুবাদে আimage CDLবু সুফিয়ানের সাথে পরিচয় সেই ১৯৯২ সাল থেকে। জ্ঞানপিপাসু মানুষের ভালোবাসা নিয়ে জীবনের অন্তিম শয়নও যেন গ্রন্থাগারের পাশে হয়ত বলতে বলতে আবু সুফিয়ানের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে একটি দীর্ঘশ্বাস। এক সময় দু’চোখের পাপড়ি ভিজে যায়। সুফিয়ান  বলেন, ‘সন্তানের দুধের টাকা, স্ত্রীর হাতের সোনার বালা,এবং জমিজমা বিক্রিসহ জীবনের সব সম্বল বিক্রি কওে কোনোরকমে বাঁচিয়ে রেখেছি এ গ্রন্থাগারটি।’
নদীর  জলধারা যেমন নীরবে প্রবাহিত হতে হতে একটি পর্যায়ে থেমে যায় ঠিক তেমনি বহু সংগ্রাম করে কোন রকমে  একটি গ্রন্থাগার। দর্শনার একমাত্র গ্রন্থাগার যাকে সবাই গন উন্নয়ন গ্রন্থাগার বলে চেনে।
যার হাল ধরে রেখেছেন আবু সুফিয়ান ও তার স্ত্রী। বিলিয়ে যাচ্ছেন জ্ঞানের আলো।
প্রাচীন এই জনপদের কেরুজ কোয়ার্টারে ১৯৬৮ সালের ৫ মার্চ জন্ম নেন আবু সুফিয়ান। বাবা মরহুম এসকান্দার এবং মা মোছাঃ  রিজিয়া বেগম কেরু অ্যান্ড কো¤পানিতে চাকরির সুবাদেই  আসেন দর্শনাতে।
তিনি ছিলেন পাওয়ার ইঞ্জিন ড্রাইভার। সামান্য এই চাকরি করেও তিনি ভাবতেন তার সন্তানরা সবাই লেখাপড়া করে আলোকিত মানুষ হবে। আবু সুফিয়ান এর শিক্ষাজীবন শুরু কেরু প্রাইমারি স্কুলে। গোপালগঞ্জ বঙ্গঁবন্ধু কলেজ থেকে øাতক ড্রিগ্রি অর্জনের পর  এক সময়ের সহপাঠী সেলিনা আক্তার কনকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ভালোবাসার বন্ধনে। অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আর্বিভুত হন। ভালোবাসায় হৃদয়ের আহার জুটলেও মাথার ওপর ছাউনি আর পেটের আহার কীভাবে জুটবে সে পথ ছিল অজানা। রোজগারহীন দিনগুলোতে প্রায়ই শূন্য হাতে বাড়ি ফেরেন সুফিয়ান। তিন বেলা খাবার না জুটলেও, ভালোবাসার সঙ্গী সেলিনা আক্তার কনক স্বামীর চোখে চোখ রেখে যেন ভুলে যান আহারবিহীন দিন-রাত্রি। আলোকিত এই মানুষটির যখন সবাইকে আলোকিত করার কথা ভাবেন তখন তার নিজের ঘওে থাকে না বাতি। আধাওে রাত কাটাতে হয়।  খাবার সংগ্রহের নেশায় মাঝে মাঝে শুধু ভাবেন কিন্তু করার কিছুই থাকে না।  যখন খাবার জোটে তখন খান। না পেলে খালি পেটেই কাটিয়ে দেন সময়। পেরিয়ে যায় আরও একটি দিন। আবার ভোর হয়। যথারীতি গ্রন্থাগারের দুয়ার খুলে বসে থাকেন সুফিয়ান। দর্শনার মোবারকপাড়ার এক আতœীয়ের দয়ায় তাদের বাড়ির ছোট্ট একটি টিনশেড কক্ষে স্ত্রী সেলিনা আক্তার কনক আর ৭ বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মাওয়া ও ১৪ বছরের ছেলে আবু সাইফ কাসফাতকে নিয়ে সুফিয়ানের সংসার।
আশির দশকের অক্টোবরে এক দল সমাজকর্মীর উদ্যোগে বাংলার প্রাচীন রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর (ঢাকা) থেকে শুরু হয় গণগ্রন্থাগার সিডিএলের আনুষ্ঠানিক পথচলা। ‘জ্ঞান হোক শোষিত মানুষের মুক্তির
সহায়ক’ এ ¯ে¬াগানের সামনে নিয়ে ১৯৮৯ সালে নিশান উড়িয়ে সারাদেশের মতো দর্শনাতেও আবু সুফিয়ানের তত্ত্বাবধানে ভাড়া করা একটি টালি ঘরে শুরু হয় গ্রন্থাগারটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সারাদেশে এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি দর্শনা গণগ্রন্থাগার।
দৃঢ় প্রত্যয়ের আবু সুফিয়ান ও সেলিনা আক্তার কনক বন্ধ হতে দেননি পাঠাগারটি। সিডিএল কর্তৃপক্ষের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের আওতায় পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হলেও নামমাত্র অর্থ বরাদ্দ দিত তারা। বাকি সব খরচই বহন করতে হতো উদ্যোগী ও ত্যাগী আবু সুফিয়ানকে। এক সময় গ্রন্থাগারটি চালাতে যখন হিমশিম খাচ্ছিলেন আবু সুফিয়ান, তখন নীরবে তার পাশে এসে দাঁড়ান সেলিনা আক্তার কনক। যে পাঠাগার মানুষকে আলোর পথ দেখায়, যে বই মানুষকে উদার ও মানবিক হতে শেখায়, এমন একটি বাতিঘর বন্ধ হয়ে যাবেথ সেটা কিছুতেই মানতে পারেন না সুফিয়ান ও কনক। পাঠাগার ও বই তাদের কাছে সংসার এবং সন্তানের মতোই সমান প্রিয় ও পবিত্র। একদিন পাঠাগারের পত্রিকার বিল না দেওয়ায় এজেন্ট বকেয়ার দায়ে পত্রিকা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি কিছুতেই মানতে পারেন না সেলিনা আক্তার কনক। নিজের সন্তানের মাসকাবারি দুধের টাকা দুধওয়ালাকে না দিয়ে পাঠাগারের পত্রিকার বিল পরিশোধ করেন কনক। এতে দুধওয়ালা টাকা না পেয়ে ছেলের দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। সন্তান অভুক্ত থাকলেও ক্ষতি নেই, পাঠক যেন জ্ঞান আহরণে কিছুতেই অভুক্ত না থাকে। এক সময় সিডিএল কর্তৃপক্ষ ঘর ভাড়াও বন্ধ করে দেয়। পাঠাগারটি নিয়ে এবার যেন অথৈ সমুদ্রে পড়ে যান আবু সুফিয়ান। আবারও পাশে এসে দাঁড়ালেন সেলিনা আক্তার কনক। বিয়ের সময় অনেক কষ্টে দেওয়া স্বামী আবু সুফিয়ানের শ্রেষ্ঠ উপহার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি নিজ হাতের ৪০ হাজার টাকার এক জোড়া সোনার বালা মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে গ্রন্থাগারটির নির্মাণ কাজ শুরু করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কনক।
কীভাবে সমাজকে আলো বিলাতে হয়, তার যেন অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পোড় খাওয়া, আতœপ্রত্যয়ী বইপ্রেমী নারী কনক। যারা রাজনীতি, সমাজনীতির পসরা সাজিয়ে দেশটাকে উল্টে-পাল্টে
শোষণ করেন, তাদের জন্য কনক যেন বড্ড এক লজ্জার নাম।বর্তমানে স্থানীয় সরকারি কলেজের উত্তর-পূর্ব কোনায় চটকাতলার পাশে ছায়া সুনিবিড় নির্মল পরিবেশে টিনের দোচালা ঘরটি নিজেদের টাকায় ও শ্রমে নির্মাণের পর, সেটি নির্মল পরিবেশে পাঠকের পদভারে মুখরিত থাকে সব সময়।
বর্তমানে কিছু স্থায়ী সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে গ্রন্থাগারটি আবারও মাথা তুলে দাড়াতে চাই।অসংখ্য পাঠকের কথা ভেবে আবু সুফিয়ান  গ্রন্থাগারটিকে টিকিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু এভাবে কতদিন । একটি সময় হয়ত আবু সুফিয়ান থাকবে না, তখন কি থাকবে আমাদেও এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারটি। ভাবতে গেলে বুকে কান্ন্া ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আবুসুফিয়ান এসব নিয়ে ভাবতে চান না। তিনি চান সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হরতালের পরীক্ষার ফলাফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব। দায় কার ?

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট  (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৬০ ঘন্টার হরতাল আহ্বান করেছে।
এই হরতাল পরীক্ষার ফলাফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শনিবার বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ’ অনুষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
হরতালের দিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কিনা, না হলে সেটা কোনদিন হবে সে বিষয়ে এখনো শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছুই বলা হয়নি।
এবছর মোট ২১ লাখ পরীক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আগামী ৪ নভেম্বর স্কুল শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রথম পত্র এবং ৬ নভেম্বর বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও ৪ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আরবী প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,এখন তারা কোন বিষয়ের জন্য প্রস্তুতি নিবে তা নিয়ে তারা বিড়ম্বনায় পড়েছে। সারাক্ষণ তাদের মানসিক হতাশার ভিতর দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এজন্য তাদের চূড়ান্ত ফলাফল খারাপ হতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
বর্তমান সময়ের শিক্ষানীতি অনুযায়ী এ পরীক্ষা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গঠনের জন্য গরুত্বপূর্ণ। এখন হরতালের প্রভাবে যদি তাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়ে যায় তবেjsc pic তার প্রভাব তাকে সারাজীবন বহন করে নিয়ে বেড়াতে হবে।
যদিও সরকারদলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে হরতালের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হলে তার দায়ভার বিরোধীদলকে নিতে হবে। কিন্তু একবার যদি ফলাফল খারাপ হয়ে যায় তবে তা কি কেউ পুষিয়ে দিতে পারবে?
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় হরতালের কারণে ৩৭ টি বিষয়ের পরীক্ষা পেছাতে হয়েছিল। অন্যদিকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় একই কারণে মোট ৩২ টি বিষয়ে পরীক্ষা পেছাতে হয়েছিল।
চলতি বছরের এইসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগের বছরের তুলনায় অনেক খারাপ হয়েছে। তাদের দায়ভার কি কেউ নিয়েছে?
এখন যারা সবেমাত্র ৮ম শ্রেণীতে পড়ে,  রাজনীতি বলতে কি বোঝায় তারা কেইউ ভাল করে বলতে পারেনা। তবে তারা কেন এই রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হবে। তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি কি তাদের ভবিষ্যৎ জীবন ধ্বংস করে দিবে?
আগামী দিনে যারা সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে তাদের জীবন যদি এখানেই ধ্বংস হয়ে যায় তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি হবে? এ বিষয়টি কেউ গুরুত্বসহকারে না দেখলেও সবার অগোচরে যে অনেকের ফুলের মত জীবন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শেষ হতে বসেছে।
দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির কারণে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দায়ী করলেও আসলে যারা সাধারণ মানুষ রয়েছেন তারা কোন দলকে দায়ী করতে চাননা। তাদের একটাই দাবি দ্রুত দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসুক।

লেখক: সম্পাদক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শারদীয় দূর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গি

শারদীয় দূর্গাপূজা আমাদের অন্তরে এমন একটা স্থান অধিকার করে নিয়েছে, যার ফলে এ পূজার নেপথ্য কাহিনী আজ কারো অজানা নয়। মা দূর্গার অন্তনির্হীত মাহাত্ম্য সপ্তশতী থেকে বিবৃত করলাম।

অসুরদের রাজা মহিষাসুর স্বর্গ আক্রমন করেছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের সাথে তার তীব্র লড়ায় চলতে লাগল এবং পরিশেষে স্বর্গের সিংহাসনচ্যুত করলেন। ইন্দ্রসহ সকল দেবতারা ছুটে গেলেন সবচেয়ে প্রাজ্ঞ্য ও জ্ঞানী,  সৃষ্টির অধিপতি ব্রহ্মার নিকট। তারা তাঁর নিকট প্রার্থনা জানালেন কেন তারা এ যুদ্ধে হারলেন তা জানতে। সাথে অসুররাজ মহিষাসুরকে কিভাবে দমন করা যায় তার পথ বাতলে দিতে অনুরোধ জানাল। ব্রহ্মার পাশেই ছিলেন প্রলয়ের অধিপতি শিব এবং পালনের অধিপতি বিষ্ণু, তারা দেবগনের এ দূরাবস্থার কথা জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। সকলের রাগের সম্মিলিত রূপ দেবী দূর্গা। সব দেবতারা তাদের অস্ত্র দেবীকে দান করলেন এবং অসুররাজকে দমনের জন্য প্রার্থনা জানালেন।

মহিষাসুরের সাথে দেবী দূর্গার তুমুল লড়ায় হল এবং যেখানে তার প্রাথমিক ছদ্মরূপ ছিল মহিষ। কিন্তু দেবীর উপর্যপুরি হামলায় টিকতে না পেরে অসুররাজ তার স্বরুপে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। স্বরুপে ফিরে আসা মাত্রই দেবী ত্রিশূল তার বুকে গেঁথে দিয়ে তাকে হত্যা করলেন।

এই প্রবল আসুরিক শক্তি ধ্বংসের পর দেবরাজ ইন্দ্র তার হারানো সিংহাসন ফিরে পেল এবং দেবতারা তাদের অসীম সাধনার স্থানে ফেরত আসল। তারা মিলিত হয়ে দেবী দূর্গার নিকট প্রার্থনা জানাল যেন তিনি সদাই তাদের সাথে থাকেন এবং সকল বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

এরূপেই দেবী অসুরমর্দিনী হিসেবে পূজিত হন, যেখানে সিংহের পিঠে অধিষ্ঠিতা দেবী ত্রিশুল দিয়ে হত্যা করছেন মহিষরূপ থেকে স্বমূর্তিতে ফেরা অসুরকে। দেবীর সাথে আরো পূজিত হন গনপতি (গনেশ), কার্তিক, দেবী লক্ষ্মী ও স্বরসতী।

বর্তমান সভ্য মানব সমাজে দূর্গাপূজার উপরোক্ত অর্ন্তনিহিত সত্য তুলে ধরা অতীব প্রয়োজনীয়।  এটাই একমাত্র পথ যা একটি জাতিকে সফলতার চরম শিখড়ে পৌছাতে পারে।

আধুনিক চলচ্ছিত্র ও অ্যালবামের গান না বাজিয়ে, দূর্গা পূজার সুখময় সময় উদ্যাপনের সময়টাই সেই পরম সত্যই গানে বাজানো উচিত, নাটকরূপে মঞ্চায়নে ও  নৃত্যরূপে উপস্থাপন করা উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ দূর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও পূজার সত্যিকার দর্শন অনুধাবন করতে পারে। তবেই দেবীদূর্গার দূর্গতিনাশিনী নাম ও পূজার সার্থকতা।

অসিম দাস

লেখক- গণ্যমাধ্যম কর্মী
কক্সবাজার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কাঁশফুলের বাণিজ্যিক চাষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ১৪ সেপ্টেম্বর: যতদূর চোখ যায় দিগšত জোড়া আমনের সবুজ খেত। এরই মাঝখানে কাশ ফুলে ফুলে সাদা। ঠিক যেন শরতের সাদা মেঘের সাথে করেছে মিতালী। এমন মনোরম সৌন্দয্যের সৃষ্টি হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর মাঠের একটি কাঁশফুলের খেতে।

কৃষক আব্দুল হক তারেে ত বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন কাঁশফুলের। তিনি ওই গ্রামের মৃত গোলাম সরোয়ার বিশ্বাসের পুত্র।

কৃষক আব্দুল হক জানান, তার বাবা যখন কৃষি কাজ করতেন তখন থেকেই এ জমিতে কাঁশগাছের চাষ হতো। এখন তিনি চাষ করে পয়সা রোজগার করছেন। ফসলি খেতে জন্মানো এ অঞ্চলের ভাষায় ঝাটি গাছই হলো কাশ গাছ। তিনি বাবার মুখে শুনেছেন ৫২ শতকের এ জমিটিতে অতীতে অন্য ফসলের চাষ করলেও তার মধ্যে ঝাটি গাছ আগাছা হিসেবে গজিয়ে উঠতো। এ গাছের মূল চলে যেত মাটির গভীরে। বেশ কয়েকবার কোদাল দিয়ে গভীর করে খুঁড়ে মূল উঠিয়ে দিয়েছেন, কিšতু কিছুদিন পরেই আবার আগাছা হিসেবে দেখা দিত। এক পর্যায়ে দমনে ব্যর্থ হয়ে খেতটিতে অন্য ফসল চাষ বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই জমিটিতে চাষ হচ্ছে ঝাটি বা কাশগাছে, যা প্রতিবছর বিক্রি করে বেশ পয়সা পাচ্ছেন।

আব্দুল হক আরো জানান, এক সময়ে খেতের আগাছা এখন পরিণত হয়েছে ফসলে। এ চাষে তেমন কোন খরচ নেই বললেই চলে। বর্ষা মৌসুমে এ গাছের চারা গজিয়ে উঠলে গাছ শক্ত রাখতে ফসফেটের সাথে কিছু পটাশ দিতে হয়। আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তা দ্রত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর শীত মৌসুমে জমি থেকে কেটে ভাল করে শুকিয়ে রাখলে তা থেকেই বরজ মালিকেরা কিনে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে এ জমিতে অন্য কোন ফসলের চাষ করা হয় না। জমিটি আলাদাভাবে রেখে দেয়া হয়েছে কাঁশ ও খড়ের জন্য। অন্য ফসল চাষ করলে উৎপাদন খরচ বাদে যে লাভ পাওয়া যেত তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ পাচ্ছেন তিনি।

তিনি জানান, গত বছরও এ জমির কাশগাছ ও খড় বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এ বছর আরো বেশি টাকা আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

একাধিক কৃষক জানান, কাঁশ খেতে কাশগাছ ছাড়াও পাওয়া যায় চিকন জাতের খড় বা ছন। যে খড় ঘরের ছাউনি ও বরজের পানের পট বাঁধার জন্য কাজে লাগে। এছাড়াও উভয় গাছই পানের বরজের ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়। গ্রামাঞ্চাল থেকে কাঁশগাছ ও খড় আজ বিলীনের পথে। কিšতু দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে পানের বরজ। ফলে যতটুকু পাওয়া যায় কাশগাছ ও খড় বিক্রি হয়ে থাকে চড়া দামে।

পানচাষি উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের সুশীল দাস জানান, পানের বরজে খড় ও কাঁশগাছের কোন বিকল্প নেই। আগে গ্রামাঞ্চলের ভিটে বা বন বাদাড়ে পাওয়া যেত। এখন সব জমি আবাদি হয়ে গেছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি, যে কারণে এখন আর কাশগাছ ও খড় তেমন একটা পাওয়া যায় না। অল্প স্বল্প পাওয়া গেলেও আকাশ ছোঁয়া দাম। তারপরও বরজের কাজের জুড়ি নেই।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free