বিশেষ প্রতিবেদন

১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড বনাম টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড

এস এম সাইদউল্লাহ:
আশির দশকে প্রথমবারের মতো টাইম-স্কেল চালু হয়। তারও পরে সিলেকশন গ্রেড চালু হয়। একই পদে পদোন্নতি না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য এই টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালু করা হয়। জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ পর্যন্ত টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালু ছিল যা ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। যা পরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর বেতনে সমতা বিধানের লক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ গেজেট জারির তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারীদের বেতনে সমতা আসেনি। কোথাও কোথাও সিনিয়র জুনিয়রের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ড. ফরাসউদ্দিন পে কমিশন প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীর পদোন্নতি চালু করার শর্তে টাইম-স্কেল ও সিলেকশন বাতিল করে ১০/১৬ বছরের স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেড চালুর সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকল দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য একটি বা দুইটি কমন নিয়োগবিধি করে সকল কর্মচারীদের পদোন্নতি চালু করার উদ্যোগ নিলেও এখনও পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। ১০/১৬ বছর কীভাবে গণনা করা হবে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তা উচ্চ আদালতে গড়ায়। হাইকোর্ট বিভাগ হয়ে তা এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে। ১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও কোনো কোনো দপ্তরের কর্মচারীগণ ১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন। তবে তা খুবই কমসংখ্যক।


তা ছাড়া জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ কার্যকর হওয়ার পর প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এতোদিনে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণ বিশেষ করে ১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীগণ টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সুবিধা বাতিল করে ১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড চালু করার ফলে কীভাবে কত পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা বুঝতে পেরেছেন। ফলে তাঁরা টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। এমনকি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করার জন্য উচ্চ আদালতে রীট করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। হয়তোবা অল্প সময়ের মধ্যে এ জন্য রীট দায়ের করা হবে।

কারণ, সবাই এতোদিনে বুঝে গেছেন টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল ছাড়া কখনওই একই পদে সিনিয়র জুনিয়রের মধ্যকার যে বেতন বৈষম্য তৈরি হয়েছে তা নিরসন হবে না।

আমারও মনে হচ্ছে কর্মচারীদের ক্ষোভ, আন্দোলন কর্মসূচি বিবেচনা করে, সবাইকে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয় বিধায় অথবা আপিল বিভাগ হতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় ফিরে আসবে। সেক্ষেত্রে আমরা ১০ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীগণ সবচেয়ে লাভবান হবো। হয়তো শেষ পর্যন্ত তা-ই হতে যাচ্ছে। সবমহল থেকে এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এস এম সাইদউল্লাহ
সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক,
প্রধান শিক্ষক সমিতি

স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ আগস্ট , ২০১৯:
স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে কুমেক হাসপাতালে যান ইমদাদুল হক।


হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মী ও চিকিৎসকদের কাছে নিজের পরিচয় সে সময় প্রকাশ করেননি তিনি।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুক্রবার সকালে ও বিকালে তার ফেসবুক আইডিতে দুটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে কুমেক হাসপাতালে তার বিড়ম্বনার নানা তথ্য তুলে ধরেন।

তার সেই স্ট্যাটাস নেট দুনিয়ায় গতকাল থেকে ভাইরাল।

ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদারের সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল,

‘রাত ৩:৩০। আমার স্ত্রীর হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা। ও চিৎকার করছিল। খুব ঘাবড়ে গেলাম। ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের অনেকগুলো নম্বর নিয়ে কল করতে থাকলাম। কেউ কল ধরল না।

বড় বড় হাসপাতালের নম্বরে কল দিলাম। কেউ ধরল না। একজন দয়া করে অ্যাম্বুলেন্সের কল ধরে জানালেন তার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায়। পাওয়া গেল না।

আমার মোটামুটি সব ড্রাইভারকে কল দিলাম। ধরল না। অসহায় অবস্থায় বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটা দিলাম ফাঁকা রাস্তায়। কিছুদূর গিয়ে একটা সিএনজি পেলাম। উনি যেতে রাজি হলেন। গেলাম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ইমার্জেন্সি তখন ঘুমাচ্ছে।

অনেক কষ্ট করে ডিউটি ডাক্তার সাহেবের ঘুম ভাঙানো হল। উনি কাগজে লিখে দিয়ে ৪তলায় ৪১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যেতে বললেন। গেলাম।

ওখানে ১৫ মিনিট কাউকে পেলাম না। অবশেষে এক সিস্টার বা আয়া এমন কেউ এলেন। জানলাম ডাক্তার সাহেব ঘুমাচ্ছেন।

পাক্কা আধা ঘণ্টা ধরে দরজা নক করার পর উনি এলেন। দেখলেন। তার পর ব্যবস্থাপত্র লিখতে গিয়ে দুটো কলমই কালিশূন্য পেলেন।

আবার গেলেন তার কক্ষে। গিয়ে ফিরলেন আরও ১০-১২ মিনিট পর।

এ দিকে বেশ কয়েকজন রোগী জমে গেছে।

অবশেষে আমার স্ত্রীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখলেন- এলজিন ইঞ্জেকশন, নরমাল স্যালাইন আর খাবার স্যালাইন।

মজার বিষয় হল ডাক্তার সাহেব সঙ্গে অতিরিক্ত দুটো স্লিপ ধরিয়ে দিলেন।


স্লিপ-১ : ৭টি টেস্টের নাম স্লিপ-২ : বাদুরতলার শেফা ও আজাদ ক্লিনিকের নাম।

মুখে বলে দিলেন এই টেস্টগুলো যেন ওখান থেকেই করাই। অনেকটা আদেশের মতো।

আমি ভেজা বিড়ালের মতো বললাম, জি আচ্ছা। এর মাঝে কথা হল দেবিদ্বার থেকে আসা এক ডেঙ্গু রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তার মহিলা রোগীর প্লাটিলেট কমেই চলেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

কিন্তু মজার বিষয় হল রোগীর ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার নেই। ডাক্তার আসবেন সকালে অথবা আরও পরে। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে এলাম।

ইঞ্জেকশনটা একটা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পুশ করালাম।

উপলব্ধি-০১ : গরিবের জন্য কোনো চিকিৎসা নেই

উপলব্ধি-০২ : ডেঙ্গু নিয়ে প্রান্তিক লেভেলে সরকারের নির্দেশনা কতটা ফলো করা হচ্ছে তা ভেবে দেখার আছে।

উপলব্ধি-০৩ : আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ২৪ ঘণ্টার নয় বরং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি/ বেসরকারি) দায়িত্বশীলদের মর্জি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে।

উপলব্ধি-০৪ : অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক কেবল সকাল-সন্ধ্যা দোকান খোলে। ব্যবসা শেষে দোকান বন্ধ। রোগী জাহান্নামে যাক।

যা আইনত দণ্ডনীয়। ক্লিনিকে অবশ্যই ইমার্জেন্সি ডাক্তার থাকা বাধ্যতামূলক।

উপলব্ধি-০৫ : যত দায় আমাদের।

# রমজানে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ করো সকাল-সন্ধ্যা

# রাত জেগে পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা করো

# ঘুম হারাম করে দুর্যোগ মোকাবিলা করো

# ইলেকশনে টানা রাত জেগে কাজ করো

# ঈদে নির্বিঘ্নে জনসাধারণের বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করো

# জাতীয় দিবসের প্রস্তুতিতে অঘুম রাত কাটাও

# বিশেষ সংকটে জেগে থাকো রাতের পর রাত আর খেটে যাও সংকট মোকাবিলায়।

মেডিকেল সেক্টরের জন্য করুণা। স্রোষ্টা হেদায়েত দান করুণ। আমিন।’

শুক্রবার দিনব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের সেই স্ট্যাটাসটি।

দেশের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিকিৎসকদের কটাক্ষ করা শুরু হয় মন্তব্যের ঘরে।

এ সব মন্তব্যের মধ্যেই শুক্রবার রাতে স্ট্যাটাস দুটি ফেসবুক থেকে মুছে দেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তবে ইতিমধ্যে তার সেই স্ট্যাটাসটি স্ক্রিনশট আকারে নানাজনের টাইমলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, ‘কোনো হাসপাতাল বা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি আমি। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে কুমেকে গিয়ে যে ভোগান্তির শিকার হয়েছি তা প্রকাশ করেছিলাম মাত্র।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, হ্যাঁ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের বিষয়টি শুনেছি। শনিবার এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষার মান বাড়াতে প্রাথমিকে চালু হচ্ছে নার্সারি

শিক্ষকরা বললেন সময় কমানো হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বাড়বে।

শিশির চক্রবর্তী:
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির আগে নার্সারি শ্রেণি চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিশুদের কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল বিমুখ করা এবং ৪ বছর বয়সী সব শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তির জন্যই এ ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


শিক্ষকদের দাবী শুধুমাত্র সময়  কমানো হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বাড়বে। শিশুরা কিন্ডারগার্টেন বিমুখ হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের নানা প্রান্তে কেজি স্কুলের রমরমার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ঝিমিয়ে পড়ছে। শিশুরা ৫ বছর বয়সী না হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। অথচ ৩ বছর বয়সেই কেজি স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়। এতে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স ৪ বছর করার জন্য বলেছেন।
Read More »

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রশ্নবিদ্ধ

সাব্বির নেওয়াজ ও ফসিহ উদ্দীন মাহতাব:প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়

মোছা. রাবেয়া সুলতানা ,যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণ বেরি নায়াণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামীও খুলনা মহানগরীতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা। স্বামীর চাকরির সুবাদে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলে শূন্য পদে বদলির জন্য যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন জানান তিনি। জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তার নামও আগে ছিল। কিন্তু তাকে নয়- বরং বদলি করা হয়েছে একজন জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে।

এমনকি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা শূন্য পদের তালিকা দিলেও সেসব প্রার্থীকে বদলি করা হয়নি। মন্ত্রী, এমপি, সচিবসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশও আমলে আনা হয়নি। জ্যেষ্ঠ না হওয়ার পরও শিক্ষক বদলিতে এ বছর অর্থের বিনিময়ে দালাল চক্র ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। যারা দালালদের সঙ্গে রফা করতে পেরেছেন, তারাই পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলি হতে পেরেছেন। এসব দালালের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বদলি নিয়ে চারিদিকে ওঠা তীব্র সমালোচনা সামাল দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) যুগ্ম সচিব জসীম উদ্দিনকে তার পদ থেকে সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরও গোপনে একাধিক বদলি আদেশ জারির ঘটনা ঘটেছে। Read More »

কোচিং বাণিজ্য যেমন চলছিল, তেমনি চলছে


ড. ফ. র. মাহমুদ হাসান : গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘এ দেশের কোচিং ব্যবসা’ পড়লাম। ভোরে হাঁটা আমার অভ্যাস। যেখানেই যাই না কেন, ভোরে হাঁটতে গিয়ে এখনও দেখি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সেই কাকভোরে, ৬টা-সাড়ে ৬টার দিকে বুকে-পিঠে বইপত্র নিয়ে ছুটছে। জিজ্ঞেস করলেই জানায়, ‘প্রাইভেট’ পড়তে যাচ্ছে বা কোচিংয়ে যাচ্ছে। এরা প্রধানত ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস সেভেনের ছাত্রছাত্রী। হ্যাঁ, ক্লাস ওয়ান-টু-থ্রির শিশুরাও নিয়মিত ‘প্রাইভেট’ পড়ে। ‘প্রাইভেট পড়ে না বা কোচিংয়ে যায় না, এমন শিক্ষার্থী বলতে গেলে নেই। বেতন প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি ৩০০ টাকা। এদের বাবারা পরের জমিতে কাজ করে, ভ্যান চালায়, ইটখোলায় কাজ বা দোকানদারি করে। মায়েরা ক্ষেতে, মিলে বা পরের বাড়িতে কাজ করে। একেক ব্যাচে ১০ থেকে ২০-২৫ জন পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী পড়ে। কোনো কোনো শিক্ষক সকালে দুই ব্যাচ পড়ান আবার বিকেলে দুই ব্যাচ। এদের বেশিরভাগই হয় সরকারি স্কুলের, নয়তো এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। তবে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রও আছে, যারা প্রাইভেট বা কোচিংয়ে পড়ায়।

একেবারে নিচু শ্রেণির শিশু হলে সেই সকালে মায়েরা খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। পথে একজন সঙ্গী পেলে তার সঙ্গে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদবোধ করেন। প্রায় সব জেলাতেই এই ধারা কমবেশি একই রকম। যেখানেই গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করেছি, এত নিচের ক্লাসের শিশুকে প্রাইভেট পড়তে পাঠান কেন? বিভিন্নজন বলেছেন, ‘পাস করতে হলে প্রাইভেট পড়তে হয়; প্রাইভেট না পড়লে পিছিয়ে পড়বে; ও একটু দুর্বল বা ওর মেধা কম; আমরা তো আর ভালো খাওয়াতে পারি না যে মেধা হবে, তাই প্রাইভেটে পড়াতে হয়।’ সিক্স-সেভেনের শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, শিক্ষকরা ক্লাসে কোনো চ্যাপ্টার ধরে পড়া শুরু করে শেষ করেন না; কোনো কিছু বোঝান না। বলেন, ‘কোচিংয়ে এসো, ভালো করে বুঝিয়ে দেব।’ অথচ এই শিক্ষকরাই সমাজে ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলে চিহ্নিত। গত ২০ বছরে প্রতি সরকারের সময়ে এদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের পক্ষে সর্বস্তরের মানুষ সহানুভূতি জানিয়েছে। এদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বা যে কারণেই হোক, সরকারের বোধোদয় হয়নি যে, এসব ছাড়ের সঙ্গে শিক্ষকদের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার জায়গাটি যুক্ত করা বা সুদৃঢ় করা সম্ভব। এই জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া দরকার। 

শিক্ষক দায়বদ্ধ থাকবেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখা নিশ্চিত করতে। শিক্ষার্থীরা কী শিখল বা কতটা শিখল, তার মূল্যায়ন যেমন শ্রেণিকক্ষে অব্যাহত মূল্যায়নের মাধ্যমে হবে, তেমনি হবে সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু শিক্ষক যদি আদিষ্ট হয়ে সমাপনী পরীক্ষায়ও সাজানো নম্বর দিতে অভ্যস্ত হয়ে যান, তাহলে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক দুয়েরই বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। সর্বশেষে বলতেই হয়, শিক্ষক যদি তার কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে দায়বদ্ধতার প্রতিপালন বা ‘কমপ্লায়েন্স’ নিশ্চিত করতে কী করতে হবে সেটা সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের জবাবদিহির বিষয়। দ্বিতীয়ত, ‘শেখা’ ও ‘শেখানো’ সম্পর্কে ধারণাটা শিক্ষক, তত্ত্বাবধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ সবার কাছেই স্পষ্ট হতে হবে। ‘শেখানো’ অর্থ শিক্ষকের সিলেবাস শেষ করা নয়। তেমনি ‘শেখা’ অর্থ মুখস্থ করা নয়, প্রশ্নোত্তর শেখা নয় বা শূন্যস্থান পূরণও নয়। এমনকি গাইড বইয়ে দেওয়া সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে তা পরীক্ষার খাতায় লিখে তথাকথিত জিপিএ ৫ বা গোল্ডেন জিপিএ পাওয়াও নয়। শেখা অর্থ বয়স উপযোগী নির্ধারিত এবং যথাবিহিত জ্ঞান ও দক্ষতা আয়ত্ত করা, জানা এবং তা করতে পারা।

তৃতীয়ত, শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের গুটিকতক বিশেষ করে যারা মেধাবী বলে পরিচিত শুধু তাদের নয় বরং প্রত্যেক শিশুর অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভর্তির পরপরই শিক্ষককে প্রত্যেক শিশুর অর্জন দক্ষতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষে প্রতিটি শিশুর পাঠদান পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে প্রত্যেক শিশু তার নিজস্ব গতি, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারে। ‘শেখা’র বিষয়টা একটু ভেঙে বলার কারণ :শিক্ষকতার লক্ষ্য ‘পাঠদান’ নয় বা ‘সিলেবাস শেষ করা’ নয়। বড় দাগে বললে, শিক্ষকতা অর্থ- ১. প্রত্যেক শিশুর চাহিদা অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে ভয় বা হুমকিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি ও শেখানোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা করতে পারা; ২. শিক্ষাক্রম ও বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী সময় বিভাজন অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় ভাষা দক্ষতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি সময় বরাদ্দ করা এবং প্রায় ততখানি সময় গাণিতিক দক্ষতা ও বিজ্ঞানে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য দেওয়া এবং ৩. শিশুরা শুধু টেক্সট বই পড়া এবং প্রশ্নোত্তর মুখস্থ করার পরিবর্তে যাতে দেখে-ধরে-করে শেখার সুযোগ পায়, শ্রেণিকক্ষে তার ব্যবস্থা করা। তাহলেই প্রত্যেক শিশুর কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষকরা নিজেদের, বিশেষ করে শিক্ষক সংগঠনের নেতারা তাদের সদস্যদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলে বর্ণনা করতে ভালোবাসেন। তাই তো হওয়ার কথা ছিল! নতুবা কোটি কোটি শিশুসন্তান ও শিক্ষার্থীকে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যে কোনো বিষয়ের যে কোনো অধ্যায়ের দু’একটা অনুচ্ছেদ পড়িয়ে দিয়ে যখন বলেন, ‘বাকিটা পড়ে নিও বা প্রাইভেট-কোচিংয়ে এসে বুঝে নিও’ বা যখন অভিভাবককে বলেন, ‘পাস করতে হলে প্রাইভেট পড়তে হবে, কোচিংয়ে আসতে হবে’; তারপরও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে পরের জমিতে খেটে খাওয়া বা পরের বাড়িতে কাজ করা অভিভাবকও তাকে বিশ্বাস করেন, তার ওপর আস্থা রাখেন? উচ্চ আদালতের রায়, টেলিভিশনের খবর ও আলোচনা এবং পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পর এক মাসও কাটেনি; এখনও দেশের গ্রামাঞ্চলের সর্বস্তরের শিশুরা বইয়ের গাদা পিঠে তুলে প্রাইভেট পড়তে ছুটছে। 

একটা বড় প্রশ্ন হচ্ছে- ‘শেখা’র গুরুত্ব উপেক্ষা করে শুধু স্কুলে যাওয়ার যেমন কোনো অর্থ হয় না, তেমনি ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষক যদি তার অযোগ্যতা, অদক্ষতা বা নৈতিক স্খলনের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিশুর শেখা নিশ্চিত করতে অপারগতা প্রকাশ করেন বা ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষকতার অর্থ কী? সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে? সরকার যদি শিক্ষককে তার কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব পালনে সমর্থ করতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মা-বাবা, অভিভাবক ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে তার অদক্ষতা ও অসহায়ত্বের জন্য সরকারের একটা জবাবদিহির প্রশ্ন কি দাঁড়াবে না? তাহলে তাদের এবং দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে আদালত যদি সরকারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন, তাহলে তা কি বড় অবিবেচনামূলক হবে? আর আদালত যদি প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে সরকারের কাছে এই জবাবদিহি না চান, তাহলে কে চাইবে? সে ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সরকারের জবাবদিহির প্রক্রিয়াটা কী হবে? স্বভাবতই, শিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের শিক্ষা বিষয়ে ধারণা, বিবেচনা ও পরিকল্পনা কি মৌলিকভাবে ঢেলে সাজানোর প্রশ্ন উঠবে না? আর যতদিন তা সম্ভব না হচ্ছে, ততদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা কি আদালতের রায় অগ্রাহ্য করে যথারীতি তাদের কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাবেন? 

শেষ করার আগে নোট ও গাইড বই সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলতে চাই। এ কাজের সঙ্গে দেশের বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ ব্যবসায়ী মহল ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এমনকি সম্ভবত দেশের বেশিরভাগ সংবাদপত্রও। তবু আমার ধারণা, নোট ও গাইড বই প্রকাশনা এবং সব পর্যায়ে তার যথেচ্ছ ব্যবহার সমস্যার সমাধান সম্ভবত অপেক্ষাকৃত কম জটিল। তাই এ কাজটা দ্রুত শুরু করা যেতে পারে এবং কাজটা ড. জাফর ইকবালের নেতৃত্বেই হতে পারে। তিনি উদ্যোগ নিলে তার আহ্বানেই আমি যাকে বলি সাধারণ মানুষের সমাজ, তাদের সহযোগিতায় দুটি কাজই বেশ খানিকটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

ড. জাফর ইকবাল শুধু দেশের একজন বরেণ্য ব্যক্তিই নন, তিনি একজন জনপ্রিয় লেখক, অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী। বিনীতভাবে তার উদ্দেশে বলি, আপনার ভক্ত যারা আপনার কথা ফেলতে পারেন না, সেসব সম্পাদক ও সাংবাদিককে নিয়ে বসুন না, তাদের সদিচ্ছা পরীক্ষা করতে নয়, বরং কাজটা শুরু করতে। একটা কাজ হতে পারে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীর শ্রেণি ও বয়স উপযোগী দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে টেক্সট বই রচনার নতুন নির্দেশিকা তৈরি করে পরীক্ষিত এবং দক্ষ লোকের ছোট ছোট বিষয়ভিত্তিক দল করে- ১. বেশিরভাগ টেক্সট বই ঢেলে সাজানো। এ প্রসঙ্গে আর একটা কথা বলে রাখা ভালো। এই কচি বয়সে আদর্শবান, সুনাগরিক এবং দেশপ্রেমিক হওয়ার দায়ভার শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে টেক্সট বই ভারাক্রান্ত না করে বরং শিশুরা সহজে পড়তে পারে, পড়ে আনন্দ পায়, একা একা বা বন্ধুদের সঙ্গে একজোট হয়ে, যেখানে-সেখানে বসে যখন-তখন পড়তে আগ্রহী হয়, এ রকম ধারণা মনে রেখে টেক্সট বই রচনা বেশি ফলপ্রসূ হবে। শিশুরা যত জানবে, বুঝবে, দেশ ও দেশের মানুষকে তত ভালোবাসবে। তত বিনম্র হবে। ২. প্রয়োজনে একাধিক সহযোগী উপকরণ প্রণয়ন ও বাজার থেকে বয়স উপযোগী আকর্ষণীয় গল্পের বই সংগ্রহ। এই উদ্যোগের প্রথম এবং দৃষ্টান্তমূলক কাজ হবে সব পত্রপত্রিকা থেকে নোট বই ও গাইড বইয়ের আঙ্গিকে গড়ে তোলা পৃষ্ঠাগুলোর অবলুপ্তি।

শিক্ষাবিদ

নিয়োগ বিধি ।প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে

ডেস্ক,১০এপ্রিলঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ প্রকাশ হবার পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধে ্য নানা মত দেখা দিয়েছে।ফেসবুকের শালিক আহমেদের পোষ্ট থেকে হুবুহ তুলে ধরা হল।

উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে !!!!!!!!!

প্রধান শিক্ষক পদটি যখন ৩য় শ্রেণি ছিল তখন এ পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল স্নাতকোত্তর /মাষ্টার্স পাশ। পদ ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হলো কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা সিম্পল ডিগ্রীতে নেমে গেল !!!!!!!!!!

প্রাথমিক শিক্ষা ৫ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত হল কিন্তু নতুন নিয়োগ বিধি ২০১৯ এ -এ পদে প্রবেশ যোগ্যতা চাওয়া হল স্নাতক।

যখন ছিলো কেবলই শতভাগ ভর্তি আর সবার জন্য শিক্ষা,তখন ছিল সহ.শিক্ষক এসএসসি/ডিগ্রি এবং প্রশি স্নাতকোত্তর।

কিন্তু আজ যখন উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার অঙ্গীকার, ঠিক তখনই সহ.শি. যোগ্যতা ডিগ্রীতে উন্নীত করলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যোগ্যতা স্নাতকোত্তর (মাষ্টার্স) থেকে পিছিয়ে করা হলো স্নাতক। তাহলে ডিপার্টমেন্ট সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নাকি পিছিয়ে যাচ্ছে??? আদৌ কি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত করার সদিচ্ছা আছে, নাকি ফাঁকাবুলি??? আদৌ সুষ্ঠু পরিকল্পনা কিংবা SWOT এনালাইসিসের মাধ্যমে টেকসই বিধিমালা প্রণীত হয়েছে নাকি প্রশিদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা, বাইনেইম গেজেট এবং পদোন্নতিসহ ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে পুর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কোন দুরভিসন্ধিপূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে???????? এই বিধিমালা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পাবে নাকি প্রশ্নবিদ্ধ হবে ? এর কারণ কি? তা বোধগম্য নয়!!! বাংলাদেশের অন্য কোন ডিপার্টমেন্টে নতুন নিয়োগবিধিমালা প্রণয়নের সাথে যোগ্যতা পিছিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আছে কিনা জানা নেই! তাছাড়া, আরো ৫/৭ বছর পর সহকারী শিক্ষকদের সরাসরি নিয়োগ যোগ্যতা মাষ্টার্সে উন্নীত করার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে পক্ষান্তরে, প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ-মাধ্যমিকে নামিয়ে আনে কিনা, এমন ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই!!!!! প্রশ্নগুলোর জবাব দেবে কে? বিজ্ঞজনের মতামত আশা করছি।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডার ছেড়ে যে কারণে শিক্ষকতায় থাকলেন আসিফ!

আসিফ ইমতিয়াজ : আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারি সচিব হিসেবে আমার যোগদানের দিন ছিলো। সকালে যখন আমার ব্যাচমেটরা যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সারছিলো, আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাসরুমে আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের স্যামপ্লিং ডিস্ট্রিবিউশন পড়াচ্ছিলাম। গত ৯ মাসে আমাকে সবাই প্রশ্ন করেছেন আমার সিদ্ধান্ত কী। কেউ বলেছেন সিভিল সার্ভিসে চলে যাও। কেউ বলেছেন যেও না। কিন্তু আমি কি করবো, তা শুধু আমিই জানতাম। একদম প্রথম দিন থেকেই জানতাম। আমার জীবনকে আমি আজ থেকে অনেক বছর পরে কোথায় দেখতে চাই, এ বিষয়ে আমার একটি পরিষ্কার ধারণা আছে।

কেন গেলাম না? এক হাত দূর থেকে কোন দেশের রাষ্ট্রপতিকে দেখার চেয়ে, কোন টাফ নেগোসিয়েশনের টেবিলে বসে কাজ করার চেয়ে শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজগতে সামান্য হলেও পরিবর্তন আনতে পারাটা আমার কাছে বেশি তৃপ্তির।

প্রতিটা দিনকে নিজের মতো করে কাটানোর মধ্যে আমার শান্তি।

তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ব্যবসায়ে অনুপ্রেরণা দেয়া এবং সাহায্য করার মধ্যে রয়েছে আমার শান্তি।

নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের হয়ে ছোটবড় কাজ করতে পারার মাঝে আমার শান্তি।

আমি বেঁচে থাকতে যেন আমার দুই জোড়া মা-বাবার এক গ্লাস পানি ঢেলে খাওয়া না লাগে- এই চিন্তাতেই আমার শান্তি।

আমার উপরে ভরসা রেখে আমার স্ত্রী ভুল করেনি তা প্রমাণ করতে পারলেই আমার শান্তি।

আমার যোগ্যতা থাকলে সারা পৃথিবী আমার কাছে ওপেন থাকবে, যোগ্যতা না থাকলে থাকবেনা। এতে আমার খেদ নেই। আমি যার যোগ্য, যতটুকু পাওয়ার যোগ্য, আমি তাই পাবো।

আরেকটা বড় উদ্দেশ্য আমার আছে।

যারা বিসিএস দেয়না অথবা আগ্রহী না, সবার কাছ থেকে হতাশার দূর-ছাই শুনলেও আমি তাদের শোনাবো আশার গল্প। আমি তাদের শোনাবো অনুপ্রেরণার গল্প।

উদ্দীপক এক আপন ভাইকে যেন ওরা আমার মাঝে খুঁজে পায়-আমি সেই আলো হতে চাই।
বিসিএসের বাইরেও যে জীবন আছে, এই মন্ত্র সবার কানে পৌঁছে দিতে চাই।

মনের শান্তির চেয়ে বড় কিছুই না। আমি সব দেশে ইমিউনিটি এনজয় করলাম কিন্তু মনে শান্তি পেলাম না, এই ইমিউনিটি দিয়ে আমি কি করবো?

আমি কূটনীতিবিদ/রাষ্ট্রদূত হয়ে জীবনের শেষ পর্যায়ে যেয়ে ”আমার দেখা কূটনীতির পঞ্চাশ বছর” বই লিখতে চাইনা।

আমি চাই জীবনের শেষ পর্যায়ে গিয়ে শ’খানেক মানুষের মুখে অন্তত এটুকু শুনতে ”আসিফ স্যার ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে আমাদের চিন্তাজগতে একটু হলেও পরিবর্তন আনতে পেরেছিলেন।”

আমার ব্যাচমেট যারা আজকে যোগদান করেছেন, দেশের সেবা করার সুযোগ তাদের অনেক অনেক বেশি। আমিও যেকোন আপদে বিপদে তাঁদের জালাবো।

দেশের সরাসরি সেবা আমার ব্যাচমেট ভাইবোনেরা করুক। তাঁদের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আর সত্যিকারের ভালবাসা থাকলো।’

আমি না হয় সেবক তৈরির চেষ্টা করি, অন্য কোন প্ল্যাটফর্মের সেবক।

আসিফ ইমতিয়াজ
Lecturer : at Dept. of MIS, Faculty of Business Studies
University of Dhaka

পরীক্ষা না থাকলে কী হয়?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল , ৬ এপ্রিল ২০১৯ :

আমি জানি আমার এ লেখার শিরোনাম দেখে সবাই চমকে উঠবে। অনেকে ভাববে আমি মনে হয় পাগল হয়ে গেছি। যারা আমাকে চেনে তারা ভাববে এটি নিশ্চয়ই এক ধরনের কৌতুক কিংবা স্যাটায়ার। আমাদের লেখাপড়ার পুরো ব্যাপারটিই হচ্ছে পরীক্ষানির্ভর। সারা বছর ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেয়, যে স্কুল যত ‘ভালো’ তাদের পরীক্ষা তত বেশি। ১২ বছর লেখাপড়া করার সময় তারা একবার কিংবা দুইবার নয়, চার-চারবার পাবলিক পরীক্ষা দেয়। স্কুলের লেখাপড়ার (কিংবা পরীক্ষার) ওপর অভিভাবকদের ভরসা নেই, তাই তাঁদের ছেলেমেয়েদের কোচিংয়ে ঢুকিয়ে দেন, সেখানেও তারা পরীক্ষার পর পরীক্ষা দেয়। নানা নামে গাইড বই বিক্রি হয়। সেখানে প্রশ্ন এবং উত্তর লেখা থাকে, ছেলেমেয়েরা সেগুলো মুখস্থ করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। দেশের নামিদামি পত্রিকাগুলো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করে, কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জন করে; কিন্তু তারা নিজেরা নিয়মিত গাইড বই ছাপিয়ে যায়, ছেলেমেয়েরা যেন ঘরে বসে পরীক্ষা দিতে পারে। দেশের অভিভাবকদের বেশির ভাগই মনে করে, লেখাপড়ার মানে হচ্ছে পরীক্ষা দেওয়া। ভালো লেখাপড়া মানে পরীক্ষায় ভালো গ্রেড পাওয়া। কাজেই আমি যদি বলি ‘পরীক্ষা না থাকলে কী হয়’, তাহলে দেশের সব মানুষ যদি আমাকে উন্মাদ ভাবে, তাহলে তাদের দোষ দেওয়া যায় না। কিংবা তারা যদি মনে করে আমি একটা রসিকতা করছি এবং এই লেখার মধ্যে সেই রসিকতা খুঁজতে থাকে, তাহলেও তাদের মোটেও দোষ দেওয়া যায় না।
আমি কিন্তু উন্মাদ হয়ে যাইনি কিংবা রসিকতা করার জন্য এ লেখা লিখছি না, আমি যথেষ্ট সিরিয়াসলি এটি বলছি। বর্তমানে যে শিক্ষানীতিটি আছে সেটি তৈরি করার জন্য যে কমিটি তৈরি করা হয়েছিল, আমি তার একজন সদস্য ছিলাম এবং আমার স্পষ্ট মনে আছে আমরা সেখানে বলেছিলাম, প্রাইমারি স্কুলের প্রথম তিন বছর কোনো পরীক্ষা থাকবে না। আমরা যে খসড়াটি জমা দিয়েছিলাম তার অনেক পরিবর্তন করে সেটি পাস করানো হয়েছিল। কারণ আমরা মাত্র দুটি পাবলিক পরীক্ষার কথা বলেছিলাম; কিন্তু এখন আমরা সবাই জানি, এ দেশের বাচ্চাদের অনেক কষ্ট দিয়ে চারটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কাজেই লেখাপড়ার প্রথম তিন বছর কোনো পরীক্ষাই থাকবে না—এ সিদ্ধান্ত শিক্ষানীতিতে আদৌ আছে কিনা, আমি জানি না। কিন্তু যেহেতু মনে করা হয়, লেখাপড়া মানেই হচ্ছে পরীক্ষা। কাজেই আমরা সবাই জানি, এ দেশের একেবারে দুধের বাচ্চাটিকেও পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই পরীক্ষায় একটু উনিশ-বিশ হলে অভিভাবকরা বাচ্চাদের জীবনকে ওলটপালট করে ফেলেন।
কিন্তু অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, পৃথিবীর অনেক দেশে বাচ্চাদের জীবন থেকে পরীক্ষা নামের অভিশাপটি দূর করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশে সবচেয়ে ভালো লেখাপড়া হয় জিজ্ঞেস করা হলে সাধারণত ফিনল্যান্ডের নামটি বলা হয়। সে দেশের বাচ্চারা তাদের জীবনের প্রথম পরীক্ষাটি দেয় ১৬ বছর বয়সে। কোনো পরীক্ষা না দিয়েই তারা যেটুকু শেখার কথা সেটুকু শিখে যাচ্ছে, তাহলে আমরা কেন আমাদের দেশে লেখাপড়া এবং পরীক্ষা সমার্থক করে ফেলেছি?


এ ব্যাপারে কিছুদিন আগে আমার একটি চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা হয়েছে। একদিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। সে কোনো একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করে। যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া জানেন তাঁরা সবাই অনুমান করতে পারবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি প্রায় হঠাৎ করে জানতে পারলাম সে পিতৃ-মাতৃহীন একজন পথশিশু হয়ে বড় হয়েছে। তার বয়স যখন ১৩ কিংবা ১৪ তখন হঠাৎ লেখাপড়া করার শখ হয়েছে তার। নিজে নিজে বর্ণ পরিচয় করে প্রথম ভর্তি হয়েছে অষ্টম শ্রেণিতে অর্থাৎ প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তার কোনো লেখাপড়া নেই। পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী ছিল বলে সে স্কুল শেষ করে কলেজ এবং কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সে জীবনেও কোনো কোচিং বা প্রাইভেট পড়েনি এবং পথেঘাটে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে বলে এখনো বালিশ ছাড়া ঘুমায়!


নিঃসন্দেহে ছেলেটি মোটেও আর দশজন সাধারণ ছেলেমেয়ের মতো নয়; কিন্তু তার জীবন থেকে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি। একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি অষ্টম শ্রেণি থেকে তার লেখাপড়া শুরু করে, সে যদি চায়, তাহলে সে স্কুল-কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করে দিতে পারবে। সেই থেকে আমি ভাবছি তা-ই যদি সত্যি হয়, তাহলে কেন আমরা প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার পর পরীক্ষা নিয়ে একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জীবনকে বিষময় করে তুলি? কেন তাকে আনন্দময় একটি পরিবেশে বড় হতে দিই না। কোনো চাপ না দিয়ে তাকে নিজের মতো করে পরবর্তী জীবনে লেখাপড়া করার জন্য প্রস্তুত হতে দিই না? এমন নয় যে এটি খুবই আজগুবি একটি কথা, পৃথিবীতে এই মুহূর্তে অনেক দেশে এমনটি করা হয়। পরীক্ষা নেই বলে সবাই ফাঁকি দিয়ে চূড়ান্ত একটি করে গবেট তৈরি হচ্ছে না বরং উল্টো ব্যাপারটি ঘটছে। তাদের শৈশবটি হচ্ছে আনন্দময় এবং অন্য দেশের ছেলেমেয়েদের থেকে তারা ভালো শিখছে। কারণ তারা শিখছে নিজের ইচ্ছায়, নিজের আনন্দে!
২.
পরীক্ষানির্ভর লেখাপড়া তো অনেক দিন থেকেই হচ্ছে। আমরা ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভয় দেখিয়ে, চাপ দিয়ে তাদের পড়াশোনা করিয়ে যাচ্ছি। গাইড বইয়ের ব্যবসায়ী, আর প্রাইভেট এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের ছাড়া অন্য কারো খুব বড় লাভ হয়েছে বলে তো মনে হয় না। কিছুদিন হলো আমি টের পেয়েছি কোচিং ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট সংগঠিত। কোচিং ব্যবসা বন্ধ নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমার কাছে অসংখ্য ই-মেইল এসে হাজির। প্রতিটি ই-মেইলের বক্তব্য একই ধরনের। কোচিং যে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য কত প্রয়োজনীয় এবং এই কোচিং করে যে দেশের লেখাপড়া কত এগিয়ে গেছে সেটিই হচ্ছে মূল বক্তব্য। আমি খুবই অবাক হয়ে তাদের সবার ই-মেইলের উত্তর দিয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলাম, হঠাৎ করে তারা এই ব্যবসার গুণকীর্তন করতে শুরু করেছে কেন? কোনো কোচিং ব্যবসায়ী কি তাদের আমার কাছে এ রকম ‘লবিং’করার জন্য প্ররোচিত করেছে? বলতে গেলে কেউ সেই ই-মেইলের উত্তর দেয়নি—একজন ছাড়া। তিনি লিখেছেন যে তিনি মোটেও এই ই-মেইল পাঠাননি। অন্য কেউ তাঁর ই-মেইল হ্যাক করে আমার কাছে এই মেইল পাঠিয়েছে। আমি অনুমান করছি, কোচিং ব্যবসায়ীরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে যথেষ্ট দক্ষ, তারা শুধু এই ব্যবসা করে ছাত্রছাত্রীদের বারোটা বাজিয়েই সন্তুষ্ট নয়, তাদের ব্যবসা যেন বন্ধ না হয়ে যায় সেজন্য যত রকম প্রচারণা চালানো যায় সেগুলোও খুবই দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছে।

যা হোক, আমি আবার মূল বক্তব্যে ফিরে যাই। আমরা বহুদিন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রীক লেখাপড়া করে যাচ্ছি, তাতে আমাদের সাফল্য কতখানি? ২০১৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির ছেলেমেয়েদের ৩৫ শতাংশই যেটুকু বাংলা পড়ার কথা সেটুকু বাংলা পড়তে পারে না, ৬০ শতাংশই যেটুকু গণিত জানার কথা সেটুকু গণিত জানে না। যখন তারা পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে তখন আমার সমস্যা কাটিয়ে ওঠার বদলে সমস্যা আরো বেড়ে গেছে, তখন ৮০ শতাংশ ছেলেমেয়ে যেটুকু জানার কথা সেটুকু জানে না। সংখ্যাটি অবিশ্বাস্য, মেনে নিতে কষ্ট হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন বের হয়েছে, সেখানে তারা আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার অবস্থাটা একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনের প্রথম ১১ বছরের লেখাপড়ার মধ্যে সাড়ে চার বছর পরিমাণ সময় লেখাপড়া হয় না। অর্থাৎ আমরা তাদের ১১ বছরে সাড়ে ছয় বছরের সমান পড়িয়েছি।
বিষয়টি নিয়ে যে পরিমাণ হৈচৈ, আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সেটি হয়নি। অবাক হওয়ার কিছু নেই, সমস্যার সমাধান করা কঠিন, মেনে নেওয়া অনেক সহজ। তখন কাউকেই কিছু করতে হয় না; এক-দুটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেই নিজের কাছে নিজে দায়মুক্ত থাকা যায়। নানা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের জরিপ নানা পরিসংখ্যানের কতটুকু খাঁটি কিংবা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য, আমি সে আলোচনায় যাচ্ছি না। আমি শুধু সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, এ দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ছেলেমেয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় পড়াশোনা করে। তাদের সবাইকে যদি একটুখানিও ঠিক করে পড়াশোনা করানো যায়, সেটি বিশাল একটি ব্যাপার। ঠিক সেরকম আমরা যদি তাদের লেখাপড়া করাতে একটুখানিও ব্যর্থ হই, সেটি ঠিক সেরকম বিশাল একটি বিপর্যয়। কতটুকু লেখাপড়া হয়েছে তার সঠিক পরিমাপ করার জন্য সবাই মিলে গবেষণা করতে থাকুক; কিন্তু কোনো রকম গবেষণা না করেই আমরা অন্তত একটি বিষয় বলে দিতে পারি। সেটি হচ্ছে- আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের জীবন হচ্ছে আনন্দহীন। পরীক্ষার জন্য ছুটতে ছুটতে যে জীবন গাইড বই আর কোচিং সেন্টার দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে, সেই জীবনে একটি শিশুর জীবনকে উপভোগ করার সময় কোথায়?
মস্তিষ্কের মধ্যে তথ্য ঠেসে দেওয়াটা শিক্ষা নয়, বইপত্রে তথ্য আছে—যখন দরকার সেই তথ্য দেখে নেওয়া যাবে—মুখস্থ করে সেটি মাথায় ঢোকাতে হবে কেন? শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মস্তিষ্ককে শাণিত করে রাখা, যেন সেটি সমস্যার সমাধান করতে পারে, অনেক তথ্য দিয়ে দিলে সেটি বিশ্লেষণ করতে পারে, নতুন কিছু করতে পারে। শিক্ষার উদ্দেশ্য মোটেও তথ্য মুখস্থ করা নয়।
৩.
কেউ যেন মনে না করেন, আমি বলছি আগামীকাল থেকে বাংলাদেশের সব স্কুল-কলেজ থেকে হুট করে সব পরীক্ষা তুলে দেওয়া হোক! শুধু তা-ই নয়, ফিনল্যান্ডে যে মডেল কাজ করেছে আমাদের দেশেও সেই মডেল কাজ করবে—তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফিনল্যান্ডে সবচেয়ে লোভনীয় চাকরি হচ্ছে স্কুলে শিক্ষকতা, আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো! আমাদের দেশে শিক্ষকের চাকরিতে সম্মান নেই, অর্থবিত্ত বা সুযোগ-সুবিধা নেই, বড় হওয়ার সুযোগও নেই। ফিনল্যান্ডের শিক্ষকরা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে আলাদা করে বড় করে তোলেন। আমাদের দেশের স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষক নেই, বাচ্চারা নিজেরা  হৈচৈ-চেঁচামেচি করে সময় কাটাচ্ছে। শিক্ষার জন্য আরো অনেক টাকা খরচ না করলে আমরা এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারি?
তারপরও আমাদের লেখাপড়ার পুরো বিষয়টি আলাদা করে ভেবে দেখার সময় হয়েছে। যখনই আমরা গতানুগতিক নিয়মের বাইরে গিয়ে ছেলেমেয়েদের কিছু একটা শেখানোর চেষ্টা করেছি, তারা সেই সুযোগ গ্রহণ করেছে। এ দেশের অলিম্পিয়াডগুলো হচ্ছে তার উদাহরণ। সারা পৃথিবীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে অলিম্পিয়াডের প্রতিযোগীরা স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা ব্রোঞ্জপদক নিয়ে আসছে। আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি, যখন দেখেছি আমাদের প্রাইমারি স্কুলগুলোয় গণিত অলিম্পিয়াড পদ্ধতি ব্যবহার করে ছেলেমেয়েদের গণিত শেখানো যায় কিনা সেটি নিয়ে একটি পাইলট প্রজেক্ট হয়েছে। সত্যি সত্যি সেটি যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে অন্ততপক্ষে গণিত শেখার সময় ছেলেমেয়েরা বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে একটুখানি হলেও আনন্দমুখর পরিবেশে শিখতে পারবে।
লেখাপড়ার ব্যাপারে সারা পৃথিবীতেই একটি পরিবর্তন আসছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কথাটি আমরা খুব ঘন ঘন শুনতে পাচ্ছি। অটোমেশন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে পৃথিবীতে খুব তাড়াতাড়ি মানুষের গতানুগতিক প্রয়োজন কমে আসবে। সবাই আশঙ্কা করছে, দেখতে দেখতে কোনো একদিন সাধারণ গতানুগতিক মানুষেরা আবিষ্কার করবে এই পৃথিবীতে তার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর সবাই সেই সময়টির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমাদেরও নিতে হবে। সে সময়টিতে যান্ত্রিক মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী মানুষের কোনো প্রয়োজন থাকবে না। তাই আমাদের ছেলেমেয়েদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যেন তারা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে, সমস্যার সমাধান করতে পারে। প্রয়োজনে নতুন নতুন ধারণা দিতে পারে।
এর জন্য যদি পরীক্ষা তুলে দিতে হয়, সেটিও নিশ্চয়ই তুলে দেওয়া যাবে। তবে আগে যেভাবে হুট করে একজন আমলা কিছু একটা বড় পরিবর্তন করে ফেলতেন, সেভাবে নয়—চিন্তাভাবনা করে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, আলাপ-আলোচনা করে, গবেষণা করে।
এর কারণ আমাদের সবার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হতে হবে এ দেশের শিশু-কিশোরদের একটি আনন্দময় শৈশব উপহার দেওয়ার। সেটি যদি করতে না পারি, তাহলে তারা আমাদের কোনো দিন ক্ষমা করবে না। লেখক : কথাসাহিত্যিক, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট


ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। প্রথম পর্ব

আমাদের চারপাশে ইংরেজি শেখার প্রচুর ম্যাটেরিয়ালস আছে। এগুলো ব্যবহার করে নিজে নিজে ইংরেজি প্র্যাকটিস করা যায়। ইংরেজি শেখা যায়। অন্যকে শেখানো যায়। কী কী ম্যাটেরিয়ালস আমরা সহজে ব্যবহার করতে পারি, কীভাবে ব্যবহার করব তাও আলোকপাত করা হবে।

আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, বর্তমান যুগে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা  ইচ্ছায় হোক; অনিচ্ছায় হোক, পছন্দ করে হোক; পছন্দ না করে হোক, ভারতীয় হিন্দি ছবি, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রতিনিয়ত টিভির পর্দায় দেখছে ও শুনছে। এই শুনে শুনে এবং দেখে দেখে তারা হিন্দি বলা শিখে ফেলেছে অর্থাৎ তারা ভাষার দুটো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শোনা ও বলা অর্জন করে ফেলেছে।
 
তারা ভারতে যায়নি, স্কুলে যায়নি, হোমওয়ার্ক করেনি, কোনো কোচিং সেন্টারে যায়নি, কোনো প্রাইভেট টিচারের কাছে যায়নি হিন্দি শিখতে। জীবনে কোনো পরীক্ষাও দেয়নি। কিন্তু হিন্দি বলতে পারে, হিন্দি শুনে বুঝতে পারে অর্থাৎ তারা দুটো গুরুত্বপূর্ণ স্কিল অর্জন করে ফেলেছে। অথচ ইংরেজি আমরা ক্লাসে পড়ছি-পরীক্ষা দিচ্ছি, বাসায় পড়ছি ও পড়াচ্ছি, কোচিংয়ে পড়াচ্ছি-পরীক্ষা দিচ্ছি, প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ছি-পরীক্ষা দিচ্ছি, পাবলিক পরীক্ষা দিচ্ছি, সার্টিফিকেট অর্জন করছি। কিন্তু হিন্দির মতো ইংরেজি বুঝি না। বলতেও পারি না। 

না পারার কারণগুলো কী কী হতে পারে? শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছি, কারণগুলো তোমরা নিজেরাই বের করে দেখ। তোমরা কী চাও না হিন্দিতে যেভাবে কথা বলতে পার, হিন্দি শুনে যেভাবে বুঝতে পার, ইংরেজিতেও তোমাদের তাই করতে হবে? শিক্ষক এবং অভিভাবক হিসেবে আমরা যদি ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সামনে রঙিন ছবি ও আকর্ষণীয় অ্যাক্টিভিটি করাতে পারি। তাহলে তারা তাদের অজান্তেই ইংরেজি ভাষা শেখা শুরু করবে। যেমনটি তারা হিন্দি সিনেমা দেখে হিন্দি শিখে ফেলছে। 

এখানে আর একটি বিষয় কিন্তু উঠে এসেছে। সেটি হচ্ছে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে ইংরেজি পড়াচ্ছি বা শেখাচ্ছি তাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে ব্যবহার করার মতো ইংরেজি শিখছে না।

লেখক: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত 

প্রাথমিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের প্রয়োজন আছে কি?

ডেস্ক,৩মার্চ:

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্তৃপক্ষ সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করবেন কিনা অথবা পদ সৃষ্টি করলে তাদের কততম গ্রেড দেওয়া হবে, এটা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে অন্যতম একটি আলোচিত-সমালোচিত ইস্যু। কিছু সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক এই পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অধিকাংশ সহকারী শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সমিতিগুলো একযোগে এই পদ সৃষ্টির বিরোধিতা করছেন।

সহকারী শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সমিতিগুলো মনে করছেন যে এই পদ সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যকে আরো বৃদ্ধি করবে। অন্যদিকে যে অল্প কয়েকজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক এই পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন তাদের যুক্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা যেহেতু ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হচ্ছে সেহেতু এই পদ সৃষ্টি করা হোক। তারা এই পদ সৃষ্টির সমর্থনে হাইস্কুল ও কলেজের উদাহরণ দিচ্ছেন। আমি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে এটা বলতে চাচ্ছি না যে এই পদের একেবারে দরকার নেই। এই পদের দরকার অবশ্যই আছে; তবে বর্তমানে এই পদের আসলে কোন দরকার নেই।

হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক কর্মরত থাকেন প্রায় ১৫-২০ জন, সেখানে আরো কর্মরত থাকেন একজন দপ্তরি, আয়া, নাইট গার্ড ও অফিস সহকারী। তাছাড়া হাইস্কুলে রয়েছে বিশাল অবকাঠামো। তাই হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের দরকার আছে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতো দূরের কথা, অনেক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি চালানোর মত শিক্ষক ও অবকাঠামো নেই। অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ৫ জন করে শিক্ষকের পোস্ট রয়েছে। তারমধ্যে পদশূন্যতার কারণে কতগুলো স্কুলে চার জন, তিন জন, দু’জন এমনকি একজন শিক্ষকও রয়েছেন এমন স্কুলও আছে বলে পত্রিকার মাধ্যমে কিছুদিন আগে জানা গিয়েছিল। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো অফিস সহকারী নেই। এমনকি কিছু স্কুলে দপ্তরি পদ থাকলেও অধিকাংশ স্কুলে দপ্তরি পর্যন্ত নেই। তাই শিক্ষকদের পাঠদান ছাড়াও নিজেদেরকে দপ্তরি ও অফিস সহকারী হিসেবে স্কুলের সব কাজ করতে হয়। তাহলে বলুনতো প্রাথমিকে বর্তমানে কোন পদ জরুরি দরকার অফিস সহকারী নাকি সহকারী প্রধান শিক্ষক?

একজন সহকারী শিক্ষককে যেখানে দৈনিক ৭-৮টা ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি দপ্তরি ও অফিস সহকারীর কাজগুলো করতে হয় সেখানে সব স্কুলে সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, একজন করে দপ্তরি ও অফিস সহকারীর পদ সৃষ্টি না করে এই মুহূর্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা আমার মনে হচ্ছে বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নয়; বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর কথাতো বাদই দিলাম। হ্যাঁ, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের দরকার হবে এক সময়, যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হবে, ১০-১৫ জন সহকারী শিক্ষক নিযুক্ত থাকবেন, অফিস সহকারী, দপ্তরি, আয়া, নাইট গার্ড নিযুক্ত হবেন, উন্নত অবকাঠামো হবে। তখন সহকারী প্রধান নিয়োগ দিলে কোন সমস্যা নেই।

আবার সহকারী প্রধান নিয়োগ দিলেই যে ১টা গ্রেড ব্লক রেখে সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করতে হবে তারও কোনো যুক্তি নেই। সহকারী শিক্ষকদের ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের একই গ্রেডে রেখে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করলেতো কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারের গ্রেড একই (৯ম), পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের গ্রেডতো একই (৯ম)। সেখানেতো কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক উভয়ের গ্রেড একই হলে সমস্যা কি? তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিনীত নিবেদন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের জন্য আপাতত সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা স্থগিত রেখে সহকারী শিক্ষকদের দ্রুত ১১তম গ্রেড প্রদান করুন।

তারপরেও যদি কর্তৃপক্ষের মনে হয় যে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি প্রয়োজন তাহলে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক উভয়কে একই গ্রেডে (১১তম গ্রেডে) রাখুন। প্রয়োজনে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা/বাড়তি ২/৩টি ইনক্রিমেন্ট দেয়া যেতে পারে। তাই ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করলেও যেন সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করে ১টা গ্রেড সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য ব্লক করে না রাখা হয়। এটাই সহকারী শিক্ষকদের একান্তই চাওয়া। এতে করে ভবিষ্যতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হলেও সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক উভয়ই সন্তুষ্ট থাকবেন।

কর্তৃপক্ষের একথাও মনে রাখা উচিত যে সহকারী শিক্ষকরাই পাঠদানের মত আসল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন। তাই তাদেরকে বঞ্চিত করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা কখনো অর্জন করা সম্ভব নয়।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড়।

সন্তান পড়া মনে রাখতে পারছে না?

ডেস্ক

সন্তান পড়া মনে না রাখতে পারলে কি অমনযোগিতাই এর জন্য শুধু দায়ী? না কি মনে রাখতে না পারাটাও একটা সমস্যার কারণে হচ্ছে? আপনিও হয়তো সারা দিনের শেষে সন্তানের পড়াশোনার বিষয় নিয়ে ভাবতে বসলেই অমনযোগিতার কথাই হয়তো আপনাকে চিন্তায় ফেলছে।

তবে শাসন বা সন্তানকে তিরস্কার কিন্তু এই অমনোযোগের অসুখকে কমাতে পারবে না। তার জন্য দরকার কিছু জরুরি কৌশল। দেখে নিন কোন কোন উপায়ে এই অমনোযাগিতাকে কমানো যায় সহজেই।

সন্তান কিছুটা বড় না হওয়া পর্যন্ত পড়তে বসলে তার সামনে থাকুন। এমন একটা সময় তার পড়ার জন্য ঠিক করুন, যখন আপনি বাড়িতে থাকবেন। আপনি সামনে থাকলে সন্তানের ভুলে যাওয়ার কারণ, কোথায় সমস্যা তা সহজে বুঝতে পারবেন।

শিশুর ক্ষেত্রে ছবির সাহায্য নিন। পড়ার বিষয়টা ছবি এঁকে, প্রয়োজনে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করে বোঝান। পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল কোনো দৃশ্য খুব ভাল কাজ করে।

তাই ইতিহাস বা নাটক বোঝালে অবশ্যই সেই ঘটনার উপর নির্মাণ করা নাটক বা সিনেমার দৃশ্যও দেখাতে পারেন। তবে সাহিত্য নির্ভর হলে তবেই তা দেখাবেন। বইয়ের গল্প পরিবর্তন করা নাটক-সিনেমা দেখাবেন না।

সন্তান যা পড়ছে সেটা আপনাকে আবার বোঝাতে বলুন। এটা করতে পারলেই পড়া বুঝে মনে রাখা সহজ হবে। পড়া ভাল মত বুঝে লিখে ফেলতে বলুন। লিখে ফেললে সহজেই মনে রাখতে পারবে।

ইতিহাস বা সাহিত্যকে গল্পের ছলে বুঝিয়ে বলুন সন্তানকে। মনে রাখা যায় এমন কিছু কৌশল আছে যেমন, কোনো কোনো সাল-তারিখ বা বানান, রসায়নের বিশ্লেষণ মনে রাখার সহজ কিছু ফর্মুলা আছে। নেট থেকেও সে সব জানা যায়। নিজেই তা এক জায়গায় লিখে সন্তানকে বুঝিয়ে দিন।

শিশুর ইচ্ছা না করলে তাকে একটানা পড়াবেন না। সন্তানের তাতে বেশি ভুলে যাবে বরং পড়ার মাঝে মাঝে ওর পছন্দের কিছু করতে দিন। এতে আনন্দ পাবে ও পড়াও মনে রাখতে পারবে।

পড়া পারলে তাকে বিভিন্ন খেলনা বা কাপড় কিনে দেয়ার লোভ দেবেন না। এতে মনঃসংযোগ তো বাড়েই না বরং সে যাই করে তা পুরস্কারের লোভে করে।

পড়াশোনাকে খেলার ছলে সহজ করে তোলার পরেও যদি তার মনঃসংযোগ না বাড়ে তবে মনোবিদের সাহায্য নিন। এতে সমস্যার সমাধান হবে অনেকটাই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি সাড়ম্বরে পালন করবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশে মহান এই নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি সাড়ম্বরে পালন করবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। এদিন পুরো জাতি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করা হয়। বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামী হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। আন্তর্জাতিক চাপে পরাজিত পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
২৯০ দিন পাকিস্তানের কারাগারে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গণনা শেষে লন্ডন-দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।
বঙ্গবন্ধু হানাদারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বিজয়ের মালা পরে। সেদিন বাংলাদেশে ছিল এক উৎসবের আমেজ। গোটা বাঙালি জাতি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল কখন তাদের প্রিয় নেতা, স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতি স্বাধীন দেশের মাটিতে আসবেন। পুরো দেশের মানুষই যেন সেদিন জড়ো হয়েছিল ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায়। বিমানবন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত রাস্তা ছিল লোকারণ্য। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের গণহত্যার কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা দেন, ‘রক্ত দিয়ে হলেও আমি বাঙালি জাতির এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করে যাবো।’
এরপর প্রতি বছর কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি নানা আয়োজনে পালন করে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এবার আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এ দিনটি। একাদশ সংসদে বিজয়ী হয়ে তার দল গত ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করেছে। নেতাকর্মীরা তাই আনন্দে আছেন।
এদিকে দিনটি পালনের অংশ হিসেবে বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এছাড়া সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন এবং সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে সংগঠনের সব শাখাকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

শারীরিক অনুশীলন শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, শারীরিক অনুশীলন শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আগে ধারণা ছিল, শুধু চিন্তা করলেই বুঝি ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু স্পেনের গ্রান্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল জানাচ্ছে, এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। শুধু পড়াশোনা করলেই ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ে না। তার জন্য দরকার শারীরিক কসরত। গবেষণায় জানা গেছে, যেসব শিশু নিয়মিত খেলাধুলা করে তাদের মস্তিষ্কে গ্রে মেটারের পরিমাণ বাড়ে। গ্রে মেটার মস্তিষ্কের এমন একটি উপাদান, যা স্মৃতিশক্তি ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়। শারীরিক অনুশীলনকারী শিশুদের মানসিক ক্ষমতাও বেশি হয়। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। গবেষক দল আরো জানিয়েছে, শারীরিকভাবে দক্ষ শিশুরা অন্যদের তুলনায় যারা খেলাধুলা না করে সারাক্ষণ বই নিয়ে পড়ে থাকে তাদের চেয়ে বেশি সামাজিকভাবে দক্ষ হয়। প্রথমদিকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় একটু খারাপ হলেও পরবর্তীতে তারা খুব দ্রুতই সেই শূন্যতা কাটিয়ে উঠে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বরং খেলাধুলা না করে যেসব শিশু সারাক্ষণ শুধু পড়াশোনা নিয়ে মেতে থাকে, প্রথম জীবনে তারা ভালো ফলাফল করলেও পরবর্তী জীবনে অনেক কিছুই ব্যর্থ হয়। গ্রান্ডা বিশ্ববিদ্যালয় এবং হেলথ ইনস্টিটিউটের গবেষক দলের প্রধান ফ্রান্সিস কো বি ওর্তেগা জানিয়েছেন, শারীরিক দক্ষতা শিশুদের ব্রেনের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সরাসরি দ্রুত সংযুক্তি তৈরি করে, যা তাদের সারাজীবনের কর্মকাণ্ডের ওপর পজিটিভ প্রভাব ফেলে। প্রাতিষ্ঠানিক ও কর্মজীবনে তারা দ্রুত সফল হয়।

সংবাদটি আমাদের বাংলাদেশের শহুরে শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কারণ আমাদের দেশের শিশুরা এখন নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পায় না। ছোট ছোট ফ্ল্যাটে বন্দি তারা। স্কুলে ও এলাকায় খেলার মাঠ নেই। খেলা বলতে তাদের এখন কম্পিউটারে মোবাইলে ভিডিও গেমস। ফলে শারীরিকভাবে তারা খুব দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যান্য রোগের সঙ্গে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতেই হয়তো তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তার জন্য এখনই সচেতনতা দরকার। শিশুদের অবশ্যই প্রতিদিন কিছু শারীরিক অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে হবে।

নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত’

আশিক রহমান: নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নতি করতে হলে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নতি করতে হবে। তাদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই, যদি আমরা একটা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা দেখতে চাই। শিক্ষকেরা যখন রাস্তায় শুয়ে থাকেন, অনাহারে থাকেন, অনশন করেন দাবি আদায়ের জন্য তখন তো বুঝতে হবে শিক্ষকদের মান-মর্যাদাও নেই। মান-মর্যাদা নির্ভর করে বেতন-ভাতার উপরে, এটা হচ্ছে প্রাথমিক শর্ত। তাই নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত যাতে করে তারা কর্মক্ষেত্রে চলে যেতে পারেন, স্বস্তি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেই ব্যবস্থা দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। জাতীয় বাজেটেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। শিক্ষার জন্য বাজেটও অপ্রতুল। সেই বাজেটও এখন প্রতিনিয়ত কমছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা গুরুত্ব না দিলে শিক্ষককেও তো গুরুত্ব দেওয়া হবে না। শিক্ষা এখন তিন ধারায় বিভক্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষকেরা ভালোই আছেন। কিন্তু মূল ধারার শিক্ষকেরা কতটা খারাপ অবস্থায় রয়েছেন তার প্রতিফলন ঘটে এ ধরনের অনশনের মধ্যদিয়ে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষকেরা আসলে বাধ্য হচ্ছে আন্দোলন-অনশন করতে। এতেই বোঝা যায় আন্দোলনরত শিক্ষকেরা কতটা খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। বলা যায় একরকম অসহায় হয়েই এই অনশন-আন্দোলনে নেমেছেন। শিক্ষকদের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি দেওয়া দরকার। কিন্তু দৃষ্টিটা দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দেখছি যে, তারা দিনের পর দিন আন্দোলন করে যাচ্ছেন, কিন্তু এর প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে যে মনোযোগ দেওয়া উচিত তা হচ্ছে না।

শিক্ষকদের দাবি যেন পূরণ না হয়

খুশি কবির : আমাদের শিক্ষকরা হলেন জাতি গড়ার কারিগর। আমাদের সংবিধানে রয়েছে, যারা যে চাকরি করে, তাদের নূন্যতম মজুরী দিতে হবে। সে মজুরী অনুযায়ী তারা যেন সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকতে পারে। শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে শিক্ষা দিয়ে থাকেন, তাহলে ২টি জিনিস তাদেরকে অবশ্যই দিতে হবে। শিক্ষাদান করার মানসিকতা বৃদ্ধি করতে হবে। তারা যেন ভালভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তারা শিক্ষাটাকে নিয়ে বাণিজ্য না করে, সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য সকল শিক্ষকদের অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে সম্মান দেওয়া উচিত।

তাহলে তারা কেন আজ প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে নামবে? এজন্য তাদের এমনভাবে বেতন ধরা হয়, সেটি দিয়ে যেন তারা বেঁচে থাকতে পারে, স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে, এজন্য তাদের দাবিটি যৌক্তিক কি-না, সেটি বর্তমান সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। তাদের দাবিটি যেন নিরাশ না হয়ে যায়, তারা যেন নিরাশ হয়ে বাড়িতে না ফিরতে হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে, সকল শিক্ষক ছেলেমেয়েদে কে ভাল করে শিক্ষা দিবেন, এটা আম্র প্রত্যাশা।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter