ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হওয়ায় এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোসহ একাধিক সাশ্রয়ী পদক্ষেপের কথা ভাবছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা কিংবা অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব
সূত্রগুলো বলছে, ইতোমধ্যে সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আলোচনার পর সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
শিক্ষা খাতে অনলাইন ক্লাসের ভাবনা
পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।
রোববার মন্ত্রণালয় থেকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে—
- সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
- অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এসব নির্দেশনা আগে দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। ফলে নির্দেশনা বাস্তবায়নে আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের প্রশাসন, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই সরকার আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।











