এমপিওভুক্তির শর্ত শিথিল, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক পদ যুক্ত হচ্ছে

এমপিও নীতিমালা সংশোধন ২০২৫ শিক্ষা মন্ত্রণালয়

স্টাফ রিপোর্টার | ৪ নভেম্বর ২০২৫

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্ত শিথিল করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন নীতিমালায় ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’ পদটি বিলুপ্ত করে ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদ যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া এমপিওভুক্তির মানদণ্ডে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যার মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাসের হার কমানো থাকতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২১ সংশোধন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যমান এমপিও নীতিমালার কিছু বিষয়ে সংশোধন করা হবে। সভার সিদ্ধান্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।”

২০২১ সালের মার্চে জারি করা নীতিমালায় উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’ পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
নতুন সংশোধনীতে এই পদটি বিলুপ্ত করে পুনরায় ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর ফলে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পদোন্নতির কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসছে।
সহকারী অধ্যাপক পদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা মানদণ্ড আগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদের মতোই থাকবে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী—

এমপিওভুক্ত প্রভাষকরা ৮ বছর সন্তোষজনক চাকরির পর মূল্যায়নে নির্ধারিত মান অর্জন করলে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন (প্যাটার্নভুক্ত পদের সর্বোচ্চ ৫০%)। যারা তালিকাভুক্ত হবেন না, তারা ১০ বছর পূর্তিতে গ্রেড–৯ থেকে গ্রেড–৮–এ উন্নীত হবেন। ১৬ বছর এমপিওভুক্ত থাকলে ধারাবাহিকভাবে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়া যাবে। এ পদের বেতন গ্রেড–৬, যা আগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদের সমান।

🔹 অধ্যক্ষ পদে নতুন যোগ্যতা

উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের যোগ্যতাও সংশোধিত হচ্ছে। আগে অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১২ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যেত।

এখন নতুন ধারায় যুক্ত হয়েছে— স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করতে পারবেন।

প্রধান শিক্ষকরা যদি অন্তত ২ বছরের দায়িত্বে থাকেন এবং মোট ১৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকে, তবে তারা অধ্যক্ষ পদের প্রার্থী হতে পারবেন। সহকারী প্রধান শিক্ষকরা ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করতে পারবেন।

🔹 মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদেও পরিবর্তন

আগে ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৫ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকলে যোগ্য ছিলেন। এখন নতুন নীতিমালায় সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৭ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করা যাবে।

সংশোধিত নীতিমালায় এমপিওভুক্তির শর্ত শিথিল করা হচ্ছে— কাম্য শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাসের হার কমানো হবে।তবে শহরাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ মান কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। এসব পরিবর্তন মঙ্গলবারের সভায় চূড়ান্ত হবে।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।