দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
এস কে দাসঃ অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দু’বছর পর এসব শিক্ষক বর্ধিত হারে বেতনভাতা পাবেন নাকি তাদের ‘গেজেটেড’ মর্যাদা হবে হবে তা নিরসন করবে অর্থ মন্ত্রনালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হোসনে আরা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উন্নীত গ্রেডে বেতন-ভাতা পেতে প্রধান শিক্ষকদের যে সমস্যা চলছিল, সহসাই তার অবসান হচ্ছে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তাদের সম্মতিপত্র পাওয়া গেলেই এ ব্যাপারে আদেশ জারি করা হবে।
এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এখনই কিছু বলতে নারাজ। তবে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরলেই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরামর্শ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৬৪০০ টাকায় (সপ্তম পে-স্কেলের হিসেবে) উন্নীত করে। কিন্তু এটি দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-গেজেটেড কর্মকর্তার বেতন গ্রেড। মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপে নানা জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে পুরনো প্রধান শিক্ষকদের বেতন সীমার অবনমন হয়ে যায়। শিক্ষক নেতাদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপ তাদের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাবহির্ভূত। তাদের দাবি ছিল, ‘গেজেটেড’ এবং ‘দ্বিতীয় শ্রেণী’। কিন্তু ‘গেজেটেড’ মর্যাদা দেয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় যুগ্ন আহবায়ক এস এম সাইদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা। প্রধানমন্ত্রী তা ঘোষনাও দিয়েছিল । কিন্তু বিশেষ অজুহাতে তা দিতে গড়িমসি করে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেল নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটাতে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়। ফাইলে মহাহিসাবরক্ষক কর্মকর্তার চাওয়া ব্যাখ্যা ও আপত্তির জবাব সংবলিত সর্বশেষ পত্র যুক্ত করা হয়েছে। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেলে বেতনভাতা নির্ধারণে জটিলতা নিরসন’ শীর্ষক একটি সারসংক্ষেপে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলে বেতনভাতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘…প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণে জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বরের পত্রটি সংশোধনপূর্বক ইতিপূর্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ৩য় শ্রেণী থাকাকালে যত সংখ্যক টাইস স্কেল পেয়েছেন/প্রাপ্য হয়েছেন, তাকে ততসংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে উন্নীত পদমর্যাদা ও বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণ আবশ্যক।’ এতে প্রধান শিক্ষকদের ‘নন-গেজেটেড’ হিসেবে ইতিপূর্বে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা সংযোজনসহ বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এম এম সাইদুল্লাহ আরও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭ ফেব্রুয়ারির পত্রটি অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনু বিভাগেই রয়েছে।সাধারণত এ ধরণের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে।সিনিয়র সচিব দেশে ফিরলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
আজ সিনিয়র সচিব না থাকলেও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সাথে তাঁর অফিসকক্ষে আলোচনা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগের পত্র ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্র যেভাবে উচ্চ পর্যায়ের মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে নিষ্পত্তি হয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারির পত্রও একইভাবে নিষ্পত্তি হবে। তিনি আরও জানান, গেজেটেড পদমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে ৭ ফেব্রুয়ারির পত্রের বিষয়বস্তু ও অন্যান্য উদাহরণ যাচাই-বাচাই করে সুবিবেচনা সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমিতির খুলনা বিভাগীয় আহবায়ক স্বরুপ দাস বলেন এর আগেও আমাদের মন্ত্রনালয় প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত্র বিষয়টি মন্ত্রনালয়ের হাতে রাখতে জনপ্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছিল। জনপ্রশাসন তা নাকোজ করে দেন। তাই প্রাথমিক ও গনশিখ্ষা মন্ত্রনালয় প্রস্তাব দিলেই তা অর্থমন্ত্রনালয় রাখবে এমন কোন কথা নেই। আমাদের দাবী হল গেজেটেড পদমর্যাদা ও ক্রসপন্ডিং স্কেল।







