প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত,২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর

Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। তাদের বেতন স্কেল ১১তম ও ১২তম গ্রেড থেকে উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানায়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‍”সরকার দেশের ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য ১১তম গ্রেড এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের জন্য ১২তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণে সম্মতি দিয়েছে। এতে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক মর্যাদা আরও সুসংহত হবে।”

আরো পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকরা সবাই ১০ম গ্রেড পাচ্ছে

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত উৎসাহ বাড়াবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

আদালতের নির্দেশনার পর বাস্তবায়ন

এর আগে, ১৩ মার্চ ২০২৪ তারিখে আপিল বিভাগ এক রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে মর্যাদা ও ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদানের নির্দেশ দেয়।

এ রায়ের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৯ মার্চের পূর্ববর্তী একটি সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়নের পথ খুলে যায়। সে সময় সরকার প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল, তবে বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়, যা নিয়ে শিক্ষক সমাজে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও আন্দোলন চলছিল।

রিট, রায় ও আদালত অবমাননার প্রেক্ষাপট

২০১৯ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে বলা হয়। সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।

এরপরও রায় কার্যকর না করায় শিক্ষকরা আদালত অবমাননার মামলা করেন এবং ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ চূড়ান্তভাবে আপিল বিভাগ রায় দেন। সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই অবশেষে সরকার ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।