দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত কলসালটেশন কমিটির সুপারিশ ও আদালতের রায়ের আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, খুশি নন শিক্ষকরা। সোমবার তিন দাবি পূরণে সরকারকে ৪ মে পর্যন্ত সময় দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।
জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে চার লাখের মতো শিক্ষক আছেন। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড ১১তম।
আরো পড়ুন: প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি
আর সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম। তবে নতুন প্রস্তাব অনুমোদন হলে সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড ১২তম এবং প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি’র সুপারিশ এবং আদালতের রায়ের আলোকে শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীতকরণের এই উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এরই অংশ হিসেবে শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাব দিতে অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এছাড়াও দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক’ পদ বিলুপ্ত করে এন্ট্রি লেভেলে ‘শিক্ষক’ পদ রেখে ১২তম গ্রেডে বেতন দেয়ার সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে গঠিত পরামর্শক কমিটি।
তবে সরকারের এসব সিদ্ধান্তে খুশি নন শিক্ষকরা। তাই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।
দাবিগুলো হলো- পরামর্শক কমিটির সুপারিশের যৌক্তিক সংস্কার করে সহকারী শিক্ষক পদে শুরুর পদ ধরে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, চাকরিতে ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি।
এই তিন দাবি পূরণে সরকারকে ৪ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে সংগঠনটি। যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হয় তাহলে ৫ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত আংশিক কর্মবিরতি এবং ২৬ মে থেকে লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকেরা বলছেন, আদালতের রায়ের আলোকে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এটি কেবল রিট আবেদনকারী শিক্ষকদের জন্য নয়, সব শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, শিক্ষকদের বেতন ও পদোন্নতির ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত কমিটির সুপারিশ বিশ্লেষণ করা হবে।
সেগুলোর সঙ্গে যদি শিক্ষকরা একমত হন, তাহলে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মরত শিক্ষকদের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ।











