Author Archives: chief editor

প্রধান শিক্ষক যখন ছাত্রী-শিক্ষিকার প্রধান আতঙ্ক

ডেস্ক,১৭ জুন: নারী সহকর্মীর গায়ে হাত দেওয়া, যৌন নিপীড়ন, কিশোরী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো –কোন অভিযোগ নেই তাঁর বিরুদ্ধে? তাঁর এক নারী সহকর্মী যেমন বললেন, ‘সে বলত, এই পোশাক ভালো না, চলো আমি তোমাকে পোশাক কিনে দেব, জুতা কিনে দেব। প্রায় দিনই সন্ধ্যায় সে আমাকে ফোন দিত। ফোন দিয়ে বলত, তোমাকে নিয়ে বলধা গার্ডেনে যাব, হাতিরঝিলে যাব, পার্কে যাব। তোমাকে ফোন দিলে তুমি চলে এসো। তার ফোন দেখলেই আমি আতঙ্কে থাকতাম।’

শুধু বলেই ক্ষান্ত নন তিনি। করেও দেখান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় ক্ষমতা খাটিয়ে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের অনেক কিছু করতে বাধ্য করেন।

আলোচিত এই শিক্ষকের নাম সরদার হেলাল উদ্দিন। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক শিক্ষিকা। এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের পাহাড়।

ওই শিক্ষিকা  বলেন, গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে তিনি খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ওই সময় হিজাবসহ বোরকা পরতেন। কিন্তু স্কুলটিতে যোগদানের দিনই সরদার হেলাল উদ্দিন তাঁকে জানান, এই স্কুলে বোরকা পড়া যাবে না। তখন ওই নারী শিক্ষক খেয়াল করেন, স্কুলটির অন্য শিক্ষিকারাও বোরকা পরেন না। পরে তিনি বিষয়টি মেনে নেন এবং হিজাব-বোরকা ছাড়াই কাজ শুরু করেন।

স্কুল ছুটি হওয়ার পর ওই প্রধান শিক্ষক তিনজন শিক্ষিকাকে অকারণে বসিয়ে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো কাজ ছাড়াই বসিয়ে রাখত। বলত, আমি মোটা হয়ে যাচ্ছি, আমাকে দেখতে এমন লাগছে। আমি যতদূর সম্ভব স্কুল ছুটির পর স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। তাঁর আচরণ সম্পর্কে স্কুলের দুজন শিক্ষিকাকে অল্প অল্প কিছু বলেছিলাম।’

ওই নারী বলেন, ‘১৩ জুন সকাল ১০টার সময় প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিন আমাকে ফোন দিয়েছে। ফোন দিয়ে বলেছে তোমার টাকা জমা দেওয়ার বইটা নিয়ে বের হও, তোমাকে নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাব। কাজ শিখানোর জন্য বোর্ডে কীভাবে এসে কাজ করতে হয় তা শিখে যাও। শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার পথে রিকশায় করে শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে যায়।’

তবে ফেরার পথে প্রধান শিক্ষক রিকশার হুড তুলে দেন জানিয়ে ওই নারী শিক্ষক বলেন, ‘আমি তাকে বলি স্যার হুড ওঠানোর দরকার নাই, আমি এভাবে বসতে পারছি না। রোদ নেই তবে কেন হুড উঠিয়ে দিচ্ছেন? রিকশায় কিছু দূর যাওয়ার পর সে আমার সাথে…। অনেক বাজেভাবে অশালীন আচরণ করেছে। সে আমার মোবাইলটাও হাতে রাখতে দেয় নাই, আমাকে জোরে চেপে ধরে রেখেছে। এমন সব বাজে বাজে কাজ করছিল, যা বলা অসম্ভব। এ সময় আমি লোকলজ্জার ভয়ে কিছুই বলতে পারছিলাম না। রিকশা থেকে নামার পর সে আমাকে বলে শুক্রবার আমাকে ফোন দিলে যেন আমি বের হই, সে আমাকে নিয়ে গাজীপুর যাবে। সেখানে গিয়ে তাঁর সাথে আমাকে সময় কাটাতে হবে। সে বলে ১৭ লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে আমাকে দিবে।’

রিকশা থেকে নেমে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে মামলার সিদ্ধান্ত নেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে স্কুলের অনেক ছাত্রী বলেছে যে তার চরিত্র ভালো না। সব কিছু মিলিয়ে আমি ১৪ জুন মামলা দায়ের করেছি। এ সময় স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল আমার সাথে। পিটি করাতে গিয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া, পিঠে হাত দেওয়াসহ ক্লাস এর ভেতরেও সে অনেক খারাপ কাজ করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এগুলো আমাকে বলেছে এবং অনেক শিক্ষার্থী এই সব ঘটনার বিষয়ে থানাতেও অভিযোগ করেছে।’

ওই নারীর মা  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর দুই ছেলে এক মেয়ে। গত বছর তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একটি বুটিক শপে কাজ শুরু করেন। সেই সঙ্গে তাঁর বড় মেয়ে সংসার চালাতে অনেকগুলো টিউশনি করতে শুরু করেন। কয়েক মাস আগে এক ভাইয়ের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে তাঁর মেয়েকে স্কুলটিতে যোগদান করতে বলেন সরদার হেলাল উদ্দিন। তবে সেখানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর ওই শিক্ষকের কুনজর পড়ে বলেও জানান ওই মা।

শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেরার প্রসঙ্গে ওই মা বলেন, ‘কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় সে রিকশায় উঠে আমার মেয়ের সাথে বাসায় আসার আগে পর্যন্ত যা ইচ্ছা করেছে। এমন আচরণ করেছে যা বলতে পারছি না, আবার বলে এমন হয় এতে মনে করার কিছুই নাই। আমার মেয়ে যখন বাসায় ঢুকছে তখন হতভম্ব হয়েছে এবং কান্নাকাটি করে বাসায় ঢুকেছে। আমি জিজ্ঞাস করেছি কী হয়েছে বল। বলে না শুধু কান্নাকাটি করে। অনেক পরে বলছে, হেলাল স্যার আমার সাথে আজ এই এই করেছে। এরপর আমি নিজে প্রধান শিক্ষককে ফোন দেই, ফোনে তাকে এত কিছু বলি কিন্তু সে কোনো উত্তর দেয় না। ফোন কেটে দেয়, এরপর আমার ফোন আর ধরে না।’

ঘটনার পরের দিন ওই নারী শিক্ষকের মা স্কুলে গিয়ে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শুধু আমার মেয়ে নয়, স্কুলের অনেক ছাত্রীদের সাথেই তাঁর এমন আচরণ। তাঁর বিচার হোক যেন অন্য কারো সাথে আর এমন না করতে পারে।’

স্কুলের মেয়েদের বুক ডাউন

সরদার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবার নতুন নয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে যখন তিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন না, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে কিছু শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়, ‘শারীরিক শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষার দিনে হেলাল স্যার আমাদের অত্যাচার করেছে। তিনি জানেন স্কুলের মেয়েরা বুক ডাউন দিতে পারে না, তাঁর পরেও তিনি মেয়েদের বুক ডাউন দিতে বাধ্য করেছেন। আমাদের এমন সব কাজ করিয়েছেন, তাতে ছয়জন ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার সরদার হেলাল স্যারের কঠোর শাস্তির আবেদন করছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, হেলাল উদ্দিন সব সময় ছাত্রদের বিভিন্ন অজুহাতে আতঙ্কের মধ্যে রাখেন। আর ছাত্রীদের নানা রকম অজুহাতে গায়ে হাত দেন। এমন অভিযোগ অনেকবার স্কুল কমিটির কাছে করা হয়েছে। সর্বশেষ খিলগাঁও থানায় উপস্থিত হয়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কথা লিখিতভাবে জানিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ

এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে খিলগাঁওয়ের স্থানীয়দের অনেক রকম অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করার চেষ্টাও করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের পাশের একটি বাড়ির এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কথা আমরা এলাকবাসী সবাই জানি। তাঁকে এখান থেকে সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই তিনি কিছু মাস্তান দিয়ে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখাতেন।’

স্কুল কমিটি ও সহকর্মীদের  অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্কুল কমিটির একাধিক সদস্য কাছে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘সরদার হেলাল উদ্দিনের নানা রকম অপকর্মের জন্য তাকে অনেকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে, ২০০৯ সালে অনেক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালের জুলাই মাসে তাঁর বরখাস্ত প্রত্যাহার চেয়ে তিনি একটি আবেদন করেছিলেন। ২০১১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা একটি লিখিত আবেদন করেছিল সরদার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।’

ছাত্রদের এমন অভিযোগের পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হেলাল উদ্দিনের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। এর জবাবে তিনি কমিটির কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চান বলেও জানান ওই সদস্য।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ জুন সরদার হেলাল উদ্দিনের নামে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্কুলের অন্য ছাত্রছাত্রীদের দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘কয়েক জন ছাত্রছাত্রী থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব কিছু শুনে আমরা ওই শিক্ষিকার দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করেছি এবং সরদার হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

Share
Tweet
Share
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাবির সান্ধ্যকালীন কোর্সের লাগাম টানার প্রস্তাব

ঢাবি প্রতিনিধি,১৭ জুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)বিভিন্ন বিভাগে চালু সান্ধ্যকালীন কোর্সের বিষয়ে নতুন করে ভাবার প্রস্তাব উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন সিনেটে এ প্রস্তাব দেন।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাষির্ক অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাব দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অধিবেশনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অধ্যাপক কামাল উদ্দীন বলেন, বাণিজ্যিকভাবে চালুকৃত সান্ধ্যকালীন কোর্সে নিম্নমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাহনি ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষায় এ ব্যাধি সংক্রামিত হওয়ার পূর্বে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

নামে-বেনামে অসংখ্য সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রাম খোলা, কখনও কখনও নামমাত্র বা ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া নিম্নমানের শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য বেশি ছাত্র, বেশি টাকা। তবে আশার বিষয় হচ্ছে কয়েকটি মাত্র ইনিস্টিটিউট এবং বিভাগ এ ধরনের শিক্ষা-বাণিজ্যে জড়িত, যা মোট বিভাগের ১০ ভাগের বেশি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় কোষাধ্যক্ষ চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হল- উপ উপাচার্য বা কোষাধ্যক্ষকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে এসব সান্ধ্যকালীন ও বিভিন্ন ট্রেনিং কর্মকাণ্ডের উপর বিশদ রিপোর্ট তৈরি করে উপাচার্যের নিকট পেশ করা, বর্তমানে সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের আয়ের ৩০ ভাগ থেকে বৃদ্ধি করে ৪০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে জমা দেয়া। সেখান থেকে ১০ ভাগ যেসব বিভাগে এসব কোর্স নেই সেখানে ব্যয় করা। এছাড়া নুতন বিভাগ খোলা হলে সেখানে তিন বছর পর্যন্ত কোন কোর্স না খোলা এবং চাকরির পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত আয়ের ১০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অধ্যাপক কামাল উদ্দীন সীমিত পর্যায়ে এসব কোর্স চালু রাখা, মান নিশ্চিত, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের তুলনায় সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম রাখার পক্ষে মত দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সারাদেশে রোববার চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৭ জুন: চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ থাকবে। রোববার (১৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে পরদিন (১৯ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা এ কর্মসূচি পালন করবেন চিকিৎসকরা। তবে ওই সময় সব ধরনের জরুরি চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।

গত ২৮ মে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসকদের মারধর এবং অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগে নয় জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগী মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসকের অবহেলায় হয়েছে বলে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিএমএ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল সকাল থেকে সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখা হবে। তবে ওই সময়ে জরুরি চিকিৎসা চলবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়ার জাহিন চৈতির মৃত্যুর অভিযোগ এনে সেন্ট্রাল হাসপাতাল ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ১৮ মে সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনায় চিকিৎসকদের দায়ি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিক্যাল অনুষদের ডিন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে এক নম্বর আসামি করে নয় জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর পরপরই সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. এম এ কাশেম ও ডা. সাজিদ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালত থেকে জামিন নেন তারা।

এসব ঘটনায় এর আগে গত ২৩ মে সারাদেশে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার কর্মসূচি দেয় বিএমএ। এছাড়া গত ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত চিকিৎসকরা কর্মক্ষেত্রে কালো ব্যাজ ধারণ করেন। দুই দফা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে বিএমএ। এসব কর্মসূচি চলাকালে গত ২৪ মে সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও ঢাবি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে সম্মত হয়।

তবে এই সমঝোতার বিষয়টি সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার কর্মসূচি অব্যাহত রাখে বিএমএ।

গত ২৫ মে বিএমএ’র এক মানববন্ধনে সংগঠনটির মহাসচিব বলেন, ‘কারও সঙ্গে আলোচনা না করে সমঝোতা করার মাধ্যমে চিকিৎসকদের সঙ্গে বেঈমানি করেছে সেন্ট্রাল হাসপাতাল।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা : করণীয়

সালমা আক্তার নিশু,১৭ জুন : শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা মজবুত না হলে মাধ্যমিক, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সফল হবে না। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে মজবুত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক। শিক্ষকদের যথাযথ বেতন ও মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এসব মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব। তা হলেই সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণেও সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বাধ্যবাধকতা মানতেও প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। বলা হয়ে থাকে — যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেশি সে দেশ তত উন্নত। প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শিশুই দেশের সম্পদ। এ সকল শিশুকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে ভর্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সঠিক শিশু জরিপ করা। বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও উন্নত হিসেবে গড়ে তোলা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানকে আধুনিক পদ্ধতি, কৌশল ও আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কার্যকর করা। প্রতিটি শিশুকে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় ইতিহাস জানানো প্রয়োজন। ধর্মীয়, নৈতিক ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করা। এক্ষেত্রে শিক্ষক, বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধিগণ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, ভিশন ২০২১, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল চালু করার মাধ্যমে শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও কার্যকর উদ্যোগ। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। জরুরি ভিত্তিতে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আধুনিক ও উন্নত ফিটিংস দ্বারা বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমকে পরিমার্জন করা হয়েছে। এই শিক্ষাক্রমকে সর্বস্তরে যথাযথভাবে বিস্তরণ ঘটাতে হবে। যোগ্যতাভিত্তিক সুঅভীক্ষা প্রণয়ন ও মুল্যায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। তবেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুফল আসবে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপসংহারে আমরা বলতে পারি যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যাপ্ত মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, আরও বেশি বেশি সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা সবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রাথমিক শিক্ষা আশাকরি।

আমরা স্বপ্ন দেখি অচিরেই বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এজন্য সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। জয় হোক প্রাথমিক শিক্ষার। জয় হোক শিক্ষার।

সালমা আক্তার নিশু

প্রধান শিক্ষক করিমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি ২৪ আগস্ট

ডেস্ক,১৩ জুন: আগামী ২৪ আগস্ট থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহে অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ১৫ অক্টোবর। সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সাধারণ এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ সম্মান ভর্তি কার্যক্রম শুরু, আসন সংখ্যা, ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় উপ-উপাচার্য চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. নোমান উর রশীদ, সকল ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক আইসিটি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাড়তে পারে ঈদের সরকারি ছুটি

অনলাইন ডেস্ক | জুন ১০ , ২০১৭

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটি দ্বিগুণ হতে পারে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ঈদের ৩ দিনের ছুটির পরিবর্তে ৬ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে অতিরিক্ত ৩ দিন নৈমিত্তিক ছুটি থেকে কেটে নেয়া হবে। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বছরে ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি থেকে ৩ দিন করে দুই ঈদে মোট ৬ দিন কেটে নিয়ে ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া সাপেক্ষে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বৃহস্পতিবার বলেন, ঈদের ছুটি তিনদিন থাকায় দূরে যাদের বাড়ি তারা যেতে পারেন না। বেশিরভাগ কর্মকর্তা সঙ্গে আরও ৩-৪ দিনের ছুটি নিয়ে থাকেন। ফলে ঈদের পর কয়েক দিন অফিস অনেকটা ফাঁকাই থাকে। এসব বিষয় চিন্তা করে ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি থেকে ৩ দিন করে মোট ৬ দিন কেটে নিয়ে ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে করে মানুষজন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শান্তিমতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। তবে বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।

জানা গেছে, সাধারণত ঈদের ছুটি তিন দিন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৫ বা ২৬ জুন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এজন্য ২৬ জুন ঈদ ধরে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন ঈদের ছুটি নির্ধারিত আছে।

ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ অফিস ২২ জুন বৃহস্পতিবার। ২৩ জুন শুক্রবার, একই সঙ্গে শবে কদরের ছুটি, ২৪ জুন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, ২৫ থেকে ২৭ জুন ঈদের ছুটি এবং মাঝে ২৮ ও ২৯ জুন ঘোষণা হতে পারে সরকারি ছুটি, ৩০ জুন শুক্রবার ও ১ জুলাই শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ ২৩ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিন ছুটির পর ২ জুলাই যথারীতি অফিস কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাহী আদেশে গত দুই ঈদে একদিন করে ছুটি বাড়িয়েছিলেন। এ জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের অতিরিক্ত একদিন অফিস করতে হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারি চাকরিতে জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ

ডেস্ক,১০ জুন : সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেটা মিমাংসা না করেই জেলা কোটা পুনঃনির্ধারণ করল সরকার। বিভিন্ন সময়ে মেধা কোটা বাড়ানোর দাবি উঠলেও এবার সেদিকে না গিয়ে শুধুমাত্র জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মেধার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েও তর্ক আছে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না। কিন্তু প্রশাসনিক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে সেক্ষেত্রে পদ শূন্য রাখা হয়। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মেধা বা অন্যান্য কোটায় অগ্রগামীদের মধ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিতে জেলার কোটা পুনঃনির্ধারণ করে আদেশ জারি করে। এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত আদেশ তিনি পাননি। তবে এখন পর্যন্ত ২০০১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে করা জেলা কোটা অনুসরণ করেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জনসংখ্যা কোথাও হ্রাস বা বৃদ্ধি হতে পারে। সে বিবেচনায় সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে জেলা কোটা পুনর্বিন্যাস হওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে এখন মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০, জেলা ১০, নারী ১০ এবং উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ। ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। সাধারণত সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি কোটা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান  বলেন, ২০১১ সালে আদমশুমারির নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া, বিভিন্ন জেলার জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং নতুন করে দুটি বিভাগ সৃষ্টি হওয়ায় জেলাওয়ারি পদ বিতরণের শতকরা হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশ জারি হওয়ায় আগের জেলা কোটার হার বাতিল বলে গণ্য হবে। নতুন আদেশে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ঢাকা জেলার জন্য সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলার জন্য সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক কোটার হার

ঢাকা বিভাগ:  ঢাকা জেলা ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, গাজীপুর ২ দশমিক ৩৬, মানিকগঞ্জ শূন্য দশমিক ৯৭, মুন্সীগঞ্জ এক শতাংশ, নারায়ণগঞ্জ ২ দশমিক ০৫, নরসিংদী ১ দশমিক ৫৪, ফরিদপুর ১ দশমিক ৩৩, গোপালগঞ্জ শূন্য দশমিক ৮১, মাদারীপুর শূন্য দশমিক ৮১, রাজবাড়ী শূন্য দশমিক ৭৩, শরিয়তপুর শূন্য দশমিক ৮০, কিশোরগঞ্জ ২ দশমিক ০২ এবং টাঙ্গাইল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: জনসংখ্যা অনুযায়ী ময়মনসিংহ ৩ দশমিক ৫৫, জামালপুর ১ দশমিক ৫৯, নেত্রকোণা ১ দশমিক ৫৫ এবং শেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ কোটা  পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম ৫ দশমিক ২৯, বান্দরবান শূন্য দশমিক ২৭, কক্সবাজার ১ দশমিক ৫৯, ব্রাহ্মবাড়িয়া ১ দশমিক ৯৭, চাঁদপুর ১ দশমিক ৬৮, কুমিল্লা ৩ দশমিক ৭৪, খাগড়াছড়ি শূন্য দশমিক ৪৩, ফেনী এক শতাংশ, লক্ষ্মীপুর ১ দশমিক ২০, নোয়াখালী ২ দশমিক ১৬ এবং রাঙ্গামাটি জেলায় শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী ১ দশমিক ৮০, জয়পুরহাট শূন্য দশমিক ৬৩, পাবনা ১ দশমিক ৭৫, সিরাজগঞ্জ ২ দশমিক ১৫, নওগাঁ ১ দশমিক ৮১, নাটোর ১ দশমিক ১৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ দশমিক ১৪ এবং বগুড়া জেলা ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

রংপুর বিভাগ: রংপুর জেলা ২ শতাংশ, দিনাজপুর ২ দশমিক ০৮, গাইবান্ধা ১ দশমিক ৬৫, কুড়িগ্রাম ১ দশমিক ৪৪, লালমনিরহাট শূন্য দশমিক ৮৭, নীলফামারী ১ দশমিক ২৭, পঞ্চগড় শূন্য দশমিক ৬৯ ও ঠাকুরগাঁওয়ের কোটা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।

খুলনা বিভাগ: খুলনা ১ দশমিক ৬১, যশোর ১ দশমিক ৯২, ঝিনাইদহ ১ দশমিক ২৩, মাগুরা শূন্য দশমিক ৬৪, নড়াইল শূন্য দশমিক ৫০, বাগেরহাট ১ দশমিক ০২, সাতক্ষীরা ১ দশমিক ৩৮, চুয়াডাঙ্গা শূন্য দশমিক ৭৮, কুষ্টিয়া ১ দশমিক ৩৫ এবং মেহেরপুর জেলা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

বরিশাল বিভাগ: বরিশাল ১ দশমিক ৬১, ভোলা ১ দশমিক ২৩, ঝালকাঠি শূন্য দশমিক ৪৭, পিরোজপুর শূন্য দশমিক ৭৭, বরগুনা শূন্য দশমিক ৬২ এবং পটুয়াখালী ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

সিলেট বিভাগ: সরকারি চাকরিতে নিয়োগে সিলেটে ২ দশমিক ৩৮, মৌলভীবাজারে ১ দশমিক ৩৩, সুনামগঞ্জে ১ দশমিক ৭১ এবং হবিগঞ্জের জন্য ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ জেলা কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ছাতকে ৬০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯জন উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত

ছাতক (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি:

ছাতকের জাউয়া ডিগ্রি কলেজের ৫৯ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দায়িত্বহীনতার কারণে তালিকাভুক্ত ৬০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯জন শিক্ষার্থী পাচ্ছে না তাদের উপবৃত্তির টাকা। এসব শিক্ষার্থীর দু’বছরের উপবৃত্তির প্রায় ২০লক্ষ টাকা তামাদি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
জানা যায়, জাউয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৬০ জনকে উপবৃত্তির তালিকায় আনা হয়। উপবৃত্তির তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইল নাম্বারসহ যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেছেন।  ঔ শিক্ষার্থীদের মোবাইল নাম্বারে পিনকোডসহ ম্যাসেজ না আসায় কলেজে যোগাযোগ করে বিলম্বে তারা ব্যাংক হিসাব খোলার খবর পায়। এসময়ই মোবাইলে ম্যাসেজ না আসার মূল কারণ জানতে পারে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তালিকাভুক্ত ৬০ জনের মধ্যে ৫৯ জন শিক্ষার্থীরই ভুল মোবাইল নাম্বার পাঠানোর ফলে ম্যাসেজগুলো তাদের মোবাইল ফোনে না এসে বিভিন্ন মোবাইলে চলে যায়। ফলে পিনকোড জটিলতার কারণে শেষ দিনে তারা ব্যাংক একাউন্ট খোলতে পারেনি। এনিয়ে কলেজ কর্তপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীরা জানতে চাইলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন।
উপবৃত্তি তালিকাভুক্ত লিপি শুক্লবৈদ্য, নিলফার আক্তার, মৌমতিাসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারের প্রদেয় উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। ডিগ্রিতে ভর্তির সময় মোবাইল নম্বরসহ সকল তথ্যাবলী তারা ভর্তি ফরমে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। কিন্তু উপবৃত্তি তালিকা প্রস্তুত করার সময় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকটি মোবাইল নন্বরে ভুল করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী অভিভাবক নিখিলেশ দাস ও ছৈল মিয়া জানান, শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্যাবলী ভর্তি ফরমে দেয়া আছে। ৬০জনের মধ্যে ৫৯জনের মোবাইল নম্বর ভুল প্রেরণের বিষয়টি থেকে কর্তৃপক্ষ দায়ভার এড়াতে পারে না। ঘটনাটিকে একটি বড় ধরনের কেলেংকারী বলে তারা মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল গাফফার জানান, ফরম পূরণের সময় ভুল করেছে শিক্ষার্থীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী মজুমদার জানান, উপবৃত্তির দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের সাথে মাধ্যমিক অফিস জড়িত নয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রক্তের গ্রুপ জানাবে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা!

অনলাইন ডেস্ক,১০জুন:  সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে, রক্তের গ্রুপের ওপরই নির্ভর করে আপনার হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কতটুকু। নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার গ্রোনিনজেনের একদল গবেষক জানিয়েছেন, যাদের রক্তের গ্রুপ ও, তাঁরা বাদে অন্য রক্তের গ্রুপ, যেমন এ, বি এবং এবি গ্রুপের রক্ত যাঁদের, তাঁদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

এ, বি এবং এবি রক্তের বিভাগ গুলিতে ১০ শতাংশ কার্ডিওভাসকুলার ইভেন্ট এবং ১০ শতাংশ করোনারি ইভেন্টের সম্ভাবনা বেশি থাকে। গবেষণায় আরো জানানো হয়েছে, রক্ত তঞ্চনকারী প্রোটিন (ভন ইউলব্র্যান্ড ফ্যাক্টরের) ঘনত্ব বেশি থাকে এই গ্রুপ গুলোর রক্তে। সাধারণত এই প্রোটিনটি যুক্ত থাকে থ্রম্বটিক ইভেন্টের সাথে। যা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

যাঁদের রক্তের গ্রুপ এ তাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। আর এই কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা।

গ্যালাকটিন ৩ এর মাত্রা ও গ্রুপের রক্ত ছাড়া অন্যসব গ্রুপের রক্তে এর পরিমাণ বেশি মাত্রায় থাকে। যা ইনফ্লামেশনের জন্য দায়ী। আর এই কারণেই এ, বি এবং এবি গ্রুপের রক্তে হার্ট অ্যাটাকের হার বেশি।

গবেষক কোলে তার ভাষায় বলেছেন, ও গ্রুপের রক্ত ছাড়া অন্যসব গ্রুপের রক্তের মানুষদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পাশাপাশি করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেলিওর এবং কার্ডিওভাসকুলার মর্টালিটির হারও বেশি মাত্রায়। যা সাধারণত ও গ্রুপের রক্তের তুলনায় অনেক বেশি। সূত্রঃ মেডিকেল নিউজ টুডে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ফেসবুক থেকে ডিলিট হওয়া যেকোনো কিছু ফিরিয়ে আনতে যা করবেন

যেভাবে ফিরিয়ে আনবেন ?

ধাপ ০১

প্রথমেই আপনাকে যেতে হবে ফেসবুকের Settings থেকে General অপশনে। ক্লিক করুন
ধাপ ০২
General Settings ওপেন হওয়ার পর নিচের দিকে দেখতে পারবেন Download a copy of your Facebook data এটিতে ক্লিক করুন।
ধাপ ০৩
Download Your Information নামে একটা পেজ আসবে। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন Start My Archive। ক্লিক করেলে ফেসবুক সিকুরিটির জন্য আপনার কাছে আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতে চাইবে। সঠিক ভাবে আইডি পাসওয়ার্ড দিন।
ধাপ০৪
আ ই ডি পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর Submit এ ক্লিক করুন। পরবর্তিতে একটি Download Link দেখতে পারবেন। কিছু সময় পরে (অনেক সময় ২৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে ) আপনার সকল ডাটা আপনার ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে যে ইমেইলটি আপনি ফেসবুক একটাউন্ট করতে ব্যবহার করেছিলেন।
ধাপ ০৫
আপনার Email চেক করুন। দেখবেন ফেসবুক থেকেএকটি ইমেইল আসবে সেখানে ডউনলোড লিংক দেওয়া থাকবে। লিংকে ক্লিক করে Download Archive থেকে আপনি ডউনলোড করে নিতে পারবেন । এখানে ডাউনলোড করার সময় পাসওযার্ড চাইবে।
ধাপ ০৬
ফাইলটি ডাউনলোড করার পরে একটা Zip ফইল পাবেন, ফাইলটি মাইসের রাইট বাটন ক্লিক করে Extrace All করুন। আনজিপ করার পর আপনার মেসেজ, ভিডিও, ছবি, পক , ফ্রেন্ডলিষ্ট ইত্যাদি দেখতে পারবেন। ফাইল গুলো অবশ্য .html ফরমেটে দেওয়া থাকবে। যে কোন একটি ফাইলের উপর ডাবল ক্লিক করে আপনার পছন্দের ব্রাউজার সিলেক্ট করে ওপেন করুন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : মাস্টার্স ভর্তির মেধা তালিকা প্রকাশ ১৩ জুন

অনলাইন ডেস্ক | জুন ০৮, ২০১৭

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স (প্রফেশনাল) ভর্তির মেধা তালিকা ১৩ জুন প্রকাশ এবং ১৬ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে।
ভর্তি কার্যক্রমে এল এল বি ১ম পর্ব, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স, এমএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স, মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ও এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং কোর্সসমূহের মেধা তালিকা প্রকাশিত হবে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, ওইদিন বিকেল ৪ টা থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল পাওয়া যাবে। SMS এর জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে nuatpmroll no লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করে ফল জানা যাবে এবং রাত ৯ টায় ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd/admissions থেকে জানা যাবে।

অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের মাস্টার্স ১ম পর্ব পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া বিসিএস নয়

অনলাইন রিপোর্টার ॥ জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া এখন থেকে কেউ আর বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন না। ৩৮তম বিসিএস থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে বলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, ৩৮তম বিসিএসের অনলাইনে আবেদন করতে বাধ্যতামূলকভাবে এনআইডি নম্বর লাগবে। কারও এনআইডি না থাকলে তিনি পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন না।

কারো এনআইডি না থাকলে কি হবে- এমন প্রশ্নে সাদিক বলেন, ‘যার এনআইডি নেই আমি তার পরীক্ষা নিতে পারবো না। দুই হাজার একশ পদে নিয়োগ দিতে এ মাসেই ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে সাদিক বলেন, ৩৮তম বিসিএস থেকেই পরীক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৬২৭ স্কুল নিয়ে সংকট পঞ্চম শ্রেণিতেই থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা,

নিজস্ব প্রতিবেদক ,৮ জুন : শিক্ষানীতি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারিত হওয়ায় তা কার্যকরের উদ্যোগের মধ্যেই এ অবস্থান থেকে সরে আসছে সরকার। আগের মতোই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিকের স্তর ঠিক রেখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয় ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাইলটিং হিসেবে সারা দেশে ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাওয়া যায়নি। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় এক বছর আগে মৌখিকভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় দালিলিকভাবে তা হস্তান্তর করতে পারছে না। এ অবস্থায় এখনই প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ ঠিক হবে কিনা সে সম্পর্কে তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এর বাস্তবতা রয়েছে কিনা, কিংবা এটার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে ভেবে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সায় মিলছে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার সময় আসেনি বলে মত দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবে শিক্ষানীতির মূল এজেন্ডা প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার নীতি থেকে সরে আসছে সরকার। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অষ্টম শ্রেণি থেকে সরে আসার বিষয়টি পরিষ্কার করবে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষানীতি থেকে সরকার সরে যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে না এটা নিয়ে চূড়ান্তভাবে বলার সময় এখনো আসেনি। কমিটি কাজ করছে। তাদের মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হোক। কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরার। আমাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি ছাড়াও অতিরিক্ত সচিব, দুজন মহাপরিচালক আছেন। তাদের নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব চিত্রটা খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইলটিং হিসেবে ২০১৩ সালে ৫০৩টি এবং ২০১৪ সালে ১২৪টি, মোট ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হয়। ওইসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। এর মধ্যে গত বছর ৩৮টি বিদ্যালয়ে জেএসসিতে পাসের হার ৫০ শতাংশের কম ছিল। গত বছর প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে গড় পাস করে ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি স্কুলগুলোর রিপোর্ট সংগ্রহ করছে কমিটি। সেই স্কুলগুলোর ফল ৬০%-এর নিচে। এসব স্কুলে ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ এখানে ন্যূনতম অবকাঠামো ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নেই।
অন্যদিকে মাধ্যমিকে এখনো ৭১ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাননি। সম্প্রতি সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিদ। মাধ্যমিক শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষকের অভাব খুবই প্রকট। এ স্তরে শিক্ষার মান বেশ নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করলে জটিলতা আরো বাড়বে। ভেঙে পড়বে দুই স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার মান হতাশাজনক হওয়ার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ মে : দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩৪তম বিসিএস ৮৯৮ জন নন-ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কাজ চুড়ান্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর । জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) সাফায়েত হোসেন । তিনি বলেন যে কোন সময় তাদের নিয়োগ কার্ড ইস্যু হবে।

সুত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) হাতে চলে গেছে। তাই গত মার্চে ৫ হাজার ৭৯৭ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র পিএসসিকে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছিল। কারণ, নন-ক্যাডার নিয়োগে বিধিমালায় প্রার্থীদের বয়সের শর্ত রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর, আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় রয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ বছর। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা রয়েছে, কিন্তু নন-ক্যাডার বিধিমালায় কোনো পোষ্য কোটা নেই।
সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে ।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৪৩ হাজার ও প্রধান শিক্ষকের প্রায় ২০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই। নীতিমালা নিয়ে পিএসসির জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আমরা জবাব দিয়েছি। আমরা বলেছি, আপনারা আপনাদের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমাদের শিক্ষক দরকার।
প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসির হাতে। পিএসসি এবং অধিদপ্তরের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে বিসিএস থেকে নিয়োগকৃতদের ১০ম গ্রেড দেবার চিন্তাভাবনা চলছে। এক্ষেত্রে তাদের নিয়োগ বিধি সংশোধন করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪-১৫ হাজার বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে পূরণ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফল প্রকাশ

রোববার প্রকাশিত এ ফলে পাশের হার ৮১ দশমিক ০৮।

এ পরীক্ষায় এক লাখ ১৯ হাজার ৩২৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯৮ হাজার ১২৪ জন।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় চলে যাওয়া সাতটি কলেজের ১৫ হাজারের মত পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বদরুজ্জামান।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় চলে যাওয়ার আগে ওই কলেজগুলোর পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তারা ব্যবহারিক এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি।

“এতে করে তাদের ফল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশও করা হয়নি।”

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ফল প্রকাশ করবে কি না; করলে কবে প্রকাশ করবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম জানান, ফল যেকোনো মোবাইল থেকে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd এবং  www.nubd.info থেকে জানা যাবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail