Author Archives: chief editor

প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারি শিক্ষক

মেহেরপুর প্রতিনিধি |

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) কে পেটালেন কম্পিউটারের সহকারি শিক্ষক আইউব আলী। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) মেহেরপুর সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২রা আগস্ট) কম্পিউটার শিক্ষক বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার হাজিরা খাতায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত দেখান। এদিকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আল মামুন ও অফিস সহকারী আশিকুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ফরম পুরনের টাকা ব্যাংকে জমাদেন। এতে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আইউব আলী ক্ষিপ্ত হন। তিনি বিদালয়ে এসে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও অফিস সহকারী আশিকুর রহমানকে মারধর করে। এ সময় শিক্ষদের উত্তেজনা দেখে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ত্যাগ করলে অন্যান্য শিক্ষকরা বিদ্যালয় ছুটির ঘোষণা দেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, গত তিনদিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। গতকাল শিক্ষা অফিসার এসে কম্পিউটার শিক্ষককে বিদ্যালয়ে না পেয়ে তার হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখাতে বললে আমি তাকে অনুপস্থিত দেখাই। আজ বিদ্যালয়ে এসে রফিকুল ইসলাম হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন। আমার কাছে কারণ জানতে চান। এছাড়াও তার অনুমতি ছাড়া ফরম পুরনের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে কেন জানতে চেয়ে বকাবকি করতে থাকেন। এক পর্যায় তিনি আমাকে বিদ্যালয়ের চেয়ার তুলে পেটাতে থাকেন।

সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) আইউব আলী বলেন, ১৩ বছর চাকরি করছি বেতন পাইনা। বিদালয়ের সার্বিক প্রশানিক কাজ হেড মাস্টারকে নিয়ে আমি করে থাকি। বাকি যারা আছে তারা সবাই নিকট আত্মীয়। আমি যে কোন কাজ করলে তারা হিংসায় জ্বলে। আমি ১৫ দিনের জন্য নির্বাচনের ভোটার হালনাগাদ কাজে আছি। এ জন্য গতকাল বিদ্যালয়ে যাইনি। তারা আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়েছে। আবার হেড মাস্টার ফরম ফিলাপের দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে। কিন্তু এরা আমাকে বাদ দিয়ে ফরম ফিলাপ করেছে। এ ফরম  ফিলাপের ভুল হলে দায় দায়িত্ব কে নেবে। এ কারণে আমার রাগ হয়েছে তাই আমি চেয়ার তুলে টেবিলে মারলে চেয়ারটি ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া আমি কাউকে মারিনি।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ দিনের ছুটিতে বাইরে আছি। তবে রফিকুল ইসলামকে পিটানোর ঘটনাটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেনেছি। শনিবারে বিদ্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে বসা হবে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা আফিসার হোসনে মোবারক বলেন, শিক্ষক আইউব আলী শিক্ষককে পিটিয়ে অন্যায় করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরণ অনশনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী

শিশির দাস: রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের এক শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয়ার জের ধরে চলমান সংকটের পঞ্চম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ক্যাম্পাসে অনশনে যান তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ক্লাস বন্ধ থাকার মধ্যেই ছয় শিক্ষার্থী অনশনে যান। একইসঙ্গে আজও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ছয় শিক্ষার্থীরা হলেন- আইন বিভাগের কামরুন নাহার, ইরফানুল রহমান, সাদিয়া আফরিন, শেখ নোমান, ম্যাথমেটিকস ও ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের আকাশ আহমেদ ও বিজনেস স্কুলের ইয়াসিনুর রহমান।

তাদের অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে গত ৩০ জুলাই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে রেজিস্ট্রার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা তার আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন। এরপর বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আহসান আহমেদ অনিক বলেন, “বৃহস্পতিবার কোনো পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছি না আমরা। সকাল ১০টা থেকে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।”

অনশনরত কামরুন নাহার সাদিয়া আফরিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ নিরাপত্তা কর্মীরা ছাত্রীদের শরীরে হাত দিয়েছে, আমাদের লাঞ্ছিত করেছে।আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ ও এর বিচার চাই। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে।

অনশনরত শেখ নোমান বলেন, “আন্দোলনের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। আমরা এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আমাদের বলা হয়, প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবে না। আমাদের উপর হামলার বিচার না পেলে আমরা অনশন অব্যাহত রাখব।”

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১ আগস্ট বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রছাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সরকারের কাছেও বিচার দাবি করেন তারা।

চলমান সংকট সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামসহ পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি পুনর্গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।

চলমান সংকটের মধ্যে গতকাল বুধবার থেকে দুদিনের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব পরীক্ষা চলমান রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

এদিকে, চাকরিচ্যুত শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আজ ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করতে গেছেন বলে জানা গেছে।

ফেইসবুকে শিক্ষকদের সমালোচনা:

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার বিষয়ে ফেইসবুকে সমালোচনা করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বায়োটেনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রায় ৭৫ শিক্ষার্থীকে তদন্ত কমিটি নোটিশ দিয়েছে। একইসঙ্গে দুটি ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হন।

অন্যদিকে বিভাগ এভাবে তদন্ত কমিটি করে শিক্ষার্থীদের ডেকে পাঠাতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক। যাদের ‘সমালোচনা’ করা হয়েছে তারা নিজেরাই কোনো তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা সদস্য হতে পারেন না। বরং অভিযোগ করতে পারে।

জানা গেছে, বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় বছর ধরে বিজিইয়ান্স ডেমোক্র্যাট নামের একটি ফেইসবুক পেজ চালান। সম্প্রতি সেখানে তাদের অনেকেই শিক্ষকদের সমালোচনা করে ‘ট্রল’ পোস্ট করছিলেন। শিক্ষকেরা ক্লাস রুটিনের নির্ধারিত সময়ের দেড় দুই ঘন্টা পর ক্লাসে আসেন, ইন্টারনেট থেকে স্লাইড ডাউনলোড করে ক্লাসে পড়ান, সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত যা শিক্ষকেরা পারেন না তা বাদ দেন এসব বিষয়েও সেখানে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে পোস্ট করা হয়।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকেই কেউ এই বিষয়গুলো শিক্ষকদের নজরে আনেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকেরা বিভাগের একাডেমিক সভায় এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। যারা ওসব পোস্টে লাইক, কমেন্ট করেছে তাদেরও ডেকে পাঠানো হয়। বিভিন্ন ব্যাচের সব মিলিয়ে প্রায় ৭২-৭৫ জনকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগে গত ৩১ জুলাই শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়টি নিয়ে বসে। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমিটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাগের ৪২ এবং ৪৩তম ব্যাচের আজকের এবং আগামী সাত আগস্টের দুটি চূড়ান্ত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তারপর শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছে। তারা ভুলত্রুটি করলে সেটা শুধরে দেয়ার দায়িত্বও তো আমাদের।’

এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘এখানে বাদী শিক্ষকেরা। তারা নিজেরাই তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন না। বরং তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন।’

চার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন পরিচালক

রিকু আমির : সেনাবাহিনীর চারজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

তাদের চাকরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করেছে।
আদেশে অনুযায়ী- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের স্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলামের স্থলে পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জামিলুর রহমান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম রসুলকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, তিনি এসেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ আহসানের স্থলে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পারভেজ কবীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক করা হয়েছে, তিনি এসেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাছির উদ্দীন আহমদের স্থলে। আগের চার পরিচালকের চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

আরেকটি আদেশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএমএম সালেহ ভূঁইয়াকে সেনাবাহিনীতে ফেরৎ পাঠিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হাসানকে। এছাড়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম শামিম উজ জামানকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কলেজের ছাদে ধস, আতঙ্কে অজ্ঞান ২০ শিক্ষার্থী

ঠাকুরগাঁও: সরকারি মহিলা কলেজ হোস্টেলের ছাদের কার্নিস ধসে পড়ায় হুড়মুড় করে নামতে গিয়ে আতংকে হোস্টেলের ২০ শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বিতীয়তলা থেকে নামতে গিয়ে একজন আরেকজনের গায়ে পড়ে ও ভয়ে প্রায় ২০জন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদেও মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন, রুবী (১৮), লাজু (১৮), জেসমিন (১৮), খুকু মনি (১৮), মুনমুন (১৮), সোহাগি (১৮), মৌসুমি (১৮), সুমাইয়া (১৮), হোসনেয়ারা (১৮) প্রমুখ। অজ্ঞান শিক্ষার্থীদের হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হোস্টেল থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো। হঠাৎ ২য় তলার ছাদের একটি কোনা ধসে পড়ার শব্দ পায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেই খবর অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে হোস্টেলের ওপর থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত নামার চেষ্টা করে। এ সময় আতংকগ্রস্ত হয়ে ২০জন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
হোস্টেল সুপার প্রভাষক আব্দুস সালাম জানান, হঠাৎ হোস্টেলের বাইরের কার্নিস ধসে পড়লে শিক্ষার্থীরা আতংকিত হয়ে পড়ে। তখন এ ঘটনা ঘটে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন জানান, শিক্ষার্থীরা কেউ আহত হয়নি। আতংকে এ সময় তারা জ্ঞান হারিয়েছিল। তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান সরকার বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে হোস্টেলের একটি কার্নিস ভেঙে পড়ে। কার্নিস ধসের কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন ২ বছর আগে রিপিয়ারিং কাজ হয়েছে , যখন তিনি এই পদে ছিলেন না, তারপরও কেন ধস হয়েছে তা তিনি জানেন না।

নিয়ম না মানাই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট নিয়ম-নীতি থাকলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা মানছে না। কার্যত নিয়ম না মানাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়মে পরিণত হয়েছে। আগে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গণতান্ত্রিক চর্চার প্রধান কেন্দ্র থাকলেও বর্তমানে তার লেশ মাত্র নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বা কর্মচারী সবার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত এসব কার্যকলাপের প্রধান লক্ষ শাসক দলের পথকে কণ্টকমুক্ত রাখা হলেও এ সুযোগকে ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষীরা তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলেই বেশি তৎপর।

দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলছে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। শিক্ষাবিদরা বলছেন বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় পেশিশক্তি প্রয়োগের স্থান হয়ে উঠেছে দেশের স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এসব প্রতিষ্ঠানে নেই গণতান্ত্রিক কোনো পরিবেশ। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন-কানুন থাকলেও নেই তার কোনো বাস্তবায়ন। হলের ছাত্রাবাসে গেস্টরুম, প্রোগ্রামের নামে শিক্ষার্থীদের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ না করলে মেলে না হলে থাকার নিশ্চয়তা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও দশকের পর দশক ধরে তাও অনুপস্থিত। নতুন কোনো নিয়ম চালু করতে গেলে সিনেটে তা পাসের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মানা হয় না সে নিয়মও। সিনেট সদস্য নির্বাচন, শিক্ষকদের পদোন্নতি, বিভাগের চেয়ারম্যান, হলের প্রাধ্যক্ষ বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে পদায়নের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, গবেষণা, শিক্ষকতায় মনোযোগ ও আন্তরিকতাকে নির্ধারণ করা হলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। এগুলোর পরিবর্তে এখন নিঃশর্ত দলীয় আনুগত্য প্রমাণের মধ্য দিয়ে একজনকে তার যোগ্যতার পরিচয় প্রদান করতে হয়।

গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে ঘটেছে হাতাহাতির মত ঘটনা। যা নিয়ে সারা দেশে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। ওই ঘটনাতেও দেখা গেছে, এমন একাধিক ব্যক্তি সেখানে অংশ নিয়েছেন যাদের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়। এদের মধ্যে একদিকে যেমন আছে ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তেমনই রয়েছেন শিক্ষকতার জন্য আবেদনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীও। যাদের সবাই আবার বর্তমান সময়ের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের বিভিন্নপর্যায়ের নেতাকর্মী। পার্শ্ববর্তী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দুইজন শিক্ষককেও দেখা গেছে তারাও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এদের দুইজনের বিরুদ্ধেই রয়েছে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সহিংস কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের শিক্ষক মাহি সাবেক মুহসীন হলের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ২০১২ সালে হলটিতে সংঘটিত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে তীব্র সহিংসতায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। ওই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের এ শিক্ষক। জানা গেছে বর্তমানে ওই দুই শিক্ষকই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য লবিং তদবির করে চলেছেন। আর এ কারণে ভিসি ও সরকারের নজন কাড়তেই অতি উৎসাহী হয়ে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।

ওই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ নামেও একজনকে অংশ নিতে দেখা গেছে। যিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। গত বছরের ১ জুলাই উপাচার্যের গাড়ি ভাংচুরেরও ঘটনায় তিনি অংশ নেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি আরবি বিভাগে শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এ জন্য তিনিও অতি উৎসাহী হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট পূর্ণাঙ্গ না করে অর্ধেকের কম সদস্য নিয়ে গত শনিবার উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে এর বৈধতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলেই রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিসহ অন্যান্য শ্রেণির প্রতিনিধি নির্বাচন করেই এ নির্বাচন করতে পারত। কিন্তু পরাজয়ের ভয়ে প্রশাসন সে পথে না গিয়ে অনেকটা পেছনের দরজা দিয়ে তিনজনের প্যানেল নির্বাচন করেছে।

১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির, সিনেটের মোট সদস্য ১০৫ জন। কিন্তু কয়েকটি শ্রেণির নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমান সিনেটে ৫০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ২৫ জন, ৫ জন গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধি, ৫ জন অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজের অধ্যক্ষদের প্রতিনিধি, একাডেমিক পরিষদের মনোনীত ১০ জন ও ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধির পদ শূন্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে জটিল পরিস্থিতির মতো ক্ষেত্র সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। কারণ এর সঙ্গে জাতীয় রাজনীতির যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু অন্য সবগুলো নির্বাচনই প্রশাসন চাইলেই নির্বেঘ্নে করতে পারে। কিন্তু পরাজয়ের ভয়ে সে পথে যেতে আগ্রহী নয় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে ভুরি ভুরি অনিয়মের অভিযোগ। মাস্টার্স পাস না করেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এছাড়া নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষকের বিপরীতে দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে গত বছর ৪টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও নিয়োগ দেয়া হয় ৯ জনকে। যার মধ্যে মাস্টার্স পাস না করেই ৩ জন নিয়োগ পেয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি একে সত্যের অপলাপ বলে তা আড়ালেরও চেষ্টা করেন। প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগেরই বিরুদ্ধে এ ধরনের নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি সূত্র জানাচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক পর্যায়ে লবিং তদবিরের বাইরে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের অধিকাংশ ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হলের প্রধক্ষ ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ দুটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে এ পদ দুটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও যোগ্যতার কোনো মূল্যায়ন নেই বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যরা এগিয়ে আসতে চাইলে তাদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে সে দাবি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে, দেশের প্রায় সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি, অনিয়ম রয়েছে। এক বিভাগে পড়াশোনা করে আরেক বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মতো অভিনব ঘটনাও রয়েছে। আবার দলীয় আনুগত্যের কারণে অযোগ্যদের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়নের অভিযোগ যেমন আছে, তেমনই দলীয় লোক আনুগত্য না থাকায় যোগ্যতা থাকার পরেও পদোন্নতি না দেয়ারও অভিযোগ প্রায় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেই। রাজধানীর বুকে আরেক নামকরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগরে বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় ঘটছে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

বাদ যায়নি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ভিসির বিরুদ্ধে সেখানকার শিক্ষক সমিতির করা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যেয়ে বিশ্ববিদ্যালগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছে তারা বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামানের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত বছর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও (বাকৃবি) দুর্নীতির অভিযোগে ৯৬ কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করা হয়। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি রফিকুল হকও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসের উল্টো পথে পথ চলা। এ সময়ে কেউ বাধা দিতে আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিবাদকারীকে হতে হয়েছে হেনস্তার শিকার। এ থেকে বাদ যায়নি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায় সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যতার সম্পর্কের বিষয় নিয়েও। বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যা অর্জনের প্রধান কেন্দ্র হলেও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন একেকটি রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে কামলা খাটানো হয়। এ প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দুই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকলেও তার অবস্থান পাঁচশ’ এর পরে। এ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান সহজেই অনুমেয়।
বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বহু পুরনো। ভালো মানের শিক্ষকরা বেশি টাকার লোভে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতেই বেশি আগ্রহী। অথচ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিক্রি করে এত নাম যশ কিনেছেন সেখানকার শিক্ষার্থীদের সময় না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা বিক্রির প্রতিযোগিতায় নামলেও তা বন্ধে বিভিন্ন পক্ষের দীর্ঘদিনের দাবির কোনো গুরুত্ব নেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সিট বাণিজ্য, ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে নোংরা রাজনীতি চললেও তা বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো আগ্রহ নেই। এ হলের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই ঘটছে সহিংস ঘটনা। ঝরছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রাণ। অথচ নিজেদের পদ-পদবি ঠিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তাব্যক্তিরা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী নয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন এসব শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে নিজেদের পদ-পদবির মূল্য অনেক বেশি।

অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষেও রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সরকারবিরোধী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ জন্য বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নিলেও সরকারপন্থি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া তো দূরে থাক অনেক ক্ষেত্রে পুরস্কৃত করারও নজির রয়েছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ নোংরা ব্যবস্থার জন্য দেশের জাতীয় রাজনীতির যেমন দায় আছে, তেমনই শিক্ষকদের চাটুকারি মানসিকতা ও অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশাও দায়ী। রাজনীতিবিদ ও শিক্ষকরা এসব সমস্যা দুরীকরণে ঐক্যবদ্ধ না হলে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে না বলেও অভিমত তাদের। যায়যায়দিন

নেত্রকনায় জাতীয়করনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভুয়া কাগজপত্র দাখিল।

অভিযোগের সত্যতা প্রমান

নেত্রকনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলার রাজিবপুর রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাবিবুর রহমান ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার জালিয়াতি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহাপরিচালকের পক্ষে উপ-পরিচালক রহমত আলী খানের নির্দেশে পূর্বধলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের তদন্তে জালিয়াতির ঘটনাটি বেড়িয়ে এসেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান বর্তমানে উপজেলার ইচুলিয়া মডলে সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসবে কর্মরত আছেন।
তদন্ত রির্পোটে জানাযায়, হাবিবুর রহমানের পূর্বের র্কমস্থল রাজিবপুর রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুল হককে গত ২৪ জুলাই ২০০৭ খ্রি: তারিখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি (হাফিজুল হক) বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলা চলাকালীন উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান ২৫ এপ্রিল ২০০৯ খ্রি: তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির ২৫ আগস্ট ২০১০ খ্রি: তারিখের সভায় উপজলোর ৪৬টি রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও রাজিবপুর রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকায় তার পদোন্নতি উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন পায়নি।
ওই সভার রেজুেলশন প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির ৪৬ জনের তালিকায় থাকা ২৭ নং ক্রমিকে দুগাছি রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান সরকারের স্থলে জালিয়াতির মাধ্যমে হাবিবুর রহমান এবং দুগাছির স্থলে রাজিবপুর বসিয়ে ফটোকপি করে জাতীয়করণের তালিকায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে অর্ন্তভূক্তি ও স্কলে প্রাপ্তির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবরে ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করনে।
তার দাখিল করা সমুদয় কাগজ তৎকালীন শিক্ষা অফিসার তৌফিকুল ইসলাম (বর্তমানে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় কর্মরত) সত্যায়িত করে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ইউনিট, শিক্ষা ভবন ঢাকায় প্রেরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে হাবিবুর রহমানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে জাতীয়করণ ও স্কলে প্রদান করা হয়।
এদিকে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক হাফিজুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় উচ্চ আদালত ১৭ জুলাই ২০১৪ খ্রি: তারিখে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দিলে ভূয়া পদোন্নতি পাওয়া প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে তড়িগড়ি করে উপজেলার গোজাখালিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পরে ইচুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে বদলী করা হয়।
এ ব্যাপারে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে কোন কাগজ না পাওয়ায় বিষয়টির ব্যাপারে আমি অবগত নই।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা সুলতানা জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে আমি বিষয়টি তদন্ত করি। অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে তার চাকুরী সংক্রান্ত সমুদয় কাগজ পত্রের মূল কপি প্রর্দশনের জন্য মৌখিক ও লিখিত ভাবে বারবার তাগিদ দিলেও তিনি তা দেখাতে র্ব্যথ হয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কমিটির রেজুলেশনের মূল কপিতে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়া ৪৬ জন শিক্ষকের তালিকায় কোথাও হাবিবুর রহমানের নাম নেই। তৎকালীন পূর্বধলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার তৌফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি হাবিবুর রহমানের পদোন্নতি ও সরকারি স্কলে প্রাপ্তির বিষয়ে কিছুই মনে নেই বলে জানান।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন আকারে মহাপরিচালক, বাধ্যতামূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ইউনিট, শিক্ষা ভবন ঢাকা মহোদয়ের বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।

অবরোধ তুলে নেয়ার নির্দেশ জাবি সিন্ডিকেটের

জাবি: শিক্ষার্থীদেরকে অবরোধ তুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। মামলা প্রত্যাহারসহ ৪ দফা দাবিতে টানা চার দিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ আছে ।
গতকাল বুধবার রাতে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে অবরোধ তুলে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানান সিন্ডিকেটের সদস্যসচিব ও বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক। টানা চার দিনের এ লাগাতার অবরোধে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অবরোধের কারণে আজও উপাচার্যসহ কেউই প্রশাসনিক ভবনে অফিস করতে পারেননি।
মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোন কথা না বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে জাবি প্রশাসন। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, সিন্ডিকেট পুঙখানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনের সংগঠক ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, সিন্ডিকেট এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না পর্যন্ত আমাদের এই লাগাতার অবরোধ চলতেই থাকবে।
এছাড়া গতকাল ‘সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন শিক্ষকরা। এই মামলা প্রত্যাহার না করলে রাজপথে নামার ঘোষণা দেন তারা।
এছাড়া যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলামের বাস ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

২৭ যুগ্মসচিবের দফতর বদল

ঢাকা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে ২৭ যুগ্মসচিবের দফতর রদবদলের কথা বলা হয়েছে।

প্রথম প্রজ্ঞাপনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির পরিচালক জাহাংগীর আলম, সাভারের বিপিএসিটির পরিচালক আবদুল বাকী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইকবাল মাহমুদ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুদ করিমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক আহসান হাবীব তালুকদারকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রমজান আলীকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ও বেগম সামিনা ইয়াসমিনকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিককে স্থানীয় সরকার বিভাগে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের জেনারেল ম্যানেজার বেগম রাশিদা ফেরদৌসকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বদলী করা হয়েছে।

পরের প্রজ্ঞাপনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ল্যান্ড জোনিং প্রকল্পের পরিচালক শওকত আকবরকে একই মন্ত্রণালয়ের মৌজা ও প্লট ভিত্তিক ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের পরিচালক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সদস্য এ বি এম ফজলুর রহমানকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাসকে জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আইয়ুব হোসেনকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথকে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবু বকর সিদ্দিককে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলীকে জাতীয় কারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সট বুক বোর্ডের সদস্য, কামরুল হাসানকে নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব, বেগম লায়লা আরজুমান্দ বানুকে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও এ কে এম আলী আহাদ খানকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এ হামিদ জমাদ্দরকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক, জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক সৈয়দ তৌহিদুর রহমানকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

(বাউবি)ডিজাবিলিটি’র ভর্তির আবেদনের সময় বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো Disability Managment and Rehabilitaion বিষয়ক মাস্টার্স ডিগ্রী প্রোগ্রাম চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)Master of Disability Managment and Rehabilitaion বিষয়ক এ প্রোগ্রাম চালু করছে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের Master of Disability Managment and Rehabilitaion প্রোগ্রামে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন জমাদানের প্রক্রিয়ায়ও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.bousst.edu.bd অথবা www.bou.edu.bd বা ০১৭২৬২০২০৬০ এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন প্রফেসর মোঃ রেজানুর রহমান জানিয়েছেন।

মরা ছাগলের খবর শেয়ার, গ্রেপ্তার সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি অ্যাক্ট) ৫৭ ধারার এক মামলায় খুলনার ডুমুরিয়ার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাগলের মৃত্যুর সংবাদ শেয়ার করার অভিযোগে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

আব্দুল লতিফ মোড়ল খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

ডুমুরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, সুব্রত ফৌজদার নামের এক ব্যক্তি সোমবার রাতে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত খবর ছবিসহ ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তার মানহানি করেছেন আব্দুল লতিফ।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়ায় দুস্থদের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। বিতরণ করা ছাগুলগুলোর মধ্যে একটি ওই দিন রাতেই ওই এলাকার এক ব্যক্তির ঘরে মারা যায়। বিভিন্ন পত্রিকায় এটি সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ ছবিসহ ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন সুব্রত।

সম্ভাবনার কারিগরি শিক্ষা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

বিভাষ বাড়ৈ ॥ প্রায় ১৩ বছর আগে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বিষয় হিসেবে কারিগরি শিক্ষা সেক্টরে চালু করা হয়েছিল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগ। নানা সম্ভাবনার কথা বলায় অনেক আশা নিয়ে মেধাবীরা এ বিষয়ে পড়ালেখার জন্য ভর্তি হচ্ছেন সরকারী পলিটেকনিট ইনস্টিটিউটে। অথচ দেশের কারিগরি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রতিষ্ঠান ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কোন শিক্ষকই নেই। মেধাবীরা আশা নিয়ে ভর্তি হলেও তাদের কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। একই অবস্থা অন্যান্য পলিটেকনিকেও।

অন্যদিকে সম্ভাবনাময় বিষয় হিসেবে আরও অনেক বিষয় চালু করা হলেও আজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি কর্মসংস্থানের কোন পদ। এক সময় আশার আলো দেখলেও এখন চোখে রীতিমতো অন্ধকার দেখছেন খোদ সরকারী পলিটেকনিক থেকে পাস করা হাজার হাজার ডিপ্লোমাধারী। তবে বৈষম্য, অবহেলা আর অব্যবস্থাপনা কেবল এখানেই নয় অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দেশের কারিগরি শিক্ষার সঙ্কটের নানা চিত্র। যা নিয়ে বছরের পর বছর কেবল দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও দেশের শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা, তবে সঙ্কট উত্তরণের কোন উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কারিগরি শিক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কথায় বেরিয়ে এসেছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে সবসময়। সরকারীভাবে ঘোষণাও দেয়া হচ্ছে এ শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধির। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি অবহেলা আর সঙ্কটের মুখে পড়ে আছে এ শিক্ষাই। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ক্রমেই বাড়লেও এ খাতের প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেবল উপেক্ষা আর বৈষম্য। ভয়াবহ শিক্ষক সঙ্কট, শিক্ষক ছাড়া ডাবল শিফট চালু, অনিয়মিত বেতন, ক্লাস না হওয়া, শিক্ষক ছাড়াই বিভাগ খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধসহ বহুমুখী সঙ্কটে বিপর্যস্ত কারিগরি ও বৃক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম। সঙ্কট এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন শিক্ষার্থী নিয়ে ডাবল শিফটে শিক্ষাদান চললেও খোদ সরকারী পলিটেকিনিকগুলোতে ৪০ থেকে ৬০ থেকে শতাংশ পদে কোন শিক্ষকই নেই। অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষও নেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষক ছাড়াই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে অসংখ্য বিভাগ, যেখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর চার বছরের ডিপ্লোমা পাসের পর নেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ। অথচ এমন সঙ্কটের পরও গণহারে দেয়া হচ্ছে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন। রাষ্ট্রীয়ভাবে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ খাত বলা হলেও এভাবে অবহেলার শিকার আর কতদিন? এ প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট সকলের।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সঙ্কট রেখে বছরের পর বছর ধরে কারিগরি শিক্ষার মতো প্রায়োগিক শিক্ষা প্রদান করা মানে হচ্ছে শিক্ষার নামে প্রহসন। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যতটা আলোচনা হচ্ছে, এ শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ততটাই পিছিয়ে রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তারাও শঙ্কিত এই ভেবে যে, এ খাত নিয়ে কথা বেশি হলেও কাজ হচ্ছে কম। এ শিক্ষাকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত ও এর মর্যাদা বৃদ্ধির কথা বারবার বলা হলেও আসলে তার বাস্তবায়ন নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এই মুহূর্তে মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার ১৪ শতাংশ। গত কয়েক বছরের এই হার বেড়েছে। অথচ উন্নত দেশগুলোতে এ হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে দ্রুত সঙ্কট নিরসনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষার্থীর হার ১৪ শতাংশ হলেও তাদের সমস্যা দেখার উদ্যোগ নেই।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তাই বিদেশের বাজার খুঁজতে হয়। কিন্তু সেখানে অদক্ষ শ্রমিকের কোন মূল্য নেই। ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে আমাদের দেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভাল চাহিদা রয়েছে।

কারিগরি প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান

জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রে ২০২১ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর ২০ ভাগ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর ১৪ ভাগ কারিগরি শিক্ষায় পড়াশুনা করছে বলে বলছে সরকার। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন কারিগরি কোর্স নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে এসএসসি ভোকেশনাল ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে এইচএসসি ভোকেশনাল এবং এইচএসসি বিএম। বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে সরকারী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৯, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ছয়টি, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং একটি এবং সার্ভে ইনস্টিটিউট দুটি। তাছাড়া রয়েছে ৩৫ টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ৬৪ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ৬৪ টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। বেসরকারী পর্যায়ে রয়েছে শতাধিক কৃষি ডিপ্লোমা এবং দেড়শ’র মতো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সরকারী বেসরকারী মিলিয়ে দেশে মোট কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন সাত হাজারের ওপরে। তেজগাঁওয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এ স্তরে দক্ষ জনসম্পদ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সহস্রাধিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ভোকেশনাল কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া দুই শতাধিক বেসরকারী কলেজে এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন শিক্ষানীতিতে সরকার কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছে। এ নীতি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর কথা বলা হয়েছে।

খোদ সরকারী পলিটেকনিকই সঙ্কটে ধুঁকছে

সরকারী পলিটেকনিক সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনস্টিটিউট আছে মোট ৪৯। যার মধ্যে পুরাতন ২০ রাজস্বভুক্ত ছিল আগেই। প্রকল্পের ঊনত্রিশটিও পরে রাজস্বভুক্ত করা হয়। এছাড়া আছে সরকারী মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট বা একটি বিভাগ নিয়ে চলা সরকারী পলিটেকনিক। সকালের প্রথম শিফটে প্রায় ২৫ হাজার ও বিকেলের দ্বিতীয় শিফটে আরও প্রায় ২৫ হাজারসহ প্রতি বছর অর্ধ লক্ষাধিক নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পদে পদে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও এইচএসসি ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কয়েক লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদেরও সমস্যার শেষ নেই। প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসেও খুব একটা নতুনত্ব নেই। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বহু প্রতিষ্ঠানে পুরো বিভাগ চলছে কোন শিক্ষক ছাড়াই। এ চিত্র ঢাকা পলিটেকনিক থেকে শুরু করে দেশের নামীদামী সরকারী পলিটেকনিকেরই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কারিগরি শিক্ষা সম্পর্কে নানা সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়ায় এর প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের আগ্রহও কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যে সঙ্কটের কথা বলে আসছেন তার সমাধানের নেই কোন উদ্যোগ। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার এ খাতের অবহেলা আর সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে বলেন, যে অবস্থা তাতে এই শিক্ষায় বেশি মানুষকে আগ্রহী করে তোলা কঠিন। শিক্ষার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম অর্থ বরাদ্দ হয় এ খাতেই। অন্যান্য শিক্ষায় যে এমপিও তার অর্ধেকও এখানে পায়না। বহু কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান চলছে একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে। এভাবে কি উন্নয়ন সম্ভব? তবে এটাও বাস্তব যে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এ খাতের উন্নয়নে যতটুকু ভাবা হয়েছে তা হয়নি গত ৪০-৪৫ বছরেও। সরকারী বেসরকারী নানা উদ্যোগের ফলেই কয়েক বছরের মধ্যে এ শিক্ষায় শিক্ষার্থী এনরোলমেন্ট বেড়েছে। তবে তাদের সমস্যার কথা ভেবে পদক্ষেপ নিলেই তারা উপকৃত হবে বলে বলছেন এ শিক্ষক নেতা।

কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর ও ইন্সট্রাক্টর পদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য জুনিয়র লেকচারার, লেকচারার, প্রফেসর প্যাটার্নের চাকরি কাঠামো সরকার বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত শিক্ষকরা সেই মর্যাদা পাননি। ইন্সট্রাক্টর ও ইন্সট্রাক্টর পদের এমএ, এমএসসি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএস-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এমনকি পিএইচডি করেও শিক্ষকরা জুনিয়র লেকচারার, লেকচারার, প্রফেসর প্যাটার্নের মর্যাদা পাননি।

এসব কারণে বর্তমানে দেশের ৪৯ পলিটেকনিকে চালুকৃত দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষক সঙ্কট নিয়েই ওই শিফট চালু করা হয়েছিল, কিছু শিক্ষক নিয়োগ হলেও শিক্ষক সঙ্কট এখনও ৫০ শতাংশের ওপর। অপরদিকে যে ক’জন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন, মাসের পর মাস ধরে তাদেরও বেতন-ভাতা হয় না। সকল শিক্ষকই প্রথম শিফটের। বাড়তি ক্লাস নেয়ার বিনিময়ে তাদের মূল বেতনের ৫০ ভাগ সম্মানী দেয়ার কথা হলেও সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আসা এক চিঠি নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, সকালের শিক্ষকরাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে দ্বিতীয় শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখছে। তারা সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সম্মানী পাচ্ছেন কিছুদিন হলো। এক সময় ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। কিন্তু সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি আসছে যেখানে বলা হচ্ছে ২০১৫ সালের আগের স্কেলে সম্মানী দেয়া হবে। এছাড়াও আরও বেশকিছু বিষয়ে আপত্তি উঠেছে শিক্ষকদের মাঝে।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ইনস্টিটিউটে একই সঙ্কট। শিক্ষক সঙ্কট তুলনামূলক কম আছে সবচেয়ে বড় ঢাকা পলিটেকনিকে। কিন্তু তার পরেও অবস্থা করুণ। এখানে এনভায়নমেন্টাল টেকনোলজি বিভাগ খোলা হয়েছে ১৩ বছরেও আগে। আশা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে মেধাবীরাও। কিন্তু এখন গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগে কোন শিক্ষকই নেই। অন্য বিষয় থেকে শিক্ষক ধার করে এনে কিংবা একই বিভাগ থেকে পাস করা ছাত্রদের দিয়ে মাঝে মাঝে কোনমতে কাজ চলছে। বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতির (বাপশিস) সাবেক সভাপতি ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র সিকদার বলছিলেন, দেখেন ঢাকা পলিটেকনিকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চলছে কোন শিক্ষক ছাড়াই। বিভাগটিকে নিয়মিত কোন শিক্ষকই নেই। একই অবস্থা আছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রনালয়ের দেয়া চিঠির কারণে শিক্ষকরা নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এভাবে কি ভাল ফল পাওয়া যায়? তবে এ শিক্ষক নেতা যদিও বলছেন, নানা সমস্যা আছে তার পরেও সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপের কারণে দীর্ঘদিন ধরে লেগে থাকা কিছু সমস্যার সমধান হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন কী ম্লান হয়ে যাবে?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা আর প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসহযোগিতায় পূরণ হচ্ছে না দেশের লাখ লাখ কারিগরি ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দীর্ঘ ৭ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি দেশের কোন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ক্রেডিট সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর চিঠি দিলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর করেনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে এক সময় আশার আলো দেখলেও হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ।

কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুসারে উদ্যোগ নিলেও তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিমাতাসুলভ আচরণে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এনভায়নমেন্টাল টেকনোলজিনহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণীর কর্মকর্তা উদ্যোগ সফল হতে দিতে চান না। সরকারের এ উদ্যোগ সফল হলে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ভুঁইফোড় কারিগরি ইনস্টিটিউটের শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষায় কাজ করছেন এসব অসৎ কর্মকর্তা।

source: dailyjanakantha

দৌলতপুরে তিন স্কুলে জলাবদ্ধতা

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ॥ ক্লাস সিক্সের ছাত্রী বর্ষা। পিঠে বইয়ের ব্যাগ আর হাতে স্যান্ডেল। হাঁটুর উপরে জড়ানো পায়জামা। স্কুলে যাবে তাই তার এ প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতি কেন? প্রশ্ন করলে সে জানায়, স্কুলের চত্বরের পুরো এলাকা পানিতে ডুবে থাকায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে স্কুলে যেতে হয়। যেন যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি। একই অবস্থা অন্য শিক্ষার্থীদের। এ দৃশ্য দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হোসেনাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শাহ আজিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয় তিনটিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। বছরের প্রায় নয় মাস বিদ্যালয়ের খেলার মাঠসহ আশপাশের পুরো এলাকা হাঁটুপানিতে ডুবে থাকে। ফলে একদিকে এই তিন বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষার্থী এসব পচা পানিতে হাঁটা চলাফেরা করার করাণে নানা ঘা-পাচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় তিনটি পাশাপাশি প্রায় একই চত্বরে অবস্থিত। স্কুলে যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে স্কুলের ভবনের চতুর্দিকে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে সাপ, ব্যাঙ, বিভিন্ন ময়লা পচে তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসা করছে। এই এক যুগ ধরে বছরের প্রায় পুরো সময় জুড়ে এ অবস্থা চলে আসছে।

মন্ত্রিপরিষদের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হলেন তারিক

গাজী মিরান : বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আলিয়া মেহের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে মোট আট কর্মকর্তাকে পদায়নের কথা বলা হয়েছে।

গত ৭ জুন ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদুল্লাহ সাজু। মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে ছাপা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি দেখে মর্মাহত হয়ে তিনি পাঁচ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় বিবাদী ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে সমন দেওয়া হয়। এর পর ১৯ জুলাই আদালতে হাজির হলে তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন জেলার মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইন। প্রায় তিন ঘণ্টা কোর্টহাজতে থাকার পর দুপুরে আবার তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন একই বিচারক।

এ ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। টনক পড়ে প্রশাসনের। সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগ ওবায়েদুল্লাহ সাজুকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তিনি মামলা প্রত্যাহার করে নেন। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

পাশাপাশি বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গাজী মো. সাইফুজ্জামান ও বরগুনার ডিসি বশিরুল আলমকে ওএসডি করা হয়।

বরিশাল ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ২২ দফা মেনে নিয়েছেন ভিসি

বরিশাল প্রতিনিধি : শিক্ষার্থীদের ২২ দফা দাবীতে চলমান টানা সাতদিনের আন্দোলন যৌক্তিক বলে মেনে নেয়ায় সোমবার দুপুরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে গেছে শিক্ষার্থীরা।

নেতৃস্থানীয় ছাত্রদের সাথে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র সাথে তার কার্যলয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি টিমের সাথে সমঝোতা বৈঠকে পর্যায়ক্রমে দাবী মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি।

সূত্রমতে, গত ২০ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সম্বলিত ২২ দফা সমাধানের জন্য আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীরা একাডেমীক ও প্রসাশনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবী মেনে নেয়ায় বিজয় অর্জন হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মোঃ সবুজ জানান, উপাচার্য তাদের ২২ দফা দাবীকে যৌক্তিক বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

নগর পুলিশের সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাইফুল্লা মোঃ নাসির জানান, সাতদিনের ছাত্র আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক জানান, শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো একাডেমীর স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সময়ের ব্যবধানে মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে যেগুলো যতো দ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।

hit counter