নবম পে-স্কেল: দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় সুপারিশ, ১ জুলাই থেকে কার্যকরের পরিকল্পনা

Image

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাবিত সুপারিশ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা সম্ভব না হলে পরবর্তী সপ্তাহের বৈঠকে তা অবশ্যই উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পে-স্কেল সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয় সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

১ জুলাই থেকে কার্যকরের পরিকল্পনা

প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এর আগেও অষ্টম পে-স্কেল ২০১৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন ডিসেম্বর মাসে কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছিল।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ

দেশের বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নবম পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে সরকারের ওপর এককালীন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।

কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়তে পারে

কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি বাড়তে পারে।
  • ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এটি এখনও প্রস্তাবিত সুপারিশ। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আগে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।

মহার্ঘ ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের সমন্বয়

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই সুবিধাগুলো নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশনের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দিকে। অনুমোদন মিললে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

তবে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি, কার্যকরের সময়সূচি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কোনো তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।