সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে—চারো দাবি মানার আলটিমেটাম

Image

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ‘সহকারী শিক্ষক’ পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করাসহ চার দফা দাবিতে আগামী সপ্তাহ থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান—দীর্ঘ ৫০ বছরের বঞ্চনা, গ্রেড বৈষম্য এবং পদসোপানজনিত অস্থিরতা দূর করতেই এই কর্মসূচি।

দাবিগুলো হলো—

  • সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ

  • এন্ট্রি পদ নবম গ্রেড ধরে ৪–৬ স্তরের পদসোপান চালু

  • স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার গেজেট

  • বার্ষিক পরীক্ষার দায়িত্ব, খাতা মূল্যায়ন ও ভর্তি কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা

শিক্ষক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ দেশব্যাপী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সম্পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শিক্ষকদের অভিযোগ

সহকারী শিক্ষক পদটি ১৯৭৪ সাল থেকে দশম গ্রেডেই আছে, ৫০ বছরে কোনো গ্রেড–উন্নয়ন হয়নি। অথচ একাধিক সমমানের সরকারি পদ নবম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে।
এ অবস্থায় অতিরিক্ত ক্লাস, জনবল সংকট এবং কর্মপরিবেশের চাপ তাদের মানসিক–শারীরিক কষ্ট বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০,৮৮৪ পদের মধ্যে ৭,৯০০ শিক্ষক কর্মরত—২৭% পদ শূন্য। ফলে বাকি শিক্ষকদের বাড়তি ক্লাস নিয়ে বছরে দেড়গুণ কাজ করতে হচ্ছে, কিন্তু গ্রেড ও মর্যাদা একই রয়েছে।

কারা নিয়োগপ্রাপ্ত?

২০১৭ সাল থেকে এই পদে বিসিএস নন–ক্যাডারদের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের নন–ক্যাডার তালিকা বা পিএসসির বিশেষ নন–ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ দিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষকরা বলছেন—আর্থিক সুবিধা নয়, মর্যাদা ও কাঠামোগত উন্নয়নই এখন তাদের মূল দাবি। সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে তারা পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।