শিক্ষক নিয়োগের ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির সুপারিশে বিলম্বের আশঙ্কা

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ ২০২৫

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির সুপারিশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। অধিকসংখ্যক প্রার্থী নিবন্ধন সনদ সংশোধনের আবেদন করায় সুপারিশ কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে জানা গেছে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ প্রায় ছয় হাজার প্রার্থী তাদের নিবন্ধন সনদ সংশোধনের আবেদন করেছেন। এসব সনদ সংশোধন না করা পর্যন্ত সুপারিশ কার্যক্রম শুরু হবে না। একইসঙ্গে ৩৫ বছর ঊর্ধ্ব ৬৫ জন প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএ’র একজন কর্মকর্তা বলেন, “দুইটি কারণে সুপারিশে কিছুটা বিলম্ব হবে—প্রথমত, বিপুলসংখ্যক সনদ সংশোধনের আবেদন, দ্বিতীয়ত নতুন চেয়ারম্যানের যোগদান। তবে আমরা দ্রুত সুপারিশ দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

চলতি সপ্তাহেই সুপারিশ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “সম্ভাবনা খুবই কম। সনদ সংশোধনে সময় লাগবে এবং ৩৫ ঊর্ধ্বদের বিষয়েও এখনও সুরাহা হয়নি। চলতি মাসে সুপারিশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।”

এর আগে, গত ১৬ জুন এনটিআরসিএ এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগের ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আবেদন গ্রহণ চলে ২২ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত। আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৩ জুলাই।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, এই গণবিজ্ঞপ্তিতে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন। অথচ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশজুড়ে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৪৬,২১১টি, মাদ্রাসায় ৫৩,৫০১টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় ১,১১০টি পদ শূন্য। এ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, অর্ধেকের বেশি পদেই আবেদন জমা পড়েনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।