Home » নিউজ (page 36)

নিউজ

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে ব্যাপক ক্ষতি,ঝড় বৃষ্টিতে ভেঙেছে বহু গাছ

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুরে গতকাল সন্ধ্যায় ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আলমডাঙ্গার পল্লি শ্রীরামপুরেসহ মেহেরপুর গাংনীর বিশাল এলাকার বিস্তৃণ মাঠের ফসল নূয়ে পড়েছে। ভেঙেছে বহুগাছ গাছালি। চুয়াডাঙ্গায় ঝড় বৃষ্টির সময় বিদ্যুত বিপর্যয় দেখা দেয়। কয়েকটি ফিডারে বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও কয়েকটি ফিডারে লোভোল্টেজ সমস্যা প্রকট রূপ নেয়। অপরদিকে একদিন আগের প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানীর বাতাসে ভাসমান ধুলি অনেকটা নেমে এলেও রোববার বেকেলে রাজধানীর আকাশে ধোঁয়াশা ভাব কৌতূহলী করে তোলে অনেককে। কেউ কেউ বলেন, মেঘ নেমে এসেছে ধরিত্রীর বুকে। এটি কুয়াশা, না মেঘ- তা জানতে আবহাওয়া অধিদফতরে যোগাযোগ করা হলে জ্যৈষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, ওটা মেঘই ছিলো।
জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর জীবননগর উপজেলার ওপর দিয়ে কালবোশেখি ঝড় বয়ে গেছে। দমকা হাওয়াসহ কালবোশেখি ঝড়ে আম বাগানের আমের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। ভেঙে পড়েছে সড়কের দু পাশেরসহ গাছ-গাছালির ডালপালা। কালবোশেখি ঝড়ে বাগানের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হওয়ায় আম বাগান মালিকদের মাথায় হাত পেড়েছে।
উথলী থেকে আবজালুর রহমান জানিয়েছেন, ঝড়ে জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের দু পাশের গাছের ডালপালা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এছাড়াও ঝড়ের কারণে বাগানের আম ঝড়ে পড়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। অপর আর একজন অভিযোগ করে বলেন, ঝড়ের  মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে পেয়ারাতলায় রাস্তার পাশে অবস্থিত মা-বাবা ইটভাটার মাটিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। রাতে ওই সড়কে চলাচলকারী অগনিত মোটরসাইকেল রাস্তার ওপর স্লিপ করে পড়ে আহত হয়েছে। তারা অবিলম্বে এ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
গাংনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিন দিনের ব্যবধানে মেহেরপুরে আবারো কালবোশেখি ঝড় আঘাত হেনেছে। গতকাল রোববার রাতে পৌনে এক ঘণ্টার ঝড় বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অর্ধ শতাধিক কাঁচা বাড়িঘরের ছাউনি উড়ে গেছে। বিপাকে পড়েছেন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা।
রাত ৮টার দিকে কালবোশেখি ঝড়ের তা-ব শুরু হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আঘাত হানে। ঝড়ের গতিবেগ বাড়ার সাথে সাথে যুক্ত হয় বৃষ্টি। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে এক দুর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। জেলার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল মাসুম ইকবালের একতলা ঘরের সিঁড়ি কক্ষের টিন উড়ে বাড়ির পাশের্^র বৈদ্যুতিক তারের সাথে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। একই সময়ে গাংনী বাসস্ট্যান্ডের রফিক মিয়ার ফলের দোকানের ছাউনি উড়ে যায়। এছাড়াও এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ঝড়ের আঘাতে ভেঙে পড়ে গাছ-গাছালি। বড় বড় ইপিলইপিল গাছ উপড়ে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে যানবাহন আটকে পড়ে চোখতোলা এলাকায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন পড়ে। গাংনী থানা পুলিশ করাত দিয়ে গাছ কেটে তা অপসারণ করে।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সড়কের ওপরে পড়ে থাকা গাছ অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঝড়ের সময় থেকে জেলা বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছে। গ্রাম ও শহরের অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়েছে। লাইন মেরামত করে বিদ্যুত চালু হতে কতো সময় লাগবে তা নিশ্চিত কর বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তবে রাতে গাংনী শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুত চালু হয়।
এদিকে বুধবার রাতে দুই ঘণ্টাব্যাপী ঝড় বৃষ্টির ফলে এঞ্চলের পাট ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধান কাটার আগ মুর্হূতেই ক্ষেতের সাথে নুইয়ে পড়ে। আজকের ঝড়বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মারাত্মক ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিশেহারা হড়ে পড়েছেন চাষিরা। অপরদিকে নিচু এলাকার পাটক্ষেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৩ এপ্রিল : শিক্ষার্থীর জন্য সরকারের দেয়া শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রবিবার নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের উপদেষ্টা পরিষদের ৪র্থ সভায় সভাপত্বিকালে এই আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান এ তথ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে দেশ স্বাধীন হবার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের সময় বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা খাতের প্রসারে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

বৈঠকে বলা হয়, সরকার ২০১৫-২০১৬ শিক্ষা বছরে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ২৪৬৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বিতরন করেছে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দুইজন বীরশ্রেষ্ঠ এবং ১০ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মায়ের আপত্তির পরও উঠানো হবে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীর লাশ

ইবি প্রতিনিধি,২২ এপ্রিল: ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী রাউধা আথিফের লাশ উঠানো হবে আগামী সোমবার। পুনঃময়না তদন্তের জন্য রাউধার লাশ উঠানোর পর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে তার ময়নাতদন্ত করা হবে।

এজন্য তিন সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে লাশ উঠানের ব্যাপারে সিআইডিতে ফোন করে মালদ্বীপ থেকে আপত্তি জানিয়েছেন রাউধার মা। বৃহস্পতিবার সকালে রাউধার মা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হককে ফোন করে জানান, তার মেয়ের লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হোক, এমনটি তিনি চান না।

শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসমাউল হক বলেন, কোনও মা-বাবাই চান না সন্তানের লাশ দ্বিতীয়বার উঠানো হোক। তবে তদন্তের স্বার্থে লাশ উঠানো হবে। এছাড়া এই মামলার বাদী রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফের কোনও আপত্তি নেই। তাই তার বিষয়টি আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউধা আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে বোর্ড ময়না তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফ পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণে আরও পাঁচ মডেলের সঙ্গে রাউধাও ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার

ডেস্ক,২২ এপ্রিল : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরর ভর্তি পরীক্ষার সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার ও উক্ত চক্রের হাতে অপহৃত হওয়া এক ছাত্রকে উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইলের র‌্যার। গ্রেফতারকৃতরা হলো নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার এওজবলীয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে রোকন (২৬), পশ্চিম নরতমপুর গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে রুবেল (২৭), কাটালিয়া আটা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে আক্তারুজ্জামা ওরয়ে খোকন (২১) এবং টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার শ্যামলী মাষ্টার পাড়া গ্রামের আজমান আলী সরকারের ছেলে জাকারিয়া সরকার (২২)। এরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। উদ্ধার হওয়া অপহৃত হচ্ছে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানার খিরগাতি গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সিকার মো: সালেহ ওরফে সৌরভ। গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার ণীলক্ষেত এলাকায় র‌্যাব এ অভিযান পরিচালনা করে।

আজ শনিবার টাঙ্গাইল র‌্যাব অফিসে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ১২ এর তিন নং কোম্পানী কমান্ডার বীনা রানী দাস জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের হাতে অপহৃত হওয়া ছাত্র সৌরভের পিতার দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচচ্ছুক শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে তাদের মূল মার্কশিট, সার্টিফিকেট ও প্রবেশ পত্রের মূল কপি সংগ্রহ করে। এরপর শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে ফরম পুরনের আইডেন্টিফেশন নম্বর সংগ্রহ করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে ফটোশপের মাধ্যমে ছবি পরিবর্তন করে মুল পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য এক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে চক্রটি। যদি কোন ভর্তি পরীক্ষার্থী টাকা দিতে অক্ষম হয় তাহলে তাকে অপহরন করে টাকা আদায় করা হয়।

এই চক্রের হাতেই অপহৃত হয়েছিল হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুিক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থী টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানার খিরগাতি গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সিকার মো: সালেহ ওরফে সৌরভ ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কওমির ছাত্র-শিক্ষকরা জঙ্গি হতে পারে না: আসাদুজ্জামান খাঁন

ডেস্ক,২১ এপ্রিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার লোকজন খাঁটি মুসলমান। তারাই দেশের মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্ররা কখনোই জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী হতে পারে না।’

২১ এপ্রিল শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা শিক্ষা দেন বলেই আজকে বাংলাদেশের মানুষ আজকে আমরা যেটা বলছি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। আপনারাই পারবেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে একত্র হয়ে এই জঙ্গি দমনে সহযোগিতা করার জন্য। সেই সহযোগিতা আমরা চাচ্ছি আপনাদের কাছে।

‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় দেশে কোনো জঙ্গির স্থান থাকবে না’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক শিক্ষা শেষেই থমকে যাচ্ছে রাজশাহীর চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা । জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে

ডেস্ক,২১ এপ্রিল :  পর্যাপ্ত মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষেই থমকে যাচ্ছে রাজশাহীর চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। শিক্ষা সুযোগ বঞ্চিত হয়ে বাড়ছে মেয়েদের বাল্যবিবাহ আর সীমান্তে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে ছেলেরা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির সাথে সমন্বয়ে মাধ্যমিক স্কুল হলে চরে উন্মোচিত হতে পারে শিক্ষার নতুন দিগন্ত।

২১ এপ্রিল শুক্রবার সময় টিভি’র এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরের ১৬টি প্রাথমিক স্কুলে হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পেলেও পিএসসি শেষে মাধ্যমিক স্কুল সংকটে শিক্ষা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে তারা। পাশাপাশি সন্তানকে শহরে রেখে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় উচ্চ শিক্ষায় সরকারি সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে চরের কিশোর কিশোরীরা। স্কুলে শিক্ষক না আসায় সন্তানকে ঘরের কাজে ব্যস্ত রেখেছেন অভিভাবকেরা।

রাজশাহীর চরখানপুকুর, তারা নগর, মাঝাড়দিয়াড়সহ জেলার ৯টি চরের একই অবস্থা। এসব চরে ৩টি জীর্ণ জুনিয়র হাইস্কুল থাকলেও শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই থাকে তালাবদ্ধ। উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চরে মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৭-১৮ অর্থবছরে ৯টি চরে শিক্ষকদের সুবিধায় তিনটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, দুর্গম চরাঞ্চলে বিজিবির সাথে যুক্ত প্রয়াসে একটি মাধ্যমিক স্কুল হলে চরের শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি নিশ্চিত হবে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষাও। এ ব্যাপারে পবা-৩ আসনের সংসদ সদস্য  মো. আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবি যেমন দায়িত্ব পালন করছে তার পাশাপাশি চরাঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে কাজ করার জন্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে আমি কথা বলবো।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

অফিস সহকারীদের শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯ কর্মচারীকে সহকারী জেলা শিক্ষা ও মনিটরিং অফিসার পদে (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।

তাদের দাবি, অফিস সহকারীদের জেলা শিক্ষা অফিসার ও মনিটরিং অফিসার পদে বসিয়ে শিক্ষকদের অসম্মানিত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গত ১৮ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাসরিন জাহানের সই করা এক নির্দেশনায় ৯ জনকে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়।

এরপর থেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সমালোচনার ঝড় এবং বাস্তবেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন, অফিস সহকারীদের জেলা শিক্ষা অফিসার ও মনিটরিং অফিসার পদে পদোন্নতি দিয়ে শিক্ষকদের লজ্জিত করা হয়েছে।

‘যারা আমাদের অধীনস্থ, এখন তারাই আমাদের বস হয়ে গেলেন। যোগ্যতা না থাকলেও তাদের এ পদে বসানো হয়েছে। অথচ শিক্ষকদের পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকার পরও তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন।’

শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে শৃঙ্খলা নষ্ট হবে মন্তব্য করে তিনি দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে যোগ্যদের এ পদে বসানোর দাবি জানান।

কাজী আবু নাসের চৌধুরী নামে এক শিক্ষক ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে কেন প্রাইমারিতে আসলাম? নিজের প্রতি ক্ষোভ আর ঘৃণা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কারণ প্রাইমারির চাকরির যে এত অবমূল্যায়ন তা আগে জানা ছিলো না। বর্তমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৫ ভাগ শিক্ষক অনার্সসহ মাস্টার্স পাস। অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হলো এই উচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের কোন মূল্যায়ন না করে মাত্র এইচএসসি পাস করা স্টেনোগ্রাফারদের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী মনিটরিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সাংগাঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম লিখেছেন, প্রমোশন দিয়ে দিয়ে ডিজি পর্যন্ত করুক- কিন্তু শিক্ষকদের বেলায় সীমাহীন ও আশাতীত অপমানজনক অবমূল্যায়ন কেন?

‘কি আর করার! এটাই হচ্ছে প্রাইমারি শিক্ষা,’ বলেছেন ফেরদৌস সফিক।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি দায়িত্ব প্রদানকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। পদগুলো পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক নিয়োগকৃত, তাই এসব পদে নিয়োগ-পদায়ন করা হলে তারা (চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত) স্ব পদে ফেরত যাবেন এবং নব্য এসব কর্মকর্তার পদোন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মূল পদ বা ফিডার (নির্ধারিত সময়) পদ শূন্য ঘোষণা করা যাবে না। এসব শর্তে তাদের ২৭ এপ্রিল যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ছয়জন স্টেনোগ্রাফারকে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার ও তিনজনকে মনিটরিং অফিসার পদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এরমধ্যে মধ্যে পাঁচজনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে ও একজনকে জেলা শিক্ষা অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। মনিটরিং কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনকে মন্ত্রণালয়ে, বাকি দুইজনকে নওগাঁ ও পিরোজপুর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে অফিস সহকারীকে অফিসার পদে ‘পদোন্নতি’ দেয়ার বিষয়টি আইনগত বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, পদ শূন্য থাকায় জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের চলতি দায়িত্বে বসানো হয়েছে। এসব পদে নিয়োগ হলে আবারও তাদের আগের পদে ফেরত পাঠানো হবে।

জরুরি প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে মন্তব্য করে অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদেরই পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

তাই এটি নিয়ে মনোক্ষুণ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

রাবিতে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

রাবি সংবাদদাতা ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আব্দুল্লাহ আল-মামুন নামে এক শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের ২০১ নম্বর কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে ছয় হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের পর আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেয় তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া জামান জ্যাক রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং অনিক মাহমুদ বনি ছাত্রলীগের কর্মী। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে শের-ই-বাংলা হলের ২০১ নম্বর কক্ষে আটকে রাখে জাকারিয়া জামান জ্যাক। এ সময় আব্দুল্লাহকে মারধর করে চাঁদা দাবি করা হয়। আব্দুল্লাহর কাছে টাকা না থাকায় তার বাবাকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ছয় হাজার টাকা আদায় করে জ্যাক ও বনি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আব্দুল্লাহ এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ এবং ছাত্রলীগের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, এর আগেও ভয়-ভীতি দেখিয়ে জ্যাক এবং বনি তার কাছ থেকে দুই দফায় ছয় হাজার সাতশ’ টাকা নিয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে জামায়াত-শিবিরের কর্মী বলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয়ও দেখায় তারা।

তবে জাকারিয়া জামান জ্যাক এবং অনিক মাহমুদ বনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিপদে ফেলার জন্য কোন রাজনৈতিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, তাদের ব্যাপারে এর আগেও ছিনতাই ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আজকের (রবিবার) বিষয়টিও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে আমরা জেনেছি। ঘটনার সত্যতা নিয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে সাংগঠনিকভাবে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

– See more at: http://www.dailyjanakantha.com/details/article/262233/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97#sthash.QJAHe09h.dpuf

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা তেহারি পরিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় ক্যান্টিন ভাঙচুর

বর্ষবরণ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ক্যান্টিন ভাঙচুর করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরিচালককেও ঘটনার সময় মারধর করা হয়।

১৪ এপ্রিল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা তেহারি পরিবেশন করায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষর্শীরা। ভাঙচুরের পর ক্যানটিনটি বন্ধ রয়েছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ক্যানটিন পরিচালক জানিয়েছেন বিষয়টি তার জানা ছিল না। তারপরও বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ক্যান্টিনে কখনই গরুর মাংস আসে না। তেহারি গরুর মাংস দিয়ে যে রান্না হয়েছে তা কেউ জানতো না। খাওয়ার পর সন্দেহ হলে কর্মচারী জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন সে গরুর মাংস দেওয়ার কথা স্বীকার করে।

জাকিরের আগে চারুকলার ক্যান্টিন চালাতেন মিজানুর রহমান নামে একজন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মঙ্গলবার্তা নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা

অনলাইন রিপোর্টার॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়েছে পয়লা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

শুক্রবার সকাল ৯টার সময় এ শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর উদ্বোধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী।

উল্লেখ্য, গত বছর মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেস্কো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘোষণার পর এবারই প্রথম এ শোভাযাত্রা বের করা হলো।

‘আনন্দালোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ প্রতিপাদ্যে অকল্যাণ ও অশুভকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে বটমূলে বর্ষবরণের প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে বের হয়েছে ২৯তম মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় গীতও রবি ঠাকুরের গান, ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’।

বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ আর বিশাল আকৃতির সব বাহন নিয়ে এ শোভাযাত্রা চারুকলার সামনে থেকে বের হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক রূপসী বাংলা) হোটেল চত্বর ঘুরে টিএসসি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলার সামনে এসে শেষ হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এ বর্ণিল আয়োজনটি রঙে-ঢঙে পায় ভিন্ন এক মাত্রা। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি দেশে রয়েছে উগ্রবাদীদের চোখ রাঙানি। তাই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন হচ্ছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় শোভা পাচ্ছে সর্বমোট ১২টি শিল্প কাঠামো। মূল শিল্প কাঠামোটি হচ্ছে ২৫ ফুট উচ্চতার সূর্যের মুখ। যার একপ্রান্তে আছে হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী আর অন্যদিকে থাকবে সূর্যের বিপরীতে বীভৎস কদাকার মুখ। শুভ ও অশুভ মানুষের অন্তনির্হিত এই দুই রূপ তুলে ধরা হয়েছে। সে সঙ্গে ছোট ছোট আরো ১৬টি হাস্যোজ্জ্বল সূর্য মুখ থাকবে।

এবার শোভাযাত্রা আবার ফিরে এসেছে সমুদ্রবিজয়ের স্মারক হিসেবে তৈরি করা ময়ূরপঙ্খী নাও। এই শিল্প-কাঠামোটির উচ্চতা ২৫ ফুট। প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঠাঁই পাওয়া হাতি, ঘোড়া, বাঘ ও টেপা পুতুলও স্বরূপে ফিরেছে এবারের আয়োজনে। এ ছাড়া বিশাল কদাকার মুখের এক দানবের শিল্প কাঠামোও নির্মিত হয়েছে, যা দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কুৎসিত মুখটি আবারো তুলে ধরা হয়েছে জাতির সামনে। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় শোভা পেয়েছে রাজা-রানির মুখোশসহ নানা অনুষঙ্গ।

এ বছর প্রথমবারের মতো দেশের ৩০ হাজার সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই শোভাযাত্রা বের করার নির্দেশ দিয়েছে।

এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সকল উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ আলোচনা সভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতনে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে সমিতির নেতারা এ দাবি জানান।

বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকের বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল সমস্যাটা বোঝা। তা সফল হয়েছে। সমাধান আজই পাচ্ছেন না। আমরা এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এটার জন্য একটা কমিটিও আছে।আমরা এই বিষয়টা সেখানে বিবেচনা করব।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সভাপতি ওয়েজ আহমেদ চৌধুরী ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেন।

যেখানে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে বেতন স্কেল ১২ নম্বর গ্রেড ও ১১ নম্বর গ্রেডে উন্নীত করা হলো। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ নম্বর গ্রেডে উন্নীত করা হলো।

ওয়েজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০১৪ বছরের ২৭ নভেম্বরের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া অন্য একটি চিঠির ফলে আমরা পূর্বের ওই চিঠির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এরপর থেকেই জটিলতা শুরু। নতুন বেতন স্কেলেও তা সমাধান করা হয়নি। সুতরাং নতুন বেতন স্কেলে জ্যেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকদের এতদিনের সিনিয়রিটি বা চাকরিকালীন টাইম স্কেল যুক্ত করে বেতন নির্ধারণ করলে সমস্যার সমাধান হবে।

বৈঠকে কেস স্টাডি হিসাবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দুই শিক্ষকের বেতন কাঠামো উপস্থাপন করা হয়। যেখানে প্রজেশ চন্দ্র দাস ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ১৯৭৫ টাকা বেতন স্কেলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে মো. ছয়ফুল ইসলাম একই বছর ৬ এপ্রিল ১৮৭৫ টাকা বেতন স্কেলে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।

২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষক ১১তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হন। অষ্টম বেতন কাঠামো কার্যকরের পরও প্রধান শিক্ষকদের বেতনে টাইম স্কেল যুক্ত হয়নি। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকদের বেতনে যুক্ত করা হয় তিনটি টাইম স্কেল, যা যুক্ত করে তাদের বেতন চূড়ান্ত করা হয়। যেখানে উভয় পদের বেতন ১৫ হাজার ৯৮০ টাকা হয়ে যায়।

বৈষম্যের চিত্র হিসেবে বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা বিবরণীতে বলা হয়, সরকারী শিক্ষকের তুলনায় প্রধান শিক্ষক এক ধাপ উপরের স্কেলে নিয়োগ পেলেও ১৫ বছর পর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল ও মূল বেতন সমান। সরকারী শিক্ষকের তুলনায় প্রধান শিক্ষক পদ ২০০৬ সালে দুই ধাপ এবং ২০১৪ সালে তিন ধাপ উপরের স্কেলে উন্নীত হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতনে টাইম স্কেল যুক্ত করে নির্ধারণ না করায় প্রধান শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এই বিবরণীর ব্যাখ্যায় সমিতির মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি মঞ্জুলাল দে বলেন, প্রধান শিক্ষকদের টাইম স্কেল দেয়া হলে তারা এখন ৮ নম্বর গ্রেডে চলে যেতেন।

সমিতির যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে আমাদের তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুসারে গেজেট হয়নি। রেট্রোসপেকটিভ ইফেক্ট দিয়ে সেই গেজেট হলেও এই সমস্যা থাকে না।

বৈঠকে সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল আউয়াল তালুকদার বলেন, এ বৈষম্যের ফলে অনেক স্থানে প্রকৃত বেতন ও স্কেল উভয় দিক থেকে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকদের উপরে চলে গেছেন।

বৈঠকে শিক্ষকদের পক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সমিতির নির্বাহী সভাপতি ওয়েছ আহমেদ চৌধুরী, মহাসম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ক্রিকেট খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- জামিল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, আফজাল খান, মাহফুজুর রহমান, মেহেদি হাসান রাজিব। তাঁরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এইচ তুষারের অনুসারী। হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান গ্রুপের কর্মীরা রড দিয়ে পিটিয়ে এদের আহত করে বলে জানা গেছ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-শ্রীলংকার খেলা দেখাকালীন সময়ে হলের টিভি রুমে খেলা দেখতে গিয়ে রেডিওতে আগে শুনে সেটা বলার কারণে দুগ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের রাজু, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রাজন, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সাদ্দাম, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সাজুর নেতৃত্বে¡ মারামারি শুরু হয়। তারা হলের ৪২১ নাম্বার কক্ষ ভাংচুর করে। ওই রুম থেকে একটি ল্যাপটপ ও কয়েকটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলে কক্ষের শিক্ষার্র্থীরা অভিযোগ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, টিভি কক্ষের জায়গা কম হওয়াতে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হালকা কথা কাটাকাটি হয়েছে। যারা বিশৃক্সক্ষলা করেছে তাদেও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারামরি সময় হল প্রাধ্যক্ষ বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে বলেছে হল শিক্ষার্থী জানিয়েছে। তারা জানায় মারামারির সময় প্রধ্যক্ষ অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন হলে আসলেও তিনি মারামারি না থামিয়ে তার কক্ষে চলে যান। এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা তার কক্ষে গেলে তিনি বলেন, হলে অনেক ভালো কাজ হয়েছে সে সময় তো তোমরা আসনি। এখন মারামারি হয়েছে আর ছুটে চলে এসেছে। এ সময় তিনি মারামারি থামিয়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সিলেটে সরকারী শিক্ষকদের গাইড বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার

সিলেট থেকে স্টাফ রির্পোটার : বই মানুষকে দেয় শিক্ষা সমাজকে দেয় সমৃদ্ধি’ এ স্লোগান নিয়ে সিলেটে ‘গোল্ডেন প্লাস’ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী টেস্ট পেপারসের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বইয়ের ব্যপক প্রচারন শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখা। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

সিলেটের একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম গোল্ডেন প্লাস প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী টেস্ট পেপারসের প্রকাশনা । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি গোলাম রব হাসনু। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ওয়েছ আহমদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আহমেদুল কিবরিয়া বকুল, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব পুরকায়স্থ, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ও পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্ধু লাইব্রেরী অ্যান্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম মিলন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাহজালাল লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী এহসানুল হক তাহের।
বক্তারা এই বইটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীদের পরম সহায়ক বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতা শাকিল আহমেদ বলেন কিভাবে একজন সরকারী কর্মকর্তা একটি গাইড বইয়ের প্রচারে নামেন তা বোধগম্য নয়।

আরেক নেতা জাহাঙ্গির আবেদ বলেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি  সারা দেশে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন দাবী আদায়ের কথা বলে চাদা আদায় করায় তাদের মুল কাজ।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি গোলাম রব হাসনু সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া  যায়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক বিপ্লব পুরকায়স্থ বলেন তারা বইটিকে প্রচারের জন্য বলেনননি। সাংগাঠনিক মিটিংএ  তারা বইটিকে পাঠ্যবইয়ের সহায়ক হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

দামুড়হুদায় গত ২দিনে কৃমি নাশক ট্যাবলে খেয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ ॥

সংবাদদাতা,দামুড়হুদা,চুয়াডাঙ্গা,৩এপ্রিল ॥ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ২ দিনে কৃমি নাশক ট্যাবলেট খেয়ে আসমা খাতুন, সালমা খাতুন, আনিকা তাবাস্সুম, খাদিজা, আখি তারা, শিল্পী রুমি, লাবনী, সেতু, মিষ্টি, রেবেকা, তাছলিমা, আম্বিয়া, শামসুননাহার, সোনিয়া সহ প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদেরকে দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রন সপ্তাহ উপলক্ষ্যে রোববার এবং সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। প্রথমে কার্পাসডাঙ্গা হাদিকাতুল উলুম দাখিল মহিলা মাদ্রাসায় ১’শ জন শিক্ষাথীর মাথা ঘুরতে শুরু করে পরে তারা বমি করতে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এরপর, পীরপুরকুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ওসমানপুর সপ্রাবি ও কার্পাসডাঙ্গা মিশনারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরও ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদেরকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-ক্লিনিক গুলোতে স্যালাইনের অভাব এবং সেখানে ঔষুধ ও চিকিৎসকের সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবকেরা।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওঃ আজিজুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী রফিকুল হাসান এবং পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোঃ জামাল শুভ জানান, খালি পেটে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার পরে অতিরিক্ত গরমে শিক্ষার্থীদের পেটে সমস্যার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। আশা করা হচ্ছে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।
চুয়াডাঙ্গা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আলি হোসেন জানান, জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রন সপ্তাহ উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা কৃমিনাশক ট্যাবলেট সেবন করেছে। এখন পর্যন্ত কারও অবস্থা গুরুতর নয়। তবে চিকিৎসা চলছে অতি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে। # #

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

‘মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছি, স্কুলে যাব না’

ডেস্ক:আমি তো আসামি। স্কুলে যাব না। পড়ালেখাও করব না। স্কুলে গেলেই সবাই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করবে। আমার সাথে কেউ বসতেও চাইবে না। হত্যা মামলায় মিথ্যা জেল খেটেছি, কেউ তো এ কথা বুঝবে না। সমাজে লজ্জায় আমি মুখ দেখাতে পারছি না।’

এমন কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে স্থানীয় হাজি জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বুশরা আক্তার পান্না। সে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার রিকশাচালক মো. খায়ের মিয়ার ছোট মেয়ে।

পরিবারের অভিযোগ, ভৈরব থানার  উপ-পরিদর্শক নজমুল হুদার রোষানলে পড়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় পান্না। একই মামলায় তার সঙ্গে কারাভোগ করে তার বড় বোন দুই শিশু সন্তানের মা বন্যা বেগমও। কারাভোগের পর বাড়িতে এসেও তারা প্রায় অন্তরীণ অবস্থায় আছে, লোকলজ্জার ভয়ে।

এলাকার আলোচিত ঘটনা হওয়ায় প্রতিদিন প্রতিবেশীরা ছুটে আসছে ওই দুই বোনকে দেখতে। তাই বর্তমানে নিজ বাড়িতে ‘বন্দিজীবন’ই কাটাতে হচ্ছে তাদের। মিথ্যা ঘটনায় স্বাভাবিক জীবনে বাধা তৈরি করায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিচারসহ ওই মামলা থেকে মুক্তি চায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই বোনসহ তাদের পরিবার।

খায়ের মিয়া ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বীনা জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে

একটি ডাকাতি মামলায় অভিযুক্ত আসামি তাদের ছেলে কাউছারকে গ্রেপ্তার করতে এসআই নজমুল হুদার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে আসে। পুলিশ সদস্যরা তাদের বাড়ির ফটকের গেইট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তখন ঘরে থাকা দুই বোন বুশরা ও বন্যা এগিয়ে গিয়ে বাড়ির গেইট ভেঙে পুলিশ প্রবেশ করায়  প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এসআই নাজমুল হুদা দুই বোনকে কিল-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে পেটান এবং ঘরে ঢুকে কাউছারের খোঁজ করেন।

পরিবারের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ করতে থাকলে দুই বোন আবারও প্রতিবাদ করে। একপর্যায়ে কাউছারকে না পেয়ে দুই বোনকে আ

বারও মারধর করে ধরে নিয়ে যান এসআই নাজমুল। সেখানে নিয়েও দুই বোনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে পুলিশ।

দুই বোন বন্যা-পান্নাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বিষয়ে ঢাকাটাইমসে খবর প্রকাশিত হলে চাপের মুখে পড়ে পুলিশ বিভাগ। পরে পুলিশ বিভাগ তাকে গাজীপুরে বদলি করে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় ভৈরব থানার সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসে থাকা এক যাত্রী পিকেটারদের ইট-পাটকেলে আহত হন। ওই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় পর ২০১৬ সালের ২২ জুন ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। গ্রেপ্তারের পর এদিনই ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামি দেখিয়ে দুই বোনকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

রবিবার সকালে এই প্রতিনিধি তাদের বাসায় গেলে বন্যা জানান, জেলে যাওয়ার পর তার দুই শিশু সন্তানকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার বাবার বাড়ি থেকে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। আমি ৩৫ দিন কারাগারে বন্দী ছিলাম বলে আমার দুটি শিশু মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত ছিল। জেল খেটেছি বলে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে দেখতে আসেনি এবং আমার শিশু সন্তান এখনো ফিরে পায়নি।

তিনি জানান, জীবনে এমন অপমান আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার  কখনো হইনি। নির্যাতনের পর ওই এসআই আমাদের দুই বোনকে হুমকি দিয়ে বলেছিল ‘মাইরের কথা কাউকে বললে তোদের আবারও জেল থেকে থানায় আনা হবে।’ বিনা অপরাধে আমাদের জীবনকে কলঙ্কিত করায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজমুল হুদার বিচার দাবি করছি।

তাদের রিকশাচালক বাবা খায়ের মিয়া জানান, আমার দুই মেয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু ‘মিথ্যা’ মামলা থেকে এখনো মুক্তি পায়নি।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ওই পুলিশের বিচারসহ আমার মেয়েকে ‘মিথ্যা’ মামলা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter