Home » নিউজ (page 30)

নিউজ

খুলনায় ছাত্র সুদর্শন রায় হত্যার বিচা‌রের দা‌বি‌তে মানববন্ধন

খুলনা প্রতিনিধি,২২ ফেব্রুয়ারী ঃ খুলনায় ক‌লেজ ছাত্র সুদর্শন রায় হত্যার বিচা‌রের দা‌বি‌তে মানববন্ধন পা‌লিত হ‌য়ে‌ছে।

আজ বুধবার (২২ ফেব্রুয়া‌রি) বেলা ১১টায় খুলনা সরকা‌রি সুন্দরবন ক‌লেজের সাম‌নে সুন্দরবন ক‌লেজ শিক্ষক ও সাধারণ ছাত্র প‌রিষ‌দের উদ্যো‌গে এই মানববন্ধন পা‌লিত হয়।

সুন্দরবন ক‌লে‌জের অধ্যাপক বিজন কুমার বৈরাগীর সভাপ‌তি‌ত্বে ঘন্টা ব্যাপী অনু‌ষ্ঠিত মানববন্ধ‌নে বক্তৃতা ক‌রেন অধ্যাপক ড. সমীর রঞ্জন সরকার, অধ্যাপক ড. সুলতানা ফা‌তিমা ক‌বির, শিক্ষক প‌রিষ‌দের সহ-সম্পাদক মোঃ নাজমুল ক‌বিরসহ সাধারণ ছাত্র প‌রিষ‌দের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধ‌নে বক্তারা ক‌লেজ ছাত্র সুদর্শন রা‌য়ের হত্যাকারী‌দের দ্রুত গ্রেফতার ক‌রে দৃষ্টান্ত মূলক শা‌স্তি প্রদা‌নের জন্য সরকার ও প্রশাস‌নের প্র‌তি জোর দা‌বি জানান।

উ‌ল্লেখ্য, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুনারাবাদ গ্রামের সুকুমার রায়ের ছেলে ও সরকা‌রি সুন্দরবন ক‌লে‌জে‌র অর্থনী‌তি বিভা‌গের তৃতীয় ব‌র্ষের ছাত্র সুদর্শন রায় (২২) ডুমুরিয়া উপজেলার বড় ডাঙ্গায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন।

সোমবার (২০- ফেব্রুয়া‌রি) বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফেরেননি। প‌রে (২১ ফেব্রুয়া‌রি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর এলাকার একটি খালের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দর্শনায় শিশুদের বর্ণলিখন ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় শিশুদের বর্ণলিখন, বাক্যলিখন ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টায় দর্শনা পৌরমাঠে আয়োজিত অনির্বাণ একুশে নাট্যমেলায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন শতাধিক শিশু চারটি বিভাগে অংশগ্রহণ করে।

শিশুরা প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগে বাংলা বর্ণলিখন, বাক্যলিখন এবং দুটি বিভাগে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আজ সন্ধ্যায় অনির্বাণ একুশে নাট্যমেলার উদ্বোধনী পর্বে বিজয়ীদের পুরষ্কার প্রদান করা হবে।

৩৫তম বিসিএসের কোটা পূরণ ৩৬ থেকে

সচিবালয় প্রতিবেদক,২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ :

৩৫তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় পূরণ না হওয়া ৩৩৮টি পদ ৩৬তম বিসিএসের মেধাতালিকা থেকে পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩৬তম বিসিএসে প্রাধিকার কোটার ৭৩৭টি পদে পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল এবং ৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে (যারা ক্যাডার পাননি) ৮০২টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি  বলেন, ‘ ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় বিভিন্ন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় পূরণ না হওয়া সংরক্ষিত পদগুলো ৩৬তম বিসিএসের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের শূন্য পদের সঙ্গে যোগ করে তা পূরণ হবে।’

এছাড়া প্রাধিকার কোটায় পূরণ না হওয়া পদ সংরক্ষণের বিধান ৩৬তম বিসিএসে শিথিল করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে বলে জানান শফিউল আলম।

পিএসসি বলেছে, ৩৬তম বিসিএসে ২ হাজার ১৮০টি শূন্য পদের মধ্যে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের জন্য ১ হাজার ৬৩৮টি পদ আছে। এসব পদের মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪৯১টি, ১০ শতাংশ মহিলা কোটায় ১৬৪টি, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় ৮২টি পদ নিয়ে মোট ৭৩৭টি পদের বেশিরভাগই খালি থাকবে এবং তা সংরক্ষণ করতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩৬তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করলে ওইসব পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে উল্লেখ করে পিএসসিএ বিষয়ে সরকারের অনুমোদন চায়।

শফিউল আলম জানান, ৩৬তম বিসিএসের জন্য প্রাধিকার কোটার পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল করায় ওই বিসিএসের মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে ওইসব পদ পূরণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা যা ছিল তাই আছে, শুধু কোটা শিথিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা, সংবিধানেও কোটার বিধান আছে।’

অন্যদিকে ৩৫তম বিসিএসে কৃতকার্য হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্য থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট পদে ৩০২ জন এবং ধাত্রী পদে ৬০০ জনকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে ৫ হাজার ৫১৭ জন উত্তীর্ণ হলেও এদের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছেন ২ হাজার ১৫৮ জন। অন্যরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, ‘সভায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন-২০১৭, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আইন-২০১৬, প্রাণি কল্যাণ আইন-২০১৬, শিশু (সংশোধন) আইন-২০১৭-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে।’

সরকারি চাকরিজীবীদের বাৎসরিক চিকিৎসা সুবিধা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা

সরকারি চাকরিজীবীদের বাৎসরিক চিকিৎসা সুবিধা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করে ‘বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন-২০১৭ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে সোমবার (২০ই ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে কোনো সরকারি কর্মচারী যদি দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় তাহলে তিনি কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন ২ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। আগে যা ছিল ১ লাখ টাকা। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীরা মাসিক চিকিৎসা ভাতার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পেতেন, তা বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাসিক কল্যাণ ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, যৌথ বিমার এককালীন অনুদান ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ এবং দাফনের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যৌথ বীমার মাসিক কর্তনের হার ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং কল্যাণ তহবিল খাতে কর্তনের হার ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষার গুণগত মান বেড়েছে : নারায়ণ চন্দ্র

ডেস্ক ॥ বিগত সময়ের তুলনায় এখন শিক্ষার গুণগত মান বেড়েছে বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেছেন,শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না।একটি দেশের অগ্রগতির পূর্বশর্ত হলো শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এই বিবেচনায় সবার সার্বিক প্রচেষ্টায় বিগত সময়ের তুলনায় শিক্ষার গুণগত মান এখন বেড়েছে।

শনিবার দুপুরে খুলনা ডুমুরিয়া বিয়াম ল্যাবরেটারি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগের কাছাকাছি শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা বর্ষের প্রথমে পাঠ্য বই প্রদানসহ নানা ক্ষেত্রে সরকার সফলতা অর্জন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন,শারীরিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা করা প্রয়োজন। পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে শিক্ষকদের সততার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান।

একটি আপেলের জন্য শিশু সাইদুলকে নির্যাতন

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর ॥ নাটোরের গুরুদাসপুরে পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য একটি আপেল চুরি করে খাওয়ায় সাইদুল নামে ১০ বছরের একটি শিশুকে হাত-পা বেধে নির্যাতন করার অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় মার্কাজ মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত সাইদুল গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের জাকিরের মোড় এলাকার কৃষি শ্রমিক আবদুল মিয়ার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চাঁচকৈড় বাজারে হানিফের ফলের দোকান থেকে সাইদুল একটি আপেল নিয়ে দৌড় দেয়। এতে ফলের দোকানদার হানিফ ও তাঁর সহযোগী সিএনজি চালক পিন্টু এবং মাইক্রোবাসের চালক মজনু শিশুটিকে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে নাইলনের দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করা হয়। শিশু সাইদুল জানায়, সকালে সে কিছু না খেয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। খিদে যন্ত্রণায় সে আপেলটি চুরি করেছিল। অনেক কান্নাকাটি, আকুতি জানানোর পরও তাঁরা ছাড়েনি।

আপেলের দোকানদার হানিফ বলেন, তিনি দোকান খোলা রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলেন। আপেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখে পিন্টু ও মজনু ড্রাইভার শিশু সাইদুলকে ধরে বেঁধে ফেলেন। রাগে ক্ষোভে সাইদুলকে চড় দেওয়া হয়েছে। সাইদুলের বাবা এলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানাপুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আজম আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আপেলের দোকানের পাশে গ্রিলের সাথে রশি দিয়ে শিশুটির হাত-পা বাঁধা ছিল। বেলা ২টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

শিশুটির বোন আজেদা বেগম জানান, তার ভাই সাইদুল মানসিক প্রতিবন্ধী। তার মৃগির রোগ রয়েছে। একারণে বাড়িতে তাকে পাহারায় রাথা হতো। শনিবার সকালে সে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুদাসপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার মাহাতো বলেন, শিশুটি এখন থানা হেফাজতে আছে। শিশুটির বোন আজেদা বেগম থানায় এসেছেন। তারা যদি অভিযোগ দেয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৫৪ পরীক্ষার্থী

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৫৪ দাখিল পরীক্ষার্থী। তবে তাদের মধ্যে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এই পরীক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই ঢেমুশিয়া মোহছেনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার পরীক্ষার্থী। সাহারবিল আনোয়ারুল উলুম কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চকরিয়া-মহেশখালী সড়কে ইলিশিয়া এরফান মিয়ার মৎস্য প্রকল্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-আয়েশা ছিদ্দিকা, মোহাম্মদ রিজভী, শাহিন আক্তার, শারমিন আক্তার, সাকিব, আরিফুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, রায়হান, মাহমুদুল করিম, আলী আজগর, খতিজা খাতুন, মোস্তফা জন্নাত, মনিরা বেগম, হাদিজা আক্তার ও  নাঈমা সুলতানা।
মাদরাসার শিক্ষক মঈনুদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ঢেমুশিয়া থেকে এক শিক্ষকসহ ৫৪ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে একটি বাস সাহারবিল আনোয়ারুল উলুম কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিল। এসময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা ৫৪জন পরীক্ষার্থী কম-বেশি আহত হন। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিষয়টি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রধান প্রকৌশলীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত, এলজিইডির পর এবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকায় অভিযোগ জমা পড়েছে।
জানা যায়, দেওয়ান মো. হানজালা ১৯৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি বিধান অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ ৫৯ বছর পূর্ণ হলে অবসর না নিয়ে পিআরএল-এ যাওয়ার কথা। ২০১৫ সালের ৭ অগাস্ট তার চাকরির মেয়াদ ৫৯ বছর পূর্ণ হয়। কিন্তু তিনি অবসরে না যেয়ে চাকরিতে প্রবেশের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে সাময়িক সনদপত্র দিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদে বর্ধিত সময়ের জন্য বহাল তবিয়তে আছেন। এছাড়া তার অধস্তন পদ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে দীর্ঘদিন ধরে কোনো পদায়ন করা হচ্ছে না। তিনি নিজেই এ পদটিও আকড়ে আছেন। এছাড়া কোন সহকারি প্রকৌশলীর পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বিল ভাউচারে কোটি কোটি টাকা লোপাটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। কেবলমাত্র খাতা কলমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে তুলে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দু’দশকের মাধ্যমে গত ১ বছরের ফাইলপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে সাগর চুরির মত ঘটনা ধরা পড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বেশ কিছু প্রকল্পে অতি গোপনে তাদেরকে ৭/৮ কোটি টাকার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজ না করেই বিল তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ওই সময় শিক্ষা ভবনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সূত্র দাবি করছে, মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের সাড়ে ৪ কোটি টাকার ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা তুলে নিযেছেন প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডকেট। রামপুরা বনশ্রীর আইডিয়ালের সাড়ে ৩ কোটি টাকার কাজ একইভাবে আতিক নামের এক ঠিকাদারকে পাইয়ে দিয়ে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন।

রাবি ছাত্রী সিফাত হত্যার রায় আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ।রোববার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মাহবুবুর রহমান জানান, বিচারক এ মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে এ তারিখ রাখেন। এ আইনজীবী জানান রাষ্ট্রপক্ষে এ আলোচিত মামলায় ৩২ জনের মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ প্রিসলি, শ্বশুর হোসেন মোহাম্মদ রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার নজলী ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান। আসিফ কারাগারে থাকলেও অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় আইনজীবী হোসেন মোহাম্মদ রমজানের বাড়িতে মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্দশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় মহানগরীর রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করে। পরে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মিলে বলে জানানো হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আঘাতজনিত কারণে সিফাতের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। বাদীপক্ষের আবেদনে গত ১২ জুলাই মামলাটি রাজশাহী থেকে ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়।

গত বছরের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার আহমেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

পাঠ্যপুস্তকে সাঁওতালী(রোমান) বর্ণমালা ব্যবহারের দাবীতে মানববন্ধন

রাজশাহী::  প্রাক-প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তক রচনার ক্ষেত্রে সাঁওতালী(রোমান) বর্ণমালা ব্যবহারের দাবীতে আদিবাসীদের কয়েকটি সংগঠন  দিনাজপুওে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সন্মুখ সড়কে নর্দান আদিবাসী ছাত্র ঐক্যজোট বাংলাদেশসহ আদিবাসদের আরো ৩টি সংগঠন মানববন্ধনের আয়োজন করে। আদিবাসী ছাত্র নেতা আলবিনুশ টুডু’র সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী চলা এই মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতি,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্েিবশেষে সকলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছেন তাই আমাদের দাবী সরকার আদিবাসী জনগোষ্ঠির মাতৃভাষার প্রতি সন্মান দেখিয়ে কমলমতি শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রাক-প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকে সাঁওতাল(রোমান) বর্ণমালা ব্যবহারের ব্যবস্থা করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবেন।

তারা বলেন, ১৯৫২ সালে বাঙ্গালীরা নিজের মাতৃভাষার জন্যে আন্দোলন করেছিলেন এবং সফল হয়েছে আমরা আমাদের মাতৃভাষার জন্যে আন্দোলন করছি। সাঁওতাল জনগোষ্টির দীর্ঘদিনের প্রানের দাবী পাঠ্যপুস্তকে সাঁওতাল ভাষার ব্যবহার উপেক্ষা করা যাবেনা। তারা বলেন,আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের মাতৃভাষা শিখতে ও পড়তে পারে সে জন্যে আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করতে হবে। আদিবাসী শিশুদের শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে বর্তমান সরকারের  জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসী শিশুসহ সকল ক্ষুদ্র জাতি সত্বার সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ ঘটানো সরকারের এমন উদ্দ্যোগকে আমরা সহযোগীতা করতে চাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নর্দান ইনডিজিনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সভাপতি জন মুরমু,সান্তাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন(সামু)’র সভাপতি মিলন সরেন,সদস্য পল্লব কিস্কু,রিপন হাসদা,আদিবাসী পত্রিকা তাবিখা সংবাদ এর সম্পাদক স্টেফান সরেন,সাঁওতাল লেখক ফোরাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ হেমরম,আদিবাসী নেতা মিঃ রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম,আদিবাসী মুক্তি মোর্চাও সভাপতি মিঃ যোগেন্দ্রনাথ সরেন ও সাধারন সম্পাদক জাকারিয়াস ডুমরি,সান্তাল গবেষক লগেন কিস্কু,উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম সভাপতি মিঃ হিংগু মুরমু,সাঁতাল সমন্বয় পরিষদেও সভাপতি মিঃ কর্নেলিয়াস ও আউলিয়পুর প্রাথমিক মডেল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যোসেফ মুরমু প্রমুখ

বইমেলায় আসাদ জোবায়েরের ‘বোতাম খোলা দুপুর’

ছড়াকার আসাদ জোবায়ের পেশায় একজন সাংবাদিক। জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। সাংবাদিকতার ক্ষেত্র হিসেবে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জটিল হিসাব-নিকাসের মধ্যেও ভুলে যাননি ছন্দ ও মাত্রার হিসাব। লিখে চলেছেন তাই ছোট-বড় সবার জন্য ছড়া-কবিতা। এমনই কিছু ছোটদের উপযোগী ছড়া ও কবিতা নিয়ে সাজানো তার প্রথম বই ‘বোতাম খোলা দুপুর’। এসেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়।
বইটিতে স্থান পাওয়া কবিতাগুলোয় কিশোর মনের নানা রকম অনুভুতি নিয়ে খেলা করা হয়েছে। যেমন একটি কিশোর কবিতার চার লাইন- ‘একটা পাখি দুইটা পাখি সাঁঝের বেলা ডাকে/ আমি যখন ইটের ঘরে ফিরছি ভেজা ঘামে/ হাজার পাখির পুচ্ছ দোলায় সন্ধ্যা তোমার নামে/ হাতড়িয়ে মন খোঁজ কি গো তোমার এ খোকাকে?’
এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, ‘আমি কিশোর বয়সে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে এসেছি। আমার কিশোর মন এখনো গ্রামের পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। আমি যখন ছোটদের জন্য লিখতে বসি, তখনই আমার সেই কিশোর আমাকে আবিষ্ট করে ফেলে। আমার লেখায় জায়গা করে নেয় সে। সেই কিশোরের দুরন্তপনা, সরল জিজ্ঞাসা, শহরে এসে স্বপ্নভঙ্গ, মায়ের থেকে দুরে থাকার যন্ত্রণা- সব ধরা দেয় কবিতায়। আমারই কৈশোর নানাভাবে চিত্রিত হয়েছে আমার কবিতায় ছড়ায়। সেই ভাবনাগুলো অন্যদের মনেও যদি একটু অনুরণন তোলে, তবেই আমার স্বার্থকতা।’
চমৎকার সব অলঙ্করণে সমৃদ্ধ ২৪ পৃষ্ঠার বইটির দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ফাজানা পায়েল। ভেতরের অলঙ্করণ করেছেন ফারাহ নাজ মুন ও তাওসিফ আল ফাহিম। বইটি প্রকাশ করেছে ‘কালো’। বইমেলায় পরিবেশক হিসেবে রয়েছে গতি প্রকাশনী (স্টল নম্বর- ১৬৮, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান)। এছাড়া বাংলা একাডেমির মূল চত্বরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৭৩ নম্বর স্টলেও পাওয়া যাবে বইটি।

চলন্ত বাস থেকে ৪ ছাত্রকে ধাক্কা, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

ঝালকাঠি: চলন্ত বাস থেকে চার ছাত্রকে ফেলে দিয়ে আহত করার প্রতিবাদে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় কলেজ ছাত্রদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠি চার্জ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে ৬ ছাত্র আহত হয়েছে।পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া – পাল্টা ধাওয়া হয়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে রাজাপুর-ভান্ডারিয়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে।আহত কলেজছাত্র নাঈম মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের চার ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার।এতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় চার ছাত্র। আর তার প্রতিবাদে বুধবার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।লাঠিচার্জে কমপক্ষে ৬ ছাত্র আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টা থেকে আধাঘন্টা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে রাজাপুর ভান্ডারিয়া সড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।পরে পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হলে সড়কে যানচলাচল শুরু হয়।এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি, অপারেশন) শেখ মুনীর উল গিয়াস বলেন, ছাত্রদের ওপর লাঠি চার্জ করা হয়নি।সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আন্দোলনরত ছাত্ররা আরও জানায়, ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া রুটের নূর-নোহা নামের একটি বাসে মঙ্গলবার দুপুরে রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে থেকে ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির চার ছাত্র গালুয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠে। পথিমধ্যে চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে নারী যাত্রীরা প্রথমে এর প্রতিবাদ করে।কিন্তু এতে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে বাসের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়।পরে উপজেলার কৈবর্তখালী এলাকার একটি নির্মানাধীন কালভার্ডের কাছে থাকা গতি রোধকে গাড়ির গতি না কমিয়ে দ্রুত যাওয়ার সময় বাসের সাথে ধাক্কা লেগে গিয়াস ও মেজবাহ নামে দুই ছাত্রের মাথা ফেঁটে যায়।এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কিছু দূর গিয়ে ওই চার ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে চালক ও হেলপার রাস্তায় ফেলে দেয়। এতে চারজনই আহত হয়।তাদের মধ্যে দুই জনকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বেড়াতে এসে লাশ হলেন দুই মেডিকেল শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটে বেড়াতে এসে দুই মেডিকেল শিক্ষার্থীর সলিল সমাধি ঘটেছে। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাদের। মঙ্গলবার বিকেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ সাঈদ (২৫) ও ইসহাক ইব্রাহিম (২৫) নামক ওই দুজন কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাঈদের বাড়ি ঢাকা ও ইসহাকের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

জৈন্তাপুর থানার ওসি সফিউল কবীর জানান, আরও তিন বন্ধুর সাথে সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন সাঈদ ও ইসহাক। মঙ্গলবার বিকেলে তারা পর্যটন স্পট লালাখালে ঘুরতে যান। সেখানে পানিতে গোসল করতে নেমে সাঈদ ও ইসহাক চোরাবালিতে আটকা পড়েন। তাদের সাথে থাকা বন্ধুদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দুজনকে উদ্ধার করেন। তাদেরকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন

প্রধান শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পেটালো বখাটেরা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা জয়ম-প উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান বখাটে  ছাত্ররা মিলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে প্রধান শিক্ষককে। এতে বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও  প্রধান শিক্ষকের ছেলে। ভাঙচুর করেছে আসবাবপত্রসহ স্থানীয় এমপি মমতাজ বেগমের ছবি। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে বখাটেদের শাস্তির দাবিতে এক ঘণ্টা ঢাকা সিংগাইর সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধেশ্যাম সাহা জানান, স্কুল চলাকালীন সময় কিছু ছাত্রী ও ছাত্র স্থানীয় বখাটেদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। এনিয়ে এদের একাধিকবার শাসন করা হয়েছে। শনিবার সকালে নবম শ্রেণির ছাত্রী শান্তা, সাদিয়া, সামান্তা ও হেনারা ক্লাশে না গিয়ে বখাটে ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল।  এনিয়ে তাদের বকাঝকা করায় পাশাপাশি এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত না থাকলে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হবে জানানো হয়।
এই ঘটনার জের ধরে বেলা সোয়া ১টার দিকে ৯ম শ্রেণি ছাত্র জহিরুল ইসলাম, ৯ম শ্রেণির ছাত্র তানজিল, ৮ শ্রেণির ছাত্র সাগর হোসেন, সাবেক ছাত্র কলেজ শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন, ফরিদুর রহমান, সাবেক ছাত্র লিটন মাহামুদ, কোহিনূরসহ ১০/১২ জন হাতুরি, দা ও লাটিসোঠা নিয়ে তার অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। হাতুড়ি দিয়ে তাকে (প্রধান শিক্ষক) পিটানো হয়। এসময় অপর শিক্ষক বাদল বিশ্বাস এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে। ভাঙচুর করে অফিসের জানালা, চেয়ার-টেবিল ও স্থানীয় এমপি ক্রেস্ট সংবলিত ছবি। তার ছেলে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী  অর্নিবান সাহাকে মারধর করা হয় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে কিছু বখাটে ছাত্রীর ইন্ধনে, বহিরাগত এবং কিছু বখাটে ছাত্র প্রধান শিক্ষকের ওপর এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আহত দুই শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের ছেলেকে সিংগাইর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকের ওপর এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক শিক্ষার্থীরা বখাটেদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে ঢাকা সিংগাইর সড়ক এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে বখাটেদের গ্রেফতার না করা হলে  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিবেন বলে তিনি জানান।  সিংগাইর থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, কিছু বখাটে ছাত্রীর কারণে বিদ্যালয়ে বহিরাগত ও বিদ্যালয়ে কিছু বখাটে ছাত্র শিক্ষকদের মারধর করেছে। এব্যাপারের প্রধান শিক্ষক রাধেশ্যাম সাহা বাদী হয়ে শনিববার  সন্ধ্যা একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জামালপুরে শিক্ষার্থীদের পিঠে আ.লীগ নেতা : তদন্ত কমিটি

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ছাত্রদের পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিলদার হুসেন প্রিন্স। গত ২৯ জানুয়ারি ওই উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক বিদায় অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক।

২৯ জানুয়ারি মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের স্কাউট দলের সদস্যরা একটি মানবসেতু নির্মাণ করে।

সেই মানবসেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যান অনুষ্ঠানের অতিথি এবং বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিলদার হুসেন প্রিন্স। এ সময় সেই দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করার পাশাপাশি তাকে হেঁটে যেতে সাহায্য করেন ওই বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হাফিজুর রহমান।

বিদ্যালয়ের স্কাউট সদস্যদের মানবসেতুর উপর দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর পরিবর্তে দিলদার হুসেন প্রিন্সের হেঁটে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

দিলদার হুসেন প্রিন্সের ভাই জানান, বিদ্যালয়ে এই প্রথা অনেকদিন থেকেই চলে আসছে। সেদিন তার ভাই উপস্থিত না থাকলে অন্য কেউ ওই মানবসেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যেতো।

এ ব্যাপারে মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় তার ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান মো. আছানতুজ্জামান জানান, বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করছেন।

জামালপুর জেলা শিশু সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, শিক্ষার্থীদের পিঠের ওপর দিয়ে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হেঁটে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যান্ত ন্যক্কারজনক। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনে যাবেন তারা।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ সুপারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি। এছাড়াও ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter