নিউজ

মাউশির কর্মচারীদের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং অধিদপ্তরাধীন বিভিন্ন অফিস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এ পরীক্ষা।

লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের ফলাফল এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের ব্যবহারিক (প্রযোজ্য পদের জন্য) ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য মাউশি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে www.dshe.gov.bd–এ পাওয়া যাবে।

লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের ফলাফল এবং অন্যান্য তথ্যাদি সংশ্লিষ্টদের টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের বার্তার মাধ্যমেও যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

২০১৭ সালের পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িক বিষয় প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেই

রাকিব উদ্দিন :  ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই থেকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় চেতনার বিষয়বস্তু প্রত্যাহারের উদ্যোগ না নিয়ে ভুল ও তথ্য বিভ্রাট সুরাহার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে এনসিটিবি।

নতুন শিক্ষাবর্ষে সাম্প্রদায়িক এবং ভুলেভরা পাঠ্যপুস্তক নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই প্রেক্ষাপটে পাঠ্যপুস্তকের ভুলত্রুটি-চিহ্নিত করা সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এক সপ্তাহ বিলম্বে গতকাল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু পাঠ্যক্রম থেকে সাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়বস্তু প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোন কমিটি গঠন করা হয়নি।

এদিকে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়েও বেশকিছু ভুলত্রুটির প্রমাণ পেয়েছিল এ সংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত এনসিটিবির একটি তদন্ত কমিটি। কিন্তু ওই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ভুলত্রুটি ও ইতিহাস বিকৃতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

জানা গেছে, দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নানা কৌশলে পাঠ্যক্রমের সাম্প্রদায়িক বিষয় ও লেখার সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভুল ও তথ্য বিভ্রাটের জন্য একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন। পাঠ্যক্রমে একটি বিশেষ ধর্মের চেতনার প্রতিফলন ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এখন ‘এনসিটিবি’কে (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) বিভক্ত করার মনস্তাত্তি্বক লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এনসিটিবিতে তাদের একটি উইং (অনুবিভাগ) থাকলেও সেখানে তাদের নিজস্ব লোকবল নিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর এনসিটিবির কর্মকর্তা বলছেন, এনসিটিবি পুরোপুরিই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। এর সাফল্য-ব্যর্থতার যাবতীয় দায়ভারও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘এনসিটিবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন পদ ও উইং নেই। এটি পুরোপুরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এখানে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পদায়নের সুযোগ নেই। তাদের কোন এখতিয়ারও নেই।’

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এনসিটিবি দুই মন্ত্রণালয়ের বই ছাপে। কিন্তু পুরো কর্তৃত্ব খাটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটা হতে পারে না। এজন্য এনসিটিবিতে নিজেদের ২২ জন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৯ জুন সরকারের সচিব কমিটির (৩.৪.১) সিন্ধান্ত অনুযায়ী সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে প্রকল্পভুক্ত ২৫টি পদ এবং এনসিটিবির স্থায়ী ৯টি পদসহ মোট ৩৪টি পদ সমন্বয়ে এনসিটিবিতে প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইং সৃজনের সুপারিশ করা হয়।

সচিব কমিটির সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এডিবি সাহায্যপুষ্ট চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের এনসিটিবি ইউনিটের অস্থায়ী ২৫টি পদ এবং এনসিটিবির স্থায়ী ৯টি পদসহ মোট ৩৪টি পদ সমন্বয়ে রাজস্ব খাতে এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইং সৃজনের আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশ অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫টি পদ স্থায়ীভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ন্যস্ত করে।

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে প্রাথমিকের বই মুদ্রণ বিলম্ব

মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের মান এবং আর্থিক সাশ্রয়ের কারণে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে আন্তর্জাতিক দরপত্র সরকারের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পেলেও প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ওপর তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

কারণ প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের পাঠ্যবই ছাপা হয় আন্তর্জাতিক দরপত্রে, যার অর্থায়ন করে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই অর্থায়নের ১০/১৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য প্রতিবার আন্তর্জাতিক অর্থলগি্নকারী সংস্থাটি বইয়ের মান নিয়ন্ত্রণের নামে কিছু শর্তারোপ করে। এসব শর্ত অনুসরণ করতে গিয়ে প্রতিবারই পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে বিলম্ব হয়, যাতে শিক্ষাবর্ষের শেষদিকে এসে যথাসময়ে সব বই মুদ্রণ ও সরবরাহে গলদঘর্ম পরিস্থিতিতে পড়ে এনসিটিবি।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের দরপত্র সংক্রান্ত তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিডিউল প্রণয়ন, সিডিউল এনসিটিবি কর্তৃক অনুমোদন, সিডিউল বিশ্বব্যাংক কর্তৃক অনুমোদন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, উন্মুক্তকরণ, মূল্যায়ন, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এনসিটিবি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা ও বিশ্বব্যাংক কর্তৃক অনুমোদন, বিডারদের (ঠিকাদার) নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড (এনওসি) প্রদানের তারিখ, চুক্তিপত্র সম্পাদনের তারিখ এবং এলসি সম্পন্ন করাসহ সকল প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণের কার্যক্রম বিলম্ব হয়।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপাতে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের দরপত্র আহ্বান করা হয় গত বছরের ১৬ মার্চ এবং প্রাথমিকের দরপত্র আহ্বান হয় ১৭ এপ্রিল, মাধ্যমিকের দরপত্র মূল্যায়ন হয় ৯ মে এবং প্রাথমিকের দরপত্র মূল্যায়ন হয় ১৫ জুলাই, মাধ্যমিকের দরপত্রের মূল্যায়ন প্রতিবেদন ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় ২২ জুন এবং প্রাথমিকের মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদন পায় এক মাস সাত দিন বিলম্বে ২৫ আগস্ট, মাধ্যমিকের বই ছাপতে ঠিকাদারদের এনওসি দেয়া হয় ২৩ জুন এবং প্রাথমিকের ক্ষেত্রে তা হয় ২৮ আগস্ট, ঠিকাদারদের সাথে মাধ্যমিকের বই ছাপার চুক্তি হয় ২৮ জুলাই এবং প্রাথমিকের চুক্তি হয় ২৪ সেপ্টেম্বর। আর প্রাথমিকের বইয়ের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এলসি সম্পন্ন হয় ১৬ নভেম্বর, যা মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এনসিটিবিতে তদন্ত কমিটি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় ও ভুলত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে আহ্বায়ক করে গত ৯ জানুয়ারি তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব মাহমুদুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক)।

এ কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হলেও ৭ কর্মদিবস শেষে গতকাল তারা কেবল কার্যক্রম শুরু করেছে। এজন্য কমিটির আন্তরিকতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল এনসিটিবিতে গিয়ে সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।

২০১৬ সালের ভুলত্রুটির জন্য দায়ীদের শাস্তি হয়নি

২০১৬ সালের পাঠ্যবইয়ে বানান ভুল, তথ্য বিভ্রাট, ইতিহাস বিকৃতি এবং কবিতা বিকৃতির ঘটনা তদন্তে সংস্থার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মেহের নিগারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এনসিটিবি। কিন্তু এসব ঘটনার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের দায়ী করা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এবং বেশিরভাগ সুপারিশও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘পঞ্চম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুস্তকে বাহাদুর শাহ পার্কের নির্মাণকাল ও শতাব্দী, নেপালে ভূমিকম্পের তারিখ এবং জাতিসংঘের প্রশাসনিক শাখা সম্পর্কিত ভুল তথ্য সনি্নবেশের জন্য বইয়ের লেখক, সম্পাদক, বিষয় বিশেষজ্ঞ ও পরিমার্জনকারীরা কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।’

সপ্তম শ্রেণীর সপ্তবর্ণা পাঠ্যপুস্তকে সংকলিত সুকুমার রায়ের ‘আনন্দ’ কবিতার পদবিন্যাসে অসঙ্গতির জন্য উক্ত পাঠ্যপুস্তকের লেখক ও সম্পাদক পরিষদ দায়ী। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই পুস্তকটির বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করা এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ হান্নান মিয়া এবং গবেষণা কর্মকর্তা সৈয়দ মইনুল হাসান কবিতাটির ত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছিন বিধায় এ ত্রুটির জন্য উক্ত কর্মকর্তারা দায়ী।’

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সম্পর্কিত ভুল তথ্য পাঠ্যপুস্তকে সনি্নবেশ করার জন্য সৈয়দ মইনুল হাসান কর্তব্য কাজে অবহেলাসহ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

এছাড়াও ‘পাঠ্যপুস্তকে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ শব্দটি থেকে ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞ এ নির্দেশনা পালনে দায়িত্বহীনতা ও কর্তব্য কাজে অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন বলেও ২০১৬ সালের তদন্ত কমিটি মন্তব্য করে।

গত বছরের তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘গত বছর আমি চেয়ারম্যান ছিলাম না। এখন আমি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেব। তবে আমি যতটুকু জানি, কোন তদন্ত প্রতিবেদন করা হলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ই কেবল তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নিতে পারে।’ সংবাদ।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি করেছে সরকার

ডেস্ক: প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি আবেদন করা ও তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরীক্ষণ এবং তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলা, মহানগর ও উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি করেছে সরকার।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) বেকেলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণাললের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ এ তথ্য জানান।

আব্দুল্লাহিল মারুফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি জেলা, মহানগর ও উপজেলা কমিটি গঠনের আদেশ জারি করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ে আগের গঠন করা কমিটি কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, জেলা/মহানগর কমিটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য অথবা তার মনোনীত মুক্তিযোদ্ধা কমিটির সভাপতি হবেন। সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি সদস্য হবেন। আর মুক্তিযোদ্ধা না হলে তার না হলে তার মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি হবেন। তবে ওই সংসদ সদস্যর কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এছাড়া এই কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, জেলা/মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বা তার মনোনীত জেলা/মহানগর এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিকে সদস্য থাকবেন। কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।

একইভাবে উপজেলা কমিটিতে সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি নিজে এই কমিটির সভাপতি হবেন। সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা না হলে তার মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি কমিটির সভাপতি হবেন। তবে সংসদ সদস্য কমিটির সদস্য থাকবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তার মনোনীত প্রতিনিধির বাইরে উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বা তার মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিকে সদস্য থাকবেন। এই কমিটিতে সদস্য সচিব থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের আওতাধীন কোনও মুক্তিযোদ্ধা/প্রতিনিধি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না এই। আর যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ছাড়া অন্যকেউ হলে তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মনোনীত হতে হবে।

এই কমিটি ইতোপূর্বে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক প্রেরিত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তথ্যাবলী মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা ২০১৬ অনুরসণ করে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করবে। কোনও কারণে কোনও কমিটির সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্য সংখ্যার অধিকাংশের উপস্থিতিতে কমিটির কোরাম সম্পন্ন হয়েছে বিবেচনা করে কমিটি কার্যসম্পাদন করতে পারবে। কোনও কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ যে কোনও কমিটির আংশিক বাতিল বা সংশোধন করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

কমিটির কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়, যাচাই-বাছাই কমিটিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ঘোষিত তারিখ ও স্থানে (সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করতে হবে।

কমিটিগুলো ‘মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা-২০১৬’ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে প্রতিবেদন পাঠাবে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নোটিশ বোর্ডে একটি কপি টাঙিয়ে দেবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

বেরোবিতে শিক্ষক সমিতির ভোট চলছে

নিউজ: সরকারদলীয় দুটি প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষক সমিতির ভোটগ্রহণ চলছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেয়াত মামুদ ভবনের ১০১নং কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের দুই প্যানেল প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ হলুদ দল ও নীল দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

দুই প্যানেল থেকে যারা প্রার্থী

`হলুদ দল` থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন তাবিউর রহমান প্রধান, সহ-সভাপতি পদে ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. ফেরদৌস রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক পদে মো. আতিউর রহমান।

সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছেন, ড. আর এম হাফিজুর রহমান, ড. মো. নুর আলম সিদ্দিক, আসিফ আল মতিন, মো. হান্নান মিয়া, মো. সাইদুর রহমান, মো. ছদরুল ইসলাম সরকার, মুহা. শামসুজ্জামান, মো. নুরুল কবীর বিপ্লব, তাসনীম হুমাইদা ও এইচ. এম. তারিকুল ইসলাম।

`নীল দল` থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন গোলাম রব্বানী, সহ-সভাপতি পদে ড. শফিকুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. মাসুদ রানা, যুগ্ম সম্পাদক পদে মো. জুবায়ের ইবনে তাহের।

সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছেন, মো. হারুন-আল- রশীদ, মো. বেলাল উদ্দিন, মো. আশানুজ্জামান, এটিএম জিন্নাতুল বাশার, কুন্তলা চৌধুরী, মো. আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ, চার্লস ডারউইন, সৈয়দ আনারুল আজিম, ড. নিতাই কুমার ঘোষ ও মো. সাইফুল ইসলাম।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. আলী রায়হান সরকার জাগো নিউজকে জানান, এবার ভোটের সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিকের মতো। তবে ছুটিতে থাকা শিক্ষকরাও ভোটে অংশ নিতে পারবেন।

নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি জানান, সুষ্ঠুভাবে  নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

যারা শতভাগ পেনশন তুলেছেন তারাই ডুবেছেন: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, অনেকে শতভাগ পেনশনের টাকা তুলে নিয়েছেন, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। পেনশন অবসরকালীন সময়ের সিকিউরিটি। যারা শতভাগ তুলেছে, তারা সবাই ডুবেছেন। আমরা নতুন নতুন নিয়ম করছি, ফলে তারা কোন সুবিধা পায় না। যারা পেনশনের শতভাগ অর্থ তুলেছেন, তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। ভবিষ্যতে যাতে এটা না হয়, সেজন্য অর্ডার করেছি, কেউ ৫০ শতাংশের বেশি তুলতে পারবেন না।

বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত্র মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি খাতে অবসরে যাওয়া চাকরিজীবীদের জন্য কিছু করবেন কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, সেটাও করা হবে, কিন্তু একটু সময় লাগবে। আর অবসর ভাতাভোগীদের জন্য সংশি­ষ্ট কোম্পানিগুলোরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই এটা নিয়ে আমরা সংশ্লি­ষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। এই বিষয়টি নিয়ে সংশি­ষ্টদের সঙ্গে আগামী বাজেটেরে আগেই বসা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মচারীরা পেনশনের পুরো টাকা আর একবারে তুলে নিতে পারবেন না। সর্বোচ্চ অর্ধেক তুলে নিতে পারবেন। বাকি অর্ধেক নিতে হবে তাদের মাসে মাসে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই বিধান কার্যকর হবে। গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। পেনশনধারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিধানটি চালু করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উলে­খ করা হয়। অর্থাত্ এ বছরের ৩০ জুন বা তারপর যাদের অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হবে, তারাই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন। তবে পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনাররা মাসিক পেনশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাবেন। এটাও কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। বর্তমানে কেউ চাইলে পুরো টাকা তুলে নিয়ে যেতে পারেন, আবার মাসে মাসেও নিতে পারেন। অর্থাত্ দুটি বিকল্পই খোলা আছে। নতুন বিধানের মাধ্যমে পেনশনের ৫০ শতাংশ মাসিক ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

পাঠ্যবই পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশ : ক্ষেপেছেন চরমোনাই পীর

পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়েছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এসব পরিবর্তন ও ভুলের বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে তিনি ‘নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রতিরোধ করতে অচিরেই রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছেন।

শনিবার দলটির প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ূম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন  চরমোনাই পীর।

যেসব মিডিয়া ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠী সিলেবাস পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারেনি তাদের হুঁশিয়ার করে বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, আপনারা নাস্তিক হন, কিন্তু পুরো জাতিকে নাস্তিক বানানোর কোনও খায়েশ পূরণ করতে দেবে না দেশের ইসলামপ্রিয় জনতা। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে নাস্তিক্যবাদী কোনও মতাদর্শ মেনে নেওয়া হবে না। চক্রান্তকারী মিডিয়া ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতা ময়দানে নেমে আসবে।’’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সিলেবাসের বাংলা বই থেকে গণমানুষের বোধ-বিশ্বাস ও ধর্মীয় চেতনাবিরোধী বিতর্কিত গল্প কবিতা ও প্রবন্ধ বাদ দিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিনে সারা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ায় নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রতিবাদের শেষে সরকারের নীতি নির্ধারকগণ বিষয়টির গুরুত্ব ও নাজুকতা উপলব্ধি করতে পেরে সিলেবাস সংশোধন করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করে জাতিকে ধ্বংস করার জন্যে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের খুঁজে বের করার জন্যে তদন্তের দাবি জানান চরমোনাই পীর।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

অটিস্টিক শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী

পিএফডিএ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার এবং লা মেরিডিয়ান ঢাকার আয়োজনে চলছে অটিস্টিক শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনী ‘ব্রাশ অব হোপ’। হোটেল লা মেরিডিয়ানে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক।

সূচনা বক্তব্যে লা মেরিডিয়ান ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার অশওয়ানী নায়ার বলেন, “পিএফডিএ-ভিটিসির সাথে এই প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সকলের মতো এই শিশুদেরও কিছু বিশেষত্ব রয়েছে যা তারা তুলির মাধ্যমে তুলে ধরেছে। ”

উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক প্রদর্শনীর আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ”এই বাচ্চারা তুলির মাধ্যমে যা করে দেখিয়েছে তাতে আমি সত্যিই বিস্মিত। ”

এ সময় লা মেরিডিয়ান ঢাকার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান বেস্ট হোল্ডিংস এর চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিল্পানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই চিত্র প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে সকলের জন্য। প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা চাইলে ছবি কিনতে পারবেন। ছবি বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ পিএফডিএ-ভিটিসি এর বিশেষ শিশুদের উন্নয়ন ফান্ডে জমা হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঢাবির জগন্নাথ হলে হিন্দু ছাত্রের লাশ উদ্ধার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের কক্ষ থেকে অচেতন এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার বন্ধুরা নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপু সরকার নামের ওই শিক্ষার্থী হিসবাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে।অপু থাকতেন অক্টোবর স্মৃতি ভবনের ৪৭৪ নম্বর কক্ষে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

আলোকিত হচ্ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী শতভাগ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। বেসরকারি হিসাবে এই হার ৯৭ শতাংশ।

তবে যে শিশুরা স্কুলে ভর্তি হচ্ছে তাদের মধ্যে প্রায় ২১ শতাংশই পঞ্চম শ্রেণি শেষ না করেই ঝরে যায়। সব মিলিয়ে এখনো ২৪ শতাংশ শিশু প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারছে না। এ অবস্থায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে  শিক্ষার মূল স্রোতে শামিল করতে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলোকিত হচ্ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা। এসব নতুন উদ্যোগের ফলে বাদ পড়া শিশুরা স্কুলে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি ঝরে পড়ার হার অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার শিক্ষাবান্ধব নানা উদ্যোগ নেওয়ায় প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও প্রভাব পড়েছে।এবারই প্রথম পাঁচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের বই পাচ্ছে শিশুরা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও প্রথমবারের মতো বিনা মূল্যে পাচ্ছে ব্রেইল বই। অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে হচ্ছে অটিস্টিক একাডেমি। প্রাথমিকে শিশুদের ঝরে পড়া রোধে সব শিশুকে আনা হয়েছে উপবৃত্তির আওতায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, এমন এক হাজার ৫০০ গ্রাম বাছাই করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজও শেষ হয়েছে গত বছর। সরকারি হোক বা বেসরকারি, জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় স্থাপন করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে ডিজিটাল টেক্সটবুক। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দূরদর্শিতায় একের পর এক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

এ ছাড়া খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগের বোঝা কমাতে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কমছে বইয়ের বোঝা।

এবার প্রথমবারের মতো পাঁচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২৪ হাজার ৬৬১ শিশুকে বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে ৫১ হাজার ৭৮২টি বই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা প্রথম স্কুলে গিয়ে বাংলা ভাষা ঠিকমতো বোঝে না। তাই অনেকেই ঠিকমতো পড়ালেখা করে না। এ জন্য চাকমা, মারমা, সাদ্রী, গারো ও ত্রিপুরা—এ পাঁচ ভাষার শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তরে তাদের মাতৃভাষায় বই দেওয়া হচ্ছে। এবারই প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বইও ছাপানো হয়েছে। এক হাজার ২৩১ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে ৯ হাজার ৭০৩টি ব্রেইল বই। পাঠদানের সুবিধার্থে এবার শিক্ষকদের জন্য এক কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৮টি ‘শিক্ষক নির্দেশিকা’ বিতরণ করা হচ্ছে। কিভাবে পড়াতে হবে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য নির্দেশনা থাকবে তাতে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘নৃগোষ্ঠীদের সব ভাষার লিপি নেই, সাহিত্য নেই, লেখা নেই। যা আছে, আমরা চাই সেটাতেই তারা শিখুক। কারণ শিশুরা প্রথম স্কুলে গিয়েই বাংলা ভাষা ঠিকমতো বোঝে না। তাই পাঁচ ভাষার শিশুদের জন্য এবারই প্রথম প্রাক-প্রাথমিক স্তরে বই দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্রেইল বইও তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। এ ব্যাপারে জরিপ চলছে। আগামীতে সব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীই ব্রেইল বই পাবে। শিক্ষা খাতে সব জনগোষ্ঠীই যাতে সমান সুযোগ পায়, সে জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ’

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সমতা অর্জন করেছি। পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষায়ও সমতা অর্জিত হবে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বিনা মূল্যে বই বিতরণ। এ ছাড়া প্রাথমিকে এখন শতভাগ শিশু স্কুলে আসছে, সেটাও আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারিগরি শিক্ষায়ও আমরা যথেষ্ট উন্নতি করেছি। এখন শিক্ষার গুণগত মান অর্জন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ’

শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত সাত বছরে সরকারের অন্যতম অর্জন সব শিশুকে বছরের প্রথম দিনেই বিনা মূল্যের বই তুলে দেওয়া। এটা একটি বড় দৃষ্টান্ত। গত সাত বছরে প্রায় ২৬ কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। আর ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে চার কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই, যা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত। ২০১৫ সালের মে মাসে কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনে ১৪০টি দেশের শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিনা মূল্যে এত বিশালসংখ্যক বই বিতরণের কথা শুনে অন্যরা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

দেশে অটিস্টিক শিশুদের উপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেমন একটা না থাকায় বিপাকে আছেন অভিভাবকরা। উচ্চবিত্ত অভিভাবকরা বেসরকারিভাবে এসব শিশুর শিক্ষার উদ্যোগ নিতে পারলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে সুযোগ তেমন একটা নেই। তবে সরকার ‘এস্টাব্লিশমেন্ট অব অটিস্টিক একাডেমি প্রজেক্ট’ স্থাপনের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের জন্য বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই একাডেমি স্থাপন প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের ভবন স্থাপনের জন্য সরকার পূর্বাচলে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। আর সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

একজন শিশুও যাতে প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে না থাকে সে লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। গত বছর থেকে প্রাথমিকের সব শিশুই এসেছে উপবৃত্তির আওতায়। আগে ৭৮ লাখ শিশু উপবৃত্তির আওতায় ছিল, এখন আছে এক কোটি ৩০ লাখ শিশু। প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে আগের মতোই সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার স্কুলগুলো উপবৃত্তির বাইরে রাখা হয়েছে।

শতভাগ শিশুর উপবৃত্তি দেওয়ার পেছনে কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের মতে, এখন বিনা মূল্যে বই দেওয়া হয় এবং স্কুলেও বেতন দিতে হয় না। শুধু দরকার হয় খাতা-কলম কেনা। শিশুদের প্রতি মাসে উপবৃত্তি দেওয়া হলে ওই টাকা দিয়েই তা কিনতে পারবেন অভিভাবকরা। আর যদি পড়ালেখার জন্য কোনো খরচই দিতে না হয় তাহলে অভিভাবকরা অবশ্যই শিশুদের স্কুলে পাঠাবেন। আগে হাতে হাতে উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হতো। অভিযোগ ছিল, শিক্ষকরাও অনেক সময় বেশির ভাগ টাকা নানা অজুহাতে কেটে রাখতেন। যা পাওয়া যেত তা দিয়ে শিশুরা শিক্ষা সরঞ্জাম কিনত। কিন্তু সে ক্ষেত্রে পড়ালেখার পেছনে উপবৃত্তির টাকা সেভাবে ব্যয় হতো না। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হবে অভিভাবকদের মোবাইলে। রূপালী ব্যাংকের ‘শিউর ক্যাশ’-এর মাধ্যমে এ টাকা দেওয়া হবে।

বিদ্যালয়হীন এক হাজার ৫০০ গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজও প্রায় শেষের পথে। বেশির ভাগ স্কুলেই ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়হীন গ্রামের শিশুরা সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষায়। অথচ বিদ্যালয় না থাকায় এসব এলাকার শিশুরা লেখাপড়ার পরিবর্তে ছোটোবেলা থেকেই কৃষিকাজ, মাছ ধরাসহ নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছিল।

জানা যায়, ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৩৬ হাজার ৮৪৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এরশাদ ও বিএনপি সরকারের আমলে মাত্র চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়। ২০০৮ সালের এক জরিপে ১৬ হাজার ১৪২টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই বলে জানা যায়। তবে সরকার এমন গ্রামে স্কুল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়, যে গ্রামের জনসংখ্যা কমপক্ষে দুই হাজার ও দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো স্কুল নেই। সেই হিসাবে এক হাজার ৫০০ গ্রামে সরকারি বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ এখন শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে এক হাজার ২০০ বিদ্যালয়ের কাজ শতভাগ এবং বাকি ৩০০ স্কুলের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ করে সরকার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার।

জানা যায়, সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত বছর তিন দফায় ২৮১টি কলেজ ও অর্ধশত মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদাও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলও এক ধাপ উন্নীত করেছে সরকার।

বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বেসরকারি উচ্চশিক্ষায়ও ধরা দিয়েছে সাফল্য। আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের তেমন সুযোগ ছিল না শিক্ষার্থীদের। কিন্তু উচ্চশিক্ষা বেসরকারীকরণের মধ্য দিয়ে এখন তা সবার কাছেই বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় বিপুল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী বর্তমানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। আর এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি খাত। বর্তমানে ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে মোট শিক্ষার্থীর ৬৩ শতাংশই পড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জানা যায়, একসময় শুধু ভারতেই উচ্চশিক্ষা নিতে যেত প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। সেই হার এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি বা বেসরকারি যাই হোক, প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কিছুদিন আগেও গ্রামের স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের চিন্তা ছিল অকল্পনীয়। অথচ বিদ্যুৎ নেই, এমন গ্রামেও এখন পৌঁছে গেছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। সোলার প্যানেল বসিয়ে চালানো হচ্ছে এসব ক্লাস। আর ডিজিটাল কনটেন্ট, ভিডিওচিত্র ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো বিশ্বই শিক্ষার্থীদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ইতিমধ্যেই ২৩ হাজার ৩৩১টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিকের প্রায় ৬৪ হাজার স্কুলেও একইভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বসানোর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৫ হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ডিজিটাল বই করারও উদ্যোগ নিয়েছে। গত ডিসেম্বরে মাদ্রাসার চারটি বিষয়ে ডিজিটাল টেক্সটবুক উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ডিজিটাল বই তৈরির কাজও শেষের পথে। এতে পাঠ্যসূচিতে যেসব বিষয় থাকবে সেসবের বিস্তারিত বর্ণনা ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে দেখতে পাবে শিক্ষার্থীরা। তাতে পড়ালেখা হয়ে উঠবে আরো সহজ ও আনন্দময়।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

আমার বাংলা বইয়ে ‘আদর্শ ছেলে’ বিকৃতি, সমালোচনার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে?/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?’ কী ধাক্কা খেলেন? তৃতীয় শ্রেণির বাংলা পাঠ্য ‘আমার বই’য়ে এই ধাক্কাই দেওয়া হয়েছে।

কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘আদর্শ ছেলে’র মূল লাইন ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’র শব্দ উল্টে দিয়ে এই বিভ্রান্তির ধাক্কা দিয়েছেন ‘পণ্ডিত’ পাঠ্য রচয়িতারা। এনিয়ে ফেসবুকে আলেচনার ঝড় ওঠে।

প্রথম প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার সহ সভাপতি ফেসবুকে প্রোফাইলে যা পড়ে। তার পর থেকে সারা দেশে আলোচনার ঝড় উঠে।

কুসুমকুমারী দাশের রচনায় ‘আমাদের দেশে’র পর ‘হবে’ লেখা হলেও বিকৃত লাইনটিতে এসেছে ‘সেই’। আর ‘হবে’ শব্দটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে একেবারে শেষে। ফলে কবি যে ‘ছন্দ’ ‘অন্ত্যমিল’ মাথায় রেখে কবিতার লাইনটি লিখেছেন, তা দৃশ্যতই গড়বড়ে হয়ে গেছে।

বিকৃতি কেবল এটুকুই নয়, কবিতার চতুর্থ লাইনে কুসুমকুমারী লিখেছেন, ‘মানুষ হইতে হবে’- এই তার পণ। বিকৃত কবিতায় ‘হইতে’ শব্দটিকে ‘পাণ্ডিত্য’ দেখিয়ে ‘সম্পাদনা’ করে ‘হতেই’ লিখেছেন পাঠ্য রচয়িতারা।

নবম লাইনে মূল কবিতায় লেখা আছে, ‘সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়’। এই লাইনের ‘চায়’ শব্দটিকে বিকৃত করে অথবা উচ্চারণ অজ্ঞতায় পাঠ্য রচয়িতার‍া লিখেছেন ‘চাই’, অর্থাৎ ‘সে ছেলে কে চাই বল কথায় কথায়’!

রপর ‘আমার বই’য়ে দেখাই গেলো না একাদশ থেকে চতুর্দশ লাইন পর্যন্ত। সে চারটি লাইন হলো, ‘সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ—/‘মানুষ’ হইতে হবে মানুষ যখন।/কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার/সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,/’

মূল কবিতার পঞ্চদশ লাইনে লেখা ‘হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান’। এই লাইনের ‘খাট’’ শব্দটিকে বিকৃত করে লেখা হয়েছে ‘খাটো’।

এভাবে শব্দ-লাইন বিকৃতির পাশাপাশি বালাই দেখা গেলো না যতি চিহ্নের ব্যবহারেও। ড্যাশ-কমা-ঊর্ধ্বকমা ইচ্ছেমতো ব্যবহার বা বর্জন করা হয়েছে।

কবি জীবনানন্দ দাশের মা কুসুমকুমারী দাশের প্রসিদ্ধ এই কবিতার এমন বিকৃতিতে সমালোচনার ঝড় চলছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাঠ্য রচয়িতাদের তুলোধুনো করছেন তারা ন্যূনতম দায়বদ্ধতা না দেখানোয়।

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “৪র্থ লাইনেও ভুল, সঠিক হবে: মানুষ হইতে হবে এই যার পণ; নবম লাইনেও ভুল, সঠিক হবে: সে ছেলে কে চায় বল কথায় কথায়। দাড়ি কমার ফালতু ব্যবহার। লেখকের হুবহু লেখা দেয়নি। তৃতীয় ব্যক্তির পাণ্ডিত্যে কবিতাটি ধর্ষিত হয়েছে।”

শাফিউল নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, “চাই আর চায়- এর পার্থক্য তফাত বোঝে না।…”

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ডিজিটাল বই পাবে স্কুল শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নবম ও দশম শ্রেণির জন্য দেশে প্রথমবারের মতো ই-লার্নিং ও ই-ম্যানুয়েল কনটেন্ট চালু হচ্ছে ২ জানুয়ারি থেকে।

 

এর ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন অনলাইনে নিজেদের পাঠ নিতে পারবে তেমনি শিক্ষকরাও পাঠদানের জন্য পরিপূর্ণ একটি গাইডলাইন পাবেন ডিজিটাল মাধ্যমে।

 

টিচিং কোয়ালিটি ইম্প্রুভমেন্ট-২ প্রকল্পের আওতায় এথিক্স অ্যাডভান্সড টেকনোলোজি লিমিটেড (ইএটিএল) কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সামগ্রিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এসব কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে।

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ভারী স্কুলব্যাগ নিষিদ্ধে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।রোববার (০১ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়।

এর আগে, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষিদ্ধে ছয় মাসের মধ্যে আইন প্রণয়ন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত শিশুদের ভারী স্কুলব্যাগ বহন করা যাবে না, এ মর্মে ১ মাসের মধ্যে সার্কুলার জারি করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের যথাযথ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাসুদ হাসান দোলন।

২০১৫ সালের ১১ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষিদ্ধ ও প্রি-প্রাইমারি শিশুদের স্কুলব্যাগ বহন না করতে আইন প্রণয়নের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আইন সচিব, শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়।

গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ৩ আইনজীবী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিশুদের ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন। এ তিন আইনজীবী হলেন- এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মো. জিয়াউল হক ও আনোয়ারুল করিম।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন দোলন বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সরকার শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন না করার একটি নির্দেশনা জারি করেছে। আমাদের সরকারও যেন এরকম একটি আইন করে, এজন্যই এ রিট আবেদন করা হয়।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষার মানের বিষয়ে সমালোচকদের কাছে ব্যাখ্যা চান প্রধানমন্ত্রী

দেশে শিক্ষার মান নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের (সমালোচকদের) বলব, রাতারাতি সবকিছু হয় না। আর মানের মাত্রাটা কী, সেই ব্যাখ্যা আমরা এখনও পাইনি। যারা এই প্রশ্নটা তোলেন তাদের কাছ থেকে যদি এর ব্যাখ্যা পেতাম তাহলে খুশি হতাম। শনিবার গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে সকালে ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ালেখার মান নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কিছুদিন অবস্থান করে কোন কোন এলাকায় মানের ঠিক নেই তা জানালে খুশি হতাম। পাশাপাশি পড়ালেখার মান উন্নয়নে কার্যকর কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়েও সহযোগিতা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেই। ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমরা ২শ ২৫ কোটি ৪৩ লাখ বই বিতরণ করেছি। নতুন বই পেলে আনন্দের অনুভূতি হয়। সুন্দর এই অনুভূতি পড়ালেখার আগ্রহ বাড়ায়। এ জন্যই আমরা প্রতিবছর সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেই। তিনি বলেন, বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার আরেকটি কারণ আছে। অনেক বাবা-মা ছেলে-মেয়েদের বই কিনে দিতে পারে না। অনেকে অবহেলার কারণেও বই কিনে দেয় না। তাই বছরের প্রথম দিনেই আমরা তাদের হাতে বই তুলে দেই যাতে সন্তানদের পড়ালেখার জন্য বাবা-মায়ের কোনও অজুহাত না থাকে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মান সবসময় পরিবর্তনশীল। বিশ্বে সবকিছুতেই পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা এখন বিজ্ঞান শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষাকে সার্বজনীন করেছি। প্রতিবছরের শুরুতেই আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি। এমনকি ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী তা-বের মধ্যেও আমরা সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো বই তুলে দিয়েছি। শিশুরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মেধা ও মনননের বিকাশ ঘটিয়ে আরও উদার হয়ে সংস্কৃতি, ধর্ম, খেলাধূলা- সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে যেসব শিশুরা বই গ্রহণ করেছে তাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মৌলিক অধিকার। এই অধিকার সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে সবাইকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবেক। শিক্ষাই দারিদ্র্যমুক্তির মূল ভিত্তি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বছরের প্রথম দিনে আজ দেশব্যাপী পালন করা হবে বই উৎসব।

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষার সব খবর জানতে দৈনিক শিক্ষাবার্তা ফেসবুক পেজে লাইক দিন

শিক্ষার সব খবর শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র জাতীয় পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাবার্তার  ফেসবুক পেজে লাইক দিন। শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানুন।
দৈনিক শিক্ষার ফেসবুক পেজের লিংক:https://web.facebook.com/Shikkhabartacom
Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

গুণগত মানের শিক্ষার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামো ও অন্যান্য বিষয়ে উন্নয়ন হলেও মানসম্পন্ন শিক্ষায় দেশ অনেক পিছিয়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সময় এসেছে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেয়ার। আর এ জন্য তারা শিক্ষায় বিশেষায়ণ পদ্ধতি, মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনা, মানসম্পন্ন বিদ্যালয় গড়ে তোলার মতো পরামর্শ তুলে ধরেছেন।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এজেন্ডা ২০৩০: শিক্ষার নতুন দিগন্ত, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ পরামর্শ দেয়া হয়।

সেমিনারের আয়োজন করে ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’ ও ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ’।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আগে আমরা পরিমাণের দিকে লক্ষ রেখেছি, এখন আমাদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।’ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, ৪০ শতাংশ যুবক শিক্ষিত হয়েও চাকরি পাচ্ছে না। তাহলে তারা কী শিক্ষা নিয়েছে।

টেকসই মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করার তাগিদ দিয়ে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আলম বলেন, ‘কীভাবে আমরা সেখানে যেতে পারি তার কাঠামো তৈরি করতে হবে। শিক্ষকতায় আনতে হবে মেধাবীদের।’ স্কুল পর্যায়ে পরীক্ষা কম নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এত পরীক্ষা নিয়ে কী লাভ হচ্ছে আমাদের।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী এডুকেশন ওয়াচের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, প্রাইমারি পাস করছে কিন্তু ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো সাক্ষরতা অর্জন করতে পারেনি। তাই শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে থেকে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর জন্য বিশেষায়ণ একটি ভালো পদ্ধতি হতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘কোয়ালিটি শিক্ষা বাড়াতে হলে সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষায়ণ বাড়াতে হবে। বিজ্ঞানের ছেলেকে বিজ্ঞানের জায়গায় বসাতে হবে। যিনি অঙ্কে বিশেষজ্ঞ তাকে অঙ্ক দিতে হবে। যার যার বিশেষত্বের জায়গায় দায়িত্ব দিলে শিক্ষার মান বাড়বে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে বৈপ্লবিক চিন্তার সময় এসেছে। দেখা যাচ্ছে অনেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও বেকার। আমাদের আবকাঠামোর জন্য বৃহৎ চিন্তা আছে কিন্তু মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য সেটা নেই। আর মানসম্পন্ন শিক্ষা এখন শুধু অভিজাত শ্রেণীর জন্য হয়ে গেছে।

মাধ্যমিক শিক্ষায় বিপ্লব ঘটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হোসেন জিল্লুরের পরামর্শ, ‘এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান না বাড়িয়ে আগামী ১৫ বছরে এক হাজার কোয়ালিটি মাধ্যমিক স্কুল গঠন করুন।’ এর পেছনে তার পর্যবেক্ষণ হলো, জেলা স্কুলের সফলতার হার এখনো অনেক ভালো, কারণ সেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া হয়।

মানসম্পন্ন শিক্ষা না পাওয়ার ক্ষেত্রেপর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবও একটা কারণ বলছেন নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যাপক রাশিদা বেগম। তিনি বলেন, শিক্ষকের আভাব রেখে মানসম্পন্ন শিক্ষা হবে না। পত্রিকার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দেশে ১৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই। তাহলে কীভাবে সেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা হবে!

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের সফলতা ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে সেটি সুশীল সমাজকে খোঁজার তাগিদ দেন। তিনি সুশীল সমাজের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের অনেক চাপ থাকে, তাই আপনাদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন হলেও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা শিগগির কারিকুলাম রিভিউ করছি। আমাদের শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করছি। ছোট থেকেই শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষক হিসেবে তৈরি হয় সে ব্যাপারে কাজ করছি।’ শিক্ষার আরো উন্নয়নে তারা আশাবাদী বলে জানান তিনি।

রাতারাতি শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তিন কোটি ৩২ লাখ অশিক্ষিতে জন্য ডাটা তৈরি করছি। জানুয়ারিতে শুরু হবে এর কাজ।’

রাশেদা কে চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল আলম।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter