জেলার খবর

দামুড়হুদাায় নবাগত উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে ফুলেল শুভেচ্ছা

বিশেষ প্রতিনিধি::
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নবাগত উপজেলা  শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম  কে  ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। দামুড়হুদা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কার‌্যকার ভুমিকা রাখার দায়িত্ব নেয়া শিখন শেখানো কাজকে অগ্রাধিকার সম্পূর্ন দূর্নীতি মুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা গড়ার অঙ্গিকার নেয়ায়  প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সমিতির সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস। নবাগত শিক্ষা অফিসার মহোদয় ন্যাপ থেকে  ইতিপূর্বে বিভিন্ন ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন। তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা উপজেলার শিক্ষার হার বৃদ্ধি, উন্নত শিক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শিক্ষকের পায়ের নিচে নকল

কক্সবাজারের টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের নকলে সহযোগিতা করায় এক শিক্ষককে পরীক্ষা পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে।

বৃহস্পতিবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক নুরুল ইসলামকে নকলসহ ধরে ফেলেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদ। কেন্দ্রের ভেতর, একটি প্রশ্নের উত্তর লেখা কাগজ তাঁর পায়ের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। নকলে সহযোগিতার অভিযোগে তাৎক্ষণিক তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নুরুল ইসলাম লেঙ্গুরবিল মলকাবানু উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব নুর হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সে সময় নকলসহ নুরুল ইসলামকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি। নকলের কাগজ নুরুল ইসলামের পায়ের নিচে লুকানো ছিল। তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও জরিমানা করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দামুড়হুদা ওদুদ শাহ ডিগ্রী কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রী কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রী কলেজে চত্বরে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ মো কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য বাখেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজগার টগর। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শামসুল আবেদিন খোকন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বহী অফিসার রফিকুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু সহ অন্যানো অতিথিবৃন্দ। এ সময় নবীনদের ফুলের শুভেচ্ছ দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।##

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পিরোজপুরে শিক্ষককে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারকে একটি ঘরে আটকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়েছে।

ওই এলাকার সন্ত্রাসী নয়ন গাজী ও তার বাহিনী শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ওই শিক্ষকের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অন্য শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

এরপর বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষিকা পর্শিয়া হালদারের সহায়তায় পালিয়ে গিয়ে ওই শিক্ষক বরিশালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নির্যাতিত শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। সন্ত্রাসী নয়ন গাজী ও তার সহযোগীদের ভয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানাননি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি স্বপন কুমার জানান, ননগভর্নমেন্ট টিচার্স রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেশন অথরিটি (এনটিআরসিএ) এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পর বিধান সরকার গত ২৪ নভেম্বর মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিপিএড শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি পাশের একটি বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে একা বসবাস করে আসছেন।

ঘটনার দিন শুক্রবার এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অজুহাত তুলে সন্ত্রাসী নয়ন গাজী ও তার সহযোগীরা শিক্ষক বিধান চন্দ্রকে বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানের সামনে মারধর শেষে বিবস্ত্র করে ফেলে রাখে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ওই শিক্ষককে পাশের হরি মন্দিরে নিয়ে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন চালায়। পরদিন শনিবার দুপুরে নয়ন গাজীর লেখা একটি মুচলেকায় শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারের স্বাক্ষর রেখে ওই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষিকা পর্শিয়া হালদারের সহায়তায় তিনি পালিয়ে বরিশাল গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিক্ষক নেতা স্বপন কুমার কুমার দত্ত দাবি করেন, ২০০১ এর নির্বাচনের দিন থেকে নয়ন গাজী মৈশানী এলাকায় ত্রাস শুরু চালিয়ে আসছে। তার হাতে অনেক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তার নামে থানায় একাধিক মামলা আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন বিধান চন্দ্র সরকার। চাঁদা চেয়ে না পেয়ে সন্ত্রাসী নয়ন গাজী ও তার সহযোগীরা শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে। বিষয়টি আমি স্বরূপকাঠী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

এছাড়া স্বরূপকাঠী পৌরসভার মেয়র ও স্বরূপকাঠী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কবিরকে জানিয়ে সহায়তা চেয়েছি।’ মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৌলভী খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে জায়গায় চাকরি করছি সে জায়গাটা খুব খারাপ। এর বাইরে বেশিকিছু বলতে পারব না।’ সন্ত্রাসী নয়ন গাজী শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারকে সামান্য মারধরের কথা স্বীকার করে আটকে রাখার কথা অস্বীকার করেছেন।

স্বরূপকাঠী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নয়ন গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ স্বরূপকাঠী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘নয়ন গাজীর নামে অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ৭-৮টি মামলা রয়েছে। মাস খানেক আগে তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আমি নিজেও আহত হয়েছিলাম।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শরীয়তপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের নড়িয়া মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজে কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয়পত্র ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ায় ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্র সচিব বলছেন হল সুপারের অসতর্কতার কারনে এ ঘটনা ঘটেছে। কক্ষ পরিদর্শক ও হল সুপারকে কারন দর্শানো হয়েছে। ডেপুটি কন্ট্রোলার কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বলছেন বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বছর শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দুই কেন্দ্রের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বরিবার পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একটি কক্ষে তিনটি বিদ্যালয়ের ৩৯ জন পরীক্ষার্থী ২০১৬ সালের জন্য প্রস্তুতকৃত প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার নড়িয়া-২ কোড ৫৪৬ ,মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে গত ৫ ফেব্রুয়ারী বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ১২১নং কক্ষে পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ জন,পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১জন ও শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬ জনসহ ৩৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

যার রোল ৪৫৫৯৩ থেকে ৪৫৫৯৪৩, ৯৫৬১১৯ থেকে ৪৫৬১২৯ এবং ৪৫৯৯৯ থেকে ৪৫৬০১৪ পর্যন্ত । কক্ষ পরিদশক ইকাদুল সেক ও আনোয়ার হোসেন, হল সুপার বিজয় কুমার মন্ডল ও কেন্দ্র সচিব ফরিদ আল হোসাইন এর  অসতর্কতা ও গাফলতির কারনে ২০১৭ সালের রচনা মূলক প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০১৬ সালের পুরাতন রচনা মূলক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলে  পরীক্ষার্থীরা তাড়া হুড়ো করে ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দেয়।

পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে এ ভুল ধরা পড়লে এ নিয়ে জানাজানির পর কেন্দ্র সচিব স্থানীয় কতৃপক্ষকে না জানিয়ে শুধুমাত্র ঢাকা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তারেক বিন আজিজ কে অবহিত করেন।

এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তারা তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ভেবে সোমবার দুপুরে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

এরপর ধীরে ধীরে  বিষটি প্রশাসনের মধ্যে জানাজানি হয়। পরীক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যতের কথা  চিন্তা করে বিবেচনার সহিত খাতা দেখার জন্য  পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের দৃষ্টি কামনা করেন।

মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজে কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ফারুক খান বলেন, আমার মেয়ে ২০১৭ সালের পরীক্ষার্থী।

তাকে ২০১৬ সালের পুরাতন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তাতে মেয়ের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। আমি আমার মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত। এ বিষয়ে বিবেচনার জন্য কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাই।

কক্ষ পরিদর্শক ইকাদুল সেক বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা  কর্মকর্তা মিটিং করে বলেছেন পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র দেখা যাবেনা। এ কারনে আমরা প্রশ্নপত্র দেখিনি। পরীক্ষার পরে পরীক্ষার্থীদের কাছে জেনে কেন্দ্র সচিবকে অবহিত করেছি।

হল সুপার বিজয় কুমার মন্ডল বলেন, পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ভুল বশত ২ সেট প্রশ্নপত্র ১২২ নং কক্ষে চলে যায়।  পরবর্তী নুতন করে ১২১ নং কক্ষে প্রশ্ন পাঠানো হয়। সেই প্রশ্নপত্রই ছিল ২০১৬ সালের। অসতর্কতার কারনেই এটা হয়েছে।

কেন্দ্র সচিব ফরিদ আল হোসাইন বলেন, হল সুপার বিজয় কুমার মন্ডলের অসতর্কতার কারনে পুরাতন প্রশ্নপত্রে ৩৯ জনের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

আমি জানার পর  ঢাকা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কে জানিয়েছি। সে আমাকে শত ভাগ নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হবেনা। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এ ছাড়া কক্ষ পরিদর্শক ও হল সুপারকে কারন দশানো নোটিশ দিয়েছি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নলিনী রঞ্জন রায় বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমাকে জানানো হয়নি। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পেটালো বখাটেরা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা জয়ম-প উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান বখাটে  ছাত্ররা মিলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে প্রধান শিক্ষককে। এতে বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও  প্রধান শিক্ষকের ছেলে। ভাঙচুর করেছে আসবাবপত্রসহ স্থানীয় এমপি মমতাজ বেগমের ছবি। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে বখাটেদের শাস্তির দাবিতে এক ঘণ্টা ঢাকা সিংগাইর সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধেশ্যাম সাহা জানান, স্কুল চলাকালীন সময় কিছু ছাত্রী ও ছাত্র স্থানীয় বখাটেদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। এনিয়ে এদের একাধিকবার শাসন করা হয়েছে। শনিবার সকালে নবম শ্রেণির ছাত্রী শান্তা, সাদিয়া, সামান্তা ও হেনারা ক্লাশে না গিয়ে বখাটে ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল।  এনিয়ে তাদের বকাঝকা করায় পাশাপাশি এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত না থাকলে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হবে জানানো হয়।
এই ঘটনার জের ধরে বেলা সোয়া ১টার দিকে ৯ম শ্রেণি ছাত্র জহিরুল ইসলাম, ৯ম শ্রেণির ছাত্র তানজিল, ৮ শ্রেণির ছাত্র সাগর হোসেন, সাবেক ছাত্র কলেজ শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন, ফরিদুর রহমান, সাবেক ছাত্র লিটন মাহামুদ, কোহিনূরসহ ১০/১২ জন হাতুরি, দা ও লাটিসোঠা নিয়ে তার অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। হাতুড়ি দিয়ে তাকে (প্রধান শিক্ষক) পিটানো হয়। এসময় অপর শিক্ষক বাদল বিশ্বাস এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে। ভাঙচুর করে অফিসের জানালা, চেয়ার-টেবিল ও স্থানীয় এমপি ক্রেস্ট সংবলিত ছবি। তার ছেলে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী  অর্নিবান সাহাকে মারধর করা হয় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে কিছু বখাটে ছাত্রীর ইন্ধনে, বহিরাগত এবং কিছু বখাটে ছাত্র প্রধান শিক্ষকের ওপর এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আহত দুই শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের ছেলেকে সিংগাইর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকের ওপর এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক শিক্ষার্থীরা বখাটেদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে ঢাকা সিংগাইর সড়ক এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে বখাটেদের গ্রেফতার না করা হলে  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিবেন বলে তিনি জানান।  সিংগাইর থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, কিছু বখাটে ছাত্রীর কারণে বিদ্যালয়ে বহিরাগত ও বিদ্যালয়ে কিছু বখাটে ছাত্র শিক্ষকদের মারধর করেছে। এব্যাপারের প্রধান শিক্ষক রাধেশ্যাম সাহা বাদী হয়ে শনিববার  সন্ধ্যা একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৬৮ স্কুলের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ ছাত্রলীগের

চট্টগ্রামে বেসরকারি ৬৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা তুলে দেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি।

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি বিড়ম্বনার কথা জানতে আমরা নগরীর ৫টি এলাকায় ৫টি অভিযোগ বাক্স  রেখেছিলাম। অভিযোগ বাক্সে জমা দেয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখে তালিকা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছি। এসব অভিযোগ জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষা কর্মকর্তার মৃত্যু

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর অাহত করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান ফয়সালের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার সঙ্গে থাকা করিমগঞ্জ সদরের অাশুতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাদিউল ইসলাম কাঞ্চন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফয়সাল মোটরসাইকেল চালিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে করিমগঞ্জ যাচ্ছিলেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিদ্যালয় পোড়ানো মামলার প্রধান সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পোড়ানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি রঞ্জু মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার  বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া পারদিয়ারা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রঞ্জু মিয়া ওই গ্রামের মজিবর রহমানের  ছেলে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পোড়ানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন প্রধান আসামি হিসাবে রঞ্জু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নীলফামারীতে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় বৈধ প্রার্থী বঞ্চিত !

নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় বৈধ প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, একই কলেজের প্রভাষক সুহাস কুসুম কুন্ডুসহ ১৭ জন আবেদন করলেও অজ্ঞাত কারনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এ প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের কোন পত্র দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান। গত ২৩ জানুয়ারি বিভিন্ন মিডিয়ায় মশিউর রহমান কলেজের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টির পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নানা অনিয়ম প্রকাশ হতে থাকে।

কলেজের একাধিক সূত্র জানায়, উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করা ১৭ প্রার্থীর অনেকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি। তাদের বেশির ভাগ প্রার্থীই সহযোগী পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেন।

এছাড়া অত্যন্ত চতুরতার সাথে পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি, পরীদর্শকের স্বাক্ষরবিহীন উত্তরপত্র এমনকি ডি-কোট না করেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করার ঘটনায় স্থানীয় ভাবে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয়। এব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ সরওয়ার মানিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় উত্থাপিত অভিযোগসহ অন্যান্য বিষয় তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আদিতমারীতে কর্মসৃজন প্রকল্পে সেনাসদস্য, স্কুল-শিক্ষক, ব্যবসায়ীর নাম!

লালমনরিহাটঃ কর্মহীন শ্রমজীবীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু করেছে সরকার। তবে বঞ্চিত-অসহায়দের এই তালিকায় সেনাসদস্য, স্কুল-শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ প্রভাবশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তারা মজুরির টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের সুফল হচ্ছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার শ্রমজীবী প্রান্তিক জনগোষ্ঠি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্ঠির লক্ষ্যে ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে সপ্তাহের ৫দিন সরকারিভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ করছে কর্মসৃজন প্রকল্পের ৮ হাজার ৭৪৭ জন শ্রমিক। দৈনিক মজুরি হিসেবে দুই শত টাকা পাচ্ছেন তারা। প্রতি বছর কর্মহীন সময়ে এ প্রকল্প চালু করা হয়।

অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে ৪টিতে পুরাতন তালিকার নাম সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হলেও আদিতমারী উপজেলা পরিষদ ২০১০ সালের পুরাতন তালিকা দিয়েই কাজ শুরু করেছেন। যে তালিকার অনেকেই এখন এলাকায় নেই। থাকলেও কেউ হয়েছেন স্কুল শিক্ষক, ইউপি সচিব, ইউপি সদস্য, কেউ হয়েছেন সেনাবাহিনীর  সদস্য, কেউ করছেন ব্যবসা। ফলে এসব শ্রমিক কাজে না গিয়েও মজুরির টাকা তুলে ভোগ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের তালিকায় দেখা যায়, ২২৭ নং কার্ডধারী মফিজুল হক। যিনি এখন মহিষাশ্বহর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ১৫৭ নং কার্ডধারী ইমদাদুল হক বাড়ি-গাড়ির মালিক, চাকরি করেন বন্দরনগরী চট্ট্রগ্রামে। ২০২ নং কার্ডধারী তোজাম্মেল হক প্রতিষ্ঠিত সার ব্যবসায়ী সাবেক ইউপি সদস্যের ছেলে। ৪৬ নং কার্ডধারী লেবু মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য। ডিস ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার কার্ড নং ৬২। সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্যা শামছুন নাহারের স্বামী আব্দুল হামিজের কার্ড নং ১৩৫।

কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের তালিকায় এমন আরও অনেক নাম আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা কাজে না গিয়েও এ সুযোগ গ্রহণ করছেন। এর ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন বেকার শ্রমিকরা।

এ সকল নাম পরিবর্তনের আবেদন করেও সুফল পাননি বলে দাবি করেন মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতি মিয়া জানান, এ ইউনিয়নে প্রায় ২০/২২টা ভুয়া শ্রমিকের নাম রয়েছে। যা পরিবর্তন করে প্রকৃত শ্রমিকদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে আবেদন করেও কোনও ফল পাননি।

আদিতমারী উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার (পিআইও) মফিজুল ইসলাম জানান, ‘এ উপজেলায় মোট এক হাজার ৭২৪ জন শ্রমিক কর্মসৃজন প্রকল্পে রয়েছেন। যারা অনুপস্থিত থাকবেন তাদের মজুরির টাকা কেটে রাখা হবে। নাম পরিবর্তন করার কোনও সুযোগ নেই।’

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে তার কারণ উল্লেখ করে ইউনিয়ন পরিষদ সেই শ্রমিকের নাম পরিবর্তনের আবেদন করলে তা অবশ্যই পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।’

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই তালিকাটি চার-পাঁচ বছর আগে করা হয়েছিল। কীভাবে কর্মজীবীদের নাম তালিকায় রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

লালমনিরহাট জেলা সদরে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগে সহযোগিতা না করায় প্রধান শিক্ষককে বেদম মারপিট

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলা সদরে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগে সহযোগিতা না করায় মনোরঞ্জন রায় নামের এক প্রধান শিক্ষককে বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।

শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও লাঠিপেটা করে আহত করেছে। এদিকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাশ বর্জন করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের হরিদেব দয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান শিক্ষককে মারপিটের ঘটনায় কছেকজন শিক্ষার্থী প্রতিবাদী হয়ে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও সন্ত্রাসীরা লাঠিপেটা করে আহত করে। আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে।

স্থানীয় সাবেক বিএনপি নেতা বর্তমানে নব্য আ’লীগ কর্মী আবু সিদ্দিকের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী হাতে লাঠি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে এই এলোপাথারী হামলা করে। বিদ্যালয়টি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

হরিদেব দয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ক্লাশ বর্জন করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়া পযর্ন্ত তারা ক্লাশ বর্জন করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে শিরিনা আক্তার নামের আবেদনকারী এক মহিলার পক্ষে সন্ত্রাসীরা ন্যাক্কারজনক এই সন্ত্রাসী কাযর্কলাপ করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

বিদ্যালয়টির দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম জানায়, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করা পযর্ন্ত তারা ক্লাশ বর্জন করেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন” সন্ত্রাসরী যখন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করছিলো তখন তাদের হাতে কাঠের লাঠিক ও লোহার রড ছিলো। কোন কথা ছাড়াই তারা প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জর রায়তে এলোপাথাররী আঘাত করতে থাকে

আহত প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় জানালেন, “আবু আলী তার পছন্দনীয় প্রার্থী শিরিনা আখতারকে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য একাধিকবার আমাকে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা করে।

কিন্তু আমি তার অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং আমাকে আহত করার পরিকল্পনা করে “আবু সিদ্দিকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার উপর এলোপাথারী আঘাত করতে থাকে।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুরুল হুদা মন্ডল জানালেন, নব্য আ’লীগ কর্মী তাকেও একাধিকবার অবৈধভাবে নিয়োগের ব্যাপারে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পারেননি। তাই অবশেষে প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়ে তার উপর হামলা চালায় বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ১২জন প্রার্থীও এই পদের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা বিধি মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহন করেছি এবং বিধি মোতাবেক আমরা নিয়োগ সম্পন্ন করব।

তবে শিক্ষক প্রার্থী শিরিনা আখতার জানালেন আবু সিদ্দিক তার আত্মীয় হন বটে কিন্তু তিনি কখনো অবৈধভাবে নিয়োগের ব্যাপারে সহযোগিতা করার আবেদন করেননি এমনকি শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে তার সাথে কোন কথাই হযনি। আবু সিদ্দিকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা প্রধান শিক্ষককে হামলা চালানোর ঘটনা তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আজমল হক সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানালেন, আহত স্কুল শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় তার দু’চোখে, কোমড়ে, দুই হাতে, পিঠে ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তবে আশংকামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পর পরই এসআই নিহারঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বাড়িতে অভিযান চালালে তাদের পায়নি।

আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

খুলনায় নিজ বাসায় হিন্দু কলেজ শিক্ষক খুন

খুলনা মহানগরীতে চিত্তরঞ্জন বাইন (৪৫) নামে এক কলেজ শিক্ষক নিজ বাসায় খুন হয়েছেন। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া এলাকার শহীদ শেখ আবু কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। হাত-পা মুখ বেঁধে তাকে খুন করা হয়েছে বলে জানান ঘটনাস্থলে থাকা খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাপস পাল।

নিহত চিত্তরঞ্জন পালের ভাইপো বাপী গাইন  জানান, তার জ্যাঠিমা লাকী গোলদার এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝড়ভাঙ্গা গ্রামে বেড়াতে যান। এসময় লাকী গোলদার তার দুই মেয়ে প্রমা (৮) ও ছয় মাস বয়সী মেয়ে প্রাপ্তিকেও সাথে নিয়ে যান। নগরীর শেরে বাংলা রোড আমতলার মোড়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদের বাড়ির প্রথম তলার ভাড়া বাসায় রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন। শনিবার দিবাগত রাতের যেকোনো সময়ে দুষ্কৃতিকারীরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে চিত্তরঞ্জনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে হত্যার পর স্টিলের আলমিরা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে স্ত্রী লাকি গোলদার চিত্তরঞ্জনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা রিসিভ হয়নি। এ ঘটনায় লাকী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তার শ্বশুর রতন গোলদারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে রতন গোলদার সেখানে গিয়ে চিত্তরঞ্জনকে ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের আশেপাশে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে দেখতে পান ঘরের জানালার গ্রিল কাটা। পরে প্রতিবেশী লাইলী নামের একটি মেয়ে কাটা জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দেয়। সেখানে দেখা যায় চিত্তরঞ্জন বাইন তার শয়নকক্ষে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নারায়ণগঞ্জে ছাত্র ফেডারেশনের মানববন্ধন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন

পাঠ্যপুস্তক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। শনিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত পাঠ্যপুস্তক বিদ্যালয়সমূহে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানানো হয় ওই মানববন্ধন থেকে। এছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে ভুল, দলীয় শ্লোগান ও নানান সাম্প্রদায়িক উপাদান যুক্ত পাঠ্যবই প্রদানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়। পাঠ্যপুস্তক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ডের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সদস্য সচিব অঞ্জন দাস প্রমুখ।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বরিশালে নতুন বই নিতে এসে শিক্ষকের হামলায় ছাত্র আহত!

হীরা, বরিশাল : বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই নিতে এসে সহকারী প্রধানশিক্ষক ভুপেন্দ্র নাথ হালদারের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র পরিমল ম-ল (১২)। বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায়। এনিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী এক বিষয়ে ফলাফল খারাপ করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অভিভাবকের সুপারিশপত্রসহ পাঁচশত টাকা জরিমানা ফি নির্ধারণ করা হয়। ওই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরীক্ষায় এক বিষয়ে ফলাফল খারাপ করে ২ জানুয়ারি জরিমানার টাকা নিয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন বই আনতে যায় পরিমল। স্থানীয় কাজীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর বিজয় ম-ল অভিযোগ করেন, তার পুত্রকে ভর্তি না করে নানা তালবাহানা শুরু করে স্কুলের সহকারী প্রধানশিক্ষক ভুপেন নাথ হালদার। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি (ভুপেন) উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে বসেই তার পুত্রকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তার পুত্রের (পরিমল) ডান কান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। এসময় ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার ভয় দেখিয়ে স্কুল থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়।
বিজয় ম-ল আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য হারতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হরেন রায়, তার বড় ভাই হারতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ধীরেন রায়সহ অন্যান্যরা তার আহত পুত্রকে হাসপাতালে ভর্তি না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুপেন্দ্র নাথ হালদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা বন্ধ করে রাখেন। ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায় বলেন, ঘটনাটি সামান্য, যা হয়েছে তা তেমন কিছু নয়। আমি ওষুধ লিখে দিয়েছি ছেলেটি ভালো হয়ে যাবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বানী কান্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। পরে ঘটনা শুনে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free