ঢাকা, ১৩ নভেম্বর:
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কর্মশালা আয়োজন করেছে।কর্মশালায় প্রস্তাব করা হয়েছে, ২০০৫ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা বদলির আওতায় আসবেন না।
তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করে পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক–২) মো. মিজানুর রহমান,মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান,মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী,মাউশির উপপরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী,সহকারী পরিচালক এস. এম. মোসলেম উদ্দিন,টেলিটক এবং ইএমআইএস (EMIS) সেলের কর্মকর্তারা।
কর্মশালার সূত্রে জানা গেছে—“এনটিআরসিএ সনদধারী শিক্ষকদের বদলির আওতায় আনা হবে,তবে এনটিআরসিএ ছাড়া যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের বদলির আওতায় আনা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।”তাই শুধু এনটিআরসিএর সনদধারীদের বদলি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একজন অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“২০০৫ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত ও নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলির আওতায় না আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।সব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে নীতিমালা সংশোধন করে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”
কর্মশালায় টেলিটকের মাধ্যমে বদলি সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে টেলিটককে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে—কোন সহযোগিতা দরকার,সফটওয়্যার তৈরির প্রক্রিয়া কী হবে,এবং ডেটা ইন্টিগ্রেশন কিভাবে সম্পন্ন করা হবে।
জানা গেছে, এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থেকে যাচ্ছেন, যা শিক্ষকতা পেশার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।এজন্য সরকার স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়।তবে সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতা এবং আদালতে রিটের কারণে এ কার্যক্রম দুই দফায় স্থগিত হয়।এবার কর্মশালা শেষে ধারণা করা হচ্ছে, ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া নতুনভাবে চালু হতে যাচ্ছে।
কর্মশালা-পরবর্তী আলোচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,“নীতিমালা হালনাগাদ হওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম ধাপে ধাপে শুরু করা হবে।”















