নিউজ

শান্তিতে নোবেল পেল আইসিএএন।

নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান পঞ্চম কাচি কুলমান শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের পুরস্কার ঘোষণা করেন।

বিস্তারিত পরে

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলে তিন মার্কিনি

জাহিদ হাসান : চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন তিন মার্কিন। তারা হলেন জেফরি সি হল, মাইকেল রসবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে সোমবার এ কথা জানানো হয়।

দেহঘড়ির আণবিক সূত্র উদ্‌ঘাটন করে তিন বিজ্ঞানী এ পুরস্কার পেয়েছেন।

সুইডেনের কালোনিসকা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে জানা যায় মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীরা কিভাবে জৈবিক ছন্দে অভ্যস্ত হয় এবং তার মাধ্যমে কিভাবে পৃথিবীর বিপ্লব ঘটেছে।’

তাদেরকে সম্মানি হিসেবে ১১ লাখ মার্কিন ডলারও দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর মেডিসিনেই প্রথম নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য ১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে ১০৮বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে চিকিৎসায় নোবেল জিতেছিলেন জাপানের নাগরিক ইয়োশিনোরি ওহসুমি।

সূত্র : এএফপি

প্রাথমিকের তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের গেজেট অক্টোবরে

ডেস্ক রিপোর্ট,২৯ সেপ্টেম্বর: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণে তৃতীয় ধাপে তালিকাভুক্তির গেজেটের জন্য কাজ শেষ হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে তা তা প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জাতীয়করণের তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন জেলার ৫৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকরা রয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউএনডিপির আওতাভূক্ত তিন পার্বত্য জেলার ৩১০ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত ২৯ এপ্রিল তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর উপর ভিত্তি করেই গেজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮৮০টি স্কুল রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলেই তা প্রকাশ করা হবে। গেজেটভুক্ত শিক্ষকদের ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে বেতন-ভাতা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩৮৪৫ শিক্ষকের চাকরি তিন ধাপে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে প্রথম ধাপের শিক্ষকদের চাকরি ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে, দ্বিতীয় ধাপের ২০১৩ সালের জুলাই থেকে এবং তৃতীয় ধাপের শিক্ষকদের চাকরি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রথম ধাপের শিক্ষকদের চাকরি যথাসময়ে জাতীয়করণ হলেও দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষকদের জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশ হয় গত বছর।

প্রথম ধাপে সরকারি হওয়া স্কুলগুলো ছিল বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ হওয়া স্কুলগুলো আগে মূলত কমিউনিটি স্কুল, এনজিও, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের অধীনে ছিল।

প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতা সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির এর  কাছে দাবী জানিয়ে বলেন নতুন করে জাতীয়করন বিদ্যালয়গুলোতে একজন করে প্রধান শিক্ষক বহাল রেখে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। যেমন করে ২০১৩ সালে করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শিক্ষক মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ১৯৩ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাচ্ছে কিন্তু শিখছে না

ডেস্ক রিপোর্ট,২৯ সেপ্টেম্বর: কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডায় ক্লাস থ্রি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছিল একটি সাধারণ বাক্য ‘দ্যা নেম অব দ্যা ডগ ইজ পাপ্পি’ এটি পড়ার জন্য। তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী এই বাক্যের মানেই বোঝেনি। ৪৬ থেকে ১৭ বিয়োগ করলে কত হবে ভারতের গ্রামীণ স্কুলে পড়ুয়া পঞ্চম শ্রেণির অর্ধেক শিক্ষার্থী এটি সমাধান করতে পারেনি। বিশ্বে এমন লাখ লাখ শিশু রয়েছে যারা শুধু স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, কিন্তু কিছুই শিখছে না। তারা সাধারণ জ্ঞানটুকুও অর্জন করছে না। শিক্ষার মান নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এবারের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৮-লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশনস প্রমিজ’। এবারের প্রতিবেদনে শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে প্রতি একশ জনের ৯০ জন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাদের মধ্যে ৬১ জন নিম্ন মাধ্যমিক পার হতে পারছে। মাত্র ৩৫ জন উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে পারছে। এর মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যত্ উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা পাচ্ছে না। কিন্তু বিষয়টি সংখ্যার নয়, বিষয়টি হচ্ছে মানের। প্রাথমিক পর্যায়ের ৬০ ভাগ শিক্ষার্থীর গণিত ও পড়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জ্ঞানটুকুও নেই। তবে শিক্ষার সঙ্গে শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠাও গুরুত্বের। বিশ্বে পাঁচ বছরের নিচে প্রতি তিনটি শিশুর একটি অপুষ্টির শিকার। এ ধরনের সমস্যা তাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্তরায়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এদেশে ১১ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা, এবতেদায়ীসহ বিভিন্ন এনজিওগুলো তাদের পৃথক কারিকুলাম অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুল পরিচালনা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত অনেক দেশেই স্কুলে ভর্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা স্কুলে কী শিখছে তার মূল্যায়ন করা হয় না। এসব দেশের স্বাক্ষরতার হার উন্নত দেশগুলোর মতো। তবে শিক্ষার্থীদের বড় অংশই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ে। ২০১০ সালের তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের ২৭ শতাংশ পায় দরিদ্রতম পরিবারের সন্তানরা। ধনীদের ক্ষেত্রে এ হার ১৩ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দেখা যায়, মাত্র ২ শতাংশ দরিদ্রতম পরিবারের সন্তানরা সরকারি ব্যয়ের উপকারভোগী হচ্ছে, যেখানে ধনী পরিবারের সন্তান সংখ্যা ৫৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে প্রচুর শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু তারা কিছু শিখতে পারছে না। শিখতে না পারায় স্কুলে যাওয়াটা তাদের ভবিষ্যতের জন্য সুফল বয়ে আনছে না। বেকার থাকছে অথবা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক শিক্ষা খাতের এ সংকট নিয়ে দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সবার জন্য শেখাকে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা করতে হবে। ইত্তেফাক

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশো মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান চলছে জোড়াতালি দিয়ে

  • অব্যবস্থাপনাসহ নানা সঙ্কটের চিত্র মাউশির রিপোর্টে

বিভাষ বাড়ৈ ॥ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সফল বলে কর্মকর্তারা সব সময় দাবি করলেও সরকারী পরিদর্শন প্রতিবেদনেই বেরিয়ে এলো অব্যবস্থাপনাসহ নানা সঙ্কটের চিত্র। মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান পদ্ধতি চলছে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে। বেশির ভাগ শিক্ষক ডিজিটাল পাঠদানে কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহই দেখাচ্ছেন না। এক শ্রেণীর শিক্ষক রয়েছেন যারা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিতেও আগ্রহী নন। কারণ তারা আইসিটি শিক্ষাসামগ্রী পরিচালনায় অদক্ষ। আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকও নেই অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মফস্বলের স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট ও লোডশেডিং সমস্যাও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সফলতার পথে একটি বড় বাধা।

সরকারী এ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এমন নানা সমস্যার কথা। পরিদর্শন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোটামুটি ভালভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চললেও অনেক ক্ষেত্রেই বিরাজ করছে অব্যবস্থাপনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের স্বল্পতা, মফস্বলের প্রান্তিক স্কুলগুলোতে ধীরগতির ইন্টারনেট, লোডশেডিং, ভৌত অবকাঠামো, জনবল সঙ্কট এবং পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের অভাবের কারণে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে নামকাওয়াস্তে চলছে গুরুত্বপূর্ণ ‘আইসিটি ফর এডুকেশন ইন সেকেন্ডারি এ্যান্ড হায়ার সেকেন্ডারি লেভেল প্রজেক্ট’ নামের এ উদ্যোগ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)। প্রকল্পটি মনিটরিং ও তদারকি করছে মাউশির একটি ইউনিট। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৫ কোটি ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডিজিটাল ক্লাসরুম’ চালু করে সরকার। প্রকল্পের অধীনে প্রতি বিদ্যালয়ে একটি করে ল্যাপটপ, স্পীকার, ইন্টারনেট মডেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্ক্রিন সরবরাহ করা হয়। যাতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি সমন্বয়ের লক্ষ্যে ২০১২ সালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল কনটেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদারকি আর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে আশানুরূপভাবে কার্যকর হয়নি ডিজিটাল ক্লাসরুম পাঠদান পদ্ধতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় শিক্ষকদের। ফলে প্রশিক্ষণের পর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালভাবে পাঠদান করতে পারেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনটেন্ট তৈরিতে রয়েছে শিক্ষকদের অনাগ্রহ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে শিক্ষকদের পাঠদানে আগ্রহের ঘাটতি, আইসিটি সামগ্রী পরিচালনায় অদক্ষতা। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সংখ্যা অপ্রতুল। আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সমস্যা, বিশেষ করে ধীরগতি, লোডশেডিং, ভৌত অবকাঠামোগত ও ক্লাসরুম সঙ্কট, কনটেন্ট তৈরি ও মাল্টিমিডিয়ার ওপর দেয়া প্রশিক্ষণের মেয়াদ পর্যাপ্ত ছিল না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এটুআই প্রকল্প ছাড়াও মাউশির অধীন বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলছিলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং ও টেকসই করতে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দেশের সকল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া আছে।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেটের ধীরগতি, লোডশেডিং বা সোলার প্যানেল নষ্টসহ কিছু বাস্তব সমস্যা দেখেছি মাঠপর্যায়ের স্কুলে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের বিষয়টিতে হয়তো আশানুরূপ ফল আমরা পাচ্ছি না। অনেক কিছুই রাতারাতি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে আমরা সুফল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। সরকারীভাবে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রতিবছর কনটেন্ট তৈরিতে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা হচ্ছে।

পরিদর্শন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাউশির কর্মকর্তারা প্রায় সকলেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সংখ্যা অপ্রতুল। আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন শাখার উপ-পরিচালক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলছিলেন, হ্যাঁ কিছু সমস্যাত আছেই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি মাত্র ক্লাসরুমে এ ব্যবস্থা থাকায় সকলের জন্য এ সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা একটি বড় সমস্যা। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা আছে। তবে সফলতাও আছে। সমস্যাগুলো উত্তরণ করতে পারলে অনেক বড় একটা কাজ হবে।

মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাসরুম সক্রিয় হচ্ছে কিনা বা পাঠদান হচ্ছে কিনা- তা মনিটরিং করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অনলাইনে ড্যাসবোর্ডের মাধ্যমে তথ্যগ্রহণ করা হয়। প্রতিদিন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কতটি ডিজিটাল পদ্ধতির পাঠদান করে তার তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই (ড্যাসবোর্ডে) আপলোড করতে হয়। সে তথ্য থানা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের শিক্ষা অফিস পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ার মধ্যে জোড়াতালি আর ফাঁকিবাজির দিক প্রবল বলেই বলছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও ড্যাসবোর্ডের তথ্য আপলোড করেন। তাই মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদান পদ্ধতি যতটা কার্যকর হওয়ার কথা ততটা হচ্ছে না। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অলস পড়ে আছে সরবরাহ করা ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম। আবার কোথাও ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে এসব মূল্যবান উপকরণ। তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে-বাড়িতে নিয়ে যাওয়া বা বস্তাবন্দী করে রাখার মতো ঘটনাও আছে। অনেকে ক্লাস না নিয়েও ড্যাসবোর্ডে ক্লাস নেয়ার মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তারা এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা পেয়েছেন।

এদিকে মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরাই বলছেন সরকারের এ উদ্যোগে বাধা আসলে কোথায়? ভোলার বোরহানউদ্দিন সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহব্বত হোসেন বলেন, প্রধান সমস্যা শিক্ষকরা কনটেন্ট তৈরি করতে চায় না। আমার স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক কোনরকম ক্লাস নেন। বাকি শিক্ষকরা একবারেই অনীহা দেখায়। কম্পিউটার শিক্ষক ছাড়া অন্য কোন শিক্ষক মাল্টিমিডিয়ার পাঠদানের প্রশিক্ষণ পায়নি। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে দু’একটি ক্লাস নেয়া হয়, তাও জোরপূর্বক।

রাজধানীর বুয়েট গার্লস স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আশুতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শিক্ষক ডিজিটাল পাঠদান ও কনটেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বাকিরা শিখে নিয়েছেন। বুয়েটের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আমরা হয়তো ফাঁকি দিতে পারি না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ৪০ মিনিটের একটি ক্লাসের জন্য কনটেন্ট তৈরিতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এটা যেমনি শ্রমসাধ্য, তেমনি অধ্যয়নেরও বটে। এ কারণে শিক্ষকদের অনেকেই ডিজিটাল পাঠদানের চেয়ে কোচিং-টিউশনিতে বেশি আগ্রহী।

জনকন্ঠ

ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক কেরাণীগঞ্জের শাহিনুর আল-আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৭-এ শিক্ষক(পুরুষ) ক্যাটাগরিতে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কেরাণীগঞ্জের শিক্ষক জনাব শাহিনুর আল-আমীন। তিনি কেরাণীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভূক্ত গুণী কন্ঠশিল্পী, বাংলাদেশ টেলিভিশনেও মাঝে মাঝে তিনি গান পরিবেশন করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জনাব শাহিনুর আল-আমীন ১৯৯৯ সালে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলাধীন খামার মাথাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রথম যোগদান করেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় বদলী হয়ে আসেন। কালিয়া উপজেলায় তিনি তার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন য়ে, তার বদলী ঠেকাতে বিদ্যালয় ও তার বাড়ি ঘেরাও হয়েছিল। একই সাথে কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।
এবছর জনাব শাহিনুর আল-আমীন ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক(পুরুষ) নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। বিগত ৫/৮/২০১৭ তারিখে তিনি ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমি শিশুদের স্বপ্ন দেখাই,ওদের নিয়ে নিজেও স্বপ্ন দেখি। আমার বাবাও একজন আদর্শিক শিক্ষক ছিলেন, শিক্ষকতা আমার রক্তে মিশে আছে। শিক্ষকতা আমার পেশা এবং নেশা দুটোই। আমি ঢাকা জেলা ও ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় আমার সারাটা শিক্ষকতা জীবনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি, দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করি: করব। আমাকে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে খুবই প্রিয়। তিনি মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষের বাইরে নিয়ে পাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেন, ফলে শিখন-শেখানো হয় আনন্দের। জনাব শাহিনুর আল-আমীন পাঠ্যসূচির বাইরেও কিছু নতুন বিষয়ের উপর পাঠ দান করে থাকেন, যেমন- প্রকৃতি পাঠ, সৌন্দর্যবোধ, স্বপ্ন চার্ট, লাইফ স্কিল ইত্যাদি। এসমস্ত কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে সহযোগিতা করেন। শিক্ষক শাহিনুর আল-আমীন বাংলা, ইংরেজি ও সংগীত বিষয়ের একজন দক্ষ মাস্টার ট্রেইনার। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট এর একজন স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে ডিপার্টমেন্ট এর সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নেন এবং ২০১১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া গমন করেন। তাছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়নস’ এর এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে শ্রীলংকা ও ভারতের দিল্লী, হায়দারাবাদ, নালগোন্ডা, পাটনা, নাগপুর, গুজরাট ও ভুবনেশ্বর গমন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিসার্স ইউনিয়নস’্-এর দিল্লী সম্মেলনে সদস্য পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১০ সালে রুরাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন প্রদত্ত ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্মৃতি পদক পান এবং ২০১১ সালে ফটোজার্নালিস্ট প্রদত্ত স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত হন । তিনি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থণা করেছেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের বিজয় দিবসের ভাতার প্রস্তাব নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭:  সরকারি চাকরিজীবীদের বিজয় দিবসের ভাতার প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে এ প্রস্তাবের পক্ষে সম্মতি দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে বৈঠক করে বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রীর কাছে।

এর আগে মহান বিজয় দিবসকে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে বিজয় দিবস ভাতা চালুর বিষয়ে মতামত চেয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মঈনউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাক্রমে বিজয় দিবস ভাতা প্রচলনের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

সূত্র মতে, বিজয় দিবস ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করে একটি মতামত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে সরকারের বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের অষ্টম বেতন-ভাতা কার্যকর করা হয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়, বিজয় দিবসের মতো আরও অনেক দিবস রয়েছে। একটি দিবসে দেয়া হলে অন্যান্য দিবসের ভাতার বিষয়টি সামনে চলে আসবে। তাই এ মুহূর্তে বিজয় দিবসের ভাতা চালুর যৌক্তিকতা নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত এ ধরনের বিশেষ ভাতা চালুর মতো চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষও বটে। তবে অর্থমন্ত্রী এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

জীবননগর হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপসের গলায় জুতার মালা : চাকরি থেকে অপসরনের দাবি

জীবননগর ব্যুরো: বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপ, অভিভাবকদের সাথে অসদাচারণ ও এক সহকর্মী শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাসের গলায় জুতোর মালা দেয়া হয়েছে। এ সময় তাকে মারপিট ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয়। বিদ্যালয় থেকে অভিযুক্ত দু শিক্ষককে অবিলম্বে প্রত্যাহার ও চাকরি থেকে তাদের অপসারণের দাবিতে এ সময় গ্রামবাসী স্কুলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে। কর্মসূচি পালন কালে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাপস ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত করে শিক্ষা অফিসের ২ সদস্যের টিম। তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত দু শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আর ঢুকতে দেয়া হবে না বলে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ নিয়ে গ্রামবাসীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী নৈতিক স্খলন হারানো শিক্ষক নামের কলঙ্ক এ দু শিক্ষকের চাকরি থেকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি তুলেছেন। আলোচিত এ ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার জীবননগর উপজেলা সীমান্ত ইউনিয়নের হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সম্প্রতি হাবিবপুর গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপ, অভিভাবক সদস্যদের সাথে অসদাচরণ ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট অফিসে অভিযোগ করেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার নূর ইসলাম ও রাশেদুল হাসান গতকাল বিদ্যালয়ে যান তদন্ত কাজ পরিচালনার জন্য। এ সময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাস ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের অবিলম্বে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একপর্যায়ে তারা তাপস কুমার দাস ও শিউলী খাতুনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ইটের আঘাতে মিঠুন মাহমুদ নামক স্থানীয় এক সাংবাদিক আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজসহ মারপিট করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেয়। তারা অভিযুক্ত দু শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবিলম্বে তাদেরকে প্রত্যাহারসহ ও নৈতিক স্খলন হারানো এ দু শিক্ষকের চাকরি থেকে অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয়ে সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, গ্রামবাসী ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমারের সাথে সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেলে শিউলী খাতুন প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকেন। তারা প্রতিদিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অফিসে বসে প্রেমালাপ করে থাকেন। বেশ কয়েকদিন তাদেরকে চুম্বনরত অবস্থাতেও দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা জানান। শিক্ষার্থী পড়ার বিষয়ে জানতে গেলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়ে থাকে। ম্যানেজিং কমিটির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকা তুলে তছরুপ করেছেন। তিনি অভিভাবকদের সাথে সর্বদা অসদাচরণ করে থাকেন।
এ ব্যাপারে স্কুলের অন্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক ও শিউলী খাতুন দুজনই একই মোটরসাইকেলে স্কুলে আসেন সবার আগে এবং দুজনই আবার একই সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে চলে যান। একটি সূত্র জানায়, শিউলী খাতুনের সাথে তাপসের অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাপসের স্ত্রী বিচার প্রার্থীও হয়েছিলেন। কিন্তু সে বিচার আলোর মুখ দেখেনি।
এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাস ও শিউলী খাতুনকে তাদের চালচলন নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারা তারা তারপরও অবৈধ সম্পর্ক বজায় রাখেন। এ অবস্থায় তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিলো। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল গাফফার জানান, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তাদেরকে বলা হয়। কিন্তু তারপরও তারা আমাদের কোনো কথা শোনেননি। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক তাপস স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে আমরা ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্য প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তারই পরিপেক্ষিতে গতকাল উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে দুজন সহকারী শিক্ষা অফিসার তদন্তের জন্য আসেন। এ সময় স্কুলের সকল শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে গ্রামবাসী ও অভিভাকগণের সাথে একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত দু শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাপস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদন্ত টিমের তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা জানিয়েছেন, এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণের নতুন সিলিং

শোভন সরকার,৯ সেপ্টেম্বর: সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণের সিলিং পুনঃনির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ। আর এজন্য প্রয়োজন হবে ২০ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা।

এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশ খুব শিগগির অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পেশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ২০ লাখ আর সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে অর্থ বিভাগ। এ ঋণে সুদের হার প্রস্তাব করা হয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ, যার ৫ শতাংশ দেবেন ঋণগ্রহীতা এবং সাড়ে ৩ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করবে সরকার। প্রস্তাবে চাকরি গ্রেড ও বেতনের ভিত্তিতে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

যেসব সরকারি চাকরিজীবীর চাকরির বয়স ১৫ বছর হয়েছে তারাই এ ঋণ নিতে পারবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণে সুদের ভর্তুকিবাবদ বছরে ব্যয় হবে ৭০০ থেকে ৯৮০ কোটি টাকা। ঋণ দিতে মোট প্রয়োজন হবে ২০ হাজার থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা।

সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে গৃহঋণে সুদের হার কমিয়ে পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। এ প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়ন করতে সরকারের খুব বেশি অতিরিক্ত টাকারও প্রয়োজন হবে না। কারণ এখন চাকরিজীবীরা পেনশনের অর্ধেকের বেশি টাকা তুলতে পারবেন না। পেনশনের বাকি যে অর্ধেক টাকা সরকারের কোষাগারে জমা থাকবে সেখান থেকেই এ অর্থের সংস্থান যোগান দেওয়া হবে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরে অাসল টাকার পরিমাণ অধিক। একই সঙ্গে অবিক্রীত ফ্ল্যাটের সংখ্যাও বাড়ছে। আর একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একটি বাসস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপকারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও আবাসন নির্মাণ খাতও উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কর্মকর্মতা-কর্মচারীদের গৃহঋণ বাড়ানোর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষাধীন। খুব শিগগির এ বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

অর্থ বিভাগের ওই প্রস্তাবনায় পঞ্চম গ্রেড থেকে উপরের কর্মকর্তা, যাদের বেতন ৪৩ হাজার টাকার বেশি, তাদের ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৭৫ লাখ টাকা, অন্য সিটি করপোরেশনের জন্য ৬০ লাখ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জন্য ৫০ লাখ টাকা গৃহঋণ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

একইভাবে ৯ম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা, যাদের বেতন ২২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার বা তারও বেশি, তাদের ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৬৫ লাখ টাকা, অন্য সিটি করপোরেশনের জন্য ৫৫ লাখ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জন্য ৪৫ লাখ টাকা গৃহঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া ১০ম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত  কর্মকর্তা, যাদের বেতন ১১ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা, তাদের ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৫৫ লাখ টাকা, অন্য সিটি করপোরেশনের জন্য ৪০ লাখ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জন্য ৩০ লাখ টাকার সুপারিশ করা হয়েছে।

১৪তম গ্রেড থেকে ১৭তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা, যাদের বেতন ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকা, তাদের ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৪০ লাখ টাকা, অন্য সিটি করপোরেশনের জন্য ৩০ লাখ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জন্য ২৫ লাখ টাকা গৃহঋণ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা, যাদের বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ৮ হাজার ৮০০ টাকা, তাদের ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা, অন্য সিটি করপোরেশনের জন্য ২৫ লাখ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জন্য ২০ লাখ টাকা গৃহঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কি খবর? কেমন আছেন, ভালো করে খাবেন : প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক,২ সেপ্টেম্বর ২০১৭:

শনিবার বঙ্গভবনে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বঙ্গভবনে পৌঁছান শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব শুরু হওয়ার বেশ খানিকটা পরে। অন্যান্যদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে করমর্দন করেন প্রধান বিচারপতি।

সময়ে রাষ্ট্রপতি তাকে বলেন, “কী খবর? কেমন আছেন।” স্বভাবসুলভ আন্তরিক ভঙ্গিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে ঈদের অনুষ্ঠানে ‘ভালো করে খেতে’ বললেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রধান বিচারপতির উত্তরের পর রাষ্ট্রপতি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বঙ্গভবনের দরবার হল দেখিয়ে বলেন, “ভালো করে খাবেন।” খয়েরি রঙের ‘স্লিম ফিট’ পাঞ্জাবি পরা বিচারপতি সিনহাকে এসময় হেসে দেন।

 

পরে প্রধান বিচারপতি বঙ্গভবনের দরবার হলে যান। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বঙ্গভবনের দরবার হলে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের রেষারেষির মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির এই সাক্ষাৎ নিয়ে অনেকেরই ছিল কৌতূহল।

প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলে সেই ছবি নেওয়ার জন্য বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সনদের ব্যস্ততাও একটু বেড়ে যায়। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে ঘুরে অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় অনেককেই তিনি ‘ঠিকমতো খেয়েছেন কি না’ জানতে চান।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সর্বস্তরের মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মী, বিচারপতি ও বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধান বিচারপতিও সেই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বেশ কিছু সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

mtnews24

‘ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না’

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রীর অনেক বড় একটা ফেস্টুন ঝুলানো সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। অথচ এই আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগের যেন শেষ নেই।

এতে পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকরা পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে দিনের পর দিন। কখনো কখনো ঘুষের টাকা নিয়ে দালাল ও গ্রাহকদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তবে টাকা দিলে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যায় গ্রাহকরা।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী সাধারণ পাসপোর্ট করতে ব্যাংকে জমা দিতে হয় ৩৪৫০ টাকা আর জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে দিতে হয় ৬৯০০ টাকা।

এরপর পাসপোর্ট ফরম পূরণ করে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হয়। ভোগান্তির শুরু প্রথম ধাপ এখান থেকেই। জমা দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো। এরপর অনেক কষ্টে জমা দেয়ার পর শুরু হয় ভুল ধরার পালা। যারা ঘুষ দেন না তাদের বিভিন্ন ভুল ধরে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বলা হয়, কাগজপত্র ঠিক করে নিয়ে আসেন। এমন অভিযোগ পাসপোর্ট করতে আসা শত শত গ্রাহকদের। তবে ঘুষ দিলেই কাগজপত্র সব ঠিক হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে অর্ধশতাধিক দালালের। তাদের মাধ্যমে অফিসের একাধিক কর্মকর্তার সাথে চলে গোপন লেনদেন।

পাসপোর্ট প্রতি তাদেরকে দিতে হয় এক হাজার ৫০ টাকা। সেই টাকা সরাসরি চলে যায় প্রধান কর্মকর্তার পকেটে। এভাবে দিনে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় করেন পাটপোর্ট কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা।

তাছাড়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতেও দিতে হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি। বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কর্মকর্তা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

দেবহাটা হতে পাসপোর্ট করতে আসা আমিনুল ইসলাম (৫০) নামের এক জন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও জমা দিতে পারিনি।

ইমরান নামের আরও একজন বলেন, অনেক কষ্টে ফরম জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন ভুল ধরিয়ে ফরম ফিরিয়ে দিয়েছে। নতুন করে ফরম পূরণ করে আনতে বলেছে।

রহিমা বেগম বলেন, সাধারণ পাসপোর্ট করতে দালালকে দিয়েছি ৫৩০০ টাকা। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সে করে নেবে। দালাল ছাড়া কোনো পাসপোর্ট হয় না। পাসপোর্ট করতে হলে মাধ্যম ধরতে হবে। তাহলে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

তবে এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আবু সাঈদ ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে অস্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, পাসপোর্ট অফিসে কোনো প্রকার দুর্নীতি হচ্ছে না। আমি যোগদানের পর থেকে বদলে গেছে পাসপোর্ট অফিসের চিত্র।

এছাড়া স্থানীয় এক সাংবাদকর্মী রিপোর্ট করায় তাকে পত্রিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুতরাং আপনি বিষয়টি বুঝতেই পারছেন। ঘটনা কোনো পর্যায়ের। এখানে দালালদের কোনো স্থান নেই। এছাড়া আপনি অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলেও জানান পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কর্মকর্তা।

বাসে ধর্ষণ-হত্যা : আরো ২ আসামির জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল :

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যা ঘটনায় গ্রেপ্তার বাসের চালক হাবিব ও সুপারভাইজার সফেদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় একজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমিনুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া ও মো. শামছুল হক আলাদাভাবে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার উপপরিদর্শক কাইয়ুম খান চৌধুরী।

একই বাসের আরেক হেলপার ময়মনসিংহের লিটন মিয়া ঘটনার সাক্ষী হিসেবে জবাববন্দি দেন। তিনি ঘটনার দুই দিন পর ওই বাসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটনাটি বাসের স্টাফদের কাছে জানতে পারেন।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই আদালতে বাসের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ নিয়ে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ এক সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।  জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জবানবন্দিতে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, ওই দিন বাসে রূপাসহ ছয় থেকে সাতজন যাত্রী ছিলেন। অন্য যাত্রীরা সিরাজগঞ্জ মোড় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নেমে যান। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার সময় রূপা একাই বাসে ছিলেন। বাসটি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কাছাকাছি এলে বাসের সহকারী শামীম জোর করে রূপাকে বাসের পেছনের আসনে নিয়ে যান। এ সময় রূপা তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন শামীমকে দিয়ে দেন এবং ক্ষতি না করতে অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর তাকে ধর্ষণ করেন। রূপা চিৎকার শুরু করলে ধর্ষকেরা তার মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রূপাকে হত্যা করা হয়। পরে মধুপুর উপজেলা সদর পেরিয়ে বন এলাকা শুরু হলে পঁচিশ মাইল এলাকার রাস্তার পাশে লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

রূপার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকা আইডিয়াল ল কলেজে এলএলবি শেষ পর্বে পড়াশোনা করছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি শেরপুর জেলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রোমশনাল ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও ওই তরুণীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রূপা বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছোঁয়া পরিবহনের বাসে ওঠেন। রাত ১০টা পর্যন্ত রূপার সঙ্গে তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এরপর থেকে রূপার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন শনিবার কোনো খোঁজ না পেয়ে হাফিজুর ময়মনসিংহ যান এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শুক্রবার রাতে পুলিশ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চল থেকে এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। শনিবার টাঙ্গাইলে ময়নাতদন্ত শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হিসেবে তা দাফন করা হয়। ওই দিনই পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাফিজুর সোমবার রাতে মধুপুর থানায় যান। সেখানে লাশের ছবি দেখে তা বোন রূপার বলে শনাক্ত করেন।

পরে মধুপুর থানা পুলিশ মধুপুর অতিক্রম করার সময় ছোঁয়া পরিবহনের সেই বাসটি আটক করে। এ সময় বাসের চালক হাবিব (৪৫), সুপারভাইজার সফেদ আলী (৫৫), বাসের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) আটক করা হয়।

রূপার বড় ভাই হাফিজুর বলেন, ‘আমার ছোট বোনটি অতি আদরের এবং আমাদের অহংকার ছিল। আমাদের অনেক আশা ছিল রূপা অনেক ভালো কিছু করবে। সে দেশ-দশের উপকারে আসবে কিন্তু ধর্ষকরা সব শেষ করে দিল।’

তিনি দোষীদের ফাঁসির দাবি জানান এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি জানান, তারা লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন।  রূপাকে তারা বাবার কবরের পাশে দাফন করতে চান।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে সাড়ে ৩ হাজার ‘কর্মকর্তা’ নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি

LIVE: কী শাস্তি হতে চলেছে ধর্ষক রাম রহিমের?

ডিজিটাল ডেস্ক: রোহতকের সুনারিয়া জেলকে সোমবার সকাল থেকেই কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। ডেরা সাচা সওদা প্রধান গুরমিত রাম রহিমের সাজা ঘোষণার আগেই সেখানে মোতায়েন করা হয় সেনার বিশেষ বাহিনী, স্নাইপার, তৈরি করা হয় বাঙ্কারও। রাম রহিমকে ভারতীয় দণ্ডবিধির যে সমস্ত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে, তাতে তার ন্যূনতম সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) ও ৫০৬ ধারায় (ভয় দেখিয়ে অপরাধ) দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ওই ভণ্ড ধর্মগুরু।

৩টো ১০ মিনিট: দু’পক্ষেরই সওয়াল-জবাব শুনছেন বিচারপতি। আর খানিকক্ষণের মধ্যে শাস্তি ঘোষণা করা হবে।

২টো ৩৫ মিনিট: রাম রহিমের উপস্থিতিতেই চলছে শুনানি। ১০ বছরের সাজা চাইতে পারে সিবিআই।

বাড়ছে না ঈদের ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ আগষ্ট: ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানোর নথি এক মাসের বেশি সময় ধরে চালাচালি হলেও বন্যার কারণ দেখিয়ে এবার ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিভাগীয় কমিশনারদের ঈদের ছুটিও বাতিল করা হচ্ছে। রোববার বিভাগীয় কমিশনারদের এক সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে দেশে ভয়াবহ বন্যার কারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, সারাদেশে যেহেতু বন্যার ফলে (জরুরি অবস্থা) সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এসপি ও ইউএনওসহ যেন কোনো সরকারি কর্মকর্তা ঈদের ছুটিতে স্টেশন (অফিস) ত্যাগ না করেন সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রোববার বিভাগীয় কমিশনারদের বৈঠকে এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা যেন সবসময় সতর্ক থাকেন। তিনি বলেন, চিঠি দিয়ে সব কাজ করা লাগে না। মৌখিকভাবেও কিছু কাজ করতে হয়।
চিঠি দিয়ে নির্দেশনা না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা নেতিবাচক দিক খোঁজেন তারা এটা নেগেটিভভাবে প্রচার করতেন। তারা বলতেন, দেশের অবস্থা এতটাই খারাপ যে ডিসি, এসপি, ইউএনও ও বিভাগীয় কমিশনারদের ঈদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করত। মানুষ মনে করত যে দেশের সড়ক অবস্থা মনে হয় খুবই খারাপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বলছেন, যেন ভালোভাবে কাজ করা হয়। জনপ্রশাসন থেকেও বলা হচ্ছে। প্রতি মাসে তারা বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন, সেখানে বলা হচ্ছে।

ঈদুল আজহার ছুটির বিষয়ে ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, রোববার পর্যন্ত জানেন এবারে ঈদের ছুটি বাড়ানো হচ্ছে না। তবে সোমবার কী হবে তা জানেন না। এটার সাথেও বন্যার সম্পর্ক আছে। তিনি বলেন, তারা ঈদের ছুটি বাড়াতে বলেছেন অন্য কারণে। মানুষ যেন ছুটি ভোগ করতে পারেন। গ্রামেগঞ্জে যারা যাবেন তারা যেন ভালোভাবে যেতে পারেন। তিনদিন ছুটি থাকলে একদিন যেতে, একদিন আসতে চলে যায়। ফলে ঈদের আনন্দ হয় না। তারা মনে করেছিলেন নৈমিত্তিক ছুটি কমিয়ে দিয়ে ঈদের ছুটি বাড়ানো যায়। এতে সরকারের সেবা পাওয়াটাও যেন ঠিক থাকে। এ সময়ে এটা বাস্তবায়ন করা ঠিক হবে না। কারণ সারাদেশে বন্যা হচ্ছে।

জানা যায়, ঈদের ছুটি বাড়িয়ে ছয় দিন করার জন্য গত ২৫ জুলাই প্রস্তাব দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ঈদের ছুটি বাড়ানোর ওই প্রস্তাব করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় গণপরিবহনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপকে। দীর্ঘ যানজটের কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ কমানোর জন্য ঈদের ছুটি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় আরও মনে করে, ঈদের আগে ও পরে সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব প্রাণহানি হয় তা লাঘব করা এবং ঈদের পরে অফিস খোলা হলেও কর্মচারীদের অনুপস্থিতি রোধ করার জন্য ঈদের ছুটি বাড়ানো প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো ছুটির প্রস্তাবেও ওই চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার বলেন, সারাদেশে বন্যার কারণে ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানো হচ্ছে না। তবে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটা এই ঈদের পরে বিবেচনা করা হবে।

জানা যায়, জনপ্রশাসনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইনোভেশন টিম নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিন নির্ধারণ করে বাকি ছয় দিন দুই ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা এবং ঈদের ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল করার প্রস্তাব দেয়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবেও সরকারি ছুটির সঙ্গে দুই দিন করে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটির প্রস্তাব করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদের ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাইল পাঠানোর পর তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে ঈদের আগের দিনও ছুটি বাড়াতে পারেন।

এর আগেও ঈদের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ঈদুল ফিতরের সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল, শুধু ঈদের ছুটি বাড়ানো নয়, অন্য প্রধান ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসবের ছুটিও বাড়ানো দরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই অভিমত পাওয়ার পর বিষয়টি ইতিবাচক ধরে নিয়েই সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের আগে আর ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় ছুটি না বাড়ানোর কারণ হিসেবে অর্থবছর শেষ এবং সংসদে বাজেট পাস করার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে_ দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙামাটি, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, কুমিল্লা, শেরপুর, নাটোর ও ঢাকা জেলার আশপাশের এলাকা।

আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা। তাই ঈদের ছুটি থাকছে ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter