Home » নিউজ (page 20)

নিউজ

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, মির্জা ফখরুলের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং আইন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বেপরোয়া আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সরকার যেন তার বিভিন্ন এজেন্সি দিয়ে বিরোধী দল ও মতের মানুষের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ওঁত পেতে আছে-তারা কে কখন কোথায় কী বলছে সেটি জানার জন্য।

তিনি আরো বলেন, ‘এই মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ড. আসিফ নজরুলকে হয়রানির মাধ্যমে বিপর্যস্ত করার কৌশল অবলম্বন করেছে-তার শাণিত লেখনী ও কথা বলাকে স্তব্ধ করার জন্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের আচরণে মনে হয়-যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারা সবাই অপরাধী। দেশে দেশে একদলীয় শাসনের বৈশিষ্ট্য এরকমই। সরকারের নানামুখী উৎপীড়নের মূল টার্গেট হচ্ছে জনগণ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের জাগরণ যেন না ঘটে সেজন্য জনগণকে পরাধীন করে রাখার জন্যই একের পর এক কালো আইন প্রনয়ণ করে চলেছে সরকার। আর এরই ধারাবাহিকতায় এই সময়ের রাজনীতির সাহসী ভাষ্যকার ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাসহ আরো কয়েকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ক্ষয়িষ্ণু সরকার দেশ পরিচালনার ভারসাম্য স্থির রাখতে না পেরে বিবেকশূন্য হয়ে কাজ করতে গিয়ে আরো বেশি হিংসা পরায়ণ রুপ ধারণ করে। ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের সরকারের সেই হিংসা পরায়ণ রুপরই বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষকে নির্যাতন করলে নির্যাতিত মানুষের প্রতি আরো মানুষের সহানুভূতি মিশ্রিত হয়ে এক অভূতপূর্ব দৃঢ় বন্ধনের সৃষ্টি হয়। মামলা দিয়ে আসিফ নজরুলের প্রতি গণতন্ত্রহারা দেশবাসী আরো বেশি জোরালো সমর্থন যোগাচ্ছে। সুতরাং মামলাসহ জুলুম-নির্যাতনের ভয় দেখানো হলেও নির্ভীক ড. আসিফ নজরুলকে তার সত্য উচ্চারণ থেকে সরকার কখনোই নিবৃত্ত করতে সক্ষম হবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একদলীয় শাসনের ছাঁইপাশের সঙ্গে বন্য বর্বরতার নানা উপসর্গ যুক্ত হয়ে সরকার যখন অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে তখনই কান্ডজ্ঞানহীন উন্মত্ত আচরণ করতে শুরু করে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।’

বিসিএস শিক্ষক দ্বন্দ্বে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ নভেম্বর: বিসিএস শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে দুইদিন ধরে অচল দেশের সরকারি কলেজগুলো। কর্মবিরতির দ্বিতীয়দিন সোমবার কলেজগুলোতে কোনো ক্লাস হয়নি। জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা জারির দাবিতে রোববার থেকে দুইদিনের এ কর্মবিরতি শুরু করেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। ‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়’ এই শ্লোগান নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান থেকে শুরু করে সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে বিরত রেখেছেন তারা।

টানা দুদিন শিক্ষক আন্দোলনে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের আন্দোলনে বাতিল হয়েছে তৃতীয় বর্ষের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। শুধু তাই নয়, আন্দোলনে বন্ধ দেশের সাড়ে ৩০০ কলেজের পরীক্ষা, পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সজনী ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। আন্দোলনে দুইদিন কলেজে এসে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচদিন থাকে পরীক্ষা, আর দুইদিন কলেজে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও স্যার-ম্যাডামদের অফিসিয়াল মিটিং, প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায় ক্লাসে আসতে পারেন না। তার ওপর শিক্ষকদের আন্দোলন এমন করে ক্লাস বন্ধ বিপদে পড়তে হয়। অনেকেই পড়ালেখা থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার জানান, আমাদের একটাই দাবি বিসিএস ছাড়া বিসিএস ক্যাডার নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মেনে ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ বর্ণিত নির্দেশনা অনুসারে জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা জারি করতে হবে। আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি আবারও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা রয়েছে। এর আগে সরকার থেকে সিদ্ধান্ত এলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি এ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াবে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন চলবে, তবে আমরা শিক্ষার্থীদের পুষিয়ে দেব। প্রয়োজনে বাড়তি ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের সঙ্গে জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের ‘ক্যাডার’ মর্যাদা দেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। বিসিএস দিয়ে যারা একটি পদের জন্য মনোনীত হয়, আর ভিন্ন একটি প্রক্রিয়ায় চাকরিতে প্রবেশ করে উভয় একই যৌগ্যতাসম্পন্ন নয়।

তিনি বলেন, জাতীয়করণ ও বিসিএস শিক্ষকদের একই কাঠামোয় গণ্য না করে পৃথক রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে মন্ত্রণালয়কে। শিক্ষকদেরও দাবি আদায়ে একেবারে মাঠে নেমে আন্দোলন সংগ্রাম না করে সুশৃঙ্খলভাবে দাবির বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

এ শিক্ষাবিদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদত হুসাইন। তিনি বলেন, ক্যাডার সার্ভিসে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়, যে বাছাই প্রক্রিয়া-পরীক্ষা, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় যোগ্য প্রার্থী। আরেকজনকে এসব প্রক্রিয়া ছাড়াই সমকক্ষে প্রবেশ করানো যৌক্তিক হবে না।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে বিধি দ্বারা (২০০০ সালে) ক্যাডার মর্যাদা দিয়েছে- এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কলেজ জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত সরকারের মহৎ উদ্যোগ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দায়িত্বশীলদের বিচক্ষণতার অভাবে এতদিনে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের বীজবপন করা হয়েছে। এতে জাতীয়করণকৃত শিক্ষক আর বিসিএস শিক্ষকদের মধ্যে আজীবন দ্বন্দ্ব থাকবে।

তিনি বলেন, যারা বিসিএস দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে প্রবেশ করবেন তারা জাতীয়করণকৃত কলেজে অন্যদের রোষানলে পড়বেন। সবসময় উভয় শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিবাচক প্রভাব পড়বে। যা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ওপর প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি এডুকেশন ক্যাডারে প্রবেশের আগ্রহ থাকবে না চাকরিপ্রার্থীদের।

উল্লেখ্য, নতুন জাতীয়করণসহ বর্তমানে দেশের সরকারি কলেজ রয়েছে ৩৩৫টি। এর মধ্যে পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষা ক্যাডার সদস্য আছেন প্রায় ১৫ হাজার। ২৮৩টি কলেজ জাতীয়করণ হলেও সেগুলোর প্রায় ৭-৮ হাজার শিক্ষক আত্তীকৃত হবেন।

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা কেন ৩০ বছরের বেশি নয়: যুবলীগ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা কেন ৩০ বছরের বেশি নয়, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার সাবেক মেয়র হানিফের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে যুবলীগের চেয়ারম্যান এই প্রশ্ন করেন।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি কেন নয়, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আপনাকে বলতে হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আপনি বলেছেন সরকারি চাকরির বসসীমা ৩০ বছরের বেশি করা যাবে না। আপনাকে বলতে হবে, কেন এ দেশের যুব সমাজ দেশের সম্পদ না হয়ে, দেশের বোঝা হয়ে যাচ্ছে। আমরা জানতে চাই।’

আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘কল্পনা শক্তি ভালো, কিন্তু সে কল্পনার পথ অনেক সময় মানুষকে ভুল স্থানে পৌঁছে দেয়। এ দেশে ২৭-২৮ বছরের আগে শিক্ষা জীবন শেষ হয় না। এরপর চাকরিতে আবেদন করতে করতেই সময় চলে যায়,তাদের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ কই। এ দেশের যুবসমাজ চাকরি চায় না। মেধা প্রমাণের সুযোগ চায়।’

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নত বিশ্বে নানাভাবে প্রশংসা পাচ্ছে অথচ উন্নত দেশগুলোর চাকরির প্রক্রিয়ার দিকে তাকানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা নেই। আবার কোনো কোনো দেশে চল্লিশ,পঞ্চাশ, ষাট। পাশের দেশ ভারতেই এই প্রক্রিয়া ভিন্ন। এখানে এই প্রক্রিয়া নয় কেন?’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্বে করেন মেয়র সাঈদ খোকন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন,খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে

ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেছেন, একটি ইউনিক এফরোস নিয়ে আইসিটি বিভাগ কাজ করছে। সেটা হচ্ছে প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপ। এর মাধ্যমে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। দেশের এবং বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে তারা যাতে আউটসোর্সিং করতে পারে সেজন্য তাদেরকে আমরা তৈরি করতে চাই। সে জন্য আমাদের কাজ চলছে। সারা বাংলাদেশে আমরা ২৮টি আইটি পার্ট নির্মাণের কাজ করছি এবং সেখানে আগামী ৩ বছরে ৩ লক্ষ জনকে ট্রেনিং দেব। যার মধ্যে দিয়ে ২০২১ সাল নাগাধ ২০ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান আইটি সেক্টরে আমরা নিশ্চিত করবো। ইতোমধ্যে ৫ লক্ষ তরুণ-তরুণী ফ্রিলান্সিংয়ে কাজ করছে। আমাদের বেসিসের যে কোম্পানিগুলো আছে সেখানে আরো ৩ লক্ষ তরুণ-তরুণী কাজ করছে। প্রায় ১০ হাজার ই-কমার্স উদ্যোক্তা কাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর ডিজিটাল ওয়াল্ড ২০১৭’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, আমাদের দেশে কর্মসংস্থান একটা বড় ইস্যু। ১৬ কোটি মানুষের দেশে প্রায় ৭০ ভাগ তরুণ। বিপুল পরিমান শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আমি অনেক সময় দেখি, সবাই সরকারি চাকরি কিংবা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির জন্য ঘুরে। তারা শুধু চাকরির পেছনে ঘুরলে আমরা এ কোটি-কোটি তরুণের চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবো না। আমরা চাই আমাদের তরুণরা শুধু চাকরি খুঁজবে না, চাকরি দেবে। তারা জব ক্রিয়েটর হবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। ২০০৮ সালে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৮ লাখেরও কম ছিল। মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এখন ৮ কোটি ছাড়িয়েছে। মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি ছাড়িয়েছে। ব্রডব্যান্ড কানেকশন ইউনিয়ন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছি। আমরা আইটিকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি। যে ২৬ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে আমরা ২০০৮ সালে শুরু করেছিলাম সেটা এখন বেড়ে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে ২০১৮ সালের মধ্যে বিলিয়ন ডলার অতিক্রম এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করা।

টাইমস্কেলের বিধি উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে জাতীয়করন শিক্ষকদের টাইমস্কেল সুবিধা গ্রহন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ নভেম্বর ২০১৭: প্রাথমিক শিক্ষাকে একমূখী , বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত

শিক্ষা নিশ্চিকরণের লক্ষ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাছিনা বিগত ০৯ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিঃ রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে ঐতিহাসিক ঘোষনার মাধ্যমে ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আনয়নের ফলে ০১/০১/২০১৩ খ্রিঃ তারিখ থেকে তা কার্যকর।

সদ্য জাতীয়করণকৃত ( রেজিঃ বেসরকারি ) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ খ্রিঃ এর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের কোন পদই বিদ্যমান ছিলনা। শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ১ নং (এক ) ক্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ ) টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

১৪-৭ -২০০৮ খ্রিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮ জি-৭/৯৮ (অংশ) ২৫৩ এর পরিপত্র মোতাবেক রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে (সদ্য জাতীয়করণকৃত) শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এ সকল বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষকের ৪টি পদের একটিকে উন্নীতকরণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ১৪/৭/২০০৮ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদটি হলেও মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০২/০৫/২০১০ তারিখের স্মারক নং প্রাগম/বিদ্যা-১/৮জি- ১/২০০৯ -৬৭৫ এর প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিটের ১১-৫-২০১০ তারিখ স্মারক নং ১১৭/৬৪ এর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর এসএমসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও যাছাই বাছাই কমিটির সুপারিশের নিরিখে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ ইউনিট ঢাকা পর্যায়ক্রমে ২০১০,২০১১,২০১২ ও ২৬/৬/২০১৩ পর্যন্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ ( সদ্য জাতীয়করণকৃত ) প্রধান শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেলে ৫৫০০ -১২০৯৫/- এমপিও ভুক্তকরণ করে কার্যকরের তারিখ উল্লেখসহ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকগণকে পত্র প্রদান করেছিলেন।

তাছাড়া জাতীয়করনকৃত বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে সরাসরি কোন প্রধান শিক্ষক নেই। কারন সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ নিতে হলে মাষ্টার্স সমমান ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। যা বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকের নেই।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও বাস্তবায়ন বিভাগের ১/১২/১৯৮৪ তারিখের স্মারকের অনুচ্ছেদ -৩ ও ২২/৩/১৯৯৫ অনুযায়ী সরকারি চাকুরি জীবিগণের টাইমস্কেল সুবিধা প্রাপ্তির বিধি অনুযায়ী ৩য় শ্রেণিভূক্ত কর্মচারি ( শিক্ষক ) গণ একই পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ০৮ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সুসম্পন্ন করার পর নির্ধারিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১ম টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন। একই নিয়মে ১২ ও ১৫ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে ২য় ও ৩য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তেমনি ভাবে একজন ২য় শ্রেণিভূক্ত কর্মকর্তা (প্রধান শিক্ষক) একই পদে অথবা সম পদে একই বেতনস্কেলে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এক নাগাড়ে ৪ বছর সন্তোষজনক চাকুরীকাল সমাপ্তির পর সিলেকশান গ্রেড প্রাপ্য হবেন। ঠিক একই নিয়মে ৮ ও ১২ বছর চাকুরীকাল সমাপ্তির পরে তিনি ১ম ও ২য় টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

সরকারি কর্মচারি, কর্মকর্তাবৃন্দের বেতন নির্ধারন সম্পর্কিত নির্দশনা যে কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ০১-১২-১৯৮৪ তারিখেরর স্মারকের গ এর নির্দেশনা মোতাবেক টাইমস্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে একাধিক পদে চাকুরির ক্ষেত্রে পদ গুলী পরস্পর বদলীযোগ্য এবং একই স্কেলভূক্ত হলে তবেই সকল পদের চাকুরির দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ( চাকুরির সমষ্টি গণনা) টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া টাইমস্কেল প্রাপ্তির বিকল্প কোন পদ্ধতি নেই।

Read More »

কর্মবিরতিতে সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয়করণ করা বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা।

সম্প্রতি সরকারিকরণ করা উপজেলা পর্যায়ের ২৮৫টি কলেজের শিক্ষকেরা যাতে ক্যাডার মর্যাদা না পান সেই দাবিতে রোববার তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। আগামীকাল সোমবারও কর্মবিরতি পালন করবেন তারা।

আন্দোলনরত এসব শিক্ষকের দাবি, ‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’। জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ও চাকরির অন্যান্য শর্তসহ স্বতন্ত্র বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। তারা যেন বর্তমানে ও ভবিষ্যতে কোনোভাবেই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের অনুরূপ জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, পদায়নসহ কোনো সুযোগ-সুবিধার অন্তর্ভুক্ত না হতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যতীত কাউকে শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করা যাবে না।

সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আজ ও আগামীকালের সব পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান, পার্ট-৩) বিশেষ ও স্নাতক কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সোমবার স্নাতক পরীক্ষা রয়েছে। একই কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত সাতটি কলেজেও আজ ও আগামীকালের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাননি এই রকম শিক্ষকদের ক্যাডার মর্যাদা দেওয়া হলে, তা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ২৪ নভেম্বর এই কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। নিয়োগ বিধিমালা না করে নতুন করে কলেজ জাতীয়করণ করা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে যাবারও হুমকি দিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া অবিলম্বে তাদের দাবি মানা না হলে আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি একইভাবে কর্মবিরতি পালন করবেন ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকেরা। ওই সময়ও পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কলেজে শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের অস্থিরতা ও সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই বলছেন, হঠাৎ করে এভাবে আন্দোলন ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়তে হবে কয়েক লাখ পরীক্ষার্থীকে। এ ছাড়া এ সময় অন্যান্য শ্রেণির ক্লাসও বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হবে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আইকে সেলিমুল্লাহ খন্দকার বলেন, জাতীয়করণ করা কলেজ শিক্ষকদের কাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমাদের ক্ষতি করে কিছুতেই তাদের ক্যাডারভুক্ত করার সিদ্ধান্ত মেনে নেব না। সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয়করণের ঘোষণা করার সময়েই প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, শিক্ষকেরা বদলি হতে পারবেন না। কারণ বদলি না হতে পারা হচ্ছে নন-ক্যাডার কর্মকর্তার বৈশিষ্ট্য। ক্যাডার কর্মকর্তারা বদলি হতে পারেন। তবু বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ২৮৫টি বেসরকারি কলেজকে সরকারিকরনের ঘোষণা দিয়েছেন। অধিকাংশের ‘ডিড অফ গিফট’ শেষ হয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি কলেজ রয়েছে ৩৩৫টি। এর মধ্যে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষা ক্যাডার সদস্য আছেন প্রায় ১৫ হাজার। ২৮৫টি কলেজের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক আত্তীকৃত হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তথ্য নেবে সরকার

রঞ্জিত ভট্রা:  বাংলাদেশে বর্তমানে শতাধিক ইংলিশ মিডিয়াম তথা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। এর তালিকা শিক্ষা অধিদফতরে থাকলেও অন্য কোনও তথ্য নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধ ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। তারা এখন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কারা কিভাবে চালাচ্ছে সেই তথ্য সংগ্রহ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এ প্রসঙ্গে মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের কাছে শতাধিক স্কুলের তালিকা রয়েছে। প্রয়োজনে অন্য তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অনুমোদন দিয়ে থাকে শিক্ষা বোর্ড। এরপর অনুমোদিত স্কুলের তথ্য পাঠানো হয় মাউশির কাছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০০টির বেশি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। তবে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর নতুন স্কুল অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নিবন্ধন নিতে চলতি বছরের জুলাই মাসে বিধিমালা জারি করা হয়। এসব কারণে নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল খোলার জন্য অনেক ব্যক্তি বা সংস্থা অনুমোদন পেতে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, লেকহেড স্কুল বন্ধের পর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর তথ্য থাকা জরুরি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। বিচ্ছিন্নভাবে তথ্য থাকায় জটিলতাও দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন এর কর্মকর্তারা।

এতদিন শিক্ষা বোর্ড, মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের কাছে গুরুত্ব পায়নি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। তবে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কারণে বদলে গেছে চিত্রটা। এখন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয় ও মাউশি।

লেকহেড স্কুল বন্ধের পর গত ১৪ নভেম্বর শিক্ষা অধিদফতরে ৩৫টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন মাউশি মহাপরিচালক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। বৈঠকে তিনি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ওপর নজরদারির নির্দেশ দেন মহাপরিচালককে। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। এছাড়া ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ছাড়া ছাত্রছাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে স্কুলে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাউশি সূত্র জানিয়েছে, হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ স্কুলের নিজস্ব কোনও বাস নেই। অথচ রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের অনেকদূর থেকেও স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এক্ষেত্রে দুর্ভোগ পড়ে তারা। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব স্কুল বাস চালুর নির্দেশ দিতে ওই বৈঠকে বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

এ বছর ইংরেজি মাধ্যমের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৭ জারি করে সরকার। বিধিমালা অনুযায়ী, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করতে হলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। দুই ধাপে স্কুলের অনুমোদন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রথমে দুই বছরের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন নিতে হবে। সন্তোষ জনক ভাবে স্কুল পরিচালিত হলে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ফরমে নবায়নের আবেদন করতে হবে। নবায়নে তিন বছরের অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রতি তিন বছর পর পর অনুমোদন নবায়ন করতে হবে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ববি’র ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ছয় সদস্য আটক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভর্তি পরীক্ষায়র দ্বিতীয় দিন ‘গ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রসহ ছয়জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার দুপুরে নগরীর ডিবি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, এরপূর্বে শনিবার সকাল সাতটায় পরীক্ষা শুরুর আগেই নগরীর বাংলাবাজার এলাকার আরশেদ আলী গলির নাহার ম্যানশন থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস। আটককৃরা হলো, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত সিআইডি’র তালিকাভূক্ত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ মারুফ হোসাইন মারুফ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোঃ আলমগীর শাহীন, গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ মাহামুদুল হাসান আবিদ। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আটককৃত তিনজনই অমর একুশে হলের ছাত্র।

সরকারি চাকুরেদের শোভাযাত্রা কাল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভাযাত্রা আগামীকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করবেন তাঁরা। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোও এটি উদ্‌যাপনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

আজ শুক্রবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সংবাদ ব্রিফিং করে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য জানান।

প্রধানদের ১০ম ও সহকারীদের ১১তম গ্রেডের দাবীতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৪ নভেম্বর। সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল প্রদান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান, দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা প্রদানে প্রধান শিক্ষকদের বাই নেইমে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সেল্ফ ড্রয়িং ক্ষমতা প্রদানসহ ৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি আজ সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে।

দু’ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে সারাদেশ থেকে সহশ্রাধিক শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি সুব্রত রায়, জাহিদ রব্বানী, মীর মহিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, ফজলুর রহমান, মনির হোসেন, জিন্নাতুল ফেরদৌসী, সিরাজুল ইসলাম, মো. শাহজাহান, কমল বকসি, জাফর উল্লাহ, আখিনুর আক্তার জাহান, সেলিনা আক্তার, গোলাম রব্বানী, আবুল কালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম সেলিম, হাবিবুল্লাহ ফকির প্রমুখ। মানববন্ধনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ প্রাথমিক শিক্ষকদের ৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অনতিবিলম্বে দাবি মেনে নেয়া না হলে পরবর্তীতে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। শিক্ষকদের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-

১. সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতনস্কেল প্রদান, দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা প্রদানে প্রধান শিক্ষকদের বাই নেমে গেজেট বিজ্ঞপ্তির প্রকাশসহ সেল্ফ ড্রয়িং ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
২. সকল ধরনের জটিলতা নিরসন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি/চলতি দায়িত্ব প্রদান এবং প্রধান শিক্ষকদেরকে চাকুরির সিনিয়রিটি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে শতভাগ পদোন্নতি দিতে হবে।
৩. জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণের ব্যবস্থা দ্রততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং চলমান ৮ম শ্রেণি চালুকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. শিক্ষক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ৮ম শ্রেণি চালুকৃত বিদ্যালয়সহ সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে সহকারি শিক্ষকদের নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধিসহ প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকুরি নন ভ্যাকেশনাল হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৫. শিশু শিক্ষার্থীদের উপর থেকে মানসিক চাপ কমানোর লক্ষে বিদ্যালয়ের সময়সুচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত পুন:নির্ধারণ করতে হবে এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রাথমিক শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

স্কুল পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতির সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে প্রত্যেক মাধ্যমিক স্কুলে কমিটি গঠন করতে সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষকসহ সচেতন মহল অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অনেকেই একে জাতির জন্য অশনি সংকেত বলেও আখ্যায়িত করেছেন। অধিকাংশ মতামতই কোমলমতী শিক্ষার্থীদের যেন ছাত্র রাজনীতি ছুঁতে না পারে।
বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির নামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি, আধিপত্যের সংঘর্ষ, গোলাগুলি, টেন্ডারবাজী, দখল বাণিজ্য, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, হলের সিট নিয়ন্ত্রণসহ ছাত্রনেতাদের নানা অপকর্মে দেশের মানুষ অতীষ্ঠ। এক হিসাবে দেখা যায়, এসব ঘটনায় শুধু ছাত্রলীগেরই গত ৮ বছরে প্রায় ১৩০জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে ছাত্র নেতাদের হাতে দর্জি বিশ্বজিত হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক দৃশ্য দেশের মানুষ দেখেছে। বরিশালে কলেজের অধ্যক্ষকে চ্যাংদোলা করে পানিতে ফেলে দেয়া, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গায়ে এসিড নিক্ষেপ, জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রী ধর্ষণে সেঞ্চুরি করা, সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেলে অগ্নিসংযোগ, শরিয়তপুরসহ সম্প্রতি কয়েকটি এলাকায় ছাত্রলীগের নেতার নারী ধর্ষণ এবং ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে ভিডিও প্রচার কাহিনীসহ অসংখ্য ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাদের নাম জড়িয়েছে। ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির নেতাদের এসব কর্মকা-ে ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে সংগঠনের অভিভাবক পদ থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সম্প্রতি কয়েকটি বক্তব্যে প্রকাশ পায় ছাত্রলীগের কর্মকা-ে মূল সংগঠনের নেতারা কত ত্যাক্ত-বিরক্ত। আর এরই মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি ঢোকানো হচ্ছে কোন্ উদ্দেশ্যে- এ নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন সচেতন মানুষ।
একজন মন্তব্য করেছেন, “এরপর বাচ্চা ছেলেরা গ্রুপিং নিয়ে সামান্য বিষয়েই মারামারি করবে! অবুঝ শিশু-কিশোররা মাথা গরম করে অঘটন ঘটাবে! প্রাণহানির ঘটনাও ঘটবে! আগামীতে অন্যান্য দলও কমিটি করবে। দলাদলি থেকে মারামারি হবে নিত্যদিনের ঘটনা। না, দয়া করে বাচ্চাদের প্রতিহিংসার দিকে ঠেলে দেবেন না।”
তাহসিনুর রহিম নামে একজন লিখেছেন, “রাজনীতিকে পারলে ডেলিভারি রুম পর্যন্ত নিয়ে যান, বাচ্চা জন্মের সাথে সাথেই রাজনৈতিক দীক্ষা দিয়ে দিবেন।”
অভিভাবক ও সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী শঙ্কার কথাগুলো জানিয়ে তার পোস্টে লিখেছেন, ‘স্কুলে ১১ বছর বয়সে আমার বাচ্চাকে বিসিএস-এর প্রশ্ন দেবেন পরীক্ষায়। আমি কিছু বলতে পারবো না। সারাদিন-রাত পড়াশুনা করে প্রশ্নফাঁসের ফাঁসি নিয়ে ফেলু ছাত্রের জিপিএ পাওয়া দেখবো। আমার কিছু বলার থাকবে না। এসএসসির আগে আরও দুটো বোর্ড পরীক্ষা জেতাতে কোচিং এ লাখ টাকা ব্যয় করবো!! আমি বাধ্য কারণ, আমার সন্তানের ভালো আমার চেয়ে রাষ্ট্র নাকি বেশি চায়। চুপ থাকি… কিন্তু এই ভয়াবহ বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি পাথর হয়ে গেছি!!!! এখন কি আমার শিশুকে রাজনীতিও করতে হবে?! আমার বাচ্চা। কষ্টের টাকায় নিজে না খেয়ে আমি পালি। এই শিশু লালন-পালনে কতটা ভাগ আপনার, যে আপনার কথামতো সে চলতে বাধ্য? আপনার কাছে খুচরা আলাপ, আমার আর আমার সন্তানের জীবন মরণ। মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি হয়ে যাচ্ছে। মা হয়ে এই দরদ নেওয়া যাচ্ছে না। ’
অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম এ সম্পর্কে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমাদের বড় দুই দল আদর্শহীন রাজনীতি করে। এই আদর্শহীনতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাওয়া মোটেও উচিত নয়।’ স্কুল পর্যায়ে কমিটি বন্ধ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে একে অন্যকে গালিগালাজ করা, দোষারোপ করা একটি সহজাত অভ্যাস। একজন শিক্ষার্থী কি এসব শিখবে ছোটবেলাতেই?’ তিনি বলেন, স্কুলে কমিটি করার অর্থ হলো এসব মূলধারার বা সরকারি দল সমর্থক সংগঠনের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন ফাঁস করা শিখবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলামিন আহমেদ এমন পদক্ষেপকে ধিক্কার জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আমরা সকলেই অবহিত আছি যে বর্তমান ছাত্র রাজনীতি অতীতের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ম্লান করে বর্তমানে কলুষিত হয়েছে (কলুষিত হয়েছে তা নয়; কলুষিত করা হয়েছে)। যদিও ছাত্র রাজনীতির ফলে দেশের জাতীয় ইস্যু গণতন্ত্র রক্ষা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইস্যুতে ছাত্রনেতাদের ভূমিকা থাকলেও সামগ্রিকভাবে যদি ছাত্র রাজনীতির ফলাফল নির্ণয় করি তাহলে দেখা যাবে ছাত্ররাজনীতিকে অসুস্থ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াতে এবং জাতীয় রাজনীতিতে দেশপ্রেমের অবক্ষয়ের কারণে আজকে মেধাবী হাজার হাজার ছাত্রনেতার ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে, এমনকি জীবনের ছন্দপতন হয়ে আজকে অনেকেই বিপথগামী হবার ইতিহাসও রয়েছে!
তিনি লিখেন, নিশ্চিত ধ্বংসের পথে যাবে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে ধ্বংস করবে বলে আমি আশঙ্কা করছি। কেননা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এগুলো হলো শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি, সেখানে ছাত্ররাজনীতি প্রবেশ করিয়ে দিলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে, শুধু তাই নয় বরং আমাদের জনসম্পদ বোঝা হয়ে দাঁড়াবে! এর সপক্ষে আমি শত শত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারব। তার মধ্যে অন্যতম কিছু কারণ উল্লেখ করছি।
বাংলাদেশের আইনে আমার জানামতে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু। আর একটা ছাত্র এসএসসি পাস করে ন্যুনতম ১৫ বছর বয়সে। তাহলে কোন যুক্তিতে শিশুদের ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা হবে? মাধ্যমিক পড়ুয়া একটা ছেলে নেতৃত্ব দিবে নাকি পড়াশোনা করবে? তাছাড়া ১০-১২ বছরের একটা ছাত্র কিভাবে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করবে? এটা কি বাচ্চার হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার সামিল নয়!
জনৈক হাসানুজ্জামান লিখেছেন, “রাজনীতি করে এরা দেশের কি উন্নতি টা করবে শুনি? সবগুলা তো শিখবে গুন্ডামী, ভন্ডামী আর জোচচুরি। এই দেশকে কখনো রাজনীতিবিদরা এগিয়ে নিতে পারবে না। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্ত বিষয়ক শিক্ষা এবং তার প্রয়োগ। বর্তমান রাজনীতি হচ্ছে একটি ভন্ড পেশা কিংবা অবৈধভাবে টাকা উপার্জন এর একটি পন্থা। এভাবে চলতে থাকলে সমাজের ধ্বংস অনিবার্য।”
আসিফ লিখেছেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ তো গেছে এবার স্কুলগুলোও বাকি থাকবে না। কোমলমতি ছেলে মেয়েগুলো আগেই হাতে কলমে শিক্ষা নিবে কি করে টেন্ডারবাজি করতে হয়।”
ফেরদৌস লিখেছেন, “এ ব্যাপারে আওয়ামীপন্থী ৃৃও শিক্ষাবিদদের বক্তব্য শুনতে চাই!”
মোরশেদ লিখেছেন, “স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ভোটার না, ১৮ বৎসরের আগে ভোটার হতে পারে না। আর মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের বয়স ১৪ বা ১৫ এর বেশি হয়না। স্কুল এর এই ছোট শিশুদেরকেও নষ্ট করে দিচ্ছে আওয়ামীলীগ এর নোংরা রাজনীতি।
অন্য একজন লিখেছেন, “দেশ এবং দেশের শিক্ষাঙ্গণ ধ্বংসের একটি পদক্ষেপ!”
আরেকজনের মন্তব্য, “প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষকের অপ্রতুলতা, গাইড বই, কোচিং বাণিজ্য, পাঠ্য পুস্তকে ভুল, এমপিও ভুক্ত করণে জটিলতা ইত্যাদি নানা সমস্যায় যখন আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা যখন ডুবতে বসেছে সে সময় ছাত্রলীগের এ সিদ্ধান্ত মাধ্যমিক শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ারই নামান্তর।” ফ্রান্স প্রবাসী আবদুর রব এ বিষয়টিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে তাদের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে তাদের সাংগঠনিক ইউনিটকে। আমি একজন সন্তানের পিতা ও দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই চরম হঠকারি ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তার মতে, সব কিছুরই একটা বয়স সীমা আছে। নির্ধারিত বয়সের আগে কিছু হলে তাকে অকাল পক্ক বলে। বিদ্যার্জনের সর্বোত্তম সময়ে রাজনীতি শেখানোর কোনো প্রয়োজন নাই। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে উপযুক্ত বয়সে প্রাকৃতিক ভাবেই রাজনীতি শিখবে। দেশে অচিরেই এই আইন করা উচিৎ যেভাবে আঠার বছর বয়স না হলে কেউ ভোটার হতে পারে না ঠিক সেভাবেই আঠার বছর না হলে কেউ রাজনীতিও করতে পারবে না। আঠার বছর বয়স না হলে কোনো মানুষ মানসিক ভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করে না। তাহলে কীভাবে সে রাজনীতির জন্যে উপযুক্ত বিবেচিত হয়? আঠার বছর বয়স পর্যন্ত পুরোটা সময় যেন একজন শিক্ষার্থী তার পড়াশুনার পেছনে ব্যয় করে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনিতেই সহস্র সমস্যায় জর্জরিত তদুপরি মরার উপর এই খাঁড়ার ঘা কেন? মনে হচ্ছে অতি সুপরিকল্পিতভাবে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছি।
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তো প্রতিনিয়ত ছাত্র নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত অপমানিত হচ্ছেন। কলেজ ভার্সিটির অধ্যক্ষকে অফিসে তালাবদ্ধ করে রাখার পর পুলিশ এসে উদ্ধার করছে এমন সংবাদ তো প্রায়ই আমাদের শুনতে হয়। এ সকল দৃশ্য কি আমরা এখন স্কুলগুলোতেও দেখতে চাচ্ছি? স্কুল পর্যায়ে রাজনৈতিক কমিটি গঠন আর কোমলমতি ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেই মনে করি। পারলে তাদেরকে নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হোক। তাদেরকে সকল প্রকার রাজনীতির বাইরে রাখা হোক। কোনো রাজনৈতিক নেতার আগমন উপলক্ষে তাদেরকে ফুলের তোড়া হাতে দাঁড় করিয়ে রাখার নির্লজ্জ তোষামোদী সংস্কৃতি বন্ধ করা হোক। বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। তাই আমাদের কোমলমতি ছাত্রদের এই নোংরা রাজনীতিতে জড়ানোটা হবে চরম এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কিছুদিন আগে শুনেছিলাম শিশুলীগ নামে একটি সংগঠনের কথা। ভেবেছি- হাসি ঠাট্টা। অনলাইনে তো কত কিছু নিয়েই হাসি তামাশা হয়। এখন তো অতি আতংকগ্রস্ত হয়ে দেখছি ঘটনা ভয়াবহ। এরপর এই নোংরা রাজনীতির জীবাণু তো আস্তে আস্তে প্রাইমারি পর্যন্ত চলে আসবে। এটা কি কোনো রাজনৈতিক টিকাদান কর্মসূচি যে বাদ যাবেনা কোনো শিশু অভিযান শুরু করেছেন?
ছাত্রলীগ বলছে শুধু তারাই নয়- ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ আরো অনেক রাজনৈতিক দলের কমিটি মাধ্যমিক স্কুল গুলোতে রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কমিটি রয়েছে বলে তোমাদেরকেও কমিটি গঠন করতে হবে এমন তো কোনো কথা নয়। তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা বেশি। তোমরা বরং এর প্রতিবাদ করবে, রাস্তায় নামবে। যাতে কোনো রাজনৈতিক দল এরূপ কমিটি গঠন করে ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যত নষ্ট করতে না পারে, জাতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তা প্রতিরোধ করবে। তা না করে তোমরাও সেই একই ধারায় শিশুদের ব্যবহার করতে চাচ্ছ যা সত্যিই হতাশাজনক। অনেক ছাত্র সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই নাকি স্কুল কমিটির কথা উল্লেখ আছে। এরূপ থাকলে অনতিবিলম্বে তাদের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা দরকার। অন্তত জাতির ভবিষ্যত এ সকল শিশুদের অংকুরে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এর বিকল্প নেই।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজ লেখাপড়া, খেলাধূলা, সংস্কৃতি চর্চা ইত্যাদি। এখানে তাদের রাজনীতি শেখানোর কি দরকার? এতে কাদের স্বার্থ নিহিত? মাধ্যমিক লেভেলের পড়ালেখা কমপ্লিট করেও তাদের সামনে রাজনীতি শেখার যথেষ্ট পরিমাণ সময় পড়ে আছে। আমরা কেবলমাত্র মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে তা নয়। বরং সকল পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষেই আমাদের অবস্থান। এর কারণ সবাই জানেন। আজকাল ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শ বা নৈতিকতা বলতে কিছ্ইু অবশিষ্ট নেই। লেজুড়বৃত্তি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল, হানাহানিসহ সকল ধরনের অপকর্মে ছাত্রনেতারা জড়িত। তারপরও যদি একান্তই ছাত্র রাজনীতি করতে হয়, যদি এখনো ছাত্র রাজনীতির ধ্যে সামান্য কোনো ভাল দিক আপনারা দেখতে পান তাহলে অন্তত মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিশুদের রেহাই দিন। ছাত্র রাজনীতির বিষাক্ত ছোবলে আমাদের সন্তানদের নীলকন্ঠ লাশ আমরা দেখতে চাইনা। এখানে যে আপনাদের বিশাল রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত আছে তা বুঝতে আমাদের মোটেই কষ্ট হচ্ছেনা।
ছাত্রলীগের দাবি তারা বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শ ও মুক্তি যুদ্ধের চেতনা, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে স্কুল কমিটি গুলো গঠন করছেন। খুব ভালো। আমরা মোটেই এর বিরোধিতা করছিনা এবং এর গুরুত্বও আমাদের অজানা নয়। আমাদের অনীহা শুধু ছাত্রছাত্রীদের অপরিপক্ষ বয়স নিয়ে। অন্তত এ বয়সে যেন তাদের উপর এসব অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া না হয়। ছাত্র রাজনীতির কর্মকাণ্ড যদি এ দুটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকতো তবুও নাহয় কিছু সময়ের জন্য মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু সেরূপ কল্পনা করা বাতুলতা মাত্র। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়গুলো তো পাঠ্যপুস্তক থেকেই শিখতে পারবে। আমাদের শিক্ষকবৃন্দ থাকতে আপনারা ছাত্র নেতারা শিক্ষাদানের এ দায়িত্ব কেন নিচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। আর বঙ্গবন্ধু এমন কেউ না যে, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সাথে জোর করে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। বরং বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলার আকাশে এক বিশাল সূর্য। বাংলার আলো বাতাসে কেউ বেড়ে উঠবে আর তার গায়ে এই সূর্যের আলো লাগবেনা তা কি করে সম্ভব?
কেউ বাংলাদেশের ইতিহাস লিখবে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কথা লিখবেনা এটা যেমন অসম্ভব তেমনি কেউ বঙ্গবন্ধুর কথা লিখবে কিন্তু বাংলাদেশের কথা লিখবেনা তাও অসম্ভব। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশই বঙ্গবন্ধু। এই সত্য অস্বীকার করার ধৃষ্টতা বাংলাদেশে কেউ দেখাবেনা। তাই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অহেতুক হৈচৈ এবং অতিরঞ্জিত কর্মকাণ্ড তাকে অসম্মানের নামান্তর। তখন এটা পরিষ্কার হয়ে উঠে যে এই অপ্রয়োজনীয় ও নির্লজ্জ লম্ফঝম্পের পেছনে হীন স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই নেই।
আপনারা যদি শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শিক্ষা দিতে যান তাহলে একেক দল একেক ভাবে বঙ্গবন্ধুকে উপস্থাপন করে এক বিকৃত ইতিহাস তাদের শেখাবেন এতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই বিভ্রান্তি নিয়ে বড় হবে। এর চেয়ে বরং আমাদের শিক্ষকদেরকে এ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন এবং শিক্ষার্থীদেরকেও সুযোগ দেন যাতে তারা নিজেরাই এসব ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে পারে। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আপনারা যেভাবে একেক দল একেক ভাবে কেজি দরে বিক্রি করছেন, তা বলতেও রুচিতে বাধে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য ইতিহাস জানা তো দূরের কথা তারা বিভ্রান্তির এক অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাবে।
আমাদের দেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দলই আদর্শহীন রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগ যেমন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে যোজন যোজন দূরে তেমনি বিএনপিও জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত। এই আদর্শহীনতা কি আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশুদের কাছে সগর্বে পৌঁছে দেব? বর্তমানে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে, একে অন্যকে গালি গালাজ করা, দোষারোপ করা, মারামারি করা, হানাহানি করা। কোমলমতি শিশুদের মাঝে আমরা কি এ ভাইরাস ঢুকিয়ে দেব? স্বভাবতই সরকারি দলের ছাত্ররা অন্যান্য দলের ছাত্রদের সাথে দাপট দেখায়, প্রভাব খাটাতে চায়। তখন মারামারি হানাহানি অনিবার্য হয়ে পড়ে। তখন শিক্ষকদেরকে পড়ালেখা করানো বাদ দিয়ে ছাত্রদের বিচার-আচারে ব্যস্ত থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোয় কি ভয়ানক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হবে তা কি একবার ভেবে দেখবেন সুপ্রিয় ছাত্র নেতারা?
প্লিজ আমাদের দয়া করুন। আমাদের সন্তানদের বাঁচান। আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচান। আমাদের দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচান।
শীর্ষনিউজ২৪ডটকম

রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার বেড়ে ১০০

জান্নাতুল ফেরদৌসী: রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনায় আলাদা দুই মামলায় আরও ৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট দুই মামলায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল থেকে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে রংপুরের কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। আর গঙ্গাচড়া থানায় করা মামলায় গ্রেফতার হয় ১৪ জন। এর আগে, ৫৩ জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। যাদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবির কর্মী।

হামলায় জড়িত অন্যদের ধরতেও পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হামলাস্থলের ছবি, ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের ছবি সংগ্রহ করে তা পর্যবেক্ষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

সূত্র- যমুনা টিভি

১২৫জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক,৬ নভেম্বর:  সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের শূন্যপদে ১২৫ জনকে নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (৫ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন) নাসরিন জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দুই হাজার ৬৮০টি পদের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ২৩৯টি। এসব শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের গেজেটেড কর্মকর্তা ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫ (সংশোধিত ১৯৯৪) অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ১৪৪টি পদের বিপরীতে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হয় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বাছাই পরীক্ষা (প্রিলিমিনারি)। তাতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় একই বছরের অক্টোবরে। এরপর মৌখিক পরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ১২ জুলাই সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে ১২৫ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করে সরকারি কর্ম কমিশন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন) নাসরিন জাহান বলেন, ‘পিএসসির সুপারিশ করা ১২৫ জনকে নিয়োগ দিতে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশ ভেরিভিকেশনের কাজ চলছে। এটা সম্পন্ন হলেই তাদের নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।’

২০১৮ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮ সালে মোট ২২ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

সোমবার ( ০৬ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৮ সালের এই ছুটির তালিকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৮ সালের জন্য ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ৮ দিন সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ২২ দিন ছুটি থাকবে।

সাধারণ ছুটির মধ্যে চারদিন শুক্র-শনি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটিতে তিনদিন পড়েছে শুক্র-শনিবার।

চলতি ২০১৭ সালে মোট ২২ দিন সরকারি ছুটি ছিল। এর মধ্যে ১০ দিনের ছুটি পড়েছিল সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে।

৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে কুমিল্লা

কুমিল্লার ওপেনিং জুটি ভাঙলেন সিলেট-অধিনায়ক নাসির। প্রথম আলোটস হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও শুরুটা মোটামুটি ভালোই হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস আর লিটন দাস ৫ ওভারের মধ্যেই ৩৬ রান তুলে ফেলেছিলেন। সিলেট সিক্সারসকে এই দুজন যখন চোখ রাঙাচ্ছেন, ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা নাসির হোসেন। সিলেটের অধিনায়ক ইমরুলকে বোল্ড করলেন। সেই পথ অনুসরণ করেই তাইজুল তুলে নিলেন লিটনের উইকেট। তাইজুলের বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে লিটন।
তবে তাইজুলের ‘প্রাইস উইকেট’ জস বাটলার। ইংল্যান্ডের এই তারকা উইকেটে এসে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাইজুলের পরের ওভারের প্রথম বলেই লং অফে লিয়াম প্ল্যাংকেটকে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে কুমিল্লা।
এই মুহূর্তে কুমিল্লার হার ধরেছেন মারলন স্যামুয়েলস ও অলক কাপালি। স্যামুয়েলস ৭ আর কাপালি ৬ রানে অপরাজিত আছেন। লিটন ফিরেছেন ২১ রানে, ইমরুল ১২ রানে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter