Home » নিউজ (page 20)

নিউজ

অপহরণের ছয় দিন পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, আটক ১

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,১৩ মার্চ:.

চুয়াডাঙ্গা একাডেমী মোড় থেকে অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে ছয় দিন পর চট্টগ্রাম পাঁচলাইন থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণকারী রুবেল হোসেনকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুর ১টার দিকে অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক

উদ্ধারকৃত স্কুল ছাত্রী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসিন্দা ও নবম শ্রেণির ছাত্রী।

অপহৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ বিকালে ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে শহরের একাডেমী মোড়ে এসে পৌঁছায়। এসময় যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে রুবেলসহ চার জন তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে  তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন ৬ মার্চ দুপুরে অপহৃতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত চার জনের নামে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার দুপুরে সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম পাঁচ মাইল থানা পুলিশের সহযোগীতায় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক বলেন, গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বিধ্বস্তের আগে যে কথা হয় পাইলটের (অডিও)

ডেস্ক,১৩ মার্চ : নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত বিমানটি অবতরণের আগে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে কথা বলে। সেখানে কন্ট্রোল রুমের অনুমতি সাপেক্ষেই দুইবার চক্কর দেওয়ার পর উত্তর দিক থেকে বিমানটি অবতরণ করে।

তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানিয়েছেন, কন্ট্রোলরুমের ভুল তথ্যের জন্যই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না।

ইমরান আসিফ জানান, ওই ফ্লাইটে মোট ৩২ জন বাংলাদেশি ছিলেন, নেপালের ছিলেন ৩৩ জন এবং চীন ও মালয়েশিয়ার দুই জন ছিলেন। এছাড়া দুইজন পাইলট, দুইজন ক্রু ও দুইজন কেবিন ক্রু ছিলেন। ফ্লাইটে প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন ৬৫ জন এবং দুই শিশু ছিল।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে পাইলটের যে কথা হয় সেখানে স্পষ্ট বুঝা যায় পাইলটকে ভুল তথ্য দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার নেপালের কাঠমুন্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় ইউএস বাংলার একটি বিমান। এ বিধ্বস্তের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। ইউএস বাংলার ওই বিমানে ৬৭ জন যাত্রী এবং ৪জন ক্রু ছিলেন।

সেই কথোপকথনের অডিওটি তুলে ধরা হলো-

সেই কথোপকথনের অডিওটি তুলে ধরা হলো

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বিমান বিধ্বস্তে সিরাজগঞ্জের প্রকৌশলী-শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ :নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা বিমানের যাত্রীদের মধ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসি ও তার স্বামী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী রকিবুল হাসানের মৃত্যু হয়েছে।

এ খবর প্রকৌশলী রকিবুল হাসানের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত রকিবুল হাসান সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়ার ইউনিয়নের বিনানই গ্রামের মৃত রবিউল করিমের ছেলে। রকিবুল হাসান ঢাকায় একটি বেসরকারি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ইমরানা কবির হাসি রুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে রকিবুল ও হাসি নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগেই তাদের বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ খবর জানাজানি হলে সোমবার সন্ধ্যায় চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম রকিবুলের গ্রামের বাড়িতে যান এবং রকিবুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। রকিবুলের স্ত্রী হাসি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান।

উল্লেখ্য, সোমবার ইউএস-বাংলার বিমানটি ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করে। ওইদিন নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রু ও ৬৭ আরোহী নিয়ে বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এতে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের রিট খারিজ

ডেস্ক,৫ মার্চ: সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।সোমবার (৫ই মার্চ) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও দুই সাংবাদিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া এ রিট দায়ের করেন।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পিএসসির চেয়ারম্যানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া জানান, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, বেসরকারি, প্রতিরক্ষা, আধা সরকারি এবং জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য কোটা প্রবর্তন করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে কোটায় সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি নিয়োগে কোটা যেমন, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাতি নাতনি ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ কোটা। সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান রয়েছে। এই কোটা প্রথা সংবিধানের ১৯, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিট আবেদনটি দায়ের করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনিসুর রহমান মির, ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব দিদারুল আলম ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সিনিয়র সাব এডিটর আব্দুল ওদুদ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের চেক ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ ফেব্রুয়ারী :স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি-২০১৮ মাসের এমপিওর (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) চেক মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ছাড় হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের আটটি চেক নির্ধারিত অনুদান বন্টনকারী চারটি ব্যাংকের শাখায় পাঠানো হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘দুশ্চিন্তার কারণ’ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি বছরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটি জানিয়েছে পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো সুপারিশ করবে না তারা।

রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে কমিটির তৃতীয় এবং শেষ সভা শেষে কমিটির প্রধান সচিব মো. আলমগীর এ কথা জানিয়েছেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, গণমাধ্যমে যে সংবাদ এসেছে সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। তার সমর্থনে যে কাগজপত্রগুলো দরকার সেগুলো সংগ্রহ করতে বোর্ড, বিটিআরসি এবং পুলিশকে বলেছিলাম। তারা কিছু কিছু কাগজপত্র আমাদের দেখিয়েছে। আরো কিছু কাগজ পুলিশের কাছে চেয়েছি। আজকেই শেষ মিটিং।

‘সুপারিশগুলো গোপনীয়, আপনারা জানেন- সুপারিশ সব সময় গোপন থাকে। আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ দেওয়ার পর তারা পর্যালোচনা করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।’

পরীক্ষা বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই সুপারিশ করবো, সরকারও স্বার্থের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

‘এই শিক্ষার্থীরা কারা, এরা তো আমাদেরই সন্তান, আমাদের দেশের সন্তান। আমরা এমন কোনো সুপারিশ করবো না যেটা তাদের জন্য ক্ষতি হবে। আর সরকারও এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে তাদের জন্য কষ্ট হয়। সবারটাই দেখতে হবে।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সভা শেষে মো. আলমগীর বলেছিলেন, একটি বিষয়ের পুরোপুরি এবং কয়েকটি বিষয়ের আংশিক প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

ওই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যেটা দেখেছি কোনো পরীক্ষায় ডিটেইলস ফাঁস হয়নি। গণমাধ্যমে যেটা এসেছে, আমরা দেখেছি কিছু কিছু অবজেকটিভ হয়েছে। এছাড়া আর হয়নি।

পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনা আছে কিনা- এ বিষয়ে সচিব বলেন, এটা তো গোপন জিনিস। পরীক্ষা তো একটা না, ১২টা। অতএব ১২টির ১২ রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তবে তিনি বলেন, বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে, তবে কয়টার করা হবে তা এখন বলা যাবে না।

পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ থাকলো কিনা- এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, তাদের বলে দিই, তারা যেন কোনো উদ্বেগে না থাকে। তারা আমাদেরই সন্তান, তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আমরা সুপারিশ করবো। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা জাতির স্বার্থে নেওয়া হবে।

‘ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাবেন, দুশ্চিন্তার কোন কারণ নাই। সরকার কিন্তু জনগণের সুখ-শান্তির জন্য, উদ্বেগর জন্য নয়। উদ্বিগ্ন রাখতে পারে অন্যরা।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাতিল হবে সেটাও বলবো না, হবে না সেটাও বলবো না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বিটিআরসি প্রতিনিধি, আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি কমিটি রয়েছেন।

আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করা হবে বলে জানান সচিব মো. আলমগীর। তথ্যসূত্র : বাংলানিউজ

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

দর্শনায় ৫ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত অর্ধশত শিক্ষক

কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থী শোসন বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ

হারুন রাজু : সন্তানদের উচ্চ ও সুশিক্ষার আলোকে গড়ে তুলতে চায় সকল অভিভাবক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানেই মানুষ তৈরীর কারখানা। অথচ সে কারখানাগুলো কি হচ্ছে আজ ? মাত্র এক যুগ আগেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দেখা যেতোনা অর্থের লালসা। অকৃপ্রনভাবেই সন্তানের মতো করেই শিক্ষাদান করাতেন শিক্ষাকরা। সেকালের শিক্ষকদের শাসন, আদর ও ভালোবাসা আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠেছে কতশত শিক্ষার্থী। এখনো শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য যারা জনম জনম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আশুতোষ সেন গুপ্ত, আনিসুর রহমান, আরজ আলী, হোসেন আলী, সদর আলী, আগস্টিন হালসনা, মঈনুদ্দিন, নাহার উদ্দিন, ইলিয়াস হোসেন, আ. কুদ্দুস, আবু বকর, শহিদুল্লাহ, দাউদ আলী, জামাত আলী, আফতাব উদ্দিন সহ নাম না জানা আরো অনেক শিক্ষক।

সে সময় শিক্ষকরা অল্প বেতনে শিক্ষকতা করলেও তাদের মধ্যে ছিলোনা অর্থের মোহ। শ্রেনী কক্ষে শিক্ষার্থীরা পড়া না পারলে নিজের আগ্রহেই সেই শিক্ষার্থীকে বিনাপয়সায় পড়াতেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুজে বের করে তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বর্ণ শিখরে পৌছে দেয়ার প্রচেষ্টায় মেতে থাকতেন সেই সকল আদর্শিক শিক্ষকরা।

বর্তমান অবস্থার দিকে খেয়াল করলে মনে হয় পুরোটাই উল্টো। বর্তমান শিক্ষকরা শিক্ষাদান নয় টাকা উপর্জনের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিরক্ষর মুক্ত সমাজ, জাতী ও দেশ গড়ার লক্ষে শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার নানামুখি কর্মসূচি গ্রহন করেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দিয়ে সরকার সৃস্টি করেছে নতুন অধ্যায়। শিক্ষার ক্ষেত্রে দূর্নিতি দুরিকরণে সরকারের যেমন আন্তরিকতার কমতি নেই, তেমনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো থেকে শুরু করে সব ধরণের উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেই আন্তরিকতার ঘাটতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আধুনিক দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর, আধুনিক প্রযুক্তিতে শিক্ষাদানের জন্য ব্যয় করছে প্রচুর অর্থ, শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়ানো সহ দেয়া হয়েছে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, ঠিক তখনি অর্থলোভি এক শ্রেনীর শিক্ষক হয়ে উঠেছে বেপরায়া। তারা শিক্ষা নয়, অর্থের লোভেই মেতে উঠেছে। শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রচুর অর্থ, কলূষিত করছে শিক্ষাঙ্গনকে।

দর্শনার অভিভাবক মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ কোচিং সেন্টার পরিচালিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে কোচিংয়ে পড়াতে না দেয়া হলে শ্রেনী কক্ষে রিতিমত অপমান সহ বিভিন্নভাবে ভৎসনা করা হয়ে থাকে শিক্ষার্থীকে। তাছাড়া পরীক্ষার খাতায় ভালো লিখলেও নাম্বার কম দেয়ার অভিযোগতো রয়েছেই।

সম্প্রতি সময়ে দর্শনার বেশ কয়েকজন শিক্ষক কোচিং বানিজ্য করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন। দালান-কোটা, জমিজমা, গাড়ি ক্রয় সহ ব্যাংক এ্যাকাউন্ডে নামে-বেনামে জমা রাখা হয়েছে প্রচুর অর্থ।

দর্শনার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণচাদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাশের নামে খোলা হয়েছে কোচিং বানিজ্য সেন্টার। সাধারণত কোন কোন শিক্ষার্থী ইংরেজি ও অংকে অল্প বুঝে থাকে। সেক্ষত্রে সরকার ইংরেজি ও অংকের জন্য অতিরিক্ত ক্লাশ করানোর ব্যবস্থা চালু করে। প্রতিটি বিষয়ে ১৫০ টাকা হারে দুটি বিষয়ে ৩০০ টাকা মাসে ১২ দিন ক্লাশ করানোর নিয়ম থাকলেও গোড়া থেকে চারাগাছ গজিয়ে তুলেছেন শিক্ষকরা।

অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত ক্লাশের টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রেখে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করার নিয়ম ছিলো। অথচ সে টাকার চারআনাও রাখা হয়না বিদ্যালয়ের তহবিলে। পুরো টাকায় ঢুকছে শিক্ষকদের পকেটে। দর্শনায় কোচিং বানিজ্যের সাথে যেসকল শিক্ষকদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন আহমেদ, সাবিনা ইয়াসমিন, হাফিজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুন্নাহার, আ. কাদের, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন, খোরশেদ আলম, নাসরিন আক্তার শিলু, আরিফুল ইসলাম শান্ত, হাফিজুর রহমান, হাসান আলী, কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাছিমা আক্তার, আ. রহিম, ফারুক হোসেন,স্নেহময় বশাক নান্টু, নুরুল ইসলাম, আসমা খাতুন, আশরাফ হোসেন, ইকবাল রেজা, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী, আক্তারুজ্জামান সহ ৬/৭ জন।

এ ছাড়া রয়েছে আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রসাশক দায়িত্বভার গ্রহনের পরপরই শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। কোচিং বানিজ্যের ব্যাপারে তিনি কয়েকবার হুশিয়ার করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রসাশক জিয়াউদ্দিন আহমেদ। জেলা প্রশাসকের হুশিয়ারি অনেকটাই তোয়াক্কা না করেই দেদারছে কোচিং বানিজ্য চলছিলো অর্থলোভি শিক্ষকরা। দর্শনা কেরুজ হাই স্কুল, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় , মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছে।

মোটা অংকের বেতনে অনিচ্ছা সত্তেও সচ্চল পরিবারের সন্তানেরা কোচিংয়ে অংশ নিতে পারলেও বিপাকে পড়তে হয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরা। কোচিংয়ে ভর্তি না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ ও অপমান-অপদস্ত করতে দ্বিধাবোধ করেনি অভিযুক্ত অর্থলোভি শিক্ষকরা। বর্তমান সময়ে অনেকটাই কোচিং বানিজ্যের কারণে ঝড়ে পড়েছে বহু মেধাবি শিক্ষার্থী।

দর্শনার বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বন্ধ ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিভাবকদের দাবী বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। দেরিতে হলেও সময় উপযোগি পদক্ষেপ গ্রহন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। খানেকটা আকস্মিকভাবেই গত সোমবার বিকাল ৩ টার দিকে কোচিং চলাকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় দর্শনা কেরুজ হাই স্কুল ও মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। দুটি বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্য হাতেনাতে ধরে ফেলেন প্রতিনিধিদল। বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীকে কোচিংরত অবস্থায় পাওয়া গেলেও কেরুজ হাই স্কুলে পাওয়া গেছে প্রায় সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থী।

এ সময় কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শোনেন নানাবিধ অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়, ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে ১০ শ্রেনী পর্যন্ত কোচিং বাধ্যতামূলক করেছে শিক্ষকরা। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৬শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কোচিং ফি নিয়ে থাকেন। কোচিংয়ে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে ফরম পূরণের ব্যবস্থা ও অভিনব কৌশল। কোচিং ক্লাশ সহ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভিডিও ধারণ করেন কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে না আসার জন্য বলে দেন প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তারা। কোচিং বানিজ্যে কেরুজ হাই স্কুলের মিক্ষক নাছিমা খাতুন সহ বেশ কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা সুযোগ বুঝে সটকে পড়ার অভিযোগ উঠে। পরপরই কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের। অভিযুক্ত দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম হুমায়ন কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার শিলু, সহকারি শিক্ষক হাফিজুর রহমান হাফিজ, দর্শনা কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকবাল রেজা, আশরাফ হোসেন, স্নেহময়‡ বসাক নান্টু, ফারুক হোসেন, আসমা খাতুন অভিযান পরিচালনকারি কর্মকর্তাদের কোন প্রশ্নের সদত্তোর দিতে পারেননি। ফলে এ ৯ শিক্ষককের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমান সহ উপস্থাপন করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের নিকট। অভিযুক্ত ৯ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়া উদ্দিন আহমেদ। কেরুজ হাই স্কুলের কোচিংয়ের অর্থ আদায়কারি রুটো ব্যাবহারকারি শিক্ষক নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী তুলেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এটুআই ICT4E জেলা এম্বাসেডর নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বরুপ দাস ২০১৮ সালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এটুআই ICT4E জেলা এম্বাসেডর হিসাবে নিয়োগ পেয়েছে। শিক্ষায় আইসিটি উদ্যোগগুলোকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় ‘আইসিটি ফর এডুকেশন’ এম্বাসেডর নির্বাচন করা হয়েছে। উল্লেখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একমাত্র প্রধান শিক্ষক স্বরুপ দাসকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা এম্বাসেডর হিসাবে সিলেকশন করেছে।
এটুআই এর কারিগরি সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় সারাদেশে প্রায় ২৩ হাজার ৩শ ৩০-টিরও বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং ৮হাজার৯শ২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। সকল শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে অনলাইন প্লাটফর্ম ‘শিক্ষক বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে ২,৭০,০০০-এর অধিক শিক্ষক তাদের মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট আপলোড এবং ডাউনলোড করার পাশাপাশি বন্টন ও কমেন্টের মাধ্যমে তাদের চিন্তাভাবনা ও মতামত বিনিময় করছেন। শিক্ষায় আইসিটি উদ্যোগগুলোকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় ‘আইসিটি ফর এডুকেশন’ এম্বাসেডর নির্বাচন করা হয়েছে। ‘শিখুন- যখন যেখানে ইচ্ছে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারদের নিয়ে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বড় ই-লার্নিং প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এটুআই প্রোগ্রাম। এরই ধারাবাহিকতায় দর্শনায় গণিত বিষয়ে প্রশিক্ষক এবং আইসিটিতে অত্যন্ত দক্ষ স্বরুপ দাসকে জেলা এম্বাসেডর হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সচিব হলেন ৩ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ ফেব্রুয়ারী :প্রশাসনে তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। পদোন্নতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে তারা অতিরিক্ত সচিব, ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পদোন্নতির পর সচিবদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এরপর অপর আদেশে তাদের আগের স্থানেই সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যাদায়) মো. আব্দুল হান্নান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নমিতা হালদার।

সচিব হচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। বর্তমানে প্রশাসনে সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিব রয়েছেন ৭৭ জন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেফতার ৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষক ও একজন এ্যাডমিনসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা অবলীলায় স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে র‌্যাবের হাতেই গ্রেফতার হলেন ২৮ জন। সারাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অকাট্য প্রমাণাদি ও সাজ সরঞ্জাম। গ্রেফতারকৃতরা চার বছর ধরে একটানা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়, সবই হতো প্রযুক্তির মাধ্যমে। গ্রেফতারকৃতরা অনলাইনে নানা ছদ্মনামে গ্রুপ খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন। এতে স্বাভাবিক কারণেই গ্রুপগুলো মানুষের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গ্রেফতারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নানা তথ্য।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে বলে সোমবার আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। ওইদিন থেকে শুরু করে শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট এগারোটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিষয়েরই বহুনির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হোয়াটস এ্যাপ, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমো, ফাইবার, ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের নামে ফাঁস হয়। এমন ঘটনায় সারাদেশের প্রতিটি জায়গায়ই একই আলোচনা হচ্ছে। তা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। দেশে বিদেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রযুক্তির সুবিধা অসুবিধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র ও এর ফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষের নীতি নৈতিক নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ পড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রকৃত রহস্য জানতে চায় হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে তদন্ত করতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিচার বিভাগীয় ও একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। আর বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সাত দিনের মধ্যে কমিটি কাজ শুরু করবে। আর ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

এর ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে সারাদেশে রীতিমত অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোর চারটার দিকে র‌্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানী ঢাকার উত্তরখানের কাচকুড়া ও গাজীপুরের বোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেফতার হয় চার শিক্ষকসহ একাধিক গ্রুপ তৈরি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের এক গডফাদার।

সোমবার বিকেলে কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই (২৯), সজীব মিয়া (২৬), মোঃ এনামুল হক (২৭), মোঃ ইব্রাহিম (২১) ও তানভীর হোসেন (২৯)। তানভীর হোসেন উত্তরখানের ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দ্রুত সমাধান করে দিতেন। গ্রেফতারকৃত অপর চারজনের মধ্যে সজীব মিয়া ক্যামব্রিজ হাইস্কুলের এ্যাকাউন্টিং বিষয়ের শিক্ষক, মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ এনামুল হক সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।

র‌্যাবে কর্মরত এই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা জানান, হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার ফেসবুক আইডির নাম রকি ভাই। প্রশ্নপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সে ফেসবুক গ্রুপের এ্যাডমিন। গত চার বছর ধরে রকি ভাই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। রকি ভাই পরীক্ষার শুরুর ২ মাস আগে থেকেই ফেসবুক, হোয়াটস এ্যাপ, ইমোতে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার নম্বর আইডি দিয়ে প্রচারণা চালাতো। প্রচারণায় লেখা থাকতো, যারা প্রশ্ন পেতে চায় তাদের দুই হাজার টাকার বিনিময়ে তার গ্রুপের সদস্য হতে হবে। পরীক্ষার দিন ভোরে রকি ভাই প্রশ্ন ফাঁস করতো। এরপর তা গ্রেফতার হওয়া শিক্ষকদের দিয়ে সমাধান করাতো। সেই সমাধান পাঠানো হতো গ্রুপে যুক্ত থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছে।

রকি ভাই ঘন ঘন গ্রুপের নাম পরিবর্তন করত। এমন সব নাম রাখত যা মানুষের মধ্যে কোন সন্দেহের সৃষ্টি করতে না পারে। এজন্য সে ব্লাড ডোনেশন-১, ২ ও ৩ নামে তিনটি গ্রুপ খুলেছিল। এতে করে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ট্যাবের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ভেতরে এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার সকল বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা।

প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য পৃথক পৃথক গ্রুপ খুলত। এবারের এসএসসি পরীক্ষার মজা নামে গণিতের প্রশ্নপত্র, আড্ডা নামে ইংরেজী দ্বিতীয়পত্র এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র ব্লাড ডোনেশন-১, ২ ও ৩ নামে গ্রুপ খুলে ফাঁস করেছিল। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে গ্রুপের নাম পরিবর্তন করে দিত। গ্রুপ থেকে মেম্বারদের পরিবর্তন করে ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা প্রাপ্তিসাপেক্ষে নতুন গ্রুপে মেম্বার করত। এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র গ্রেফতারকৃতরা দুই ঘণ্টা আগেই ছাত্রদের হাতে প্রশ্নের সমাধান করে দিয়ে দিয়েছে। সে হিসেব মনে অন্তত আড়াই ঘণ্টা আগে এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে সক্ষম হয়েছিল গ্রেফতারকৃতরা। এর নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক এমরানুল হাসানসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আরও জানান, এবার এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, ছাত্রসহ নানা শ্রেণী পেশার অন্তত ২৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। এর মধ্যে খুুলনা মহানগর থেকে ৯ জন, নাটোর থেকে ১০ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৩ জন, কুষ্টিয়া থেকে ১ জন ও বগুড়া থেকে একজনসহ মোট ২৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। সারাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতারে র‌্যাব প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনাই এসেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষাসচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন বলেন, এমসিকিউ পদ্ধতি চলমান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে সরকার ভাবছে। আগামী বছর থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি এমসিকিউ পদ্ধতির কথা বলেন। প্রয়োজনে শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি।

আক্কেলপুরে গ্রেফতার ১ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র বিক্রির সময় বিপুল হোসেন নামে এক ছাত্রকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটে। সোমবার এসএসসির জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিক্রির সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে জামালগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা পূর্বে ওই কেন্দ্রের সামনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র বিক্রি করার সময় তাকে আটক করা হয়। সে উপজেলার পূর্ব মাতাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার আটক করা মোবাইলের ম্যাসেঞ্জার থেকে সরবরাহ প্রশ্নপত্রের সঙ্গে জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

কেন্দ্র সচিব বহিষ্কার ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নাজিরপুরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সেট পরিবর্তনের অভিযোগে কেন্দ্র সচিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলার সিরাজুল হক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহিদুল ইসলাম জানান, ওই দিন ওই কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ের ২৬৮ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের কারণে ওই দিনের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ‘ক’ সেটের পরিবর্তে ‘খ’ সেটের প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরীক্ষা শুরুর ২১ মিনিট পর কর্তৃপক্ষের চোখে ধরা পড়ে এবং ওই সেট দিয়েই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে পরীক্ষা শেষে ওই কেন্দ্রে গেলে কেন্দ্র সচিব উপজেলার সিরাজুল হক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাধব চন্দ্র দাস ও সহকারী কেন্দ্র সচিব উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউজেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ ম-লকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা জানান, এ অভিযোগে ওই কেন্দ্রের সচীব মাধব চন্দ্র দাসকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৬ ফেব্রুয়ারী : এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক এমপিও দালালদের একাধিক চক্র গড়ে উঠছিল। এই চক্রকে ঘুষ না দিলে এমপিওভুক্ত হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। এইসব চক্র তছনছ করে এমপিওভুক্তিতে ঘুষ দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে এমপিওভুক্তি বিকেন্দ্রীকরণ ও অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ শুরু করে সরকার। কিন্তু সুফল মেলেনি। ঘুষের হার ও স্তর বেড়েছে।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুটি প্রতিবেদনে এমপিওভুক্তিতে কীভাবে দুর্নীতি হয়, কারা জড়িত, কারা ঘুষ দেয়, কারা ঘুষ দিয়েও স্বীকার করে না এসব তথ্য উঠে আসে। ঘুষ-দুর্নীতিরোধে কিছু মন্তব্য ও সুপারিশ করা হয়েছে সংস্থাটির প্রতিবেদন দুটিতে।

শুরুতেই ময়মনসিংহের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক আব্দুল খালেক;

টাঙ্গাইলের জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম ও একই অফিসের অফিস সহকারি আবদুল আজিজের কাহিনী।

কাগজ-পত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও হয়রানীর উদ্দেশ্যে বারবার বিভিন্ন অজুহাতে ভুল ধরার চেষ্টা করা। জেলা শিক্ষা অফিস ও উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে ধাপে ধাপে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেও এমপিওভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চিতেশ্বরী এলাকার বংশাই স্কুল এন্ড কলেজের গণিত শিক্ষক সোহেল রানা গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সংসদ সদস্যের সই জাল-১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন

গাজীপুর প্রতিনিধি,১৬ ফ্রেবুয়ারী : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে সংসদ সদস্যের সই জাল করা চাহিদাপত্রে (ডিও লেটার)। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা ডাকবাংলোতে দলের নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানান সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি নিজেই।

সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন আরো জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠির (স্মারক নম্বর ৩২২) মাধ্যমে তাঁকে বরাদ্দ অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। চিঠির মাধ্যমে জানতে পারেন যে ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনিসহ ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর করা একটি আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই আবেদনপত্রে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় বলে নেতাকর্মীদের জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, এটা জালিয়াতি। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্যের ওই অভিযোগকালে নেতাকর্মী ছাড়াও সেখানে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগে ১২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ২৭ পরীক্ষার্থীকে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৯ জনকে চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে এবং তিনজনকে ফটিকছড়ি উপজেলা হেঁয়াকো বনানী স্কুল কেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের ঘণ্টাখানেক আগে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ৫০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র মুঠোফোনে দেখছিল। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী বাসটিতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখতে পান। পরে ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের আটক করার আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই নগরীর বাওয়া স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় একই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায়ে ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বনানী স্কুল কেন্দ্র থেকেও গ্রেপ্তার করা হয় তিন শিক্ষার্থীকে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জাতীয়করনকৃত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল নিয়ে অনুসন্ধান

ডেস্ক,১৪ ফেব্রয়ারী ২০১৮: প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণে প্রধান শিক্ষক পদে দূর্ণিতী ব্যাপক অভিযোগ পর এবার টাইমস্কেল নিয়ে ব্যপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাবার্তার একটি অনুসন্ধানি টিম কিভাবে প্রধান শিক্ষক পদ পেল এবং কিভাবে দুই পদ মিলে টাইমস্কেল পেল তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সিদ্দান্ত নিয়েছে।  যেসব উপজেলায় এরকম ঘটনা ঘটেছে তারা যোগাযোগ করুন।

যাদের কাছে এ বিয়য়ে কোন তথ্য আছে তারা ‍ shikkhabarta@gmail.com এ তথ্য দেবার জন্য অনুরোধ রইল।

সরাসরি আমাদের কাছে জানাতে পারেন

সম্পাদক

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মোবাইলে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র, ৭ পরীক্ষার্থী আটক

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর:  দিনাজপুরের তিন উপজেলায় মোবাইলে প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র রাখার অভিযোগে সাত এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ের পরীক্ষা শুরুর আগে বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ উপজেলা থেকে মোবাইলসহ তাদেরকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে বিরলের ধুকুরঝাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মূল গেটের বাইরে উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউপির ফরক্কাবাদ এন আই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ও মাঝাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে নুর ইসলাম নয়ন (রোল নং ২৫০৭০৩), মোহনা মঙ্গলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ও মঙ্গলপুর ইউপির ধনগ্রামের শাহীনুর ইসলামের ছেলে মাহফুজ আলম (রোল নং ২৫০৭৯২) ও মোহনপুর গ্রামের আনছারুল আজিমের ছেলে রিয়াদ উল ইসলাম (রোল নং ২৫০৮০০) মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ বি এম রওশন কবীর তাদেরকে মোবাইল ফোনসহ হাতেনাতে আটক করেন।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সরবরাহের ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুকুরঝাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব বিমল চন্দ্র সরকার বলেন, পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টা খানেক আগে তারা স্কুলের সামনে ধুকুরঝাড়ী বাজারের মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র দেখার সময় ম্যাজিস্ট্রেট ওই তিন ছাত্রকে আটক করেন। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে না থাকায় আমি অনুপস্থিত দেখাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৈয়ব আলী জানান, তিনি বাদী হয়ে আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখার সময় বোচাগঞ্জ উপজেলার আনোয়ারা ধদইর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ওমর ফারুককে (রোল নং- ২২১৭৪৯) উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম সারাওয়ার মোর্শেদ মোবাইলসহ ধরে কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরীক্ষা শুরু হলে প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বোচাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়াও বিরামপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের জের ধরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় বিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান গেটের ফটক থেকে বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী কলেজ বাজার এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে নাজমুল সাকিব (১৭), শৌলাহার গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে শামীম আহমেদ সবুজ (১৬), মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উড়ুম্বা গ্রামের প্রেমদাস চন্দ্রের ছেলে বিজয় চন্দ্রকে (১৬) মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সার্চ করে দেখার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে হাতেনাতে আটক করে।

কেন্দ্র সচিব রইচ উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, ২শ গজের মধ্যে আজকের পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনে নেটের মাধ্যমে সার্চ করে দেখার অপরাধে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি স্ক্রিনটাচ মোবাইল ফোন জব্দ করে থানায় জমা দেয়া হয়েছে

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter