Home » টপ খবর » প্রাথমি‌কের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

প্রাথমি‌কের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাচ্ছে।

৮০% জোষ্ঠতা ও ২০% সরাসরি নিয়োগেরে মাধ্যেমে
নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারো প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি পদোন্নতি দেয়ার কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে করে প্রধান শিক্ষকদের পরবর্তী পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে উপজেলা/থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির পাওয়ার বদ্ধ দ্বার খোলার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এর আগে ১৯৯৪ সালে পদোন্নতির এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ থেকে পদোন্নতি দেয়া হলেও বাকি ২০ শতাংশ বাইরে থেকে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়ার খসড়া করা হয়েছে। এ জন্য দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি পদোন্নতি দেয়ার উদ্যোগ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও ১৯৯৪ সালে পদোন্নতির এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। কেন বন্ধ করা হয়, তার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সেটি আবার চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত চাকরিবিধিমালা তৈরির মাধ্যমে আবারও সেটি চালু করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের ৮০ শতাংশ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ সরাসরি প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিতে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক উন্নয়ন সচিব কমিটিতে এটি যাবে। সেখানে খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

খসড়া নীতিমালায় সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। এ প্রসঙ্গে আকরাম আল হোসেন বলেন, কেউ কোনো ব্লক পোস্টে আটকে থাকুক, সেটি চাই না। এতে কোনো প্রণোদনা থাকে না। শিক্ষকরাও ধাপে ধাপে উপরের পদে পদোন্নতি পাবেন। এজন্য পদোন্নতির সোপান তৈরি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে দুটি শর্ত পূরণ করে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দিতে পারেন। শর্ত দুটি হলো- শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এভাবে অতীতে অনেক শিক্ষকই সুযোগ পেয়েছেন কর্মকর্তা হওয়ার। ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক, পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ ছিল। ১৯৯৪ সালে নিয়োগবিধি সংশোধনের পর শিক্ষকদের এভাবে কর্মকর্তা হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘সমন্বিত নিয়োগবিধিমালা-২০২০’। বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন
এতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে শুধু প্রধান শিক্ষকদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়েছে। এতদিন প্রধান শিক্ষকরা ব্লক পোষ্টে চাকুরি করত।

তিনি আরো বলেন, ‘ শুধু সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি চালু ছিল। এবার প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদোন্নতি চালু হলে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন সাধিত হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বয়সের বাধা সেখানে না থাকে। প্রধান শিক্ষক হিসাবে যেন ৫৮ বছর বয়সেও পদোন্নতি দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সব পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলে আমাদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা কেটে যাবে। সকলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, ‘আগে প্রধান শিক্ষকদের সব পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়োগবিধি সংশোধন করায় সেই পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে একই পদে থেকে চাকরিজীবন শেষ করতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য ৪৫ বছর জুড়ে দেয়ায় থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ার পর তাদের অবসরে চলে যেতে হবে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

এদিকে খসড়া নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দুই হাজার ৫৮৯টি পদে নিয়োগে ৮০ শতাংশ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ২০ শতাংশ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বোঝাবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম তিন বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। সরাসরি নিয়োগে বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinby feather
Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather
Advertisements

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

ডেস্ক,৯ অক্টোবর: করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া গুচ্ছ না কেন্দ্রীয় ...

স্কুলেও পরীক্ষা ছাড়া ‘প্রমোশনের’ চিন্তা, আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত

ডেস্ক,৯ অক্টোবর: চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে এইচএসসি সহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসএসি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার স্কুলেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই ‘অন্য কোনো উপায়ে’ ...

shikkha_barta

অস্বাভাবিক ‘সুবিধায়’ শিক্ষকদের পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৪ অক্টোবর ২০২০, এক বছরের মধ্যে কোনো জার্নালে সাতটি প্রকাশনা থাকলেই প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ। সহযোগী অধ্যাপক হতেও রেয়াত সুবিধা। এক বছরের মধ্যে কোনো জার্নালে সাতটি ...

মাধ্যমিক

একাদশে অনলাইন ক্লাস শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৪ অক্টোবর ২০২০, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস আজ রোববার অনলাইনে শুরু হচ্ছে। কোভিড-১৯-এর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সকালে ঢাকা কলেজে শিক্ষামন্ত্রী ...

hit counter