প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ

এস এম সাইদুল্লাহ: প্রধান শিক্ষক ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ এখনও কাটেনি! এর আগে প্রধান শিক্ষক পদের মতো বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের আর কোনো পদ নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র হয়নি!! সত্যি সেলুকাস!!!প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শীঘ্রই ৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এ বিষয়ে সমসাময়িক আলামত এই খবরের পক্ষে যায় না, সাংঘর্ষিক।

কারণ, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে আলোচনার অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’ এ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা/থানা কোটা বহাল রাখার প্রস্তাব আছে। তা ছাড়া বেতন স্কেলের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। যা ননক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বিশেষ বিধান করে পুরোনো তৃতীয় শ্রেণি (ননগেজেটেড) থাকাকালীন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩’ই বহাল রেখে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ (৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ) , পদোন্নতি চালু রেখে প্রধান শিক্ষকদেরকে পঙ্গু করে রাখার পায়ঁতারা চালাচ্ছে।

অযুহাত দেখানো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা আপাতত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত না হওয়া।

অন্যদিকে, দাতাগোষ্ঠীর চাপে প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো (organogram) ও নিয়োগবিধি’তে প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৬ষ্ঠ গ্রেড) অধীনে না রেখে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৯ম গ্রেড) অধীনে একধাপ নিচে (১০ম গ্রেড) রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মতোই দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এতে আমাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে।

তা ছাড়া দিনে দিনে নানাভাবে নতুন নতুন অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিপত্র/নির্দেশনা জারি করে প্রধান শিক্ষক পদের প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ সকল আলামত প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাই প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ।

পুনশ্চ: প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’কে দাতাগোষ্ঠী প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি’র সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। এটিও বাস্তবায়ন অনেক দূরের স্বপ্ন।

এস এম সাইদুল্লাহ

সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক

কেন্দ্রিয় কমিটি

বাসপ্রাবিপ্রশিস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*