ব্যক্তির নামে কলেজের নামকরণ: পাঁচ বেসরকারি কলেজকে ব্যাখ্যা চেয়েছে মাউশি

Image

রাজধানীসহ দেশের পাঁচটি বেসরকারি কলেজের নাম ব্যক্তিবিশেষের নামে কেন রাখা হয়েছে— সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মাউশির মানবসম্পদ (এইচআরএম) বিভাগ থেকে গত ৫ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার নামে রাখা হয়েছে। তাই যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম স্থানের বদলে ব্যক্তির নামে রাখা হয়ে থাকে, তবে এর যৌক্তিক কারণ ও প্রেক্ষাপট লিখিতভাবে জানাতে হবে।

মাউশির মানবসম্পদ ইউনিটের পরিচালক প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান বলেন,

“শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি নামে পরিবর্তে স্থানের নামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

এক কলেজ অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,

“ইতোমধ্যেই আমরা মাউশির চিঠি পেয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রতি সম্মান রেখে যথাযথ ব্যাখ্যা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান আরও বলেন,

“প্রতিষ্ঠানের নাম যেন শিক্ষা নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়— সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।”

ব্যাখ্যা চাওয়া পাঁচ কলেজ হলো—
১. রাজধানীর লালবাগের হাজী সেলিম ডিগ্রি কলেজ
২. রাজধানীর পল্লবীর শেখ ফজিলাতুন্নেসা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ
৩. বরিশালের বাইশালের শহীদ সুকান্ত বাবু কলেজ
৪. ভোলার দৌলতখানের আলী আশ্রাফ মহাবিদ্যালয়
৫. ভোলার চরফ্যাশনের বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা জীবিত ব্যক্তির নামে রাখলে তা অনুমোদনের আগে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজনীয় যুক্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছাড়া এমন নাম অনুমোদন পাবে না।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম যদি স্থান, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা এলাকার বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত করে, তবে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সংযোগ ও স্থানীয় গর্ববোধ তৈরি করে। অন্যদিকে ব্যক্তিনির্ভর নামকরণ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্ক বা স্বার্থসংঘাতের কারণ হতে পারে।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।