টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় বেতন ও ভাতাদি আদেশ জারি করা এখন সরকারের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম পে স্কেল থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর অন্তর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো জারি হয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নবম জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
🔸 নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের শুরুতেই (জানুয়ারি–মার্চ) কার্যকর হতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও জানিয়েছে, তারা পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের জন্য অপেক্ষা না করে তাদের মেয়াদকালেই নতুন বেতন কাঠামো গেজেট আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে, যা ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বাজেট প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
🔸 জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫: অগ্রগতি
সরকার ২৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে “জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫” গঠন করেছে। কমিশনকে সাধারণত ছয় মাসের মধ্যে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে) সুপারিশ জমা দিতে বলা হলেও, কমিশনের চেয়ারম্যান ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
পে কমিশন একটি অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করছে।
🔸 বেতন কাঠামো নির্ধারণে প্রধান বিবেচনা
সরকার মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা মাথায় রেখে একটি ন্যায়সংগত ও কার্যকর বেতন কাঠামো প্রণয়নের দিকে কাজ করছে।
তবে বেতনভাতা এখনো দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। ফলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ৫০% মহার্ঘ ভাতার দাবি জোরালো হয়েছে। যদি এ ভাতা ঘোষণা না হয়, তাহলে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🔸 বৈষম্য দূরীকরণে দাবিগুলো
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নবম জাতীয় পে স্কেলের পাশাপাশি নিম্নোক্ত দাবিগুলো উপস্থাপন করেছেন—
-
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল
-
সচিবালয় কর্মচারীদের মতো টিপটপ ভাতা প্রবর্তন
-
১০০% পেনশন পুনর্বহাল ও গ্র্যাচুইটির হার ১:৫০০ নির্ধারণ
-
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো
এই দাবিগুলো নিষ্পত্তির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।










