ডেঙ্গুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রীর মৃত্যু, মারা গেছে গর্ভের সন্তানও

Image

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর জাহান। মৃত্যুর সময় তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানও মারা গেছে।

নূর জাহান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ মৌছাগাছা এলাকায়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন নূর জাহান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার প্লাটিলেটের মাত্রা ছিল ৪৬ হাজার। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তখন জানিয়েছিলেন, গর্ভের সন্তানের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক ছিল এবং নড়াচড়াও ভালো ছিল।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর জাহানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

গর্ভের সন্তানও মারা যায়

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনসুর হেল্লাল পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, একপর্যায়ে নূর জাহানের গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে যায়। পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে সন্তান প্রসবের জন্য নরমাল ডেলিভারি অথবা সিজারিয়ান করার কথা ছিল। তবে তার আগেই ভোর ৫টার দিকে নূর জাহানের মৃত্যু হয়।

সহপাঠীদের মধ্যে শোক

নূর জাহানের মৃত্যুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিন সুলতানা বলেন, অল্প বয়সে নূর জাহানের মৃত্যুর খবর শুনে তারা মর্মাহত। তার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন বলেও জানান তিনি।

বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, নূর জাহান অত্যন্ত ভদ্র ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশগ্রহণ করতেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষকরা গভীরভাবে ব্যথিত।

নূর জাহানের মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।