প্রজ্ঞাপন ছাড়া মাঠ ছাড়বেন না আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকরা

Image

ঢাকা, ১০ নভেম্বর: দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন—প্রজ্ঞাপন ছাড়া মাঠ ছাড়বেন না। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষকরা এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

আরো পড়ুন: শিক্ষক ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার

তারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষক নেতা, বিশেষ করে শামসুদ্দিন মাসুদ ও খায়রুন নাহার লিপি, আন্দোলনের স্বার্থের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বা ‘ম্যানেজ’ হয়ে গেছেন।

দৈনিক শিক্ষাবার্তা ডটকমকে দেওয়া একাধিক বক্তব্যে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, দশম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন হাতে না আসা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কোনো ঘোষণা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

রাত ৯টার পর থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজার হাজার শিক্ষক “ভুয়া, ভুয়া” স্লোগান দিয়ে নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, “সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তা নয়—সরকারি প্রজ্ঞাপনই হবে আমাদের আন্দোলন স্থগিতের একমাত্র শর্ত।”

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষক নেতাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—“শিক্ষকদের দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনার পর অর্থ বিভাগ ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাবটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এ পাঠিয়েছে, যা কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে।”এতে আরও বলা হয়,“১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসনে প্রস্তাব পাঠালে অর্থ বিভাগ তা পর্যালোচনা করবে। আর শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞপ্তির পরপরই আন্দোলনরত শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।তারা দাবি করেন, কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়া আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।রাত ৯টার দিকে শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া শিক্ষকরা “দশম গ্রেড না দিলে মাঠ ছাড়ব না” বলে স্লোগান দিতে থাকেন।এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান,“প্রজ্ঞাপন হাতে পাওয়া ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি:

১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান
৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি

Image Not Found

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।