স্বাস্থ্য ডেস্ক | ২৩ অক্টোবর ২০২৫
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ওজন বেড়ে যাওয়া। অনেকেই মুখরোচক খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ খাদ্যতালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান খাবার ভাত—যাতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। এ কারণেই অনেকেই মনে করেন, “ভাত খেলে ওজন বাড়ে।” কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি পুরোপুরি সঠিক নয়।
ভাতে পুষ্টিগুণও আছে
ভাতে শুধু কার্বোহাইড্রেট নয়, রয়েছে ভিটামিন বি, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম, যা শরীরের শক্তি ও বিপাক ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হঠাৎ করে ভাত খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার–এর পুষ্টিবিদ লিনা আকতার বলেন,
“ভাত খাওয়া ওজন বাড়ায় না, বরং আপনি কীভাবে রান্না করছেন এবং কীসের সঙ্গে খাচ্ছেন, সেটিই আসল বিষয়।”
ভাত রান্নার সঠিক পদ্ধতি
-
চাল আধঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি দিয়ে রান্না করলে অতিরিক্ত স্টার্চ বেরিয়ে যায়, ফলে কার্বোহাইড্রেট কমে।
-
মাড় ফেলে দেওয়া ভাত ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
-
প্রেশার কুকারে মাড়সহ রান্না করা ভাত ওজন কমাতে সহায়ক নয়।
ভাত খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ভাতের সঙ্গে শুধু মাছ বা মাংস খেলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বাড়ে।
এর পরিবর্তে ডাল, শাকসবজি, সালাদ, মাছ ও মাংস একসঙ্গে খেলে শরীরে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লিনা আকতার বলেন,
“ভাতের সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে তা শরীরে ধীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না।”
দিনে ভাত, রাতে কম
দিনের তুলনায় রাতে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দিনে শরীরের নড়াচড়া বেশি হওয়ায় ক্যালরি সহজে বার্ন হয়, কিন্তু রাতে কম কাজের কারণে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে যায়।
দুপুরে ভাত খাওয়ার পর ঘুমানোও ওজন বাড়ায়।
কতটা ভাত খাওয়া উচিত
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে ৩০ গ্রাম চালের ভাত (এক কাপ রান্না করা ভাত) যথেষ্ট। এতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ কিলোক্যালরি থাকে।
চালের ধরনেও পার্থক্য আছে:
-
কালো চাল: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।
-
বাদামি চাল: ফাইবার বেশি, হজমে সহায়ক।
-
সাদা চাল: তুলনামূলক বেশি স্টার্চযুক্ত, তবে মাড় ফেলে রান্না করলে ভারসাম্য থাকে।















