ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
নতুন করে দেড় হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে তালিকা প্রণয়ন হলেও এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর।
এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক একটি পুরনো ‘এমপিওচক্র’ নির্বাচনের আগেই এমপিওভুক্ত করা হবে—এমন গুজব ছড়িয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের ফাঁদ তৈরি করছে বলে দৈনিক আমাদের বার্তা–র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
বাজেটে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এমপিওভুক্তির জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে—
২৫০ কোটি টাকা স্কুল ও কলেজের জন্য
৫০ কোটি টাকা মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য
সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির যোগ্য হলেও, প্রথম ধাপে বরাদ্দ অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে।
ধাপে ধাপে যাচাই ও অনুমোদন
এমপিওভুক্তির জন্য বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–সহ একাধিক আইটি বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি চূড়ান্ত কমিটি অনুমোদন দেবে।
এরপর বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়–এর সম্মতির জন্য পাঠানো হবে এবং সবশেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়–এ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
নতুন এমপিও নীতিমালা ২০২৫
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৭ ডিসেম্বর বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা–২০২৫’ প্রকাশ করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতাতেই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।
১৪–২৫ জানুয়ারি অনলাইনে আবেদন
আগামী ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘Online MPO Application’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
এবার পুরো এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াটি হবে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। আবেদন যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। সফটওয়্যারটি—
শিক্ষার্থী সংখ্যা
শিক্ষক সংখ্যা
পরীক্ষার পাসের হার
অবকাঠামোগত সক্ষমতা
এই সূচকগুলোর ভিত্তিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে স্কোর দেবে। সেই স্কোর অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে অনিয়ম ও দালালচক্রের সুযোগ কমবে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
















