রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)–এ ছাত্রীদের নিয়ে বিভাগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে যৌন হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গোপনে ছবি ধারণের অভিযোগের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরও আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সুমন মজুমদার (ছাত্র আইডি: ২৪০৩১২৯)।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬ নম্বর ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সুমন মজুমদারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া হয়রানিতে সহযোগিতার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং উস্কানিদাতা পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনকে আজীবনের জন্য হল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট প্রদান না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থী হয়রানির কোনো স্থান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্বের প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তদন্তের ফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা বিভাগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে নারী সহপাঠীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট এবং গোপনে ছবি ধারণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে নজরদারি জোরদার করা হবে।
















