ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
পবিত্র রমজান মাসে খতমে তারাবিহ আদায়ের ক্ষেত্রে সারা দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এতে কর্মজীবী মুসল্লিদের জন্য কুরআন খতমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, রমজানে দেশের প্রায় সব মসজিদেই খতমে তারাবিহ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিভিন্ন মসজিদে পারা তিলাওয়াতের পরিমাণে ভিন্নতা থাকায় অনেক মুসল্লি নিয়মিত মসজিদ পরিবর্তন করলে পূর্ণ কুরআন খতমের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন। এই সমস্যা দূর করতেই একক জাতীয় পদ্ধতি অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
খতমে তারাবিহের প্রস্তাবিত পদ্ধতি (২০২৬)
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী—
-
রমজানের প্রথম ৬ দিন: প্রতিদিন দেড় পারা করে মোট ৯ পারা
-
পরবর্তী ২১ দিন: প্রতিদিন ১ পারা করে মোট ২১ পারা
এই হিসাবে ২৭ রমজান রাতে (পবিত্র শবে কদর) সম্পূর্ণ কুরআন খতম করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সারা দেশের সব মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
তারাবির নামাজের ফজিলত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলছে, তারাবির নামাজ রমজানের একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। নিয়মিত তারাবির নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং অসংখ্য সওয়াব লাভ হয়।
প্রতি ৪ রাকাত পর পর বিশ্রামের সময়—
-
তাসবিহ
-
তাহলিল
-
দরুদ
-
জিকির–আজকার
পড়া উত্তম। তারাবির নামাজ শেষে বিতর নামাজ আদায় করা সুন্নত।
তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম (২০২৬)
-
তারাবির নামাজ মোট ২০ রাকাত,
-
প্রতি ২ রাকাত পর পর সালাম ফিরিয়ে আদায় করতে হয়,
-
৪ রাকাত পরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়।
এশার ৪ রাকাত ফরজ ও ২ রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতরের আগে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়।
নিয়ত (সংক্ষেপে):
বাংলায়:
“আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবির সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।”
(জামাতে হলে: এই ইমামের পেছনে পড়ছি—যোগ করতে হবে)
জামাতে তারাবির গুরুত্ব
ফরজ ছাড়া অন্যান্য নামাজ একাকী পড়া উত্তম হলেও তারাবির নামাজ ব্যতিক্রম।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে জামাতে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং জামাতে আদায়ের প্রতি বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তাই একাকী পড়ার চেয়ে জামাতে তারাবি পড়া অধিক উত্তম।
খতমে তারাবিহ কী
রমজান মাসে তারাবির নামাজে সম্পূর্ণ কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করাকে খতমে তারাবিহ বলা হয়। এতে নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত—উভয়ের সওয়াব একসঙ্গে অর্জিত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আশা করছে, প্রস্তাবিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে সারা দেশে একই দিনে কুরআন খতম সম্ভব হবে এবং মুসল্লিদের মধ্যে মানসিক প্রশান্তি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।
















