ডেস্ক রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তমে অনুষ্ঠিত এক বিশাল আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭০টি দেশের নৌবাহিনী অংশ নিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জমকালো কুচকাওয়াজ ও মহড়ার মাধ্যমে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। খবর প্রকাশ করেছে পিটিআই।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ
এই আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী অংশ নিয়েছে তাদের সুসজ্জিত ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’ নিয়ে। গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধজাহাজটি বিশাখাপত্তম বন্দরে পৌঁছে মহড়ার প্রস্তুতিতে যোগ দেয়।
৭০ দেশের শক্তিশালী উপস্থিতি
বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশ এই মহড়ায় অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া।
বিশেষভাবে আলোচনায় আসে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘কেআরআই বুং তোমো-৩৫৭’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধজাহাজ ‘আল ইমারাত’। স্বাগতিক দেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয় ভারতের শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘আইএনএস বিক্রান্ত’।
‘সামুদ্রিক ঐক্য’ প্রতিপাদ্যে মহড়া
মহড়া চলাকালীন বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন,“এই নৌ মহড়া সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি বিভিন্ন দেশের আস্থা, ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনারা মূলত ঐক্যের চেতনাই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে। এবারের মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সামুদ্রিক ঐক্য’।
সমুদ্র নিরাপত্তায় ভারতের অবস্থান
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন,“সমুদ্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি ভারতের ‘বিশ্ব পরিবার’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই নীতির মাধ্যমেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও বৈশ্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া কেবল সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনই নয়, বরং দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত আস্থা ও সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।















