ডেস্ক রিপোর্ট | জয়পুরহাট
প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে বিতর্কিত শিক্ষক নেতা মু. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বিধি অনুযায়ী অন্য শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে তাকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মু. মাহবুবর রহমান জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মঙ্গলবার জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মাহবুবর রহমান ২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সহকারী শিক্ষক সংগঠনের ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনের পর ১০ নভেম্বর সচিবালয়ে অর্থ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
কিন্তু অভিযোগে বলা হয়, এর পরও মাহবুবর রহমান ও তার সংগঠনের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ভিডিও প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের আহ্বান জানাতে থাকেন। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করেন, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
আরো পড়ুন: প্রাথমিকে আসছে জিআরআর মডেল, বদলাচ্ছে পরীক্ষা ও মানবণ্টন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একাধিকবার আলোচনায় বসে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত না করার অনুরোধ জানালেও, তা উপেক্ষা করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।
আইন ভঙ্গের অভিযোগ
কর্তৃপক্ষ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক ভিডিও ও বিভাগবিরোধী কার্যক্রম ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা–২০১৯ (পরিমার্জিত)’ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা–২০১৮–এর পরিপন্থী। বিশেষ করে বিধিমালার ৩(খ) ধারা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) উপবিধি অনুযায়ী মাহবুবর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে—কেন তাকে বরখাস্ত বা অন্য শাস্তি দেওয়া হবে না, তা চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তাও লিখিত জবাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।











