Home » Tag Archives: প্রাথমিক (page 2)

Tag Archives: প্রাথমিক

প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে

ডেস্ক,১৪ অক্টোবরঃ
জেএসসি-জেডিসির পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষাও বাতিল হতে পারে। তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর স্তরভিত্তিক শিখন জ্ঞান যাচাই করে নেওয়া হবে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা। এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে এসব তথ্য জানা যায়। তারা বলছে, প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বছরে তিনটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে প্রথম সাময়িক, আগস্টে দ্বিতীয় সাময়িক, নভেম্বরে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা ও অন্য স্তরে বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এসব পরীক্ষার ওপর মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ ও রোল নম্বর নির্ধারণ করা হয়।

আরো পড়ুনঃ পিইসি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাসে পাঠদান শুরু হয়েছে। চলতি বছরের তিন মাস কেন্দ্র করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়ানো হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্লাস অনুযায়ী যতটুকু জ্ঞান অর্জন জরুরি তার ওপর ভিত্তি করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। সেটি পড়ানোর পর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মুনসুরুল আলম শিক্ষাবার্তাকে বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা দুটি সাময়িক পরীক্ষা নিতে পারিনি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাসভিত্তিক শিখন জ্ঞান অর্জনে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়ানো হবে। স্তর অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা শিখতে সক্ষম হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে আমরা ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেবো।

তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতিও আমাদের ছিল। সময় স্বল্প হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন ও ফলাফল প্রকাশ করা কঠিন হয়ে যাবে বলে এ পরীক্ষা বাতিলে প্রাধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী সেটিতে অনুমোদন দিলে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। অন্য স্তরেও বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে পরবর্তী ক্লাসে তোলা ও তাদের রোল নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করার বিষয়ে মাঠ কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের এখনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে এ নির্দেশনা পাঠানো হবে। পরীক্ষা আয়োজনসহ সবকিছু করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন শিক্ষাবার্তাকে বলেন, শুরু থেকে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে ছিলাম। কিন্তু অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা হিসেবে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। তিনি সম্মতি দিলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণির পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

করোনার কারণে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেড় বছর বন্ধ ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শেষ করা সম্ভব হয়নি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সিলেবাস। এ কারণে বাতিল হতে পারে পাবলিক পরীক্ষার আদলে হওয়া চলতি বছরের পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা। সাময়িক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেওয়ার চিন্তা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর বার্ষিক পরীক্ষা নেবো। সে পরীক্ষার ওপর মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে তোলা হবে।

জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজে পাঠদান শুরু হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন জ্ঞান অর্জনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তত্ত্বাবধানে তিন মাসের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করে তা পড়ানো হচ্ছে। অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ও দুদিন করে ক্লাস নেওয়া হলেও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস করানো হচ্ছে দুটি বিষয়ে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, চলতি বছরের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল করায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে আসায় পঞ্চম শ্রেণির পিইসি পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

পিইসি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে

ডেস্ক,১৪ অক্টোবরঃ
চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণির পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মতামত আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত আসলে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর সচল হয়েছে সরাসরি ক্লাস পাঠদান কার্যক্রম। তবে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয়নি। গত তিন মাস সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন তিনটি বিষয়ে ছয়দিন করে ক্লাস করছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিকে স্বাভাবিক রুটিনে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা

প্রতি বছরের নভেম্বরে পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হলেও এ বিষয়ে এ বছর আগে থেকে সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। তাই চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম বৃহস্পতিবার বলেন, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা হিসেবে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। তার জবাব আজ আসার কথা থাকলেও তা পৌঁছায়নি। আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেটি আসতে পারে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছিলেন, শুরু থেকে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে ছিলাম। কিন্তু অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা হিসেবে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। তিনি সম্মতি দিলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

প্রাথমিকে স্বাভাবিক রুটিনে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ অক্টোবর ২০২১:
প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এমনকি কলেজগুলোতে স্বাভাবিক রুটিনে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসূত্রে এমন তথ্যই জানা গেছে।

আরো খবরঃ শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খুব শিগগির স্কুল-কলেজের বিভিন্ন শ্রেণিতে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ার ঘোষণা আসতে পারে। তবে আগের নিয়মে ক্লাস হয়তো আগামী বছরের জানুয়ারী থেকে শুরু হবে।

জানা যায়, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুরু হয়েছে স্কুল-কলেজে সশরীরে আংশিক পাঠদান কার্যক্রম। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না। শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুল-কলেজগুলোতে ক্লাস কার্যক্রম স্বাভাবিক হোক। স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক পাঠদান শুরুর জন্য আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে অনুমতি পেলেই স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু কিছু শ্রেণিতে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ার ঘোষণা দেয়া হতে পারে।’

শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার পরই স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক পাঠদান শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আশা করছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনাপ্রতিরোধী টিকার আওতায় চলে আসবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। আশা করছি, আগামী জানুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে। এর অংশ হিসেবে মাউশি থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষা কার্যক্রমের একাডেমিক সুপারিভিশন শুরু করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নভেম্বর মাসে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সরকার আপাতত এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শেষ করার প্রতিই বেশি জোর দিচ্ছে।’

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ১৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫১টিতেই দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম চারজন শিক্ষক থাকার বিধান থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যালয়গুলোয় রয়েছে দুই-তিনজন। ফলে পাঠদানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিক শিক্ষকদের যে ১২টি কাজ অবশ্যই করতে হবে

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষক ৫১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

এ ছাড়া কর্মরত শিক্ষকগণ বার্ষিক নিয়মিত ছুটি, মাতৃকালীন ছুটি এবং পিটিআই ট্রেনিংসহ উপজেলার রিসোর্স সেন্টারে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে থাকছেন। দাফতরিক কাজে অনেক প্রধান শিক্ষককে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে অনেক বিদ্যালয়ে স্বল্প শিক্ষক দিয়ে করোনাকালীন কয়েকটি শিফটে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার ১৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩২ হাজার ২৭৬ ছাত্র-ছাত্রী। তার মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৩২৯ জন এবং ১৬ হাজার ৯৪৭ জন ছাত্রী।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সবে খুলেছে আর আমি সদ্য যোগদান করেছি। শিক্ষক স্বল্পতায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যেখানে বেশি শিক্ষক আছেন, সেখান থেকে ডেপুটেশন করে শিক্ষক স্বল্প প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে।

অনুপস্থিত শিক্ষার্থী খুঁজতে বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক।।

স্কুল খুলেছে, কিন্তু ক্লাসে ফেরেনি অনেক শিক্ষার্থীই। ফলে এ নিয়ে খোদ সরকারের মধ্যেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায়ে। আর এই হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশেও পৌঁছেছে।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাবেন না?

সংখ্যার দিক দিয়ে প্রাথমিকের ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষার্থী সাড়ে ৪৮ লাখ। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশাল অঙ্কের শিক্ষার্থীদের খুুঁজে বের করতে বা স্কুলে অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য জানাতে হবে। আর এই দায়িত্ব পালন করতে হবে স্বয়ং প্রাথমিকের শিক্ষকদেরই। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এ বিষয়ে একটি নির্দেশনাও জারি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বা ফোন করে বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ গোপালঞ্জের ২ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত

যদিও এর আগে প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের সব ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মনিটরিং করতে পৃথক পৃথক টিম গঠন করা হয়। এই টিম শুরু থেকেই একটি ছকের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি কত সেটা মনিটরিং করছে। সেখানে দেখা গেছে গ্রামের চেয়ে শহরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা বেশি। আর গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর কোনো খোঁজই নেই। তারা স্কুলেও আসছে না, কোনো যোগাযোগও করছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতেই গ্রামের শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।

আরো পড়ুনঃ Motion-Graphics শিখুন

সূত্র আরো জানায়, দেড় বছর পর স্কুল খুললেও প্রাথমিক পর্যায়েই ক্লাসে ফেরেনি সাড়ে ৪৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। ধারণা করা হচ্ছে, এসব শিক্ষার্থী হয়তো তাদের নিয়মিত ক্লাসে আর ফিরবেও না। অন্য দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। অনেক অভিভাবক এখনো করোনার ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। পরিস্থিতি আরো একটু স্বাভাবিক হলেই সব শিক্ষার্থীই ক্লাসে ফিরবে।

আগামী সপ্তাহ থেকে প্রাথমিকের নতুন রুটিন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২২ সেপ্টেম্বর:
আগামী সপ্তাহ থেকে প্রাথমিকের নতুন রুটিন অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস হবে দুই দিন করে। এসব শ্রেণিতে এখন সপ্তাহে এক দিন করে ক্লাস হচ্ছে।

আরো খবরঃ প্রাথমিক শিক্ষকরা গাফিলতি করল ব্যবস্থা-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশের একটি পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল বলেন, আদেশ দিয়ে বিষয়টি জানানো হবে।

এর আগে গত সোমবার থেকে মাধ্যমিকের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস এক দিন করে বাড়িয়ে সপ্তাহে দুই দিন করা হয়। তখন থেকেই প্রাথমিক স্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসও এক দিন করে বাড়ানোর চিন্তা করছিলো মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে এক দিন করে হয়ে এলেও এখন তা পর্যায়ক্রমে বাড়ছে।

মাধ্যমিকে যেদিন যেসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, সেদিন তাদের দুটি করে ক্লাস হচ্ছে। আর প্রাথমিকে হচ্ছে তিনটি করে ক্লাস। তবে শিশু শ্রেণি, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির মতো প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষের ক্লাস আপাতত বন্ধ রয়েছে।

Govt/Primary exclusive job course

প্রাথমিকের শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত, ১৪ দিনের জন্য পাঠদান বন্ধ

ডেস্ক,২১ সেপ্টেম্বর:
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজের পাঠদান শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

এরই মধ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত এই শিক্ষার্থী উপজেলার ৪নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ওই ছাত্রী আক্রান্ত হওয়ার পর স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

মঙ্গলবার বিদ্যালয়টিতে গিয়ে ওই ছাত্রী আক্রান্ত হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক আতঙ্কিত নয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না।

তিনি বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিন ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসেছিল। সেই দিন তার মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়নি। এর পর সে বাড়িতে বসে জ্বরে আক্রান্ত হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেওয়া হলে ১৭ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ওই ছাত্রীর মাও করোনায় আক্রান্ত। আমার ধারণা, সে পরিবার থেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের আরও তিন শিক্ষার্থী জ্বরে আক্রান্ত। তারা বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক অর্পিতা মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন আমরা শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করাই। করোনার বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে কোনো আতঙ্ক নেই। আমাদের বিদ্যালয়ের উপস্থিতির হার সন্তোষজনক।

বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ইতি মধু ও মেঘা দাস বলেন, অনেক দিন পর বিদ্যালয় খুলেছে। আমরা বিদ্যালয়ে আসতে পেরে আনন্দিত। প্রতিদিন আমরা মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষকরা আমাদের পাঠদান করান। করোনা নিয়ে আমাদের কোনো আতঙ্ক নেই।

অভিভাবক আসমা বেগম ও সাইদুর সিকদার বলেন, আমাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে কোনো প্রকার কুণ্ঠাবোধ করছি না। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই না বিদ্যালয় আর বন্ধ থাকুক।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুন কুমার ঢালী বলেন, তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আমরা ওই বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি। সার্বক্ষণিকভাবে আমরা ওই ছাত্রীর খোঁজখবর নিচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য বলেন, আক্রান্ত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। আমরা তাকে করোনার চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমানে সে হোম আইসোলেশনে আছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, উপজেলা প্রতিটি বিদ্যালয়েই স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিদিন পাঠদান চলছে। আমরা এসব বিদ্যালয় প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। প্রতিটি বিদ্যালয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে আমরা ওই শ্রেণি বা বিদ্যালয় বন্ধ করে দেব।

বিদ্যালয়ে আসার সময় আছে, যাওয়ার নেই

প্রধান প্রতিবেদক,১৫ সেপ্টেম্বর:
সরকার স্কুল-কলেজ খোলার পর সরকারি প্রাথমিকে চলছে শ্রেণি পাঠ। শ্রেণি পাঠ দিতে শিক্ষকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুসরণ করতে হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৬ নির্দেশনা। এমনকি এসব বিদ্যালয়ে দুই শিফট ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে তাদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের আসার সময় অধিদপ্তর থেকে বলা হলেও বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার কোন সময় নির্দেশনায় উল্লেখ নেই। শিক্ষকদের দাবি এর ফলে সব বিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা।

একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন তারা। কিন্তু তারা কখন বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরবেন এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। নারী শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে নির্দেশনা আছে বিদ্যালয়ে যখন-তখন পরিদর্শনে আসা হতে পারে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক সারাদিনই সব ক্লাস নেয়ার পরও আমাদেরকে বসিয়ে রাখছেন।

আরো পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষিকার ১০ কোটি টাকা আত্মসাত

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন এক শিফটে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কিছু বিদ্যালয় আছে যেখানে দুই শিফট ক্লাস চলছে। এক শিফট এর বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয় ৯.৩০ মিনিটে। আর শেষ হয় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে। দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে আর শেষ হয় ৩টা ৪৫ মিনিট। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের স্কুলে আসার সময় নির্ধারণ করা হয় সকাল ৯টায়। তবে যাওয়ার কোনো সময় নির্ধারণ করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। শিক্ষকরা বলছেন, এরপর আরও সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিদপ্তরের আদেশ অস্পটার কারণে কিছু শিক্ষক সুযোগ নিচ্ছেন, আবার অনেক শিক্ষক স্কুলেই বসে থাকেন। কারণ এখানে আসার সময় বলা আছে কিন্তু যাওয়ার সময় উল্লেখ করা নেই।

অধিদপ্তর সূত্র বলছে, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের উপস্থিতির তথ্যও পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অফিস আদেশে বিভাগীয় উপ-পরিচালকদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদেশে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী সরাসরি পাঠদানে উপস্থিত রয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্য সমন্বয় করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী পাঠাতেও বলা হয়েছে। এ নির্দেশের ফলে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষকদের কোন কারণ ছাড়াই বিদ্যালয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। অধিদপ্তর থেকে কোনো কাজ দেয়া হলে সেটিও মানা যেত। কিন্তু কোন কাজ ছাড়া একজন শিক্ষককে এভাবে বসিয়ে রাখা অযৌক্তিক।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরে কোন কথা বলেছেন কী না জানতে চাইলে মো. শামছুদ্দিন বলেন, এখনো কিছু বলা হয়নি। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা আমাদের করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোনে কল ধরেননি। তবে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, দেশের সব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি) বাস্তবায়নে তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে আশরাফুল আলম নামের একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অধিদপ্তর থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা ৯ টায় বিদ্যালয়ে আসবেন ও দুপুর দেড়টায় বিদ্যালয় ছেড়ে যাবেন। তবে প্রয়োজনে সময় পরিবর্তন করার সুযোগও আমাদের দেয়া হয়েছে।
সুত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

৪ বছর চাকুরী জীবনে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকের টাইমস্কেল তিনটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১:
২০০৭ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন মো. আনিছুর রহমান। ২০০৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শর্ত সুবিধায় হয়ে উঠেন প্রধান শিক্ষক।

আনিছুর রহমানের কপাল খুলে যায় ২০১৩ সালে। এসময় দেশের রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারি করা হয়। কপাল খুললেও আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ বছর। মাত্র চার বছর চাকরি জীবনে টাইমস্কেল লাগিয়েছেন তিনটি। আর এতেই তার বেতন হয়েছে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা!

আরো পড়ুনঃঅবৈধভাবে টাইমস্কেল লাগিয়ে জাতীয়করণ প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন দিগুণ

শুধু আনিছুর রহমান নয়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এমন ৩৭ জন প্রধান শিক্ষক ২০১৪ সাল থেকে সরকারি প্রায় দ্বিগুণ বেতন তুলছেন। আর এর ফলে এই সাত বছরে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানলেও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এখনো বাড়তি বেতনই তুলছেন এসব শিক্ষকরা।

উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষাবার্তাকে জানান, সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ৩০-৩২ হাজার টাকা। অন্যদিকে অবৈধ পন্থায় টাইমস্কেল লাগিয়ে এসব শিক্ষকরা বেতন তুলছেন ৪৮ হাজার ২৫৬ টাকা।

আজ শিক্ষার্থীরা ফিরছে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে র্দীঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আজ থেকে খুলছে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুরু হচ্ছে পাঠদান। আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হবে স্কুল-কলেজ।

চলতি বছরের শুরুতে এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের কথা থাকলেও এখনো তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আজ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। জুলাই মাসের তুলনায় সংক্রমণ ৭০ শতাংশ কমেছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। প্রথমদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা ক্লাস হবে। পর্যায়ক্রমে এ ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।’

পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে আলাদাভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনাসহ বেশকিছু সতর্কতা ও সচেতনতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে মাউশি

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে।

সরকারি-বেসরকারি সব স্কুল-কলেজকে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা পালন নিশ্চিত করতে ও সঠিকভাবে অনুসরণের জন্য মনিটরিং টিম গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ আদেশে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কারিগরি কমিটির ৯ সতর্কতা

ঢাকা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে নয়টি সতর্কতা দিয়েছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কতা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যদি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যক।

ক. নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলে প্রি-স্কুল ছাড়া সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে।

খ. সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করা এবং ব্যত্যয় হলে সে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা (৫ বছরের কমবয়সী শিশু ছাড়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী)। কেন্দ্রীয়ভাবে সব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত মানসম্পন্ন এবং সঠিক মাপের মাস্কের ব্যবস্থা ও বিতরণ করা। একইসঙ্গে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ যেমন- হাত পরিষ্কার রাখা (হাত ধোয়া/হাত জীবাণুমুক্ত করার স্টেশন স্থাপন করা) ও সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।

গ. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ শিক্ষক ও কর্মচারীর করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে। তারা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ১ম ডোজের ১৪ দিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

ঘ. উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৮ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ঙ. শ্রেণিকক্ষে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ক্লাস কোনটি সপ্তাহের কোন দিন হবে তা বিভক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন- প্রথমদিকে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন খোলা রাখা ছাড়া, বাকি সব ক্লাস সপ্তাহে এক/দুই দিন খোলা রাখা যেতে পারে। এতে একটি নির্দিষ্ট দিনে যেই ক্লাসটি খোলা থাকবে সেই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য খালি শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করে তাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসতে পারবে।

এছাড়া নিয়মিত প্রাতঃসমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার। এছাড়া প্রথমদিকে স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যেতে পারে, যাতে করে খাবার গ্রহণের জন্য মাস্ক খোলার প্রয়োজন না হয়।

চ. আবাসিক সুবিধা সম্বলিত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিচের পরামর্শগুলো প্রযোজ্য (মাদরাসাসহ):

১. সব সমাবেশ স্থানে (ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম ইত্যাদি) বন্ধ রাখা, রান্নাঘর থেকে রুমগুলোতে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা।

২. একাধিক শিক্ষার্থী একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে।

৩. মাদরাসায় একসঙ্গে নামাজ, সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।

ছ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে করণীয় ও বর্জনীয় কাজ সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মচারীদের একটি অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। এ ওরিয়েন্টেশন সীমিত উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে সশরীরে আয়োজন করা যেতে পারে, তবে প্রয়োজনে অনলাইন সেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত লিফলেট তৈরি, বিতরণ করা, করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো মিডিয়া ও স্থানীয় ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে।

যেসব শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ থাকবে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন থাকাকালে তাদের শুশ্রূষার জন্য নির্দেশনা এ ওরিয়েন্টেশনে থাকতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর রোগের লক্ষণ পাওয়া যাবে অথবা তাদের পরিবারের কারও এ রকম লক্ষণ থাকবে অথবা করোনা রোগ পাওয়া যাবে তাদের অনুপস্থিত গণ্য না করে ১৪ দিন বাড়িতে থাকার অনুমতি দিতে হবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও প্রচারণাপত্র প্রস্তুত করা দরকার।

জ. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও দৈনিক রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচিত কিছু স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষা এবং সার্ভেইলেন্সের প্রটোকল তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব জেলায় ল্যাব আছে সেসব জেলার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ সার্ভিল্যান্সের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

যেসব জেলায় সংক্রমণের হার বেশি, শনাক্তের হার ২০ শতাংশ বা কেসের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা (আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ৩০ শতাংশ বেশি সংখ্যক কেস), সেই জেলাগুলোতে আরও নিবিড় সার্ভেইলেন্স থাকা উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে।

ঝ. সব বিধিনিষেধ সুষ্ঠু পালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে দৈনিক মনিটরিং করতে হবে।

মাস্ক ছাড়া বিদ্যালয়ে নয়, অ্যাসেম্বলি হবে না

ডেস্ত,৫ সেপ্টেম্বর ঃ
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলার পর মাস্ক ছাড়া কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারবে না। আর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে স্কুল-কলেজে প্রাত্যহিক সমাবেশ বা অ্যাসেম্বলি আপাতত করা হবে না।’ তিনি বলেন, সকাল বেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সমাবেশ হয়, সেই সমাবেশটি আপাতত হবে না, যতক্ষণ না স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে না পারি। কিন্তু শরীরচর্চা বা খেলাধুলা স্বল্প পরিসরে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে চালু রাখা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থীরা আসবে, যত ধরনের গাইডলাইন, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর যা যা আমরা হালনাগাদ করেছি, সেগুলোর ভিত্তিতে শিক্ষক, ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সবাই তা নিশ্চিত করবেন। প্রতিদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা মাপা এবং তাদের অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা সেটি চেক করাতে হবে।’

আরো পড়ুনঃ কিভাবে খুলবে স্কুল কলেজ তার গাইডলাইন প্রকাশ

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাসরুমের মধ্যে যে বিষয়গুলো মানা দরকার— সকলের মাস্ক আছে কিনা? মাস্ক পরিধান করা ছাড়া কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকবে না। অভিভাবকদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে, তারা তাদের সন্তানদের মাস্কটি দিয়ে দেবেন। যেন শিক্ষার্থীরা মাস্কটি বাসা থেকেই পরে স্কুলে আসে। শিক্ষার্থীরা বাসায় ফিরে যাওয়া পর্যন্ত যেন মাস্ক পরে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অবশ্যই সকলের মাস্ক পরতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। খুব ছোট বা কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা খেয়াল রাখবেন, যাতে কারও অসুবিধা হয় কিনা। কোনও শিক্ষার্থীর মাস্কের কারণে অসুবিধা হয় কিনা, সেই বিষয়গুলো শিক্ষকরা অবশ্যই দেখবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভেতরে আসা-যাওয়ার জন্য সবাই যেন সারিবদ্ধভাবে ঢুকে তা নিশ্চিত করা হবে। হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করার জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা করা আছে। শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে। কারও উপসর্গ থাকলে না আসাও নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রাক্‌–প্রাথমিকের ক্লাস বন্ধই থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
দীর্ঘ দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও প্রাক্‌–প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সশরীর ক্লাস আপাতত বন্ধই থাকছে।

আজ রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে প্রাক্‌–প্রাথমিক শিক্ষা সশরীর চালু করা হবে। এখন প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি থেকে ক্লাস শুরু হবে।

এসএসসি–এইচএসসি ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক,৫ সেপ্টেম্বর ২০২১:
প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে।
এসএসসি–এইচএসসি ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী। তবে শুরুতে শুধু এ বছরের এবং আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস হবে। বাকিদের সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস হবে।

আজ রোববার সচিবালয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি আছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস হয়তো কিছুদিন পরেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর নবম এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ক্লাস হবে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter