Home » Tag Archives: পদোন্নতি

Tag Archives: পদোন্নতি

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি: `পঁয়তাল্লিশের কাঁটা’

নিজস্ব প্রতিবেদক,৯ নভেম্বর ২০২১ঃ
বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষের পর এবার বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়ে তৈরি খসড়া বিধিমালা নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা। অথচ তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২১।

শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য- চূড়ান্ত হতে যাওয়া নতুন বিধিতে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে পদোন্নতি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতিতেও ৪৫ বছরের বয়সসীমা পদোন্নতি না দেওয়ার অপকৌশল বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) পর্যন্ত হতে পারতেন; কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগবিধি ১৯৮৫ সেই পথ রুদ্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে পিএসসির নিয়োগবিধি ১৯৯৪ জারি হলে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারতেন। ২০০৩ সালে সরকারি গেজেটেও সেই পদে বিভাগীয় প্রার্থী বলতে প্রাথমিকের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের কথা বলা ছিল এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে তাদের সঙ্গে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বোঝানো হয়েছে। সর্বশেষ নিয়োগ পর্যন্ত এভাবেই চলছে। তবে খসড়া নিয়োগবিধি ২০২১ অনুযায়ী প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা আর বিভাগীয় প্রার্থীর সুযোগ পাবেন না।

আরো পড়ুনঃ প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল। মহাপরিচালক যা বললেন
নিয়োগবিধিতে আরও বলা আছে- সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদে নিয়োগে ৮০ শতাংশ পদ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য

সংরক্ষিত থাকবে এবং ২০ শতাংশ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বোঝাবে। তাদেরও আবার প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম তিন বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো পূরণ হবে উন্মুক্ত প্রার্থীদের মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগে উন্মুক্ত প্রার্থীদের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। আর বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিকে উন্নীত স্কেলে বেতন নিশ্চিত করতে ডিপিই’র নির্দেশনা

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন, ‘১৯৯৪ সালে একটি আইনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে চালু হয়েছিল সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি। এর আগে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে সিনিয়র প্রধান শিক্ষকরা সরাসরিই পদোন্নতি পেতেন। এখন প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির পথও কৌশলে রুদ্ধ করে সরাসরি এটিইও নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, ‘এটা (বিধিমালায় যুক্ত শর্ত) প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি না দেওয়ার অপকৌশল। শিক্ষকদের দাবি, ওপরের শতভাগ পদ পূরণ করতে হবে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকরা চান অনূর্ধ্ব-৪৫ বছর বয়সের কোনো বাধা না থাকুক। সেই সঙ্গে প্রাথমিকের যেসব পদে সরাসরি নিয়োগ চালু রয়েছে, সেগুলোতে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ নয়; বরং শতভাগ পদোন্নতি দেওয়ার দাবি আমাদের।’ রিয়াজ পারভেজ জানান, সহকারী উপজেলা, থানা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি), থানা রিসোর্স সেন্টারসহ বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন সব পদেই পদোন্নতির দাবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মুনসুরুল আলম শিক্ষাবার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা এর আগেও কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদটি আগে থেকেই ব্লক ছিল। আমরা এবার এটাকে ব্লক পদ করিনি। একসময় তো বিভাগীয় প্রার্থিতার সুযোগই তাদের ছিল না। বিভাগীয় প্রার্থী হতে বয়স একসময় ৪০ বছর ছিল, ১৯৯৪ সালে তা ৪৫ বছর করা হয়। তার পরও বয়স বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা করেছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে সায় দেয়নি। তারা বলেছে- অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বয়স এমনটাই নির্ধারিত।’

কয়েক প্রধান শিক্ষক জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮৫-এর অধীনেও প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির বিধান ছিল। প্রধান শিক্ষকরা সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি পেতেন; কিন্তু ১৯৯৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিধিমালাটি সংশোধনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি রহিত করা হয়। তাই প্রধান শিক্ষকদের দাবি- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮৫ (সংশোধনী ২০২১)-এ বিভাগীয় পদোন্নতি পুনর্বহাল করতে হবে। কারণ এই বিধিমালা সংশোধন না করলে প্রধান শিক্ষকদের আর পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব হবে না।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পৃথক দুটি নিয়োগ বিধিমালা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। এরই মধ্যে তা প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী থানা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, এটিইও পদে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষায় বসতে প্রধান শিক্ষকের বয়স হবে সর্বোচ্চ ৪৫ বছর। এ ছাড়া কমপক্ষে তিন বছরের প্রধান শিক্ষক পদের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রস্তাবিত এই ‘সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা’ নিয়ে ক্ষুব্ধ সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বলছেন- এ বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ রাখা হলেও শর্তের বেড়াজালে পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতেই বয়স হয়ে যায় ৪৭-৪৮ বছর। আরও তিন বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলে বয়স হবে কমপক্ষে ৫০-৫১ বছর। এতে প্রধান শিক্ষকদের আর কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ থাকবে না। প্রধান শিক্ষকদের একই পদে চাকরি করে অবসরে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্লক পোস্টে পরিণত হবে প্রধান শিক্ষক পদটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে শিক্ষকরা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।

আপনি কি পুত্র/কন্যা সন্তান চান তাহলে জেনে নিন কি করবেন?

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষকদের পদোন্নতি পাশ কাটিয়ে নন ক্যাডার থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ নভেম্বর ২০২১ঃ
শিক্ষেকদের পদোন্নতি পাশ কাটিয়ে বিসিএস নন ক্যাডার থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করেছে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি বদরুল আলম তার ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেছেন। পাঠকদের সুবধিার জন্য পোষ্টটি হুবহ তুলে ধরা হলো।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইনের খসড়া চূড়ান্ত

গত ৪ নভেম্বর /২০২১ইং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন থেকে আদেশ কৃত এক নিয়োগ বিধি থেকে জানতে পেলাম যে,৩৮তম বি, সি, এস পরীক্ষা ২০১৭ এ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নন ক্যাডার ২য় শ্রেণির (১০ গ্রেড) পদে ৫৩ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের শুন্য পদে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কতৃক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
যা সত্যিসত্যিই দুঃখ জনক এবং শিক্ষকদের প্রতি চরম বিমাতা সুলভ আচরনের সামিল বলে প্রতীয়মান । এই নিয়োগে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আরো পড়ুনঃ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মানববন্ধন

শিক্ষকদের পদোন্নতির পাশ কাটিয় এধরণের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের তিব্র বিরোধিতা করছি এবং এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য কতৃপক্ষকে জোরালো ভাবে অনুরোধ করছি।

আরো পড়ুনঃ প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল। মহাপরিচালক যা বললেন

সরকার নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এ, যেখানে প্রধান শিক্ষকদের ৮০% পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবনা করেছেন এবং দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা পদোন্নতির বিষয়ে একটা আশার আলো দেখতে পচ্ছিলাম, সেখানে সরকার কি করে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে বাইরে থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগ দিচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।
আমরা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এই নিয়োগ বাতিল পূর্বক আমাদেরকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির জোর দাবি জানাচ্ছি ।

এই নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষকদেরকে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বর্তমান পেক্ষাপটে আমাদের করনীয় কি? আপনাদের মতামত ও পরামর্শ আশা করছি।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ বদরুল আলম
সভাপতি,
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।
০১৯২৩৫৫৯৬১২

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পাবেন না?

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৪ সেপ্টেম্বর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পৃথক দুটি নিয়োগ বিধিমালা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। এরই মধ্যে তা প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, এটিইও পদে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষায় বসতে প্রধান শিক্ষকের বয়স হবে সর্বোচ্চ ৪৫ বছর। এ ছাড়া কমপক্ষে তিন বছরের প্রধান শিক্ষক পদের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রস্তাবিত এই ‘সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা’ নিয়ে ক্ষুব্ধ সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এই বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ রাখা হলেও শর্তের বেড়াজালে পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতেই বয়স হয়ে যায় ৪৭-৪৮ বছর। আরও তিন বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলে বয়স হবে কমপক্ষে ৫০-৫১ বছর। এতে প্রধান শিক্ষকদের আর কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ থাকবে না। প্রধান শিক্ষকদের একই পদে চাকরি করে অবসরে যেতে হবে। ব্লক পোস্টে পরিণত হবে প্রধান শিক্ষক পদটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে শিক্ষকরা
সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর অধীনে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির বিধান ছিল। প্রধান শিক্ষকরা সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি পেতেন। কিন্তু ১৯৯৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিধিমালাটি সংশোধনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি রহিত করা হয়।

আরো পড়ুনঃ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত, বন্ধ ক্লাস!

খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার প্রতিভাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপি আফরিন সমকালকে জানান, ১৯৯৪ সালে একটি আইনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে দিয়ে চালু করা হয়েছিল সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি। এর আগে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে সিনিয়র প্রধান শিক্ষকরা সরাসরি পদোন্নতি পেতেন। এখন প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ কৌশলে রুদ্ধ করে সরাসরি এটিইও নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৫ (সংশোধনী ২০২১)-এ বিভাগীয় পদোন্নতি পুনর্বহাল করতে হবে। কারণ, এই বিধিমালা সংশোধন না করলে প্রধান শিক্ষকদের পরবর্তী আর কোনো পদে পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব হবে না। ওপরের পদে সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি), থানা রিসোর্স সেন্টারসহ বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন সব পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র স্বরূপ দাস সমকালকে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২১-এর খসড়ায় প্রধান শিক্ষকদের ঊর্ধ্বতন পরবর্তী পদে পদোন্নতি পেতে ৪৫ বছরের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতাসহ প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে (৮০% বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে) ও (২০% উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে) নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এটা প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি না দেওয়ার অপকৌশল। তাদের দাবি, পরবর্তী ওপরের পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে শতভাগ পদ পূরণ করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকের যেসব পদে সরাসরি নিয়োগ চালু রয়েছে, সেসব পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ নয়; বরং এই পদে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরো পড়ুনঃ ২০২১ সালের দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ সমকালকে বলেন, প্রধান শিক্ষক থেকে ঊর্ধ্বতন পদগুলো বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির বিধান যুক্ত করতে হবে নীতিমালায়। তারা চান, অনূর্ধ্ব-৪৫ বছর বয়সের কোনো বাধা থাকবে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মুনসুরুল আলম সমকালকে বলেন, শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা এর আগেও দুবার (২০১৩ ও ২০১৯ সালে) সংশোধন করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদটি আগে থেকেই ব্লক পদ ছিল। আমরা এটাকে ব্লক পদ করিনি। একসময় তো বিভাগীয় প্রার্থিতারই সুযোগ তাদের ছিল না। বিভাগীয় প্রার্থী হতে বয়স একসময় ৪০ বছর ছিল, ১৯৯৪ সালে তা ৪৫ বছর করা হয়। বয়স বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা করেছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে সায় দেয়নি। তারা বলেছে, অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বয়স এমনটাই নির্ধারিত আছে। তিনি বলেন, না বুঝেই প্রধান শিক্ষকরা নানা অভিযোগ করছেন।

সুত্রঃ দৈনিক সমকাল

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

পদোন্নতি পেলেন ৫ হাজার ৪৫২ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ জুন, ২০২১
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫ হাজার ৪৫২ জন সহাকারী শিক্ষককে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। ননক্যাডার ২য় শ্রেণির পদে কর্মরত এ শিক্ষকদের ননক্যাডার প্রথম শ্রেণির ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের পদোন্নতি। নতুন নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশ সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হবে বলে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জানায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ৯৭ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জনপ্রশাসনের ৯৭ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। আজ শনিবার পদোন্নতির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পদোন্নতির পর এদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

জনপ্রশাসনে বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা রয়েছে ১৩০টি। নতুন ৯৭ জনকে নিয়ে এখন অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১১ জন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter