শিশু রোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত, বন্ধ ক্লাস!

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব‌্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি স্কুলের ৫ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে দুজন ৪র্থ ও তিনজন ৫ম শ্রেণিতে পড়ে।

এরা সবাই সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কলোনি এলাকার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) তাদের সবার করোনা টেস্টের জন‌্য স‌্যাম্পল দেওয়া হয়। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওই ৫ শিক্ষার্থীর করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তাদের সবার বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

এদিকে পাঁচ শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার ২৩ (সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ওই দুই শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে বাকি শ্রেণিগুলোর ক্লাস স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভিন জানান, স্কুল খোলার পর থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে তারপর ক্লাসে নেওয়া হয়। রোববার চতুর্থ শ্রেণির দুজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যায়। পরে ওই দিনই ‘ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের করোনার স‌্যাম্পল নেওয়ার ব‌্যবস্থা করা হয়। পরে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ছাত্রীদের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাদের মৌখিক নির্দেশে আপাতত ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১ম শ্রেণি থেকে ৩য় শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম সচল রয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোছা. রিক্তা বানু বলেন, ‘সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত শিশু পরিবারের ২৫ জন ছাত্রীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া পাঁচ জনসহ মোট ১৩ জন ছাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্ত সবাই শিশু পরিবারের সদস্য। তাদের আলাদাভাবে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার মমতাজ ফেরদৌস বলেন, ‘বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আগামী এক সপ্তাহের জন্য ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’

গোপালঞ্জের ২ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব‌্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই গোপালগঞ্জের দুটি আলাদা স্কুলের ২ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেসব স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে তারা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর স্কুলে এসেছে।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোনালীসার করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর করোনা আক্রান্ত হয় জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া খানম।

দুই শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় দুটির শ্রেণিকক্ষ তালাবন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে- বাড়ি বা অন্য কোনো স্থান থেকে ওই দুই ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।

বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার জানান, ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার পর নিয়মিত ক্লাস করছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোনালীসা। ১৪ সেপ্টেম্বর তার মাথা ব্যাথা ও জ্বর শুরু হয়। এরপর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। ২১ সেপ্টেম্বর করোনা পরীক্ষা করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর মোনালীসার করোনা পজেটিভ আসে।

তিনি আরও বলেন, মোনালীসা সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর স্কুলে এসেছিল। সেদিন তার মধ্যে করোনার উপসর্গ জ্বর ও মাথা ব্যথা ছিল। পরে জানতে পারি তার করোনা পজেটিভ এসেছে। আমরা সার্বক্ষণিক তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

‘সে বিদ্যালয়ের যে কক্ষে ক্লাস করেছিলো, সেই কক্ষটি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি শ্রেণির ক্লাসগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। তবে অন্য কোনো শিক্ষার্থী‌র মধ্যে করোনার উপসর্গ এখনো দেখা যায়নি। আমরা শিক্ষার্থী‌দের নিয়মিত তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করাচ্ছি।’’

এদিকে কোটালীপাড়ার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তিনা খানম ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলে আসে এবং নিয়মিত ক্লাসে করতে থাকে।

১৩ সেপ্টেম্বর তিনা জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর তার নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায় তিনার করোনা পজেটিভ। এরপর থেকে তাকে নিজ বাড়িতে মায়ের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি শ্রেণির ক্লাসগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। এছাড়া ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির আরও চার শিক্ষার্থী সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে জানতে পেরে স্কুলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর খোঁজ খবর নিই। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের ফল ও খাবার দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করি। তৃতীয় শ্রেণির ওই কক্ষটি ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল বন্ধ করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

শাকসবজিতে শিশুর অনীহা ও করণীয়

বিডি নিউজ,২৯ আগষ্ট:
শাকসবজি প্রতিটি মানুষের শরীরের জন্য উপকারী। তারপরও অনেক সময় শিশুরা শাকসবজি খেতে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। আজ আমরা তার কারণ অনুসন্ধান ও সমাধান করার চেষ্টা করবো।
শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমরা শিশুদের যে কোন আচরণ পরিবর্তনের জন্য ‘বিহেভিয়ার মডিফিকেশন’ নামে একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকি। এ পদ্ধতির আলোকে লেখা নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে শিশুর শাকসবজির প্রতি অনীহাকে ভালোবাসায় রূপান্তর করা যাবে বলে আশা করি।

১. শিশুরা বাবা-মা বা তার কাছের মানুষদের বিভিন্ন আচরণ অনুকরণ করতে ভালোবাসে। এজন্য শিশুরা বড়দের খাবার নির্বাচন করা দেখে নিজেরা খাবার নির্বাচন করতে শেখে। তাই শিশুকে শাকসবজি খেতে উৎসাহিত করতে সবচেয়ে ভালো পন্থা হলো যখন মা-বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা শিশুর সামনে শাকসবজি খাবে ও তা উপভোগ করবে।

শিশুকে শাকসবজি খাওয়ানো শেখাতে উপযুক্ত কাজটি হলো পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খাওয়া। যুক্তরাজ্যে একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২ থেকে ৫ বছরের শিশুরা তাদের মা-বাবাকে অনুকরণ করে একই ধরণের সবজি খেয়ে থাকে। ঘরে তৈরি খাবার যেমন তরকারি, স্যুপ, চপ বা সালাদ এসব কিছুতেই সবজির ব্যবহার করা যায়। যখন শিশু দেখবে মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা প্লেটে শাকসবজি নিয়ে খাচ্ছে ও উপভোগ করছে, তখন শিশুও অন্যদের অনুকরণ করে একই কাজ করবে।

২. অনেক শিশু প্রথমবার কোন একটি সবজি খেয়ে তা পছন্দ নাও করতে পারে। যা খুবই স্বাভাবিক। যদি আপনার শিশু কোন নির্দিষ্ট সবজি অপছন্দ করে, তাহলে পরবর্তীতে শিশুর পছন্দনীয় একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে শিশুকে অল্প পরিমানে কম পছন্দের সবজিটি খেতে দিন। এতে শিশুর বেশির ভাগ মনোযোগ পছন্দের খাবারের প্রতি থাকবে৷ সবজি দেখে শিশু কান্না করবে না, উত্তেজিত হবে না। শিশুকে কম পছন্দের শাকসবজি অল্প পরিমান চেখে দেখতে উৎসাহ দিন।

৩. শিশু যখন শাকসবজি খাবে বা চেখে দেখবে তখন শিশুর প্রশংসা করুন। প্রশংসা শিশুকে আবারও শাকসবজি খেতে উৎসাহিত করবে। দেরিতে প্রশংসা করলে অনেক সময় শিশুরা বুঝতে পারে না তাকে ঠিক কী কারণে প্রশংসা করা হচ্ছে। শিশুকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্টভাবে প্রশংসা করলে তা সবচেয়ে ভালো কাজ করে। যেমন, ‘তুমি লাউয়ের তরকারি খাওয়ায় আমি অনেক খুশি হয়েছি’। চেষ্টা করুন খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসা করতে।

শাকসবজি না খাওয়ার জন্য শিশুকে শাস্তি প্রদান করলে (বকাঝকা বা মারধর করা) শাকসবজি শিশুর কাছে নেতিবাচক বা অপছন্দের বিষয় হয়ে যায়। যদি শিশু সবজি খেতে অসম্মতি জানায় তাহলে শিশুকে শাস্তি প্রদান করা থেকে বিরত থাকুন। পরবর্তী খাবারের সময় আবারও শিশুকে শাকসবজি খেতে দিন। ২০১৯ সালে মউরিনস্পিল ও অন্যান্য গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ প্রকাশ করে। এ রিভিউ অনুযায়ী, শিশুকে যে কোন সবজি প্রতিদিন একবার করে ১০ দিন দিলে শিশুটি একসময় সবজিটি খেতে শুরু করে।

৪. খাবার খাওয়াকে শর্ত হিসেবে ব্যবহার করবেন না। যেমন- ‘তুমি যদি করলা খাও, তাহলে আমি তোমাকে কেক খেতে দেবো’। এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। খাবারকে (শাকসবজি) শর্ত হিসেবে ব্যবহার করলে শিশু স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় তুলনামূলক অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি বেশি আগ্রহী হবে৷ এছাড়া শিশু মনে করবে সবজি কম স্বাদের খাবার এবং সবজি খেলে আরও ভালো কোন খাবার পাওয়া যাবে।

অনেক শিশুর কাছে শাকসবজি খাওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে কোন ডেজার্ট পেলে তার মনে হতে পারে শাকসবজি খাওয়া এমন একটি কাজ যার জন্য ডেজার্ট পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যায়৷ তখন শিশু ডেজার্টকে পুরস্কার হিসেবে পেতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বাড়িয়ে দিতে পারে (ওভারইটিং)।

৫. শাকসবজি দিয়ে রকমারি নাস্তা বা স্ন্যাকস বানানো সম্ভব। ঘরে অস্বাস্থ্যকর নাস্তা কমিয়ে শাকসবজি দিয়ে বেশি বেশি মজাদার নাস্তা তৈরি করুন। এতে শিশুর ক্ষুধাভাব হলে শিশু শাকসবজির তৈরি নাস্তা খাবে যা শিশুর শাকসবজি খাওয়া বাড়িয়ে দেবে।

৬. শিশুকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আকার, রং, গঠন এবং স্বাদের শাকসবজি খেতে দিন। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের শাকসবজি দেখে শিশু খেতে আগ্রহ পাবে। এছাড়া সবসময় মনে রাখতে হবে খাবারের স্বাদ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন অনেক শিশুর কাছে ভাজা সবজি বেশি পছন্দ।

৭. শিশু যে খাবারগুলো পছন্দ করে তা তৈরির সময় সবজি ভিন্নভাবে দিতে পারেন। যেমন শিশু নুডলস খেতে ভালোবাসলে, নুডলসে সবজি মিহি কুচি করে বা বেটে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে খাবারে সবজি ব্যবহার করলে শিশু তা খেয়াল করবে না বা বুঝতে পারবে না। তবে এভাবে সবজি দিলে শিশুর সবজি খাওয়া হবে ঠিকই কিন্তু সবজির প্রতি অনীহা কমবে না। তাই শিশুকে এর পাশাপাশি সরাসরি সবজি খেতেও উৎসাহিত করতে হবে৷

৮. শিশুকে শাকসবজি জাতীয় খাবার পরিবেশনের সময় সৃজনশীল হোন।

৯. শিশুকে শাকসবজি খেতে জোর করবেন না। শিশুকে সবজি খেতে দেওয়ার পর, শিশু কতটুকু সবজি খেলো তা দেখার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, একজন শিশু নিজে ভালো বুঝতে পারে তার পেটে ক্ষুধা আছে কি নেই, থাকলেও কতটুকু ক্ষুধা আছে।

১০. শিশুকে সবজি রান্নার কাজে অংশগ্রহণ করতে দিলে শিশুরা সবজি খেতে উৎসাহিত হয় ৷ কারণ শিশু মনে করে রান্নাটি সেই করেছে! সবজি কেনার সময় বা রান্না করার পূর্বে শিশু কোন শাক বা সবজি খেতে চায় তা শিশুর কাছে থেকে জেনে নিন। এখানে শিশু নিজের মতামত দেওয়ায় খুশি থাকবে ও খাবারের প্রতি আগ্রহবোধ করবে।

সবজি কাটার সময় শিশু যদি বড় হয় তাকে পাশে রাখুন। শিশু সবজি কুচি করতে বা কাটতে পারলে তাকে সবজি কাটার দায়িত্ব দিন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবারের একজন বড় সদস্যকে আশপাশে থাকতে হবে। বড় শিশুকে রান্নার কাজে অংশগ্রহণ করতে দিন। এতে শিশুটির আত্মবিশ্বাস বাড়বে, পাশাপাশি সে নতুন একটি কাজও শিখবে।

শিশুর কোন খাবারে এলার্জি হলে অবশ্যই একজন পুষ্টিবিদ ও শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সবসময় মনে রাখতে হবে, শিশুকে যথাযথ উৎসাহ দিলে শিশুর শাকসবজি খাওয়া বাড়ে। তাই আসুন সন্তানের পাশে থাকি। তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে বেড়ে ওঠতে সহায়তা করি।

লেখক পরিচিতি: অ্যাসিসট্যান্ট এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সিলিং সাইকোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নবজাতকের স্নান নিয়ে ভুল ধারণা

ডা. অমৃত লাল হালদার:
‘ওর বয়স কত? স্নান করিয়েছেন?’- শরীর অপরিচ্ছন্ন দেখে প্রশ্ন করলাম। ‘কী বলেন স্যার!’ বলে তারা আকাশ থেকে পড়লেন। ‘মাত্র সাতদিন বয়স। নাভিও পরে নাই এখনো!’

হ্যাঁ। শিশুর স্নান নিয়ে আমাদের দেশে প্রচলিত আছে নানা ধরনের ভুল ধারণা ও কুসংস্কার। কয়েকটি জেনে নেওয়া যাক।

নাভি পরার আগে স্নান নিয়ে কুসংস্কার রয়েছে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্বাভাবিক ওজনের একটি সুস্থ ও সঠিক ওজনের শিশুকে (ওজন ২.৫ থেকে ৪ কেজি) জন্মের তিনদিন (৭২ ঘণ্টা) পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই স্নান করানো উচিত। নাভি না পড়লেও করানো যায়। তবে খেয়াল রাখুন, নাভি যেন ভেজা না থাকে। সুতি কাপড় বা টিস্যু দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। তবে কম ওজনের অসুস্থ দুর্বল শিশুর দেহের তাপমাত্রা অনেক সময় বেশি কমে যেতে পারে বলে দেরি কিছুটা করা যেতে পারে। তা না হলে স্বাভাবিকভাবে একটি নবজাতক শিশুকে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত করতে তিনদিনের বেশি দেরি করবেন না। বরং গোসলটাই জরুরি।

ঠান্ডা লেগে যাওয়া বিষয়েও কুসংস্কার রয়েছে।

নিয়মিত ফোটানো হালকা গরম পানিতে স্নান করালে শিশুর ঠা-া লাগার তেমন কোনো সুযোগ নেই। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় স্নান না করালেই বরং শিশু অস্বস্তি বোধ করে, বারবার ঘেমে যায়। এই ঘাম বসে গিয়ে ঠা-া লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা থাকলে চর্মরোগ বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। তাই যে কোনো আবহাওয়ায় ছোট-বড় সব শিশুকে প্রতিদিন হালকা গরম পানিতে স্নান করানো দরকার। বৃষ্টির দিন, মেঘলা দিন বা আবহাওয়া ঠা-া থাকলে একান্ত না করাতে চাইলে হালকা গরম পানিতে আরামদায়ক সুতি কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন। স্নানের সময় ফ্যান বন্ধ রাখুন। দ্রুত শুকনো কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে জামাকাপড় পরিয়ে দিন। এতে ঠা-া লাগবে না। মাথা ও চুলে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন।

ছোট-বড় কারোর স্নানের পানিতে ডেটল, স্যাভলন, সেনিটাইজার বা অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ ব্যবহার করা উচিত নয়। অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ বা সাবান ত্বকের উপকারী জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে। ফলে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয় ও ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। তা ছাড়া এগুলো বেশ কড়া রাসায়নিক, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এমনিতে নবজাতক শিশুরা বাইরের ধুলা-ময়লার সংস্পর্শে আসে না, তাই রোজ সাবান দেওয়ারও দরকার নেই। সপ্তাহে এক বা দুদিন সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

আবাসিক চিকিৎসক, শিশু ও নবজাতক বিভাগ,

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২

(মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা। ০১৭১৬৭৯৫৫২৫

করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হোমিওপ্যাথিতে

ডাঃ এস কে দাসঃ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ‘আয়ুস মন্ত্রণালয়’। আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি গত শ‌নিবার এক বিবৃতিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সংক্রান্ত নানা তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ (Arsenicum album 30) কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। একটানা তিনদিন খালি পেটে এই ওষুধ সেবন করতে হবে। সেবনের পর যদি ওই এলাকায় ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ওষুধটি একমাস পর আবার আগের নিয়মে খেতে হবে। এই ওষুধটি ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় রোগের ক্ষেত্রেও কার্যকর বলে উল্লেখ করে আয়ুস মন্ত্রণালয়।

বায়ুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে নাগরিকদেরকে নিয়মিত গরম পানি ও সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত-মুখ ধোয়া, অকারণে নাকে মুখে হাত না দেওয়া, বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

তাছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম এবং কিছু আয়ুর্বেদ ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া
ইনফ্লুয়েঞ্জিনাম-২০০, এ‌কোনাইট,বেলেডোনা সেবন করাও যে‌তে পা‌রে।
‌বিস্তা‌রিত জান‌তে ক‌মেন্ট করুন।
ডাঃ এস কে দাস
‌ডিএইচ এম এস(ঢাকা)


শিশুর ডায়রিয়া হলে কী করবেন

ডাঃ দাসঃ ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। তাই বর্ষা মওসুমে এর প্রাদুর্ভাবও বেশি। সব বয়সের মানুষের এটা হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য এটি একটি বিশেষ গুরুতর সমস্যা। আমাদের দেশে শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। ডায়রিয়া এবং এর পরিণতি হিসেবে সৃষ্ট অপুষ্টি ও অন্যান্য রোগ এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

ডায়রিয়া হলে কী করবেন?
১। পানিস্বল্পতা যাতে না হয় সেজন্য শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তরল খাবার দিন। ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে যতটুকু পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় ঠিক এতটুকু পানি ও লবণ যদি সময়মতো পূরণ করা হয় তাহলে ডায়রিয়াজনিত পানিস্বল্পতার কারণে মৃত্যু ঘটে না।

• যেসব তরল খাওয়ানো যেতে পারে : (১) খাবার স্যালাইন, (২) লবণ-চিনি বা গুড়ের শরবত, (৩) ডাবের পানি কিংবা শুধু পানি, (৪) চিড়ার পানি, (৫) ভাতের মাড়, (৬) খাবার পানি।ডায়রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তরল খাবার চালিয়ে যেতে হবে।

২। অপুষ্টি যাতে না হয় সেজন্য শিশুকে প্রচুর খাবার দিতে হবে। বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং ঘন ঘন খাওয়াতে হবে। শিশু অন্য দুধে অভ্যস্ত হলে তাই খাওয়াতে হবে এবং কমপক্ষে প্রতি ৩ ঘণ্টা অন্তর খাওয়াতে হবে।

টাটকা খাবার : যে বয়সের জন্য যে খাবার স্বাভাবিক তাই খাওয়াতে হবে।

• উপযোগী খাবার : ভাত, ডাল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, গোশত অথবা এসবের খিচুড়ি। খাবারের সাথে এক বা দুই চা চামচ তেল দিতে হবে।

• টাটকা ফলের রস, কলা বা পেঁপে চটকিয়ে দিতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা পরপর দিনে অন্তত ছয়বার খেতে দিতে হবে। খুব ছোট শিশুদের আরো বেশি খেতে দিতে হবে। শিশু যতটা খেতে চায় ততটা খাওয়ার জন্য তাকে উৎসাহিত করতে হবে।

• খাবার নরম করে রান্না করতে হবে যাতে সহজে হজম হয়।

• ডায়রিয়া বন্ধ হওয়ার পর শিশুকে প্রথম দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন একবার করে অতিরিক্ত খাবার দিতে হবে। যত দিন না শিশু তার আগের অবস্থা ফিরে পায়।

ডায়রিয়া দেখা দিলে শিশুকে লক্ষন অনুযায়ী ভাল হোমিও ঔষধ যেমন [Ars],Veratrum album, Cinchona officinalis,Sulphur.Aloes ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩। নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
(১) কয়েকবার পাতলা পায়খানা, (২) বারবার বমি, (৩) জ্বর, (৪) অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত (৫) খাদ্য বা পানীয় গ্রহণে অনীহা, (৬) পায়খানায় রক্ত, (৭) চোখ বসে গেলে, (৮) যদি তিন দিনের মধ্যেও অবস্থার উন্নতি না হয়।

Dr D.K.Das

M.Sc,DHMS(Dhaka)Homeo

01811898061

 

গরুর দুধ পান করালে যে যে সমস্যাগুলো হতে পারে

বিকল্প দুধে সবসময়ই রোগজীবানু বহন করার ভয় থাকে। কারণ দুধ, নিপল এবং বোতলের সাথে অথবা বিকল্প দুধ তৈরীতে ব্যবহৃত পানির সাথে রোগজীবাণু থাকার সম্ভাবনা রয়ে যায়। তাই শিশুর ঘন ঘন অসুখ হয়। তাছাড়া এই সময় গরুর দুধ পান করানোটাও উচিত হয়। শিশুর এক বছর বয়সের মধ্যে গরুর দুধ পান করালে যে সকল সমস্যা হতে পারে:-
রক্তাল্পতা :- গরুর দুধে আয়রন কম থাকায় এবং দুধের ক্যালসিয়াম ও ক্যাসিন আয়রন শোষণে বাধা দেওয়ায় গরুর দুধের ওপর নির্ভরশীল ১ বছরের নিচের প্রায় সব শিশুই আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতায় ভোগে।
আন্ত্রিক রক্তক্ষরণ :- গরুর দুধের ওপর নির্ভরশীল ১ বছরের কম প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর অন্ত্রে আণুবীক্ষণিক রক্তক্ষরণ হয়।
ডায়াবেটিস :- গরুর দুধে বোভাইন সেরাম এলবুমিন (বিএসএ) থাকে। তা শিশুর অপরিপক্ব অন্ত্রের ছিদ্র দিয়ে পরিপাক ছাড়াই সরাসরি রক্তে চলে যেতে পারে। রক্তে গেলে এই প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই প্রোটিনের গঠনের সঙ্গে শিশুর দেহে ইনসুলিন তৈরিকারী বিটা কোষের গাঠনিক প্রোটিন পি৬৯-এর মিল রয়েছে। ফলে অ্যান্টি-বিএসএ অ্যান্টিবডি বিটা কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে তাকে ধ্বংস করতে পারে। বিটা কোষ ধ্বংস হলে বড় হয়ে ওই শিশুই ইনসুলিন নির্ভরশীল ডায়াবেটিসে ভুগতে পারে।
অ্যালার্জি :- গরুর দুধের প্রোটিন আকারে বড় হওয়ায় এবং ১ বছরের নিচের শিশুর পরিপাকতন্ত্রের অপরিপক্বতার কারণে এসব প্রোটিন অনেক সময় অ্যামাইনো এসিডে রূপান্তরিত না হয়ে ছোট-ছোট প্রোটিন অণুতে পরিণত হয়। এগুলো রক্তে গেলে ইমিউনোলজিক্যাল রিঅ্যাকশনে বিভিন্ন অ্যালার্জির উপসর্গ তৈরি করে।
শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ :- ইমিউনোলজিক্যাল রি-অ্যাকশনের কারণে শিশুর শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হতে পারে। ফলে নাক বন্ধ হওয়া, সর্দি-কাশি প্রায়ই লেগে থাকে, এমনকী হাঁপানিও হতে পারে। মায়ের দুধ খাওয়া শিশুর তুলনায় গরুর দুধের ওপর নির্ভরশীল শিশুর শ্বাসতন্ত্রের অসুখ-বিসুখ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১২০ গুণ বেশি।
পেটের অসুখ :- গরুর দুধের জটিল প্রোটিন হজম করতে না পারা ও অন্যান্য উপাদান, বিশেষত দুধের ল্যাকটোজের প্রতি সহনশীলতার অভাবে প্রায়ই পেটের অসুখ-বিসুখ যেমন- পেট ফাপা, ডায়রিয়া, বমি, বদহজম শিশুকে আক্রান্ত করে। মায়ের দুধ খাওয়া শিশুর তুলনায় গরুর দুধের ওপর নির্ভরশীল শিশুর পেটের অসুখ-বিসুখের আশঙ্কা প্রায় ৪০ গুণ বেশি।
হঠাৎ মৃত্যু :- গরুর দুধের ক্যাসিন প্রোটিন থেকে শিশুর পেটে বোভাইন বিটা ক্যাসোমরফিন-৫ তৈরি হতে পারে। রক্তে এর মাত্রা বেড়ে গেলে শিশুর শ্বাস মাঝে-মাঝে আটকে যায়। এমনকী শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। ক্রিব রোগ বা হঠাৎ শিশু মৃত্যুর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ২ হাজার শিশুর একজন এভাবে মারা যায়।
পানিশূন্যতার আশঙ্কা :- গরুর দুধের অতিরিক্ত প্রোটিন ও খনিজ পদার্থের কারণে এর ওপর নির্ভরশীল শিশুদের মূত্র তুলনামূলক বেশি ঘন হয়ে থাকে। তা অসমোটিক ডাই-ইউরোসিসের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি প্রস্রাব আকারে বের করে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। এসব শিশু জ্বর ও ডায়রিয়ার সময় অন্য শিশুর তুলনায় অতি দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তা তার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

বিষয়গুলো জানার পর আশাকরি আপনারা অন্তত একবার হলেও ভাববেন আগামী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। তাছাড়া আমাদের দেশে মায়েরা তাদের বাচ্চাদের কৌটার দুধ পর্যন্ত খাওয়াতে দিধা করেন না। যে গুলো আরো ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আরও বিস্তারিত জানতে
Dr. S.k.das
DHMS
01911334810

বুকের দুধ খাওয়ালে শুধু শিশুরাই নয়, মায়েরাও ঝুঁকিমুক্ত

bukar-milkডেস্ক ॥ শিশুকে বুকের পান করানো কেবল শিশুর জন্যেই উপকারী নয়, মায়ের সুস্বাস্থ্যের জন্যেও প্রয়োজনীয়। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়, যে মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তারা অকালে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। এমনকি ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কম থাকে তাদের।

শিশু জন্মের এক বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত‌ বুকের দুধ খাওয়াতেই হবে। বুকের দুধ থেকে শিশুরা যেমন পুষ্টি পায়, তেমনি মায়েরাও অকাল মৃত্যু ও মারাত্মক সব রোগ থেকে রক্ষা পায়।

ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন স্টুয়েবে জানান, এ গবেষণায় বুকের দুধ খাওয়ানো কতটা উপকারী তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মেডিসিনের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর মেলিসা বার্টিক জানান, রোগ প্রতিরোধে বুকের দুধ পানের উপকারিতা অনেক। নতুন মায়েদের রোগ থেকে দূরে থাকতে এবং শিশুর স্বাস্থ্যবানভাবে বেড়ে উঠতে প্রত্যের হাসপাতালের উচিত এ বিষয়ে তাদের সচেতন করে তোলা।

বিভিন্ন সরকারি তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বুকের দুধ পান করানো হলে মা এবং শিশুর রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ অনেক কমে আসে। জন্মের পর শিশুরা অ্যাকুট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকোমিয়া, কানে সংক্রমণ, ক্রোহন্স ডিজিস, আলসেরেটিভ কোলিটিস, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সংক্রমণ, লোয়ার রেসপাইরেটরি ট্রাক্ট সংক্রমণ, স্থূলতা ইত্যাদি রোগের ঝুঁকিতে থাকে। আর মায়েরা স্তন ক্যান্সার, প্রি-মেনোপজাল ওভারিয়ান ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকরা জানান, আমেরিকায় বুকের দুধ পান না করানোর কারণে বছরে ৩৩৪০ জন মায়ের অকাল মৃত্যু ঘটে। এসব রোগের পেছনে ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে যায়।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক এলিয়ানর বিমলা সোয়ার্জ জানান, শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়ের বুকের দুধের প্রয়োজনীয়তা বহু আগেই থেকেই জানে মানুষ। তবে এটা যে মায়ের স্তন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায় সে সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন।

ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড নিউট্রিশন জার্নালে গবেষণপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter