Home » স্বাস্থ্য চিকিৎসা

স্বাস্থ্য চিকিৎসা

আরো ১৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারী করোনায় সংক্রমিত হয়ে আরো ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৭৩ জনে।

এছাড়া, একই সময়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে ১ হাজার ৫৩১ জন সংক্রমিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত হলো মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৬ জনের।

শনিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ১ হাজার ৪৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৯ জন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনার প্রথম সংক্রমণ ধরা পরে গত ৮ মার্চ, তা ২৬ অক্টোবর ৪ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৪ নভেম্বর তা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

২টি ব্যায়ামেই কাবু পেটের বাড়তি মেদ

উৎসবের মরসুমে শরীরের মেদকে জব্দ করতে না পারলে সাজগোজ থেকে স্বাস্থ্য সমস্যা সবেতেই। লকডাউন চলাকালীন এমনিতেও হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চায় মন দেওয়া হয়নি। খুব বেশি হলে একটু আধটু ডায়েট হয়তো মেনে চলা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মেদ ঝরানোর জন্য শরীর প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টর খুঁজে বের করতে পারেনি। এ বার সেই সময় এসেছে।

দিনে মিনিট ২০ সময় দিলেই পেটের মেদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। পুজোর আগে বেশ কিছুটা মেদ ঝরিয়ে ফেলার জন্য এখন থেকেই অভ্যাস করুন বিশেষ কিছু যোগব্যায়াম।

ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ও জিমন্যাস্টিক প্রশিক্ষক সুকোমল সেনের মত, ‘‘পেটের মেদ দূর করতে ও পেশিকে মজবুত ও টানটান করে তুলতে ক্রাঞ্চ ও প্লাঙ্কের কোনও জবাব নেই। এই দুই ব্যায়ামেই পেটের পেশিতে টান পড়ে। ফলে পেশির স্টিফনেস কমে ও মেদ গলতে সুবিধা হয়। আর এই ব্যায়াম দিনে কিছুক্ষণ অভ্যাস করলে খাবার হজম হওয়া, বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিক রেট বেড়ে যাওয়া—সবই হবে।’’

কিন্তু কী উপায়ে এমন ব্যায়াম করবেন?

সুকোমলবাবুর মত, বাড়ি ফিরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিট সময় এর জন্য রাখলেই যথেষ্ট। ক্রাঞ্চ ও প্লাঙ্কের পদ্ধতিতে ভুল থাকলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই ঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম করাটা প্রথম শর্ত।

কোন উপায়ে ক্রাঞ্চ বা প্লাঙ্ক করতে হবে?

ক্রাঞ্চ: মাটিতে পিঠ রেখে শুয়ে হাঁটু জোড়া ভাঁজ করুন যাতে আপনার পায়ের পাতা মাটিতে ঠেকে। হাত জোড়া মাথার পিছনে রাখুন। পেটের উপরে চাপ দিয়ে মাথা হাঁটুর দিকে নিয়ে যান। এই অবস্থায় থেকে ধীরে ধীরে ৫ গুনু্ন। তার পর আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। ১৫ বারে এক একটি সেট হয়। ৩টি সেট অভ্যাস করুন।

প্লাঙ্ক: প্রথম দিকে কনুই পর্যন্ত মাটির সঙ্গে ঠেকিয়ে প্লাঙ্ক করুন। অভ্যাস হয়ে গেলে হাতের পাতা ও পায়ের পাতা মাটিতে রেখে বাকি শরীরটা হাওয়ায় তুলে দিন। প্লাঙ্কের সময় পেট ভিতরের দিকে টেনে রাখতে পারলে আরও বেশি উপকার পাবেন। পেট ও কোমরের কেন্দ্রস্থলের পেশিকে শক্তিশালী করে তুলতে প্লাঙ্কের জবাব নেই। প্রায় ২ মিনিট করা যেতে পারে এই প্লাঙ্ক।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

আমি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সমর্পণ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নিয়েছি

ডেস্ক,২৯ আগষ্ট:
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দেশে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি টেস্টের উদ্ভাবক দলের প্রধান অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বর্তমানে আর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত নন। নাগরিকত্ব জটিলতায় পড়েছেন তিনি। জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হলেও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সমর্পণ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।

এদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ড. বিজন কুমার শীল যুক্ত না থাকলে গণস্বাস্থ্যের ১০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে।

অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘আমার আদি বাড়ি ও জন্ম বাংলাদেশে। তবে আমি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সমর্পণ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছি। তিন বছরের চুক্তিতে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলাম। গত ১ জুলাই ওই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করেছি। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনো সেটি বাড়ায়নি। পরে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ট্যুরিস্ট হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান করছি। এ অবস্থায় গণবিশ্ববিদ্যালয় বা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারি না। আর গণবিশ্ববিদ্যালয়ও আমার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখন ট্যুরিস্ট হিসেবে এখানে আছি। এ অবস্থায় এ দেশে গবেষণা, শিক্ষকতা বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত থাকতে পারি না। বিষয়টি ফয়সালা হলে তখন দেখা যাবে।’ এদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিজন কুমার শীলের মতো একজন বিজ্ঞানীকে আমার প্রতিষ্ঠানে রাখার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না বলে আগে আমি তাঁকে রাখতে পারিনি। এবার অ্যান্টিবডি কিট উদ্ভাবনে তিনি সব কিছু করেছেন। তাঁকে গণস্বাস্থ্য থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। আমার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের বিরোধ বা দূরত্বও তৈরি হয়নি। কোনো মহল হয়তো বিষয়টি অন্যভাবে দেখছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নাগরিকত্ব জটিলতায় গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের কাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। এটি করা না গেলে গণস্বাস্থ্যের ১০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে। আর সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে আরো অনেক বেশি। সরকার বিদেশি কিট আমদানির অনুমতি দিলেও আমাদের কিটের অনুমতি দিচ্ছে না।’সূত্র: কালের কণ্

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নবজাতকের স্নান নিয়ে ভুল ধারণা

ডা. অমৃত লাল হালদার:
‘ওর বয়স কত? স্নান করিয়েছেন?’- শরীর অপরিচ্ছন্ন দেখে প্রশ্ন করলাম। ‘কী বলেন স্যার!’ বলে তারা আকাশ থেকে পড়লেন। ‘মাত্র সাতদিন বয়স। নাভিও পরে নাই এখনো!’

হ্যাঁ। শিশুর স্নান নিয়ে আমাদের দেশে প্রচলিত আছে নানা ধরনের ভুল ধারণা ও কুসংস্কার। কয়েকটি জেনে নেওয়া যাক।

নাভি পরার আগে স্নান নিয়ে কুসংস্কার রয়েছে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্বাভাবিক ওজনের একটি সুস্থ ও সঠিক ওজনের শিশুকে (ওজন ২.৫ থেকে ৪ কেজি) জন্মের তিনদিন (৭২ ঘণ্টা) পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই স্নান করানো উচিত। নাভি না পড়লেও করানো যায়। তবে খেয়াল রাখুন, নাভি যেন ভেজা না থাকে। সুতি কাপড় বা টিস্যু দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। তবে কম ওজনের অসুস্থ দুর্বল শিশুর দেহের তাপমাত্রা অনেক সময় বেশি কমে যেতে পারে বলে দেরি কিছুটা করা যেতে পারে। তা না হলে স্বাভাবিকভাবে একটি নবজাতক শিশুকে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত করতে তিনদিনের বেশি দেরি করবেন না। বরং গোসলটাই জরুরি।

ঠান্ডা লেগে যাওয়া বিষয়েও কুসংস্কার রয়েছে।

নিয়মিত ফোটানো হালকা গরম পানিতে স্নান করালে শিশুর ঠা-া লাগার তেমন কোনো সুযোগ নেই। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় স্নান না করালেই বরং শিশু অস্বস্তি বোধ করে, বারবার ঘেমে যায়। এই ঘাম বসে গিয়ে ঠা-া লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা থাকলে চর্মরোগ বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। তাই যে কোনো আবহাওয়ায় ছোট-বড় সব শিশুকে প্রতিদিন হালকা গরম পানিতে স্নান করানো দরকার। বৃষ্টির দিন, মেঘলা দিন বা আবহাওয়া ঠা-া থাকলে একান্ত না করাতে চাইলে হালকা গরম পানিতে আরামদায়ক সুতি কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন। স্নানের সময় ফ্যান বন্ধ রাখুন। দ্রুত শুকনো কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে জামাকাপড় পরিয়ে দিন। এতে ঠা-া লাগবে না। মাথা ও চুলে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন।

ছোট-বড় কারোর স্নানের পানিতে ডেটল, স্যাভলন, সেনিটাইজার বা অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ ব্যবহার করা উচিত নয়। অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ বা সাবান ত্বকের উপকারী জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে। ফলে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয় ও ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। তা ছাড়া এগুলো বেশ কড়া রাসায়নিক, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এমনিতে নবজাতক শিশুরা বাইরের ধুলা-ময়লার সংস্পর্শে আসে না, তাই রোজ সাবান দেওয়ারও দরকার নেই। সপ্তাহে এক বা দুদিন সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

আবাসিক চিকিৎসক, শিশু ও নবজাতক বিভাগ,

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২

(মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা। ০১৭১৬৭৯৫৫২৫

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্যের ডিজি

ডেস্স্বাক,২১ জুলাইঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেছেন। আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন সচিবের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগপত্র গৃহীতের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারের জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ডা. সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ জুলাই, ২০২০

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে চারদিনের রিমান্ডে চেয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গতকাল (রোববার) দুপুরে আলোচিত চিকিৎসক সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

যেভাবে এলো ডা. সাবরিনার নাম
গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে আটক করে পুলিশ। হিরু আমাদের জানায়, সে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেটের ডিজাইন তৈরি করতো। এই ভয়ানক তথ্য জানার পর আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি এর সাথে কারা জড়িত। সে স্বীকার করেছে, কোর্টেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে যে ভুয়া রিপোর্টের সাথে জেকেজি গ্রুপের লোকজন জড়িত। ডিসি হারুন বলেন, তখন জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজনকে আটক করি। গ্রেফতার সিইওকে আমরা জিজ্ঞেস করি, ‘এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী।’ এরপর একে একে ছয়জনই এক উত্তর দিলেন।

কে এই ডা. সাবরিনা

ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। পুলিশ বলছে, সাবরিনা জেকেজির চেয়ারম্যান। তবে সাবরিনা নিজেকে জেকেজির ‘চেয়ারম্যান নয়’ বরং প্রতিষ্ঠানটির ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক পরামর্শক’ দাবি করেছেন।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাবরিনা আরিফের চতুর্থ স্ত্রী। তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিয়া ও লন্ডনে থাকেন। তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়েছে তার। চতুর্থ স্ত্রী ডা. সাবরিনার কারণেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা।

সূত্র আরও জানায়, ঢাকা, নায়ায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল সাবরিনা-আরিফ দম্পতির জেকেজি প্রতিষ্ঠান। নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া ছিল। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠকর্মীরা বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন। আবার অনেককে জেকেজির বুথের ঠিকানা দেয়া হতো। এভাবে কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতো।

পরে তাদের গুলশানের একটি ভবনের ১৫ তলার অফিসের একটি ল্যাপটপ থেকে ভুয়া সনদ দিত। ওই ল্যাপটপ থেকে জেকেজির কর্মীরা রাতদিন শুধু জাল রিপোর্ট তৈরির কাজ করতো। প্রতিটা সনদের জন্য নেয়া হতো পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিদেশিদের কাছ থেকে নেয়া হতো ১০০ ডলার। যদিও শর্ত ছিল বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে হবে। কিন্তু তারা সব ধরনের শর্তভঙ্গ করে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিত।

এদিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ডা. সাবরিনাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। রোববার (১২ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কিছু মানুষকে আক্রান্ত করার সাধ্য নেই করোনার : গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৫ জুন:

এতদিন ধরে বিশ্বব্যাপী ধারণা ছিল, করোনাভাইরাস যে কারও শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু মানুষের দেহে করোনা সংক্রমণ করার সাধ্য নেই। অর্থাৎ যেসব মানুষের দেহে ভাইরাসবিরোধী ‘টি সেল’ রয়েছে তাদের করোনা আক্রান্ত করতে পারবে না।

সম্প্রতি সেল জার্নালে এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। গবেষণায় বলা হয়, বিভিন্ন ধারার ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার কারণে অনেক মানুষের শরীরে ভাইরাসবিরোধী টি সেল তৈরি হয়। এই সেল করোনা রুখে দিতে সক্ষম। বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট সায়েন্স অ্যালার্ট বলছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সক্ষমতাকে বলা হয় ‘ক্রস-রিয়েক্টিভিটি’।

গবেষণায় মোট ৪০ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন। বাকি ২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে। যারা অন্য কোনও ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিলেন। সেই ২০ জন আক্রান্ত হয়নি।

বিজ্ঞানীরা আরও দাবি করছেন, যাদের শরীরে মৃদু করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল, তাদের শরীরেও এমন কিছু টি সেল এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে, যেগুলো ভবিষ্যতে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা থেকে সেরে ওঠা ২০ জনের শরীরেই শ্বেত রক্তকণিকা এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতি রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে যেসব নমুনা নেয়া ছিল, সেগুলোর ৫০ শতাংশের মধ্যেও ‘সিডি৪+’ নামের ‘টি-সেল’ পাওয়া গেছে।

গবেষণার সহকারী আলেসান্দ্রো সেটে বলেছেন, ‘টি সেল’ খুব দ্রুত শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও টি সিলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জুলাইয়ে বন্ধ হচ্ছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক, চাকরি হারাচ্ছেন ২ হাজার কর্মী

ডেস্ক,১৪ জুন: দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সূর্যের হাসির অধিকাংশ ক্লিনিক পহেলা জুলাই থেকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এতে চাকরি হারাচ্ছেন এই ক্লিনিকগুলোর দুই হাজার কর্মী। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

১৯৯৭ সাল দাতা সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩৯৯টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক নামে সরকারের সহযোগী সংস্থা হিসেবে তৃণমূলের প্রায় তিন কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছে। আগে ক্লিনিকগুলো ২৬টি এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ২০১৮ সাল থেকে এনজিওগুলোকে বিলুপ্ত করে ৩৯৯টি ক্লিনিকের মধ্যে ৩৬৯টি ক্লিনিক নিয়ে সূর্যের হাসি নেটওর্য়াক দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছর দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

আরো পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ আরও বাড়ছে

এনজিও ফেডারেশন সভাপতি বেলাল আহমদ বলেন, যারা বাংলাদেশে তিন কোটি মানুষকে সেবা দেয় তাদের দুই তৃতীয়াংশ কিন্তু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে অনেকে বঞ্চিত হবে। এতে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণকারী নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হবে।

অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির মাঝে চাকরি হারাচ্ছেন দুই হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। চাকরিহারা এই কর্মীরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ক্লিনিক ম্যানেজার মো. তাজ উদ্দিন বলেন, মানবতার মা, আপনি আমাদের এই সূর্যের হাসি ক্লিনিকের বেআইনি আদেশকে স্থগিত করে আমাদের চাকরিতে বহাল রাখবেন।

এদিকে ৩০ জুন থেকে দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

গবেষণায় উপসর্গহীনদের লালায় যে পরিমাণ করোনাভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই: ড. বিজন

• যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারা নির্ভয়ে সামনে এসে কাজ করতে পারেন।

• মাস দুয়েকের মধ্যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে।

• মাস্ক পরা আবশ্যক।

• সবচেয়ে বেশি ভয় আমাদের পানি নিয়ে। পানির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

• ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কানাডা থেকে আমাদের কাছে কিট চেয়েছে। জাপানও চেয়েছিল।

• ইউরোপিয়ান কমিশনকে অনুরোধ করলে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দিতে পারে।

• প্লাজমা থেরাপি ভালো, তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ‘জিআর-কোভিড-১৯ র‍্যাপিড টেস্ট’ কিট উদ্ভাবক বিজ্ঞানী-গবেষক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীলের থেকে মানুষের অনেক কিছু জানার আছে। জানার আগ্রহ আছে ড. বিজন সম্পর্কেও। দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে প্রথম কথা বলেছিলাম গত ৩০ মে। তিনি বলেছিলেন অনেক কিছু। কিন্তু পাঠকের আরও বহুকিছু জানার বাকি রয়ে গেছে। ফেসবুকে-ফোনে-ইমেইলে আমরা পাঠক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সে কারণে আবারও তার মুখোমুখি হয়েছিলাম গত ৭ জুন। বেশ কয়েকজন পাঠকের প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন ড. বিজন কুমার শীল।

করোনা নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মনে আতঙ্ক এবং বহুবিধ প্রশ্ন। এটি কি দুর্বল হয়ে গেছে? নাকি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে? প্রাণহানির সংখ্যা কি আরও বাড়বে? মানুষের করণীয় কী? আমরা ঠিক কোন অবস্থানে আছি?

আমার পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশে বর্তমানে পাঁচ ধরনের মানুষ আছেন। প্রথম সেই সৌভাগ্যবান মানুষরা যারা এক সময় নিজেদের দুর্ভাগ্যবান মনে করতেন। তারা সংক্রমিত হয়ে আবার সুস্থ হয়েছেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর এই রোগে আক্রান্ত হবেন না। কিছু মানুষ আছেন যারা আক্রান্তদের কাছ থেকে কিছুটা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। কিন্তু, তারা আক্রান্ত। আরেকটি গ্রুপ আছে যারা প্রকৃতি থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। তারা বাতাস বা পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের লক্ষণের পরিমাণ কম ছিল। হয়তো তাদের সামান্য জ্বর ছিল বা স্বাদ পাচ্ছিলেন না। করোনাভাইরাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে জানেন, এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলে মুখে স্বাদ থাকে না। এর কারণ হচ্ছে, জিহ্বায় যে স্বাদ বোঝার স্নায়ুগুলো থাকে তাতে এই ভাইরাস ইনফেকশন তৈরি করে। এমন যারা ছিলেন তাদেরও অনেকেই সুস্থ হয়ে গেছেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। তাদের আর সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আরও একটি গ্রুপ আছে, যাদের শরীরে কোনো প্রকার লক্ষণ নেই। কিন্তু, তাদের লালাতে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এই মানুষগুলো আমাদের জন্য ভয়ের কারণ। তারা অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু, তাদের কথা বলার সময় বা বিভিন্ন ভাবেই থুতুর সঙ্গে ভাইরাসটি আমাদের মাঝে ছড়াচ্ছে। আর শেষ গ্রুপ হচ্ছে যারা এখনও ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসেননি। তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদেরও অনেকের মধ্যেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হবে, অনেকের হয়ত কোনো লক্ষণ দেখা যাবে না। তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়াবে। যাদের বয়স একটু বেশি, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি চিন্তার কারণ হতে পারে। এটা যেহেতু মহামারি আকার ধারণ করেছে, তাই আমরা কখনোই ভাবতে পারব না যে ভাইরাসটি থেকে আমরা দূরে থাকতে পারব।

আমি মনে করি যারা ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে আবার সুস্থ হয়েছেন তাদের যদি খুঁজে বের করতে পারি তাহলে ১০০ ভাগ লকডাউন থেকে মুক্তি হওয়া যাবে। আমাদের পুলিশ ভাইদের রাস্তায় দেখি গরমের মধ্যে পিপিই পরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এটা কিন্তু দুঃসহ। তাদের মধ্যে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। এটা সত্য যে অনেকের দেহেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে লক্ষণসহ, আবার অনেকেই আছেন যাদের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

 

খুঁজে বের করার জন্যে তো পরীক্ষা করতে হবে। আমাদের তো পরীক্ষার সক্ষমতা অত্যন্ত কম। আপনার কি ধারণা, আমরা  এই প্রক্রিয়াতে এত মানুষের পরীক্ষা করতে পারব?

না পারার কোনো কারণ নেই। আমাদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন তাদের তো আমরা চিনি। তবে যাদের মধ্যে লক্ষণহীনভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল তাদের কিন্তু আমরা চিনি না। এই মানুষগুলোর শরীরে কিন্তু এরই মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন র‌্যাপিড টেস্ট। এর মাধ্যমে খুঁজে বের করা যাবে কারা লক্ষণ না দেখিয়েও অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে।

এদের শনাক্ত করার উপায় আছে। কিন্তু তার জন্য একটা পরিকল্পনা দরকার যে আমরা কি করতে চাই। এটা করা গেলে ১০০ ভাগ লকডাউন না করে কিছু মানুষকে সামনে আনা যাবে, যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

 

আপনাদের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা, লেখালেখি, তর্ক হয়েছে। এখনও সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা চলছে। আপনি কি এখনও আশাবাদী যে আপনাদের কিটের সুফল দেশের জনগণ পাবে?

আমি এখনও আশাবাদী। কারণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিকে এর ট্রায়াল চলছে, অপর দিকে আমরাও নিজেরা এখানে এর ট্রায়াল দিচ্ছি। আমরা আশা করি এই কিটটি আলোর মুখ দেখবে। এ দেশের মানুষ এই কিটের সুফল পাবে। এই কিটের মাধ্যমে আক্রান্তদের যেমন শনাক্ত করা সম্ভব তেমনি যারা আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থ হয়ে গেছেন তাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব। তাদের শনাক্ত করার মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্মুখ সারিতে এনে করোনা মোকাবিলায় কাজে লাগানো যেতে পারে। তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন।

আমাদের কিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, আমরা অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি দুটোকেই একসঙ্গে শনাক্ত করি। থুতুর ভাইরাসটি অত্যন্ত মারাত্মক। হাঁচি দিলে যে ভাইরাসটি বের হয় তা বাতাসে থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। কিন্তু, থুতুর মাধ্যমে যে ভাইরাসটি বের হচ্ছে তা মাটিতে পড়ে তার চারপাশে একটি বলয় তৈরি করে। যার মাধ্যমে এই ভাইরাস দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। ধুলা, পানি বা অন্য কোনোভাবে এই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ জন্যই যারা সংক্রমিত হয়েছে কিন্তু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না তাদের শনাক্ত করা খুব দরকার। আমি মনে করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ পরিকল্পনা করে এটা করা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারা নির্ভয়ে সামনে এসে কাজ করতে পারেন। এমনকি তারা মাস্ক না পরেও কাজ করতে পারবেন। যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তাদের পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

 

কয়েকদিন আগে বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটে ত্রুটি নিয়ে। এ সম্পর্কে কি একটু বলবেন?

আসলে আমাদের অ্যান্টিজেন কিটে কোনো ত্রুটি নেই। সমস্যা নমুনা সংগ্রহে। কিট আমরা নিয়মিত পরীক্ষা করে যাচ্ছি। আমরা পরীক্ষার জন্য যে কিট দিয়েছি, সেই একই লটের কিট আমরা রেখেছি। সমস্যা হচ্ছে লালা সংগ্রহ নিয়ে। রক্ত সংগ্রহ করার একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি আছে। কিন্তু, লালা সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা দেখলাম, লালা চাওয়া হলেও অনেকে লালার সঙ্গে কফ দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে লালা সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হলো। আশার কথা আমরা একটি পদ্ধতি বের করে ফেলেছি, যার মাধ্যমে যেখানেই লালা সংগ্রহ করা হোক না কেন প্রায় ৯০ শতাংশ সঠিকভাবে তা সংগ্রহ করতে পারবে। এটার ট্রায়াল আমরা দিয়েছি। প্রথমেই ডা. জাফরুল্লাহ স্যারের নমুনা নিয়েছি। ১০০ নমুনার ট্রায়াল আমরা করেছি এবং বেশ ভালো ফলাফল পেয়েছি।

পরীক্ষার জন্য নতুন এই পদ্ধতি আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেব। এরই মধ্যে অ্যান্টিবডি কিটের ট্রায়াল সম্ভবত সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা অনুরোধ করেছি এর অনুমোদন দিতে। এর জন্য হয়তো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

 

একজন দর্শক আপনার কাছে প্রশ্ন করেছেন কোডিভ-১৯ কতদিন থাকতে পারে। সে বিষয়ে কোনো ধারণা করা যায় কিনা?

ভাইরাসটি কতদিন থাকবে এটা বলা খুব মুশকিল। এই ভাইরাস যতদিন বাড়তে পারবে ততদিন থাকবে। যতদিন সে বাড়ার জন্য পর্যাপ্ত উপাদান পাবে ততদিন বাড়বে। যখন উপাদান পাবে না তখন আর বাড়বে না। মানুষের মধ্যে যত বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হবে ভাইরাসটি তত দ্রুত দুর্বল হবে, নির্মূল হবে। আমার ধারণা মাস দুয়ের মধ্যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে, যা ভেদ করে এই ভাইরাসটি আর সামনে এগোতে পারবে না।

 

আপনি এর আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ভাইরাসটির তীব্রতা ইতিমধ্যে কমে গেছে। এই তীব্রতা বলতে কি বুঝিয়েছিলেন?

ভাইরাসটি যে হারে ছড়াতে থাকে সেখানে কোনো বাধা পেলে তার তীব্রতা হারাতে থাকে। একটা পর্যায়ে সেভাবে আর আক্রমণ করতে পারে না। এটা ইউরোপে প্রমাণ হয়েছে। সেখানে ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশের যে তাপমাত্রা, এখানে বাতাসে হিউমিডিটি অনেক বেশি। এই ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং উচ্চ হিউমিডিটিতে টিকতে পারে না। আমার কাছে যেসব নমুনা এসেছে সেখানেও আমি কিছু বিষয় পেয়েছি। প্রথম দিকে ভাইরাসের যে অবস্থান ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে অচিরেই ভাইরাসটি তার শক্তি আরও হারাবে। আমরা এই ভাইরাসে তাণ্ডবলীলা থেকে মুক্তি পাব। আমাদের দেশে ক্রমশই বৃষ্টি বাড়ছে, হিউমিডিটিও বাড়ছে।

 

আমরা কি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসটি নিয়ে যথাযথ গবেষণা করতে পেরেছি?

আমাদের দেশে বেশ কিছু জিনোম সিকোয়েন্স হয়েছে।

 

আমাদের চিকিৎসক এবং নার্সরা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। এই সংখ্যাটা কম না। ইতালিতে হয়তো সংখ্যা আরও অনেক বেশি ছিল। ডাক্তারদের মৃত্যুর বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ কী?

করোনা মোকাবিলায় একেবারেই সম্মুখে যারা থাকেন তারা হচ্ছেন চিকিৎসক এবং নার্স। তারা সার্বক্ষণিকভাবে ভাইরাসটি মোকাবিলা করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আক্রান্ত হয় মারা গেছেন। এই বিষয়টি কিন্তু নির্ভর করে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সুরক্ষা ছিল কিনা, ভাইরাস সম্পর্কে তারা কতটা জানতেন বা কি করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে তাদের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। হতে পারে তারা অনেক সংবেদনশীল ছিলেন। ভাইরাসের পরিমাণের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। কারও শরীরে যদি এক লাখ ভাইরাস প্রবেশ করে আর কারও শরীরে যদি ১০ হাজার ভাইরাস প্রবেশ করে তাহলে দুজনের মধ্যে কিছু বেশ খানিকটা পার্থক্য হবে। এক লাখ ভাইরাস যে হারে বৃদ্ধি পেয়ে শরীরে ক্ষতি করবে, ১০ হাজার ভাইরাস তো আর সেই হারে করবে না। এসবের পাশাপাশি তাদের যদি অন্য কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেটাও একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আমি আশা করব যারা কাজ করছেন তারা আরও বেশি সতর্ক হয়ে কাজ করবেন।

 

একবার আক্রান্ত হলে আবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এই ব্যাপারটি অফিসিয়ালি শুনতে পাচ্ছি না কেন?

২০০৩ সালে যখন সার্স করোনাভাইরাস এলো তখন সেটা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়নি। মাঝে মার্স নামে মধ্যপ্রাচ্যে এসেছিল। এ ছাড়া প্রায় ১৭ বছর ভাইরাসটি ছিল না। ডেঙ্গু নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা না হওয়ার কারণে আমরা এ বিষয়ে অনেক কিছুই জানি না।

আপনারা হয়তো লক্ষ করছেন, আমি কিন্তু এই ভাইরাসটি নিয়ে কাজ করছি। করোনা আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ স্যারেরও অনেক কাছে থাকি। কিন্তু আমি এখনও ভালো আছি। আমার ধারণা আমার ইমিউনিটি ২০০৩ সালেই তৈরি হয়েছে।

 

অ্যান্টিবডি তৈরি হলে কতদিন একজন নিরাপদ থাকতে পারবেন?

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের ধারনার চেয়ে বেশি সক্রিয়। সাধারণত কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে তা এক বছরেরও বেশি সময় শরীরে থাকে। অন্তত এক বছর তো থাকবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি কিটের অনুমোদন দিয়েছে। আপনাদের কিট এবং এফডিএর অনুমোদিত কিটের মধ্যে পার্থক্য বা সামঞ্জস্য আছে কিনা?

কোভিড ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বের করার অনেকগুলো পদ্ধতি আছে। আমরা লালা থেকে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করছি। এটা সম্ভবত এখন পর্যন্ত শুধু আমরাই করতে পেরেছি। অন্যগুলো থেকে আমাদের পার্থক্য এটাই যে আমরা অত্যন্ত কম সময়ে ফল পাচ্ছি।

 

মাস্ক পরাটা কতটা জরুরি? কাপড়ের তৈরি মাস্ক কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে?

মাস্ক পরা আবশ্যক। আমি মনে করি পরতেই হবে। আমি গণস্বাস্থ্য থেকে একটি মাস্ক ডিজাইন করেছিলাম যার তিনটি লেয়ার। কাপড়েরই তৈরি সেটাও। তিনটি লেয়ার ভেদ করে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে না। এই মাস্কের সুবিধা হচ্ছে সাবান দিয়ে ধুয়ে ইস্ত্রি করে আবার পরতে পারবেন। যেকোনো মাস্ক পরলেই কাজ হবে তা নয়, মোটামুটি মানের মাস্ক পরতে হবে। কাপড়ের তৈরি তিন লেয়ারের মাস্ক অনেক ভালো কাজে দেবে।

 

বাসায় থেকে কতটা সুস্থ থাকা সম্ভব? বাজার বা অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বাসায় আনতেই হচ্ছে।

ভাইরাসটি বাতাসেও থাকতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে বাসার জানালা দরজা বন্ধ করে থাকতে হবে। দুই চারটা ভাইরাস যদি বাতাসের সঙ্গে আপনার ঘরে আসেও তা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমার সবচেয়ে বেশি ভয় আমাদের পানি নিয়ে। পানির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারি তাহলে আমাদের সুস্থ থাকা অনেকটাই সম্ভব। যদি দু-চারটা ভাইরাস শরীরে ঢুকেই যায় তাহলে সেটা ভ্যাকসিনের মত কাজ করবে।

 

ধরে নিলাম আপনাদের কিট অনুমোদন পেয়ে গেল। সে ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়ার কত দিনের মধ্যে আপনারা তা বাজারে দিতে পারবেন? লাখ লাখ মানুষের পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ কিট প্রয়োজন হবে তা তৈরির কাঁচামাল কি আপনাদের কাছে আছে?

খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন।

আমরা অনুমোদন পেয়ে গেলেই পরের দিন কিট দিতে পারব না। এটা সম্ভব না। আমরা এখন যে অনুমোদন পেয়েছি তা হলো পরীক্ষামূলক কিট তৈরি করার। যখন বাজারে দেওয়ার জন্য আমরা কিটটি তৈরি করতে যাব তখন অনেক কাঁচামাল লাগবে। তার জন্য আলাদা অনুমোদন লাগবে। অনুমোদন পেতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। আর সেই সঙ্গে কাঁচামাল আনতে আরও এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। কাঁচামাল পেয়ে গেলে প্রতিদিন আমরা ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কিট তৈরি করতে পারব। সেই ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়ে রেখেছি। শুধুমাত্র অনুমোদন পেলেই আমরা জনবল নিব এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেব।

 

বেশ কিছু দেশ আপনাদের সঙ্গে কিটের জন্য যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছিলাম। সেগুলো কি অবস্থায় আছে?

যোগাযোগ হয়েছিল। ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কানাডা থেকে আমাদের কাছে কিট চেয়েছে। জাপানের কাছে যখন কিট ছিল না তখন তারাও আমাদের কাছে চেয়েছিল। আরও কিছু দেশ যোগাযোগ করেছিল।

বাজারের অন্যান্য কিটের থেকে আমাদের কিটের একটি পার্থক্য আছে। এটা ব্যবহার করলে বোঝা যায়। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যেহেতু সময় লাগছে, ফলে আমরা তাদের কিছু বলতে পারছি না।

 

এই কিটটি নিয়ে আপনারা অনেক গবেষণা করেছেন, অর্থ লগ্নি করেছে। বাইরের অনেক দেশ আপনাদের কাছে এই কিট চেয়েছে। ধরেন, আপনাদের কিটটি অনুমোদন পেল না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন?

অনুমোদন না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। আমাদের কিটটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা করছে। তাদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী আমরা তাদের অনুরোধ করেছি পরীক্ষার উপাদান সংরক্ষণ করার জন্য। যাতে প্রয়োজনে আমরা পুনরায় সেগুলো পরীক্ষা করতে পারি।

 

আপনাদের কিট কি দেশের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করা সম্ভব? বাংলাদেশের আইন কি?

অবশ্যই করা যায়। ইউরোপিয়ান কমিশনকে আমরা অনুরোধ করলে তারা কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দিতে পারে। আমি যখন সিঙ্গাপুরে কাজ করেছি, তখন সেই দেশের আগেই আমরা অনুমোদন নিয়েছিলাম ইউরোপিয়ান কমিশনের। আমরা চাইছি এই অনুমোদন আমাদের দেশ থেকে আসুক। আপনারা হয়ত জানেন, কিটের বিভিন্ন তথ্য আমরা সহজে প্রকাশ করতে চাই না। আমরা বিজ্ঞানীরা কখনোই ১০০ শতাংশ তথ্য প্রকাশ করি না। সব তথ্য কোথাও লেখাও থাকে না। এটা যদি দেশের থেকেই অনুমোদন পায় তাহলে আমাদের সাহস থাকে।

 

প্লাজমা থেরাপি একটা বড় আলোচনার বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই থেরাপি নিয়ে খুব একটা ইতিবাচক অবস্থায় নেই। কিন্তু, আপনি এই থেরাপি নিয়ে ইতিবাচক। আপনার অবস্থানটা একটু পরিষ্কার করবেন?

আমি আমার আগের অবস্থানেই আছি। যারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন তাদের জন্য প্লাজমা থেরাপি খুবই দরকার। যেমন ডা. জাফরুল্লাহ স্যার। তিনি যে অনেকটা সুস্থ আছেন তা এই প্লাজমা থেরাপির জন্যই। যাদের শরীরে অন্যান্য সমস্যা আছে তাদের পক্ষে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। এই ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই সময় আপনি যদি কারও শরীরে অ্যান্টিবডি দিয়ে দিতে পারেন তাহলে তা অবশ্যই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে গ্রুপিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলব, সঠিক গ্রুপিং করে যদি রক্ত দেওয়া যায় তাহলে সেটা আরও ভালো। কারণ, রক্তের অ্যান্টিবডি ‘ভাইরাস যাতে বাড়তে না পারে’ তা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের প্লাজমা সেল অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রতি সেকেন্ডে তা দুই হাজার অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর শরীরে আরেকটি সেল থাকে, তা হলো মেমরি সেল। এটি খুব দ্রুত প্লাজমা সেল তৈরি করে। যার কারণে প্লাজমা থেরাপি ভালো হলেও তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া। এর ফলে ত্রিমুখী আক্রমণের মাধ্যমে ভাইরাসকে প্রতিহত করা যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাবে অনেক কিছুই। তারা অনেক পরে অনেক কিছু স্বীকার করে। এখন তারা বলছে, উপসর্গ না থাকা রোগীরা সংক্রমণ ঘটায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিসের উপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছে, আমি জানি না। এই বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছি। আমরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করছি। গবেষণায় প্রমাণ মিলছে, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের লালায় প্রচুর পরিমাণে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। তাদের লালায় যে পরিমাণ ভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই। উপসর্গহীনরাও ভাইরাস ছড়ায়, তারা অবশ্যই সংক্রমণের কারণ।

আমার ধারণা অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।

আমি মনে করি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিছু নয়। যদি হতো তাহলে আজ ভ্যাকসিন থাকত। ২০০৩ সালে সার্স করোনাভাইরাস এসেছিল। আজ ২০২০ সাল। এত দিনেও কেন করোনাভাইরাসে ভ্যাকসিন তৈরি হলো না? এই প্রশ্ন আমি তাদের বারবার করেছি।

 

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি কেউ প্লাজমা ডোনেট করতে পারবেন? নাকি এটা জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

যাদের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা গিয়েছে তাদের শরীরে ২১ দিনের মধ্যেই খুব ভালো পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সুস্থ হওয়ার সাধারণত একমাস বা ৪৫ দিন পর প্লাজমা দিলে ভালো হয়। প্লাজমা ডোনেশনের আগে ডোনারের প্লাজমা খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। যাদের খুব সামান্য পরিমাণে করোনা সংক্রমণ হয়েছে তাদের প্লাজমা এ ক্ষেত্রে কাজে দেবে না। কারণ তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি খুব কম থাকে।

 

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে এমন রোগী যদি বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হন তাহলে তার চিকিৎসা কী?

এ বিষয়ে ভালো উদাহরণ ডা. জাফরুল্লাহ স্যার। তিনি দীর্ঘ দিন কিডনি ডায়ালাইসিস করছেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ওষুধ নিতে হয়। সে ধরনের পরিস্থিতি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। তবে এমন রোগীদের সাবধানে থাকাই ভালো।

মনের জোরটা অনেক বড় বিষয়। কখনো রোগকে ছাড়বেন না। করোনাকে আপনাকে জয় করতে হবে। একে কখনো ভয় পাবেন না। আপনার আশপাশ দিয়ে এটা চলে যাবে, আপনি টেরও পাবেন না। তবে সতর্ক থাকুন।

 

আশপাশে যদি করোনা রোগী থাকে তাহলে সতর্ক থাকব কীভাবে?

মাস্ক অবশ্যই পরবেন।

 

আজকের শেষ প্রশ্ন। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কোথায় এবং কিভাবে করব?

অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হচ্ছে না। বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার জন্য একমাত্র পিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বাংলাদেশে এখনও অনুমোদন পায়নি। করোনা চিকিৎসার জন্যে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কিট দিয়ে যা তিন থেকে পাঁচ মিনিটে করা সম্ভব।

আশা করছি আমরাই প্রথম তা করতে পারব, অনুমোদন পাব। গণস্বাস্থ্যের প্রতিটি কর্মী এবং দেশের মানুষ আশা করছেন তারা এই কিটের সুফল পাবেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সূর্যের আলোতে কয়েক মিনিটেই মারা যায় করোনা : গবেষণা

জাগো নিউজ ডেস্ক,২৪ এপ্রিল:
সূর্যের আলোতে কয়েক মিনিটেই মারা যেতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে যে, সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির বিকিরণ করোনাভাইরাসের জেনেটিক উপাদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এতে এর বিস্তার বাধাপ্রাপ্ত হয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা উইলিয়াম ব্রিয়ান হোয়াইট হাউস থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন গবেষণা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও আদ্রতা বৃদ্ধি করোনাভাইরাসের জন্য ক্ষতিকারক। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, গ্রীষ্মে হয়তো এই ভাইরাসের বিস্তার কমতে শুরু করবে।

এর আগেও এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে করোনার বিস্তার কমানো সম্ভব। এটা বিশ্বের যে কোনো স্থানের জন্যই প্রযোজ্য। তবে শুধুমাত্র আবহাওয়া পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ভাইরাসের প্রকোপ একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সে সময় চীনের বেইহাং এবং সিনঘুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানান, চীনের শতাধিক শহরে আবহাওয়া উষ্ণ এবং সেখানকার আদ্রতা বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯য়ের প্রকোপ কমেছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

করোনার দুর্দিনে টেলিমেডিসিনই হোক সমাধান

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে ডাক্তারের নিয়মিত পরামর্শ নেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টেলিমেডিসিন অ্যাপ্লিকেশন হয়ে উঠতে পারে খুবই কার্যকরি একটি সমাধান।

বৈশ্বিক মহামারি চলাকালে নিজের বাসা থেকে বের হওয়াই যখন অসম্ভব, তখন বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এমন অবস্থায়, SeekMed-এর মতো একটি টেলিমেডিসিন অ্যাপের মাধ্যমে নিতে পারেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ।

সংক্রামক কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে হাজারো মানুষ। আশঙ্কার ব্যাপারটি হচ্ছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। যে কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়ে পড়েছে আরও জরুরি।
করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে মূলত তিনটি উপায়ে: ১) কোনো ব্যক্তি যদি আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে আসে, তাহলে সে ভাইরাসটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। ২) আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে তার ৬ ফুট দূরত্বে অবস্থানরত যে কেউ এই ভাইরাসটি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ৩) জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে, এমন কোনো জায়গায় স্পর্শের মাধ্যমে বা জীবাণু যুক্ত হাতে মুখ বা চোখ স্পর্শ করার মাধ্যমে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের কারণে যাঁরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন এবং যাঁদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা প্রয়োজন, উভয় পক্ষই কঠিন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। যাঁরা সাধারণ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে চাইছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বের প্রতিটি সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, নিচ্ছে। ইতিমধ্যে আরোপ করতে হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। চলে যেতে হয়েছে লকডাউনে। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে মেডিকেল ট্যুরিজম। চীন, ইতালি, সিঙ্গাপুর ও ভারতের মতো দেশগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য যাওয়া হয়ে পড়েছে অসম্ভব। বিদেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য অধিকাংশ বাংলাদেশি ভরসা করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওপর। কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ভারতও এই মুহূর্তে রয়েছে লকডাউনে। জারি করেছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। ঢুকতে দিচ্ছে না বাইরের কোনো নাগরিককে।

কিন্ত এই মহামারির মাঝেও অন্যান্য রোগে জরুরি ডাক্তারি পরামর্শ প্রয়োজন হতেই পারে। হয়তো কোনো একটি রোগ আপনাকে অনেক দিন ধরেই ভোগাচ্ছে। এবং আপনার মনে হচ্ছে, এই রোগটি নিয়ে আর অবহেলা করা উচিত হবে না। অথবা হঠাৎ করেই আপনি কোনো একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এবং আপনার দ্রুত ডাক্তারি পরামর্শ প্রয়োজন। কিন্তু মহামারী চলাকালে, যখন নিজের বাসা থেকে বের হলেই আপনি আক্রান্ত হতে পারেন একটি সংক্রামক রোগে, এমন অবস্থায় আপনি কীভাবে নেবেন বিশেষজ্ঞ ভারতীয় ডাক্তারের পরামর্শ?

ঠিক এই ক্ষেত্রেই সমাধান দিতে পারে SeekMed। ইন্টারনেটের এই যুগে, আপনি বাড়ির বাইরে পা না রেখেই নিতে পারেন কাঙ্ক্ষিত ডাক্তারের পরামর্শ। সুতরাং, SeekMed অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ভারতে না গিয়েই নিন প্রখ্যাত ভারতীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ। SeekMed-এর অফিশিয়াল পেমেন্ট পার্টনার বিকাশের মাধ্যমে ঘরে বসেই পেমেন্ট করুন। এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে গ্রহণ করুন প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শ।
প্রথম আলো:

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ঘরেই যেভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করবেন!

যেভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ঘরে থাকা রোগীদের

ঢাকার একজন চিকিৎসক গত সোমবার জানতে পারেন তার করোনাভাইরাস হয়েছে। এরপর তিনি প্রায় পাঁচদিন ধরে ঘরে কোয়ারেন্টিনে থেকেই কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শুক্রবার করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়ার পর রোববার তার নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং উপসর্গ মৃদু হওয়ায় চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি ঘরে চিকিৎসা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনের শুরু থেকে আমি আলাদা একটি রুমে আছি, যেই রুমের সাথে বাথরুম আছে। আমার খাবার রুমের বাইরে রেখে যাওয়া হয় এবং আমি এখন পর্যন্ত ঐ ঘর থেকে বের হইনি।’

শুরুতে জ্বর, কাশি, শরীরে ব্যথা হওয়ার মত কিছু উপসর্গ দেখা গিয়েছিল তার। তবে কয়েকদিন ঘরে চিকিৎসা নেয়ার পর তার উপসর্গ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের সাথে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। চিকিৎসকরা তাকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত উপদেশ দিয়েছেন বলে জানান ওই নারী। তাকে পানীয় জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি – যেমন লেবু, কমলালেবু ইত্যাদি ফল খাওয়া এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পানি, স্যালাইনের মত তরল খাবার খাওয়ার পেছনে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত গরম খাবার বা গরম পানীয় খাচ্ছি। পাশাপাশি নাকেমুখে পানির বাষ্প নেয়াও অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি জানান, নিয়মিত চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগের সময় তার উন্নতি ও উপসর্গের মাত্রা যাচাই করে চিকিৎসকরা তার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মন্তব্য জানান।

চিকিৎসকরা কীভাবে ঘরে থাকা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন?

ঘরে কোয়ারেন্টিন অবস্থায় থাকার ক্ষেত্রে এই নারী বা তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে কোনওধরনের বিরূপ মনোভাবের শিকার না হলেও তার পরিচিত কয়েকজন আক্রান্ত রোগী নানা ধরণের জটিলতার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান।

আর বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত অনেকেই এই ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্নাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান। তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন করোনাভাইরাস রোগীদের খোঁজখবর রাখছেন।

পরিবার বা বাড়িতেকোয়ারেন্টিন করার পরিস্থিতি না থাকা, হল বা মেসে থাকায় সেবাযত্ন করার মানুষ না থাকায় এবং অনেকসময় পাড়া প্রতিবেশী বা বাড়িওয়ালার আপত্তিতেও মানুষের ঘরে বসে চিকিৎসার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই রয়েছেন যাদের অল্প উপসর্গ রয়েছে ও বাসায় চিকিৎসা করা সম্ভব, কিন্তু নানা সমস্যার কারণে তাদের ঘরে চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না – এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা হচ্ছে আমাদের।’

তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ কোভিড-১৯ রোগীকে এখন ঘরে রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলেও যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান নাজমুল হাসান।

ডাক্তার হাসান জানান, ঘরে যারা চিকিৎসা নেন, তাদের ক্ষেত্রে মূলত কয়েকটি বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়। কাশি অনেক বেড়ে যাচ্ছে কিনা, শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে কিনা, জ্বরের তীব্রতা বেড়ে অজ্ঞান ভাব হচ্ছে কিনা এবং শারীরিক অস্বস্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে কিনা।

ঘরে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা এ বিষয়গুলোর নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। অবস্থা খারাপ হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জাপানের অ্যাভিগান ওষুধটি করোনায় ম্যাজিকের মতো কাজ করে

নিজস্ব প্রতিবেদক,১১ এপ্রিল:
করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় নিজেদের তৈরি অ্যাভিগান ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইতোমধ্যে শুরু করেছে জাপানের ফুজি ফিল্ম। এবার বিশ্বের ২০টি দেশে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে ফ্লু-রোধী ‘অ্যাভিগান’ ওষুধ সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপান সরকরা।

সাধারণত, ঠান্ডা-সর্দির চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যাভিগান ওষুধটি চীনে করোনা চিকিৎসায় ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল। চীনের ট্রায়ালে দেখা যায়, করোনায় আক্রান্ত যেসব রোগীকে ওই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। অ্যাভিগানের জেনেরিক নাম অবশ্য ফ্যাভিপিরাভির।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তশিমিসু মোতেগি সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। পৃথক আরেক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োহিশিদে সূগাও একই কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি বলেন, ‘আরও ৩০টি দেশ এ ওষুধ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে।

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োহিশিদে সূগা বলেছেন, ‘সরকার অ্যাভিগান ওষুধটির ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ইচ্ছুক দেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপক পরিসরে এ গবেষণা করতে চায়। তাই জাপান সরকার বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধের অনুরোধ জানানো প্রতিটি দেশকেই তা সরবরাহ করবে।’

বিনামূল্যে অ্যাভিগান পেতে যাওয়া এই ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে, বুলগেরিয়া, চেক রিপাবলিক, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। দেশগুলোতে ক্লিনিক্যাল টেস্ট চলছে। জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.-এর অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ হিসেবে পরিচিত ‘অ্যাভিগান’।

২০১৪ সাল থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে অ্যাভিগান। সম্প্রতি চীন সরকার দাবি করে, এ ওষুধ ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে ভাল কাজে দিয়েছে। এরপরই বিশ্বে ওষুধটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। অ্যাভিগান কেনা ও বিতরণের জন্য জাপান জাতিসংঘ তহবিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলারও দেবে।

গত মাসের শেষদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, তার সরকার নতুন এই ভাইরাসের চিকিৎসা হিসেবে অ্যাভিগানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তার এমন ঘোষণার পরপরই তৃতীয় ধাপে ট্রায়াল এবং ২০ দেশকে বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা আসে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে কি করবেন

শিশুর পেটে গ্যাস হলে মা-বাবা চিন্তায় পড়ে যান কী করলে ভালো লাগবে, কান্নাকাটি একটু থামবে কিংবা কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন ইত্যাদি। আসল কথা হলো, পেটে গ্যাস বাচ্চাদেরও হয় আবার বড়দেরও হয়। বাচ্চারা বলতে পারে না যে তাদের কেমন লাগছে আর তাই আমরা বুঝতেও পারি না।

বাচ্চার পেটে গ্যাস হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। জন্মের তিন মাস পর্যন্ত নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা খুবই স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চার পরিপাক্তন্ত্র ধীরে ধীরে সুগঠিত হয়। ৬-১২ মাস পর্যন্তও এটা স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চা বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রথম বারের মত খাওয়া শুরু করে।

বাচ্চার পেটে যখন গ্যাস হয় তখন তার পাকস্থলী বাতাসের কারণে ফুলে যায় যা বাচ্চার হজমের প্রক্রিয়ার কারণে হতে পারে বা খাওয়ার সময় বাচ্চার পেটে বাতাস ঢুকে যাওয়ার কারনেও হতে পারে।

খুব দ্রুত খাওয়া:- যদি বাচ্চার মায়ের বুকের দুধ বেশী থাকে বা বোতলে খাওয়ানো বাচ্চার বোতলের নিপলের ছিদ্র যদি বড় থাকে তবে বাচ্চা খুব দ্রুত দুধ গিলতে থাকে এবন সেই সাথে বাতাসও বাচ্চার পেটে চলে যায়, যার কারণে গ্যাস হতে পারে।

খুব আস্তে খাওয়া:- একইভাবে মায়ের বুকে দুধ কম আসলে বা বোতলের ছিদ্র বেশী ছোট হলে বাচ্চার দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস বাচ্চার পেটে চলে যায় এবং গ্যাস তৈরি করে।

বোতলের দুধে ফেনা থাকলে:- বাচ্চাকে ফর্মুলা খাওয়ানো হলে ফর্মুলা তৈরি করার সময় বোতল যত বেশী ঝাঁকানো হয় তত বেশী তাতে ফেনা হয়। এতে বাচ্চার পেটে গ্যাস হতে পারে। তাই দুধ তৈরি করার পর কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে ফেনা কমে যায়। এরপর বাচ্চাকে খেতে দিন।

দুধের কোন নির্দিষ্ট প্রোটিন এর কারণে:- বাচ্চার যদি বুকের দুধ খায় তবে মায়ের ডায়েটের কোন প্রোটিনের কারণে বাচ্চার পেটে গ্যাস হতে পারে। মা ডেইরি প্রোডাক্ট খেলে এ সমস্যা বেশী দেখা যায়। কিসের কারণে হচ্ছে তা নিশ্চিত করা গেলে তা মায়ের ডায়েট থেকে বাদ দিন। যদি বাচ্চা ফর্মুলা খায় তবে ফরমুলার কোন প্রোটিন হয়ত বাচ্চার সহ্য হচ্ছেনা তাই গ্যাস হচ্ছে। এমন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফর্মুলা পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। মায়ের ডায়েটের কারণে হচ্ছে মনে হলে মায়ের ডায়েট থেকে একবারে একধরনের খাবার বাদ দিয়ে দেখুন বাচ্চার সমস্যা কম হচ্ছে কিনা।

কিছু কিছু খাবারের কারণে:- বড়দের মত বাচ্চাদের কিছু কিছু সবজিতে পেটে গ্যাস হতে পারে। যেমন- ব্রকলি এবং বাঁধাকপি। এগুলো যদি খুবই স্বাস্থ্যকর এবং খাওয়া উচিত তারপরও চেষ্টা করুন যাতে খুব বেশী পরিমাণে খাওয়ানো না হয়। ছয় মাস বয়সের পর বুকের দুধের পাশাপাশি একটু বাড়তি খাবার দেওয়া হয়। এতেও অনেক সময় পেটে গ্যাস হতে পারে। এসব শিশুর বাড়তি খাবারে বিভিন্ন প্রকার ফল বা শাকসবজি দিয়ে খিচুড়ি এবং মাছ-মাংস ও ডিম থাকে। অনেক সময় খিচুড়িতে শাকের পরিমাণ বেশি হলে গ্যাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে আবার ডালেও গ্যাস হতে পারে, এমনকি সিদ্ধ ডিমেও গ্যাস হতে পারে। তাই উচিত বাড়তি খাবার দেওয়ার সময় খাবারের দিকে নজর রাখা। যেমন- খিচুড়িতে শাক ও ডালের পরিমাণ কম দিয়ে কাঁচা কলা বা কাঁচা পেঁপের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

জুস খাওয়ার কারণে:- বাচ্চাদের মায়ের দুধ এবং ফর্মুলা ছাড়া অন্য কোন পানীয় খাওয়া উচিত নয়। যদি ৬ মাস হয় তবে পানি খেতে পারে। জুসে যে ফ্রুক্টোস ও সুক্রোস থাকে তা বাচ্চা ঠিকমত হজম করতে পারেনা। এর ফলে বাচ্চার পেটে গ্যাস এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়া:- বাচ্চা ৬ মাস হওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি খেলে তার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেক সময় পেটে গ্যাস ও ব্যাথা হয়। ৬ মাস বয়সী বাচ্চাকে দৈনিক বুকের দুধ বা ফর্মুলার পাশাপাশি ২-৪ আউন্স পানি খাওয়াতে হবে। বাচ্চার বয়স ১২ মাস হলে তা বাড়িয়ে ৪-৬ আউন্স করুন।

বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নার কারণে:- বাচ্চা অনেক্ষন ধরে কান্না করতে থাকলে তার পেটে বাতাস ঢুকে যেতে পারে। তাই বাচ্চার কান্না যত দ্রুত সম্ভব থামানো উচিত।

বাচ্চার পেটে গ্যাস হচ্ছে কিনা সেটা বোঝাটা কষ্টকর কারণ বাচ্চা নিজ থেকে তার অসুবিধাগুলো বলতে পারেনা। তবে কিছু কিছু লক্ষন তার মধ্যে দেখা যেতে পারে-

চেহারা লাল হয়ে যাওয়া

কান্নাকাটি করা

খাওয়ার পর মোচড়ানো

হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা

পা ভাজ করে পেটের কাছে নিয়ে আসা ইত্যাদি।

তাছারা বাচ্চা যদি ঢেঁকুর তুলে বা বায়ু ত্যাগ করে তাহলে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবেন যে তার গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে।

তবে মাঝে মাঝে গ্যাসের সমস্যার এ লক্ষনগুলো অন্য কোন সমস্যারও ইঙ্গিত করতে পারে। বাচ্চা যদি ঢেঁকুর তোলার পর বা বায়ু ত্যাগ করার পরও কান্নাকাটি করতে থাকে তবে ধরে নিতে পারেন তার অন্য কোন সমস্যা হচ্ছে, যেমন- রিফ্লাক্স, কোষ্ঠকাঠিন্য বা কলিক।

বাচ্চার রিফ্লাক্স থাকলে তার পাকস্থলীর খাবার অন্ননালী দিয়ে উঠে এসে মুখ দিয়ে বের হয়ে যায় বা বমি হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বাচ্চার কষ্ট হয় এবং তার পিঠ বাকা করে ফেলে কিন্তু গ্যাসের সমসসার মত পা ভাজ করে পেটের কাছে আনেনা। গ্যাস এবং রিফ্লাক্সের মধ্যে পার্থক্য বোঝাটা জরুরী কারণ বাচ্চার রিফ্লাক্স থাকলে যদি ঢেঁকুর তোলা হয় তবে তা আরও খারাপ হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণেও বাচ্চার পেটে গ্যাস হওয়ার মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এ সময় বাচ্চা মোচড়াতে থাকে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য বোঝাটা সহজ কারণ তা হলে বাচ্চার পায়খানা করতে কষ্ট হয় এবং পায়খানা শক্ত হয়ে যায়।

বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নার কারণেও মাঝে মাঝে মনে হতে পারে বাচ্চার পেটে গ্যাস হয়েছে। কিন্তু এটা কলিকের কারনেও হতে পারে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে আপনার বাচ্চা যদি সাধারানত দিনে তিন ঘণ্টা বা তার বেশী, সপ্তাহে তিন বা চার দিনের বেশী এবং একটানা তিন চার সপ্তাহের বেশী কান্না করতে থাকে এবং তার যদি কোন ব্যাখ্যা না থাকে, ধরে নিতে পারেন বাচ্চা হয়ত কলিক।

বাচ্চাকে গ্যাসের কারণে কষ্ট পেটে দেখতে সব বাবা মায়েরই খারাপ লাগে। তবে কিছু কিছু পদ্ধতিতে আপনি বাচ্চার পেটে গ্যাস বের করে দিয়ে তার কষ্ট কমাতে পারেন।

দুধের বোতল:- বাচ্চা যদি বোতলে দুধ খায় তবে খেয়াল রাখুন যাতে দুধ খাওয়ার সময় বাচ্চার পেটে বাতাস বেশী না যায়। বোতল উচু করে ধরুন যাতে বোতলের নিপল দুধ পরিপূর্ণ থাকে। নিপল খালি থাকলে দুধের সাথে সাথে বাতাস বাচ্চার পেটে যেতে পারে। বোতলের নিপলের ছিদ্র যাতে বেশী ছোট বা বেশী বড় না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নিপল বেশী বড় বা ছোট হলে বাচ্চার ঢোক গিলতে হয় বেশী যা গ্যাস উদ্দ্রেক করে। বাজারে এখন অ্যান্টি কলিক অনেক ফীডিং বোতল কিনতে পাওয়া যায় যেগুলো বাচ্চার পেটে বাতাস যাওয়ার পরিমান অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করে।

খাওয়ানোর সময় বাচ্চার পজিশন:- বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় তার উপরিভাগ উঁচু করে ধরুন যাতে দুধ সহজে এবং দ্রুত তার পেটে যেতে পারে। যদি খাওয়ানোর সময় বাচ্চা বাকা হয়ে থাকে তবে গ্যাস বেশী হতে পারে।

খিদে পাওয়ার আগেই খাওয়ান:- বাচ্চাকে খিদে পাওয়ার আগেই খাওয়ান। যদি সে খিদের কারণে কাঁদতে থাকে তবে কান্নার সাথে সাথে যেমন পেটে বাতাস যায় তেমনি খাওয়ানোর সময় সে খিদের কারণে তারাতারি খেতে চায় বলে বেশী বেশী ঢোক গিলতে থাকে এবং সেই সাথে বাতাসও। খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে শান্ত পরিবেশে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।

ঢেঁকুর তুলুন:- খাওয়ানোর সময় বার বার ঢেঁকুর তোলালে বাচ্চার পেট থেকে বাতাস বেরিয়ে যায়। বাচ্চার খাওয়া শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তন পরিবর্তন করার আগে বা বোতলে দুধ খাওয়ানোর সময় কয়েক মিনিট পর পর বাচ্চার ঢেঁকুর তুলুন। খাওয়ানোর ঠিক পরপর আবার ঢেঁকুর তোলাতে হবে। ঢেঁকুর তোলানর জন্য বাচ্চাকে আপনার কাঁধে এমনভাবে নিন যাতে তার থুতনি আপনার কাঁধে থাকে। একহাতে বাচ্চাকে ধরুন এবং আরেক হাত দিয়ে বাচ্চার পিঠ মাসাজ করে দিন বা আস্তে আস্তে চাপড়ে দিন। বাচ্চা যদি তার মাথা তুলে ধরার মত উপযোগী হয় তবে তাকে এমনভাবে কাঁধে নিতে পারেন যাতে তার পেট আপনার কাঁধে লেগে থাকে এবং এরপর আস্তে আস্তে তার পিঠ চাপড়ে দিন বা মাসাজ করে দিন। এতে বাচ্চার পেটে আরেকটু বেশী চাপ পড়বে। এভাবে যদি বাচ্চা পছন্দ না করে তবে বাচ্চাকে কোলে উপুড় করে শুইয়ে তার পিঠ মাসাজ করে দিতে পারেন।

বেবী বাইসাইকেল:- বাচ্চাকে চিত্‍ করে শোয়ান। তার পা দুটো দু হাতে ধরে আস্তে আস্তে সাইকেল চালানোর ভঙ্গিতে নাড়াতে থাকুন। দিনে বেশ কয়েকবার এভাবে বাচ্চার মুভমেন্ট করান। ডায়াপার পাল্টানোর সময় করতে পারেন। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রেই এতে গ্যাস বেরিয়ে যায়।

পেটে মাসাজ করুন:- বাচ্চাকে চিত্‍ করে শুইয়ে আস্তে আস্তে তার পেট মাসাজ করতে পারেন। এতে বাচ্চার রিলাক্স হওয়ার পাশাপাশি গ্যাস সমস্যার উপসম হতে পারে। এছাড়াও বাচ্চাকে আপনার হাঁটুর উপর পেটে ভর দিয়ে শুইয়ে তার পিঠে মাসাজ করে দিতে পারেন। এর ফলে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত বাতাস বেরিয়ে যায়। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার মাথা যেন ঝুঁকে না যায়। এজন্য এভাবে মাসাজ করার সময় আরেক হাতে বাচ্চাকে সাপোর্ট দিতে হবে।

গ্যাসের ওষুধ ও অন্যান্য:- অনেক বিশেষজ্ঞই বাচ্চার গ্যাসের সমস্যা নিরাময়ে বিভিন্ন গ্যাসের ওষুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গ্রাইপ ওয়াটার ও অনেক সময় ব্যাবহার করা হয়। এগুলোতে শিশুর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারনত পাওয়া যায়নি তবে বিভিন্ন গবেষণাতে এটাও প্রমানিত হয়নি যে এগুলো খুব বেশী একটা কার্যকর। বাচ্চার গ্যাসের সমস্যা কেন হচ্ছে সেটা আগে চিহ্নিত করা দরকার এবং সে সমস্যাটার সমাধান জরুরী। যদি কোন খাবারের কারণে বাচ্চার গ্যাস হয় সেটা আগে চিহ্নিত করতে হবে। নয়ত যে কাজটার কারণে তার সমস্যা হচ্ছে সেটা চলতেই থাকবে আর তাকে বিভিন্ন ওষুধও খাওয়ানো হবে। এতে তার ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু হবেনা। মনে রাখতে হবে প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধ করাটাই উত্তম। তাই উপরে যে পদ্ধতির কথাগুলো আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো চেষ্টা করে দেখুন। একেবারেই যদি কিছু না হয় বা বাচ্চা বেশী কষ্ট পায় তবে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করাতে পারেন।

যদি বাচ্চার গ্যাসের সমস্যার সাথে অন্যান্য আরও কিছু লক্ষন দেখা যায়, যেমন- বমি, ডায়রিয়া বা জ্বর তবে দ্রুত ডাক্তারকে জানান। এগুলো বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি, স্টোমাক ফ্লু বা GERD এর লক্ষন হতে পারে।

ডাঃ দাস
ডিএইচএমএস(ঢাকা)

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বাম হাতে বিসিজি টিকার দাগ থাকলে পাচ্ছেন করোনার সুখবর

ডেস্ক,২এপ্রিলঃ
আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের শরীরে দেয়া হয়েছে বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন টিকা। এ মুহূর্তে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান ভাবতে পারেন যদি আপনার বাম হাতে থাকে বিসিজি টিকার দাগ। এটি যক্ষার প্রতিষেধক হিসেবে শৈশবে দেয়া হয়েছিল। আর এই টিকাই প্রতিরোধ করতে পারে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশ্বে বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অফ অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের এক গবেষণায় এমনটি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অফ অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর যে সব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান কর্মসূচি যে সব দেশে চালু আছে ওইসব দেশের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম।
গবেষণায় দাবি করা হয়, বিসিজি টিকা আসার পর থেকে বিশ্বে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়, মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে বিসিজি কার্যক্রম শুরু করে ইরান। দেশটিতে বিসিজি টিকা দেয়া মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি তেমন একটা পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিসিজি টিকা না দেয়ার কারণে চীন এবং ভারতের চেয়ে করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে গবেষণায় দাবি কর হয়। কারণ চীন এবং ভারতে বহুকাল ধরে বিসিজি টিকার প্রচলন রয়েছে।

আর এমন দাবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিও । চীন থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইতালিতে। আর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩ হাজার ১৮০ জন। মারা গেছেন ৩৯ হাজার ৩৩ জন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter