Home » স্বাস্থ্য চিকিৎসা

স্বাস্থ্য চিকিৎসা

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয় যেসব কারণে

অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার জন্য অত্যন্ত জরুরী একটি ওষুধ। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার করলে দেহের রোগ- জীবাণু ধ্বংসে সেই ওষুধ আর কাজ করে না।

বরং তারা আরও শক্তিশালী হয়ে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ওষুধটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। অর্থাৎ এটি তখন শরীরের রোগ সারাতে ব্যর্থ হয়। এভাবে ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার করতে থাকলে একসময় সব অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের জন্য অকেজো বা ব্যর্থ হয়ে যাবে। এসব অ্যান্টিবায়োটিকের সবগুলো যদি কারো শরীরে অকেজো বা ব্যর্থ হয়ে যায়, তাহলে তার মৃত্যু অনিবার্য। কারো শরীরে এই অ্যান্টিবায়োটিক অকেজো বা ব্যর্থ হওয়াকেই বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।

এদিকে কোন ব্যক্তি যদি অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার করতে করতে প্রায় সবগুলো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যান। অর্থাৎ তার শরীরের রোগ-জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধকে অকার্যকর করে নিজস্ব কোষের মিউটেশন ঘটায়। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির শরীরের জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী হয়ে উঠে। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হলে ছোট খাটো রোগে আক্রান্ত হয়ে কারো কারো সহজে মৃত্যু হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের পর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স-এর কারণে আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেরই কার্যকারিতা থাকবে না। ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের কারণে দিন দিন ওষুধের প্রতিরোধী ক্ষমতা হারাচ্ছে বলে একইরকম মতামত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা। এ সমাস্যা মহামারি আকার ধারণ করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে করোনা ভাইরাসের চেয়ে বেশি সংকটে পড়বে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মত ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ঘটনার মূল কারণগুলো কী তাহলে চলুন জেনে নেই।

যেসব কারণে আপনিও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হতে পারেন:

* প্রাকৃতিক কারণ: অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ক্রমাগত প্রকাশের কারণে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিকশিত হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের ব্যবহার বা সংশ্লিষ্ট মানুষের ক্লিনিকাল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারেরও আগে কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হয়েছে।

* নিজের মন মতো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণ: নিজে নিজে বা অন্য ব্যক্তির পরামর্শে (যিনি একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক নন) ওষুধ গ্রহণ করাকে দেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিবর্তনের প্রাথমিক কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারে আপনিও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যেতে পারেন। আরও সহজ কথায় যেকোন অসুখে নিজের মন মতো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ঘন ঘন খেলে দেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরী হতে পারে।

* চিকিৎসকদের দ্বারা ক্লিনিকাল অপব্যবহারের শিকার হওয়া: স্বাস্থ্যসেবা খাতের চিকিৎসকদের দ্বারা ক্লিনিকাল অপব্যবহারের কারণে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সিডিসির এক গবেষেণায় উঠে এসেছে, যে অ্যান্টিবায়োটিকের চিকিৎসায় দেখা যায় ব্যবহৃত এজেন্টের পছন্দ এবং থেরাপির সময়কাল ৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ভুল ছিল।

* সময়ের হেরফের করে ওষুধ খাওয়া: ওষুধ নিয়মমাফিক না খেয়ে সময় অসময়ে খেলে দেহের রোগ-জীবানু অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

* মহামারী চলাকালে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বৃদ্ধি করা: করোনা মহামারী চলাকালীন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বৃদ্ধি এই বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হুমকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে করোনা মহামারীকে বোঝা হিসাবে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেউ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেলে করোনার সংক্রমণে সে সহজে কাবু হয়ে যাবে।

* পরিবেশের দূষণ ঘটলে: ওষুধ কোম্পানির শিল্প কারখানা, হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের অপরিশোধিত বর্জ্য এবং অব্যবহৃত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যত্রতত্র ফেললে তা পরিবেশে সাথে মিশে জীবাণুগুলিকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে।

* খাদ্য দূষণ: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সংকট খাদ্যেও বিস্তৃত। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রাণীদের দেহ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হতে পারে। কেননা গবাদি পশুর দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা হ্রাস করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। এর ফলে মানুষ সেই পশু খাবার হিসাবে খেলে তাতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেন স্থানান্তরিত হয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

* ওষুধের কোর্স শেষ না করলে: আবার ওষুধের দামের কথা বিবেচনা করেও অনেকে পুরো ওষুধের কোর্স শেষ করেন না। ওষুধের পুরো কোর্স শেষ না করে অসমাপ্ত রাখলে দেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যানন্স তৈরী হতে পারে। কেউ কেউ ওষুধ খাবার পরে রোগ কিছুটা নিরাময় হলেই ওষুধ ছেড়ে দেয়। এমনটি করলে দেহ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে উঠতে পারে। কেউ কেউ লুজ মোশন বা পেট নরমের ভয়ে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করেন না। এ কারণে আপনার দেহ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হতে পারে।

জানুয়ারিতে মৃত ৩২২ জনের মধ্যে টিকা নেননি ২৩৪ জন

ডেস্ক,১ ফেব্রুয়ারী ২০২২ঃ
দেশে ওমিক্রনের দাপটে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। সদ্য বিদায়ী জানুয়ারিতে দেশে করোনায় মারা গেছেন মোট ৩২২ জন। এদের মধ্যে ২৩৪ জনই টিকা নেননি। স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ( ১ ফেব্রুয়ারি) মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সদ্য শেষ হওয়া জানুয়ারি মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩২২ জন। তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন মাত্র ৮৮ জন। বাকি ২৩৪ জনই টিকা নেননি।

অধিদফতরের হিসাব বলছে, মারা যাওয়া ৩২২ জনের মধ্যে টিকা নেননি ২৩৪ জন, শতকরা হিসাবে যা ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। আর টিকা নিয়েছেন ৮৮ জন, শতকরা হিসাবে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

জানুয়ারিতে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে যে ৮৮ জন টিকা নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৮ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬৮ জন এবং তৃতীয় অর্থাৎ বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন দুই জন।

একদিনে করোনা শনাক্ত প্রায় তিন হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক,১২ জানুয়ারি ২০২২:
দেশে গত একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী।

আরো খবর

বুধবার বিকেলের দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন মৃত্যু নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১১১ জনে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১ হাজার ৩০৫ জনে।

এদিকে গত একদিনে ২৪ হাজার ৭০৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২৪ হাজার ৯৬৪ জনের নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এছাড়া গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৬৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৩ জন।

উল্লেখ্য, আগের দিন মঙ্গলবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। করোনা শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ৪৫৮ জনের শরীরে।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ

গত ২৪ ঘণ্টায় আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭২১ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ দিন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৪৩ জনের। এছাড়া হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ ভর্তি হননি। এ দিন সুস্থ হয়ে কেউ বাড়ি ফেরেননি।

উল্লেখ্য, কোভিড ও নন কোভিড রোগীদের সম্পূর্ণ পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এমনকি দুটি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মরত প্রত্যেকের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা চিকিৎসা ছাড়া অন্য সকল চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম আগের মতই চলমান রয়েছে।

শারীরিক সম্পর্কে কমবে ওজন!

অনলাইন ডেস্ক,১৯ ডিসেম্বর ২০২১
ওজন কমাতে অনেকে নানা কৌশলের আশ্রয় নেন। কেউ জিমে যান, খাওয়া কমান, কেউবা বাড়িতেই শরীরচর্চা করেন, অথচ তার পরেও কমতে চায় না ওজন।
আরো পড়ুনঃ মাহির নতুন পোস্ট ঘিরে নানা প্রশ্ন

অনেকে তো আবার হতাশ হয়েও পড়েন। কিন্তু এগুলো ছাড়াও ওজন কমানোর একটি সহজ উপায় রয়েছে। আর তা হলো ‘শারীরিক সম্পর্ক’। আপনি যদি প্রিয়জনকে একটি দীর্ঘ চুমু খান সেক্ষেত্রেও কমতে পারে ওজন।

কীভাবে?

লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন সেক্সোলজিস্টের মতে, চুম্বন যদি খুব বেশি দীর্ঘ হয় এবং তাতে যদি গভীরতা থাকে এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলে সেক্ষেত্রে ৯০ ক্যালোরি ওজন কমতে পারে। শুধু তাই নয়, দুজন মানুষ যদি পরস্পরকে ৩০ মিনিট ধরে চুমু খান, সেক্ষেত্রেও ঝরতে পারে ৬৮ ক্যালোরি।

এটা গেল প্রিয় মানুষকে চুম্বনের হিসাব। তবে শুধু চুম্বন নয়, দেহের অতিরিক্ত ওজন ঝরাতে সহায়ক হতে পারে ‘শারীরিক সম্পর্ক’।

ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক যদি খুব রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে, তা হলে আপনার অজান্তেই ২৩০ ক্যালোরি ওজন ঝরিয়ে ফেলছেন আপনি।

এতে মানসিক পরিতৃপ্তিও হলো, সেই সঙ্গে বাড়তি মেদ ঝরে গিয়ে আপনাকে করে তুলল ঝরঝরে

চলতি মাসেই দেয়া হবে বুস্টার ডোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ ডিসেম্বর ২০২১
করোনা প্রতিরোধে চলতি মাসেই বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

আরো খবরঃ ওমিক্রনে প্রথম মৃত্যু দেখলো ব্রিটেন

এছাড়া বুস্টার ডোজ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন ষাটোর্ধ্ব ও ফ্রন্টলাইনাররা, সে জন্য সুরক্ষা অ্যাপও আপডেট করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বুস্টারের সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি, আমরা বুস্টার ডোজ দেবো। যারা ষাটোর্ধ ব্যক্তি, ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার যারা আছে তাদেরও দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। নির্দেশনা আমরা দিয়েছি। সুরক্ষা অ্যাপে কিছু আপডেট করতে হবে। আশা করছি, এ মাসেই কাজ শুরু করতে পারবো।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বুস্টার ডোজ দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে প্রস্তুতি সেটাও হয়ে যাবে। আইসিটির প্রস্তুতিটাও আমরা করে ফেলতে পারবো। একটা প্রায়োরিটি সেট (নির্ধারণ) করতে হয়। সেই অনুযায়ী যারা বয়স্ক বা মৃত্যু-ঝুঁকি বেশি তাদের আমরা আগে দেবো। যারা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার তাদেরও দেবো। সবাইকে দেয়ার পরে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাসপাতালগুলো যেভাবে ছিল আমরা সেভাবেই রেখেছি। এটাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। আমরা প্রায় ৮০টি জেনারেটর স্থাপন করছি, অক্সিজেন জেনারেটর। এর মধ্যে ৩০টি স্থাপনের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। বাকিগুলো আগামী অল্পদিনের মধ্যে দেশে আসলে আমরা লাগিয়ে দেবো।

টিকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ১১ কোটি টিকা দিয়েছি। এ মাসে আরও দেড় থেকে দুই কোটি টিকার দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। টিকা আমাদের হাতে প্রায় ৪ কোটি আছে। আজকেও ইউকে থেকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা পাবো। টিকার কোনো অসুবিধা নেই।

ওমিক্রনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই ভাইরাসটি এখনো খুব ক্ষতিকারক না। এটি সাংঘাতিক সংক্রামক কিন্তু মৃত্যুর খবর কোথাও আমরা পাইনি। আমাদের এজন্য সজাগ থাকতে হবে। গতকালও আমরা দেখেছি ১ দশমিক ৫ সংক্রমণের হার। এটি এখন কিছুটা বাড়তির দিকে। আমাদের মৃত্যুও ৬ হয়েছে গতকাল, এটা শূন্য, ১ বা ২-এ ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের চলতে হবে। টিকা যারা নেননি তাদের আহ্বান করবো টিকা নিয়ে আপনারা সুরক্ষিত হয়ে যান।’

অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পাওয়ার আগে তৃতীয় ডোজের পক্ষে ছিলেন না বাংলাদেশের গবেষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে মাত্র ২৫ শতাংশের মতো মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন।

ওমিক্রনে প্রথম মৃত্যু দেখলো ব্রিটেন

ডেস্ক,১৩ ডিসেম্বর ২০২১ঃ
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে ব্রিটেনে এই প্রথম একজন মারা গেছেন। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুনঃ ওমিক্রন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

পশ্চিম লন্ডনের প্যাডিংটনের কাছে একটি টিকাদান ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, দুঃখজনকভাবে ওমিক্রন লোকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য করছে। দেশে ওমিক্রনে আক্রান্ত কমপক্ষে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।’

ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের মৃদু সংস্করণ বলে মানুষের মাঝে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটিকে দূরে সরিয়ে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বরিস জনসন। বলেন, ‘সুতরাং আমি মনে করি, কোন না কোনোভাবে ভাইরাসের এই সংস্করণকে মৃদু হিসেবে মনে করার ধারণা আমাদের দূরে সরিয়ে রাখা দরকার। এটি যে গতিতে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে তা স্বীকার করুন।’

যুক্তরাজ্যে গত ২৭ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এই ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে দেশটিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ব্রিটিশ সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশটিতে করোনাভাইরাসের বুস্টার ডোজের কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিকের জন্য ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ দেওয়া চলতি মাসের শেষের দিকে শুরু হবে বলে জানান তিনি। ব্রিটেনে দৈনিক ১০ লাখ মানুষকে করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। সূত্র: বিবিসি, স্কাই নিউজ

ওমিক্রন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে শঙ্কায় বিশ্ব। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এর মধ্যেই ওমিক্রন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। রবিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আরো পড়ুনঃ ৫ শর্তে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ পাস’র প্রজ্ঞাপন জারি

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বরিস জনসন বলেন, ওমিক্রনের একটি উত্তাল ঢেউ আসছে। আর এটা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সেটি রোধে এই সপ্তাহ থেকে ইংল্যান্ডে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হবে।

বরিস জনসন বলেন, আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমরা এখন নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সঙ্গে যুদ্ধে একটি জরুরি অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছি। এটাও এখন স্পষ্ট যে, আমাদের সবার সুরক্ষার জন্য কেবল ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ যথেষ্ট নয়। তবে সুসংবাদ হলো আমাদের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী যে তৃতীয় ডোজ বা একটি বুস্টার ডোজ দিয়ে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দেওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাজ্যে করোনার সতর্কতা সংকেত বেড়ে ৪ হয়েছে। লেভেল চার মানে করোনার উচ্চ বা ক্রমবর্ধমান ট্রান্সমিশন। সর্বশেষ গত মে মাসে দেশটিতে সতর্কতা এই অবস্থায় ছিল।

অমিক্রন: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট থেকে নতুন ঢেউএর জন্য সব দেশকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ডাব্লিউএইচও

ডেস্ক,৩ ডিসেম্বর ২০২১ঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে নতুন অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য যেন সব দেশ প্রস্তুত থাকে।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ডাব্লিউএইচও-র আঞ্চলিক ডিরেক্টার ড. তাকেশি কাসাই বলেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে কোভিড-১৯-এর অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেছেন যে খবর এই মুহূর্তে আমরা পাচ্ছি, প্রকৃত চিত্র তার থেকেও ব্যাপক- “ভৌগলিকভাবে তা ইতোমধ্যেই অনেক বেশি ছড়িয়ে গেছে”।

অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট থেকে করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউ আসার সম্ভাবনার জন্য সব দেশকে তৈরি থাকতে বলেছেন ড. কাসাই। তিনি বলেছেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে যেসব শিক্ষা আমরা পেয়েছি নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় তা কাজে লাগাতে হবে।
অমিক্রন নিয়ে গবেষণা

ডাব্লিউএইচও আরও বলেছে ভ্রমণের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কোন দেশ এই ভ্যারিয়েন্টের ঢোকা শুধু বিলম্বিত করতে পারবে, কিন্তু তা একেবারে ঠেকাতে পারবে না।

সংস্থার আপদকালীন আঞ্চলিক ডিরেক্টার ড. বাবাতুন্ডে ওলউকুরে বলেছেন, অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের গতিপ্রকৃতি বুঝতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশাল সংখ্যক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে বর্তমানে এক যোগে কাজ করছে। তবে এখনও পর্যন্ত তারা এমন কোন তথ্য পায়নি, যার জন্য এই মহামারি মোকাবেলায় এই মুহূর্তে নতুন দিক নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, প্রতিটি দেশ যেন তাদের নিজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান পদক্ষেপগুলো জোরদার করে, যেমন: মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সংক্রমিতদের ট্রেস করা, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং টিকাদান অব্যাহত রাখা।

ড. কাসাই স্কুল খোলা রাখার ঝুঁকিগুলো মূল্যায়ন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবার ওপরও জোর দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে অমিক্রনকে “উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট” ঘোষণা করা হয়।

ভাইরাসের এই ধরনটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর থেকে দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান টিকা এই ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নজিরবিহীন সংক্রমণ

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন সে দেশে অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নজিরবিহীন মাত্রায় বাড়ছে।

মাত্র দু সপ্তাহ আগে যেখানে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ছিল গড়ে তিনশয়ের সামান্য বেশি, সেখানে এখন প্রতিদিনি নতুন কোভিড শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে এগারো হাজারের বেশি।

জন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে মহামারির এই চতুর্থ ঢেউ আগের তুলনায় অনেক মারাত্মক রূপ নিয়েছে। নজিরবিহীন মাত্রায় সংক্রমণ বাড়ছে, তবে অমিক্রন আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী এমন প্রমাণ তারা এখনও পাননি বলে জানাচ্ছেন।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী, জো ফাহলা জন সাধারণকে টিকা নেবার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জোহানেসবার্গ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা পুমজা ফিলহানি জানাচ্ছেন দেশটির গাউতেং প্রদেশে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সেখানে আগের ঢেউগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এর কারণ কী তা তারা গবেষণা করে দেখছেন।

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

ডেস্ক,২৮ নভেম্বর ২০২১ঃ
দেশে কোনো ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৭৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮ জন। আজ রবিবার (২৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭৪ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৬১ জন। আর ঢাকার বাইরের রয়েছেন ১৩ জন। ঢাকার ৪৬ টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৯৩ জন ও অন্যান্য বিভাগে ১০৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৮ জন। একই সময়ে তাদের মধ্য থেকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ হাজার ৫৭৮ জন রোগী। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, এডিসের লার্ভা বেশি পাওয়া যায় নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি, প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, পানির ট্যাংক, বাড়ি করার জন্য নির্মিত গর্ত, টব, বোতল ও লিফটের গর্তে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হোমিও ওষুধ

ডাঃ এস কে দাস ঃ ডায়াবেটিসে (Diabetes) আক্রান্তের সংখ্যাটা এতটাই বাড়ছে যে আগামী কয়েক বছরে প্রায় প্রতিটি ঘরে এই রোগের প্রকোপ দেখা যাবে। তাই সাবধান করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO)। এমনিতেও ডায়াবেটিস এখন কোনও বয়স মানে না। কার উপর কখন প্রকোপ পড়বে কেউ জানে না। আর একবার হল মানে সারা জীবন শুধুই নিয়ন্ত্রণ। সঙ্গে মুঠো মুঠো ওষুধ। তবে কিছুটা স্বস্তি পেতে বা একগাদা ওষুধের চাপ কমাতে বাছা যেতে পারে হোমিওপ্যাথি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হোমিও ওষুধের বিশেষত্ব-
আরো পড়ুনঃ ১১টি হোমিও ঔষধ সেবনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে

হোমিওপ্যাথিতে (Homeopathy) রোগীকে পরীক্ষা করে এবং রোগীর লক্ষণ বুঝে কিছু ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত যে ওষুধগুলি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সেগুলি হল আর্সেনিকাম অ্যালবাম, অরামমেট, লাইকোপোডিয়াম, মেডেরিনাম, ফসফরাস, সিজিজিয়াম জ্যাম্বো, ইউরেনিয়াম নাইট্রিকাম, এব্রোমা আগস্ট, সেফালান্ডা ইন্ডিকা, অ্যাসিড ফস, আর্সেনিক ব্রোমাইড, অ্যাসিড ল্যাকটিক, ইউরেনিয়াম নাইট, নাক্স ভমিকা, অ্যাসিড অ্যাসেটিক, ক্যালকেরিয়া ফস সহ আরও অনেক ওষুধ। এগুলি প্রয়োজন মতো লক্ষণ সদৃশ্য মতে চিকিৎসক রোগীর জন্য নির্ধারণ করে দেন। তবে কোনও ওষুধই ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে খাওয়া উচিত নয়। কারণ ডায়াবেটিক রোগীদের সকলকেই একই ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এমনটা নয়। ডাক্তারবাবু রোগীর লক্ষণ বুঝে যে ওষুধ দেবেন সেই নির্দিষ্ট ওষুধটি নিয়মিত খেতে হবে।

লাইফস্টাইলেও নজর –

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ডায়াবেটিস হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে হবে। খাবার চিবিয়ে খান ও একবারে পেট ভরে না খেয়ে বারে বারে খান। সঙ্গে ডায়াবেটিসের ওষুধ সময়মতো খেতেই হবে। মানসিক চাপ দূরে রাখুন।

হোমিওপ্যাথিতেও কি সারাজীবন ওষুধ?

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ বুঝে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডায়াবেটিস একবার হলে সব সময় ওষুধ খেয়ে যেতে হয় বলে ধারণা রয়েছে। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে যেহেতু রোগীর লক্ষণ বুঝে ওষুধ দেওয়া হয় তাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডায়াবেটিক রোগীকে ওষুধ খেতে বলা হয়। তারপরে রোগীর লক্ষণ পরীক্ষা করে যদি মনে হয় তখন অনেক সময় ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ডাঃ এসকে দাস
এমএসসি,ডিএইচএমএস(ঢাকা)
01557631097

হোমিওপ্যাথিতে ডিপ্লোমা পাশেই মেডিকেল কলেজের সনদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক,২২ অক্টোবর ২০২১ঃ

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের আন্ডারে পরিচালিত ৬৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কেবলমত্র ডিপ্লোমা পাসের সনদ দিয়েই দেওয়া হবে মেডিকেল কলেজের সনদ। এই সনদ দিয়েই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দেবেন ডিপ্লোমা পাস এসব চিকিৎসকরা। ফলে সঠিক চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, দেশে চিকিৎসক হওয়ার জন্য এইচএসসি ও সমমান পাসের পর ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্স অথবা সরকারি হোমিওপ্যাথিক কলেজ থেকে ৫ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথি এন্ড মেডিসিন সার্জারি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের আন্ডারে পরিচালিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ করার উদ্যোগ নেওয়ায় ডিপ্লোমা পাসেই মিলবে মেডিকেল কলেজের সনদ।

আরো পড়ুনঃ শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসের সংখ্যা এখনই বাড়ছে না: শিক্ষামন্ত্রী

যদিও মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি হোমিওপ্যাথিক কলেজে ভর্তির একটি নীতিমালা রয়েছে। তবে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হতে বয়সের কোনো সীমাবদ্ধ নেই। কেবল এসএসসি পাস করেই ভর্তি হওয়া যায় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল (ডিপ্লোমা) কলেজে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল (ডিপ্লোমা) কলেজ চালুর ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের একটি নীতিমালা রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে নীতিমালাগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে।

নীতিমালার ১০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, হোমিওপ্যাথিক ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য সজ্জিত গবেষণাগার ও বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপের জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট ইনডোর চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া প্রত্যেক বিষয়ের জন্য পর্যাপ্ত বই, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে হবে।

তবে অধিকাংশ বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক কলেজে এর কোনো কিছুই নেই। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপের কোনো ব্যবস্থাই করা হয় না। এছাড়া ল্যাব, গবেষণাগার, আবার কোথাও কোথাও নেই পর্যাপ্ত বই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৌশলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন নাম রাখা হয়েছে। এর কারণে কোনো প্রকার ব্যবহারিক দক্ষতা ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন ডিপ্লোমাধারী এসব চিকিৎসক।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. দীলিপ কুমার রায় বলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সেবাটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে কাঠামোগত তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী সব জায়গায় ইন্টারর্নশীপর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া ইনডোর এবং আউটডোর চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তবে কিছু জায়গায় সেটি হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, হোমিওপ্যাথি ডিপ্লোমা কোর্সের পরিবর্তে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ নামকরণের ব্যাপারে সচিব স্যারের সাথে কথা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রি সমমান পর্যায়ের শিক্ষা নিশ্চিত করবে তারা মেডিকেল কলেজ হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত, বন্ধ ক্লাস!

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব‌্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি স্কুলের ৫ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে দুজন ৪র্থ ও তিনজন ৫ম শ্রেণিতে পড়ে।

এরা সবাই সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কলোনি এলাকার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) তাদের সবার করোনা টেস্টের জন‌্য স‌্যাম্পল দেওয়া হয়। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওই ৫ শিক্ষার্থীর করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তাদের সবার বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

এদিকে পাঁচ শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার ২৩ (সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ওই দুই শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে বাকি শ্রেণিগুলোর ক্লাস স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভিন জানান, স্কুল খোলার পর থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে তারপর ক্লাসে নেওয়া হয়। রোববার চতুর্থ শ্রেণির দুজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যায়। পরে ওই দিনই ‘ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের করোনার স‌্যাম্পল নেওয়ার ব‌্যবস্থা করা হয়। পরে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ছাত্রীদের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাদের মৌখিক নির্দেশে আপাতত ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১ম শ্রেণি থেকে ৩য় শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম সচল রয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোছা. রিক্তা বানু বলেন, ‘সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত শিশু পরিবারের ২৫ জন ছাত্রীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া পাঁচ জনসহ মোট ১৩ জন ছাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্ত সবাই শিশু পরিবারের সদস্য। তাদের আলাদাভাবে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার মমতাজ ফেরদৌস বলেন, ‘বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আগামী এক সপ্তাহের জন্য ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’

গোপালঞ্জের ২ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব‌্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই গোপালগঞ্জের দুটি আলাদা স্কুলের ২ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেসব স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে তারা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর স্কুলে এসেছে।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোনালীসার করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর করোনা আক্রান্ত হয় জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া খানম।

দুই শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় দুটির শ্রেণিকক্ষ তালাবন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে- বাড়ি বা অন্য কোনো স্থান থেকে ওই দুই ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।

বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার জানান, ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার পর নিয়মিত ক্লাস করছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোনালীসা। ১৪ সেপ্টেম্বর তার মাথা ব্যাথা ও জ্বর শুরু হয়। এরপর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। ২১ সেপ্টেম্বর করোনা পরীক্ষা করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর মোনালীসার করোনা পজেটিভ আসে।

তিনি আরও বলেন, মোনালীসা সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর স্কুলে এসেছিল। সেদিন তার মধ্যে করোনার উপসর্গ জ্বর ও মাথা ব্যথা ছিল। পরে জানতে পারি তার করোনা পজেটিভ এসেছে। আমরা সার্বক্ষণিক তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

‘সে বিদ্যালয়ের যে কক্ষে ক্লাস করেছিলো, সেই কক্ষটি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি শ্রেণির ক্লাসগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। তবে অন্য কোনো শিক্ষার্থী‌র মধ্যে করোনার উপসর্গ এখনো দেখা যায়নি। আমরা শিক্ষার্থী‌দের নিয়মিত তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করাচ্ছি।’’

এদিকে কোটালীপাড়ার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তিনা খানম ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলে আসে এবং নিয়মিত ক্লাসে করতে থাকে।

১৩ সেপ্টেম্বর তিনা জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর তার নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায় তিনার করোনা পজেটিভ। এরপর থেকে তাকে নিজ বাড়িতে মায়ের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি শ্রেণির ক্লাসগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। এছাড়া ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির আরও চার শিক্ষার্থী সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে জানতে পেরে স্কুলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর খোঁজ খবর নিই। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের ফল ও খাবার দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করি। তৃতীয় শ্রেণির ওই কক্ষটি ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল বন্ধ করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ডায়াবেটিস রোগে হোমিও চিকিৎসা

ডাঃ এস কে দাসঃ
ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা এবং সুগার লেভেল কমানোর উপায় নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। ডায়াবেটিস (Diabetes) একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে Pancreas (অগ্নাশয়) বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে।
ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স কীঃ

ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। কিন্তু যা সঠিকভাবে কাজ করে না অর্থাৎ শরীরে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা সঠিকভাবে কমাতে পারে না। কোনো ব্যক্তির শরীরে ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স হলে পরবর্তীতে তার ডায়াবেটিস দেখা দেয়, সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স হলে সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, তন্ত্রাচ্ছন্ন ভাব থাকে। মস্তিষ্কস্থূলতা দেখা দেয়, ওজন বাড়ে। শরীরে চর্বি জমে, রক্তচাপ বাড়ে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

আরো পড়ুুনঃ ১১টি হোমিও ঔষধে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি
ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় উপায়ঃ

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার ১% পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোলের কম থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিলি মোল বা তার বেশি হলে এবং খাবার খাওয়ার অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোল বা তার বেশি হলে অথবা রক্তের গ্লুকোজের ৬.৫%-এর বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় করণীয় কি?

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় চারটি নিয়ম মেনে চলতে হয়-
১. খাদ্য ব্যবস্থা
২. সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
৩. ওষুধ
৪. ডায়াবেটিস সম্পর্কিত শিক্ষা
মেডিসিন
হোমিওপ্যাথি Chelidonium Majus ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের ডায়াবেটিস হয়নি কিন্তু হবার সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা বংশগত বা যে কারণই হোক তাদের প্রতিষেধক হিসাবে অন্যতম হোমিওপ্যাথি ঔষধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।
এছাড়া Natrum Sulph, Zincum Phos সহ অন্যান্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ লক্ষণ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবহার হয়।
(ডায়াবেটিস রোগীকে হোমিওপ্যাথি ঔষধ সঠিক মাত্রা ও সেবন বিধি এবং অবশ্যই শক্তিকৃত তরল ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে)।

সত্যি বলতে কি, ডায়াবেটিস কোন একটি একক রোগ নয়, বরং বলা যায় এটি অনেকগুলো রোগের সমষ্টি (অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি যে, অনেকগুলো রোগ/ত্রুটি/বিকৃতি সম্মিলিতভাবে ডায়াবেটিসের সৃষ্টি করে থাকে)। এই কারণে, একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের প্রয়োজন মানবতার এই ভয়ঙ্কর দুশমনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তার হাতে থাকা সকল প্রকার অস্ত্র প্রয়োগ করা। যদি ডায়াবেটিসের সাথে সাথে আপনার অন্যান্য রোগও (যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, হাপাঁনি, মেদভূড়ি, বাতের সমস্যা, কিডনী রোগ, হৃদরোগ, স্মায়বিক রোগ ইত্যাদি) সেরে যায়, তবে বিস্মিত হবেন না। কেননা আমাদের হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, লিভার, কিডনী, মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, স্মায়ু, হরমোন গ্রন্থি, রক্ত, যৌনাঙ্গ, চোখ, হাড় ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর এই এগারটি ঔষধের অনেক ইতিবাচক প্রভাব আছে।

সমস্যা জানাতে ক্লিক করুন

সমস্যা জানাতে ক্লিক করুন
আরও বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

ডাঃ এস কে দাস
ডিএইচএমএস(ঢাকা)
০১৮১১৮৯৮০৬১

ফাইজারের আরো ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে আজ

ডেস্ক,৩০ আগষ্ট ২০২১:
করোনা মহামারি মোকাবিলায় কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উপহার হিসেবে ফাইজারের আরো ১০ লাখ ডোজ টিকা আজ দেশে এসে পৌঁছবে। সোমবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট এ টিকার চালান নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে টিকার চালান গ্রহণ করবেন।

গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter