Home » বিশেষ সংবাদ (page 10)

বিশেষ সংবাদ

টাকা দিলেই সরকারি পাসপোর্ট, পরিচালক গ্রেপ্তার

ঢাকা : আগারগাঁও পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মুনসী মুয়ীদ ইকরামসহ দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পার্সপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলার আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।1

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর শেরে বাংলা নগর (ডিএমপি) থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি মামলা (নং ১৬) দায়ের পরই তাদের গ্রেপ্তার করে দুদক কর্মকর্তারা। মামলার বাদি উপপরিচালক ম. বেনজীর আহম্মদের নেতৃত্বাধীন একটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামি হলেন একই অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম।

তাদের দু’জনকেই বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্থ বলে জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা বাংলামেইলকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার স্বাক্ষর জাল করে। এরপর ১৮ জন ব্যক্তির এনওসি সৃজনপূর্বক তা আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে দাখিল করে সাধারণ পাসপোর্টকে অফিসিয়াল পাসপোর্টে এ রূপান্তর করেন। সেই অবৈধ পাসপোর্টের মাধ্যমে পাসপোর্টধারীরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে অবৈধভাবে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে গমন করে এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়ে বাংলাদেশের ভার্বমূতি চরমভাবে নষ্ট করেছেন।

এনওসিসমূহ জাল ও ভূয়া জানা সত্ত্বেও তা যাচাই না করেনি পরিচালক মুনসী মুয়ীদ ইকরাম। অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করেছেন। আর এভাবে ৬৬ ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়।

এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক মুনসী মুয়ীদ ইকরামের ১টি ব্যাংক একাউন্টে গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ ৪ মাসে ৪২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সিটিসেল কর্মীরা

citycell১৯৮৯ সাল থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত বেতনভাতা প্রদান করলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বেতনাভাতা প্রদানে গড়িমসি শুরু করে দেশের অন্যতম মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সিটিসেল। ভয়াবহ অর্থ সঙ্কটের কারণে গত এপ্রিল থেকে বেতনভাতা বন্ধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি। তবে গত জানুয়ারি মাস থেকে হঠাৎ করে কর্মীদের বেতন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও বেতন দেয়া হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৫৪৩ জন স্থায়ী কর্মী রয়েছেন। এর বাইরেও কিছু কর্মী চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের প্রযুক্তি, মানহীন গ্রাহক সেবা, দুর্নীতি-অনিয়ম, প্রতারণায় ডুবতে বসেছে কোম্পানিটি। এসব কারণে প্রতিদিনই কমছে সিটিসেলের গ্রাহক। ৫ বছরে সিটিসেল মোট ১০ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৯৫ হাজার।

বিটিআরসির প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মে মাসে তাদের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৩৫ হাজারে। বর্তমানে সিটিসেলের মার্কেট শেয়ার ১ শতাংশের নিচে অস্থান করছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অর্থ পরিশোধ না করায় সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনাও দিনদিন বাড়ছে। গত বছরের নভেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে টুজি লাইসেন্সের আওতায় তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি বাবদ পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা। এছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, তরঙ্গ বরাদ্দ চার্জ বাবদ ১৯ কোটি ৭৫ লাখ, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের ৭ কোটি ৪৫ লাখ ও লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সিটিসেলের হেড অব মার্কেটিং তাসলিম আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে বাজি হননি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সিটিসেলের মার্কেট শেয়ার ১ শতাংশও নেই। ২০০৭ সালে সিটিসেলের মার্কেট শেয়ার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০০৮ সালে সিটিসেলের মার্কেট শেয়ার ছিল ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে কিছুটা বাড়লেও ২০১০ সালে কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশে। ২০১১ সালে হয় ২ দশমিক ২৬ শতাংশে আর ২০১২ সালে এসে দাঁড়ায় ২ দশমিক ০১ শতাংশে।

২০১৩ সালে সে মার্কেট শেয়ার ১ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আরো অর্ধেকে নেমে আসে। ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল।

যাত্রার সময় এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সেলফোন কোম্পানি। প্রথম থেকে সিটিসেল বাংলাদেশের একমাত্র সিডিএমএ মোবাইল অপারেটর হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিটির বর্তমানে ৪৫ শতাংশ মালিকানা সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি সিংটেলের আর ৫৫ শতাংশ মালিকানা দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপ ও ফারইস্ট টেলিকমের।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিভাবে উগ্রপন্থা প্রবেশ করছে?

146874135531ঢাকা :  বাংলাদেশের গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর হামলাকারীদের কয়েকজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন এমন তথ্যের প্রেক্ষিতে আজ একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। কিভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উগ্র মতবাদ প্রবেশ করছে সেটি খুঁজে বের করা এবং সেটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে সরকারের স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী আলোচনা করবেন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিভাবে উগ্র-মতবাদ প্রবেশ করছে?

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শফিক। এখানে তার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হচ্ছে। বছর দেড়েক আগের একটি ঘটনা তিনি আমার সাথে শেয়ার করছিলেন। বিকেলের দিকে ইউনিভার্সিটির লবিতে বসে ছিলেন তিনি। ক্যাম্পাস ততক্ষণে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এসেছে।

শফিক বলছিলেন এসময় তিনি দেখতে পান একটি মাইক্রোবাস তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের মূল গেটে থামে এবং সেখান থেকে কয়েকজন বের হয়ে সরাসরি তার কাছেই আসে। “ক্লাস শেষে চা খাবার জন্য গেলাম। খুব সুন্দর চেহারার তিন-চারজন ছেলে আমার কাছে আসলো। নাম পরিচয় জানতে চেয়ে আমার হাতে ধরিয়ে দেয় কিছু লিফলেট”-বলেন শফিক।

শফিক বলছিলেন লিফলেটটি ছিল নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের। ছেলেগুলো শফিকের সাথে দীর্ঘসময় নিয়ে কথা বলার আগ্রহ দেখায়। কিন্তু শফিক জানতো হিজবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ সংগঠন এবং এদের সদস্যদের সাথে তিনি কথা বাড়াতে চাননি। ক্লাসের দোহাই দিয়ে তাদের ততক্ষনাৎ এড়িয়ে যান তিনি। কিন্তু বিষয়টি তার মনে খটকা লাগে। ঘন্টা দুয়েক পরে আবারো ফিরে আসেন একই জায়গায়। দেখতে পান ছেলেগুলো চলে গেছে কিন্তু বেশ কিছু লিফলেট রেখে গেছে একটি টেবিলের ওপর।

কিভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে জঙ্গি মতবাদ পৌঁছাচ্ছে সেটার উৎস খুঁজে পাওয়া সহজ কোন কাজ নয়। বাংলাদেশে সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার সাথে জড়িত অন্তত তিনজন ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন ছাত্র কিভাবে উগ্র মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বা কি প্রক্রিয়ায় তারা জড়িয়ে পড়ছে সেই প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে আসছে। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আশা ইউনিভার্সিটি ঘুরে দেখা গেল প্রবেশপথে নিরাপত্তা কর্মীরা সবার ব্যাগ ও দেহ তল্লাসি করছেন। যেটা এর আগে কখনও হয়নি। শিক্ষার্থীদের পুরো-নাম ঠিকানা লিখতে হচ্ছে তাদের খাতায়। আর শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবার গলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড ঝুলছে। আমি আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরেছি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার জন্য।

কিন্তু গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংশ্লিষ্ট থাকার খবরের পর, যেকোনও মন্তব্য করতে যেয়ে তারা হয়ে পড়েছে অনেক সর্তক। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতেও তারা নারাজ। অর্থাৎ কিভাবে তাদের কাছে জঙ্গি মতবাদ পৌঁছাচ্ছে সেটার উৎস খুঁজে পাওয়া সহজ কোনও কাজ নয়।
তারপরেও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে রাজি হন।

তিনি বলছিলেন “আমি দূর থেকে দেখছিলাম একটি লোক লিফলেট বিতরণ করছিলো। আর তার ঠিক পাশেই একজন লোক দামী একটি মোবাইলে ছবি তুলছিলো। যাদের লিফলেট দেয়া হচ্ছিল তাদের ছবি তুলছিলো। আর যারা টেবিলের পাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে লিফলেটগুলো পড়ছিলো তাদের ছবিও তুলছিলো”।

“যিনি লিফলেট দিচ্ছিলেন তিনি আমাকেও বলছিলেন যে আসেন একটু কথা বলি। লিফলেটগুলোও দেয়ার চেষ্টা করছিলো। আমি বললাম যে আমার কাজ আছে আপনাকে সময় দিতে পারছি না”-বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আরেকজন ছাত্র।

বিশ্লেষকেরা বলছেন ছাত্রদের উগ্রবাদে অনুপ্রাণিত করার কাজ হয়েছে ধীরে ধীরে, মাত্রা ও সুযোগ বুঝে। আর দুই ছাত্রের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন না কোন ভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের প্রচারণা চালানো বা ছাত্রদের তাদের মতবাদে আকৃষ্ট করার একটা প্রচেষ্টা নিয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়াটা কি সেটা বের করা বেশ কঠিন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন প্রথমে কিছুদিন ইসলামের কথা বলে সাধারণ ছাত্রদের নামাজে অভ্যস্ত করে তারা। এরপর ধীরে ধীরে তারা মাত্রা এবং সুযোগ বুঝে এ ধরনের উগ্র প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

কিন্তু ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রদেরকে মোটিভেট করার মতো এই ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য কী ব্যবস্থা আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের?

আশা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মন বলছিলেন “আমাদের একটা প্রক্টোরাল বডি আছে, ডিসিপ্লিন কমিটিও আছে। প্রক্টোরাল বডি খোঁজখবর রাখে আমাদের ক্যাম্পাসে ও এর আশেপাশে কী ঘটনা ঘটছে। এখন পর্যন্ত এমন কোনও ঘটনা ঘটে নাই। যদি ঘটে তাহলে অবশ্যই আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব”।

তিনি আরও বলছিলেন মোটিভেশন বা ছাত্রদের উগ্রবাদে অনুপ্রাণিত করার কাজ হয়েছে আস্তে আস্তে দীর্ঘ সময় নিয়ে।

এখন এই দুইটি হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ছাত্রদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে যেমন চিন্তা-ভাবনা চলছে তেমনি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে তারা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এরদোগানের ডাকে যেভাবে ব্যর্থ হলো তুরস্কের অভ্যুত্থান

tayyip_erdogan_airport_in_istanbul_640x360_reuters_nocreditআন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা: শুক্রবার রাতে যখন প্রথম তুরস্কে অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে দেশটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী সেনাদের হাতে বলেই মনে হচ্ছিল।

রাজধানী আঙ্কারা আর সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে ছিল তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখল করে নেয় সেনাবাহিনী এবং তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।

এত ঘটনার মধ্যে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের।

অভ্যুত্থানকারীদের সেই মুহূর্তে দরকার ছিল সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ অংশের এবং জনগণের সমর্থন।

কিন্তু অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলডিরিম তা প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেছেন।

তবে তুরস্কের বেশিরভাগ মানুষ জানে, প্রকৃত ক্ষমতা আসলে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের হাতে, এবং কিছু করতে হলে তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অভ্যুত্থান সফল হতে হলে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

যেভাবে পরিস্থিতি পাল্টে গেল

শুরুতে বোঝা যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট এরদোগান কোথায় আছেন। কোনো কোনো খবরে বলা হচ্ছিল তিনি তুরস্কের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিমে এজিয়ান সাগর তীরের অবকাশ কেন্দ্র মারমারিসে আছেন।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দেখা গেল সিএনএন এর তুর্কী ভাষার নিউজ চ্যানেলে। মোবাইল ফোনে ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান প্রতিহত করার ডাক দিলেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান যখন ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে এসে নামেন, হাওয়া পুরো ঘুরে গেলো।

ভিডিও কল: সবাইকে রাস্তায় নামার ডাক দেন এরদোগান

সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কড়া ভাষায় অভ্যুত্থানকারীদের দেখে নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন, বললেন, তুরস্কের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।

অনেকের কাছেই পরিস্কার হয়ে গেল যে, অভ্যুত্থানকারীরা ব্যর্থ হয়েছে, সিনিয়র সেনা অধিনায়করা সরকারের পক্ষেই আছে।

আঙ্কারার নিয়ন্ত্রণ তখনো অভ্যুত্থানকারীদের হাতে। কিন্তু ইস্তাম্বুল তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ তখন ইস্তাম্বুল আর আঙ্কারার রাস্তায় নেমে এসেছে। বিমানবন্দরে যে সেনারা অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ঘেরাও করে জনতা, পুরো বিমানবন্দর দখল করে নেয় তারা।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটি থেকে অভ্যুত্থানকারীরা বেশ কিছু ঘোষণা প্রচার করেছিল। তারা কারফিউ জারি করেছিল। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে তারা ব্যর্থ হয়।

অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে।

কোনো কোনো খবরে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে হোটেলে ছিলেন সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

বিমানবন্দরে এরদোগান

অভ্যুত্থানের পক্ষে সমর্থন

অভ্যুত্থান সফল হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থনের দরকার ছিল। কয়েকটি বড় শহরে হয়তো অনেক সেনা সদস্য এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিল।

অভ্যুত্থানকারীরা রাস্তায় অনেক ট্যাংক নামাতে পেরেছিল। তারা ইস্তাম্বুলের বসফোরাস প্রণালীর ওপরের ব্রীজ বন্ধ করে দিতে পেরেছিল।

কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল গুল হুলুসি আকার এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিলেন না। সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলে ছিল যে সেনা ডিভিশন, তার অধিনায়কও এই অভ্যুত্থান সমর্থন করেননি। নৌবাহিনী প্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর প্রধানও অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন। এফ-সিক্সটিন জঙ্গি বিমান থেকে অভ্যুত্থানকারীদের অবস্থানে বিমান হামলাও চালানো হয়।

যুক্তরাজ্যের একটি থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের ফাদি হাকুরা বলেন, এই অভ্যুত্থান আসলে শুরু হওয়ার আগেই ব্যর্থ হয়। এদের পেছনে না ছিল রাজনৈতিক সমর্থন, না ছিল জনগণের সমর্থন।

তুরস্কের প্রধান দলগুলো শুরুতেই জানিয়ে দেয়া তারা এর সঙ্গে নেই। ধর্মনিরপেক্ষ সিএইচপি, জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি সবাই সরকারকে সমর্থন জানায়।

অভ্যুত্থানের পেছনে কারা

বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশ এই অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। ইস্তাম্বুলেই মূলত তাদের ঘাঁটি।

ফাদি হাকুরা মনে করেন, এরা সেনাবাহিনীর বিরাট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের ব্যর্থতা এটাও প্রমাণ করে যে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের পক্ষে আর সমাজের বেশিরভাগ অংশের কোনো সমর্থন নেই।

এরদোগান এর আগে বহুবার সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার সরকার সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেক শুদ্ধি অভিযানও চালিয়েছে।

অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত বলে যার দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে, তিনি হচ্ছে ফেতুল্লা গুলেন।

ফেতুল্লা গুলেন

কে এই ফেতুল্লা গুলেন

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ফেতুল্লা গুলেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি একজন ধর্মীয় নেতা। তার হিজমেত আন্দোলনের বিরাট সমর্থন আছে তুরস্কে। এরা নানা ধরণের স্কুল, কলেজ, এনজিও এবং ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদের আছে অনেক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু ফেতুল্লা গুলেনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান কঠোর সব ব্যবস্থা নেন হিজমেত আন্দোলনের বিরুদ্ধে।

অভ্যুত্থানের পেছনে এদের হাত আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং তার দলের নেতারা। তবে ফেতুল্লা গুলেন জোর গলায় তা অস্বীকার করেছেন।

সবাইকে রাস্তায় থাকার আহ্বান এরদোগানের

নিজ দলের সমর্থকদের রাস্তায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। যেকোনো সময় আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এএফপির খবরে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় এরদোয়ান বলেন, ‘সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আমাদের সারা রাত রাস্তায় থাকতে হবে। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে আবার নতুন করে এ ধরনের ঘটতে পারে।’

সূত্র: বিবিসি

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৬০ বছর হচ্ছে

govডেস্ক: অবশেষে বাড়ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে। তার আগেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। আপাতত অবসর গ্রহণের এ বয়সসীমা বাড়বে একবছর।  পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ধাপে  এই বয়সসীমা বাড়বে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরে সরকারের ওপর মহলে   আলোচনা চললেও নানা কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা হচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আগ্রহকেই প্রাধান্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার  বয়সসীমা রয়েছে ৫৯ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের অবসরের বয়স রয়েছে ৬০ বছর। একবছর বাড়লে সাধারণ গণকর্মচারীর জন্য হবে ৬০ বছর আর মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর বয়স হবে ৬১ বছর।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭১ বছর অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা  বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই চাকরির বয়স বাড়তে পারে, বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, মানুষের দক্ষতা বেড়েছে। মানুষের সক্ষমতা বেড়েছে। বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। এগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। না হলে একসঙ্গে মেধা, দক্ষতা, সক্ষমতা চলে গেলে প্রশাসন চালানো তো কঠিন হয়ে উঠবে। এ ছাড়া অবসরে যাওয়ার বয়স না বাড়ালে অদূর ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত একটি বিশাল জনগোষ্ঠী সমাজে বিচরণ করবে। যা কারও কাম্য নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বর্তমান পলিসি হচ্ছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে নিরুৎসাহিত করা। এতে স্বাভাবিক পদোন্নতি কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হয়। একদিকে আমরা তাদের প্রাপ্য পদন্নোতি দিতে চাই, অন্যদিকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চাই। সেক্ষেত্রে অবসরের বয়স না বাড়ানোর বিকল্প নেই। আমরা কাউকেই আটকে রাখতে চাই না। তাই বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যেভাবে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, সেই দিক বিবেচনায় নিলে একসঙ্গে ৪/৫ বছর বাড়ানো যেতে পারে।  কিন্তু তা তো হবে না। একসঙ্গে এত বাড়ানো ঠিক হবে না। ধাপে ধাপে বাড়ানো যেতে পারে। তাই আপাতত অবসরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বছরখানেক বাড়বে। পরবর্তী সময়ে আবার বাড়বে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো হবে না। এ ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর কোনও যুক্তি নেই।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৬২ বছর আর সাধারণ গণকর্মচারীর অবসরের বয়স ৬১ বছর করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না। এর আগে গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স প্রথমবার বাড়ানো হয় ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। এ সময় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইন সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়।

সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩ ফেরুয়ারি আলোচ্য আইন পুনরায় সংশোধন করে সব ধরনের গণকর্মচারীর অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয় আর মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স করা হয় ৬০ বছর।

প্রসঙ্গত, দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর করাবিষয়ক একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রস্তাবটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বিধান অনুযায়ী এটি কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনেরও  প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় সংক্ষুব্ধরা আদালতের শরণাপন্ন হন। প্রথমে হাইকোর্ট পরে আপিল বিভাগ একই নির্দেশনা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আদেশ দেন। তবে আদালত মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে কোনও  বাধ্যবাধকতা জারি করেননি। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভাকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য আদেশ দেন হাইর্কোট। সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগও হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬০ থেকে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করতে হাইর্কোট যে আদেশ দিয়েছেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত লিভ টু আপিলের নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দিয়েছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বয়স বাড়ানোর ক্ষেত্রে আদালতেরও একটি নির্দেশনা রয়েছে। বয়স বাড়ানো হলে পদোন্নতির সুযোগ খুব কাছে থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। তাই বয়স বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেই আপত্তি করছেন। এদিকে সর্বোচ্চ আদালতরে আদেশ প্রতিপালনে বাধ্য আমরা। তবে একসঙ্গে চাকরি বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করলে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হবে প্রশাসনে। খুব সহজে এই জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। এজন্য আপাতত সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কেন জঙ্গী হচ্ছে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা ?

gulshan_terrorist_collageডেস্ক: বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের পেছনে মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করা হলেও সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর জঙ্গিবাদের নতুন ধারা দেখা দিয়েছে। হামলাকারীরা উচ্চশিক্ষিত এবং ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান।

বাংলাদেশের এই তরুণরা উন্নত জীবন এবং উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে ছুঁড়ে ফেলে জঙ্গীবাদের পথে পা বাড়িয়েছে।

রাজধানীর গুলশান এবং শোলাকিয়া হামলায় জড়িত প্রায় দুজন বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। এর আগে কয়েকটি জঙ্গি হামলায়ও একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের নাম এসেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেখে অবশ্য বিশ্বাস করা কঠিন যে, এরকম পরিবেশে তারা জঙ্গিবাদি হতে পারে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনে যে কেউ উগ্রবাদে জড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থী শাহেদা বলেন, “নিব্রাস কিন্তু ড্রপআউট ছিল নর্থসাউথ থেকে। মালয়েশিয়া গিয়ে তার ব্রেইনওয়াশটা হয়েছে।”

নর্থ সাউথের নাম বার বার আসায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, “একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এইটিন প্লাস। সে নিজেই জাজ করতে পারে কোনটা রাইট আর কোনটা রং। মোটিভেশনটা সম্পূর্ণ ওই ছাত্রের ওপরই নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটা বড় যোগাযোগ মাধ্যম।”

অপর এক ছাত্র বলেন, “এমনভাবে ব্রেইনওয়াশটা করা হয়, কেউ ওখান থেকে সরে আসতে পারে না। যার কারণে ওরা আত্মঘাতী হয়ে যায়”। আর এসব জঙ্গী কার্যক্রমের সাথে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে ইসলাম এবং রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেন ড. মোবাশ্বার হাসান। তিনি বলেন, “ইসলামে একটা কনসেপ্ট আছে মুসলিম উম্মাহ। এই উম্মাহ ধারণাটা হলো মুসলিমরা ভাই ভাই। এরকম ধারণা ওরা ব্যবহার করছে। তারা বলে যে ফিলিস্তিনে দেখ, ইরাক বা সিরিয়াতে দেখ তোমার ভাই-বোনেরা কিভাবে নিগৃহিত হচ্ছে পশ্চিমাদের দ্বারা”।

মিস্টার হাসানের পর্যবেক্ষণে ইঞ্জিয়ারিং এবং ব্যবসায় প্রশাসনের মতো বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেয়া তরুণদের জঙ্গী তৎপরতায় সংশ্লিষ্ঠতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

“উগ্রবাদী বহু ধরনের ব্যাখ্যা ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ওয়াহাবি সালাফি… এদের কথাবার্তাতো খুবই সোজাসাপ্টা। একটা কারণ হতে পারে যেহেতু তাদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক বেশি সায়েন্স অরিয়েন্টেড অনেক বেশি ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট, যে দুই যোগ দুই চারই হবে বা কোনো সূত্র দিলে ওই ধরনের কাজই হবে। এই কারণেও হতে পারে যে তারা ধর্মের যে সহজ ব্যাখ্যা তারা সেটাই নিচ্ছে।”

বেসরকারি নামি দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের কেন জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। এ প্রশ্নে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “দুটো জিনিস হচ্ছে এখানে। একটা হচ্ছে শূণ্যতা। এই শূণ্যতাটা হলো জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা হলো সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে। জ্ঞান এখানে গভীর ভাবে চর্চা হয়না। এখানে জ্ঞান একমুখী হয়, পেশাদারী হয়। দ্বিতীয় হলো এখানে সুষ্ঠু সংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে না, অনুশীলন হচ্ছে না। তার একটা প্রমাণ হচ্ছে এরা মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা নিচ্ছেনা সেটা একটা কৃত্রিমতা। সেটা এদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে ইতিহাস থেকে আমাদের সংস্কৃতি থেকে। আরেকটা জিনিস হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ছাত্র সংসদ নেই”।

রাজধানীল গুলশান হামলার পর ভিডিও বার্তা দিয়ে বিদেশ থেকে আরো হামলার হুমকি এসেছে, যেখানে বাংলাদেশের তরুণদের দেখা গেছে। অনেকে তরুণ দেশ থেকে সিরিয়া চলে গেছে বলেও জানা যায়। মিস্টার চৌধুরীর বিশ্লেষণ হলো, “আমাদের স্থানীয় বড় দুই দলের রাজনীতির ধারা কিন্তু এই তরুণদের আকর্ষণ করেনা। কেননা এদের মধ্যে কোনো আদর্শবাদ নাই। এদের যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। একদল ক্ষমতায় আছে আরেকদল ক্ষমতায় যেতে চায়। এদের প্রতিদ্বন্দ্বীতা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বীতা। এখন এই তরুণরা যে দুঃসাহসিক কাজ চায়, স্বপ্নের বাস্তবায়ন চায় এই জায়গাটাতেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোক বা গোপন পরামর্শের মাধ্যমে হোক তরুণরা ঐদিকে চলে যাচ্ছে। একটা অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে”। এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে কী তথ্য আছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “জঙ্গী চক্র তারা বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি,স্কুলে মেধাবী উচ্চবিত্তের ছেলেদেরকে বিভিন্ন ভাবে প্রলুব্ধ করে। প্রথমে কিছুদিন ইসলামের আল্লাহর কথা বলে, কোরান হাদিসের কথা বলে, তাদের নামাজে অভ্যস্ত করে। এরপর ধীরে ধীরে তারা মাত্রা এবং সুযোগ বুঝে এ ধরনের উগ্র প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, “বিভিন্ন নামে এই উগ্রবাদীরা তাদের কর্মকান্ড চালায়। এদের মূল সূত্র কিন্তু এক জায়গায়। সালাফিবাদ, ওয়াহিবিজম, উগ্রবাদ মওদুদীবাদ।”

গুলশান এবং শোলাকিয়া হামলাকারিরা ৩ থেকে ৭ মাস পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল। বাংলাদেশে ওই দুটি হামলার পর এখন অনেক তরুণের পরিবার তাদের সন্তান হারিয়ে যাওয়ার খবর দিচ্ছে। সূত্র বিবিসি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষকদের ওপরও নজরদারি: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হবে।”

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নেয়া পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা অনেকটা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “কোনো ছাত্র ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না হলে সে বিষয়ে অভিভাবককে জানাতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকেও লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।”

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এরই মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে বলে জানান মন্ত্রী।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত হয়ে পড়ছেন বলে আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ কেনো নেয়া হয়নি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “আমরা যখনই জানতে পেরেছি তখন থেকেই ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি। এখানে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা নেই।”

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মাগুরায় পুরোহিত হত্যার জঙ্গি মিশন ব্যর্থ

jongi1468326904মাগুরা প্রতিনিধি :

মাগুরা নতুন বাজারে কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত হত্যায় জঙ্গিদের মিশন ব্যর্থ হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

 

পুলিশের সন্দেহ, পুরোহিতের ওপর হামলার জন্যই ওই যুবকরা মন্দিরে আসে। কিন্তু পুরোহিতকে না পেয়ে তারা ফিরে যায়।

 

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের মধ্যে পায়চারি করার সময় সিসি টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সন্দেহভাজন ওই চার যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

 

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় জানান, মন্দিরের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সোমবার  সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে ৪ যুবক একটি রিকশায় চেপে কালি মন্দিরের সামনের রাস্তায় নেমে যায়। এ সময় তাদেরকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছিল।

 

পরে ওই চার যুবকের একজন কালি মন্দিরের ভেতরে  ঢুকে সন্দেহজনক আচরণ করে। তার বাম হাতে কাগজের ব্যাগে প্যাচানো লম্বা কিছু একটা ছিল।  যা চাপাতি জাতীয় কিছু হতে পারে বলে সন্দেহ করে মাগুরা পুলিশ।

 

সন্দেহভাজন ওই যুবক তাবিজ ও তদবিরের কথা বলে মন্দিরের সামনে থাকা সমর কুমার নামে স্থানীয় এক দর্শনার্থীর কাছে পুরোহিত পরেশ মজুমদারের খোঁজ করে। কিন্তু পুরোহিত মন্দিরে নেই এবং তাবিজ দেন না জানানো হলে তিনি তাবিজের পরিবর্তে ফুল নেওয়ার কথা বলে আবারও পুরোহিত কখন আসবেন জানতে চায়।

হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত যুবকের বয়স ২৪-২৫ বছর হবে। তার সঙ্গে ছিল শার্ট-প্যান্টসহ পরিপাটি পোশাকে মধ্য বয়েসি আরও তিনজন। যুবকটি বারবার ফোন দিচ্ছিলেন ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই  যুবকটি দ্রুত মন্দির থেকে বের হয়ে যায়।

ওই চার যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টায় সোমবার সারা রাত বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।  পুলিশ এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। তবে তাদের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

 

এ ঘটনার পর মন্দির এলাকা এবং পুরোহিত পরেশ মজুমদারের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

মাগুরার এসপি একেএম এহসান উল্লাহ জানান,  বিষয়টি জানার পরপরই সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করি।  দেখে মনে হচ্ছে পুরোহিতের ওপর হামলার উদ্দেশে সন্দেহভাজন ওই যুবক মন্দিরে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু পুরোহিতকে না পেয়ে তাদের মিশন ব্যর্থ হয়।

সুত্র: রাইজিং বিডি

 

 

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ঘরে বসেই র‌্যাবকে জানান অপরাধের বিভিন্ন তথ্য

rabনিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যাবকে অপরাধের বিভিন্ন তথ্য ঘরে বসে জানাতে ‘রিপোর্ট –টু-র‌্যাব’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিক্যাশন চালু করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র‌্যাব।

সোমবার বিকেলে র‌্যাবের সদর দপ্তরে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ এই অ্যাপসের উদ্বোধন করেন।

এসময় তিনি জানান, যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহারকারী এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, সোশাল মিডিয়া ওয়াচ, মিসিং পারসন ইনফরমেশন, খুন, ডাকাতি, মাদক, অপহরণসহ অন্যান্য বিষয়ে ক্যাটাগরি অনুযায়ী তথ্য প্রদান করতে পারবেন। এই অ্যাপসটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার নাম পরিচয় গোপন রেখে তথ্য প্রদান করতে পারবেন। তবে তথ্যদাতা চাইলে তার পরিচয় প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন র‌্যাব সদর দপ্তরের কমান্ডার (কমিউনিকেশন) ফরহাদ হোসেন। এসময় তিনি জানান, এই অ্যাপ্লিকেশনটি www.rab.gov.bd অথবা google play store পাওয়া যাবে। সেখান থেকে যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহারকারী অ্যাপসটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন।

অ্যাপসের মাধ্যমে টেক ফটো অপশনে গিয়ে অপরাধের ছবি তুলেও র‌্যাবকে পাঠানো যাবে বলে জানান তিনি।

অ্যাপসটির মাধ্যমে র‌্যাবের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য লাভ সহজ হবে। অপরাধীদের নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে র‌্যাব। এছাড়া এই অ্যাপসের মাধ্যমে র‌্যাব বিভন্নি ধরনের অপরাধ সহজে বিশ্লেষণ করে সে বিষয়ে করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীরা খুব সহজে র‌্যাবকে তথ্য প্রদান করতে পারবেন। ব্যক্তিগতভাবে র‌্যাব ক্যাম্প বা অফিসে না গিয়েও যেকোনো জায়গা থেকে র‌্যাবকে তথ্য দেয়া সম্ভব হবে। অনেকে বিড়ম্বনা হবে ভেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য প্রদানে নিরুৎসাহী হন। কিন্তু এই অ্যাপসের মাধ্যমে এ ধরনের মনোভাব জনগণের মধ্য থেকে দূর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বাংলাদেশে কেউ অভিযুক্ত করেনি দাবি জাকির নায়েকের

jakirজঙ্গিবাদে অনুপ্রাণিত করার অভিযোগে বাংলাদেশের কেউ তাকে অভিযুক্ত করেননি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ইসলামী বক্তা জাকির নায়েক। এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের তরুণরা জঙ্গিবাদে উৎসাহিত হচ্ছে এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের মানুষ এসবে বিশ্বাস করে না।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের সাথে কথা বলেছি। আমার বক্তব্যে উৎসাহী হয়ে তরুণরা জঙ্গিবাদের পথে পা বাড়াচ্ছে একথা তারা বিশ্বাস করে না।’

বলেন, সারা বিশ্বে আমার কোটি কোটি ভক্ত রয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। কিন্তু আমি কাউকে খুন করতে উৎসাহ দিয়েছি এটা বলা অনুচিত।

তবে মালয়েশিয়ায় তাকে নিষিদ্ধ করার খবর অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিন বছরেরও কম সময় আগে ওই দেশের সর্বোচ্চ পদক ‘তোকো মাল হিজরাহ’ পান তিনি। তাই নিষিদ্ধ হওযার খবর ভিত্তিহীন। নিজেকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী উল্লেখ করে বলেন ভারতীয় গণমাধ্যম এসব খবর লিখছে।

বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য আলোচিত এই বক্তা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঢাকার গুলশান হামলায় ২০বিদেশী নিহতের ঘটনায় নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। হামলাকারী জঙ্গিদের কেউ কেউ তার সামাজিক মাধ্যমে তার দেয়া বক্তব্য নিয়মিত অনুসরণ করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বর্তমানে সৌদি অবস্থানরত জাকির নায়েক প্রতিষ্ঠিত পিস টিভির সম্প্রচার সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। এদিকে বাংলাদেশেও পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

৬০ হাজার বাংলাদেশিকে ভারতীয় ভিসা প্রদান : বেনাপোলে দ্বিগুণ ভিড়

নিউস্ব প্রতিবেদক: ঈদের টানা ছুটিতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার দ্বিগুণ বেড়েছে। স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, চিকিৎসা, ব্যবসা, কেনাকাটা ও বেড়ানোর উদ্দেশ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষে ঈদ প্যাকেজে ৬০ হাজার বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। ফলে ঈদের ছুটির গত তিন দিনে প্রায় ১৫ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গেছে। তবে এপারের কাজ দ্রুত হলেও ওপারের ইমিগ্রেশনের কাজ ধীরগতির কারণে এপারে বাড়ছে যাত্রীদের দীর্ঘলাইন। এমন অভিযোগ যাত্রীদের।

সোমবার ভোরে গিয়ে দেখা যায়, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ও শুল্ক ভবনের সামনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারতে শুল্ক কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন পুলিশের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। লাইন ঠিক রাখতে বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রচণ্ড রোদে ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ। ধীরগতির কারণে দুই দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। অল্প সময়ে কম খরচে বেনাপোল পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাওয়া যায় কলকাতা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। এ কারণে প্রতিদিন স্থলপথে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ যাতায়াত করে এ পথে। তবে ঈদের ছুটিতে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার বেড়েছে কয়েকগুণ। গত তিন দিনে ১৫ হাজার যাত্রী বেনাপোল দিয়ে গমনাগমন করেছেন। শুক্র ও শনিবার ছিল রেকর্ড পরিমাণ যাত্রীর চাপ।

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনসহ দুই দেশের কর্তৃৃপক্ষ ইমিগ্রেশনে জনবল বৃদ্ধি না করে ৬০ হাজার ভিসা দেওয়ায় বেড়েছে যাত্রীর চাপ এমনটাই জানান যাত্রীরা। জনবল বৃদ্ধিসহ যাত্রী ছাউনির দাবি জানান এসব ভুক্তভোগী যাত্রী।

যশোরে সোহেলী আকতার জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। তাই ঘুরে বেড়ানোর সময় পাই না। এবার ঈদের লম্বা ছুটি পাওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে ভারতে বেড়াতে যাচ্ছি। ভারতে কয়েকজন আত্মীয় রয়েছে এ সুযোগে তাদের সঙ্গে দেখা করাও হবে বেড়ানোও হবে।

Chackpost-Passport

রাজধানীর উওরা সেক্টর নং-৪ এর বাসিন্দা জাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। ভারতে গিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাব। কাজের ব্যস্ততার কারণে এতদিন সময় করে উঠেতে পারিনি। লম্বা ছুটিতে ব্যস্ততা কম থাকায় এবার এ সুযোগে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি। চিকিৎসা শেষে ভারতের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরব বলে ঠিক করেছি।’

ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের প্রচুর ভিড় থাকায় পাসপোর্টের কার্যাদি সম্পন্ন করতে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

মুন্সিগঞ্জ টুঙ্গীবাড়ির দীঘিরপাড় গ্রামের আব্দুল আহাদ জানান, ওপারে যাচ্ছি ভারতীয় আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ইকবাল মাহমুদ জানান, এবার ঈদে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভারত ভ্রমণের চাপ অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে ভারত থেকেও আসছেন অনেকে। ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়া বাংলাদেশিরাও ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কম জনবল নিয়ে যাত্রীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশেকে। তারপরও যাত্রী সেবায় দ্রুত কাজ করছেন ইমিগ্রেশন পুলিশ। যাত্রীদের যাতে কোনো হয়রানি পেতে না হয়, এ কারণে ইমিগ্রেশন ভবনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সেবা বাড়াতে ইমগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ছবি : জাগো নিউজ

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সন্দেহের তীর নর্থ সাউথের ন্যাড়া মাথার সেই শিক্ষকের দিকেই !

who-is-heডেস্ক: শুক্রবার রাতে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গিরা দেশি-বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে ২০ জনকে হত্যা করে। পরে শনিবার কমান্ডো অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অভিযানের পর ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করে তারা।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের নেওয়া হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। তাদের কাছে ভেতরের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানতে চান ডিবি কর্মকর্তারা। তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও এখনো ডিবির হেফাজতেই আছেন গুলশানের রেস্টূরেন্ট থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনাত করিম ও তার স্ত্রী।

গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টের হামলার ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মধ্যে ছিলেন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক প্রকৌশলী হাসনাত করিম এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া জিম্মি সঙ্কট এবং যৌথ অভিযানের কয়েকটি ফুটেজে তার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দারা তাকে আটক করেছে বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন।

সোমবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, হাসনাত করিম এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রীও আছেন। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার হাসনাতের আচরনভঙ্গি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। জিম্মি  ঘটনা চলাকালীন পাশের ভবন থেকে এর কিছু অংশ ভিডিও করেন এক বিদেশি। ফেসবুকে আপলোড করা এই পাঁচটি ভিডিওতে ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত করিমের চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল বলে জানায় ডিবি।

প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে চেক গেঞ্জি ও ‍জিন্স পরা হাসনাতকে একাধিক স্থানে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার করার মতো সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখা গেছে। হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের কাঁচের তৈরি মূল ফটকটিতে তাকে বেশ কয়েকবার এসে ঘুরে যেতে দেখা যায়। দুই অস্ত্রধারীর সঙ্গে ছাদেও দেখা গেছে তাকে।

 

শুক্রবার রাতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ১৭ বিদেশি নাগরিক, তিন বাংলাদেশি জিম্মি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনাসদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শনিবার ভোরে বাবাকে ফোন দিয়েছিল ভারতের নাগরিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তারিশি জৈন

in pic_133892ডেস্ক: গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১৮ বিদেশির মধ্যে একমাত্র ভারতীয় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তারিশি জৈন।

দুই বাংলাদেশি বন্ধু ফারাজ আয়াজ হোসেইন [২০] ও অবিনতা কবিরসহ শুক্রবার রাতে ওই ক্যাফেটিতে নৈশভোজ সারতে গিয়েছিলেন তারিশি। তার বাবা সঞ্জীব জেইন বাংলাদেশে গত ২০ বছরে ধরে গার্মেন্টস ব্যবসা করছেন। এ সুবাদে তার ঢাকাতেই বসবাস। ঘটনার একদিন আগে সঞ্জীব জৈন স্ত্রী তুলিকা ও দুই সন্তানকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে সংক্ষিপ্ত ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন কারণ এরপরই তারিশির ফের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে তারিশির বড় ভাই সঞ্চিত কানাডা থেকে ঘটনার একদিন আগে অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছায়। কিন্তু বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তারিশির আর ফিরোজাবাদে বাপ-দাদার ভিটেবাড়িতে যাওয়া হয়ে উঠেনি। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ শনিবার ভোরের দিকে কোনো এক সময় তাকে গলা কেটে হত্যা করে বন্দুকধারীরা।

খুন হওয়ার পূর্বে শনিবার সকাল ৬টার ঠিক আগে বাবা সঞ্জীব জৈনকে ফোন করতে সক্ষম হয়েছিল তারিশি। ফোনে বাবাকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ও খুন হওয়ার আগ মুহূর্তে নিজের অবস্থা জানাতে পেরেছিল সে।

ঘটনার সময় হলি আর্টিসান বেকারির এক টয়লেটে লুকিয়ে তারিশি ও তার বন্ধুরা বাঁচার চেষ্টা করেছিল বলে তার চাচা রাকেশ মোহন জৈন জানান।

তারিশির ফোনকল উদ্ধৃত করে রাকেশ জৈন বলেন, ‘আমি [তারিশি] খুবই ভীত সন্ত্রস্ত এবং জীবিত বেরিয়ে আসতে পারবো কিনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। তারা এখানকার প্রত্যেককে হত্যা করছে।’ ফোনে তারিশি আরো বলেছিলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে আমি একটি টয়লেটে লুকিয়ে আছি। আমাদের একে একে হত্যা করা হবে বলে মনে হচ্ছে।’ বাবাকে ফোন করার কিছু সময় পরই অর্থাৎ শনিবার ৬টার কিছু আগ থেকেই ১৯ বছর বয়সী তারিশির মোবাইল ফোনটিতে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তারিশি জৈন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্থনীতিতে স্নাতক পড়ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের মাধ্যমে ঢাকার একটি ব্যাংকে ইন্টার্নশিপ করারও সুযোগ পেয়েছিল সে। ঢাকায় বাবা-মার সঙ্গে থেকে শেষ ধাপে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়ে পৃথিবী থেকেই চিরবিদায় নিতে হলো তাকে।

এদিকে, তারিশিকে ভারতেই সমাহিত করা হবে বলে তার চাচা রাকেশ মোহন জৈন জানিয়েছেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা তাকে সেই ভূমিতে সমাহিত করতে চাই না যেখানে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হলো। হিন্দু বলে সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করলো।’ সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়ার

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

গুলশানে জঙ্গি হামলা: ২ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

hasianaঢাকা: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মৃরণে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

শুক্রবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ রাত পৌনে ৮টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচারে তিনি এ কথা বলেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

এবার সাতক্ষীরায় মন্দিরের পুরোহিতকে কোপালো দুর্বৃত্তরা

Satkhiraএবার সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত ভবসিন্দু বরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুরোহিত ভবসিন্দুরকে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা করে। আহত পুরোহিত ভবসিন্দু বর বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের হাজারিনাম বরের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, পুরোহিত ভবসিন্দু বর রাতে মন্দিরে ঘুমাতেন। ভোরে ৬/৭ জন দুর্বৃত্ত মুখে কাপড় বেঁধে স্থানীয় চৌকিদারকে মারপিট করে আটকে রাখে ঘুমিয়ে থাকা পুরোহিতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জাগো নিউজকে জানান, আহত পুরোহিত ভবসিন্দু সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter