Home » বিশেষ প্রতিবেদন

বিশেষ প্রতিবেদন

টাইমস্কেল বঞ্চিতপ্রধান শিক্ষকবৃন্দের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

লিপি খাতুন:
০৯/০৩/১৪থেকে ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত সময়ে টাইস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের না পাওয়ার বেদনা আর কষ্টটাকে আপনি হৃদয়ে ধারণ করেছেন।

#২২ আগস্ট ২০২০ তারিখে প্রধান শিক্ষক সমিতির ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে জানতে পারি আপনি টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের উদ্ভূত সমস্যা অতি দ্রুত সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক।

#অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিন জন যুগ্ম সচিবের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছেন উক্ত কমিটি নিরলস পরিশ্রম করছেন আমরা আশাবাদী অচিরেই টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে ইনশাল্লাহ।

#অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই আমরা বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ আপনার অত্যন্ত আন্তরিক এবং দৃঢ় পদক্ষেপ আশা করছি।

৷৷৷৷৷৷ যৌক্তিক কারণসমূহ৷৷৷৷

১) ০৯/০৩/১৪-এর আদেশে গ্যাজেটেড উল্লেখ করা হয়নি এবং প্রশিদেরকে ১১ তম গ্রেড দেয়া হয়েছে।

২)প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ১২/০৮/২০১৫-এর পত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে আপাততঃ নন-গ্যাজেটেড ঘোষণা করা হয়েছে।

৩)প্রাগম-এর ০৭/০২/১৬-এর পত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে নন-গ্যাজেটেড হিসাবে বেতন-ভাতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪)নন-গ্যাজেটেড হিসাবে ২০০৯-এর বেতন স্কেলের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রাপ্য।

৫)অর্থ মন্ত্রনালয়ের ১৫/১১/১৭-এর পত্রের আলোকে ০৯/০৩/১৪ তারিখের পূর্বে প্রাপ্ত টাইমস্কেলের করেস্পোন্ডিং হয়েছে,যা গ্যাজেটেড কর্মকর্তাদের হয়না।

৬)আজ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের নাম প্রকাশ করে কোন গ্যাজেট প্রকাশ হয়নি।

৭)এখনও প্রশিদের সার্ভিস বই বন্ধ করা হয়নি।

৮) BSR-এর 48 বিধি অনুসারে চাকুরীকাল গণনা করে টাইমস্কেল দেয়া হয়। ০৯/০৩/১৪ থেকে ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল প্রদান না করলে উক্ত সময়ের চাকুরীর ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে না।

৯)১৯৯৯ বা ২০০০ সনে একই সাথে ও একই দিনে সহকারি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে একজন ২০০৭-এ প্রধান শিক্ষক পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালে প্রধান শিক্ষক ১১ নং গ্রেডে এবং সহকারি শিক্ষক ১০ম নং গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।

১০) ০৯/০৩/১৪ থেকে ১৪/১২/১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর না হলে এ অসঙ্গতি দূর হবে না। একই সাথে নিয়োগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের কারণে এক গ্রেড নিচে বেতন পাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।

১১)একজন আট বছর পূর্তির পূর্বেই প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন এবং প্রধান শিক্ষক হিসাবে আট বছর পূর্ণ হয় ০৯/০৩/১৪ এর পরে। ফলে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে২০ বা ২১ বছর চাকুরি করেও প্রধান শিক্ষক কোন টাইমস্কেল পাননি।

আমাদের প্রাণ প্রিয় অভিভাবক মান্যবর সদাশয় সিনিয়র সচিব স্যার, আপনার সততা,দক্ষতা, আন্তরিকতা, যোগ্যতা, সাহসিকতা দূরদৃষ্টি উদ্ভাবনী এবং এবং বিশ্লেষণী শক্তি আর আপনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার গভীর মমত্ববোধ আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনি বর্ণিত সমস্যাটি সমাধানের অত্যন্ত আন্তরিক। আপনার সাহসী এবং দৃঢ় পদক্ষেপে অচিরেই টাইমস্কেল বঞ্চিত। প্রধান শিক্ষকদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে। ইনশাআল্লাহ।
লিপি খাতুন,প্রধান শিক্ষক,প্রতিভাময়ী সপ্রাবি

সিনিয়ার সহসভাপতি,প্রধান শিক্ষক সমিতি,দীঘলিয়া,খুলনা


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বদলে যাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পদ্ধতি

এস কে দাস,২৭ আগষ্ট:

বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়া হবে। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি গাইডলাইন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। পরীক্ষার ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস মূল্যায়ন বাড়ানো হতে পারে। মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে নতুন গাইডলাইন অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে মাউশি থেকে নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

মাউশি সূত্র বলছে, করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও কলেজগুলোতে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনায় একটি স্বাস্থ্যবিধি নীতিমালা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক আগের মতো আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে না।

সূত্র বলছে, ক্লাসে দূরত্ব রেখে শিক্ষার্থীদের বসানো হবে। প্রতিদিন একসঙ্গে সকল শ্রেণির ক্লাস নেয়া হবে না। কর্মঘণ্টাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন স্তরে ক্লাস নেয়া হবে। এক্ষেত্রে মৌলিক বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সপ্তাহে একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুই অথবা তিনদিন ক্লাস নেয়া হবে। তবে সপ্তম ও দ্বাদশ শ্রেণিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। পরীক্ষা কমাতে শ্রেণি শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্লাস মূল্যায়ন বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই করোনার ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না। সেজন্য স্কুল-কলেজ খুললে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। পরীক্ষা কমাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস মূল্যায়ন করে বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর দেয়া হবে। ক্লাসে মৌলিক বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গাইডলাইন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত সকল ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশনাগুলো স্বাস্থ্যবিধি হিসেবে নির্বাচন করা হবে। গাইডলাইন তৈরি হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।’

‘স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করে তোলা হবে। এগুলো একটি বই আকারে তৈরি করে তা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। সেখানে প্রতিষ্ঠান খোলার আগে কী করণীয় এবং পরে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা গেলে কী করণীয় সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।’


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

গবেষণায় উপসর্গহীনদের লালায় যে পরিমাণ করোনাভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই: ড. বিজন

• যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারা নির্ভয়ে সামনে এসে কাজ করতে পারেন।

• মাস দুয়েকের মধ্যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে।

• মাস্ক পরা আবশ্যক।

• সবচেয়ে বেশি ভয় আমাদের পানি নিয়ে। পানির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

• ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কানাডা থেকে আমাদের কাছে কিট চেয়েছে। জাপানও চেয়েছিল।

• ইউরোপিয়ান কমিশনকে অনুরোধ করলে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দিতে পারে।

• প্লাজমা থেরাপি ভালো, তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ‘জিআর-কোভিড-১৯ র‍্যাপিড টেস্ট’ কিট উদ্ভাবক বিজ্ঞানী-গবেষক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীলের থেকে মানুষের অনেক কিছু জানার আছে। জানার আগ্রহ আছে ড. বিজন সম্পর্কেও। দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে প্রথম কথা বলেছিলাম গত ৩০ মে। তিনি বলেছিলেন অনেক কিছু। কিন্তু পাঠকের আরও বহুকিছু জানার বাকি রয়ে গেছে। ফেসবুকে-ফোনে-ইমেইলে আমরা পাঠক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সে কারণে আবারও তার মুখোমুখি হয়েছিলাম গত ৭ জুন। বেশ কয়েকজন পাঠকের প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন ড. বিজন কুমার শীল।

করোনা নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মনে আতঙ্ক এবং বহুবিধ প্রশ্ন। এটি কি দুর্বল হয়ে গেছে? নাকি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে? প্রাণহানির সংখ্যা কি আরও বাড়বে? মানুষের করণীয় কী? আমরা ঠিক কোন অবস্থানে আছি?

আমার পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশে বর্তমানে পাঁচ ধরনের মানুষ আছেন। প্রথম সেই সৌভাগ্যবান মানুষরা যারা এক সময় নিজেদের দুর্ভাগ্যবান মনে করতেন। তারা সংক্রমিত হয়ে আবার সুস্থ হয়েছেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর এই রোগে আক্রান্ত হবেন না। কিছু মানুষ আছেন যারা আক্রান্তদের কাছ থেকে কিছুটা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। কিন্তু, তারা আক্রান্ত। আরেকটি গ্রুপ আছে যারা প্রকৃতি থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। তারা বাতাস বা পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের লক্ষণের পরিমাণ কম ছিল। হয়তো তাদের সামান্য জ্বর ছিল বা স্বাদ পাচ্ছিলেন না। করোনাভাইরাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে জানেন, এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলে মুখে স্বাদ থাকে না। এর কারণ হচ্ছে, জিহ্বায় যে স্বাদ বোঝার স্নায়ুগুলো থাকে তাতে এই ভাইরাস ইনফেকশন তৈরি করে। এমন যারা ছিলেন তাদেরও অনেকেই সুস্থ হয়ে গেছেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। তাদের আর সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আরও একটি গ্রুপ আছে, যাদের শরীরে কোনো প্রকার লক্ষণ নেই। কিন্তু, তাদের লালাতে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এই মানুষগুলো আমাদের জন্য ভয়ের কারণ। তারা অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু, তাদের কথা বলার সময় বা বিভিন্ন ভাবেই থুতুর সঙ্গে ভাইরাসটি আমাদের মাঝে ছড়াচ্ছে। আর শেষ গ্রুপ হচ্ছে যারা এখনও ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসেননি। তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদেরও অনেকের মধ্যেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হবে, অনেকের হয়ত কোনো লক্ষণ দেখা যাবে না। তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়াবে। যাদের বয়স একটু বেশি, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি চিন্তার কারণ হতে পারে। এটা যেহেতু মহামারি আকার ধারণ করেছে, তাই আমরা কখনোই ভাবতে পারব না যে ভাইরাসটি থেকে আমরা দূরে থাকতে পারব।

আমি মনে করি যারা ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে আবার সুস্থ হয়েছেন তাদের যদি খুঁজে বের করতে পারি তাহলে ১০০ ভাগ লকডাউন থেকে মুক্তি হওয়া যাবে। আমাদের পুলিশ ভাইদের রাস্তায় দেখি গরমের মধ্যে পিপিই পরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এটা কিন্তু দুঃসহ। তাদের মধ্যে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। এটা সত্য যে অনেকের দেহেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে লক্ষণসহ, আবার অনেকেই আছেন যাদের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

 

খুঁজে বের করার জন্যে তো পরীক্ষা করতে হবে। আমাদের তো পরীক্ষার সক্ষমতা অত্যন্ত কম। আপনার কি ধারণা, আমরা  এই প্রক্রিয়াতে এত মানুষের পরীক্ষা করতে পারব?

না পারার কোনো কারণ নেই। আমাদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন তাদের তো আমরা চিনি। তবে যাদের মধ্যে লক্ষণহীনভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল তাদের কিন্তু আমরা চিনি না। এই মানুষগুলোর শরীরে কিন্তু এরই মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন র‌্যাপিড টেস্ট। এর মাধ্যমে খুঁজে বের করা যাবে কারা লক্ষণ না দেখিয়েও অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে।

এদের শনাক্ত করার উপায় আছে। কিন্তু তার জন্য একটা পরিকল্পনা দরকার যে আমরা কি করতে চাই। এটা করা গেলে ১০০ ভাগ লকডাউন না করে কিছু মানুষকে সামনে আনা যাবে, যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

 

আপনাদের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা, লেখালেখি, তর্ক হয়েছে। এখনও সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা চলছে। আপনি কি এখনও আশাবাদী যে আপনাদের কিটের সুফল দেশের জনগণ পাবে?

আমি এখনও আশাবাদী। কারণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিকে এর ট্রায়াল চলছে, অপর দিকে আমরাও নিজেরা এখানে এর ট্রায়াল দিচ্ছি। আমরা আশা করি এই কিটটি আলোর মুখ দেখবে। এ দেশের মানুষ এই কিটের সুফল পাবে। এই কিটের মাধ্যমে আক্রান্তদের যেমন শনাক্ত করা সম্ভব তেমনি যারা আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থ হয়ে গেছেন তাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব। তাদের শনাক্ত করার মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্মুখ সারিতে এনে করোনা মোকাবিলায় কাজে লাগানো যেতে পারে। তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন।

আমাদের কিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, আমরা অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি দুটোকেই একসঙ্গে শনাক্ত করি। থুতুর ভাইরাসটি অত্যন্ত মারাত্মক। হাঁচি দিলে যে ভাইরাসটি বের হয় তা বাতাসে থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। কিন্তু, থুতুর মাধ্যমে যে ভাইরাসটি বের হচ্ছে তা মাটিতে পড়ে তার চারপাশে একটি বলয় তৈরি করে। যার মাধ্যমে এই ভাইরাস দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। ধুলা, পানি বা অন্য কোনোভাবে এই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ জন্যই যারা সংক্রমিত হয়েছে কিন্তু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না তাদের শনাক্ত করা খুব দরকার। আমি মনে করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ পরিকল্পনা করে এটা করা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারা নির্ভয়ে সামনে এসে কাজ করতে পারেন। এমনকি তারা মাস্ক না পরেও কাজ করতে পারবেন। যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তাদের পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

 

কয়েকদিন আগে বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটে ত্রুটি নিয়ে। এ সম্পর্কে কি একটু বলবেন?

আসলে আমাদের অ্যান্টিজেন কিটে কোনো ত্রুটি নেই। সমস্যা নমুনা সংগ্রহে। কিট আমরা নিয়মিত পরীক্ষা করে যাচ্ছি। আমরা পরীক্ষার জন্য যে কিট দিয়েছি, সেই একই লটের কিট আমরা রেখেছি। সমস্যা হচ্ছে লালা সংগ্রহ নিয়ে। রক্ত সংগ্রহ করার একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি আছে। কিন্তু, লালা সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা দেখলাম, লালা চাওয়া হলেও অনেকে লালার সঙ্গে কফ দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে লালা সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হলো। আশার কথা আমরা একটি পদ্ধতি বের করে ফেলেছি, যার মাধ্যমে যেখানেই লালা সংগ্রহ করা হোক না কেন প্রায় ৯০ শতাংশ সঠিকভাবে তা সংগ্রহ করতে পারবে। এটার ট্রায়াল আমরা দিয়েছি। প্রথমেই ডা. জাফরুল্লাহ স্যারের নমুনা নিয়েছি। ১০০ নমুনার ট্রায়াল আমরা করেছি এবং বেশ ভালো ফলাফল পেয়েছি।

পরীক্ষার জন্য নতুন এই পদ্ধতি আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেব। এরই মধ্যে অ্যান্টিবডি কিটের ট্রায়াল সম্ভবত সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা অনুরোধ করেছি এর অনুমোদন দিতে। এর জন্য হয়তো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

 

একজন দর্শক আপনার কাছে প্রশ্ন করেছেন কোডিভ-১৯ কতদিন থাকতে পারে। সে বিষয়ে কোনো ধারণা করা যায় কিনা?

ভাইরাসটি কতদিন থাকবে এটা বলা খুব মুশকিল। এই ভাইরাস যতদিন বাড়তে পারবে ততদিন থাকবে। যতদিন সে বাড়ার জন্য পর্যাপ্ত উপাদান পাবে ততদিন বাড়বে। যখন উপাদান পাবে না তখন আর বাড়বে না। মানুষের মধ্যে যত বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হবে ভাইরাসটি তত দ্রুত দুর্বল হবে, নির্মূল হবে। আমার ধারণা মাস দুয়ের মধ্যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে, যা ভেদ করে এই ভাইরাসটি আর সামনে এগোতে পারবে না।

 

আপনি এর আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ভাইরাসটির তীব্রতা ইতিমধ্যে কমে গেছে। এই তীব্রতা বলতে কি বুঝিয়েছিলেন?

ভাইরাসটি যে হারে ছড়াতে থাকে সেখানে কোনো বাধা পেলে তার তীব্রতা হারাতে থাকে। একটা পর্যায়ে সেভাবে আর আক্রমণ করতে পারে না। এটা ইউরোপে প্রমাণ হয়েছে। সেখানে ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশের যে তাপমাত্রা, এখানে বাতাসে হিউমিডিটি অনেক বেশি। এই ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং উচ্চ হিউমিডিটিতে টিকতে পারে না। আমার কাছে যেসব নমুনা এসেছে সেখানেও আমি কিছু বিষয় পেয়েছি। প্রথম দিকে ভাইরাসের যে অবস্থান ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে অচিরেই ভাইরাসটি তার শক্তি আরও হারাবে। আমরা এই ভাইরাসে তাণ্ডবলীলা থেকে মুক্তি পাব। আমাদের দেশে ক্রমশই বৃষ্টি বাড়ছে, হিউমিডিটিও বাড়ছে।

 

আমরা কি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসটি নিয়ে যথাযথ গবেষণা করতে পেরেছি?

আমাদের দেশে বেশ কিছু জিনোম সিকোয়েন্স হয়েছে।

 

আমাদের চিকিৎসক এবং নার্সরা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। এই সংখ্যাটা কম না। ইতালিতে হয়তো সংখ্যা আরও অনেক বেশি ছিল। ডাক্তারদের মৃত্যুর বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ কী?

করোনা মোকাবিলায় একেবারেই সম্মুখে যারা থাকেন তারা হচ্ছেন চিকিৎসক এবং নার্স। তারা সার্বক্ষণিকভাবে ভাইরাসটি মোকাবিলা করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আক্রান্ত হয় মারা গেছেন। এই বিষয়টি কিন্তু নির্ভর করে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সুরক্ষা ছিল কিনা, ভাইরাস সম্পর্কে তারা কতটা জানতেন বা কি করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে তাদের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। হতে পারে তারা অনেক সংবেদনশীল ছিলেন। ভাইরাসের পরিমাণের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। কারও শরীরে যদি এক লাখ ভাইরাস প্রবেশ করে আর কারও শরীরে যদি ১০ হাজার ভাইরাস প্রবেশ করে তাহলে দুজনের মধ্যে কিছু বেশ খানিকটা পার্থক্য হবে। এক লাখ ভাইরাস যে হারে বৃদ্ধি পেয়ে শরীরে ক্ষতি করবে, ১০ হাজার ভাইরাস তো আর সেই হারে করবে না। এসবের পাশাপাশি তাদের যদি অন্য কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেটাও একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আমি আশা করব যারা কাজ করছেন তারা আরও বেশি সতর্ক হয়ে কাজ করবেন।

 

একবার আক্রান্ত হলে আবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এই ব্যাপারটি অফিসিয়ালি শুনতে পাচ্ছি না কেন?

২০০৩ সালে যখন সার্স করোনাভাইরাস এলো তখন সেটা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়নি। মাঝে মার্স নামে মধ্যপ্রাচ্যে এসেছিল। এ ছাড়া প্রায় ১৭ বছর ভাইরাসটি ছিল না। ডেঙ্গু নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা না হওয়ার কারণে আমরা এ বিষয়ে অনেক কিছুই জানি না।

আপনারা হয়তো লক্ষ করছেন, আমি কিন্তু এই ভাইরাসটি নিয়ে কাজ করছি। করোনা আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ স্যারেরও অনেক কাছে থাকি। কিন্তু আমি এখনও ভালো আছি। আমার ধারণা আমার ইমিউনিটি ২০০৩ সালেই তৈরি হয়েছে।

 

অ্যান্টিবডি তৈরি হলে কতদিন একজন নিরাপদ থাকতে পারবেন?

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের ধারনার চেয়ে বেশি সক্রিয়। সাধারণত কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে তা এক বছরেরও বেশি সময় শরীরে থাকে। অন্তত এক বছর তো থাকবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি কিটের অনুমোদন দিয়েছে। আপনাদের কিট এবং এফডিএর অনুমোদিত কিটের মধ্যে পার্থক্য বা সামঞ্জস্য আছে কিনা?

কোভিড ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বের করার অনেকগুলো পদ্ধতি আছে। আমরা লালা থেকে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করছি। এটা সম্ভবত এখন পর্যন্ত শুধু আমরাই করতে পেরেছি। অন্যগুলো থেকে আমাদের পার্থক্য এটাই যে আমরা অত্যন্ত কম সময়ে ফল পাচ্ছি।

 

মাস্ক পরাটা কতটা জরুরি? কাপড়ের তৈরি মাস্ক কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে?

মাস্ক পরা আবশ্যক। আমি মনে করি পরতেই হবে। আমি গণস্বাস্থ্য থেকে একটি মাস্ক ডিজাইন করেছিলাম যার তিনটি লেয়ার। কাপড়েরই তৈরি সেটাও। তিনটি লেয়ার ভেদ করে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে না। এই মাস্কের সুবিধা হচ্ছে সাবান দিয়ে ধুয়ে ইস্ত্রি করে আবার পরতে পারবেন। যেকোনো মাস্ক পরলেই কাজ হবে তা নয়, মোটামুটি মানের মাস্ক পরতে হবে। কাপড়ের তৈরি তিন লেয়ারের মাস্ক অনেক ভালো কাজে দেবে।

 

বাসায় থেকে কতটা সুস্থ থাকা সম্ভব? বাজার বা অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বাসায় আনতেই হচ্ছে।

ভাইরাসটি বাতাসেও থাকতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে বাসার জানালা দরজা বন্ধ করে থাকতে হবে। দুই চারটা ভাইরাস যদি বাতাসের সঙ্গে আপনার ঘরে আসেও তা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমার সবচেয়ে বেশি ভয় আমাদের পানি নিয়ে। পানির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারি তাহলে আমাদের সুস্থ থাকা অনেকটাই সম্ভব। যদি দু-চারটা ভাইরাস শরীরে ঢুকেই যায় তাহলে সেটা ভ্যাকসিনের মত কাজ করবে।

 

ধরে নিলাম আপনাদের কিট অনুমোদন পেয়ে গেল। সে ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়ার কত দিনের মধ্যে আপনারা তা বাজারে দিতে পারবেন? লাখ লাখ মানুষের পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ কিট প্রয়োজন হবে তা তৈরির কাঁচামাল কি আপনাদের কাছে আছে?

খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন।

আমরা অনুমোদন পেয়ে গেলেই পরের দিন কিট দিতে পারব না। এটা সম্ভব না। আমরা এখন যে অনুমোদন পেয়েছি তা হলো পরীক্ষামূলক কিট তৈরি করার। যখন বাজারে দেওয়ার জন্য আমরা কিটটি তৈরি করতে যাব তখন অনেক কাঁচামাল লাগবে। তার জন্য আলাদা অনুমোদন লাগবে। অনুমোদন পেতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। আর সেই সঙ্গে কাঁচামাল আনতে আরও এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। কাঁচামাল পেয়ে গেলে প্রতিদিন আমরা ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কিট তৈরি করতে পারব। সেই ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়ে রেখেছি। শুধুমাত্র অনুমোদন পেলেই আমরা জনবল নিব এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেব।

 

বেশ কিছু দেশ আপনাদের সঙ্গে কিটের জন্য যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছিলাম। সেগুলো কি অবস্থায় আছে?

যোগাযোগ হয়েছিল। ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কানাডা থেকে আমাদের কাছে কিট চেয়েছে। জাপানের কাছে যখন কিট ছিল না তখন তারাও আমাদের কাছে চেয়েছিল। আরও কিছু দেশ যোগাযোগ করেছিল।

বাজারের অন্যান্য কিটের থেকে আমাদের কিটের একটি পার্থক্য আছে। এটা ব্যবহার করলে বোঝা যায়। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যেহেতু সময় লাগছে, ফলে আমরা তাদের কিছু বলতে পারছি না।

 

এই কিটটি নিয়ে আপনারা অনেক গবেষণা করেছেন, অর্থ লগ্নি করেছে। বাইরের অনেক দেশ আপনাদের কাছে এই কিট চেয়েছে। ধরেন, আপনাদের কিটটি অনুমোদন পেল না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন?

অনুমোদন না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। আমাদের কিটটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা করছে। তাদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী আমরা তাদের অনুরোধ করেছি পরীক্ষার উপাদান সংরক্ষণ করার জন্য। যাতে প্রয়োজনে আমরা পুনরায় সেগুলো পরীক্ষা করতে পারি।

 

আপনাদের কিট কি দেশের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করা সম্ভব? বাংলাদেশের আইন কি?

অবশ্যই করা যায়। ইউরোপিয়ান কমিশনকে আমরা অনুরোধ করলে তারা কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দিতে পারে। আমি যখন সিঙ্গাপুরে কাজ করেছি, তখন সেই দেশের আগেই আমরা অনুমোদন নিয়েছিলাম ইউরোপিয়ান কমিশনের। আমরা চাইছি এই অনুমোদন আমাদের দেশ থেকে আসুক। আপনারা হয়ত জানেন, কিটের বিভিন্ন তথ্য আমরা সহজে প্রকাশ করতে চাই না। আমরা বিজ্ঞানীরা কখনোই ১০০ শতাংশ তথ্য প্রকাশ করি না। সব তথ্য কোথাও লেখাও থাকে না। এটা যদি দেশের থেকেই অনুমোদন পায় তাহলে আমাদের সাহস থাকে।

 

প্লাজমা থেরাপি একটা বড় আলোচনার বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই থেরাপি নিয়ে খুব একটা ইতিবাচক অবস্থায় নেই। কিন্তু, আপনি এই থেরাপি নিয়ে ইতিবাচক। আপনার অবস্থানটা একটু পরিষ্কার করবেন?

আমি আমার আগের অবস্থানেই আছি। যারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন তাদের জন্য প্লাজমা থেরাপি খুবই দরকার। যেমন ডা. জাফরুল্লাহ স্যার। তিনি যে অনেকটা সুস্থ আছেন তা এই প্লাজমা থেরাপির জন্যই। যাদের শরীরে অন্যান্য সমস্যা আছে তাদের পক্ষে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। এই ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই সময় আপনি যদি কারও শরীরে অ্যান্টিবডি দিয়ে দিতে পারেন তাহলে তা অবশ্যই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে গ্রুপিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলব, সঠিক গ্রুপিং করে যদি রক্ত দেওয়া যায় তাহলে সেটা আরও ভালো। কারণ, রক্তের অ্যান্টিবডি ‘ভাইরাস যাতে বাড়তে না পারে’ তা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের প্লাজমা সেল অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রতি সেকেন্ডে তা দুই হাজার অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর শরীরে আরেকটি সেল থাকে, তা হলো মেমরি সেল। এটি খুব দ্রুত প্লাজমা সেল তৈরি করে। যার কারণে প্লাজমা থেরাপি ভালো হলেও তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া। এর ফলে ত্রিমুখী আক্রমণের মাধ্যমে ভাইরাসকে প্রতিহত করা যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাবে অনেক কিছুই। তারা অনেক পরে অনেক কিছু স্বীকার করে। এখন তারা বলছে, উপসর্গ না থাকা রোগীরা সংক্রমণ ঘটায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিসের উপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছে, আমি জানি না। এই বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছি। আমরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করছি। গবেষণায় প্রমাণ মিলছে, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের লালায় প্রচুর পরিমাণে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। তাদের লালায় যে পরিমাণ ভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই। উপসর্গহীনরাও ভাইরাস ছড়ায়, তারা অবশ্যই সংক্রমণের কারণ।

আমার ধারণা অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।

আমি মনে করি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিছু নয়। যদি হতো তাহলে আজ ভ্যাকসিন থাকত। ২০০৩ সালে সার্স করোনাভাইরাস এসেছিল। আজ ২০২০ সাল। এত দিনেও কেন করোনাভাইরাসে ভ্যাকসিন তৈরি হলো না? এই প্রশ্ন আমি তাদের বারবার করেছি।

 

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি কেউ প্লাজমা ডোনেট করতে পারবেন? নাকি এটা জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

যাদের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা গিয়েছে তাদের শরীরে ২১ দিনের মধ্যেই খুব ভালো পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সুস্থ হওয়ার সাধারণত একমাস বা ৪৫ দিন পর প্লাজমা দিলে ভালো হয়। প্লাজমা ডোনেশনের আগে ডোনারের প্লাজমা খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। যাদের খুব সামান্য পরিমাণে করোনা সংক্রমণ হয়েছে তাদের প্লাজমা এ ক্ষেত্রে কাজে দেবে না। কারণ তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি খুব কম থাকে।

 

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে এমন রোগী যদি বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হন তাহলে তার চিকিৎসা কী?

এ বিষয়ে ভালো উদাহরণ ডা. জাফরুল্লাহ স্যার। তিনি দীর্ঘ দিন কিডনি ডায়ালাইসিস করছেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ওষুধ নিতে হয়। সে ধরনের পরিস্থিতি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। তবে এমন রোগীদের সাবধানে থাকাই ভালো।

মনের জোরটা অনেক বড় বিষয়। কখনো রোগকে ছাড়বেন না। করোনাকে আপনাকে জয় করতে হবে। একে কখনো ভয় পাবেন না। আপনার আশপাশ দিয়ে এটা চলে যাবে, আপনি টেরও পাবেন না। তবে সতর্ক থাকুন।

 

আশপাশে যদি করোনা রোগী থাকে তাহলে সতর্ক থাকব কীভাবে?

মাস্ক অবশ্যই পরবেন।

 

আজকের শেষ প্রশ্ন। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কোথায় এবং কিভাবে করব?

অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হচ্ছে না। বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার জন্য একমাত্র পিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বাংলাদেশে এখনও অনুমোদন পায়নি। করোনা চিকিৎসার জন্যে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কিট দিয়ে যা তিন থেকে পাঁচ মিনিটে করা সম্ভব।

আশা করছি আমরাই প্রথম তা করতে পারব, অনুমোদন পাব। গণস্বাস্থ্যের প্রতিটি কর্মী এবং দেশের মানুষ আশা করছেন তারা এই কিটের সুফল পাবেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

করোনা ভাইরাস দূর্বল হয়ে পড়ছে -নোবেলজয়ী রসায়ন বিজ্ঞানী

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক,২৪ মার্চঃ
মানব সভ্যতাকে আতঙ্কে ফেলে দেয়া করোনা ভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী মাইকেল লেভিট। ‘করোনা মহামারি’র সমাপ্তি সন্নিকটে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রসায়নে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেলজয়ী মাইকেল লেভিট একজন জীব পদার্থ বিজ্ঞানী। ফেব্রুয়ারিতেই তিনি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমে আসার লক্ষণের কথা জানিয়েছিলেন। যা চীনে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

মাইকেল লেভিট ইসরায়েলের বাণিজ্যবিষয়ক পত্রিকা ক্যালকালিস্টকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। যা ১৩ মার্চ অনলাইনে প্রকাশিত হয়। লেভিট বর্তমানে ইসরায়েলের তেল-আবিবে বসবাস করছেন। তার ফ্লু জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়ায় ফোনে ওই সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

তার স্ত্রী সসান ব্রস চীনা শিল্পের একজন গবেষক। দেশটিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি চীনের বন্ধুদের কাছে বিষয়টি জানতে চান।

মাইকেল লেভিট জানান, তারা যখন তাদের পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করলেন, তখন আমি বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখলাম। আমি আশাবাদী হওয়া যায় এমন কিছু খুঁজতে লাগলাম। হুবেই প্রদেশে যখন দিনে ৩০ ভাগ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিল তখন তা ছিল খুব আতঙ্কজনক পরিসংখ্যান। এই হারে চলতে থাকলে ৯০ দিনে গোটা পৃথিবীর মানুষ তাতে আক্রান্ত হতো। আমি একজন ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু আমি সংখ্যা ও তার বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করতে পারি।

লেভিট জানান, ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ তিনি দেখেন সেখানে ১৮০০ নতুন রোগী রয়েছে। ষষ্ঠ দিনে তা ৪৭০০ তে পৌঁছায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে এসে নতুনভাবে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে এবং তা অব্যাহত ছিল। আরও এক সপ্তাহ পর উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকে মৃতের সংখ্যাও। আক্রান্তের পরিসংখ্যানের এই নাটকীয় পরিবর্তনের একটি মধ্য বিন্দু পাওয়া যায় যা থেকে এই মহামারির পরিসমাপ্তির একটা আশা করা যায়। আমি তখন এই উপসংহারে পৌঁছাই যে চীনে দু সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এখন সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমে আসছে।

লেভিট এর ব্যাখ্যায় বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে তার জমা দেয়া অর্থের বিপরীতে প্রথম দিন ৩০ শতাংশ সুদ পান, আর দ্বিতীয় দিন পান ২৯ শতাংশ, তাহলেই বুঝতে পারা যায় যে ওই ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত খুব বেশি পাবেন না।

লেভিটের এই বক্তব্য দ্রুতই চীনা ভাষায় তার বন্ধুরা অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেন। তার বক্তব্য তখন চীনের মানুষের মনে আশা জাগায়। তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় রাতারাতি তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন সেখানে। চীনের বিভিন্ন মাধ্যমে এরপর তার সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, মার্চের শেষে চীন থেকে এ ভাইরাস নির্মূল হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে লেভিট আরও বলেন, চীনে শুরুতে প্রত্যেক কভিড-১৯ রোগী দিনে দুই দশমিক দুজনকে আক্রান্ত করেছে। এই উচ্চমাত্রার সংক্রমণ বড় বিপর্যয়ের দিকেই নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যখন আক্রান্তের হার কমতে থাকল এবং এখন দিনে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি।

তিনি ব্যাংকের উদাহরণ টেনে আবার বলেন, যদি সুদ কমতে থাকে, তখনো কিন্তু টাকা উপার্জন অব্যাহত থাকবে। যে আসল জমা ছিল তা কিন্তু কমবে না। এতে সুদের জোগান যোগ হবে খুব ধীরে। রোগের ক্ষেত্রেও এ পরিসংখ্যান আলাপ করা যায়, কারণ মানুষ তখন প্রতিদিনের নতুন নতুন আক্রান্তের খবরে খুব আতঙ্কে থাকে। অথচ প্রকৃত চিত্র হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসা মানে এর বিস্তৃতি এক দিন নাই হয়ে যাবে।

লেভিট যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ক্রমবর্ধমান মডেল অনুযায়ী আপনি ভেবে থাকেন যে নতুন লোক প্রতিদিনই আক্রান্ত হবে, কারণ আপনি প্রতিদিনই নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন। কিন্তু যদি আপনি নিজের সামাজিক পরিসর চিন্তা করে দেখেন, আপনার আসলে প্রতিদিন একই মানুষদের সঙ্গে মূলত দেখা হয়। আপনার নতুন মানুষদের সঙ্গে দেখা হয় ধরা যাক পরিবহনে। কিন্তু বাসেও (পরিবহনে) কিছুদিন পর দেখা যাবে হয় সব যাত্রী আক্রান্ত অথবা তারা সেরে উঠেছেন।

আরও একটি কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, আপনি সব সময় সবাইকে জড়িয়ে ধরেন না। এ ছাড়া আপনি যার একটু ঠান্ডা লেগেছে তাকে এড়িয়ে চলবেন- যা আমরা এখন করছি। যত অসুস্থতা দেখা যাবে তত সংক্রমণ এড়াতে আপনি সচেতন হবেন। এভাবে প্রতি তিন দিনে একজন ব্যক্তি দেড়জনকে আক্রান্ত করতে পারবে, যা ক্রমে আরও কমে আসবে।

তিনি আরও যোগ করে বলেন, আমরা জানি চীন প্রায় পুরোটাই কোয়ারেন্টাইনে ছিল, মানুষ শুধু জরুরি কেনাকাটা করতে বের হয়েছে এবং অন্যকে এড়িয়ে চলেছে। উহানে, যেখানকার হুবেই তে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ধরা পড়ে, সেখানে সবার আক্রান্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস এ করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়নি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনেক মানুষের শরীরই এই রোগ প্রতিরোধের জন্য উপযুক্ত ছিল।

তবে ইতালির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতালিতে সামাজিক সম্পর্ক খুব উষ্ণ, তাদের খুব সমৃদ্ধ সামাজিক ইতিহাস আছে। যে কারণে, যিনি আক্রান্ত হবেন তাকে সুস্থদের থেকে দূরে রাখতে হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

করোনায় আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেন: ডা. আব্দুল্লাহ

এবিএম আব্দুল্লাহর,৮ মার্চ:
দেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের কথা হয় বাংলাদেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর সঙ্গে।

সতর্কতা বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কেউ আতঙ্কিত হবেন না। ভয় পাবেন না। যাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের অবস্থা ভালো আছে। তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

* চিকিৎসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন।

* এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিকার হচ্ছে সতর্ক থাকা। সতর্কতা বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো সাধ্যমত মেনে চলার চেষ্টা করুন।

* করমর্দন থেকে বিরত থাকবেন। নিয়মিত ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

* খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাবেন।

* সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। যতোটা সম্ভব জনসমাগম আপাতত এড়িয়ে চলতে হবে।

* পারত পক্ষে ঘরে থাকুন। প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাবেন না।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নতুন বছরে তারিখ লিখতে সাবধান!

ডেস্ক:

২০১৯ সাল শেষ হতে আর একদিন বাকি। শুরু হতে যাচ্ছে ২০২০। নতুন বছরে তারিখ লিখতে গিয়ে পড়তে পারেন মহাবিপদে। যদি সম্পূর্ণ তারিখটি না লেখেন তবেই এই বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

তারিখ লেখার সময় আমরা সাধারণত বছেরের শেষ সংখ্যা লিখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু নতুন বছরে এটা করবেন না। বিশেষ করে ব্যাংক, ভর্তির ফর্ম বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে। কারণ, আপনি তারিখের শেষে ২০ লিখে ছেড়ে দিলেন। কিন্তু প্রতারকরা সেখানে অন্য কোনো সংখ্যা লিখে জালিয়াতি করতেই পারে। তাই বছরের শুরুতে সাবধান হয়ে যান।

এ বিষয়ে সতর্ক করতে একটি বার্তা ভাইরাল হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে।

বার্তায় বলা হয়েছে, ‘সাবধান! আসন্ন ২০২০ সালের তারিখ লেখার সময় আমাদের সম্পূর্ণ ফর্ম্যাটে লেখা উচিত। যেমন ৩১/০১/২০২০ এভাবে লিখুন। কখনোই ৩১/০১/২০ লিখবেন না। কারণ, যে কেউ এটিকে ৩১/০১/২০০০ বা ৩১/০১/২০১৯ বা যে কোনও বছরের মধ্যে তার সুবিধার্থে পরিবর্তন করতে পারে। এতে করে আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। এ সমস্যাটি কেবল এই ২০২০ বছরই বহাল থাকবে। তাই এ সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। কোনও ডকুমেন্ট পাওয়ার সময় সাল শুধু ২০ লিখবেন না এবং সাল শুধু ২০ লেখা গ্রহণও করবেন না। জনস্বার্থে প্রচার করা হলো।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

স্কুলগুলো কবে বিদ্যালয় হবে?

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার:
স্কুল হল শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের ফাউন্ডেশন তৈরির জায়গা। শিক্ষার্থীরা যদি এ ফাউন্ডেশন তৈরি করতে না পারে তাহলে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ইমারত কোন ভিতের ওপর গড়ে উঠবে? প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। প্রথমে যখন আশির দশকের গোড়ার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলাম, তখন শ্রেণিকক্ষে যে মানের শিক্ষার্থী পেতাম, এখন তা পাই না।


তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে লেখাপড়ায় যে মনোযোগ লক্ষ করেছি, এখন তা করি না। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ না থাকায় শিক্ষকদের মধ্যেও লেখাপড়া কমে গেছে। শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার আগে তাদের অনেকেই প্রস্তুত হয়ে যান না। কেন আমরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভালো মানের শিক্ষার্থী পাচ্ছি না? এর কারণ কী? এর কারণ হল, নিম্নপর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারছে না। স্কুল-কলেজে লেখাপড়া ভালো হচ্ছে না।

ভালো শিক্ষার্থী তৈরির প্রথম জায়গাটি হল প্রাইমারি স্কুল। এখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের ফাউন্ডেশন তৈরি হয়। সে কারণে ভালো শিক্ষার্থী তৈরির জন্য ভালো প্রাইমারি স্কুল দরকার। এসব স্কুলে ভালো শিক্ষক দরকার। তাহলে কলেজগুলো ভালো শিক্ষার্থী পাবে। আর কলেজগুলো ভালো মানের শিক্ষার্থী পেয়ে যদি তাদের তৈরি করে দেয়; তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো শিক্ষার্থী পাব।

ষাটের দশকে আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন স্কুলে ভালো শিক্ষক পেয়েছি। তারা আমাদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন; আন্তরিকভাবে ক্লাস নিয়েছেন। আমার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের, এমনকি হাইস্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকের নাম এখনও মনে আছে। তাদের অনেকেই আর ইহজগতে নেই। তবে দু-একজন এখনও বেঁচে আছেন। তাদের সঙ্গে দেখা হলে সালাম করি। পরিচয় দিলে খুবই খুশি হন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কটা ওই সময় অনেক ঘনিষ্ঠ ছিল। স্কুল-কলেজে তখন বাণিজ্যের ঢেউ লাগেনি। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনেক সময় দিতেন। তাদের সমস্যা শুনতেন; ব্যক্তিগত খোঁজখবরও নিতেন। কিন্তু এখনকার স্কুল শিক্ষকরা অনেকটাই ব্যস্ত থাকেন। তারা যথেষ্ট বাণিজ্যকেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীদের সমস্যা শোনার তাদের সময় নেই। স্কুল শেষ করে তাদের কোচিং ক্লাসে যেতে হয়। সেখানেও শিক্ষার্থীদের পড়াতে হয়। বাড়তি উপার্জন করতে হয়। শিক্ষার্থীরা যাতে করে অধিক সংখ্যায় তার কোচিংয়ে পড়তে আসে, সে জন্য তাকে বিভিন্ন কলাকৌশল অবলম্বন করতে হয়। অনেক শিক্ষক আবার নিজের কোচিংয়ে না এলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় কম নম্বর দেন।

একমুখী প্রাইমারি শিক্ষা সৃষ্টি করতে না পারায় নানা রকম শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যমের বিদেশি ক্যামব্রিজ ও এডেক্সেল কারিকুলামের শিক্ষা, ন্যাশনাল কারিকুলাম ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, মিশনারি স্কুল, এনজিও পরিচালিত স্কুল এবং কূটনৈতিক মিশন পরিচালিত স্কুল। এত রকমের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে যে শিশুরা বড় হয়, তাদের চিন্তা-ভাবনা এক রকম হয় না।

এটা দেশের জন্য ক্ষতিকর। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষতিকর। একমুখী শিক্ষা, গণমুখী শিক্ষা, সৃজনশীল পদ্ধতিসহ অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট করেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিম্নপর্যায়ের শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। পরিবর্তে যতই দিন যাচ্ছে, ততই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ছে। অবনমন ঘটছে প্রাথমিক শিক্ষার। এ বিশৃঙ্খলা পাঠ্যক্রমের; এ অবনমন মানের। তবে অতি সম্প্রতি যে অবনমনটি সবচেয়ে বড় আকারে দেখা দিয়েছে তা হল, নৈতিক অবক্ষয়ের। প্রাইমারি স্কুলের মতো জায়গায় শিশুদের সঙ্গে শিক্ষকরা অনৈতিক আচরণ করছেন। মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানে শিশুদের বলাৎকার করা হচ্ছে। স্কুলগুলোয় এসব হচ্ছেটা কী? শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী করছে? তাদের কি কোনো দায়-দায়িত্ব নেই? তারা কি পত্রিকা পড়েন না? এসব দেখেন না? প্রতিকারের জন্য কী করা হয়েছে?

মাত্র কিছুদিন আগে বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার রেশ কাটার আগে স্কুল-মাদ্রাসায় যেন পাল্লা দিয়ে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারি ক্লাসের ছাত্রী সামিয়া আফরিন সায়মা, নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মা হাওয়া কওমি মাদ্রাসার ৬ শিশু শিক্ষার্থী, ফতুল্লার বায়তুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার ১২ ছাত্রী, ভুরুঙ্গামারী সদরের নলেয়া মাঝিপাড়া ব্র্যাক স্কুলের এক ছাত্রী। বগুড়ার গাবতলীর সোনারায় ইউনিয়নের তেলিহাটা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সাইফুল রেজা হিরো নামের এক শিক্ষক স্কুলের অফিসকক্ষে এবং বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে গাবতলী থানা পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় মাদ্রাসার কারি শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মুন্সিকে পুলিশ আটক করে। জয়পুরহাট শহরের আরামনগর হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ পেলে মাদ্রাসা বন্ধ করে পালিয়েছে শিক্ষক।

সাভারের আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বটতলা এলাকার ক্রিয়েটিভ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তা স্কুলে কোচিং করতে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক মারধর করে তাকে তার মাসহ আটকে রাখেন। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাহিরননেছা দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী বাবার বয়সী মাদ্রাসার সুপার মিজানুর রহমানের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এ জন্য ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা থেকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার। কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে অর্ধউলঙ্গ করে ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইয়ুব উদ্দিন। এ শিক্ষক ছাত্রীর ছবিগুলো ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন।

আমাদের কোমলমতি স্কুলছাত্রীরা কোথাও নিরাপদ নয়। স্কুলে শিক্ষকদের হাতে তারা লাঞ্ছিত হচ্ছে। আর বাড়ি থেকে স্কুলে এবং স্কুল থেকে বাড়ি আসা-যাওয়ার পথে বাইরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে গ্যাং গ্রুপের সদস্য এবং বখাটেরা। যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে যতভাবে হেনস্তা করা যায়, তা করতে তারা দ্বিধা করছে না। স্কুলে শিক্ষকের নির্যাতন আর বাইরে বখাটের অত্যাচারে বিশেষ করে স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্রীদের জীবন আজ দুর্বিষহ।

উদাহরণ উল্লেখ করতে গেলে প্রবন্ধের আকার বড় হবে। এই তো এ মাসেই কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় নবম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মালাকে প্রথমে উত্ত্যক্ত এবং পরে প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ হয়ে বখাটেরা তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে (যুগান্তর, ০৭-০৯-২০১৯)। বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মালা এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। স্কুলজীবন হল আনন্দের সঙ্গে হেসে-খেলে লেখাপড়া শেখার জীবন।

একজন ছাত্রীকে যদি স্কুলে এবং স্কুলের বাইরে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা নিয়ে চিন্তা করতে হয়, জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়; তাহলে সে কীভাবে লেখাপড়া করবে? কীভাবে নিজের ও পরিবারের স্বপ্নপূরণ করবে? কীভাবে নারীর ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখবে?

বাচ্চা বয়সের কিশোররা এত সাহস পায় কী করে? কীভাবে তারা একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে? একতরফা প্রেম নিবেদন করে সাড়া না পেয়ে একটি ছাত্রীর মুখ বিষ ঢেলে দিতে পারে? এ কোন সমাজে বসবাস করছি আমরা? এভাবে কি স্কুল চলে? শহর, গ্রাম, সর্বত্রই এখন কিশোর গ্যাং কালচার ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতির বড়ভাইদের প্রশ্রয়ে এরা টিকে থাকে। এদের দাপট আর মোটরসাইকেলের শব্দে কিশোরী ছাত্রীদের আজ ভয়ে জড়সড়ো হয়ে থাকতে হয়।

পুলিশ প্রশাসনের উচিত দেশব্যাপী এই কিশোরদের তালিকা তৈরি করা। এদের কারও গতিবিধি সন্দেহজনক হলেই তাকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যাওয়া। গার্লস স্কুলের ক্লাস শুরু এবং ছুটির পর এরা যেন ওই এলাকায় আড্ডা দিতে না পারে বা মোটরসাইকেলে শোডাউন করতে না পারে, সে বিষয়ে দেখভাল করা। রাজধানীতে এদের দাপট এতটাই বেড়ে গেছে, পুলিশ এদের প্রতি হার্ডলাইনে না গিয়ে আর পারেনি। হাতিরঝিল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্যাং গ্রুপে জড়িত শতাধিক কিশোর সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। পরে অভিভাবকদের সতর্ক করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

স্কুল হল একটি আনন্দের জায়গা। এ আনন্দ হল জানার আনন্দ। শেখার আনন্দ। স্বপ্ন দেখার আনন্দ। নিজের ভবিষ্যৎ ফাউন্ডেশন তৈরির আনন্দ। বিদ্যা অর্জনের আনন্দ। সে জন্য স্কুলকে বলা হয় বিদ্যালয়। আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, স্কুলছাত্রীরা আজ আর স্কুলকে আনন্দের জায়গা মনে করতে পারছে না। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথকে নিরাপদ মনে করতে পারছে না। স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও নিরাপদ অভিভাবক ভাবতে পারছে না। কারণ, স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকই আজ রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। রাতারাতি এ অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না।

এ জন্য স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবতে হবে। সামাজিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্বাভাবিকতা সৃষ্টির কথা ভাবতে হবে। তা না হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে। সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে; নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে বলে দাবি করছে। সে কারণে সরকারকে স্কুলবালিকাদের লেখাপড়া নিরাপদ করতে হবে। অসৎ শিক্ষক ও বখাটেদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। স্কুলগুলোয় বিদ্যালয়ের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

স্কুলবালিকারা যেন নিরাপত্তার সঙ্গে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুলে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে বালিকারা যেন সানন্দে বিদ্যা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে হবে। এক কথায় সরকারকে স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থীদের সম্ভ্রম বজায় রেখে নিরাপত্তার সঙ্গে জ্ঞান অর্জনের বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

akhtermy@gmail.com

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিওরক্যাশের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন পরিশোধের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
রূপালী ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা শিওর ক্যাশের মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয়ার আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। এ খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিউর ক্যাশে বেতন দেয়কে অনিরাপদ ও ভোগান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। এজন্য এখনকার নিয়মে ব্যাংকের মাধ্যমেই বেতন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়ার যুগ্ন সম্পাদক এস এম ছায়িদ উল্লা। তিনি দৈনিক শিক্ষাবার্তা ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।



গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর রূপালী ব্যাংক লি. শিওরক্যাশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন শিওরক্যাশের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানে নানা অনিয়ম নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হলো। ফলে সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা অসম্মানিত বোধ করছেন।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের মতোই সরকারি কর্মচারী। তাঁরা সাধারণ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই নিজের মাসিক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে সাধারণত নিম্নস্তরের বেসরকারি বা চুক্তিভিত্তিক কিছু কর্মচারীদের বেতন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

প্রসংগত উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বর্তমানে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকগণ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটড পদমর্যাদার। তাঁরা সেলফ ড্রয়িং অফিসার হিসেবে সরকারি গেজেটেড অফিসারের বেতন বিল (ফরম ১৩) এর মাধ্যমে বেতন-ভাতা আহরণ করার কথা। যদিও নানা জটিলতায় এখনও তা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা অনেক উন্নীত হয়েছে। অল্পসময়ের মধ্যেই তাঁরাও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হবেন।

এমতাবস্থায়, শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বেতন প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য চরম অবমাননাকর।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ দৈনিক শিক্ষাবার্তা ডটকমকে বলেন, বর্তমানে বিকাশের মাধ্যমে নানাভাবে প্রতারণা হচ্ছে। এখন শিওর ক্যাশেও সে সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মোবাইল হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়। সে কারণে আমরা চাই, ব্যাংকের মাধ্যমেই বেতন দেওয়া অব্যাহত থাক।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বেতন প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য চরম অবমাননার সামিল।

আশাকরি, শিক্ষকবান্ধব মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও মাননীয় সচিব স্যার রূপালী ব্যাংক লি. শিওরক্যাশ এর উর্ধতন কর্মকর্তাদের এরূপ উদ্ভট, অমর্যাদাকর প্রস্তাবে সম্মত হবেন না। আমরা আরও বিশ্বাস করি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করছেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায়

মোঃ সালাহউদ্দিন:
দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ঈদ-উল-আযহা কে কেন্দ্র করে ঈদের আগে এবং পরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত হয়েছে এবং মারাত্মক আহত হয়েছে ৯০৮ জন লোক। এভাবে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় কোন না কোন তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই সব দুর্ঘটনার ফলে থমকে যাচ্ছে বহু পরিবার। সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যাচ্ছে এবং যারা আহত হয়ে পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে একমাত্র তারাই এর কঠিন যন্ত্রণা এবং বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারে।



এই কঠিন বাস্তবতা আপনার আমার জীবনে যে কোন সময় ঘটতে পারে। অতীতে আমরা বহু ইন্টেলেকচ্যুয়াল ব্যক্তিত্বদের হারিয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো কেন এত দুর্ঘটনা ? এর থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ নেই ? কোন একটা দুর্ঘটনা ঘটলেই বলা হয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অথবা ফিটনেস না থাকার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আমার পর্যবেক্ষণের আলোকে বলতে পারি শুধুমাত্র চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং রোড সাইন না বুঝে যেখানে সেখানে ওভারটেক করার কারণে ঘটছে এসব মারাত্মক দুর্ঘটনা।

সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। এসব কারণ সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই অবগত আছি। তবে দুর্ঘটনার জন্য মূল ভূমিকা পালন করে চালক নিজে। ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সেটাও আমি চালককে দায়ী করব। কারণ গাড়ি বের করার পূর্বে গাড়ির চাকা থেকে শুরু করে সবকিছু চেক করার দায়িত্ব চালকের। বর্তমান বেশি দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে বাস চালকেরা। একজন চালককে বুঝতে হবে তার ওপর নির্ভর করছে উক্ত গাড়ির সমস্ত যাত্রীর জীবন এবং তাদের পরিবারের জীবন। তার একটা ভুলের কারণে যেকোনো পরিবারে আসতে পারে ভয়াবহ পরিস্থিতি। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য গাড়ির মালিক অনেকাংশে দায়ী কারণ অনেক মালিক গাড়ি মেরামত না করে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালাতে চালককে বাধ্য করে।

একজন চালক একটানা ৬ ঘণ্টা গাড়ি চলনার কথা অথচ মালিকরা তাদের দিয়ে দিয়ে প্রায় ১৩/ ১৪ ঘণ্টা গাড়ি চালাচ্ছে। বিশেষ করে সকালের দিকে যেসব দুর্ঘটনাগুলো ঘটে সেটা ঘুমের কারণে ঘটে। গাড়ি চালানো অত্যধিক পরিশ্রমের কাজ যেকোনো সময় ঘুম চলে আসতে পারে। তাই মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যদি বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত তাহলে এইসব দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হতো। অনেক যাত্রী চালকদের দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করে। এটা পরিহার করতে হবে।

যেহেতু বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার দেশ। তাই মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ গাড়িগুলো সম্পুর্নরূপে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না যদিও পুলিশের তৎপরতার কারণে অনেক এলাকার মহাসড়কে নিষিদ্ধ গাড়ি গুলো বন্ধ আছে। যেহেতু মহাসড়কের সমস্যাগুলো স্বল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয় তাই আমাদের গাড়ির গতি কমাতে হবে। বাস এবং ট্রাক এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতি ৭০ কিলোমিটার উপরে হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বেশির ভাগ দূর্ঘটনা ঘটে মহাসড়কের বাঁকে। বাক এলাকায় রাস্তার মাঝখান দিয়ে সাদা লম্বা দাগ দেওয়া থাকে। এই সমস্ত জায়গায় ওভারটেক করা নিষেধ।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ চালকদের রোড সাইন না বুঝে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ফলে ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার পূর্বে চালকদের রোড সাইন, গাড়ির হেডলাইট এর সঠিক ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন এর বেসিক বিষয়গুলোর উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। বর্তমান অধিক সি সি যুক্ত বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে বহু প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে মা-বাবা সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। মহাসড়কের এই দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সারা দেশে স্পিড গানের ব্যবহার নিশ্চিত করা যেতে পারে। প্রতি জেলায় যদি গাড়িসহ দুটি টিম নিয়োগ করা যায় এবং প্রতিটি টিমকে কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার এলাকা নির্ধারণ করে দিয়ে স্থান পরিবর্তন করে স্পিড গানের মাধ্যমে গাড়ির গতি শনাক্ত করে যদি দ্রুতগতির গাড়ির বিরুদ্ধে মামলার জরিমানা করা অব্যাহত থাকে তাহলে মহাসড়কে চালকরা দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে সাহস পাবে না। গাড়ির গতি সনাক্ত করার জন্য একজন পুলিশ সদস্য স্পিডগান এবং walkie-talkie সহ কোন গাছের আড়ালে দাঁড়িয়েছে দ্রুতগতির গাড়িগুলো শনাক্ত করে নির্ধারিত ৫০০ মিটার দূরে অবস্থানরত টিমকে কত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে তা ওয়াকি টকির মাধ্যমে উক্ত টিমকে অবহিত করে যদি ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এই ক্ষেত্রে জরিমানা মালিকের পরিবর্তে চালককে বহন করতে হয় তাহলে পরবর্তীতে চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকবে ।

এই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য পুলিশ সুপার কর্তৃক বাছাইকৃত সৎ এবং পজিটিভ মনের অধিকারী পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ করা গেলে এবং এর সঙ্গে যদি প্রতিটি টিমে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা যায় এবং দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মহোদয় নির্দেশনা মূলক পরামর্শ দেয় তাহলে উক্ত টিম কাজ করতে উৎসাহিত হবে। এছাড়া এ টিম মহাসড়কে নসিমন করিমন এবং ইজিবাইক সহ মহাসড়কে নিষিদ্ধ গাড়ির বিরুদ্ধে জরিমানা করে মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। স্পিড গানের ব্যবহার যদি সারাদেশে মহাসড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নগদ জরিমানা করা অব্যাহত থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস সারাদেশের মহাসড়ক ৭ দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ আসতে বাধ্য এবং জাতি এই অভিশপ্ত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে। আমার অভিমত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দ্রুতগতির গাড়ির বিরুদ্ধে যে নগদ জরিমানা করা হবে তার শতকরা ৫০ ভাগ টাকা ম্যাজিস্ট্রেটসহ উক্ত টিমকে ইন্সেন্টিভ হিসেবে দেওয়া হলে এবং অবশিষ্ট ৫০ ভাগ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করলে উক্ত কাজ করতে তারা উৎসাহিত হবে।

মোঃ সালাহউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক, শহর ও যানবাহন, ঝিনাইদহ ০১৭৩৩৫৩৪৩৮৪
email ksalahuddin84@gmail.com

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড বনাম টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড

এস এম সাইদউল্লাহ:
আশির দশকে প্রথমবারের মতো টাইম-স্কেল চালু হয়। তারও পরে সিলেকশন গ্রেড চালু হয়। একই পদে পদোন্নতি না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য এই টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালু করা হয়। জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ পর্যন্ত টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালু ছিল যা ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। যা পরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর বেতনে সমতা বিধানের লক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ গেজেট জারির তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারীদের বেতনে সমতা আসেনি। কোথাও কোথাও সিনিয়র জুনিয়রের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ড. ফরাসউদ্দিন পে কমিশন প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীর পদোন্নতি চালু করার শর্তে টাইম-স্কেল ও সিলেকশন বাতিল করে ১০/১৬ বছরের স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেড চালুর সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকল দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য একটি বা দুইটি কমন নিয়োগবিধি করে সকল কর্মচারীদের পদোন্নতি চালু করার উদ্যোগ নিলেও এখনও পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। ১০/১৬ বছর কীভাবে গণনা করা হবে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তা উচ্চ আদালতে গড়ায়। হাইকোর্ট বিভাগ হয়ে তা এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে। ১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও কোনো কোনো দপ্তরের কর্মচারীগণ ১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন। তবে তা খুবই কমসংখ্যক।


তা ছাড়া জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ কার্যকর হওয়ার পর প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এতোদিনে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণ বিশেষ করে ১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীগণ টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সুবিধা বাতিল করে ১০/১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড চালু করার ফলে কীভাবে কত পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা বুঝতে পেরেছেন। ফলে তাঁরা টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। এমনকি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করার জন্য উচ্চ আদালতে রীট করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। হয়তোবা অল্প সময়ের মধ্যে এ জন্য রীট দায়ের করা হবে।

কারণ, সবাই এতোদিনে বুঝে গেছেন টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল ছাড়া কখনওই একই পদে সিনিয়র জুনিয়রের মধ্যকার যে বেতন বৈষম্য তৈরি হয়েছে তা নিরসন হবে না।

আমারও মনে হচ্ছে কর্মচারীদের ক্ষোভ, আন্দোলন কর্মসূচি বিবেচনা করে, সবাইকে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয় বিধায় অথবা আপিল বিভাগ হতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় ফিরে আসবে। সেক্ষেত্রে আমরা ১০ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীগণ সবচেয়ে লাভবান হবো। হয়তো শেষ পর্যন্ত তা-ই হতে যাচ্ছে। সবমহল থেকে এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এস এম সাইদউল্লাহ
সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক,
প্রধান শিক্ষক সমিতি

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ আগস্ট , ২০১৯:
স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে কুমেক হাসপাতালে যান ইমদাদুল হক।


হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মী ও চিকিৎসকদের কাছে নিজের পরিচয় সে সময় প্রকাশ করেননি তিনি।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুক্রবার সকালে ও বিকালে তার ফেসবুক আইডিতে দুটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে কুমেক হাসপাতালে তার বিড়ম্বনার নানা তথ্য তুলে ধরেন।

তার সেই স্ট্যাটাস নেট দুনিয়ায় গতকাল থেকে ভাইরাল।

ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদারের সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল,

‘রাত ৩:৩০। আমার স্ত্রীর হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা। ও চিৎকার করছিল। খুব ঘাবড়ে গেলাম। ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের অনেকগুলো নম্বর নিয়ে কল করতে থাকলাম। কেউ কল ধরল না।

বড় বড় হাসপাতালের নম্বরে কল দিলাম। কেউ ধরল না। একজন দয়া করে অ্যাম্বুলেন্সের কল ধরে জানালেন তার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায়। পাওয়া গেল না।

আমার মোটামুটি সব ড্রাইভারকে কল দিলাম। ধরল না। অসহায় অবস্থায় বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটা দিলাম ফাঁকা রাস্তায়। কিছুদূর গিয়ে একটা সিএনজি পেলাম। উনি যেতে রাজি হলেন। গেলাম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ইমার্জেন্সি তখন ঘুমাচ্ছে।

অনেক কষ্ট করে ডিউটি ডাক্তার সাহেবের ঘুম ভাঙানো হল। উনি কাগজে লিখে দিয়ে ৪তলায় ৪১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যেতে বললেন। গেলাম।

ওখানে ১৫ মিনিট কাউকে পেলাম না। অবশেষে এক সিস্টার বা আয়া এমন কেউ এলেন। জানলাম ডাক্তার সাহেব ঘুমাচ্ছেন।

পাক্কা আধা ঘণ্টা ধরে দরজা নক করার পর উনি এলেন। দেখলেন। তার পর ব্যবস্থাপত্র লিখতে গিয়ে দুটো কলমই কালিশূন্য পেলেন।

আবার গেলেন তার কক্ষে। গিয়ে ফিরলেন আরও ১০-১২ মিনিট পর।

এ দিকে বেশ কয়েকজন রোগী জমে গেছে।

অবশেষে আমার স্ত্রীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখলেন- এলজিন ইঞ্জেকশন, নরমাল স্যালাইন আর খাবার স্যালাইন।

মজার বিষয় হল ডাক্তার সাহেব সঙ্গে অতিরিক্ত দুটো স্লিপ ধরিয়ে দিলেন।


স্লিপ-১ : ৭টি টেস্টের নাম স্লিপ-২ : বাদুরতলার শেফা ও আজাদ ক্লিনিকের নাম।

মুখে বলে দিলেন এই টেস্টগুলো যেন ওখান থেকেই করাই। অনেকটা আদেশের মতো।

আমি ভেজা বিড়ালের মতো বললাম, জি আচ্ছা। এর মাঝে কথা হল দেবিদ্বার থেকে আসা এক ডেঙ্গু রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তার মহিলা রোগীর প্লাটিলেট কমেই চলেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

কিন্তু মজার বিষয় হল রোগীর ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার নেই। ডাক্তার আসবেন সকালে অথবা আরও পরে। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে এলাম।

ইঞ্জেকশনটা একটা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পুশ করালাম।

উপলব্ধি-০১ : গরিবের জন্য কোনো চিকিৎসা নেই

উপলব্ধি-০২ : ডেঙ্গু নিয়ে প্রান্তিক লেভেলে সরকারের নির্দেশনা কতটা ফলো করা হচ্ছে তা ভেবে দেখার আছে।

উপলব্ধি-০৩ : আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ২৪ ঘণ্টার নয় বরং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি/ বেসরকারি) দায়িত্বশীলদের মর্জি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে।

উপলব্ধি-০৪ : অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক কেবল সকাল-সন্ধ্যা দোকান খোলে। ব্যবসা শেষে দোকান বন্ধ। রোগী জাহান্নামে যাক।

যা আইনত দণ্ডনীয়। ক্লিনিকে অবশ্যই ইমার্জেন্সি ডাক্তার থাকা বাধ্যতামূলক।

উপলব্ধি-০৫ : যত দায় আমাদের।

# রমজানে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ করো সকাল-সন্ধ্যা

# রাত জেগে পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা করো

# ঘুম হারাম করে দুর্যোগ মোকাবিলা করো

# ইলেকশনে টানা রাত জেগে কাজ করো

# ঈদে নির্বিঘ্নে জনসাধারণের বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করো

# জাতীয় দিবসের প্রস্তুতিতে অঘুম রাত কাটাও

# বিশেষ সংকটে জেগে থাকো রাতের পর রাত আর খেটে যাও সংকট মোকাবিলায়।

মেডিকেল সেক্টরের জন্য করুণা। স্রোষ্টা হেদায়েত দান করুণ। আমিন।’

শুক্রবার দিনব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের সেই স্ট্যাটাসটি।

দেশের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিকিৎসকদের কটাক্ষ করা শুরু হয় মন্তব্যের ঘরে।

এ সব মন্তব্যের মধ্যেই শুক্রবার রাতে স্ট্যাটাস দুটি ফেসবুক থেকে মুছে দেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তবে ইতিমধ্যে তার সেই স্ট্যাটাসটি স্ক্রিনশট আকারে নানাজনের টাইমলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, ‘কোনো হাসপাতাল বা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি আমি। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে কুমেকে গিয়ে যে ভোগান্তির শিকার হয়েছি তা প্রকাশ করেছিলাম মাত্র।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, হ্যাঁ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের বিষয়টি শুনেছি। শনিবার এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষার মান বাড়াতে প্রাথমিকে চালু হচ্ছে নার্সারি

শিক্ষকরা বললেন সময় কমানো হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বাড়বে।

শিশির চক্রবর্তী:
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির আগে নার্সারি শ্রেণি চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিশুদের কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল বিমুখ করা এবং ৪ বছর বয়সী সব শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তির জন্যই এ ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


শিক্ষকদের দাবী শুধুমাত্র সময়  কমানো হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বাড়বে। শিশুরা কিন্ডারগার্টেন বিমুখ হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের নানা প্রান্তে কেজি স্কুলের রমরমার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ঝিমিয়ে পড়ছে। শিশুরা ৫ বছর বয়সী না হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। অথচ ৩ বছর বয়সেই কেজি স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়। এতে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স ৪ বছর করার জন্য বলেছেন।
Read More »

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রশ্নবিদ্ধ

সাব্বির নেওয়াজ ও ফসিহ উদ্দীন মাহতাব:প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়

মোছা. রাবেয়া সুলতানা ,যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণ বেরি নায়াণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামীও খুলনা মহানগরীতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা। স্বামীর চাকরির সুবাদে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলে শূন্য পদে বদলির জন্য যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন জানান তিনি। জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তার নামও আগে ছিল। কিন্তু তাকে নয়- বরং বদলি করা হয়েছে একজন জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে।

এমনকি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা শূন্য পদের তালিকা দিলেও সেসব প্রার্থীকে বদলি করা হয়নি। মন্ত্রী, এমপি, সচিবসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশও আমলে আনা হয়নি। জ্যেষ্ঠ না হওয়ার পরও শিক্ষক বদলিতে এ বছর অর্থের বিনিময়ে দালাল চক্র ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। যারা দালালদের সঙ্গে রফা করতে পেরেছেন, তারাই পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলি হতে পেরেছেন। এসব দালালের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বদলি নিয়ে চারিদিকে ওঠা তীব্র সমালোচনা সামাল দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) যুগ্ম সচিব জসীম উদ্দিনকে তার পদ থেকে সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরও গোপনে একাধিক বদলি আদেশ জারির ঘটনা ঘটেছে। Read More »

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

কোচিং বাণিজ্য যেমন চলছিল, তেমনি চলছে


ড. ফ. র. মাহমুদ হাসান : গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘এ দেশের কোচিং ব্যবসা’ পড়লাম। ভোরে হাঁটা আমার অভ্যাস। যেখানেই যাই না কেন, ভোরে হাঁটতে গিয়ে এখনও দেখি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সেই কাকভোরে, ৬টা-সাড়ে ৬টার দিকে বুকে-পিঠে বইপত্র নিয়ে ছুটছে। জিজ্ঞেস করলেই জানায়, ‘প্রাইভেট’ পড়তে যাচ্ছে বা কোচিংয়ে যাচ্ছে। এরা প্রধানত ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস সেভেনের ছাত্রছাত্রী। হ্যাঁ, ক্লাস ওয়ান-টু-থ্রির শিশুরাও নিয়মিত ‘প্রাইভেট’ পড়ে। ‘প্রাইভেট পড়ে না বা কোচিংয়ে যায় না, এমন শিক্ষার্থী বলতে গেলে নেই। বেতন প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি ৩০০ টাকা। এদের বাবারা পরের জমিতে কাজ করে, ভ্যান চালায়, ইটখোলায় কাজ বা দোকানদারি করে। মায়েরা ক্ষেতে, মিলে বা পরের বাড়িতে কাজ করে। একেক ব্যাচে ১০ থেকে ২০-২৫ জন পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী পড়ে। কোনো কোনো শিক্ষক সকালে দুই ব্যাচ পড়ান আবার বিকেলে দুই ব্যাচ। এদের বেশিরভাগই হয় সরকারি স্কুলের, নয়তো এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। তবে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রও আছে, যারা প্রাইভেট বা কোচিংয়ে পড়ায়।

একেবারে নিচু শ্রেণির শিশু হলে সেই সকালে মায়েরা খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। পথে একজন সঙ্গী পেলে তার সঙ্গে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদবোধ করেন। প্রায় সব জেলাতেই এই ধারা কমবেশি একই রকম। যেখানেই গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করেছি, এত নিচের ক্লাসের শিশুকে প্রাইভেট পড়তে পাঠান কেন? বিভিন্নজন বলেছেন, ‘পাস করতে হলে প্রাইভেট পড়তে হয়; প্রাইভেট না পড়লে পিছিয়ে পড়বে; ও একটু দুর্বল বা ওর মেধা কম; আমরা তো আর ভালো খাওয়াতে পারি না যে মেধা হবে, তাই প্রাইভেটে পড়াতে হয়।’ সিক্স-সেভেনের শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, শিক্ষকরা ক্লাসে কোনো চ্যাপ্টার ধরে পড়া শুরু করে শেষ করেন না; কোনো কিছু বোঝান না। বলেন, ‘কোচিংয়ে এসো, ভালো করে বুঝিয়ে দেব।’ অথচ এই শিক্ষকরাই সমাজে ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলে চিহ্নিত। গত ২০ বছরে প্রতি সরকারের সময়ে এদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের পক্ষে সর্বস্তরের মানুষ সহানুভূতি জানিয়েছে। এদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বা যে কারণেই হোক, সরকারের বোধোদয় হয়নি যে, এসব ছাড়ের সঙ্গে শিক্ষকদের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার জায়গাটি যুক্ত করা বা সুদৃঢ় করা সম্ভব। এই জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া দরকার। 

শিক্ষক দায়বদ্ধ থাকবেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখা নিশ্চিত করতে। শিক্ষার্থীরা কী শিখল বা কতটা শিখল, তার মূল্যায়ন যেমন শ্রেণিকক্ষে অব্যাহত মূল্যায়নের মাধ্যমে হবে, তেমনি হবে সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু শিক্ষক যদি আদিষ্ট হয়ে সমাপনী পরীক্ষায়ও সাজানো নম্বর দিতে অভ্যস্ত হয়ে যান, তাহলে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক দুয়েরই বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। সর্বশেষে বলতেই হয়, শিক্ষক যদি তার কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে দায়বদ্ধতার প্রতিপালন বা ‘কমপ্লায়েন্স’ নিশ্চিত করতে কী করতে হবে সেটা সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের জবাবদিহির বিষয়। দ্বিতীয়ত, ‘শেখা’ ও ‘শেখানো’ সম্পর্কে ধারণাটা শিক্ষক, তত্ত্বাবধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ সবার কাছেই স্পষ্ট হতে হবে। ‘শেখানো’ অর্থ শিক্ষকের সিলেবাস শেষ করা নয়। তেমনি ‘শেখা’ অর্থ মুখস্থ করা নয়, প্রশ্নোত্তর শেখা নয় বা শূন্যস্থান পূরণও নয়। এমনকি গাইড বইয়ে দেওয়া সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে তা পরীক্ষার খাতায় লিখে তথাকথিত জিপিএ ৫ বা গোল্ডেন জিপিএ পাওয়াও নয়। শেখা অর্থ বয়স উপযোগী নির্ধারিত এবং যথাবিহিত জ্ঞান ও দক্ষতা আয়ত্ত করা, জানা এবং তা করতে পারা।

তৃতীয়ত, শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের গুটিকতক বিশেষ করে যারা মেধাবী বলে পরিচিত শুধু তাদের নয় বরং প্রত্যেক শিশুর অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভর্তির পরপরই শিক্ষককে প্রত্যেক শিশুর অর্জন দক্ষতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষে প্রতিটি শিশুর পাঠদান পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে প্রত্যেক শিশু তার নিজস্ব গতি, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারে। ‘শেখা’র বিষয়টা একটু ভেঙে বলার কারণ :শিক্ষকতার লক্ষ্য ‘পাঠদান’ নয় বা ‘সিলেবাস শেষ করা’ নয়। বড় দাগে বললে, শিক্ষকতা অর্থ- ১. প্রত্যেক শিশুর চাহিদা অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে ভয় বা হুমকিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি ও শেখানোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা করতে পারা; ২. শিক্ষাক্রম ও বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী সময় বিভাজন অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় ভাষা দক্ষতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি সময় বরাদ্দ করা এবং প্রায় ততখানি সময় গাণিতিক দক্ষতা ও বিজ্ঞানে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য দেওয়া এবং ৩. শিশুরা শুধু টেক্সট বই পড়া এবং প্রশ্নোত্তর মুখস্থ করার পরিবর্তে যাতে দেখে-ধরে-করে শেখার সুযোগ পায়, শ্রেণিকক্ষে তার ব্যবস্থা করা। তাহলেই প্রত্যেক শিশুর কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষকরা নিজেদের, বিশেষ করে শিক্ষক সংগঠনের নেতারা তাদের সদস্যদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলে বর্ণনা করতে ভালোবাসেন। তাই তো হওয়ার কথা ছিল! নতুবা কোটি কোটি শিশুসন্তান ও শিক্ষার্থীকে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যে কোনো বিষয়ের যে কোনো অধ্যায়ের দু’একটা অনুচ্ছেদ পড়িয়ে দিয়ে যখন বলেন, ‘বাকিটা পড়ে নিও বা প্রাইভেট-কোচিংয়ে এসে বুঝে নিও’ বা যখন অভিভাবককে বলেন, ‘পাস করতে হলে প্রাইভেট পড়তে হবে, কোচিংয়ে আসতে হবে’; তারপরও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে পরের জমিতে খেটে খাওয়া বা পরের বাড়িতে কাজ করা অভিভাবকও তাকে বিশ্বাস করেন, তার ওপর আস্থা রাখেন? উচ্চ আদালতের রায়, টেলিভিশনের খবর ও আলোচনা এবং পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পর এক মাসও কাটেনি; এখনও দেশের গ্রামাঞ্চলের সর্বস্তরের শিশুরা বইয়ের গাদা পিঠে তুলে প্রাইভেট পড়তে ছুটছে। 

একটা বড় প্রশ্ন হচ্ছে- ‘শেখা’র গুরুত্ব উপেক্ষা করে শুধু স্কুলে যাওয়ার যেমন কোনো অর্থ হয় না, তেমনি ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষক যদি তার অযোগ্যতা, অদক্ষতা বা নৈতিক স্খলনের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিশুর শেখা নিশ্চিত করতে অপারগতা প্রকাশ করেন বা ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষকতার অর্থ কী? সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে? সরকার যদি শিক্ষককে তার কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব পালনে সমর্থ করতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মা-বাবা, অভিভাবক ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে তার অদক্ষতা ও অসহায়ত্বের জন্য সরকারের একটা জবাবদিহির প্রশ্ন কি দাঁড়াবে না? তাহলে তাদের এবং দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে আদালত যদি সরকারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন, তাহলে তা কি বড় অবিবেচনামূলক হবে? আর আদালত যদি প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে সরকারের কাছে এই জবাবদিহি না চান, তাহলে কে চাইবে? সে ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সরকারের জবাবদিহির প্রক্রিয়াটা কী হবে? স্বভাবতই, শিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের শিক্ষা বিষয়ে ধারণা, বিবেচনা ও পরিকল্পনা কি মৌলিকভাবে ঢেলে সাজানোর প্রশ্ন উঠবে না? আর যতদিন তা সম্ভব না হচ্ছে, ততদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা কি আদালতের রায় অগ্রাহ্য করে যথারীতি তাদের কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাবেন? 

শেষ করার আগে নোট ও গাইড বই সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলতে চাই। এ কাজের সঙ্গে দেশের বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ ব্যবসায়ী মহল ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এমনকি সম্ভবত দেশের বেশিরভাগ সংবাদপত্রও। তবু আমার ধারণা, নোট ও গাইড বই প্রকাশনা এবং সব পর্যায়ে তার যথেচ্ছ ব্যবহার সমস্যার সমাধান সম্ভবত অপেক্ষাকৃত কম জটিল। তাই এ কাজটা দ্রুত শুরু করা যেতে পারে এবং কাজটা ড. জাফর ইকবালের নেতৃত্বেই হতে পারে। তিনি উদ্যোগ নিলে তার আহ্বানেই আমি যাকে বলি সাধারণ মানুষের সমাজ, তাদের সহযোগিতায় দুটি কাজই বেশ খানিকটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

ড. জাফর ইকবাল শুধু দেশের একজন বরেণ্য ব্যক্তিই নন, তিনি একজন জনপ্রিয় লেখক, অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী। বিনীতভাবে তার উদ্দেশে বলি, আপনার ভক্ত যারা আপনার কথা ফেলতে পারেন না, সেসব সম্পাদক ও সাংবাদিককে নিয়ে বসুন না, তাদের সদিচ্ছা পরীক্ষা করতে নয়, বরং কাজটা শুরু করতে। একটা কাজ হতে পারে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীর শ্রেণি ও বয়স উপযোগী দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে টেক্সট বই রচনার নতুন নির্দেশিকা তৈরি করে পরীক্ষিত এবং দক্ষ লোকের ছোট ছোট বিষয়ভিত্তিক দল করে- ১. বেশিরভাগ টেক্সট বই ঢেলে সাজানো। এ প্রসঙ্গে আর একটা কথা বলে রাখা ভালো। এই কচি বয়সে আদর্শবান, সুনাগরিক এবং দেশপ্রেমিক হওয়ার দায়ভার শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে টেক্সট বই ভারাক্রান্ত না করে বরং শিশুরা সহজে পড়তে পারে, পড়ে আনন্দ পায়, একা একা বা বন্ধুদের সঙ্গে একজোট হয়ে, যেখানে-সেখানে বসে যখন-তখন পড়তে আগ্রহী হয়, এ রকম ধারণা মনে রেখে টেক্সট বই রচনা বেশি ফলপ্রসূ হবে। শিশুরা যত জানবে, বুঝবে, দেশ ও দেশের মানুষকে তত ভালোবাসবে। তত বিনম্র হবে। ২. প্রয়োজনে একাধিক সহযোগী উপকরণ প্রণয়ন ও বাজার থেকে বয়স উপযোগী আকর্ষণীয় গল্পের বই সংগ্রহ। এই উদ্যোগের প্রথম এবং দৃষ্টান্তমূলক কাজ হবে সব পত্রপত্রিকা থেকে নোট বই ও গাইড বইয়ের আঙ্গিকে গড়ে তোলা পৃষ্ঠাগুলোর অবলুপ্তি।

শিক্ষাবিদ

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নিয়োগ বিধি ।প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে

ডেস্ক,১০এপ্রিলঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ প্রকাশ হবার পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধে ্য নানা মত দেখা দিয়েছে।ফেসবুকের শালিক আহমেদের পোষ্ট থেকে হুবুহ তুলে ধরা হল।

উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে !!!!!!!!!

প্রধান শিক্ষক পদটি যখন ৩য় শ্রেণি ছিল তখন এ পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল স্নাতকোত্তর /মাষ্টার্স পাশ। পদ ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হলো কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা সিম্পল ডিগ্রীতে নেমে গেল !!!!!!!!!!

প্রাথমিক শিক্ষা ৫ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত হল কিন্তু নতুন নিয়োগ বিধি ২০১৯ এ -এ পদে প্রবেশ যোগ্যতা চাওয়া হল স্নাতক।

যখন ছিলো কেবলই শতভাগ ভর্তি আর সবার জন্য শিক্ষা,তখন ছিল সহ.শিক্ষক এসএসসি/ডিগ্রি এবং প্রশি স্নাতকোত্তর।

কিন্তু আজ যখন উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার অঙ্গীকার, ঠিক তখনই সহ.শি. যোগ্যতা ডিগ্রীতে উন্নীত করলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যোগ্যতা স্নাতকোত্তর (মাষ্টার্স) থেকে পিছিয়ে করা হলো স্নাতক। তাহলে ডিপার্টমেন্ট সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নাকি পিছিয়ে যাচ্ছে??? আদৌ কি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত করার সদিচ্ছা আছে, নাকি ফাঁকাবুলি??? আদৌ সুষ্ঠু পরিকল্পনা কিংবা SWOT এনালাইসিসের মাধ্যমে টেকসই বিধিমালা প্রণীত হয়েছে নাকি প্রশিদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা, বাইনেইম গেজেট এবং পদোন্নতিসহ ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে পুর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কোন দুরভিসন্ধিপূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে???????? এই বিধিমালা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পাবে নাকি প্রশ্নবিদ্ধ হবে ? এর কারণ কি? তা বোধগম্য নয়!!! বাংলাদেশের অন্য কোন ডিপার্টমেন্টে নতুন নিয়োগবিধিমালা প্রণয়নের সাথে যোগ্যতা পিছিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আছে কিনা জানা নেই! তাছাড়া, আরো ৫/৭ বছর পর সহকারী শিক্ষকদের সরাসরি নিয়োগ যোগ্যতা মাষ্টার্সে উন্নীত করার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে পক্ষান্তরে, প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ-মাধ্যমিকে নামিয়ে আনে কিনা, এমন ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই!!!!! প্রশ্নগুলোর জবাব দেবে কে? বিজ্ঞজনের মতামত আশা করছি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter