Home » নিউজ

নিউজ

আরেকটি ধাক্কা আসছে, সতর্ক থাকুন

নিজস্ব প্রতিবেদক,২২ নভেম্বর ২০২০:
বৈশ্বিক মহামারি করোনার আরেকটি ধাক্কা আসছে। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে দ্বিতীয় ঢেউও মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাগুরা, যশোর ও নারায়ণগঞ্জে তিনটি সেতু উদ্বোধনকালে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সবাইকে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মহামারির এই প্রকোপের মধ্যে মানুষকে সুরক্ষা দেয়াই সরকারের লক্ষ্য। সেভাবেই সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দ্বিতীয় ধাক্কাও সরকারের পক্ষে সামলানো সম্ভব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য সরকার আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছে। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পাবে।’

‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে যোগাযোগব্যবস্থার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এর দ্বারা সচল হয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা। সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে’ বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। এতে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন যেন সহজ হয় সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন সেতু নির্মাণ করছে।’

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৭, শনাক্ত ২২৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,২০ নভেম্বরঃ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৭৫ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন চার লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭ জনের। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ছয় হাজার ৩২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭০৯ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন তিন লাখ ৫৮ হাজার ৪৩১ জন।

শুক্রবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বশেষ এই তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৭টি ল্যাবরেটরিতে ১৫ হাজার ৫৯৫টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৫ হাজার ৬০৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৬ লাখ ২২ হাজার ৫৫৯টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ১৪ দশমিক শূন্য ৫৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮৩ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ।

মারা যাওয়া ১৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ জন এবং নারী ছয় জন। করোনায় দেশে এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেলেন চার হাজার ৮৬৩ জন, আর নারী এক হাজার ৪৫৯ জন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, নারী ২৩ দশমিক শূন্য আট শতাংশ।

বয়স বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে দুই জন, বাকি ১০ জন ষাটোর্ধ্ব।

বিভাগীয় হিসেব অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৭ জনের মধ্যে- ঢাকায় ১২জন, চট্টগ্রামে একজন, রাজশাহীতে একজন, সিলেটে একজন এবং রংপুর বিভাগের দুইজন রয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ মার্চ প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোটা বাতিল চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ নভেম্বর, ২০২০:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে কোটা বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এক চাকরি প্রত্যাশীর পক্ষে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভুঁইয়া।

রিটে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা যায়, যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পয়ত্রিশ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক পিইডিপি-৪ এর আওতায় নেয়া হবে। কিন্তু ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ অক্টোবর জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোটা প্রথা বাতিল করা হয়।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়, পরবর্তীতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ৬০ শতাংশ নারী কোটা ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাদের নিজেদের স্বার্থে ওই প্রজ্ঞাপনের ৮ম অনুচ্ছেদে এ বিষয়টি উল্লেখ করে। যা জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ এপ্রিল কোটা বাতিল সংক্রান্ত পরিপত্র এবং সংবিধানের ২৭, ২৯ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।

রিটে আরও বলা হয়, যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন তাদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখা হয়েছে। অন্যকোনো অনগ্রসর কিংবা প্রতিবন্ধিদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নাই। এ কোটা বন্টনের ফলে সমাজের নিন্মশ্রেণির তথা দিনমজুর শ্রমিক রিকসাচালক, কৃষকের সরকারি চাকরি প্রত্যাশী ছেলে সন্তানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। যা তাদেরকে প্রজাতন্ত্রের কর্মের নিয়োগ লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।

রিটে বিবাদী করা হয়, মন্ত্রীপরিষদের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি)।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসে যেভাবে উন্নীত হবে

অনলাইন ডেস্ক,১৫ নভেম্বর:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ভিত্তিতেই তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরের ক্লাসে উঠবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রত্যেককে সনদ দেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল। এখন তারপরে ১১ দিনের মতো আমাদের হাতে সময় আছে। তারপরে যদি খোলার মতো অবস্থা না হয়, তাহলে আমরা বলে দিয়েছি স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করবে। এটা ঠিক অটোপাস বলতে চাচ্ছি না মূল্যায়ন করেই পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হবে।

গত ১৭ মার্চ থেকে সব দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে প্রাথমিকের সমাপনী, জেএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করাহয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষাও।

তবে টেলিভিশন ও রেডিওতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে শ্রেণি পাঠদান সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

দেশে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে, বাড়তে পারে মৃত্যুও

ঢাকা : শীতকালে কোভিড- ১৯ পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবনতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার গত এক সপ্তাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধিগুলো মেনে চলায় জনগণের অনীহা, মাস্ক না পরা এবং ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ‘আয়েশি দৃষ্টিভঙ্গি’র কারণেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করেছে।

তারা বলেছেন যে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি একটি সতর্কবার্তা। কেননা আগামীতে তাপমাত্রা আরও কমে যাবে এবং করোনার বিস্তার ও মৃত্যুর হারও বেড়ে যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুসারে, মে ও জুন মাসে করোনার প্রাদুর্ভাবের চূড়ান্ত সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০০০ মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয় এবং গড়ে প্রায় ৫০ জন মারা যান। ওই সময়ে পজেটিভের হার ছিল ২৪-২৫ শতাংশ।

তবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের হার কিছুটা কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে, সংক্রমণের হার অক্টোবরে ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল, তবে এখন এটি আবার বাড়তে শুরু করেছে।

গত ৩১ অক্টোবর, দেশে ১৩২০ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হন। শনাক্তের হার ছিল ১১.৪৫ শতাংশ। ১ নভেম্বর ১৫৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়, হার ছিল ১২.৫০ শতাংশ, যেখানে ২ নভেম্বর ১৭৩৬ জন শনাক্ত হন, হার ছিল ১৩.৪৭,

৩ নভেম্বর ১৬৫৯ জন শনাক্ত হন, হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ। ৪ নভেম্বর ১০.৯০ শতাংশ হার নিয়ে শনাক্ত হন ১৫১৭ জন। ৫ নভেম্বর ১২.১০ শতাংশ হার নিয়ে শনাক্ত হন ১৮৯১ জন, ৬ নভেম্বর ১০.৮৬ হার নিয়ে শনাক্ত হন ১৪৬৯ জন এবং ৭ নভেম্বর ১১.২৯ শনাক্তের হার নিয়ে শনাক্ত হন ১২৮৯ জন।

তাপমাত্রা হ্রাস : বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেছেন, অক্টোবরের শেষে বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাসের ফলে গত সপ্তাহে দেশের তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, পাবনা ও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে ১৪-১৫ ডিগ্রি ন্যূনতম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা শ্রীমঙ্গলে ১১.৫ এবং ঢাকায় ১৮ ডিগ্রি ছিল।

‘যখন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নীচে নেমে আসে, আমরা এটিকে ঠান্ডা আবহাওয়া বলি। সুতরাং, আপনি বলতে পারেন শীত ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, তবে তাপমাত্রা কয়েকদিনের মধ্যে বাড়বে এবং এই মাসের শেষ সপ্তাহে এটি আবার কমতে পারে,’ বজলুর বলেন।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীত পুরোদমে শুরু হতে পারে এবং বেশ কয়েকটি শৈত প্রবাহ এ সময় দেশে আঘাত হানতে পারে। সাধারণত, জানুয়ারি বাংলাদেশের শীতলতম মাস এবং ঠান্ডা আবহাওয়া ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে।

করোনা বৃদ্ধির পেছনে কারণ : ইউএনবির সাথে আলাপকালে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা মুজাহেরুল হক বলেন, করোনাভাইরাস আবারও বাড়ার পেছনে কারণ প্রধানত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদাসীনতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে ও মাস্ক পরতে লোকদের উদাসীনতা।

তিনি মনে করেন, ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে তাপমাত্রা হ্রাসই প্রধান কারণ নয়। ‘যদি কোনো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকে তবে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আমাদের দেশে এখন সেটাই ঘটছে।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে শীতকালীন আবহাওয়াতে ভাইরাসে প্রাণহানি অবশ্যই বাড়বে কারণ এই সময়ে লোকজন ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া এবং হাঁপানির মতো অনেক ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ‘যদি এমন রোগে আক্রান্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হয় তবে তার জীবন বাঁচানো কঠিন হবে। সুতরাং, মৃত্যুর হার বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, সরকারের উচিত জনগণকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো যেমন মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়ানো এবং যেকোনো সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি আসার পরে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে উত্সাহিত করা।

‘মানুষ যদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশিকা মেনে না চলে, তবে তাদের বাধ্য করতে সরকারকে আইন প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকবে,’ ডা. মোজাহের সতর্ক করেন।

এছাড়া তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আগত লোকদের বিমানবন্দর ও বন্দরে স্ক্রিনিং করতে হবে এবং তাদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। ‘বিদেশ থেকে আসা ভাইরাস রোধ করার জন্য আমাদের এখনই কঠোরভাবে এটি করা উচিত।’

করোনার প্রথম ঢেউ এখনও আছে : ডা. মোজাহের বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ এখনও চলছে বলে দেশ শিগগিরই দ্বিতীয় ঢেউ দেখতে পাবে না। ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই, কারণ আমাদের প্রথম ঢেউই এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’

ডিজিএইচএসের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. বে-নাজির আহমেদ বলেছেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণ করতে ‘সরকারের ব্যর্থতা’র কারণে বাংলাদেশ করোনার সংক্রমণের দীর্ঘ চক্রে প্রবেশ করেছে। ‘আমরা এখনও করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের মধ্যেই আছি।’

তিনি বলেন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ব্রাজিলের মতো আরও অনেক দেশ শীতের আগমনে একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে কারণ তারা প্রথম ঢেউই নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।

‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি, আইসোলেশন, পর্যাপ্ত পরীক্ষা, কোয়ারেন্টাইন এবং আইন প্রয়োগ হলো ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়। তবে আমরা এটি করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি,’ বলেন এই বিশেষজ্ঞ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে শীতকালীন আবহাওয়াতে ভাইরাসে প্রাণহানি অবশ্যই বাড়বে কারণ এই সময়ে লোকজন ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া এবং হাঁপানির মতো অনেক ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ‘যদি এমন রোগে আক্রান্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হয় তবে তার জীবন বাঁচানো কঠিন হবে। সুতরাং, মৃত্যুর হার বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, সরকারের উচিত জনগণকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো যেমন মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়ানো এবং যেকোনো সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি আসার পরে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে উৎসাহিত করা।

‘মানুষ যদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশিকা মেনে না চলে, তবে তাদের বাধ্য করতে সরকারকে আইন প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকবে,’ ডা. মোজাহের সতর্ক করেন।

এছাড়া তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আগত লোকদের বিমানবন্দর ও বন্দরে স্ক্রিনিং করতে হবে এবং তাদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। ‘বিদেশ থেকে আসা ভাইরাস রোধ করার জন্য আমাদের এখনই কঠোরভাবে এটি করা উচিত।’

হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করুন : স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সেনাল বলেছেন, অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে শীতের সাথে করোনার সম্পর্ক রয়েছে এবং শীতকালীন আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

যেহেতু আগামী দিনগুলোতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তে পারে সেহেতু তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের জন্য সরকারের উচিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সমস্ত হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা।

‘প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আইসোলেশন কেন্দ্র রয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ওষুধ এবং অক্সিজেন সরবরাহ, সেফটি গিয়ার এবং হাই ফ্লো নাসাল ক্যানুলার অভাব রয়েছে। এছাড়া জেলা হাসপাতালে আইসিইউ বেড ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা উচিত,’ বলেন ইকবাল।

তিনি বলেন, লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে অতীতে জাতিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। ‘একই ভুল পুনরায় যেন না হয় সেজন্য আমি সরকারকে অনুরোধ করছি। স্বাস্থ্যকর্মীদের যেকোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের উচিত পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা।’ সূত্র: ইউএনবি


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

হাসপাতালে এএসপি আনিসুল হত্যার প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

জাবি প্রতিনিধি | ১০ নভেম্বর, ২০২০
রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে কর্মচারীদের নির্যাতনে ৩১তম বিসিএস কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুর ঘটনার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ কর্মসূচী পালন করেন তারা। এএসপি আনিসুল করিম শিপন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম সাদাত হোসাইনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে শিপনকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে খুনিদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের মাধ্যমে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী আকবর উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘এদেশে সশস্ত্র বাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা যদি নিরাপদ না থাকেন তাহলে সাধারণ মানুষেরা কিভাবে নিরাপদ থাকবে? সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এখন আর প্রতিবাদ নয়, আমাদেরকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এদেশকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ইকরাম বলেন, ‘শিপনকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারা এ হত্যাকাএণ্ডর সাথে জড়িত ও কারা এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট। আমরা এ সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার রাজপথে থাকবে।’

এ সময় আগামী শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এএসপি শিপন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

বঙ্গবন্ধুর লেখা বইয়ের পাইরেটেড কপি বিক্রি, ৪ জনের সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ নভেম্বর, ২০২০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত বইয়ের পাইরেটেড কপি বিক্রির অভিযোগে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউ মার্কেট এলাকার ইসলামিয়া মার্কেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অভিযান চালানো হয়।

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় এই অভিযান চালিয়ে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত জাতির পিতা বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন’ ও ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের ২০টি পাইরেটেড কপি জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি।

এসব বই বিক্রি করায় ইসলামীয়া মার্কেটের বই বাজার প্রকাশনীর সৈয়দ রবিউজ্জামানকে দেড় বছর কারাদণ্ড, চাঁদপুর বুক সেন্টারের মো. হামিদকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জিসান-১ বুক সেন্টারের মো. সাগরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জিসান-২ বুক সেন্টারের মো. সোহেল রানাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মার্কিন নির্বাচন ৫ রাজ্যে তাকিয়ে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,৫ নভেম্বর:
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল কী হতে পারে তা নির্ধারণের জন্য আর হাতে গোনা মাত্র ৫টি রাজ্যের ফল বাকি রয়েছে। এখনো পর্যন্ত বাইডেন পেয়েছেন ২৬৪টি ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট এবং ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪টি। হোয়াইট হাউজে যেতে তাদের ২৭০টি ভোট দরকার।

গুরুত্বপূর্ণ যে রাজ্যগুলো এখনো বাকি রয়েছে সেগুলো হলো জর্জিয়া, নেভাদা, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং আলাস্কা। এ ৫ রাজ্যে মোট ভোট রয়েছে ৬০টি।

কয়েকটি উপায়ে বিজয়ী নির্ধারিত হতে পারে। ট্রাম্পকে ২৭০টি ভোট পেতে হলে জর্জিয়া(১৬টি ভোট), নর্থক্যারোলাইনা(১৫), পেনসিলভানিয়া(২০) এবং নেভাদায়(৬) জয় পেতে হবে। এখানে আছে ৫৭ ভোট, আর ট্রম্পের দরকার ৫৬ ভোট।

পেনসিলভানিয়ায় যার ফল আসতে দেরি হতে পারে। এখানে হারলেও জয় পেতে পারেন বাইডেন। তবে তার জন্য তাকে শুধুমাত্র নেভাদায় জয় পেতেই হবে। সেখানে রয়েছে ৬ ভোট। আর বাইডেনের দরকারও মাত্র ৬ ভোট। সেখানে সর্বশেষ খবর অনুয়াযী বাইডেন মাত্র ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। খবর ফক্সনিউজের। গণনা চলছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে দিনের শেষের দিকে কর্তৃপক্ষ ফল ঘোষণা করবেন।

জর্জিয়ায় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত রাতভর তারা গণনা চালিয়ে যাবেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, সেখানে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে আসছে। সবশেষ এটি ২৪ হাজার ভোটে এসে ঠেকেছে।

নেভাদায় ফল সামান্য ব্যবধানে ঝুলে আছে। বাইডেন মাত্র ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরবর্তী ফল বৃহস্পতিবার তিনটার দিকে ঘোষণা করা হবে। পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের ব্যবধান আরো কমে এসেছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৯০% ভোট গণনা শেষ হয়েছে। ট্রাম্প এক লাখ ৬৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় বেশিরভাগ ভোটই গণনা শেষ হয়েছে কিন্তু এখনো অল্প কিছু বাকি আছে। ৭৭ হাজার ভোট নিয়ে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প।

ফলে এ ৫ রাজ্যের ৬০ ভোটের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশ। পাশাপাশি আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ-সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে।


Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের আলোকে নিয়োগপত্র পেলেন প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালী।

ডেস্ক,১৪ অক্টোবর:
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রীট পিটিশন নং-৫০৬০/২০১৪ এর রায় এবং হাইকোর্ট বিভাগের কনটেম্পট পিটিশন নং-৭৬৩/২০১৯ এর রুল ও নির্দেশনা এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ০৮/১০/২০২০ ইং তারিখের পত্রের আলোকে ১৩/১০/২০২০ইং তারিখে নিয়োগপত্র পেলেন রাসেল ঢালী।
২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে মুন্সিগঞ্জ জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। একই বছর ২১ জুন লিখিত পরীক্ষায় জেলার বিভিন্ন থানার ৫৭ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন, যার মধ্যে রাসেলও ছিলেন। পরে ওই বছরেরই ১৫ ডিসেম্বর ১৯টি পদের মধ্যে ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী কোঠায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও রাসেল ঢালী প্রতিবন্ধী কোঠায় আবেদন করে উর্ত্তীন্ন হয়।
এ পরিস্থিতিতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন থেকে তৃতীয় শ্রেণির ওই পদে নিয়োগ বঞ্চিত রাসেল ঢালী হাইকোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, শারীরিক প্রতিবন্ধী রাসেল ঢালী পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে ২৮ নম্বর পেয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রতিবন্ধী কোটা থাকার পরেও তিনি চাকরি পাননি।
রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পদে প্রতিবন্ধী কোটায় রাসেলকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একটি পদ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিগত ১৬/১১/২০১৭ ইং তারিখ তাঁকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।
প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালীর পক্ষে মামলাটি শুনানী করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
মহামন্য হাইকোর্টের উক্ত রায়ের পরে দির্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বিবাদীগণ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে তাকে নিয়োগ প্রদান করেন নাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাসেল ঢালীর পক্ষে আদালতে Contempt Petition No. ৭৬৩/২০১৯ দাখিল করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিগত ১০/১২/২০১৯ বিবাদীদের প্রতি রুল জারী করলে কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ প্রদানের উদ্যোগ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় আদালতের রায়ের আলোকে প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালী অদ্য ১১/১০/২০২০ ইং তারিখ আজিমপুর অফিস থেকে যোগদান পত্র গ্রহণ করেন।
নিয়োগপত্র প্রসঙ্গে আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন প্রতিবন্ধী মো. রাসেল ঢালী আদালতের রায়ের আলোকে নিয়োগ পাওয়ায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং দেরীতে হলেও রাসেল ঢালী ন্যায় বিচার পেয়েছে।
নিয়োগ পত্র গ্রহন করার পরে রাসেল ঢালী বলেন, আমি আনন্দিত। দীর্ঘ তিন বছর অনেক কষ্ট করেছি। আইনজীবী ছিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া আমাকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর আমি প্রতিও কৃতজ্ঞ। আমার বাবার প্রত্যাশা ছিল আমি একটি সঠিক রায় পাব। তবে কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। আদালতের রায়ের আলোকে আমার যোগদান তিনি দেখে যেতে পারলে আরও ভালো লাগত।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবে : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ডেস্ক,১৩ অক্টোবর:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও আগের বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আগের বিধিমালা অনুসারে এসএসসি বা এইচএসসি পাস করা শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেয়া হচ্ছিল না। এ জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ও পুরাতন বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়া সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সাথে সব শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতে অর্থমন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। সম্প্রতি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, গত ১১ অক্টোবর অর্থসচিবের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে চিঠিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গতবছরের নভেম্বর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং বেতন গ্রেড-১৫ (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রের বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে।

এদিকে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের বিধিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করা হয়। তবে, এ বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে অনেক শিক্ষক এইচএসসি নিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৩’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি , সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯১’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্নাতক।

অর্থ সচিবকে পাঠানো চিঠিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সব শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই আগের বিধিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সকল সহকারী শিক্ষক ১৩ তম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন বলে এ মন্ত্রণালয় মনে করে। এছাড়া ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধিমালা জারির পরে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধিমালা রহিত হবে। রহিতকরণ সত্ত্বেও ওই বিধিমালার অধীন যেসব কার্যক্রম নিষ্পন্ন হয়েছে তা এ বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

তাই, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

গতবছরের বৃত্তির টাকা পেতে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির সুযোগ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ অক্টোবর, ২০২০
কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি না করায় ও ভুল তথ্য দেয়ায় বৃত্তিপাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়নি। বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য বকেয়া টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের ২০১৯-২০ অর্থবছরে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেধা ও সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধন করতে পারবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার (১২ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আদেশ জারি করে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এন্ট্রি ও ভুল সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রাজস্বখাতভুক্ত সব ধরনের বৃত্তির টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে ইএপটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। আগে বিভিন্ন সময় বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এমআইএসে (MIS) এন্ট্রি করতে বলেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান বৃত্তিপাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে না পারায় ও কিছু প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্যে ব্যাংক হিসেব নম্বর, শাখার নাম, পরীক্ষার বছর ইত্যাদি তথ্য ভুল থাকায় ৩০ জুনের মধ্যে এসব টাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারেনি শিক্ষা অধিদপ্তর। এসব শিক্ষার্থীর টাকা দ্রুত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজস্ব খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনের সময় আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এমআইএস সফটওয়্যারে (http://103.48.16.248:8080/HSP-MIS/login) লগইন করে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে হবে।

সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে অধ্যয়নরত আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। পাঠবিরতি রয়েছে এমন শিক্ষার্থীর তথ্য দেয়া যাবে না। মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করা যাবে না। দেশের অনলাইন সুবিধাসম্পন্ন তফসীলভুক্ত ব্যাংকে শিক্ষার্থীর নিজ নামে বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একক বা বাবা-মা অথবা আইন সংগত অভিভাবকের সাথে যৌথ নামে ব্যাংক হিসাব বা স্কুল ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এমআইএসে এন্ট্রির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসারের অনুরূপ একক বা যৌথ নাম উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষার্থীর পরীক্ষার আইডি-রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম ও বছর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। বৃত্তির ক্যাটাগরি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ভুল বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

নতুন বিধিমালায় ক্ষুব্ধ প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা।।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ অক্টোবর, ২০২০
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য ‘সমন্বিত নিয়োগবিধিমালা-২০২০’ এর খসড়াটি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকরা। এই বিধি বাস্তবায়িত হলে প্রধান শিক্ষকরা বয়সের বেরিক্যাড পার হয়ে কখনও অফিসার পদে পদোন্নতি পাবেন না। গত কয়েকদিনে তাই এই নিয়োগবিধি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা ।

খসড়া নিয়োগবিধিতে বলা হয়েছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ২৫৮৯টি পদে সরাসরি নিয়োগ হবে। নিয়োগে ৮০ শতাংশ পদ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং বাকি ২০ ভাগ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বুঝাবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নূ্ন্যতম ৩ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে, বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। সরাসরি নিয়োগে উন্মুক্ত প্রার্থীদের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অপর একটি পদ ‘ইনস্ট্রাক্টর’। উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদে নিয়োগে মোট পদের ৩৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৬৫ ভাগ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে নতুন নিয়োগ বিধির খসড়ায়। তবে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতির জন্য উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের সহকারী ইনস্ট্রাক্টর/পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নূ্ন্যতম ৭ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির বিএডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সরাসরি নিয়োগে বয়স ৩০ বছর, তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়সের কোনো উল্লেখ নেই।

ইউআরসির সহকারী ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদে নিয়োগও একই নিয়মে হবে। তবে এখানেও বিভাগীয় প্রার্থী বলতে শুধু প্রধান শিক্ষকদের বোঝানো হয়েছে। দেশের ৬৭টি পিটিআইয়ে ইনস্ট্রাক্টর সাধারণ ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ইনস্ট্রাক্টর পদেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতির বিধান রাখা হয়নি।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) পর্যন্ত হতে পারতেন। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগবিধি-১৯৮৫ এর ফলে শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পিএসসির নিয়োগবিধি ১৯৯৪ জারি হলে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারতেন।

২০০৩ সালের সরকারি গেজেটেও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে বিভাগীয় প্রার্থী বলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের কথা বলা হয়েছে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের বোঝানো হয়েছে। সর্বশেষ নিয়োগ পর্যন্ত এভাবেই চলছে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক স্বরুপ দাস বলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদ্দোন্নতি শুধু প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে সিনিয়ারটির মাধ্যমে পাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে বয়সের যে বার দেয়া হয়েছে তাতে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি চিরতরে বন্ধ হওয়ার পথে। সহকারী শিক্ষক হতে যেমন শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে ঠিক তেমনি প্রধান শিক্ষক হতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে শতভাগ পদোন্নতির জোর দাবী করেন।

তিনি আরও বলেন,সারা দেশের প্রধান শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। ৪৫ বছর বয়সের বেড়াজাল হতে প্রধান শিক্ষকরা মুক্ত হতে চাই। আর এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে সকল প্রধান শিক্ষককে ঐক্যবদ্ধ হবার অনুরোধ করেন।

চট্রগ্রামের সিনিয়ার প্রধান শিক্ষক সবিনয় দেওয়া বলেন,৪৫ বছর বার মানিনা। রীট এর প্রস্থুতি নিন।

কুমিল্লার শিক্ষক নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন,১০০ ভাগ পদোন্নতি চাই।

মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,প্রধান শিক্ষকদের 100% পদোন্নতি চাই ।পঁয়তাল্লিশের বাধা মানিনা মানবোনা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলছি দয়া করে আর আমাদের সাথে তামাশা করবেন না । এভাবেই 26 বছর গত হয়েছে। তবে আর নয়।

প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, মেধাবীদের ধরে রাখতে হলে তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ দিতে হবে। সব পদে যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতি দেয়া উচিত।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

স্কুলেও পরীক্ষা ছাড়া ‘প্রমোশনের’ চিন্তা, আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত

ডেস্ক,৯ অক্টোবর:

চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে এইচএসসি সহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসএসি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার স্কুলেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই ‘অন্য কোনো উপায়ে’ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে ‘প্রমোশনের’ চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের পরীক্ষা না নিয়ে ‘অন্য কোনো উপায়ে’ মূল্যায়ন করা হবে কি-না, বা হলে কীভাবে হবে, সেটি সামনের সপ্তাহেই জানানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, সরকারের চিন্তা ছিল যদি অক্টোবর-নভেম্বরে স্কুল খোলা সম্ভব হতো তাহলে পাঠ্যসূচি কাটছাঁট করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো রকম একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এর আগে গত বুধবার করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের জেএসসি, জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এদিন এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব তথ্য জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতিতে নভেম্বরেও বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত আড়াই মাসের ক্লাসসহ আরো কিছু বিষয় মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এর আগে চলতি বছর করেনার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিগত জেএসসি এবং এইচএসসির ফল মূল্যায়ন করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়। এমন সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছরের পড়াশোনার বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন না থাকায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকে। এ সিদ্ধান্তে অনেক পরীক্ষার্থী খুশি হলেও, কেউ কেউ অসন্তুষ্টও হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গত ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। করোনার কারণে তা স্থগিত করা হয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সকল শিক্ষা প্র‌তিষ্ঠা‌নের ছু‌টি ৩১ অ‌ক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকা,১ অক্টোবর: করোনা পরিস্থিতির কারণে আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের সব স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী করোনার কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার করোনাকালীন শিক্ষার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ছুটি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ছে। আজ সেই ঘোষণা এল।

প্রসঙ্গত, করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

জাল সনদ: এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ

ডেস্ক,২৯ সেপ্টেম্বর:
জাতীয়করণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সনদ যাচাইয়ে জাল চিহ্নিত হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের ১০টি প্রতিবেদনে ২০ জন শিক্ষকের জাল শিক্ষা সনদ চিহ্নিত করা হয়। মূল সনদের রোল নম্বর ব্যবহার করে এসব জাল সনদ তৈরি করা হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। আর কয়েকটি সনদের রোল নম্বর যাচাই করে ফলাফলের তালিকায় তা পাওয়া যায়নি।
এই সনদ জালিয়াতির ঘটনায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই জালিয়াতি নিয়ে শিক্ষকদের অভিমত, শুধু শিক্ষকরাই জড়িত নন, জালিয়াতির সঙ্গে এক শ্রেণির এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াত চক্রের অনুসন্ধান করে তাদের দোষীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির ঘটনায় এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আকরাম হোসেন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাল শিক্ষক সনদ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিঁয়াজো ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনুসন্ধান করতে হবে কিভাবে তারা জাল সনদ সংগ্রহ করলেন? কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছেন? সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এই জাল সনদের সঙ্গে জড়িত। নিরীহ শিক্ষকদের বেকায়দা বুঝে জাল সনদের ব্যবস্থা করেছে একটি চক্র। সনদ জালের উৎসে অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জানতে চাইলে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার উত্তর মেরামতপুর স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সনদ জালিয়াতির সঙ্গে এনটিআরসিএ-এর এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাছ থেকে দালালদের মাধ্যমে শিক্ষকরা সনদ কিনেছেন টাকা দিয়ে। দেশে ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন। এ জন্য এনটিআরসিএ দায়ী। ২০০৫ সালের আগে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন কিন্তু নিয়োগপত্র পেয়েছেন পরে তাদের অনেকেই এমপিওভুক্তির জন্য জাল সনদ কিনেছেন। শিক্ষকতার জন্য জরুরিভিত্তিতে সনদের প্রয়োজনে শিক্ষকরা যখন দিশেহারা, তখন সনদ কিনতে পাওয়া গেছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়।’

মো. মোখলেসুর আরও রহমান বলেন, ‘রংপুরের জাল সনদে দূরের জেলার অন্য বিষয়ের সনদের রোল নম্বর হুবহু মিলিয়ে শিক্ষকরা জাল সনদ তৈরি করতে পারবেন না। এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত না থাকলে সম্ভব নয়। জাল চক্র খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এনটিআরসিএ প্রকাশিত চলতি সেপ্টেম্বরের ১০টি প্রতিবেদনে ২০টি জাল সনদ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাতীয়করণ করা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সরকারি শাহ্ আব্দুর রউফ কলেজের আট জন প্রভাষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ভুয়া বা জাল। শিক্ষক আত্তীকরণে সনদ যাচাই করলে ভুয়া বলে প্রমাণ পায় এনটিআরসিএ। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে একই কলেজের আরও একজন শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত হয়।

কলেজটির আটজন শিক্ষকের মধ্যে সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক সুরাইয়া বেগমের জমা দেওয়া সনদে রুজিনা আক্তার নামের অন্য এক জনের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মোসা. হাসিনা আক্তারের জমা দেওয়া সনদের জাহাঙ্গীর আলম নামের অন্য এক জনের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি শাহ্ আব্দুর রউফ কলেজের ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক দিল রওশন আরার জমা দেওয়া সনদে বদরুল আমিনের সনদের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বরের অন্য একটি প্রতিবেদনে আরও দুই জন শিক্ষকের সনদ জাল চিহ্নিত করা হয়েছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. লতিফুজ্জামান ও মনিকা রানী রায়ের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল। মো. লতিফুজ্জামানের জমা দেওয়া সনদটি সাইফুল ইসলাম নামের এক জনের সনদ জাল করা হয়েছে। আর মনিকা রানী রায়ের জমা দেওয়া সনদটি মিজানুর রহমান নামের একজনের সনদ জাল করে করা হয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয়করণ করা রংপুরের বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনের সনদটি রাজবাড়ী জেলার ভূগোল বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের সনদ জাল করে করা হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাতীয়করণ করা নওগাঁর নিয়ামত সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. আসাদ আলীর জমা দেওয়া সনদে মো. আব্দুল খালেকের সনদের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আরেক প্রভাষক সুরুজ কুমারের জমা দেওয়া সনদে আব্দুস সালামের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বরের আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাসের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনের জমা দেওয়া সনদে আব্দুল লতিফের রোল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এই সব সনদ জালিয়াতির ঘটনায় জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন শিক্ষকরা। কারণ এনটিআরসিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ জড়িত থাকলেও এতদিন পর তা প্রমাণ করার সুযোগ নেই।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter