Home » খোলা কলাম

খোলা কলাম

মানুষের জীবনের বিনিময়ে মুনাফা নয়

মুহাম্মদ ইউনূস:
মানুষের ইতিহাস মূলত সম্মিলিত স্বার্থে পরিচালিত হবার ইতিহাস, ব্যক্তি স্বার্থে নয়। অর্থনীতিবিদরা আমাদেরকে এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, আমরা কেবল ব্যক্তি স্বার্থেই পরিচালিত হই, আর এজন্য ব্যক্তিগত মুনাফা সর্বোচ্চ করতে কাজ করি। এখন সময় হয়েছে ব্যবসাকে পুরোপুরি সমাজের চাহিদা পূরণের কাজে নিয়োজিত করে সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে আমাদের মূল পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা; মুনাফা কখনোই মানুষের মঙ্গল ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হতে পারে না। এটা আরও বেশি সত্য আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে—যাকে ১৯৪৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংবিধানে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আমি তখন মাত্র ছয় বছরের শিশু।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ঔষধ শিল্প যা রেকর্ড সময়ে কোভিড-১৯ এর নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির জন্য সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে—করদাতাদের অর্থে অর্জিত উদ্ভাবনের ফসল নিয়ে গোপন একচেটিয়া চুক্তি করেছে, যেখানে কিনা তাদের উচিত ছিল এই ভ্যাকসিনের মেধা স্বত্ব ও প্রযুক্তি মানবতার পরবর্তী মহৎ কর্মে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করে দেওয়া—এই ভ্যাকসিনকে পৃথিবীর সকল জায়গায়, সকলের কাছে সম্ভাব্য সবচেয়ে কম খরচ ও সময়ে পৌঁছে দেওয়া।

এখানে ভুল বুঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই— আমরা যদি একযোগে, সম্মিলিতভাবে এই কাজ করতে ব্যর্থ হই তাহলে এর ফলাফল হবে ভয়ানক ও দীর্ঘস্থায়ী। এরই মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী দেশগুলো এই ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় সবটাই তাদের জনগণের স্বার্থে তাদের নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে এবং এর ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলো ভ্যাকসিন পাবার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আমরা যখন ২০২১ সালের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত, তখন এই মহামারি একটি ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পরিসমাপ্তির সম্ভাবনার পরিবর্তে বরং এক বিরাট নতুন সামাজিক বিভাজন দক্ষিণ গোলার্ধের অনেকের মধ্যেই ভীতি ও ক্রোধের সৃষ্টি করতে যাচ্ছে; যাদের ভ্যাকসিন আছে ও যাদের নেই— এই বিভাজন।

এই মহামারি যত বিস্তৃত হবে তত বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করতে থাকবে এবং এই ভাইরাসও তত বেশি মিউটেশন ও ভ্যাকসিন-প্রতিরোধী হবার সুযোগ পাবে। এর ফল হবে সর্বত্র ব্যাপকভাবে নতুন নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি। অপরদিকে কোভ্যাক্স এর মতো প্রশংসনীয় বর্তমান পদ্ধতি থাকার পরও ২০২১ সালের শেষেও পৃথিবীর সর্বত্র এই ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত ডোজ নিশ্চিত করা যাবে না। কিন্তু উন্নত বিশ্ব ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস এর এই জরুরি সতর্কবার্তা শুনতেই চাচ্ছে না যে, ‘সকলকে নিরাপদ না করা পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়।’ আগামী দীর্ঘ একটি বছরে সকল দেশকে জরুরিভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে, সর্বনিম্ন খরচে সকলের জন্য কার্যকর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণদের, যেমন: স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্ক মানুষদেরকে যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন দিতে হবে।

আর এ কারণে প্রায় ১০০টি দেশ সকল কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও এর চিকিৎসা প্রযুক্তির প্যাটেন্টের উপর একটি ব্যাপক-ভিত্তিক সাধারণ স্বত্বত্যাগ জারি করতে এ মাসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিচ্ছে। এই প্রস্তাবের নেতৃস্থানীয় কো-স্পন্সর দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে এইচআইভি/এইডস মহামারিতে এরই মধ্যে বিপুল মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির মর্মান্তিক ইতিহাস রয়েছে।

এই ভ্যাকসিনকে প্যাটেন্ট-মুক্ত করার সাধারণ একটি ঘোষণার মধ্য দিয়েই পরিস্থিতির নাটকীয় উন্নতি সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক যে, মানুষের জীবন রক্ষার— বিশেষ করে জনবহুল দেশগুলোতে— এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পৃথিবীতে বরং একটি উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো ধনী দেশগুলো এখনো এই রেজ্যুলেশনের বিরোধিতা করে আসছে; যে রেজ্যুলেশন স্বল্প আয়ের দেশগুলো তাদের নিজেদের জনগণের জন্য স্বল্পতম খরচে, মেধা স্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হবার ভয়ে ভীত না হয়ে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রযুক্তি পাবার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। এটা সম্ভবত আরও দুঃখজনক যে, ব্রাজিল তার দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে সেসব দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে যারা এই ভ্যাকসিনের প্যাটেন্ট-মুক্ত উৎপাদনের বিরোধিতা করে আসছে।

জি-২০ নেতাদের এখন সময় এসেছে এটা প্রমাণ করা যে, কাউকে পেছনে ফেলে না রাখতে ‘চেষ্টার কোনো ত্রুটি না করার’ তাদের যে ঘোষণা তার প্রতি তারা আসলেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের এখন বিশ্ববাসীকে দেখাতে হবে যে, তাদের কথার চেয়ে কাজের জোর বেশি।

চ্যান্সেলর মেরকেলের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন সম্মেলনের আগে ইউরোপের সরকার প্রধানদের এখনই ঠিক করতে হবে, তারা তাদের ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থের চেয়ে তাদের দৃষ্টি নিজ নিজ দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখবেন, নাকি ভ্যাকসিন পুঁজিবাদকে দৃঢ়ভাবে পরিত্যাগ করে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবেন। ইউরোপ যদি দক্ষিণ গোলার্ধের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে মানুষকে প্যাটেন্টের উপরে স্থান দেয় ও মেধা স্বত্ব ত্যাগে দেশগুলোকে সহায়তা করে, তাহলে ডব্লিউটিওতে উত্থাপিত রেজ্যুলেশন অনায়াসে তিন-চতুর্থাংশ ভোটে পাশ হয়ে যাবে।

জলবায়ু সংকট এরই মধ্যে পৃথিবীতে মানব জাতিকে সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত করেছে। এখন মহামারি দক্ষিণ গোলার্ধকে ভ্যাকসিনবিহীন, এবং আরও চরম অবস্থায়— নকল ভ্যাকসিনে সয়লাব করে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে ধাবিত করতে যাচ্ছে, এবং এই ভ্যাকসিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে মেধা স্বত্ব বাতিলের একটি সরল সিদ্ধান্ত বিপুল সংখ্যক মানুষকে রক্ষা করতে পারে—যেমনটি পোলিও ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

পৃথিবীর সকল প্রান্তে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে ও খরচে একটি নিরাপদ ও কার্যকর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়ে আমরা মানবজাতি পৃথিবীর বুকে একত্রে টিকে থাকার সক্ষমতায় আমাদের পুনরুজ্জীবিত আস্থার মধ্য দিয়ে একটি নতুন যুগের ভিত্তি রচনা করতে পারি এবং আমাদের এই বিশ্বাসকে দৃঢ়তর করতে পারি যে, আমরা মানবকুল পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতি’ থেকে আমাদের অবস্থানকে ‘উদ্ধারকারী প্রজাতি’তে পরিবর্তিত করতে সক্ষম।

আশা করছি ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

*প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে একটি ‘সর্বসাধারণের সামগ্রী’ ঘোষণার লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করেছেন যেখানে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ২৪ জন নোবেল লরিয়েট এবং আরও শতাধিক খ্যাতনামা বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রযুক্তিগুলো পৃথিবীর সর্বত্র সহজলভ্য করার জন্য এগুলোর মেধা স্বত্ব ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বাধা-নিষেধ দুর করতে তার এই আহ্বানে এ পর্যন্ত পৃথিবীর ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস: নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০০৬ বিজয়ী
source:https://www.thedailystar.net/

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি কেন এমন নির্দেশনা?

মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশনা কেন উপেক্ষিত?
রিয়াজ পারভেজ
৫ জুন, ২০২০:

প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি ক্রমাবনতিশীল। আক্রান্ত প্রতিদিন তিন হাজার ছুই ছুই। প্রাণহানি চল্লিশের কাছে।প্রতিদিন দেশের কোন না কোন প্রান্ত হতে করোনা আক্রান্ত হয়ে একাধিক শিক্ষকের মৃত্যুর সংবাদ আসছে।বিপুল সংখ্যক শিক্ষক প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে আবার তাদের বাসায় গিয়ে খাতা সংগ্রহ করে মূল্যায়ন করে যথা সময়ে রিপোর্ট দেয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষককে বাধ্য করা হচ্ছে। আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭৩৫ জন। শিক্ষক প্রধান শিক্ষক সহ ১৭জন। প্রতি শিক্ষক ১০০এর অধিক শিক্ষার্থীর বাসায় যেয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কি তা আদৌ সম্ভব?
এবার আসা যাক মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশনার বিষয়ে। কিছু শিক্ষক ইনোভেশন হিসেবে হয়তো এমন প্রস্তাব করেছেন। ডিজি স্যারের নির্দেশনামূলক চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে, যেখানে সম্ভব সেখানে এই প্রকৃয়া চলতে পারে। কিন্তু এখন স্যারের নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষককে পরীক্ষা নিতে চাপ সৃস্টি করা হচ্ছে।
এখন কথা হচ্ছে যেখানে এইচএসসি পরীক্ষার মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না, সেখানে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা তাও বাসায় অভিভাবকদের সহায়তায় দিয়ে কি উপকার হবে তা বোধগম্য নয়।

পরিশেষে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের এই অমানবিক সিদ্ধান্ত থেকে মুক্তি দিতে মাননীয় সচিব স্যার ও মহাপরিচালক স্যারের দৃস্টি আকর্ষণ করছি।

লেখকঃ সভাপতি (কেন্দ্রীয় কমিটি)
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রধান শিক্ষক সমিতি

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভারত ভ্রমনে যে সমস্যা!

জুগাল মজুমদার:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক তীর্থ ভ্রমণ যেমন -গয়া, কাশী বা আজমির শরীফ মাজার জিয়ারত কিংবা চিকিৎসার নিমিত্তে ভারত গমন করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দেশে ফেরার পর ছুটি ভোগ করা দিনগুলোর অর্ধ গড় বেতন ও অর্জিত ছুটি কর্তন করা হয়।



এ জন্য শিক্ষকগণ ভারত গমণের জন্য বিদ্যালয় খোলা থাকা দিনগুলোই বেছে নেন। যদি বিদ্যালয় ছুটির দিন গুলোতে ভারত গমন করলে অর্ধ গড় বেতন ও অর্জিত ছুটি কর্তন করা না হতো, তাহলে শিক্ষকগণ পবিত্র রমজান মাস,ঈদ উল আযহা, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, দূর্গাপূজার ছুটি থাকা দিনগুলোতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা কিংবা তীর্থ ভ্রমনের জন্য ভারত গমন করতে পারতেন।এতে পাঠদানে কোনো প্রকার চাপ হতো না।এছাড়া ভ্রমন ট্যাক্স বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যেতো।এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ উপকৃত হবে,শিক্ষকগণ সহজেই চিকিৎসা নিতে পারবেন, ভ্রমণ হেতু একঘেয়েমি দূর হবে।এ বিষয়ে সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কৃপাদৃষ্টি কামনা করছি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক শিক্ষকদের করুন কাহিনী

তৌহিদুজ্জামান সোহেল

আমি ৩৬ তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সুপারিশ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমিও মানুষ তাই আমিও ভুল করতে পারি। আজ আমার লেখার বিষয়বস্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জীবন ও বাস্তবতা। লেখার শুরুতে বলে রাখি আমার কথাতে কেউ কষ্ট পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।



প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। একটি সংসার চালানো যে কী কঠিন তা যে চালায় সেই বোঝে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫-৬ জন শিক্ষক কোন কোন বিদ্যালয়ের ৭-৮ জনও থাকে, যারা ভিন্ন ভিন্ন পরিবার থেকে আসেন। এদের মন মানসিকতাও ভিন্ন। সবাইকে সামাল দিতে প্রধান শিক্ষক কম কষ্ট করেন না। অথচ সেই প্রধান শিক্ষক এখনো দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পাননি।

জানামতে, প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড দ্বিতীয় শ্রেণীর হওয়ার ঘোষণা প্রদান করে কিন্তু এখনও তা বাস্তবে প্রমাণিত হয় নি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কিন্তু বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ দিয়েও তাদেরকে ১২ তম গ্রেড এ রাখা হয়েছে কিন্তু একই সাথে একই পরীক্ষা দিয়ে কেউ ৯ম কিংবা ১০ম গ্রেডে সেখানে শিক্ষার মূল ভিত্তিতে ১২ তম গ্রেডে সুপারিশ করা হয়েছে । যতদিন না বেতন বৈষম্য ঠিক হবে এবং মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি কার্যকর হবে ততদিন প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই সমস্যা দূর না করলে প্রাথমিক এর মান বাড়ানো যাবে না।

কর্তাব্যক্তিরা নিয়মিত আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের সে আশা এখনও আশার আলো দেখেনি আর কবে আশা পূরণ হবে তাও কেউ জানে না। সহকারী শিক্ষকরা তো সবচেয়ে বড় বলির পাঁঠা। সকাল নয়টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া, বিদ্যালয় পরিষ্কার করা, ঘণ্টা বাজানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ তাদের করতে হয়। আর যে স্কুলে শিক্ষক কম তাদেরতো আরো কষ্ট যা বলে শেষ করা যাবে না। সাথে আরো নতুন নতুন নিয়মের পরিপত্র তো আছেই।

নয়টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত মাঝখানে বিরতি মাত্র ত্রিশ মিনিট এমন রুটিন দেখে মনে হয় প্রাথমিকের শিক্ষকেরা রোবট। দুপুরের খাবার খেলে নামাজ পড়া হয় না, নামাজ পড়তে গেলে খাবারের সময় নেই। অথচ সেই সহকারী শিক্ষক হচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী যা সকল শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে আমার মনে হয়। কী লজ্জা! ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষকরা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন কিন্তু তাদেরকে শুধুই আশার বাণী শোনানো হচ্ছে। আদৌ কি তাদের আশা পূরণ হবে? নাকি শুভঙ্করের ফাঁকি?

প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণকৃত, অথচ দপ্তরিদের চাকরি জাতীয়করণ হয় না। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আগে শিক্ষকদের মান বাড়াতে হবে সাথে সাথে তাদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো শিক্ষা বান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে যাতে করে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত হয়ে গড়ে উঠে। তাই সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ এই যে, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড অবিলম্বে কার্যকর করা হউক যাতে প্রাথমিকের শিক্ষকেরা সমাজে গর্ব করে বলতে পারুক যে আমি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যেদিন শিক্ষকেরা মাথা উচু করে তারা তাদের পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করবে না সেদিন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়বে।

লেখক: প্রধান শিক্ষক (৩৬ তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সুপারিশ প্রাপ্ত)

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথ‌মিক শিক্ষক‌দের নন ভ্যা‌কেশনাল ঘোষণার দাবী

মাহবুবর রহমান,১০মে:
প্রাথ‌মিক ‌শিক্ষক‌দের যে সময় ভ্যা‌কেশনাল ঘোষণা করা হয় তখন নন ভ্যা‌কেশনাল ডিপার্ট‌মে‌ন্টের চে‌য়ে ভ্যা‌কেশনাল প্রাথ‌মিক শিক্ষক‌দের বাৎস‌রিক ছু‌টি ‌বে‌শি ছিল।
সেই সময় নন ভ্যা‌কেশনাল ডিপার্ট‌মে‌ন্টের সাপ্তা‌হিক ছু‌টি ০১ দিন, শুধু শুক্রবার ছিল কিন্তু বর্তমা‌নে নন ভ্যা‌কেশনাল ডিপার্ট‌মে‌ন্টের সাপ্তা‌হিক ছু‌টি ০২ দিন, শুক্রবার ও শ‌নিবার।



ক) প্রাথ‌মি‌ক শিক্ষক‌দের ছুটিঃ
সাপ্তা‌হিক ছু‌টি ও বাৎস‌রিক ছু‌টি মোট ৫২+৭৫= ১২৭ দিন (য‌দিও প্রধান শিক্ষকের হা‌তে ০৩ দিন সংর‌ক্ষিত ছু‌টি অধিকাংশই ভোগ ক‌রেন না) Read More »

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

পাঠ্যসূ‌চির সা‌থে মিল রে‌খে সময়সূ‌চি হোক !!

মাহবুবর রহমান:
কোমলম‌তি শিক্ষার্থী‌দের গুরুত্ব বি‌বেচনায় পাঠ্য বই‌য়ের সা‌থে মিল রে‌খে বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী করার দাবী শিক্ষকদের।

প্রাথ‌মিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর আওতাধীন জাতীয় ‌শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রণ ২০১৯ সা‌লের চতুর্থ শ্রে‌ণির English for Today পাঠ্য বই‌য়ের ২৮ ও ৩২ পৃষ্ঠায় Lesson এ উল্লে‌খিত বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ১০ টা থে‌কে বেলা ৩ টা পর্যন্ত ‌দেওয়া আছে।



অথচ একই মন্ত্রনাল‌য় কর্তৃক জারী কৃত আদেশ অনুযায়ী বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ৯ টা থে‌কে বি‌কেল ৪’৩০ মি‌নিট পর্যন্ত ।
কোমলম‌তি শিক্ষার্থীরা আমরা পাঠ্য বই‌য়ে প‌ড়ি এক রকম আর বিদ্যালয় ছু‌টি হয় আরেক সময় !!
হাইস্কুল ছু‌টি হয় আমা‌দের ছু‌টির আগে আর ক‌লে‌জের কোন ধরাবাঁধা সময় সূচী নেই।
বয়‌সের তুলনায় ছোট হ‌য়েও দীর্ঘ সময় বিদ্যাল‌য়ে অবস্থান এ সময় সূচীর ব্যাপা‌রে প্রশ্ন কর‌লে এর সদুত্তর দি‌তে পা‌রি‌নি ।
তাই সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপ‌ক্ষের নিকট বিনয়ের সা‌থে নি‌বেদন বই‌য়ের সা‌থে মিল রে‌খে সময়সূ‌চি করা হোক।

মাহবুবর রহমান,সহকারী শিক্ষক,‌ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সহকারী শিক্ষকরা বেতন মর্যাদায় অবহেলিত

২৮ এপ্রিল ২০১৯:

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের ভুমিকা যথেষ্ঠ। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা তথা পাঠদানের কাজটি করেন সহকারী শিক্ষকরা। সহকারী শিক্ষকদের ওপরই নির্ভর করে প্রাথমিক শিক্ষার সফলতা অথবা ব্যর্থতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী হয়েও এই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বেতন পদমর্যাদায় এখনো চরমভাবে অবহেলিত।

গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে আগায় দিলে যেমন ভালো গাছ পাওয়া যায় না, তেমনি সহকারী শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে কখনো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা যাবে না—এটা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অনুধাবন করতে হবে। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য কেন আন্দোলন করতে হবে? তাঁরা তো এমন কোনো দাবি করেননি যা অযৌক্তিক? বিদ্যালয়ের প্রাণ সহকারী শিক্ষকরা ১৯৭৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পদ অনুসারে প্রধানশিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতনভাতা পেতেন, সেখানে বর্তমানে ৩ ধাপ নিচে বেতনভাতা পাচ্ছেন—যা লজ্জাজনক।

সরকার প্রধানশিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতনভাতা দিচ্ছে। তাই সহকারী শিক্ষকরা পূর্বের দেওয়া মর্যাদা ও পদ অনুসারে প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড অর্থাত্ ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কর্তৃপক্ষও সহকারী শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক বলে স্বীকার এবং তা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই। যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের অন্তরায়। তাই সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দ্রুত প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝলঝলি, তেপুকুরিয়া, বোদা, পঞ্চগড়

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

শিক্ষক কিভাবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদমর্যাদার হন?

মাহফিজুর রহমান মামুন: শিক্ষার আলো বিস্তার প্রথমে শুরু হয় যাঁদের হাত দিয়ে, সেই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বেতন পদমর্যাদায় এখনো চরমভাবে অবহেলিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’ধরনের শিক্ষক রয়েছেন—প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক। আগে এই উভয় ধরনের শিক্ষকই ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। ২০১৪ সালে প্রধানশিক্ষকদের ২য় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়। একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এখনো ৩য় শ্রেণির পদমর্যাদায় রয়েছেন, যা মানুষ গড়ার কারিগরদের জন্য লজ্জাজনক।

একজন শিক্ষক কিভাবে ৩য় শ্রেণির কর্মচারী হন? প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। তাছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর ডিপার্টমেন্টের অধীনে বাধ্যতামূলকভাবে দেড় বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন নামে একটি উন্নতমানের ডিপ্লো­মা কোর্স সম্পন্ন করতে হয় তাঁদের। যেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পরে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে অন্য সকল ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবী ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত, সেখানে স্নাতক পাসের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পরেও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা ৩য় শ্রেণির কর্মচারী পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত! একই দেশে একই যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কেন এই বৈষম্যের শিকার?

সারা বিশ্বে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা যেখানে অতি উচ্চ, সেখানে আমাদের দেশে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণির—এটা খুবই দুঃখজনক। শিক্ষকরা আশা করেন, শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকার দ্রুত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদেরও ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়ে তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবে।

লেখক- সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝলঝলি, তেপুকুরিয়া, বোদা, পঞ্চগড়

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক মানসম্মত শিক্ষায় বাধা শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কর্মে সম্পৃক্ত করা

স্বরুপ দাস: দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের কারণে সমাজে ও পরিবারে নানাবিধ সমস্যা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। ফলে বেশিরভাগ পরিবারে দ্বন্দ্ব ও কলহ বিরাজ করে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। শিক্ষা সম্পৃক্ত বিষয় তার কাছে উপযোগিতা পায় না। শিক্ষকের পাঠদান তার ভেতরে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অতি মেধাবী, চঞ্চল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা যদি মেধা অনুযায়ী শিখন পরিবেশ না পায় সেক্ষেত্রেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সহযোগিতার জন্য যে ম্যানেজিং কমিটি থাকে তাও অনেক সময় ক্ষুদ্র কোনো বিষয়ে ইস্যু তৈরি করে বিশাল সমস্যায় পরিণত করে। ফলে শিক্ষকরা অনেক সময় অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।


মা-বাবা, বড় ভাই-বোন অনেক সময় খোঁজখবরও রাখেন না। বাবা-মা মনে করেন, জন্ম দেয়ার কাজ ছিল জন্ম দিলাম। মানুষ করার দায়িত্ব শিক্ষকের। শিক্ষক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, পাঠ্য বিষয় বোধগম্য করে দিতে পারেন, প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করতে পারেন; কিন্তু শিক্ষা অর্জনের প্রাথমিক স্তর হলো পরিবার। পরিবার থেকে যদি শিক্ষার্থী আচরণ না শেখে, মানব চরিত্রের মহত্ গুণগুলো না শেখে, পরিবারেই যদি থাকে অনিয়ম, মিথ্যা, কলহ ও জরাজীর্ণ পরিবেশ—তবে সেই পরিবেশ শিক্ষার্থীর মনে কী প্রভাব ফেলবে তা তো সহজেই অনুমেয়।
Read More »

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ

এস এম সাইদুল্লাহ: প্রধান শিক্ষক ভাগ্যাকাশের কালোমেঘ এখনও কাটেনি! এর আগে প্রধান শিক্ষক পদের মতো বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের আর কোনো পদ নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র হয়নি!! সত্যি সেলুকাস!!!প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শীঘ্রই ৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এ বিষয়ে সমসাময়িক আলামত এই খবরের পক্ষে যায় না, সাংঘর্ষিক।


কারণ, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে আলোচনার অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’ এ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা/থানা কোটা বহাল রাখার প্রস্তাব আছে। তা ছাড়া বেতন স্কেলের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। যা ননক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বিশেষ বিধান করে পুরোনো তৃতীয় শ্রেণি (ননগেজেটেড) থাকাকালীন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩’ই বহাল রেখে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ (৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ) , পদোন্নতি চালু রেখে প্রধান শিক্ষকদেরকে পঙ্গু করে রাখার পায়ঁতারা চালাচ্ছে।

অযুহাত দেখানো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা আপাতত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত না হওয়া।

অন্যদিকে, দাতাগোষ্ঠীর চাপে প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো (organogram) ও নিয়োগবিধি’তে প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৬ষ্ঠ গ্রেড) অধীনে না রেখে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (৯ম গ্রেড) অধীনে একধাপ নিচে (১০ম গ্রেড) রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মতোই দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এতে আমাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে।

তা ছাড়া দিনে দিনে নানাভাবে নতুন নতুন অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিপত্র/নির্দেশনা জারি করে প্রধান শিক্ষক পদের প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ সকল আলামত প্রধান শিক্ষকদের ভাগ্যের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাই প্রয়োজন ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ।

পুনশ্চ: প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৭’কে দাতাগোষ্ঠী প্রস্তাবিত সমন্বিত খসড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি’র সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। এটিও বাস্তবায়ন অনেক দূরের স্বপ্ন।

এস এম সাইদুল্লাহ

সিনিয়ার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক

কেন্দ্রিয় কমিটি

বাসপ্রাবিপ্রশিস

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা : করণীয়

সালমা আক্তার নিশু,১৭ জুন : শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা মজবুত না হলে মাধ্যমিক, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সফল হবে না। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে মজবুত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক। শিক্ষকদের যথাযথ বেতন ও মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এসব মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব। তা হলেই সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণেও সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বাধ্যবাধকতা মানতেও প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। বলা হয়ে থাকে — যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেশি সে দেশ তত উন্নত। প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শিশুই দেশের সম্পদ। এ সকল শিশুকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে ভর্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সঠিক শিশু জরিপ করা। বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও উন্নত হিসেবে গড়ে তোলা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানকে আধুনিক পদ্ধতি, কৌশল ও আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কার্যকর করা। প্রতিটি শিশুকে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় ইতিহাস জানানো প্রয়োজন। ধর্মীয়, নৈতিক ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করা। এক্ষেত্রে শিক্ষক, বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধিগণ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, ভিশন ২০২১, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল চালু করার মাধ্যমে শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও কার্যকর উদ্যোগ। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। জরুরি ভিত্তিতে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আধুনিক ও উন্নত ফিটিংস দ্বারা বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমকে পরিমার্জন করা হয়েছে। এই শিক্ষাক্রমকে সর্বস্তরে যথাযথভাবে বিস্তরণ ঘটাতে হবে। যোগ্যতাভিত্তিক সুঅভীক্ষা প্রণয়ন ও মুল্যায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। তবেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুফল আসবে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপসংহারে আমরা বলতে পারি যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যাপ্ত মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, আরও বেশি বেশি সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা সবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রাথমিক শিক্ষা আশাকরি।

আমরা স্বপ্ন দেখি অচিরেই বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এজন্য সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। জয় হোক প্রাথমিক শিক্ষার। জয় হোক শিক্ষার।

সালমা আক্তার নিশু

প্রধান শিক্ষক করিমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচি ৩টা পর্যন্ত করার দাবী।

প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর শিক্ষকের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:জয়পুরহাটের এক শিক্ষক  প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সুচি ৩টা পর্যন্ত করার দাবী জানিয়েছে। তার এই দাবীকে সর্মথন জানিয়েছে একাধিক শিক্ষকক সমিতির নেতৃবৃন্দ। আবেদনকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ৈর সহকারী শিক্ষক।

আবেদনে বলা হয় প্রাথ‌মিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর আওতাধীন জাতীয় ‌শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রণ ২০১৭ সা‌লের চতুর্থ শ্রে‌ণির English for Today পাঠ্য বই‌য়ের ২৮ ও ৩২ পৃষ্ঠায় Lesson এ উল্লে‌খিত বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ১০ টা থে‌কে বেলা ৩ টা পর্যন্ত ‌দেওয়া আছে।
অথচ একই মন্ত্রনাল‌য় কর্তৃক জারী কৃত আদেশ অনুযায়ী বিদ্যাল‌য়ের সময় সূচী সকাল ৯ টা থে‌কে বি‌কেল ৪’৩০ মি‌নিট পর্যন্ত ।
কোমলম‌তি শিক্ষার্থীরা আমরা পাঠ্য বই‌য়ে প‌ড়ি এক রকম আর বিদ্যালয় ছু‌টি হয় আরেক সময় !!
হাইস্কুল ছু‌টি হয় আমা‌দের ছু‌টির আগে আর ক‌লে‌জের কোন ধরাবাঁধা সময় সূচী নেই।
বয়‌সের তুলনায় ছোট হ‌য়েও দীর্ঘ সময় বিদ্যাল‌য়ে অবস্থান এ সময় সূচীর ব্যাপা‌রে প্রশ্ন কর‌লে এর সদুত্তর দি‌তে পা‌রি‌নি ।
তাই সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপ‌ক্ষের নিকট বিনয়ের সা‌থে সদুত্তর পাওয়ায় আশায় নি‌বেদন কর‌ছি।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

চাকরির পরীক্ষায় আবেদন ফি নেয়া কতটা যৌক্তিক?

ru-pic-01বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষ হতে না হতেই সোনার হরিণ নামে চাকরির পেছনে ছুটতে থাকেন শিক্ষিত বেকাররা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পদের সংখ্যা থাকে হাতে গোনা, সেই তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কয়েকগুণ বেশি।

সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব চাকরিতে আবেদন ফি বাবদ প্রার্থীদের গুণতে হয় শত শত টাকা। আর চাকরিদাতারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট বাবদ বুঝে নেন নগদ অর্থ। নিয়োগকর্তারা মনে করেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন ফি দিতে বাধ্য।

বিসিএসসহ পিএসসির (সরকারি কর্ম-কমিশন) সব চাকরির আবেদনে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পরীক্ষার ফি বাবদ নগদ অর্থ গুণতে হয়।

লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ কার্ড কিংবা চাকুরির নিশ্চয়তা না থাকলেও বুঝে নেয়া হয় আবেদন ফি। আর এ টাকা নেয়া হয় বেকারদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজনের লোকবল নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয়ের ভার বহন করতে হয় সেই সব বেকারদের। যারা প্রায় ১৭-২০ বছরনিজেদের খরচে লেখাপড়া করে রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

আবার তাদেরই রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পাওয়ার জন্যও ফি দিতে হচ্ছে! এভাবে শিক্ষিত বেকারদের কাছে থেকে আবেদন ফি নেয়া কতটা যৌক্তিক?

নিয়োগকর্তাদের প্রশ্ন করা গেলে তারা হয়তো নিয়োগ-সংক্রান্ত খরচের কথাই বলবেন। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার খরচ বহন করার দায়িত্ব কি বেকারদের? নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রভৃতি কাজে খরচ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ খরচ কেন বেকারদের বহন করতে হবে?

প্রতিষ্ঠান যেহেতু নিজেদের প্রয়োজনেই নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়। তাদের উচিত নিয়োগ-প্রক্রিয়ার সব ব্যয়ও বহন করা। প্রতিষ্ঠান যদি পুরোটা বহন করতে না চান; সে ক্ষেত্রে আবেদন ফি এমন হওয়া উচিত, যাতে নিয়োগ-সংক্রান্ত ব্যয়ের অর্ধেক বহন করবে প্রতিষ্ঠান, অর্ধেক চাকরিপ্রার্থীরা।

আগে বিসিএস পরীক্ষার ফি ছিল ৫০০ টাকা। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণদের আবেদন ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০০ টাকা। যেসব শিক্ষার্থীর নিজস্ব কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সুবিধা নেই, তাদের আবেদন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ করতে হয়। শুধু আবেদনেই শেষ নয়; একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির পরীক্ষার মিল না থাকায় প্রস্তুতি নিতে ভিন্ন ভিন্ন বইপত্রও কিনতে হয়।

আবার ঢাকাতে বেশির ভাগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বার বার ঢাকায় আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়াতে গুণতে হয় অনেক টাকা। টাকা না থাকায় অনেকেই আবেদন করতে পারেন না। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই টিউশনির টাকার ওপর নির্ভর করে নিজেদের খরচ চালার পাশাপাশি চাকরিযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। সীমিত টাকায় চলতে গিয়ে যখন প্রতি মাসেই চাকরির আবেদনের জন্য বাড়তি গুণতে হয় কমপক্ষে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা; তখন তাদের বিপাকে পড়তে হয়।

৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় ২ লাখেরও বেশী আবেদন করেন। ৩৭ তম বিসিএসে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন আবেদন করেন। ৩৭ তম বিসিএসে সাধারণ প্রার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ধরা হলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটিরও বেশী।

একটি নিয়োগকার্য সম্পন্ন করতে এত টাকা ব্যয় হওয়ার কথা নয়। আর বিসিএসের বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েন সবচেয়ে বেশি প্রার্থী। তাদেরও কেন এত বেশী টাকা গুণতে হবে?

রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে চাকরির আবেদন করতে প্রার্থীদের আর কোনো পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে না বলে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং বিধি ও নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়,‘রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে চাকরির আবেদন ফি বাবদ কোনো পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট লাগবে না।’ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘চাকরির আবেদনের সময় পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক ব্যয় ও কষ্টসাধ্য বিষয়। বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চাকুরির আবেদন ফি না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এর ফলে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই ব্যাংকের যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন চাকরিপ্রার্থীরা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও কি বেকারদের জন্য এমন সুসংবাদ দিতে পারে না? কিছু বিদেশি সংস্থা রয়েছে; যেগুলোতে আবেদনে ফি গুণতে হয় না। যদিও এর আগে সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

উন্নত বিশ্বে বেকারদের কর্মসংস্থান হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকার তাদের ভাতা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত না হওয়ায় বেকারদের ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা করা অমানবিক।

চাকরি হোক আর না হোক, অন্তত সবাইকে বিনা ফিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর আবেদন ফি যদি রাখতেই হয়, তাহলে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা, লিখিত ও ভাইভার জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ১০০ টাকা নেওয়া যেতে পারে। কারণ এখন চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।

লেখক: মো. মাহবুব আলম
mahbubraja89@gmail.com
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

ভ‌বিষ্যৎ জা‌তি গঠ‌নের কা‌রিগড় নি‌য়ো‌গে কোটা কেন আব‌শ্যক ?

মাহবুবর রহমান (চঞ্চল): বর্তমান সরকার শিক্ষার গুনগত মান বৃ‌দ্ধির জন্য বি‌ভিন্ন পদ‌ক্ষেপ গ্রহন কর‌ছে
এর ধারাবা‌হিকতায় দ্বাদশ পর্যন্ত শিক্ষা অবৈত‌নিক, ছাত্রছাত্রী‌দের জানুয়‌ারী
মা‌সের ১ তা‌রি‌খে বিনা মূ‌ল্যে বই বিরতণ, স্কুল ফি‌ডিং, উপবৃত্তি প্রদান,স্লিপ কার্যক্রম, শিক্ষক‌দের বিষয় ভি‌ত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান কর‌ছে ।‌শিক্ষা জা‌তির মেরুদন্ড আর প্রাথ‌মিক শিক্ষা এর সু‌তিকাগার ।

এ‌সি রু‌মে সকল রকম আধু‌নিক সু‌যোগ সু‌বিধা দি‌য়ে গর্ভবতী মা‌য়ের বাচ্চা
প্রসব করা‌নো হ‌য় আর য‌দি বাচ্চার না‌ড়ি কাটা হয় ম‌রিচা পরা ব্লেড দি‌য়ে
তাহ‌লে কি দাঁড়া‌বে ?? ‌ঠিক তেম‌নি, ভ‌বিষ্যৎ জা‌তি গঠ‌নে প্রাথ‌মি‌কের কা‌রিগড়/ শিক্ষক নি‌য়ো‌গে বি‌ভিন্ন কোটা ( ৬০% ম‌হিলা কোটা, ৩০% মু‌ক্তি‌যোদ্ধা কোটা, উপজাতি,এতিম,প্র‌তিবন্ধী ১০% আনসার ভিডি‌পি কোটা ২০% পোষ্য কোটা ২০% ) পদ্ধতির বেঁড়াজা‌লে সাধারন মেধাবী‌দের সু‌যোগ সৃ‌ষ্টি না হওয়ায়, শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়‌নে য‌থেষ্ট বাঁধা সৃ‌ষ্টি হ‌চ্ছে ফ‌লে শিক্ষা ক্ষে‌ত্রে সরকা‌রের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হ‌চ্ছে না ।
‌”যোগ্য শিক্ষক নি‌য়োগ হ‌লেই ‌দে‌শে ভ‌বিষ্যৎ যোগ্য নাগ‌রিক পাওয়া সম্ভব”!!
“শিক্ষার মান বাড়‌লেও গুনগত মান বা‌ড়ে‌নি” গত শিক্ষাব‌র্ষে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ইং‌রেজী বিভা‌গে ভ‌র্তি পরীক্ষায় মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী পাস ক‌রে‌ছিল, এ ছাড়া একটা রিপোর্টে দেখা যায় Gpa 5 পাওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী দে‌শের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্প‌র্কে ভা‌লো ধারনা নেই ।
এমন কি ?? সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে Gpa 5 পাওয়া শিক্ষার্থী তার বন্ধু‌কে লি‌খে i am got gpa 5 এবং আমি জি‌পিএ ৫ পে‌য়েছি ইং‌রে‌জি‌তে তা বল‌তে গি‌য়ে ব‌লে, I am got Gpa 5 ।

এ বছর (2016 খ্রি.) ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে গ ইউনি‌টের পাশের হার মাত্র ৫.৫২ % দেশমাতৃকা‌কে রক্ষার জন্য দে‌শের সূর্য সন্তানরা অনেক ত্যাগ তি‌তীক্ষা ক‌রে‌ছেন তা‌দের অবদানের স্বীকৃ‌তি স্বরুপ মু‌ক্তি‌যোদ্ধার সন্তান‌দের চাকুরী ক্ষে‌ত্রে বি‌শেষ কোটা দি‌য়ে দেশ মাতৃকার কা‌জে লাগা‌নোই স্বাভা‌বিক কিন্তু যেখা‌নে কোমলম‌তি শিক্ষার্থী‌দের শিক্ষা ও ভ‌বিষ্যৎ জীবন বি‌নির্মা‌নে জ‌ড়িত সেই শিক্ষা বিভাগ ছাড়া দে‌শে আরো অনেক সরকারী চাকুরী আছে ( সেনাবা‌হিনী, পু‌লিশ, বি‌জি‌পি, স্বাস্থ্য সহ আরো অন্যান্ন ) যেখা‌নে তা‌দের সু‌যোগ সৃ‌ষ্টি করা সম‌য়োপ‌যোগী ।

তাই শিক্ষার মা‌নোন্নয়‌নে ‌শিক্ষক নি‌য়ো‌গে সকল প্রকার কোটা পদ্ধ‌তি বিলুপ্ত করে, সম যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী শিক্ষক নি‌য়োগ ক‌রে, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়‌নের ল‌ক্ষ্যে ডি‌জিটাল বাংলা‌দেশ বি‌নির্মা‌নে স‌চেষ্ট দে‌শের অভিভাবক,
মাননীয় “প্রধানমন্ত্রীর” সদয় হস্ত‌ক্ষেপ কামনা কর‌ছি ।

মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান (চঞ্চল)

সহকারী শিক্ষক
‌ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট
০১৭১৮৮১৪৫২০ ।

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

সুশিক্ষিত সন্তান, মায়ের দায় কী?

পৃথিবীর সকল জাতির উন্নতির মূল শক্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষাকে যদি শক্তিশালী করা না যায় তাহলে অন্য শিক্ষায় ফাঁক থেকে যায়। শিক্ষা স্তিমিত হয়ে পড়ে। জাতি পিছিয়ে পড়ে। একটি দেশ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশে তথা সমগ্র জাতির উন্নয়ন সম্ভব। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। দেশের একটি শিশুও শিক্ষার আলো থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। যদিও সরকার দেশের শিক্ষানীতিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর বলছে। কিন্তু সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করে একজন শিক্ষার্থী চলে যায়। কিন্তু প্রথম শ্রেণিতে যতজন শিশু ভর্তি হয় পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করে ঠিক ততজন শিশু বের হয় না। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত ১০০% শিশু প্রাথমিক শিক্ষাচক্র অর্থাৎ ৫ম শ্রেণি সমাপ্ত করতে পারে না।
দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ভৌগলিক অবস্থাও ভিন্ন। দারিদ্রতা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দুর্গম এলাকা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকার দারিদ্র এলাকার শিক্ষার্থীদের ড়িৎফ ভড়ড়ফ ঢ়ৎড়মৎধসব এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিস্কুট খাওয়াচ্ছে। সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করছে। শতচেষ্টা সত্ত্বেও ঝরে পড়ার হার নির্মূল করা যাচ্ছে না। তার মধ্যে বড় কারণ অভিভাবকদের সচেতনতা। বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের পুরুষ অভিভাবক সাধারণত ক্ষেত-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তার ফলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খোঁজ-খবর রাখতে পারেন না। ছেলেমেয়ে ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যায় কিনা সে খবরও রাখতে পারেন না। এজন্য মহিলা অভিভাবকদের অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের মাকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে হবে।
মায়ের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক খুবই গভীর। শিশুরা সাধারণত মায়ের কাছে থাকতে ভালোবাসে। তার মনের কথা, তার আবদার মায়ের কাছে পেশ করে। শিশুরা মায়ের সংস্পর্শে বেশি থাকে বলেই মায়ের উপদেশ শুনে থাকে। একজন ‘মা’ পারে তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে। যেহেতু অধিকাংশ ‘মা’-ই কম শিক্ষিত কিংবা অক্ষরজ্ঞানহীন। তাই সকল মায়েদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ তাদের বিদ্যালয়ে ডেকে আনতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে। তার সন্তান সর্ম্পকে খোঁজখবর রাখার জন্য পরামর্শ প্রদান করতে হবে। সন্তান যেন প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে সে বিষয়ে তাকে নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলে লেখাপড়া ভালো হবে সে বিষয়ে বোঝাতে হবে। লেখাপড়া ভালো করলে কি উপকার হবে সে সম্পর্কে মায়েদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এলাকার সকল শিশুর মায়েদের নিয়ে প্রতিমাসে একটি সভার আয়োজন করতে পারেন, তাহলে মায়েরা বেশি খুশি হবে, আনন্দিত হবে, উৎসাহিতও হবে। শিক্ষা বিষয়ক সচেতনা বাড়াতে হবে, গুরুত্ব বোঝাতে পারলে তা অনেক বেশি কার্যকর হবে শিশুর সুশিক্ষার জন্য। মা বুঝতে পারলে শিশুর সুশিক্ষিা পেতে সহজ হবে। সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি যতœশীলও হবেন। মা নিজেই বিদ্যালয়ে এসে তার সন্তানের খোঁজ-খবর রাখতে শিখবেন। তাহলে আর কোনো শিশু ঝরে পড়বে না। সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব হবে। নিরক্ষরমুক্ত ও শিক্ষিত জাতি গঠন সম্ভব হবে। মানসম্মত প্রাথমিক নিশ্চিত করণে মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
লেখক: উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট

Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter