ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এখনই ঘোষণা করা হচ্ছে না। তবে সরকার পে-কমিশনকে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করে বর্তমান সরকারের কাছে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কাঠামো নির্বাচিত নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পে-স্কেল ইস্যুতে অনুষ্ঠিত পে-কমিশনের দীর্ঘ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পে-কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে, তবে সময় স্বল্পতার কারণে এই সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে না। প্রতিবেদনটি নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নির্বাচনের আগে পে-স্কেল নয়
কমিশনের একটি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এ কারণে নির্বাচনের আগে পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই।
তবে পে-কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী একটি সুপারিশমালা তৈরি করে তা নতুন সরকারের জন্য রেখে যাবে বর্তমান সরকার। এরই মধ্যে সরকারি কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন।
২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত সভা
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২১ জানুয়ারি পে-কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন,
“আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না—এটাই যুক্তিযুক্ত।”
বেতন অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত
কমিশনের অপর একটি সূত্র জানায়, বেতন অনুপাত নিয়ে ১:৮, ১:১০ ও ১:১২—এই তিনটি প্রস্তাব বিবেচনায় ছিল। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এর অর্থ হলো—
যদি সর্বনিম্ন (২০তম গ্রেড) বেতন ১০০ টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮০০ টাকা।
সর্বনিম্ন বেতনে তিন প্রস্তাব
সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে তিনটি প্রস্তাব এসেছে—
২১,০০০ টাকা
১৭,০০০ টাকা
১৬,০০০ টাকা
পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই গঠিত হয় ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’। কমিশনের সভাপতি সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।
কমিশনকে কর্মচারীর পরিবার ৬ সদস্য ধরে ব্যয়ের হিসাব করতে বলা হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রেখে একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো চাই। সময় পেলে আমরা ঘোষণা করব, আর বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।”
















