Home » টপ খবর » ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই

ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই

ডেস্ক,১০ অক্টোবর:দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন বছর। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণের প্রতীক্ষার পালা। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে যাবে আর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে ঝকঝকে নতুন পাঠ্যবই নিয়ে। আগামী শিক্ষা বছরের জন্য ৩৫ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ১১ কোটি বই ছাপা হয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে গেছে। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবার বইয়ের মুদ্রণ কাজ এগিয়ে আনা হয়েছে। বই ছাপানোর সর্বশেষ দিন ধরা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মাতুয়াইলে ৩টি প্রেসে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যক্রম পরিদর্শন বরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে। ২০১০ সাল থেকে নববর্ষের উপহার হিসেবে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নতুন বই দেয়া হচ্ছে। এবারো এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, ৩৫ কোটির বেশি পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। প্রায় ১১ কোটি বই ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই জেলা-উপজেলায় বই পাঠানো হচ্ছে। ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে। এবার ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই এবং ৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিজ ভাষায় বই ছাপা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার বইয়ের ছাপার মান অনেক ভালো হয়েছে। বইয়ের মান প্রতি বছরই উন্নত হচ্ছে। ছাপার কাজ বাকি নেই উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বছর সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে বই পাবে।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সদস্য ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি পাঠ্যবই। প্রাথমিক স্তরের ১১ কোটি ৬ লাখ ১ হাজার ৫২১ কপি বই ছাপিয়ে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ২০ কপি। প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৯ কপি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বই ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৪ কপি, ইবতেদায়ির ২ কোটি ২৫ লাখ ৩১ হাজার ২৮৩ কপি এবং দাখিলের ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩৪ কপি বই।

মাধ্যমিক (বাংলা সংস্করণের) স্তরের ১৮ কোটি ৫৩ হাজার ১২২ কপি এবং একই স্তরের ইংরেজি ভার্সনের ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৬ কপি বই ছাপা হচ্ছে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা স্তরের ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৮ কপি, এসএসসি ভোকেশনাল স্তরের ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৫ কপি, ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক ৫ হাজার ৮৫৭ কপি এবং সম্পূরক কৃষি (ষষ্ঠ-নবম) স্তরের ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১ কপি বই ছাপা হচ্ছে।

এসব বই ছাপাতে দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০০ ছাপাখানার সঙ্গে চুক্তি করে কার্যাদেশ দিয়েছে এনসিটিবি। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ২টি ভারতের ‘কৃষ্ণা ট্রেডার্স’ ও ‘স্বপ্না প্রিন্টার্স’। বাকিগুলো সবই দেশের। ঢাকা ছাড়াও এবার পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে বগুড়া, রংপুর, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীর ছাপাখানা থেকে। সারাদেশের প্রায় ৪শ’ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে (প্রিন্টিং প্রেস) পাঠ্যবই ছাপা, কাটিং ও বাইন্ডিংয়ের কাজে ব্যস্ত ৯৮ হাজার মানুষ।

মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ) এবং এসএসসি ভোকেশনাল স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করতে কাগজ ছাড়া ৩৪০টি লটে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ, ইবতেদায়ি, দাখিল, এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি (ট্রেড বই) স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য কাগজসহ ৩২০টি লটে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

এবার ৩৫ কোটি ২২ লাখ কপি বই ছাপাতে প্রায় ৮৫ হাজার টন কাগজ ব্যবহƒত হচ্ছে। এর মধ্যে এনসিটিবি কিনে দিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টন কাগজ। বাকি কাগজ মুদ্রণকারীরা বাজার থেকে কিনে বই ছাপিয়ে সরবরাহ করছেন। এসব বই ছাপার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ১৬ হাজার ৪০০টি ট্রাক।
এনসিটিবির নিয়োগ করা ২টি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা বইয়ের মান যাচাই করছেন। প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের মান যাচাই করছে ‘কন্টিনেন্টাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের মান যাচাই করছে অপর একটি প্রতিষ্ঠান ‘ব্যুরো ভেরী টাচ’।

দেশজুড়ে পাঠ্যবই মুদ্রণ ও পরিবহন কাজের তদারকি করছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ২২টি টিমের ৬৬ জন কর্মকর্তা। এর বাইরেও এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম, এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম মিলিয়ে আরো ২১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinby feather
Facebooktwitterlinkedinrssyoutubemailby feather
Advertisements

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

psc_shiksha

আজ ভাইভায় বসছেন ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীরা

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা ৪০তম বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সকালে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি ...

শিক্ষাবার্তা-ইভ্যালি

ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের গ্রাহকেরা যেভাবে টাকা ফেরত পাবেন

ডেস্ক,১৯ সেপ্টেম্বর: ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের লোভনীয় দামে পণ্য কেনার ফাঁদে আটকে যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। কোথায় গেলে কিভাবে টাকা পাবেন, সেই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ...

ঢাবি-শিক্ষাবার্তা

ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর

ঢাবি প্রতিনিধি, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১: দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরো খবর: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ...

চীন থেকে এলো সিনোফার্মের আরও ৫৪ লাখের বেশি টিকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীন থেকে কেনা সিনোফার্মের আরও ৫৪ লাখ ১ হাজার ৩৫০ ডোজ করোনার টিকার চালান শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ...

hit counter