শিক্ষাঙ্গন

ঐতিহ্যবাহী সরকারি কেসি কলেজ ছাত্রাবাস, শিক্ষক ও শ্রেণী সংকটে

আহমেদ নাসিম আনসারী,ঝিনাইদহ, ৩০: ঝিনাইদহ জেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) মহাবিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শ্রেণী কক্ষ সংকট, কলেজ অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ, ক্যান্টিন ও ছাত্রাবাসসহ নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছেন।

প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য শিক্ষক রয়েছে ৭২ জন। ৮৪টি পদের মধ্যে ইতিহাস, ইংরেজি, একাউন্টিং ও পদার্থ বিজ্ঞানসহ ১১টি পদ শূন্য রয়েছে।

তবে এনাম কমিটির নীতিমালা অনুসারে কেসি কলেজে ২২২ জন শিক্ষক দরকার। জানা গেছে ১৯৬০ সালের ১৭ মার্চ ঝিনাইদহের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কেশব চন্দ্র পালের দান করা ১২ একর জমিতে তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক এমকে আনোয়ার কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাছিত মিঞা জানান, কেসি কলেজে ১৪টি বিষয়ে সম্মান এবং ৫টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর রয়েছে। আরো ৯টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরো জানান, কলেজে ৬ কোটি টাকার দুইটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ভবন দুটি নির্মিত হলে আপাতত শ্রেণী কক্ষের সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কলেজ অডিটোরিয়ামের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের ধারণ ক্ষমতা খুবই কম। স্বল্প পরিসরের ক্যাম্পাসে ১০ হাজার ছেলে মেয়ে চলাফেরা করতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপরও রয়েছে ছাত্রাবাস ও খেলার মাঠের সংকট। তবে তিনি কলেজে যে শিক্ষক আছে তাতে সমস্যা নেই বলে জানান। কলেজের লাইব্রেরীতে ১৬ হাজার ৪৯৫টি বই থাকলেও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিভাগে সেমিনারে বই সংকট রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

সরকারি কেসি কলেজের ব্যবস্থ্পনা বিভাগের ছাত্র সেলিম রেজা বলেন, অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে ক্যান্টিন। ক্যান্টিন না থাকায় দূর-দুরান্তের শিক্ষার্থীরা প্রায় অভুক্ত থাকেন। তিনি আরো জানান, কলেজের বাথরুমগুলো ব্যবহার অনুপোযোগী। এছাড়া ছাত্র সংসদ না থাকায় ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে কোন সংগঠন এগিয়ে আসে না।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা : দুই দফা দাবিতে আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারের আশ্বাসে তাদের আন্দোলন ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।

সোমবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনকারীরা।

এর আগে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরিতে যোগদানের সময় সুপারভাইজার নন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে জানানো হয়। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ যৌথসভা শেষে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও গৃহয়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এ বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই গেজট প্রকাশ করা হবে।

গৃহায়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন বলেন, “একটা ভুল ধারণা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আমরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সবাইকে বলতে চাই কোনোভাবেই আমরা সুপারভাইজার পদ তৈরি করিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, চাকরিতে যোগদানের সময় তাদের পদ হবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী।”

শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, “আশা করি শিক্ষার্থরা এখন তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন।”

তিনি আরো বলেন, “আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব পরীক্ষা বর্জন করেছেন সে বিষয়ে দ্রুই সিদ্ধান্ত হবে।”

সভায় উপস্থিত ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, “সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত অবিশ্বাস থেকে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিকালে ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষাসচিবদের বৈঠকের কথা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, পেশাগত বৈষম্য নিরসন ও সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনসহ দুই দফা দাবিতে কয়েক দিন ধরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। রোববার এ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ছাত্ররা গতকাল ক্যাম্পাসসহ অনেক স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ও সড়ক অবরোধ করেন। এসব ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় আড়াইশ’ ব্যক্তি আহত ও ৬৪ জন আটক হন। সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশলীর সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৮ সালের বিতর্কিত গেজেট সংশোধন এবং ছাত্রদের বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

অভিন্ন-মানসম্মত হোক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রশ্নপত্র

সাহিদ সুমন: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahidsumon@yahoo.com

দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী থাকেন।

 

কিন্তু শিক্ষার্থী তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা খুব সামান্য। ফলে আগ্রহী প্রত্যেককেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া অসম্ভব। তাছাড়া দেশের সকল কর্মক্ষেত্রে লোকের যোগান দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যও নয়।

ফলে যেসব ক্ষেত্রের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষক বা শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত লোক তৈরি করবে, সে ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যায়নে আগ্রহী ও অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীদের সারা দেশ থেকে বেছে বের করে পড়াশুনার সুযোগ করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ। সে কারণেই ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে সেটা ঠিকমতো নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পাবলিকের অসুবিধা করছে কিনা তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় চলে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে অসংখ্য পরিবার প্রতিবছর অর্থ ব্যয় করছেন, শিকার হচ্ছেন নানা ভোগান্তির।

ক্ষতি যে শুধু অভিভাবকদেরই হচ্ছে তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবীরা যোগ্য জায়গায় যেতে পারছেন না। হয়তো চট্টগ্রামের একজন তুখোড় মেধাবী ফোকলোরে বিশেষ আগ্রহী, কিন্তু দূরত্ব, অর্থসঙ্কট ইত্যাদি কারণে অভিভাবকদের নিরুৎসাহে সে রাজশাহীতে (যেখানে সমৃদ্ধ ফোকলোর বিভাগ আছে) পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। অথবা ঢাবিতে অল্পের জন্যে মনোবিজ্ঞান পায়নি এমন শিক্ষার্থী হয়তো চট্টগ্রামে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলে সেখানে মনোবিজ্ঞানে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যেতো।

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জন্যে যদি অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা হয় তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগই আগের তুলনায় অধিকতর মেধাবীদের পাবে। কারণ, সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে সহজে পরীক্ষা দিতে পারার কারণে একই আসনের জন্যে আগের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী চেষ্টা করবে। ঢাকার বাসিন্দা সুযোগ পাবে, অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চগড়ের বাসিন্দা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না এমনটি কম ঘটবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একত্রে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে এবিষয়ে যদি ঐক্যমতে পৌঁছা যায় তাহলে তার পরের সমস্যাটি দাঁড়ায় পরীক্ষা অনুষদভিত্তিক, গুচ্ছভিত্তিক নাকি বিষয়ভিত্তিক হবে।

ঢাকা ও জগন্নাথে অনুষদভিত্তিক পরীক্ষা হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হয় গুচ্ছভিত্তিক। অর্থাৎ কয়েকটি কাছাকাছি ধরনের বিষয় নিয়ে একটি গুচ্ছ (cluster) বানিয়ে সে-গুচ্ছের জন্যে একটি পরীক্ষা হয়। জাহাঙ্গীরনগরে গত বছর একটি অনুষদে (কলা ও মানবিকী) বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে।

 

এর কারণ বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার জন্যে এই অনুষদের বিভাগগুলো থেকে শিক্ষকরা জোর দাবি তুলেছেন। এমনিতে লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে এমসিকিউ করার কারণে জাহাঙ্গীরনগরে শিক্ষার্থীদের গড় মানের ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

অনুষদভিত্তিক এমসিকিউ পরীক্ষা হলে বিভাগগুলোতে আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থী আরো অপ্রতুল হয়ে উঠবে। সবচেয়ে ভালো হয়, প্রতিটি বিভাগের জন্যে আলাদা পরীক্ষা নেওয়া গেলে। এর আয়োজনে ঝঞ্ঝাট যদি বেশি হয় তাহলে কিছু কিছু বিষয়কে একত্র করে গুচ্ছ বানানো যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

 

কারণ, এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলোকে কোনো গুচ্ছে ফেলা মুশকিল (যেমন, চারুকলা, দর্শন)। এ ধরনের বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা সংস্কারের সব উদ্যোগই বৃথা যাবে যদি প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা না হয়। প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যে ভর্তি পরীক্ষা হয় তা আসলে শিক্ষার্থীদের গাইড মুখস্থ করার দক্ষতার পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা গাইড কেনা, কোচিং সেন্টারে যাওয়া এসব কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খুঁটিয়ে পড়লে বোঝা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো তৈরি হয় নিতান্ত দায়সারাভাবে। কোনো কোনো প্রশ্ন  শুধু বাজারের গাইডবই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। অথচ এই প্রশ্নপত্রই হচ্ছে সেই ছাঁকনি যা দিয়ে লাখ লাখ ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে উচ্চশিক্ষার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্তদের তুলে আনা সম্ভব।

আমেরিকার প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্রেডে ভর্তির জন্যে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেয় না। আমেরিকান বা অ-আমেরিকান যে কোনো শিক্ষার্থী আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে তাকে স্যাট (SAT) পরীক্ষা দিতে হবে। তার মানে, এদেশে আমরা প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়ে সাধারণ যে পরীক্ষার কথা চিন্তা করছি তা নতুন কিছু নয়।

ইউরোপের অনেক দেশে অবশ্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।

 

সেখানে এটা সম্ভব তার কারণ, আমাদের মতো মাদ্রাসা-ইংরেজি মাধ্যক-সাধারণ নিয়ে ত্রিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের নেই এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার গুণগত মান তারা নিশ্চিত করতে পেরেছেন (সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে যেতে আমাদের আরো সময় লাগবে)।

তাছাড়া ওসব দেশে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের জন্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে। স্যাট, টোফেল, আইইএলটিএস, জিআরই ইত্যাদি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘাঁটলে বোঝা যায়, বহু লোকের বহু বছরের গবেষণা ও চিন্তাভাবনা রয়েছে এগুলোর পেছনে। অথচ আমাদের দেশে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় পরীক্ষার অল্প ক’দিন আগে, খুব তড়িঘড়ি করে এবং যথোপযুক্ত মনোযোগ ও চিন্তাভাবনা ছাড়াই।

ভর্তি পরীক্ষার ধরন নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা শুধু পরীক্ষার আগের সময়টাতে নয়, সারা বছর ধরেই চলতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্রত্যেকটি প্রশ্ন এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন শিক্ষার্থীর বিশেষ কয়েকটি যোগ্যতা যাচাই হয়। এগুলো হচ্ছে বাঙলা ও ইংরেজি ভাষায় দখল, যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। ভর্তি পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্নপত্রেই বাংলা-ইংরেজি অংশ থাকে।

বাংলা অংশে সাধারণত ‘কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?’ বা ‘কবি সুধীন্দ্রনাথের জন্মস্থান কোনটি?’ এ জাতীয় প্রশ্ন থাকে। কিন্তু এসব মুখস্থনির্ভর, গাইডমুখী প্রশ্নের সাহায্যে বাংলা ভাষায় শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই হয় না। তাই ভালো বাংলা বই থেকে অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে কিংবা নতুন অনুচ্ছেদ রচনা করে তার উপর প্রশ্ন তৈরি করতে হবে।

 

ইংরেজি অংশেরও অনেকটা জুড়ে থাকা উচিত এক বা একাধিক অনুচ্ছেদ (passage) ও সেগুলোর উপর প্রশ্ন।

 

এতে শিক্ষার্থীর পঠন দক্ষতা (reading skill) যাচাই হবে চমৎকারভাবে। একজন শিক্ষার্থী গাইড নাকি ভালো বই পড়ে অভ্যস্ত তাও ধরা পড়বে অনুচ্ছেদভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে। এছাড়া বাঙলা ও ইংরেজি অংশে অসম্পূর্ণ বাক্য সম্পূর্ণকরণ (sentence completion), শুদ্ধ বা অশুদ্ধ বাক্য চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন রাখতে হবে।

যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই করতে হলে প্রাথমিক গণিতের কিছু প্রশ্ন রাখতে হবে। এটা করতে হবে এমনকি কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার জন্যেও। .

 

এছাড়া লজিকের নানা সমস্যা, একাধিক বাক্যের মধ্যকার সঙ্গতি-অসঙ্গতি নির্ণয়মূলক, এবং সবল ও দুর্বল যুক্তির পার্থক্য নির্ধারণের প্রশ্ন রাখতে হবে। বিভিন্ন আইকিউ টেস্টের প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা যাবে।

শিক্ষার্থী যে বিভাগেই ভর্তির সুযোগ পাক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত নানা গ্রন্থ ও প্রবন্ধাদি পড়তে হবে, চিন্তা করে বুঝতে হবে, প্রশ্নোত্তর, অভিসন্দর্ভ ইত্যাদি লিখতে হবে। সেজন্যেই ভাষায় দখল এবং যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই (অর্থাৎ বুদ্ধি যাচাই) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়ই একটি সাধারণ জ্ঞান অংশ থাকে। কিন্তু এ অংশটি শিক্ষার্থীর ঠিক কোন যোগ্যতা যাচাই করে তা স্পষ্ট নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-২০১১ সালের কলা অনুষদের প্রশ্নপত্রের সাধারণ জ্ঞান  অংশে প্রশ্ন ছিল – বাংলাদেশ কোন সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সদস্য পদ লাভ করে? একই বছর আরেকটি প্রশ্ন ছিল – কোন পাখি পাথর ও লোহার টুকরা খায়? এ জাতীয় প্রশ্নগুলোকে কেন “সাধারণ” জ্ঞান এর প্রশ্ন বলা হয় তা এক রহস্য। কেননা কোনো সাধারণ উপায়ে, যেমন পত্রপত্রিকা পড়ে, টিভির খবর দেখে, বই পড়ে, অভিজ্ঞ লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে যে-জ্ঞান হয় তা এরকম তথ্যমূলক জ্ঞান নয়।

এরকম জ্ঞান কেবল “অসাধারণ” উপায়েই, অর্থাৎ গাইড মুখস্থ করে অর্জন করা সম্ভব। মোদ্দাকথা, যাদের সত্যিকার অর্থে সাধারণ জ্ঞান আছে ভর্তি পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশ তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দেয় না। বরং যারা না-বুঝে মুখস্থ করে তাদেরকেই সুযোগ করে দেয়।

অন্যান্য প্রশ্নের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটাতে যে শিক্ষার্থী অনুসন্ধিৎসু এবং নিজের কৌত‍ূহলেই দেশ-বিদেশের খোঁজখবর রাখে অথচ না বুঝে কোনোকিছু মুখস্থ করতে অনাগ্রহী সে পিছিয়ে পড়বে। আর এগিয়ে যাবে চিন্তাবিমুখ, মুখস্থবিদ শিক্ষার্থীরা।

তাই সাধারণ জ্ঞান অংশটি প্রশ্নপত্রে যদি রাখতেই হয় তাহলে এর পরিমাণ শতকরা দশ ভাগের বেশি হওয়া ঠিক হবে না। আর ওই দশ ভাগ প্রশ্নও শিক্ষার্থীর স্মরণশক্তি নয়, সত্যিকার সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের উপযোগী হতে হবে। অর্থাৎ এতে তথ্যমূলক প্রশ্ন খুব কম থাকবে। বেশি থাকবে ধারণামূলক (conceptual) প্রশ্ন, যেমন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী, এসবের কার্য (effect) বা কারণ (cause), কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণার (concept) ব্যাখ্যা ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, প্রয়োজন মতো গুচ্ছভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্রের উচ্চমান নিশ্চিত করা গেলে আশা করা যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের পাবে।

আর এ শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিকাশ ঘটাবে নিজেদের সম্ভাবনার।

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

২ দফা দাবিতে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ২৮ সেপ্টেম্বরঃডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন-বৈষম্য, পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ দুই দফা দাবিতে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে পলিটেনিকের সামনে মহাসড়কে এক হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে।
সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় উপর বেঞ্চ নিয়ে বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। তারা আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া সকল সেমিস্টার পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। পরে এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে দেশের সব পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বন্ধের হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা ।
এদিকে সড়ক অবরোধের ফরে রাস্তার উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলে কোচিং সেন্টারের পরীক্ষা

চট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর : নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণার পরও চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইউসিসি কোচিং সেন্টারের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কোচিং সেন্টারের পরীক্ষার নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ।

তবে ইউসিসি পরিচালক আব্দুর রব সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেছি।

গত বছরের ২০ জুন সরকার ‘কোচিং বানিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ প্রণয়ন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৮টা থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মডেল টেস্ট নেয় ইউসিসি কোচিং সেন্টার। এতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিস্ময় প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আমরা নীতিমালা করেছি, আইন প্রণয়ন করছি, সেখানে কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমে সরকারি বিদ্যালয় ব্যবহারের সুযোগ নেই।

কোচিং বাণিজ্যের হোতারা নিজেদের ছাত্রলীগকর্মী ও নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারী বলে পরিচয় দেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ২৩ সেপ্টেম্বর: ঝিনাইদহে ২ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন বৈষম্য ও পেশাগত সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারের গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নসহ ২ দফা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।
বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, পেশাজীবি ও ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ জেলা শাখার আয়োজনে রোববার সকাল ১১টার দিকে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পেশাজীবি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি সুকণ্ঠ দেব শর্মা, সাধারণ সম্পাদক মুন্সী মোহাম্মদ আবু জাফর, আসাদুল¬াহ বাচ্চু, হাসান জাহাঙ্গীর, মিরাজ হোসেন, সাব্বির আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে সুপারভাইজার পদে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও তাদের পদোন্নতি না থাকায় প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ে ডিপে¬ামা প্রকৌশলীরা যেতে পারছে না। এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশ চলাকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং যানবাহন ভাংচুর রোধে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাদেরকে নিবৃত করা হয়। দুই ঘন্টা অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

জাবির ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনি (র‌্যাগ) উৎসব শুরু ২৬ সেপ্টেম্বর

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠান (র‌্যাগ নামে পরিচিত) আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি জোনায়েদুল হক পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির সার্বিক সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার র‌্যালি ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শুক্রবার মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যান্ডদল লালন ও পাওয়ার ভয়েস ২০১২ এর তিন বিজয়ী সংগীত পরিবেশন করবে। এছাড়া শনিবার গ্র্যান্ড ডিনার ও ক্যাম্প ফায়ারের আয়োজন থাকবে।
এ বিষয়ে অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জোনায়েদুল হক পারভেজ বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে ৩৬তম ব্যাচের র‌্যাগ উৎসব শুরু হবে। শুক্রবার কনসার্টে ব্যান্ডদল লালন ও পাওয়ার ভয়েস এর তিন বিজয়ী সংগীত পরিবেশন করবে। এছাড়া শুক্রবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পপস¤্রাজ্ঞী মমতাজকে আনারও চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। 1379855372.

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

প্রধান শিক্ষককে বহিস্কার করা নিয়ে পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ২০ সেপ্টেম্বর: কোটচাঁদপুর উপজেলার ধোপাবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বহিস্কার নিয়ে উপজেলার বে-সরকারী মাধ্যমিক স্কুল, কলেজের শিক্ষক এবং উল্লেখিত বিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক সহকারী শিক্ষককে সাথে নিয়ে একই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ইতি মধ্যেই এক পক্ষ অপর পক্ষকে দোষারপ করে পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সম্মেলনে বক্তব্য পড়ে শোনান- ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হায়দার আলী। তিনি বক্তব্যে বলেন- গত দিনের সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। তিনি দাবী করেন বিধি বিধান মেনেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামানকে বহিস্কার করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান চাকুরীরত অবস্থায় মাসে ৪/৫ দিন স্কুলে আসতেন, তিনি কখনো ঠিকমত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতেন না। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি বার বার অনুরোধ করার পরও উক্ত প্রধান শিক্ষক কর্ণপাত করেননি।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

সরকারি প্রা. বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে

ঠাকুরগাঁও: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণীর মর্যাদা প্রদান, সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল উন্নীতকরণ, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টিসহ ১২ দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মবিরতি চলছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা হতে এ কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়।
ঠাকুরগাঁয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শিক্ষিকা উপস্থিত হলেও কোনো প্রকার পাঠদান করতে দেখা যায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের খোশগল্পে মত্ত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় মেতে থাকতে দেখা গেছে।
এ সুযোগে অনেক বিদ্যালয় বেলা ১টায় ছুটি হয়ে যায়।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমল কুমার রায়  জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচি হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলায় তা পালন করা হচ্ছে।
Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে সংযুক্তি বদলী নিয়ে বানিজ্যের অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ১৬ সেপ্টেম্বর: ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রোববার জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সদস্যরা স্থানীয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বিধি বহির্ভুতভাবে সংযুক্তি (ডেপুটেশন) বদলী নিয়ে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন ঝিনাইদহ জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার দিলিপ কুমার বণিক সরকারের বদলী নীতিমালা কোন রকম তোয়াক্কো না করে অর্থের বিনিময়ে ঢালাও ভাবে সংযুক্তি বদলীর আদেশ দিয়ে আর্থিক সুবিধা লুটে নিচ্ছেন।

গনশিক্ষা মন্ত্রালয়ের একটি সুত্রে জানা গেছে গত কয়েক বছর ধরে প্রাথমিক শিক্ষকদের সকল প্রকার বদলী বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরী ভাবে যে সমস্ত স্কুলে দুইজন করে শিক্ষক কর্মরত থাকবেন কেবল সেই সব স্কুলে সংযুক্তি বদলী করা যাবে। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসার মোটা অংকের ঘূষ নিয়ে কোন রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ১২ জন শিক্ষককে সংযুক্তি বদলীর আদেশ দিয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে গত ৫ মে ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পবহাটী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের অসুস্থ জনিত কারণে সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর স্কুলের শিক্ষক নাজনিন জাহানকে সংযুক্তি বদলী করা হয় পবহাটীতে। ইতিমধ্যে অসুস্থ শিক্ষক সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করলেও নাজনিন জাহান আর বাজারগোপালপুর স্কুলে ফিরে যাননি। তিনি স¤পূর্ণ অবৈধ ভাবে বহাল রয়েছেন।

গত ৮ মে শৈলকুপার রতনহাট স্কুল থেকে লতিফা নাসরিন নামে এক শিক্ষককে বেআইনী ভাবে শৈলকুপা পৌরসভার ললিত মহন ভুইয়া স্কুলে সংযুক্তি বদলী করেন। সরকারী আইনে পৌরসভার মধ্যে সব ধরণের সংযুক্তি বদলী বন্ধ তাকার পরও ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে এই অপকর্ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

গত ২৩ জুন শৈলকুপার ধাওড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অসিত কুমার বিশ্বাস নামে এক শিক্ষককে ১৮১/৩ নং স্মারকে একই উপজেলার চাঁদপুর সংযুক্তি বদলী করেন।

গত ১৮ জুন মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর স্কুলের শিক্ষক শাহানাজ খাতুনকে ১৭১ নং স্মারকে মহেশপুর পৌরসভার বারইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করেন।

গত ৯ সেপ্টম্বর শৈলকুপা উপজেলার ত্রীবেনী স্কুল থেকে ৫৬৫ নং স্মারকে জান্নাত আরা খাতুন নামে এক শিক্ষককে একই উপজেলার কচুয়া স্কুলে সংযুক্তি বদলী করেন।

গত ১০ সেপ্টম্বর ৬ জন শিক্ষক থাকা শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নার্গিস আক্তার নামে এক শিক্ষককে ১২ জন শিক্ষক থাকা শেখপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭৩/৪ নং স্মারকে বদলী করা হয়েছে। আর এ সব অনিয়মতান্ত্রিক বদলীর বেশির ভাগ ঘটেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষের নিজ উপজেলা শৈলকুপায়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ এবং অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বনিক ঘুষ বানিজ্যের খবর অস্বীকার করে জানান, এ সব বদলীর প্রস্তাব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আসে। তারাই কোন অনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ সকল প্রকার বদলী আগামী জানুয়ারী মাস পর্যন্ত বন্ধ স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, কি পরিস্থিতিতে বদলী হয়েছে সেটি দেখার বিষয় আছে। তিনি জরুরী প্রয়োজনে বদলী করা যাবে বলে জানান। তবে ৫/৬ জন শিক্ষক থাকলে সেখানে আবার নতুন করে শিক্ষক দেওয়া বেআইনী বলেও জানান।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

দর্শনায় লিটিল এনজেলস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এক দিনের কর্মশালা অনুষ্টিত।

দর্শনা প্রতিনিধিঃ দর্শনা লিটিল এনজেলস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এক দিনের কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে।
আজ সকাল ৯ঃ৩০ মিনিটে দর্শনা লিটিল এনজেলস স্কুলের প্রশিক্ষন রুমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক স্বরূপ দাস। প্রশিক্ষন হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার প্রশিক্ষক এস কে দাস। তিনি শিক্ষকদের পাঠদান করার কৌশল, প্রশ্ন প্রণয়নের কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষায় ২৫ নম্বরের যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিতে হবে সে বিষয়ে ন্যাপের যে নির্দেশনা তা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে তুলে ধরেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঢাবি তে ‘খ’ ইউনিট ভর্তি হতে করনিয়

স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে—হয়তো এ মুহূর্তে তাই রাত-দিন ভুলে গিয়ে বইয়ের মধ্যে ডুবে আছো তোমরা, স্বপ্নের হাতছানিতে সাড়া দিতে হবে যে!গত বছর ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন যথাক্রমে অর্পিতা হক, এ বি এম এহসান উল্লাহ ও তাসনিন বিনতে সাহাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের অভিজ্ঞতা? সেসবই তাঁরা তুলে ধরছেন এবারের ভর্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে।‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর। আমি বাংলার জন্য মূল পাঠ্যবই আর নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ পড়েছিলাম।’ বলছিলেন অর্পিতা। তাঁর কথা আবারও শুনব। তার আগে জেনে নিই অর্পিতার এক টুকরো জীবন। বাগেরহাট সদরে জন্ম। এসএসসির পাট চুকিয়েছেন বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে। জিপিএ-৪.৮৮ পান বাংলা ছাড়া। এইচএসসিতে এসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে সব বিষয়ে এ+সহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এখন পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে।অর্পিতা আবার বলতে শুরু করেন তাঁর ভর্তি প্রস্তুতির কথা। ‘ইংরেজির জন্য গ্রামারের ওপর বেশি জোর দিয়েছিলাম। পাশাপাশি পড়েছি মূল পাঠ্যবই। আর সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রতিদিন টেলিভিশনের সংবাদ দেখতাম আর গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ডায়েরিতে টুকে রাখতাম।’ অনেকটা অর্পিতার মতোই জীবনকাহিনি এহসানের। অর্পিতা এসএসসিতে পাননি জিপিএ-৫ আর এহসান পাননি এইচএসসিতে। এইচএসসিতে তাঁর জিপিএ ছিল ৪.৮০। সিরাজগঞ্জে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী মাধ্যমিকের পাট চুকিয়েছেন সিরাজগঞ্জের জ্ঞানদায়িনী উচ্চবিদ্যালয় থেকে। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে। এখন পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কেমন ছিল এই মেধাবীর ভর্তি প্রস্তুতি? ‘বাংলার জন্য আমিও পাঠ্যবই ও নবম-দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ বই পড়েছি। এর পাশাপাশি অবশ্য সৌমিত্র শেখরের বইটাও পড়েছি।’ বলছিলেন এহসান। তিনি ইংরেজির জন্য পাঠ্যবই, গ্রামার ও টোয়েফল পড়েছেন। আর সাধারণ জ্ঞানের জন্য পড়েছেন নবম-দশম শ্রেণীর ইতিহাস বই ও বাজারে প্রচলিত সাধারণ জ্ঞানের বই।

তৃতীয় স্থান অধিকারী তাসনিন বিনতে সাহাজের জন্ম ঢাকার সাভারে। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি দুটোরই সনদ নিয়েছেন সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এসএসসিতে চতুর্থ বিষয় ছাড়া পেয়েছেন জিপিএ-৪.৭৫ আর এইচএসসিতে চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ-৪.৮৮। এখন তাঁর ঠিকানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ। বলছিলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পাঠ্যবইয়ের গদ্য-পদ্য খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়েছিলাম। কারণ, এখান থেকেই সাধারণত সাহিত্যের প্রশ্ন করা হয়। আর ব্যাকরণ অংশের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ বই। ইংরেজির জন্য গ্রামার বই ও পাঠ্যবই। আর সাধারণ জ্ঞানের জন্য সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয় টুকে রাখতাম নোট খাতায়। নিয়মিত বিবিসি বাংলার খবর শুনতাম।’

শোনা হলো তিন মেধাবীর ভর্তি প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা। এবার এই অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করো নিজেকে। কেননা, আসছে বছর তোমারই তো পালা অভিজ্ঞতার গল্প শোনানোর।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

অনার্স পার্ট-২ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা,৯ সেপ্টেম্বর: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের অনার্স পার্ট-২ পরীক্ষার ২৭টি বিষয়ের ফল সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে।
এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়,  এ পরীক্ষায় সারাদেশে ২৪১টি কলেজের মোট ২০২৮৮৮ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং ১০৮৬৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫৩.৫৬%।
ফল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nuadmission.info)  এবং (www.nubd.info)  থেকে জানা যাবে।
Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দেদারছে চলছে রওশন কোচিংবাণিজ্য

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি,৬ সেপ্টেম্বরঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করলেও বাস্তবে তা কার্যকরী হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা যায়, এ ক্ষেত্রে ঝিনাইদহে শিক্ষকরা সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্য আরও জোরদার ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা কোচিং বাণিজ্যের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যা পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং ব্যায় নির্বাহে অভিভাবকগণ হিমশিম খাচ্ছেন।

এছাড়াও অনেক শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিং এ বেশি সময় ব্যায় করছেন। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ সম্পর্কিত মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ৭৩৬৬/২০১১ এর আদেশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি গেজেট নোটিফিকেশন বা অন্য কোনরুপ আদেশ প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি ও হাইকোর্ট বিভাগের নিদের্শনার প্রেক্ষিতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কোন শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবে না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পূর্বানুমতি স্বাপেক্ষে দৈনিক বা প্রতিদিন অন্য যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক (দশ জনের বেশি নয়) শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্র ছাত্রীর তালিকা (রোল শ্রেণী উল্লেখসহ জানাতে হবে)। কোন শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোন কোচিং সেন্টারে নিজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না বা নিজে কোন কোচিং সেন্টারের মালিক হতে পারবেন না বা কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে পারবেন না এবং কোচিং সেন্টারের নামে বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে সারাদেশে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য কমিয়ে আনলেও ঝিনাইদহের কতিপয় দূর্নীতিবাজ শিক্ষকরা সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্র বনানীপাড়ার বকুলতলা মোড়ে রওশন কোচিং সেন্টার গড়ে তুলে সেখানে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে জানা যায়, তিনি সরকারি গার্লস স্কুল, মডেল স্কুল, কাঞ্চন নগর মডেল হাইস্কুল সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তরের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও জানা যায় জানা যায়, প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রীদের ভর্তি বাবদ নেওয়া হয় নয়শত টাকা, মাসিক বেতন বাবদ আটশত টাকা নেওয়া হয়। এভাবেই তিনি স্কুল ফাঁকি দিয়ে কোচিং বাণিজ্যের দিকে ঝুকে পড়েছেন। এদিকে ভাল ফলাফলের আশায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে এই প্রতিষ্ঠানে কোচিং করাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার নিজস্ব কোচিং সেন্টার সহ আশেপাশের বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষকদের সাথে চুক্তি করে এসব কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি সরকারি নীতিমালার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন। এছাড়াও সদর উপজেলার হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী শহরের মহিলা কলেজ পাড়ায় বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এভাবেই ঝিনাইদহ শহরের অনেক শিক্ষক সরকারি নিয়মনীতি উপক্ষো করে পর্দার আড়ালে থেকে তাদের এ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন ঝিনাইদহবাসী অবিলম্বে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

পাঠ্যপুস্তুক বর্তি ট্রাক উল্টে পানিতে পড়ে ১ লক্ষ টাকার বই নষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক,৫ সেপ্টেম্বর:কক্সবাজারের মহেশখালীতে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা প্রাথমিক শিক্ষার এক লক্ষ দু’হাজার বই নিয়ে একটি ট্রাক উল্টে সড়কের পার্শ্ববর্তি পুকুরের পানিতে ডুবে বইগুলি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৩ সেপ্টেম্বর রাত্রে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের সাদেকের কাটাঁ গ্রামে। ঢাকা মেট্রে ট -১১-৪৪১১ primaryনং ট্রাকটি ঢাকা হইতে মহেশখালী উপজেলা শিক্ষা অফিসে পৌছে দেওয়ার জন্য বই নিয়ে রওনা হয় ।
জানা যায় , ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত্রে প্রমা প্রেস এন্ড পাবলিকেশনন্স কর্তৃপক্ষ মহেশখালী উপজেলায় ২০১৪ সালের শিক্ষা বর্ষে প্রাথমিক স্তরের ছাত্রদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার এক লক্ষ দু’হাজার বই ঢাকা থেকে একটি ট্রাক (যাহার নং-মেট্রে ট -১১-৪৪১১) যোগে মহেশখালীতে নিয়ে আসার পথিমধ্যে উক্ত ট্রাকটি উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ছাদেকের কাটা এলাকায় পৌছলে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেল্লে ট্রাকটি সড়কের পাশ্ববর্তী পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। এতে সরকারী এক লক্ষ দুই হাজার বই পুকুরের পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায় । ঘটনার পরই ড্রাইভার কৌশলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার আনোয়ারুল নাসের ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। প্রমা প্রেস এন্ড পাবলিকেশনন্স কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং অনভিজ্ঞ চালক কারণে উক্ত ঘটনাটি ঘটেছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।এ ব্যাপারে কর্তপক্ষ থানায় সাধারণ ডাইরী করেছে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free

hit counter