শিক্ষাঙ্গন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন এলিস মুনরো

ঢাকা: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কানাডিয়ান সহিত্যিক এলিস মুনরো। মুনরো তার সমকালে ছোটগল্পের জন্য বিশ্বব্যাপী নন্দিত।

ড্যান্স অব দ্য হ্যাপি শেড, লাইভস অফ গার্লস অ্যান্ড উইমেন, দ্য মুনস অফ জুপিটার, দ্য লাভ অব আ গুড উইমেন প্রভৃতি এলিস মুনরোর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

এলিস মুনরো কানাডার ওন্টারিও’র উইংহামে জন্মগহণ করেন ১৯৩১ সালের ১০ জুলাই। মুনরোর পিতা রবার্ট এরিক লেইডল’ ছিলেন পোল্ট্রি ফার্মার এবং মা অ্যান ক্লার্ক লেইডল’ স্কুল শিক্ষক। ২০০৯ সালে মুনরো তার সাহিত্যকর্মের জন্য ম্যান বুকার পুরস্কার অর্জন করেন।

বৃহস্পতিবার সুইডেন সময় দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময়: বিকেল ৫টা) সাংবাদিকদের সামনে এ বছর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে এলিস মুনরোর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

উল্লেখ্য, জন স্টাইনবেক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, উইলিয়াম ফকনার, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, উইন্সটন চার্চিল, পাবলো নেরুদা ও আলব্যের কামু’র মতো সাহিত্যিকরা বিভিন্ন সময়ে বিশ্বসাহিত্যের এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

২০১২ সালে চীনের কথাসাহিত্যিক মো ইয়ান সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী নির্বাচিত হন।

বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল প্রচলন করেন এই পুরস্কার প্রথা। ১৯০১ সাল থেকে অনন্য সাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি।

বিষয়গুলো হল: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। নোবেল পুরস্কারকে এ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্কুল সরকারী করণ স্লিপ প্রকল্পের ৮ কোটি টাকা নয়ছয়!

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ থেকে, ৮ অক্টোবর: বেসরকারী বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকা করা নিয়ে চলছে তুঘলকি কারবার। রাতারাতি বেড়া ও টিন দিয়ে তৈরী স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাখ লাখ টাকা নিয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী স্কুলগুলো দিব্যি চালু দেখানো হচ্ছে। সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষকদের বদলী নিয়ে বানিজ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে অথচ সে সমস্ত স্কুলের জমি, ছাত্রভর্তি, শিক্ষক নিয়োগ ও কমিটি নিয়ে চরম ঘাপলা রয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারী ভাবে সরকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের সব ধরণের বদলী বন্ধ থাকার পরও বেআইনী ভাবে ঘুষ নিয়ে সংযুক্তি বদলী করা হয়েছে। এ ভাবে ঝিনাইদহ, শৈলকুপা ও মহেশপুর উপজেলার ১০/১২ জন শিক্ষককে বদলী করা হয়েছে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী করণের তালিকা প্রণয়ন নিয়ে চলছে তুঘলকি কারবার। রাতারাতি গজিয়ে ওঠা স্কুলগুলো সরকারী করণের তালিকায় উঠে যাচ্ছে। জানা গেছে প্রথম তালিকা নিয়ে কোন অভিযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালিকা করা নিয়ে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করা হচ্ছে।
প্রথম তালিকায় ৪৪৬টি রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিন ক্যাটাগরির ৩৫টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করণের জন্য তালিকা শিক্ষমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে স্কুল লেভেল ইমপ্লিমেন্টশন প্ল্যান্ট (স্লিপ) প্রকল্পের প্রায় ৮ কোটি টাকার মালামাল না কিনে পকেটস্থ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় তালিকায় ঝিনাইদহ জেলায় ১৯টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
সুত্র মতে তৃতীয় দফা তলিকা করতে বেপরোয়া ভাবে ঘুষ বানিজ্য করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে যাচাই বাছাই কমিটিকে ঘুষ দিয়ে এই অনৈতিক কাজ চলে আসলেও কোন তদন্ত করা হচ্ছে না।
মহেশপুর উপজেলার বেড়বাড়ি ও জালিয়াপাড়া স্কুল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল বলে অভিযোগ। এদিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকবর আলী সবাইকে ম্যানেজ করে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা স্কুলগুলো সরকারী করণের তালিকা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কলাকদমতলা, সোনাদহ, তালতলা হরিপুর, পোড়াহাটী ইউনিয়নের ভুপাতিপুর, পদ্মাকর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের রামনগর ও রসুলপুর বেসরকারী স্কুলগুলো মোটেও সরকারী করণের উপযুক্ত নয়। কিন্তু ব্যাকডেটে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র ভর্তিসহ যাবতীয় কাগজ তৈরী ও রাতারাতি ঘর তুলে স্কুল নির্মান করা হয়েছে। এ সব স্কুলে গত ৩/৪ বছরের ছাত্রভর্তির কোন রেজিষ্টার নেই। কোন কোন স্কুলে সকল শিক্ষক এসএসসি পাস বলেও দেখা গেছে।

এদিকে স্কুল লেভেল ইমপ্লিমেন্টশন প্ল্যান্ট (স্লিপ) প্রকল্পের টাক নিয়ে চলছে হরিলুটের খেলা। গত দুই বছর ঝিনাইদহের সরকারী ৪০৭টি ও ৪৪৬টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়ে সর্বমোট ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করে সরকার। নিয়মানুযায়ী শিক্ষার জন্য সবার আগে যে জিনিসটি প্রয়োজন এই কর্মসূচীর আওতায় তা কিনতে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি অগ্রাহ্য করে সরকারী টাকা নয়ছয় করেছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ ৩৭৩ নং স্মারকে বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করণের জন্য ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে এই অর্থ ব্যায়ের ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবদিহীতার কথা কঠোর ভাবে উল্লেখ করা হলেও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পিরোজপুর সদ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাত কুমার স্লিপ প্রকল্পের ৩০ জাজার টাকায় লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ভাবে বেশির ভাগ স্কুল স্লিপ প্রকল্পের টাকা তছরূপ করেছে, যা তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে। এদিকে ঝিনাইদহে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বনিককে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কারণ দশার্নোর নেটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি অফিস না করে বিরতিহীন ভাবে ঢাকায় থাকেন। ইতিপুর্বে তিনি গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ি ও কিশোরগঞ্জ জেলায় বিভাগীয় মামলাসহ নানা কারণে হেনস্থা হয়েছেন। জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র মৃধাও অফিস করেন না। কাগজে কলমে এ বছরের ১৭ জুলাই হরিণাকুন্ডুতে যোগদান করলেও তিনি হরিনাকুন্ডুতে আসেন না। থাকেন ঢাকাতেই। ফলে হরিণাকুন্ডু এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।  নিখিল চন্দ্র মৃধার স্ত্রীর নামে ঢাকায় ফার্মগেটে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় একাউন্ট রয়েছে। ওই একাউন্টে মাসিক বেতনের টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে নিখিল চন্দ্র মৃধা এর আগে বেতন নিয়েছেন নড়াইল থেকে। সেখানেও অফিস করতে হয়নি তাকে। জানা গেছে হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র মৃধা ডেপুটেশনে (পেশনে) চাকরি করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগে। সেখানে এমন ফাঁকিবাজ আরো ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের পোষ্টিং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস গুলোতে। দলীয় প্রভাব আর খুঁটোর জোর খাটিয়ে তারা বছরের পর বছর ঢাকায় থাকেন।অভিযোগ করা হয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নিয়োগ বানিজ্য, বিদ্যালয় সরকারী করণ সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

এ সব বিষয়ে ঝিনাইদহে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বনিক জানান, তিনি কোন রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। উপজেলা অফিস থেকে যে সব ফাইল আসে সেগুলো অগ্রগামি করেন। তিনি বলেন দুর্নীতি করলে উপজেলা অফিস থেকে করা হয়। সরকারী করণ নিয়ে বানিজ্যের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক যাচাই বাছাই যারা করেন, তাদেরই এই অসৎ কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেডে উন্নতকরণ এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়।

দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আশ্বাসের ভিত্তিতে এ আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহা আকতার। আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মো. আবদুল আওয়াল তালুকদার সহ অন্য নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার পর সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের আলোকে প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড ঘোষণা এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে পত্র পাঠানো হয়।  এ পরিস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিলো।

কিন্তু দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ আহবান করা হয়।

পরে মহাপরিচালকের (প্রাথমিক শিক্ষা) অনুরোধে ৪ অক্টোবর দাবি বাস্তবায়নের সময় দিয়ে সমাবেশ শেষ করা হয়। এছাড়া দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৫ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিলো।

তবে এর মাঝেই গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সংগঠনের নেতারা। ওই বৈঠকেই শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ অক্টোবরের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

ঢাকা,৬ অক্টোবরNational-university-sm : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ২০১১ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।

স্থগিত এ পরীক্ষা আগামী ৯ অক্টোবর সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অন্যান্য পরীক্ষাগুলো পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী হবে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের পরিচালক মো. ফয়জুল করিমের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা ,৬ অক্টোবর 555_6199: চলতি বছর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। রোববার বিকাল থেকে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল পাঠানো শুরু হয়েছে বলে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন।

কিছু সময়ের মধ্যে অধিদপ্তরের ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ. বিজিএইচএস.জিওভি.বিডি ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষার দুদিন পরই ফল প্রকাশ হল।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ৯ হাজার ১৯৪টি আসনের মধ্যে স্থান করে নিতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৮ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে মোট ২৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহে ৩ দফা দাবিতে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মানব বন্ধন

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ, ০৫.অক্টোবর:ঝিনাইদহে ৩ দফা দাবিতে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। আজ দুপুরে স্থানীয় পায়রা চত্বরে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ঝিনাইদহ জেলা কমিটি এ কর্মসূচী পালন করে।
আজ দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তিসহ ৩ দফা দাবিতে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘন্টাব্যাপী মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করে। মানব বন্ধন কর্মসূচী চলাকালে তারা তাদের ৩ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ এমপিও ভুক্ত করা হলে বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর আগে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরলিপি প্রদান করে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পরিবহন সংকটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সালমান রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা :শিক্ষার্থীদের তুলনায় পরিবহন কম থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে মাত্র ১৪টি বাস। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য সব মিলিয়ে ২৯টি সচল বাস রয়েছে। যা ২৫ হাজার শিক্ষার্থী, তিন শতাধিক শিক্ষক এবং অসংখ্য কর্মকর্তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যার মতই পরিবহণ সমস্যাটাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এই বাসগুলোতে সুযোগ পেলেই সাধারণ যাত্রীদের ওঠানামা চলে অবাধে। শুধু শিক্ষার্থীদের বাসেই নয় বরং শিক্ষকদের বাসেও চলে সাধারণ যাত্রী ওঠানোর কাজ। শিক্ষকদের বাস গুলোতে যাত্রী ওঠানো হয় শিক্ষকদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল পরিবহণগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে সেগুলো সংস্কারের জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছে না প্রশাসন। দুর্ঘটনায় কবলিত নরসিংদী গামী বাসটিসহ তিনটি পরিবহণ এখনো সংস্কারের অপেক্ষায় পড়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইটি মাইক্রোবাস, একটি মিনিবাস, এবং একটি বাস বিকল হয়ে পড়ে আছে এবং এর মধ্যে তিনটিই সংস্কারযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান যোগদান করার পর বিআরটিসির তিনটি দ্বিতল বিশিষ্ট বাস ভাড়া নেয়ায় পরিবহণ সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। যদিও প্রয়োজন তুলনায় তা অত্যন্ত নগন্ন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘বর্তমানে বাস যা আছে তা অত্যন্ত নগন্ন এবং বাসে মেয়েদের জন্য যে সিটের ব্যবস্থা আছে তা বৈষম্যের সামিল, দ্বিতলা বাসে মেয়েদের জন্য নিচ তলা নির্ধারিত থাকলেও সেখান থেকে দশটা ছিট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দখল করে রাখে। এতে করে অনেক মেয়েকেই দাঁড়িয়ে যেতে হয়। বাসে মেয়েদের সিট নিচ তলায় না হয়ে দ্বিতলায় হলেই ভাল হয়।’ এবিষয়ে পরিবহন প্রশাসক ড. মোঃ নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, “বাসে সাধারণ যাত্রী ওঠা নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি যদি কেউ অভিযোগ করেন তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।” নতুন বাস কিংবা অন্য কোনো পরিবহণ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে নূরে আলম বলেন,“ এই অর্থ বছরে মেডিকেলের জন্য একটি এম্বুলেন্স এবং শিক্ষকদের জন্য দুটি মাইক্রোবাস কেনার পরিকল্পনা আছে।”
শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রকার বাস কেনার পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া নেয়া হবে।’’ বাস সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা প্রতিবেদন দিলেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে।”

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বেতন ও মর্যাদা বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের

ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা এক ধাপ উন্নীত করে দ্বিতীয় শ্রেণী এবং তাঁদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হচ্ছে জাতীয় বেতন স্কেলের দশম ও ১১তম গ্রেডে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল হবে দশম গ্রেডে (মূল স্কেল আট হাজার টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা পাবেন ১১তম গ্রেডের (ছয় হাজার ৪০০) বেতন। বর্তমানে তাঁরা বেতন পান যথাক্রমে ১৩ ও ১৪তম গ্রেডে।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ১২তম (মূল স্কেল পাঁচ হাজার ৯০০) ও প্রশিক্ষণবিহীনদের ১৩তম গ্রেডের (পাঁঁচ হাজার ৫০০) বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁরা পান যথাক্রমে ১৫ ও ১৬তম গ্রেডের বেতন। শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে ২৯২ কোটি টাকা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রমতে, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন বলেন, ‘শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আশা করি দ্রুতই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’

সূত্রমতে, মন্ত্রণালয় বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। এটি করার জন্য তারা বেশ আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কয়েকটি প্রশ্ন তুলে পর্যবেক্ষণ দেওয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জবাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত এক সভায় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। ফলে বিষয়টি আরেক ধাপ এগিয়েছে। এখন বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় উঠবে। তারপর এ বিষয়ে আদেশ জারি হবে।

সরকারি সূত্রমতে, সরকারের মনোভাব ছিল নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিষয়টি চূড়ান্ত করা। কিন্তু কিছুদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এই দাবিতে রাস্তায় নামায় বিষয়টির গতি পায়।

বর্তমানে সারা দেশে ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক আছেন দুই লাখ পাঁচ হাজার ৫৫০ জন। শিগগিরই আরও ৪৬ হাজার ১৩ জন নতুন শিক্ষক যোগ দেবেন। সে ক্ষেত্রে মোট শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াবে দুই লাখ ৫১ হাজার ৫৬৩ জন। প্রস্তাবিত গ্রেডে বেতন স্কেল হলে বছরে সার্বিক আর্থিক সংশ্লেষ দাঁড়াবে প্রায় তিন হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। আগের চেয়ে অতিরিক্ত খরচ হবে ১৩৮ কোটি টাকা।

এর বাইরেও জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত হওয়া ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক আছেন এক লাখ তিন হাজার ৮৪৫ জন। তাঁরাও সরকারি শিক্ষকদের মতো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত গ্রেডে তাঁদের জন্য বার্ষিক খরচ হবে প্রায় এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা, যা আগের চেয়ে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই ধরনের শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীত হলে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ২৯২ কোটি টাকা।

সরকারি সূত্রমতে, বিষয়টি যাতে তাড়াতাড়ি হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম কাজ করছেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহ ভ্যাটের অজুহাতে দ্বিগুন টাকা নিয়ে ২ লক্ষাধিক টাকা আত্বসাতের অভিযোগ

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ থেকে, ০৪.অক্টোবরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নে বরাদ্ধ মাত্র ৩০ হাজার টাকা নিতে শিক্ষা অফিসে বিদ্যালয়গুলোকে নগদ জমা দিতে হয়েছে ৩ হাজার করে টাকা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে এই টাকা জমা দিতে বাধ্য করেছেন। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মোট ১৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জন্য বরাদ্ধ ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরনের সময় শিক্ষা অফিস নগদ হিসেবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা নিয়েছেন।
শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভ্যাটসহ অন্যান্য খরচ বাবদ শিক্ষকদের নিকট থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা কাজ শেষে ঠিকমতো ভ্যাট জমা দিতে চান না, যে কারনে তিনি এই টাকা জমা নিয়েছেন। অবশ্য শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন প্রতি বছর তারা এই টাকা পেয়ে থাকেন। যা স্কুলের নানা উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেন। কাজ শেষে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট জমা দেন। কিন্তু এবার তাদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ টাকা জমা নেওয়া হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর ছোট ছোট নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার থেকে প্রতিবছর সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে থাকেন। যাকে “বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা” অর্থাৎ স্লিপ বরাদ্ধ বলা হয়ে থাকে। যে অর্থ দিয়ে তারা স্কুলের রং এর কাজ, টিউবওয়েল সংষ্কার, চেয়ার-বেঞ্চ মেরামতসহ নানা কাজ করিয়ে থাকেন। শিক্ষকরা জানান, চলতি বছর তাদের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্ধ পেয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই টাকার চেক স্কুল গুলোকে দেওয়া হয়েছে। চেক দেওয়ার সময় তাদের তাদের নিকট থেকে ৩ হাজার করে নগদ টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। এই টাকা শিক্ষকরা পকেট থেকে দিয়েছেন। শিক্ষকরা জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম তাদের এই টাকা জমা দিতে বাধ্য করেছেন। এভাবে তিনি ১৩৬ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককের নিকট থেকে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু অন্য বছরগুলোতে তারা চেক নিয়ে স্কুলের একাউন্টে জমা করেন। এরপর পরিচালনা কমিটির সভা করে স্কুলের উন্নয়নে টাকাটা খরচ করেন। কাজ শেষে ৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যাংকে জমা দেন। ভ্যাটের অজুহাতে এবার তাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে। জমা নেওয়া টাকার অর্ধেকের কোন হিসাব থাকবে না, যা সবটাই আত্বসাত করা হবে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভ্যাট বাবদ তাদের কাছ থেকে এই টাকা জমা নিয়েছেন। এটা নিয়ম না থকালেও প্রয়োজনে করতে হয়েছে। অন্যথায় শিক্ষকরা কাজ শেষে ভ্যাটের টাকা জমা দেন না। অতিরিক্ত টাকা গ্রহন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে টাকা খরচ হবে বাকি টাকা তাদের ফেরত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ শত টাকা করে ফেরত দিয়েছেন। ফেরত পাওয়া এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংবাদপত্রে লেখালেখির খবর পেয়ে নামমাত্র কয়েকটি স্কুলের কিছু করে টাকা ফেরত দিচ্ছেন। কিন্তু যে টাকা জমা নিয়েছেন তার অর্ধেক খরচ হবার কথা।
এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, এভাবে টাকা জমা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি খোজ নিয়ে দেখবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস!

ঢাকা, ৪ অক্টোবর : মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার শুরুর আগেই মোবাইলে স্ক্যান করা প্রশ্নের কয়েকটি কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে একযোগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতবছরের মতো এবারও সবার আগেই মেডিকেলের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোবাইলের স্ক্যান করা ইমেজে দেখা গেছে প্রশ্ন এবং প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে উত্তর চিহিৃত করা আছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়েছে এসব প্রশ্ন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্ন মিলে গেলে এই পরীক্ষা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছুরা।
source: www.news69

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিক শিক্ষা বিঘ্নিত হলে ব্যবস্থা: প্রেসনোট

ডেস্ক: দেশের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। সোমবার এক প্রেসনোটে সরকার এ কথা জানিয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ মর্যাদা বৃদ্ধি ও বেতন স্কেল উন্নীতের জন্য কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

প্রেসনোটে বলা হয়, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উচ্চতর পর্যায়ে নির্ধারণ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে যথাযথ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সরকার সর্বদা সজাগ রয়েছে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, “বর্তমান সরকারের আমলেই প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা সবচেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।”

প্রেসনোটে বলা হয়, “কিছু সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কোনো কোনো মহলের প্ররোচনায় অহেতুক কর্মবিরতি পালনসহ অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করছেন।”

শিক্ষকদের বেতনক্রম উন্নীতকরণে সরকারের আন্তরিক প্রয়াস সত্ত্বেও এ ধরনের কর্মসূচি অনভিপ্রেত বলে প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়।

প্রেসনোটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঐতিহ্যবাহী সরকারি কেসি কলেজ ছাত্রাবাস, শিক্ষক ও শ্রেণী সংকটে

আহমেদ নাসিম আনসারী,ঝিনাইদহ, ৩০: ঝিনাইদহ জেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) মহাবিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শ্রেণী কক্ষ সংকট, কলেজ অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ, ক্যান্টিন ও ছাত্রাবাসসহ নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছেন।

প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য শিক্ষক রয়েছে ৭২ জন। ৮৪টি পদের মধ্যে ইতিহাস, ইংরেজি, একাউন্টিং ও পদার্থ বিজ্ঞানসহ ১১টি পদ শূন্য রয়েছে।

তবে এনাম কমিটির নীতিমালা অনুসারে কেসি কলেজে ২২২ জন শিক্ষক দরকার। জানা গেছে ১৯৬০ সালের ১৭ মার্চ ঝিনাইদহের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কেশব চন্দ্র পালের দান করা ১২ একর জমিতে তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক এমকে আনোয়ার কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাছিত মিঞা জানান, কেসি কলেজে ১৪টি বিষয়ে সম্মান এবং ৫টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর রয়েছে। আরো ৯টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরো জানান, কলেজে ৬ কোটি টাকার দুইটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ভবন দুটি নির্মিত হলে আপাতত শ্রেণী কক্ষের সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কলেজ অডিটোরিয়ামের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের ধারণ ক্ষমতা খুবই কম। স্বল্প পরিসরের ক্যাম্পাসে ১০ হাজার ছেলে মেয়ে চলাফেরা করতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপরও রয়েছে ছাত্রাবাস ও খেলার মাঠের সংকট। তবে তিনি কলেজে যে শিক্ষক আছে তাতে সমস্যা নেই বলে জানান। কলেজের লাইব্রেরীতে ১৬ হাজার ৪৯৫টি বই থাকলেও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিভাগে সেমিনারে বই সংকট রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

সরকারি কেসি কলেজের ব্যবস্থ্পনা বিভাগের ছাত্র সেলিম রেজা বলেন, অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে ক্যান্টিন। ক্যান্টিন না থাকায় দূর-দুরান্তের শিক্ষার্থীরা প্রায় অভুক্ত থাকেন। তিনি আরো জানান, কলেজের বাথরুমগুলো ব্যবহার অনুপোযোগী। এছাড়া ছাত্র সংসদ না থাকায় ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে কোন সংগঠন এগিয়ে আসে না।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা : দুই দফা দাবিতে আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারের আশ্বাসে তাদের আন্দোলন ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।

সোমবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনকারীরা।

এর আগে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরিতে যোগদানের সময় সুপারভাইজার নন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে জানানো হয়। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ যৌথসভা শেষে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও গৃহয়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এ বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই গেজট প্রকাশ করা হবে।

গৃহায়ণ সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন বলেন, “একটা ভুল ধারণা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আমরা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সবাইকে বলতে চাই কোনোভাবেই আমরা সুপারভাইজার পদ তৈরি করিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, চাকরিতে যোগদানের সময় তাদের পদ হবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী।”

শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, “আশা করি শিক্ষার্থরা এখন তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবেই বিবেচিত হবেন।”

তিনি আরো বলেন, “আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব পরীক্ষা বর্জন করেছেন সে বিষয়ে দ্রুই সিদ্ধান্ত হবে।”

সভায় উপস্থিত ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, “সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত অবিশ্বাস থেকে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিকালে ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষাসচিবদের বৈঠকের কথা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, পেশাগত বৈষম্য নিরসন ও সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনসহ দুই দফা দাবিতে কয়েক দিন ধরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। রোববার এ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ছাত্ররা গতকাল ক্যাম্পাসসহ অনেক স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ও সড়ক অবরোধ করেন। এসব ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় আড়াইশ’ ব্যক্তি আহত ও ৬৪ জন আটক হন। সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশলীর সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৮ সালের বিতর্কিত গেজেট সংশোধন এবং ছাত্রদের বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অভিন্ন-মানসম্মত হোক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রশ্নপত্র

সাহিদ সুমন: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahidsumon@yahoo.com

দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী থাকেন।

 

কিন্তু শিক্ষার্থী তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা খুব সামান্য। ফলে আগ্রহী প্রত্যেককেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া অসম্ভব। তাছাড়া দেশের সকল কর্মক্ষেত্রে লোকের যোগান দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যও নয়।

ফলে যেসব ক্ষেত্রের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষক বা শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত লোক তৈরি করবে, সে ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যায়নে আগ্রহী ও অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীদের সারা দেশ থেকে বেছে বের করে পড়াশুনার সুযোগ করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ। সে কারণেই ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে সেটা ঠিকমতো নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পাবলিকের অসুবিধা করছে কিনা তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় চলে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে অসংখ্য পরিবার প্রতিবছর অর্থ ব্যয় করছেন, শিকার হচ্ছেন নানা ভোগান্তির।

ক্ষতি যে শুধু অভিভাবকদেরই হচ্ছে তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবীরা যোগ্য জায়গায় যেতে পারছেন না। হয়তো চট্টগ্রামের একজন তুখোড় মেধাবী ফোকলোরে বিশেষ আগ্রহী, কিন্তু দূরত্ব, অর্থসঙ্কট ইত্যাদি কারণে অভিভাবকদের নিরুৎসাহে সে রাজশাহীতে (যেখানে সমৃদ্ধ ফোকলোর বিভাগ আছে) পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। অথবা ঢাবিতে অল্পের জন্যে মনোবিজ্ঞান পায়নি এমন শিক্ষার্থী হয়তো চট্টগ্রামে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলে সেখানে মনোবিজ্ঞানে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যেতো।

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জন্যে যদি অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা হয় তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগই আগের তুলনায় অধিকতর মেধাবীদের পাবে। কারণ, সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে সহজে পরীক্ষা দিতে পারার কারণে একই আসনের জন্যে আগের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী চেষ্টা করবে। ঢাকার বাসিন্দা সুযোগ পাবে, অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চগড়ের বাসিন্দা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না এমনটি কম ঘটবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একত্রে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে এবিষয়ে যদি ঐক্যমতে পৌঁছা যায় তাহলে তার পরের সমস্যাটি দাঁড়ায় পরীক্ষা অনুষদভিত্তিক, গুচ্ছভিত্তিক নাকি বিষয়ভিত্তিক হবে।

ঢাকা ও জগন্নাথে অনুষদভিত্তিক পরীক্ষা হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হয় গুচ্ছভিত্তিক। অর্থাৎ কয়েকটি কাছাকাছি ধরনের বিষয় নিয়ে একটি গুচ্ছ (cluster) বানিয়ে সে-গুচ্ছের জন্যে একটি পরীক্ষা হয়। জাহাঙ্গীরনগরে গত বছর একটি অনুষদে (কলা ও মানবিকী) বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে।

 

এর কারণ বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার জন্যে এই অনুষদের বিভাগগুলো থেকে শিক্ষকরা জোর দাবি তুলেছেন। এমনিতে লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে এমসিকিউ করার কারণে জাহাঙ্গীরনগরে শিক্ষার্থীদের গড় মানের ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

অনুষদভিত্তিক এমসিকিউ পরীক্ষা হলে বিভাগগুলোতে আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থী আরো অপ্রতুল হয়ে উঠবে। সবচেয়ে ভালো হয়, প্রতিটি বিভাগের জন্যে আলাদা পরীক্ষা নেওয়া গেলে। এর আয়োজনে ঝঞ্ঝাট যদি বেশি হয় তাহলে কিছু কিছু বিষয়কে একত্র করে গুচ্ছ বানানো যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

 

কারণ, এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলোকে কোনো গুচ্ছে ফেলা মুশকিল (যেমন, চারুকলা, দর্শন)। এ ধরনের বিষয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা সংস্কারের সব উদ্যোগই বৃথা যাবে যদি প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা না হয়। প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যে ভর্তি পরীক্ষা হয় তা আসলে শিক্ষার্থীদের গাইড মুখস্থ করার দক্ষতার পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা গাইড কেনা, কোচিং সেন্টারে যাওয়া এসব কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খুঁটিয়ে পড়লে বোঝা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো তৈরি হয় নিতান্ত দায়সারাভাবে। কোনো কোনো প্রশ্ন  শুধু বাজারের গাইডবই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। অথচ এই প্রশ্নপত্রই হচ্ছে সেই ছাঁকনি যা দিয়ে লাখ লাখ ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে উচ্চশিক্ষার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্তদের তুলে আনা সম্ভব।

আমেরিকার প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্রেডে ভর্তির জন্যে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেয় না। আমেরিকান বা অ-আমেরিকান যে কোনো শিক্ষার্থী আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে তাকে স্যাট (SAT) পরীক্ষা দিতে হবে। তার মানে, এদেশে আমরা প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়ে সাধারণ যে পরীক্ষার কথা চিন্তা করছি তা নতুন কিছু নয়।

ইউরোপের অনেক দেশে অবশ্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।

 

সেখানে এটা সম্ভব তার কারণ, আমাদের মতো মাদ্রাসা-ইংরেজি মাধ্যক-সাধারণ নিয়ে ত্রিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের নেই এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার গুণগত মান তারা নিশ্চিত করতে পেরেছেন (সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে যেতে আমাদের আরো সময় লাগবে)।

তাছাড়া ওসব দেশে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের জন্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে। স্যাট, টোফেল, আইইএলটিএস, জিআরই ইত্যাদি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘাঁটলে বোঝা যায়, বহু লোকের বহু বছরের গবেষণা ও চিন্তাভাবনা রয়েছে এগুলোর পেছনে। অথচ আমাদের দেশে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় পরীক্ষার অল্প ক’দিন আগে, খুব তড়িঘড়ি করে এবং যথোপযুক্ত মনোযোগ ও চিন্তাভাবনা ছাড়াই।

ভর্তি পরীক্ষার ধরন নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা শুধু পরীক্ষার আগের সময়টাতে নয়, সারা বছর ধরেই চলতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্রত্যেকটি প্রশ্ন এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন শিক্ষার্থীর বিশেষ কয়েকটি যোগ্যতা যাচাই হয়। এগুলো হচ্ছে বাঙলা ও ইংরেজি ভাষায় দখল, যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। ভর্তি পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্নপত্রেই বাংলা-ইংরেজি অংশ থাকে।

বাংলা অংশে সাধারণত ‘কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?’ বা ‘কবি সুধীন্দ্রনাথের জন্মস্থান কোনটি?’ এ জাতীয় প্রশ্ন থাকে। কিন্তু এসব মুখস্থনির্ভর, গাইডমুখী প্রশ্নের সাহায্যে বাংলা ভাষায় শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই হয় না। তাই ভালো বাংলা বই থেকে অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে কিংবা নতুন অনুচ্ছেদ রচনা করে তার উপর প্রশ্ন তৈরি করতে হবে।

 

ইংরেজি অংশেরও অনেকটা জুড়ে থাকা উচিত এক বা একাধিক অনুচ্ছেদ (passage) ও সেগুলোর উপর প্রশ্ন।

 

এতে শিক্ষার্থীর পঠন দক্ষতা (reading skill) যাচাই হবে চমৎকারভাবে। একজন শিক্ষার্থী গাইড নাকি ভালো বই পড়ে অভ্যস্ত তাও ধরা পড়বে অনুচ্ছেদভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে। এছাড়া বাঙলা ও ইংরেজি অংশে অসম্পূর্ণ বাক্য সম্পূর্ণকরণ (sentence completion), শুদ্ধ বা অশুদ্ধ বাক্য চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন রাখতে হবে।

যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই করতে হলে প্রাথমিক গণিতের কিছু প্রশ্ন রাখতে হবে। এটা করতে হবে এমনকি কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার জন্যেও। .

 

এছাড়া লজিকের নানা সমস্যা, একাধিক বাক্যের মধ্যকার সঙ্গতি-অসঙ্গতি নির্ণয়মূলক, এবং সবল ও দুর্বল যুক্তির পার্থক্য নির্ধারণের প্রশ্ন রাখতে হবে। বিভিন্ন আইকিউ টেস্টের প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা যাবে।

শিক্ষার্থী যে বিভাগেই ভর্তির সুযোগ পাক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত নানা গ্রন্থ ও প্রবন্ধাদি পড়তে হবে, চিন্তা করে বুঝতে হবে, প্রশ্নোত্তর, অভিসন্দর্ভ ইত্যাদি লিখতে হবে। সেজন্যেই ভাষায় দখল এবং যৌক্তিক ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা যাচাই (অর্থাৎ বুদ্ধি যাচাই) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়ই একটি সাধারণ জ্ঞান অংশ থাকে। কিন্তু এ অংশটি শিক্ষার্থীর ঠিক কোন যোগ্যতা যাচাই করে তা স্পষ্ট নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-২০১১ সালের কলা অনুষদের প্রশ্নপত্রের সাধারণ জ্ঞান  অংশে প্রশ্ন ছিল – বাংলাদেশ কোন সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সদস্য পদ লাভ করে? একই বছর আরেকটি প্রশ্ন ছিল – কোন পাখি পাথর ও লোহার টুকরা খায়? এ জাতীয় প্রশ্নগুলোকে কেন “সাধারণ” জ্ঞান এর প্রশ্ন বলা হয় তা এক রহস্য। কেননা কোনো সাধারণ উপায়ে, যেমন পত্রপত্রিকা পড়ে, টিভির খবর দেখে, বই পড়ে, অভিজ্ঞ লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে যে-জ্ঞান হয় তা এরকম তথ্যমূলক জ্ঞান নয়।

এরকম জ্ঞান কেবল “অসাধারণ” উপায়েই, অর্থাৎ গাইড মুখস্থ করে অর্জন করা সম্ভব। মোদ্দাকথা, যাদের সত্যিকার অর্থে সাধারণ জ্ঞান আছে ভর্তি পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশ তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দেয় না। বরং যারা না-বুঝে মুখস্থ করে তাদেরকেই সুযোগ করে দেয়।

অন্যান্য প্রশ্নের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটাতে যে শিক্ষার্থী অনুসন্ধিৎসু এবং নিজের কৌত‍ূহলেই দেশ-বিদেশের খোঁজখবর রাখে অথচ না বুঝে কোনোকিছু মুখস্থ করতে অনাগ্রহী সে পিছিয়ে পড়বে। আর এগিয়ে যাবে চিন্তাবিমুখ, মুখস্থবিদ শিক্ষার্থীরা।

তাই সাধারণ জ্ঞান অংশটি প্রশ্নপত্রে যদি রাখতেই হয় তাহলে এর পরিমাণ শতকরা দশ ভাগের বেশি হওয়া ঠিক হবে না। আর ওই দশ ভাগ প্রশ্নও শিক্ষার্থীর স্মরণশক্তি নয়, সত্যিকার সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের উপযোগী হতে হবে। অর্থাৎ এতে তথ্যমূলক প্রশ্ন খুব কম থাকবে। বেশি থাকবে ধারণামূলক (conceptual) প্রশ্ন, যেমন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী, এসবের কার্য (effect) বা কারণ (cause), কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণার (concept) ব্যাখ্যা ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, প্রয়োজন মতো গুচ্ছভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্রের উচ্চমান নিশ্চিত করা গেলে আশা করা যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের পাবে।

আর এ শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিকাশ ঘটাবে নিজেদের সম্ভাবনার।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২ দফা দাবিতে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ২৮ সেপ্টেম্বরঃডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন-বৈষম্য, পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ দুই দফা দাবিতে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে পলিটেনিকের সামনে মহাসড়কে এক হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে।
সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় উপর বেঞ্চ নিয়ে বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। তারা আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া সকল সেমিস্টার পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। পরে এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সুপারভাইজিং পদ পরিবর্তনের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে দেশের সব পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বন্ধের হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা ।
এদিকে সড়ক অবরোধের ফরে রাস্তার উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free