শিক্ষাঙ্গন

যথেষ্ট হয়েছে, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, বাসায় ফিরে যাও।’

নিজস্ব প্রতিবেদক,৩ আগষ্ট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘দুই সহপাঠী হারিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে প্রতিবাদ জানিয়েছে, তা যৌক্তিক। কিন্তু এ কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। তা ছাড়া কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা (সাবোটাজ) ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে আমার অনুরোধ, যথেষ্ট হয়েছে, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, বাসায় ফিরে যাও।’

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিও আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সাবোটাজ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আন্দোলন নিয়ে সুবিধাবাদীরা ষড়যন্ত্র করতে পারে। যদি কিছু ঘটে, তবে নিরাপত্তাবাহিনী এর দায় নিতে পারবে না। কেননা তারা দূরে দূরে থাকছে। এ কারণে কোনো একটা কিছু ঘটলে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়কে যে কাজ করছে, সেটা তাদের কাজ নয়। তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এটা করছে। তাই বলব, তোমাদের কাছে অনুরোধ করব, যথেষ্ট হয়েছে, এখন ফিরে যাও, যার যে কাজ তাকে সেই কাজ করতে দাও।’

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজধানী অচল হয়ে পড়েছে। গাড়ি চলছে না। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ভয়ে মালিকেরা গাড়ি বের করছেন না। ফলে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ চলছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ, যেহেতু দাবি মানা হয়েছে এবং কিছু দাবি মানা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তাই তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও। কেননা তোমাদের এ আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা হতে পারে, সাবোটাজ হতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা দেখেছেন, আন্দোলনের মধ্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, কাফরুল থানায়, মিরপুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০১৩ সালের ছবি পোস্ট করে বলছে পুলিশ শিক্ষার্থীদের মারধর করছে। এর পেছনে অনেকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও অভিলাষ রয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রাথমিকসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা

নিজস্ব প্রতিবেদক,১্আগষ্ট:  দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিছুক্ষণের মধ্যে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী শোকার্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শোক সংবরণ করে শান্ত থাকতে এবং ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষা পরিবারের সবাই শোকার্ত।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহনকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত আছে।
সভায় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যদের শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য ভূমিকা রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দামুড়হুদার প্রতাবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক আয়ুবের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে না আসার অভিযোগ

কার্পাসডাঙ্গা অফিস:
দামুড়হুদার প্রতাবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ঠিক মতো আসেনা বলে অভিযোগ উঠেছে । গতকাল সোমবার বিকাল ৩ টার সময় স্কুলের ছেলেরা রাস্তার উপর ঘোরাঘুরি সময় একটি ছাত্র সামান্যর জন্য বড় ধরণের র্দর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। এ সময় কিছু অভিভাবক দ্রুত স্কুলে ছুটে গিয়ে দেখতে পায় প্রধান শিক্ষক নায় সাধারণ সহকারী শিক্ষকরা বলেন তিনি বারটার সময় স্কুল থেকে চলে গিয়েছেন। ফলে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিঘিœত হচ্ছে শিক্ষা কার্যাক্রম।
অভিভাব ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগে জানাগেছে , প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী নিজের ইচ্ছে মতে বিদ্যালয়ের কার্যাক্রম পরিচালনা করে থাকেন । তিনি নামমাত্র বিদ্যালয় আসলেও হাজিরা খাতায় সই করে আবার নিজের ব্যাক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ফলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার মান একেবারে নীচে নেমে যাবে বলে অভিভাবকরা মনে করেন। দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম বলেন এ ব্যবারে আমার কিছু জানা নেই তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব । বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুস কুদ্দুস বলেন, আমি প্রধান শিক্ষককে বার বার বলেছি আমি আগামী বৃহস্পতিবার জরুরী মিটিং করার জন্য বলেছি প্রধান শিক্ষককে বার বার বলার পরও প্রধান শিক্ষক ঠিকমতো স্কুলে আসে না। আমার কাছেও অনেক অভিভাবক বিষয়টি বলেছে।
এ দিকে আয়ুব আলী বলেন, আমার বিদ্যালয়ের স্লিপের কাজ চলছে এবং অফিসিয়াল কাজের জন্য প্রায় বাইরে থাকতে হয়। গ্রামবাসীর দাবী প্রতাবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বদলীসহ বিদ্যালয়ের প্রতি নজর দিবার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন অভিভাবকমহল।

কাল পড়ুন ৩টা থার্ডক্লাস নিয়ে কিভাবে প্রধান শিক্ষক হলেন আয়ুব আলী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শনিবার থেকে এমপিওভুক্তির অনলাইন আবেদন শুরু

ডেস্ক,৩১ জুলাই: আগামী শনিবার (৪ আগস্ট) থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ।

এ বিষয়ে জাবেদ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকল প্রক্রিয়া শেষ। আগামী ৪ আগস্ট থেকে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও তাদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত প্রতিবেদন আকারে শিক্ষা সচিব বরাবর দেয়া হবে। এ সংক্রান্ত কাল বুধবার একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্তি আবেদন গ্রহণ সফটওয়্যারটি একটি অটোমেশন সিলেকশন সফটওয়্যার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। শর্ত পূরণ ও এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্যদের অটোমেটিকভাবে একটি তালিকা আকারে সেট করবে। আমরা সেই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেব।’ এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শুধুমাত্র জেনারেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবেদন গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জাবেদ আহমেদ।

এমপিওভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী দেখা গেছে, এক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাত্র একটি স্তরে এমপিও দেয়া হবে। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত হলে, সেখানে নিম্ন মাধ্যমিক (অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) অথবা মাধ্যমিক (নবম-দশম) যে কোনো একটি স্তরে এমপিওভুক্ত করা হবে। সফটওয়্যার সেভাবে তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রলালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রথম পর্যায়ে মাত্র ১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি করা হবে। তার মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে ৪০০টি, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১০, কলেজ ৭৫, ভোকেশনাল স্কুল ও কলেজ ৩০০টি, মাদরাসা ১০০টি এবং ১১৫টি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ রয়েছে।

এমপিও নীতিমালায় বলা আছে, শিক্ষকদের নিয়োগে ৩৫ বছর নির্ধারণ করে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১০০ নম্বরের গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হবে। তার মধ্যে একাডেমিক স্বীকৃতিতে ২৫ নম্বর (প্রতি দুই বছরের জন্য পাঁচ নম্বর। ১০ বা তার চেয়ে বেশি বয়স এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৫ নম্বর)। শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর ২৫ নম্বর (কাম্য সংখ্যার জন্য ১৫ নম্বর, এরপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে পাঁচ নম্বর)। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার জন্য ২৫ নম্বর (কাম্য সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫ ও পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য পাঁচ নম্বর)। পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য ২৫ নম্বরের (কাম্য হার অর্জনে ১৫ নম্বর ও পরবর্তী প্রতি ১০ শতাংশ পাসে পাঁচ নম্বর) গ্রেডিং করা হবে।

প্রভাষকদের এমপিওভুক্তিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। তবে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৫ জন করা হচ্ছে। তবে নতুন জনবল কাঠামোতে সৃষ্ট পদের শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেয়া হবে না, কিন্তু নতুন পদে এমপিওভুক্ত করা হবে। নতুন জনবল কাঠামোর বাইরে কর্মরত পদ শূন্য হলে নতুন করে নিয়োগ দেয়া যাবে না। যারা এমপিওভুক্ত নন কিন্তু বৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নতুন পদে পদায়ন করতে হবে।

এদিকে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রায় এক মাস ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন করেন। এর মধ্যে গত ১৫ দিন ধরে আমরণ অনশন পালন করেন তারা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভুক্তির ভুয়া চিঠি :মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক,২৭ জুলাই: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্টের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির একটি ভুয়া চিঠি পাঠিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এমপিওর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ সংক্রান্ত এ চিঠিটির সাথে মন্ত্রণালয়ের কোন সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্টের ভুয়া স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে  ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট (Md.monuar Hossain A/C No: 7017019622076) দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে এমপিও ইউসার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘এ ধরনের চিঠির সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কোন  সংশ্লিষ্টতা নেই।’

এ ধরণের প্রতারক চক্র থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সাবধান থাকতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সুত্র: দৈনিক শিক্ষা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন থাকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। সঠিক তথ্য জানা না থাকলে বহুদিনের লালিত স্বপ্নও মাঝপথে এসে ব্যাহত হয়। স্বপ্ন বাস্তবায়ন তখন সুদূরপরাহত হয়। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলে প্রথমেই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার উচিত স্বচ্ছ ধারণা রাখা।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের কাছে জাপানের নাম তালিকার শীর্ষের দিকেই থাকে। সূর্যোদয়ের এ দেশটিতে বর্তমানে বহু বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। আর এর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিমাণটাও নেহাত কম নয়। জাপানে এত বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট হওয়ার কারণও আছে অনেক। সে বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসে দেশটির উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ, জাপানের বন্ধুভাবাপন্ন সংস্কৃতি আর আবহাওয়ার কথা।
এসব দিক বিবেচনা করলে জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আপনার আগ্রহ বাড়বেই। কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশে গিয়ে পড়াশোনা করার ঝক্কিটাও কম নয়। জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে শিক্ষার্থীরা প্রথমেই যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেটি হলো প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব। কীভাবে সেখানে যাবেন, কোথায় পড়বেন, কীভাবে ভর্তি হবেন, পড়াশোনার খরচ কেমন, দ্রব্যমূল্যÑ এসব জানতে গিয়ে পড়–য়াদের প্রচুর কাঠ-খড় পোড়াতে হয়।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাপান শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাপান শিক্ষার্থী সেবা সংস্থা বাংলায় একটি সহায়িকা বই প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো আজকের এ আয়োজনে।
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে বেশকিছু উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো হলো প্রযুক্তি কলেজ, পেশাদার প্রশিক্ষণ কলেজ, জুনিয়র কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুল। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়Ñ জাতীয়, স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি। বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে পারবেন। জাপানে উচ্চশিক্ষা শুরু হয় ১২ বছর মেয়াদি প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ হওয়ার পর। তাই জাপানে যাওয়ার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে বাংলাদেশ থেকে ১২ বছর মেয়াদি বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করেছেন কি না। সাধারণত আমাদের দেশের জন্য উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পাস করলেই আবেদন করা যাবে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়।
বিভিন্ন কোর্সগুলোর ধারণা
জাপানে রয়েছে নানামুখী বিষয়ে পড়াশোনা করার সুবিধা। দেশটির প্রযুক্তি কলেজ, পেশাদার প্রশিক্ষণ কলেজ, জুনিয়র কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুলগুলো থেকে আপনি বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডক্টরাল, ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্স ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। এসব ডিগ্রির কোর্সগুলো সাধারণত দুই থেকে ছয় বছর মেয়াদি হয়ে থাকে।
ভর্তির যোগ্যতা
জাপানে পড়াশোনা করতে হলে জাপানি ভাষা অবশ্যই জানতে হবে। এজন্য জাপানি ভাষার ওপর কমপক্ষে ৬ মাসের কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। এর বাইরেও কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য টোফেল সিবিটি স্কোর ১৫০-এর বেশি অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৫২-এর বেশি থাকতে হবে। ভাষাগত যোগ্যতা প্রমাণে আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। আপনি যদি এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় এবং ব্যাচেলর্স ডিগ্রিতে উত্তীর্ণ হন, তাহলে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। অ্যাসোসিয়েটেড ডিগ্রি, ব্যাচেলর্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও ডক্টরেট প্রোগ্রামে পড়াশোনা এবং গবেষণার জন্য আপনি জাপানে যেতে পারেন।
কোথায় পাবেন ভর্তির তথ্য
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদালয় থেকে প্রকাশিত ব্রোশিয়ার, আবেদনের গাইডবুক থেকেও পাওয়া যায় ভর্তির নির্দেশিকা। তবে অনলাইনের এ যুগে ওয়েবসাইটগুলো থেকেই একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে পারেন।
একনজরে ভর্তি প্রক্রিয়া
জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির জন্য কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভর্তির আগেই যদি এ ব্যাপারে টুকটাক জেনে নেওয়া যায়, তাহলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারবেন অনেকটাই।
পরিকল্পনা এবং তথ্য সংগ্রহ : প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে আপনি কোন বিষয়ে পড়বেন। এ বিষয়ে জাপানে কোন ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়, তা-ও জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি পছন্দের কোর্সটিতে খরচ কেমন সেটাও জেনে নেওয়া জরুরি।
স্কুল বাছাই : সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের পরই আসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের বিষয়টি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে পছন্দমাফিক একটি তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। তারপর সেই তালিকা থেকে নিতে পারেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য জাতীয় মানের পরীক্ষা : জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে Examination for Japanese University Admission for International Students (EJU), Japanese Language Proficiency Test (JLPT), TOEFL, IELTS, TOEIC প্রভৃতি মূল্যায়ন পরীক্ষা। তবে কোনো কোনো বিষয়ে পড়ার জন্য এসব পরীক্ষার প্রয়োজন না-ও হতে পারে।
ভর্তির জন্য আবেদন করা : পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আবেদনের নথি প্রস্তুত করে আবেদন ফি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
আপনার আকাক্সিক্ষত এনট্রান্স পরীক্ষা : কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে একটি সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া একটি একাডেমিক কৃতিত্ব পরীক্ষা দিতে হয় উত্তীর্ণদের।
ভর্তি : এই ধাপে নির্বাচিত প্রার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন। ভর্তির জন্য প্রথম বছরের একাডেমিক ফি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
জাপানে অধ্যয়নের প্রস্তুতি : ভর্তির পরপরই ভিসা, জাপানে যাওয়া ও সেখানে থাকার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভিসা পাওয়ার পরপরই বাসস্থান, বিমানের টিকিট, বীমা প্রভৃতি বিষয়গুলো ঠিক করে নিতে হবে শিক্ষার্থীকে।
আছে বৃত্তির সুবিধা
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে বিভিন্ন বৃত্তি ও টিউশন ছাড়ের সুবিধা আছে। এ সুবিধার আওতায় সম্পূর্ণ বিনা খরচেই একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। বিভিন্ন সরকারি বৃত্তি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বৃত্তি দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। একজন শিক্ষার্থী এসব বৃত্তিতে নির্বাচিত হয়ে জাপানে পড়ালেখার জন্য যেতে পারেন। আবার সেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও আবেদন করা যায় বৃত্তিগুলোয়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ ॥ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার খরচটাকে আমি খরচ হিসেবে দেখি না, এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আজ আমরা যাদের পেছনে বিনিয়োগ করছি তারাই একদিন এ দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও আবিষ্কারে তারা এগিয়ে থাকবে। তখনই এ দেশ হবে সোনার বাংলা।

অনুষ্ঠানে দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬৩ জন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক পরিয়ে দেন।

তিনি বলেন, আজ যারা স্বর্ণপদক পেল তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আজকের ছেলে-মেয়েরা এ দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলবে। আমরা ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত করছি। ভবিষ্যতে ছেলে-মেয়েরা এ দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে গড়বে -যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন।

স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি। এ গতি যেন থেমে না যায়। এ দায়িত্ব তোমাদের। কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি খুব শান্তি পাচ্ছি। কারণ, এক সময় এ দেশে মেয়েদের শিক্ষায় বিরাট বাধা ছিল। আজ যে ১৬৩ জনকে স্বর্ণপদক দিলাম তার মধ্যে ১০১ জনই মেয়ে, আর ৬২ জন ছেলে। খুব ভালো লাগার পাশাপাশি একটু খারাপও লাগছে যে, ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন? আমি চাই ছেলে-মেয়ে সমান গতিতে এগুবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটা ধরে রেখে অামাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এবার ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এটাও ধরে রাখতে হবে। কারণ, প্রবৃদ্ধি বেশি থাকলে জনগণ তার সুফল পায়। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেকে গড়তে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পদক পাওয়ার পর পদকপ্রাপ্ত দু’জন শিক্ষার্থী তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা

আদম মালেক: বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছা মতো অর্থ আদায় করা হয়। এমন অভিযোগে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতিমালা করছে সরকার। নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বারবার। টিউশন ফিসহ নানা ধরনের অর্থ আদায় করলেও তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হয়। এসব কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা থাকে না। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ অন্য শিক্ষকদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এসব অনিয়ম দূর করে অর্থিক স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘শতভাগ বেতন দেওয়া হয় এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সে কারণেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা দরকার। অনিয়ম রোধে নীতিমালা করা হচ্ছে।’

সরকারি স্কুলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের আয় করা অর্থ যথাযথ ব্যবহারের কথা বলা আছে। নির্ধারিত হারে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা অর্থ খাতওয়ারি আলাদা ব্যাংক হিসাবে জামা রাখা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার কথা বলা আছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব উৎস থেকে আদায় করা অর্থ বাৎসরিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নীতিতে। ফরম পূরণ, টিউশন ফি, নিবন্ধন সরকার নির্ধারিত হারে চালানের মাধ্যমে জমা করার নির্দেশনা রয়েছে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। এছাড়াও আসবাবপত্র, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী কেনার কথা হয়েছে। অডিটের ব্যবস্থা রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এসব ব্যবস্থা রেখে নীতিমালা প্রস্তুত করা হবে বলে জানা গেছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শতভাগ পাস ৪০০ প্রতিষ্ঠানে, ৫৫টিতে শূন্য

ডেস্ক,১৯ জুলাই

: এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আর একজনও পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৫টি। শতভাগ পাস ও শূন্য পাস করা উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার কমেছে।

২০১৭ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ পাস ছিল ৫৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ বছর ১৩২টি প্রতিষ্ঠান কমে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০০-তে দাঁড়িয়েছে।

গত বছর ৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি। তবে এবার এই সংখ্যা কমে ৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

২০১৭ সালের তুলনায় এ বছর বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৮ হাজার ৯৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৭১টি। এ বছর ১৭৪টি প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রতিটি জেলায় আরও দু’টি করে হাইস্কুলের উদ্যোগ

ডেস্ক,১৮ জুলাই: সদেশের প্রতিটি জেলা শহরে নতুন করে একটি হাইস্কুল ও একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা নিয়েছে সরকার। জেলা শহরে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম হওয়ায় বেসরকারি পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনে পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ থেকে ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং চিফদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সমন্বয় সভা করেন। সভায় জেলা প্রশাসকদের মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় গত বছরের ডিসি সম্মেলনে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব ছিল জেলা শহরে একটি হাইস্কুল ও একটি বালিকা বিদ্যালয় নতুন করে স্থাপন করতে হবে। জানা গেছে, এবারও ডিসি সম্মেলনে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দেশের সব জেলা শহরে নতুন করে একটি হাইস্কুল ও একটি কলেজ  পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয় সমন্বয় সভায়। কারণ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেশি হিসেবে অভিমত উঠে আসে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েও নানা সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে জানানো হয় বৈঠকে। এসব অভিমতের ভিত্তিতে দেশের যেসব জেলা শহরে নতুন হাইস্কুল ও গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে। এরপরই বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) অরুণা বিশ্বাস  বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিসি সম্মেলনে বিয়টি চূড়ান্ত হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। কারণ এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।’

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, ‘প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে হাইস্কুল ও একটি করে গার্লস স্কুল করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একজন জেলা প্রশাসক চেয়েছেন। তার বিষয়টি ধরে সারাদেশের সব জেলার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে।’

শিক্ষা অধিদফতরের ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১৬ হাজার ১০৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৩৫টি। তবে এ সময়ের মধ্যে আরও কিছু বেসরকারি বিদ্যালয়ের একামিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতি অনুযায়ী আরও কিছু বিদ্যালয় সরকারি করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভুক্তি ভালো কার্যক্রম নয়: অর্থমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক,৩জুলাই: চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, এটি ভালো কোনো কার্যক্রম নয়। এটি শিক্ষার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখে না।

অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন তরীকত ফেডারেশনের সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, এমপিভুক্তি একটি খারাপ কার্যক্রম। যা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। এমপিওভুক্তিতে যথেষ্ট জালিযাতি ছিলো। যা মন্ত্রী কমানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে এমপিভুক্তি কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং ছাত্রবৃত্তি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচী বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু আপনার সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বারবার এমপিওভুক্তির কথাই বলেন।

আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে জনমনে করভীতি দূর হয়েছে। আগে জনমনে ধারণা ছিলো, একবার কর দিলেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলেছে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশে করদাতার সংখ্যা ছিলো ৭ লাখ। সরকারের পদক্ষেপে তা ১৫ লাখে উন্নীত হয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশের করদাতার সংখ্যা ৩৩ লাখে পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে বড় অংশ তরুণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি দলের মো. মকবুল হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কোটা নিয়ে কোনো খবর নেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে পিটুনির শিকার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশনে শিক্ষক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ জুন: এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা দুদিন ধরে আমরণ অনশন পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে বসে আন্দোলকারীরা বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এমন কঠোর কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তারা।

গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশের রাস্তার ওপর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা আন্দোলনের পরও সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পেয়ে গত সোমবার থেকে আমরণ অনশন মতো কঠিন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। ‘সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা টি-শার্ট গায়ে ও ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ফিতা মাথায় বেধে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দাবি আদায়ে তারা বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। শিক্ষক নেতারা নানা স্লোগানে আন্দোলনকে চাঙ্গা করে তুলছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাকতা করে বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা বার বার রাজপথে নেমে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের শুধু আশ্বাস দিয়ে বাড়ি ফেরানো হয়েছে। নিজের ন্যায্য পাওনা আজও পাইনি। বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা মানবেতন জীবন যপান করছি। এমন জীবন আমরা চাই না। বাঁচলে বাঁচার মতো বাঁচবো নতুবা আন্দোলন করে রাজপথে জীবন দেব। তবুও দাবি আদায় ছাড়া রাজপথ পথ ছাড়বো না।

Teacher-Andolon-1

শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বর্তমানে নীতিমালা, কমিটিসহ নানা আইন তৈরি করে এমপিওভুক্তি না করে আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা তা মেনে নেব না। কোনো নীতিমলার আওতায় আমাদের আনা যাবে না। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নতুন প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নীতিমালা কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিনয় ভুষণ রায়  বলেন, আমরা টানা ১৬ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনও আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরণ অনশন পালনে নেমেছি।

Teacher-Andolon-1

তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে আমাদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। আমরা ক্ষুধার জ্বালায় রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় ছাড়া আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো না।

তিনি আরও বলেন, রাজপথে খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এতে যদি কোনো শিক্ষকের প্রাণ যায় তার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এমপিওভুক্তির দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছেন শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: এমপিওভুক্তির দাবিতে আগামীকাল থেকে ফের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকায় শনিবার ‘শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের’ পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা জানান, এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না থাকায় রোববার থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। আশা করেছিলাম, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু সেটি না থাকায় আমরা হতাশ। তাই রমজানের মধ্যে শিক্ষকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারা দেশের সব শিক্ষক ঢাকামুখী যাত্রা শুরু করেছেন। রোববার সকাল ৯টা থেকে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে প্রায় ৩-৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত হবেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এমপিওভুক্তিকরণ দাবির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন ছেড়ে বাড়ি ফিরব না।

এ সংগঠনের অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫-২০ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। অনেকের চাকরি আছে মাত্র ৫-১০ বছর। এ কারণে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর অপেক্ষায় না রেখে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এই সমস্যার সমাধান হবে। এত বছর পর কোনোক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আংশিক সমাধান সমীচিন হবে না। স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কিছু সংখ্যক এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিলে অসুস্থ প্রতিযোগিতার উদ্ভব ঘটবে। এ কারণে এমপিওভুক্তির সামগ্রিক সমাধান করতে হবে।

উল্লেখ্য, নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে গত বছরের ২৬-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা-কর্মচারীরা। এরপর একই জায়গায় গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশন করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর ৫ জানুয়ারি আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Responsive WordPress Theme Freetheme wordpress magazine responsive freetheme wordpress news responsive freeWORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme free